যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারের সুইন্ডনের বাসিন্দা ক্লোয়ে ভেন্টনের বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর। মাঝরাতে তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে ঘুম ভেঙে যেত তার। অতিরিক্ত ঘাম, বারবার প্রস্রাবের চাপ এবং ক্রমবর্ধমান কোমরের ব্যথায় স্বাভাবিক জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সাত মাস ধরে তার সমস্যাকে কেবল মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই) বলে ধরে নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা চালিয়ে যান।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ক্লোয়ের মেরুদণ্ডে একটি টিউমার ধরা পড়ে। এরপর জানা যায়, তিনি বিরল ও আক্রমণাত্মক হাড়ের ক্যানসার ইউইং সারকোমায় আক্রান্ত। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়বার ক্যানসার ধরা পড়ে এবং ২০২০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
ক্লোয়ের মা জোয়ান ভেন্টন বলেন, শুরু থেকেই তিনি বুঝতে পারছিলেন, মেয়ের সমস্যাটি সাধারণ ইউটিআই নয়। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। বরং কোমরের ব্যথা ধীরে ধীরে নিতম্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। শরীরের নিচের অংশে অবশভাব দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে তিনি মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণও হারাতে শুরু করেন।
জোয়ানের ভাষায়, এত অল্প বয়সে এমন উপসর্গ মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু চিকিৎসকেরা বারবার একই রোগ নির্ণয় করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসকের চেম্বার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং আরও পরীক্ষা করার দাবি করেন। এরপরই তাকে সুইন্ডনের গ্রেট ওয়েস্টার্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে স্ক্যানে মেরুদণ্ডে টিউমার ধরা পড়ে। পরে তাকে জন র্যাডক্লিফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, রক্ত পরীক্ষা এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, ক্লোয়ে ইউইং সারকোমায় আক্রান্ত। এটি মূলত শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
রোগ ধরা পড়ার পর ক্লোয়ের কেমোথেরাপি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মোট ১৫ দফা কেমোথেরাপি এবং প্রোটন থেরাপি গ্রহণ করেন। চিকিৎসার কঠিন সময়েও তিনি অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ক্লোয়ে এর আগে একটি হাসপাতালে কাজ শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখেছিলেন। ফলে নিজের চিকিৎসা নিয়েও তিনি চিকিৎসকদের নানা প্রশ্ন করতেন।
তবে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও আবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। শরীরে অস্বাভাবিক র্যাশ দেখা দেয়। পরিবারের দাবি, তখনও চিকিৎসকেরা এটিকে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
জোয়ান বলেন, দ্বিতীয়বারও তাকে চিকিৎসকদের বোঝাতে লড়াই করতে হয়েছে যে, বিষয়টি শুধু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়। পরে পরীক্ষা করে জানা যায়, ওই র্যাশ আসলে লিউকেমিয়া কিউটিস, অর্থাৎ ত্বকে লিউকেমিয়ার প্রকাশ। একই সঙ্গে ক্লোয়ের অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) ধরা পড়ে, যা অস্থিমজ্জা থেকে শুরু হওয়া এক ধরনের রক্তের ক্যানসার।
সব ধরনের চিকিৎসা সত্ত্বেও ২০২০ সালের জুলাই মাসে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ক্লোয়ের মৃত্যু হয়।
করোনা মহামারির বিধিনিষেধের কারণে পরিবারের শেষ বিদায়ও ছিল অত্যন্ত কষ্টের। জোয়ান জানান, সামাজিক দূরত্বের নিয়মের কারণে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে শেষ সময় কাটাতে পারেননি। এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রচলিত ব্যবস্থাও ছিল না। নিজের মেয়ের কফিনের পেছনে নিজেকেই গাড়ি চালিয়ে যেতে হয়েছিল, যা তিনি জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন।
মেয়ের মৃত্যুর পর অন্য পরিবারগুলোকে সচেতন করতেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছেন জোয়ান। তার ভাষায়, সন্তানের শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখলে অভিভাবকদের চিকিৎসকদের কাছে বারবার প্রশ্ন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানাতে হবে। কারণ দ্রুত রোগ শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে।
ক্লোয়ের শেষ দিকের একটি কথাও আজও ভুলতে পারেন না তার মা। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে ক্লোয়ে তাকে বলেছিল, "আমি কখনও আমার ভাইদের বড় হতে, বিয়ে করতে দেখতে পারব না। আমি যে খালা হতে চেয়েছিলাম, সেটাও আর হতে পারব না।" সেই কথাগুলো আজও তাকে ভেঙে দেয়।
এদিকে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (বিএমজে)-এ ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় প্রতি ১৮ জন রোগীর মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে ভুল রোগ নির্ণয়ের শিকার হন। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, ক্যানসার, স্ট্রোক ও হৃদরোগের মতো গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে ভুল রোগ নির্ণয় অনেক সময় স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউইং সারকোমা সাধারণত কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিনের হাড়ের ব্যথা, বিশেষ করে রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়া, ফোলা, স্পর্শে ব্যথা কিংবা সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে এসব উপসর্গের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যানসার নয়, অন্য সাধারণ কারণও থাকতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ। যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং ইরানের সঙ্গে সহাবস্থানের নতুন কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যেই একাধিক গোপন ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও তার সমান্তরালে সম্পূর্ণ আলাদা একটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে ওমান, কাতার, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছে। সূত্রগুলোর দাবি, প্রথমে ইরান ও ওমান, এরপর ওমান ও কাতার, পরে ইরান ও সৌদি আরব এবং সর্বশেষ কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনার মূল বিষয় ছিল, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে কী ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কয়েকটি বিচ্ছিন্ন বৈঠক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের একটি বড় প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সমঝোতার আলোচনা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে, যেখানে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এ অর্থকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাইন অপসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা কিংবা বিমাসংক্রান্ত সেবার খরচ হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে এই অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, কোন প্রতিষ্ঠান তা পরিচালনা করবে এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ কোথায় যাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরানের নতুন পদক্ষেপ ইরান ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির নবগঠিত গালফ স্ট্রেইট অথরিটি ঘোষণা দিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর হরমুজ অতিক্রমকারী সব জাহাজের জন্য ইরানি বিমা বাধ্যতামূলক করা হবে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক গোনুল তোলের ভাষায়, ইরান এখন উপলব্ধি করেছে যে, তাদের সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগত সম্পদ শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ। তাই ভবিষ্যতেও এই প্রভাব বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক বৈঠকের যৌথ ঘোষণায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও মুক্ত নৌ-চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল, ফি বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিরোধিতা করা হয়। চ্যাটাম হাউসের গবেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজির মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা। যদিও বাস্তব পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তাও তারা অস্বীকার করছে না। উত্তেজনা আরও বেড়েছে গত সপ্তাহে জাতিসংঘ, ইরান ও ওমান আটকে পড়া জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুটি নির্দিষ্ট নৌপথে সম্মত হওয়ার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ওই রুটের বাইরে চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করে। এর পরদিন একটি তাইওয়ানভিত্তিক শিপিং কোম্পানি অভিযোগ করে, তাদের একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাটি ইরানের ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও পরবর্তীতে উভয় পক্ষই নতুন করে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সুফান সেন্টার বলছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে সাম্প্রতিক হুমকি ও হামলার মাধ্যমে ইরান মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোকে, বিশেষ করে ওমানকে, একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই কূটনৈতিক সক্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা কমে যাওয়া। গোনুল তোল বলেন, ওয়াশিংটনের বিশ্বাসযোগ্যতা কয়েক বছর ধরেই কমছে। ফলে অনেক উপসাগরীয় রাষ্ট্র মনে করছে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শেষ পর্যন্ত তাদেরই ইরানের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গবেষক ইয়াসমিন ফারুকও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এমন এক বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে অতীতের নিরাপত্তা কাঠামো আর আগের মতো থাকবে না। তাই তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতেই গড়ে নিতে চাইছে। অর্থনীতি হতে পারে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা তাদের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিনিময়ে তারা ইরানের কাছ থেকে কিছু নিরাপত্তা নিশ্চয়তা আদায় করতে চাইবে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা কিংবা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সামরিক সহায়তা কমানোর মতো বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। বিকল্প নিরাপত্তা জোটের দিকেও নজর একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতেও বহুমুখী নীতি গ্রহণ করছে। মে মাসে কুয়েত ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ড্রোন রপ্তানির জন্য ইউক্রেনও নতুন চুক্তি করেছে। এ ছাড়া সৌদি আরব মিশর, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গড়ে ওঠা একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটের বৈঠকেও অংশ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় না। বরং একাধিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে আগ্রহী। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার চায়। বরং তারা এমন একটি কৌশল তৈরি করছে, যাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তিত হলেও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে আবারও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। প্রদেশটির পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ কৃষিজমিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের দিকে জামলাহ গ্রামের আশপাশের ফসলি জমিতে একটি কামানের গোলা আঘাত হানে। একই সময় ওই এলাকার আকাশে একটি ইসরায়েলি নজরদারি ড্রোন ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা’র সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই গোলাবর্ষণে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত রোববারও দারা প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের আবদিন গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী একটি আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানের পর গ্রামটির উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা পাথর ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ইসরায়েলি সেনারা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান, তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং সামরিক চেকপোস্ট স্থাপনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক এই গোলাবর্ষণের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদনটি আনাদোলু এজেন্সির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে মহাত্মা গান্ধীর একটি মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে স্টেশন বাজার এলাকায় ঘটনাটি প্রথম জনসমক্ষে আসে। স্থানীয়দের নজরে পড়তেই বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর পেয়ে কাটোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূর্তির মুখ ও হাত থেকে কালো কাপড় সরিয়ে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত কাটোয়া পৌরসভার উদ্যোগে এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি স্থানীয়ভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কাটোয়ার মহকুমা শাসক রীনা ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূর্তির উপরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে এক গৃহহীন ব্যক্তি মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বেঁধে দিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেটিজেনরা এই কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এদিকে, ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনাকে দেশবিরোধী কাজ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। অন্যদিকে বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অনিল দত্তও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। উল্লেখ্য, জাতির জনক হিসেবে পরিচিত মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি বা স্মৃতিস্তম্ভকে ঘিরে এ ধরনের ঘটনা অতীতে বিভিন্ন স্থানে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কাটোয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। এই প্রতিবেদনটি ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।