সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
অর্থনীতি

৩০ বছরের হোম লোন ১০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করবেন কীভাবে? জেনে নিন কার্যকর কৌশল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ২০:৪৯
পরিকল্পিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই হোম লোন পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
পরিকল্পিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই হোম লোন পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর অধিকাংশ ক্রেতাই ১৫ বা ৩০ বছরের মর্টগেজ বা হোম লোনের পথ বেছে নেন। দীর্ঘমেয়াদি এই ঋণের ফলে মাসিক কিস্তির চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বছরের পর বছর সুদ পরিশোধ করতে হয়। তবে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অতিরিক্ত ঋণ পরিশোধ এবং সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই ৩০ বছরের হোম লোন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পরিশোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ মর্টগেজ ল্যান্ডেররা।

 

ব্যাংক অফ আমেরিকার মর্টগেজ ঋণ কর্মকর্তা রবার্ট মুলার জানিয়েছেন, দ্রুত ঋণমুক্ত হওয়ার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো মাসিক কিস্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি ঋণের মূল অংশ বা প্রিন্সিপাল ব্যালেন্সে পরিশোধ করা। মূল ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমে গেলে ভবিষ্যতে সেই অর্থের ওপর সুদও কম ধার্য হয়। ফলে মোট সুদের খরচ কমার পাশাপাশি ঋণের মেয়াদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

 

তিনি আরও জানান বছরে এক বা একাধিকবার অতিরিক্ত অর্থ প্রিন্সিপাল হিসেবে জমা দেওয়া যেতে পারে। বোনাস, ট্যাক্স রিফান্ড বা অন্য কোনো অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ এ কাজে ব্যবহার করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ‘বাই-উইকলি পেমেন্ট’। এতে মাসে একবার পুরো কিস্তি পরিশোধের পরিবর্তে প্রতি দুই সপ্তাহে অর্ধেক কিস্তি দেওয়া হয়। এর ফলে বছরে মোট ২৬টি অর্ধেক কিস্তি বা ১৩টি পূর্ণ মাসিক কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ হয়। এতে প্রতি বছর একটি অতিরিক্ত কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ ঋণের মূল অংশে চলে যায়, যা মর্টগেজের মেয়াদ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এই সুবিধা সব ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বা মর্টগেজ সার্ভিসার একইভাবে পরিচালনা করে না। তাই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জেনে নেওয়া উচিত।

 

অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের সময় আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই অর্থ যেন ‘প্রিন্সিপাল অনলি পেমেন্ট’ হিসেবে প্রয়োগ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতের মাসিক কিস্তি হিসেবে সমন্বয় করা হতে পারে, ফলে ঋণের মূল পরিমাণ প্রত্যাশিত হারে কমবে না।

একই সঙ্গে মর্টগেজ চুক্তিতে আগাম ঋণ পরিশোধের জন্য কোনো ‘প্রিপেমেন্ট পেনাল্টি’ বা অতিরিক্ত ফি রয়েছে কি না, সেটিও আগে যাচাই করা উচিত। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ প্রচলিত আবাসিক মর্টগেজে এ ধরনের জরিমানা থাকে না, তবুও ঋণের ধরনভেদে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

 

রবার্ট মুলার আরও জানান আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একক কোনো কৌশল সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যাদের মর্টগেজের সুদের হার তুলনামূলক কম, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ঋণ পরিশোধের পরিবর্তে অবসরকালীন সঞ্চয়, বিনিয়োগ বা উচ্চ সুদের অন্যান্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করে প্রয়োজনে একজন আর্থিক পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

 

পরিকল্পিত অর্থ ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত অতিরিক্ত প্রিন্সিপাল পরিশোধ এবং সঠিক আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই ৩০ বছরের হোম লোন ১০ বছর বা তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যেও পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, ধারাবাহিকতা এবং সুপরিকল্পিত বাজেট ব্যবস্থাপনা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

অর্থনীতি

View more
ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান জিও
আম্বানির শেয়ার কিনতে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড

ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে বা আইপিওতে আবেদন শুরুর প্রায় ১০০ মিনিটের মধ্যেই বিক্রির জন্য নির্ধারিত শেয়ারের সমপরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে দ্রুত এই অবস্থায় পৌঁছায় প্রতিষ্ঠানটি। পিটিআইয়ের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।      প্রথম ঘণ্টায় আইপিওর প্রায় ৮৫ শতাংশের সমপরিমাণ আবেদন জমা পড়েছিল বলে রয়টার্সের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়। পরে দুই ঘণ্টারও কম সময়ে পুরো আইপিও সাবস্ক্রাইব হয়। অর্থাৎ প্রথম ঘণ্টায় সব শেয়ার বিক্রির আবেদন পূর্ণ হয়নি, তবে শুরু থেকেই উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়।  এই আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ৩২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জিও প্ল্যাটফর্মস। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, অর্থের পরিমাণে এটি ভারতের বৃহত্তম আইপিও এবং প্রায় দুই দশকে আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর প্রথম আইপিও। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন সর্বোচ্চ প্রায় ১০ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার ধরা হয়েছে।      প্রতি শেয়ারের মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৫ থেকে ১ হাজার ১১৯ রুপি। আবেদন গ্রহণ চলবে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর নির্ধারিত তারিখ ২৮ অক্টোবর। সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ টেলিকম ব্যবসার ঋণ পরিশোধে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে হালনাগাদ প্রসপেক্টাসের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।  সাধারণ আবেদন শুরুর আগেও বড় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য চাহিদা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি, ব্ল্যাকরক ও ফিডেলিটিসহ অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রায় ৮৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অংশে আবেদন এসেছিল আড়াই হাজার কোটি ডলারের বেশি।      জিও প্ল্যাটফর্মসের অধীনে ভারতের বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মেটা ও গুগলও আছে। পুরো আইপিওর সমপরিমাণ আবেদন জমা পড়লেও শেয়ার বরাদ্দ ও বাজারে লেনদেন শুরু পৃথক ধাপ। ফলে প্রথম দিনের আবেদনকে শেয়ারবাজারে দর বৃদ্ধি বা বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত মুনাফা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৩:১৫
ফ্রান্সের অস্থিরতায় চাপের মুখে ইউরোর দর

ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার

পেশাভেদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, কয়েক বছরের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স

আমেরিকায় কোন পেশায় আয় বেশি? জেনে নিন, ঘণ্টাপ্রতি বেতনসহ ১০টি কাজের তালিকা

নতুন মালিক বেন্ডিং স্পুনস

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি

ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের ওপর গড়ে প্রায় ২ হাজার ডলারের অর্থনৈতিক বোঝা পড়েছে বলে হিসাব দিয়েছেন মুডিস অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় আট মাসে জ্বালানির বাড়তি দাম, ঋণের সুদ এবং সামরিক ব্যয় মিলিয়ে এই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে। তাঁর হিসাবে, দেশজুড়ে মোট অর্থনৈতিক বোঝা প্রায় ২৬৫ বিলিয়ন ডলার।  সোমবার, ১২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা বিশ্লেষণে জান্ডি এসব হিসাব তুলে ধরেন। এটি যুদ্ধের কারণে পরিবারপ্রতি গড় অর্থনৈতিক ব্যয়ের একটি অনুমান। প্রতিটি পরিবার সরাসরি একই পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে, এমন দাবি এই হিসাবের অর্থ নয়।    জান্ডির বিশ্লেষণে সবচেয়ে বড় অংশ জ্বালানির বাড়তি খরচ। গ্যাসোলিন, ডিজেল, বিমানের জ্বালানি এবং ঘর গরম রাখার জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব মিলিয়ে পরিবারপ্রতি প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলারের বোঝা তৈরি হয়েছে। সরাসরি জ্বালানি কেনার পাশাপাশি ট্রাক বা বিমানে পরিবহন করা পণ্যের বাড়তি খরচও এতে ধরা হয়েছে। তাঁর হিসাবে, বিশ্লেষণের সময়কার জ্বালানির দাম বজায় থাকলে এই বোঝা সপ্তাহে প্রায় ৫০ ডলার করে বাড়ছে।  দ্বিতীয় বড় খাত ঋণের বাড়তি সুদ। জান্ডির মতে, যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। উচ্চ সুদের কারণে মর্টগেজসহ ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। এই খাতে পরিবারপ্রতি গড় অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৫৪০ ডলার বলে হিসাব করেছেন তিনি।    এর সঙ্গে যুদ্ধের সরাসরি সামরিক ব্যয় যুক্ত হয়েছে পরিবারপ্রতি প্রায় ৩৬০ ডলার। সিএনএনের ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জ্বালানি, ঋণের সুদ ও সামরিক ব্যয়ের এই তিনটি খাত আলাদা করে তুলে ধরা হয়। সব মিলিয়ে পরিবারপ্রতি আনুমানিক বোঝা দাঁড়ায় ২ হাজার ডলার।    জান্ডির মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের এসব খরচ গত প্রায় আট মাসে গড় মার্কিন পরিবারের আয় বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক শুষে নিয়েছে। তাঁর এই বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু সরকারের সামরিক ব্যয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না; জ্বালানি ও ঋণের বাড়তি খরচের মাধ্যমেও পরিবারের বাজেটে চাপ ফেলছে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১:৭
হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

চট্টগ্রাম বন্দর ছবি:সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন

তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ
বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ: ববি হাজ্জাজ

বাংলাদেশের এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগে কয়েকটি মার্কিন কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাঁর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর নাম বা কোনো বিনিয়োগ চুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর জানায়, সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট পালো আল্টোতে প্রযুক্তি খাতের প্রধান নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গোলটেবিল আলোচনায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। এআই ও ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, গবেষণা এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ছিল আলোচনার বিষয়।   ববি হাজ্জাজ বলেন, এই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন। প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মত দেন।   বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও ছিলেন।   এই গোলটেবিলের আগের দিন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ও সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি পেশাজীবীদের পৃথক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সেখানে এআই, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, দক্ষ জনশক্তি ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেট আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পরবর্তী সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে। ওই সংলাপের বিজ্ঞপ্তিতে ১০০ কোটি ডলারের কোনো বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই।    বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর খাত গড়ে তোলার আলোচনা আগে থেকেই চলছে। সরকারি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চিপের নকশা, সংযোজন ও পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে একটি টাস্কফোর্স গঠনের কথা জানিয়েছিল। তাই নতুন আলোচনার পরের যাচাইযোগ্য ধাপ হবে নির্দিষ্ট কোম্পানি, প্রকল্প, অর্থায়নের কাঠামো ও সময়সূচি প্রকাশ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২:৭
বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

সাড়ে পাঁচ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, কমছে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ

সাড়ে পাঁচ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, কমছে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ

মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে ছবি: সংগৃহীত

টেকসই উন্নয়নে শক্তিশালী ডিজিটাল সংযোগ অপরিহার্য: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

0 Comments