সৌদি আরবের জিজান প্রদেশে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে হামলার পর ওই স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হুথি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা জিজানের আরামকো স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিজান শহরের আরামকো স্থাপনায় ভোরে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার পর দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হামলার কারণে স্থাপনাটির কার্যক্রম বা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
জিজান সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত। অঞ্চলটি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর একটি কেন্দ্র। জিজানে আরামকোর বড় তেল পরিশোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনা রয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করার পর থেকে হুথিরা বিভিন্ন সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। জিজানও অতীতে একাধিকবার এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটল। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে এবারের ঘটনায় উৎপাদন বা সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreফ্রান্সের উপকূলরক্ষীদের সহায়তা না নিয়ে ইংলিশ চ্যানেলে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় কাটানোর পর ৫১ অভিবাসী যুক্তরাজ্যের ডোভারে পৌঁছেছেন। ছোট নৌকাটিতে প্রায় ৬০ জন থাকার কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত ৫১ জনকে ডোভারে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ উদ্ধারকারী নৌযান তাদের সমুদ্র থেকে নিয়ে আসে এবং পরে সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নৌকাটি সোমবার সকালে নরম্যান্ডি উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। ফরাসি উপকূলরক্ষী নৌকাটিকে অনুসরণ করছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীরা ৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় ‘ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়’ সমুদ্রে ছিলেন এবং ফ্রান্সের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে নৌকাটি ইংলিশ চ্যানেল ধরে পূর্ব দিকে এগিয়ে ডোভারের দিকে যায়। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, অভিবাসীদের হ্যাম্পশায়ারের গোসপোর্টে নামানো হবে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সেখানে শত শত অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী জড়ো হন। স্থানীয় পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে হয়। পরে নৌকাটি গোসপোর্টের পরিবর্তে ডোভারে নেওয়া হয়। গোসপোর্টে বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জরুরি কর্মীর ওপর হামলা, অসতর্কভাবে গাড়ি চালানো এবং অনুমতি ছাড়া এলাকায় প্রবেশের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে। অভিবাসীদের ডোভারে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ছোট নৌকায় আসা প্রত্যেককে আটক, পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে গোসপোর্টে যে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও পরিবহন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, অভিবাসীদের সেখানে না নেওয়ায় সেগুলো আর ব্যবহার করতে হয়নি। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় অভিবাসী আসা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৮০ জন ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ কম। এ ঘটনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নৌকাটির দীর্ঘ পথযাত্রা। নরম্যান্ডি থেকে যাত্রা শুরু করে এটি চ্যানেলের পূর্বদিকে এগিয়ে ডোভারে পৌঁছায়। এর আগে চলতি মাসেও আরও পশ্চিম দিক থেকে একটি ছোট নৌকা যাত্রা করে আইল অব ওয়াইটের কাছে পৌঁছেছিল। কর্মকর্তারা তখন সেটিকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখেছিলেন। Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, হ্যাম্পশায়ার অ্যান্ড আইল অব ওয়াইট পুলিশ
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’ :আশনীার গ্রোভারের
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-কানাডা, ৭১ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
দীর্ঘ দুই দশক ধরে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন চীনের এক নারী। কিন্তু রোগীর চাপ, প্রশাসনিক কাজ আর মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে তিন বছর আগে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ডাক্তারি ছেড়ে তিনি একটি স্টিমড স্টাফড বান বা ভাপানো রুটির দোকান খোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার এই দোকানটি শুধু টিকেই থাকেনি, বরং দারুণ সফলতা পেয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে তিনি দ্বিতীয় শাখাও চালু করেছেন। ডং মিন নামের ৪৮ বছর বয়সী এই সাবেক চিকিৎসকের গল্পটি চীনের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি নতুন প্রবণতার চিত্র তুলে ধরেছে। যেখানে মানসিক শান্তি ও সহজ জীবনের আশায় অনেক চিকিৎসক তাদের সম্মানজনক পেশা ছেড়ে সাধারণ ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন। চীনের সংবাদমাধ্যম চ্যাংজিয়াং ডেইলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডং মিন বলেন, যখন আমি চিকিৎসক ছিলাম, তখন প্রায়ই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতাম। এখন বান রুটির দোকান চালাতে গিয়ে আমাকে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় এবং আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু আমি এতটাই খুশি যে এই কাজ থামানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই। ১৯৯৯ সালে উহান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন ডং মিন। এরপর শেনজেন শহরে গাইনোকোলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কয়েক বছর পর মায়ের ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিক পরিচালনার জন্য উহানে ফিরে আসেন তিনি। মায়ের অবসরের পর তারা ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন এবং হুবেই প্রদেশের তিয়ানমেনে নিজেদের এলাকায় ফিরে যান। সেখানে ডং একটি ছোট কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং আইনি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পেশা পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে ডং জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে তাকে চরম মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হতো। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঘন ঘন পরিদর্শনের মতো চিকিৎসা বহির্ভূত কাজেও প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে হতো। চীনে হাসপাতাল ও রোগীদের মধ্যে সম্পর্ক অনেক সময় বেশ উত্তেজনাপূর্ণ থাকে। হাসপাতালের আইনি প্রতিনিধি হওয়ায় যেকোনো চিকিৎসাজনিত বিবাদের সম্পূর্ণ দায়ভার তার ওপরই বর্তাতো। আগের কাজের সঙ্গে বর্তমান জীবনের তুলনা করে ডং বলেন, এখন তাকে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়, কিন্তু তার কোনো মানসিক চাপ নেই। ২০২৩ সালে এক বন্ধুর পরিবারের এমন একটি দোকান দেখে তিনি এই ব্যবসায় আগ্রহী হন। শুরুতে তিনি একটি বান রুটির দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে দোকানের প্রধান বাবুর্চি কাজ ছেড়ে দিলে তিনি নিজেই বান রুটি তৈরির কৌশল শেখার সিদ্ধান্ত নেন। খুব দ্রুত তিনি এই কাজে দক্ষতা অর্জন করেন এবং কাজটি উপভোগ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দোকানটি পরিচালনার জন্য ডাক্তারি পেশা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে তার পরিবার এই সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করেছিল। কারণ চীনে চিকিৎসকের পেশাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক মনে করা হয়। এর জবাবে ডং তার পরিবারকে বলেছিলেন, আমার বয়স এখন প্রায় ৫০ বছর এবং আমি জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। অন্যরা আমাকে নিয়ে কী ভাবল তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমি শুধু এমন একটি জীবন চাই যা আমি ভালোবাসি এবং আমি নিজের জন্য বাঁচতে চাই। তার এই দৃঢ়তায় ধীরে ধীরে তার মা ও ভাই তাকে সমর্থন করতে শুরু করেন এবং এখন তারা মাঝেমধ্যে দোকানে এসে তাকে সাহায্যও করেন। ডং বলেন, জীবনে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই, পরিবর্তনের জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না। আমি যতদিন চলাফেরা করতে পারব, ততদিন এই দোকানটি চালিয়ে যেতে চাই। চীনে রোগীর অতিরিক্ত চাপ এবং প্রশাসনিক কাজের বোঝার কারণে চিকিৎসকরা প্রায়ই মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক অবসাদে ভোগেন। ডংয়ের মতো আরও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী এখন তুলনামূলক কম মর্যাদাপূর্ণ কিন্তু শান্তিময় পেশার দিকে ঝুঁকছেন। ২০২৪ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি বড় হাসপাতালে ১৩ বছর ধরে কাজ করা এক চিকিৎসকও চাকরি ছেড়ে রাস্তার পাশে স্ন্যাকসের দোকান খোলেন। তিনি জানান, আগের চাকরিতে তিনি মাসে ১০ হাজার ইউয়ানের কম বেতন পেতেন, কিন্তু এখন তার আয় আগের চেয়ে অনেক বেশি। চীনের চিকিৎসকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম জিং লিন ইউয়ান কমিউনিটির মতে, চিকিৎসকরা শুধু শারীরিকভাবে ক্লান্ত হন না, তারা চরম মানসিক অবসাদেও ভোগেন। এটি পুরো চিকিৎসা খাতের একটি কাঠামোগত সমস্যা। চিকিৎসকদের অন্তহীন চিকিৎসা বহির্ভূত কাজ করতে হয় এবং রোগীদের অভিযোগের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। অথচ তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিশ্রম অনুযায়ী তারা যথাযথ পারিশ্রমিক পান না। সূত্র: চ্যাংজিয়াং ডেইলি
আটক মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নকল করবে ইরান
দোকানেও যেতে লাগবে অনুমতি, ইরানি প্রতিনিধিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিধিনিষেধ
কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস
ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৩৪ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৫ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমে আসে। রয়টার্সের হিসাবে, দুটিই ৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে বাজারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনাকে দেখা হচ্ছে। এই সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেলের সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে আংশিক পুনরুদ্ধারও বাজারে চাপ কমিয়েছে। ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি তেল পাঠাচ্ছে। গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তেলের বাজার এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করলেও সরবরাহে নতুন কোনো বড় বিঘ্ন ঘটলে বাজার আবার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রেন্টের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। পরে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির মধ্যে দাম আবার নিচে নামে। তবে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহের চাপ পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে সাময়িক পতনের পরও তেলের দামে আবার ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ২২ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ বাজারচিত্রে আবার কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রাথমিক বাজার আপডেট অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্রেন্টের নভেম্বর চুক্তি শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৫৭ ডলারে এবং মেয়াদ শেষের পথে থাকা ডব্লিউটিআই অক্টোবর চুক্তি প্রায় ৯৫ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছিল। বেশি সক্রিয় নভেম্বর ডব্লিউটিআই চুক্তিও সামান্য বেড়ে ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে ছিল। অর্থাৎ আগের দিনের বড় পতনের পর বাজারে সাময়িক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের নজর এখন থাকবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনা, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সম্ভাব্য বৈঠক, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো হামলা বা সরবরাহ বিঘ্নের দিকে। এসব বিষয়ের যেকোনো একটিতে বড় পরিবর্তন হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও দ্রুত প্রভাব পড়তে পারে। সোর্স: বিজনেস ইনসাইডার; রয়টার্স
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী, হাতে ছিল চিরকুট
গাজায় হুইলচেয়ার, টয়লেটও প্রবেশে নিষেধ করেছে ইসরাইল