২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে ইরান। নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলটির সামনে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্বস্তির খবর পেয়েছে ইরানি ফুটবল দল। তাদের ওপর আরোপিত ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরানের জাতীয় ফুটবল দল এখন তাদের ম্যাচের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচের ক্ষেত্রে দলটিকে কেবল ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে শিথিলতার পরও কিছু বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ শেষে একই দিন দেশ ছাড়তে হবে ইরান দলকে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দলটি বর্তমানে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অবস্থান করছে। সেখান থেকে বুধবার সিয়াটলের উদ্দেশে যাত্রা করবে তারা।
বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইরান দলের অংশগ্রহণ ঘিরে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে দলটির ভ্রমণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক বাধা দেখা দেয়।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের বেস ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনে। কিন্তু নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করা হয়।
এ ছাড়া ইরান দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় দলটির প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, শুরু থেকেই ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।
তিনি বলেন, “প্রথম দুই ম্যাচে তাদের যাতায়াত ও অবস্থান কীভাবে পরিচালিত হয়, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলাম। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এখন দীর্ঘ ভ্রমণ সময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে মাঠের লড়াইয়েও ইরানের সামনে বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে জয় পেলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারবে দলটি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যেও ইরানের পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে ভ্রমণসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা, বেস ক্যাম্প পরিবর্তন এবং ভিসা জটিলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও দলটি প্রতিযোগিতায় নিজেদের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে।
এখন মিশরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে ঘিরে ইরান শিবিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তে দলটির প্রস্তুতি কিছুটা সহজ হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
খেলাধুলা
View moreমেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ২০২৬ মৌসুমে ২৬ গোল করে টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জিতেছেন ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গত ৭ নভেম্বর শনিবার নিয়মিত মৌসুমের শেষ দিনে এই স্বীকৃতি নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে লিগটির ইতিহাসে টানা দুই মৌসুম সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন তিনি। ৩১ ম্যাচে ২৬ গোল করে মৌসুম শেষ করেছেন মেসি। গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এফসি ডালাসের পেতার মুসার গোল ২২টি। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ন্যাশভিল এসসির স্যাম সারিজ, যাঁর গোলসংখ্যা ২১। অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড়ের চেয়ে চার গোল বেশি করেছেন মেসি। এর আগে ২০২৫ মৌসুমে ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন মেসি। এবারও সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতে নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে একাধিকবার গোল্ডেন বুট জেতা ষষ্ঠ খেলোয়াড়ও এখন মেসি। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও দারুণ সফল ছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। ১৭টি অ্যাসিস্টসহ তাঁর মোট গোল-অবদান ৪৩টি, যা এবারের মৌসুমে লিগের সর্বোচ্চ। এমএলএসের ইতিহাসে টানা দুই মৌসুমে অন্তত ৪০টি করে গোল-অবদান রাখার কৃতিত্বও প্রথমবারের মতো দেখিয়েছেন তিনি। এবারের মৌসুমে মেসির ২৬ গোলের মধ্যে মাত্র একটি এসেছে পেনাল্টি থেকে। বাকি ২৫টি গোল পেনাল্টি ছাড়া করেছেন তিনি। এক মৌসুমে পেনাল্টি ছাড়া গোলের হিসাবে এটি এমএলএসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাঁর নিজের ২০২৫ সালের ২৮ গোলের রেকর্ডটি রয়েছে সবার ওপরে। নিয়মিত মৌসুম শেষে ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় হয়েছে ইন্টার মায়ামি। প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে দলটির প্রতিপক্ষ কলম্বাস ক্রু। আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সর্বোচ্চ তিন ম্যাচের সিরিজে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সূত্র: রয়টার্স
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা তুললেন বাংলাদেশের ফুটবলার হামজা চৌধুরী
নেইমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজকে দলে নিতে যাচ্ছে মেলবোর্ন রেনেগেডস, বিসিবির ছাড়পত্রের অপেক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় চালু হয়েছে বিশাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ার। প্রায় ১৯০ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই ক্রীড়াকেন্দ্রে রয়েছে ৪০টিরও বেশি মাঠ। বেসবল, সফটবল, ফুটবল, সকার ও রাগবিসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে পুরো স্থাপনাটি। রকি পর্বতমালার পশ্চিমে এ ধরনের সবচেয়ে বড় যুব ক্রীড়াকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে প্রকল্পটি। ক্যালিফোর্নিয়ার ইনল্যান্ড এম্পায়ার অঞ্চলের অন্টারিও শহরে অবস্থিত এই কমপ্লেক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ২৪ অক্টোবর। এটি নির্মাণ ও পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে খেলোয়াড়, দল ও দর্শকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিকে ঘিরে পর্যটন, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রীড়াকেন্দ্রটিতে রয়েছে ২০টি বহুমুখী খেলার মাঠ, ১৪টি যুব বেসবল মাঠ এবং বেসবল ও সফটবলের জন্য আটটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ। এ ছাড়া রয়েছে দুটি চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যায়ের বেসবল মাঠ এবং ফুটবল ও রাগবির জন্য চারটি মাঠ। বিভিন্ন বয়সের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, স্থানীয় লিগ, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা এবং বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা মাথায় রেখে এসব সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। এত বড় পরিসরের ক্রীড়া আয়োজনের ফলে একই সময়ে একাধিক খেলা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বিভিন্ন শহর থেকে আসা দলগুলোর জন্য মাঠের স্বল্পতা কমাতে পারে এই স্থাপনা। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্য ও দর্শকদের জন্যও এখানে সময় কাটানোর সুযোগ থাকবে। কমপ্লেক্সের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো ছয়তলা পার্কিং ভবন। এতে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। দর্শকদের মাঠের খেলা দেখার অভিজ্ঞতা আরও আকর্ষণীয় করতে স্থাপন করা হয়েছে ১৫২ ফুট দীর্ঘ ও ৫১ ফুট চওড়া বিশাল ডিজিটাল পর্দা। বিভিন্ন খেলা ও অনুষ্ঠান চলাকালে এটি ব্যবহার করা যাবে। অন্টারিও শহরের অর্থায়নে নির্মিত এই ক্রীড়াকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিজ কোম্পানিজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহরটির ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি নতুন দর্শনার্থী আকৃষ্ট করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিজ কোম্পানিজের প্রধান নির্বাহী জেসন ক্লেমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে পশ্চিম উপকূলের ক্রীড়া অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। নতুন এই কমপ্লেক্স সেই চিত্র বদলে দিতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে অঞ্চলটিতে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অন্টারিও শহরের সিটি ম্যানেজার স্কট ওচোয়া ২০২৫ সালে প্রকল্পটি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, এটি নগর পরিষদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন। তাঁর মতে, আধুনিক এই ক্রীড়াকেন্দ্র পরিবারগুলোর একত্র হওয়া, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে। শহর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দশক ধরে এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে কাজ করবে। কমপ্লেক্সটির অবস্থানও দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক। অন্টারিও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে প্রায় ১০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে এটি। আশপাশে ছয় হাজারের বেশি হোটেল কক্ষ থাকায় দূরবর্তী শহর থেকে আসা খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবারের থাকার ব্যবস্থা করা তুলনামূলক সহজ হবে। ফলে একাধিক দিনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রেও স্থানটি সুবিধা দিতে পারে। এ ছাড়া ক্রীড়াকেন্দ্রটির পাশেই রয়েছে ৬ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার বেসবল স্টেডিয়াম, যেখানে খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের সিঙ্গেল-এ পর্যায়ের সহযোগী দল অন্টারিও টাওয়ার বাজ়ার্স। এর ফলে যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং পেশাদার পর্যায়ের বেসবল একই এলাকায় উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটির আশপাশে আরও পর্যটন ও আতিথেয়তা সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর সেখানে ২৩০ কক্ষের একটি হোটেল চালুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। হোটেলটি চালু হলে মাঠের কাছেই থাকার সুযোগ পাবেন দূর থেকে আসা খেলোয়াড়, তাঁদের পরিবার এবং টুর্নামেন্টের দর্শকেরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খেলাধুলার পাশাপাশি সংগীত, বিনোদন, শিশুদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন রাখা হয়েছিল। পুরো প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু মাঠ তৈরি করা নয়; বরং খেলাধুলা, বিনোদন ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডকে এক জায়গায় এনে অন্টারিওকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক উপাধি ‘ডক্টর হোনরিস কউসা’ দেওয়ার প্রস্তাব ৩০ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির উচ্চ পরিষদ। সম্মাননাটি আগামী ৬ অক্টোবর মেসির হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে মেসির উৎকর্ষ ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি তাঁর বিনয় এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার অঙ্গীকারকে এ সিদ্ধান্তে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর নেতৃত্বও তাঁর অর্জনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর রিকার্দো গেলপি বলেছেন, মেসির অবদানকে শুধু ম্যাচের ফল বা পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। তাঁর মতে, মেসি আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়েরও একজন প্রতিনিধি। সহ-উপাচার্য এমিলিয়ানো ইয়াকোবিত্তি বলেছেন, এই সম্মাননা মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার সমাজে তাঁর প্রভাবেরও স্বীকৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে সম্মাননাটি দেওয়া হবে। সেদিন বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার খেলার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; আনুষ্ঠানিক প্রদান এখনো বাকি।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা