মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন প্রজন্মের স্পেস সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের (SSPP) নকশা প্রকাশ করেছেন। তবে এই প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর নেপথ্যে থাকা বিশাল সামরিক সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কী এই নতুন প্রযুক্তি? চীনের গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই বিশালাকার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করবে এবং সূর্যের আলো থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত এই শক্তি মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবীতে অবস্থিত রিসিভার স্টেশনে পাঠানো হবে। মেঘ, বৃষ্টি বা রাত—কোনো কিছুই এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা হতে পারবে না, ফলে এটি হবে অবিরাম শক্তির উৎস।
সামরিক সক্ষমতা ও উদ্বেগের কারণ: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি কেবল সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ দেবে না, বরং এটি মহাকাশ থেকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তি বা এনার্জি বিম নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুদেশের রাডার ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া, স্যাটেলাইট ধ্বংস করা বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করা সম্ভব হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে একটি 'মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র' হিসেবেও কাজ করতে পারে, যা লেজার ওয়েপন বা মাইক্রোওয়েভ পালস ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে সক্ষম।
প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ: যদিও এই বিশাল স্থাপনা মহাকাশে তৈরি করা এবং সেখান থেকে নিরাপদে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো একটি অত্যন্ত জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ, তবুও চীনের বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী। তারা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।
এই প্রকল্পটি সফল হলে চীন জ্বালানি খাতে যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, তেমনি মহাকাশ যুদ্ধ বা 'স্পেস ওয়ারফেয়ার'-এ অপরাজিত শক্তিতে পরিণত হবে। আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশগুলোও এখন চীনের এই 'মহাকাশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র' প্রকল্পের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ দখলের এই লড়াই এখন কেবল বিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি রণকৌশলের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের এই নতুন পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
এমআইটির ৯ লেকচারে জেনারেটিভ এআই শেখার সুযোগ, উন্মুক্ত হলো পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল জগৎ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের ধারণা দিতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। ‘ফাউন্ডেশন মডেলস অ্যান্ড জেনারেটিভ এআই’ শিরোনামের কোর্সটিতে মোট নয়টি লেকচারের মাধ্যমে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে ChatGPT, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, ছবি তৈরি, জীববিজ্ঞান, রোবোটিক্স, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এমআইটি ওপেনকোর্সওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, ৬.এস০৮৭ নম্বরের কোর্সটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাকটিভিটিজ পিরিয়ডে পড়ানো হয়। কোর্সটির প্রশিক্ষক ছিলেন এমআইটির গবেষক রিকার্ড গ্যাব্রিয়েলসন। এটি মূলত একটি নন-টেকনিক্যাল লেকচার সিরিজ। ফলে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা প্রোগ্রামিংয়ে গভীর অভিজ্ঞতা না থাকলেও আগ্রহীরা সহজে কোর্সটি অনুসরণ করতে পারবেন। ([MIT OpenCourseWare][1]) কোর্সের আলোচনায় ChatGPT, Copilot, DALL-E, Stable Diffusion, AlphaFold এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ির মতো বহুল আলোচিত প্রযুক্তির পেছনে থাকা ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপারভাইজড লার্নিং, রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং, সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিং, নিউরাল নেটওয়ার্ক, অটো-এনকোডার, কনট্রাস্টিভ লার্নিং এবং ডিফিউশন মডেলের মতো বিষয়ও সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। ([Future of AI][2]) প্রথম লেকচার: জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের পরিচিতি প্রথম লেকচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রচলিত এআই ব্যবস্থা এবং আধুনিক জেনারেটিভ মডেলের মধ্যে পার্থক্য কী, একটি মডেল কীভাবে বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে সাধারণ প্যাটার্ন শেখে এবং পরে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে—এসব প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর পাওয়া যাবে এই পর্বে। লিংক: [https://youtu.be/y1fGlAECNFM](https://youtu.be/y1fGlAECNFM) দ্বিতীয় লেকচার: প্রযুক্তিটি যেভাবে কাজ করে দ্বিতীয় লেকচারে ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের ভেতরের প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডেটা, মেশিন লার্নিং, মডেল প্রশিক্ষণ এবং সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিংয়ের মাধ্যমে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে নতুন দক্ষতা অর্জন করে, তা তুলনামূলক সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তিটির ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরিতে এই লেকচারটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। লিংক: [https://youtu.be/D-pLXkS21fM](https://youtu.be/D-pLXkS21fM) তৃতীয় লেকচার: ChatGPT ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এই পর্বে ChatGPT এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএমের কার্যপ্রণালি আলোচনা করা হয়েছে। একটি ভাষা মডেল কীভাবে মানুষের লেখা বিশ্লেষণ করে, শব্দের পরবর্তী সম্ভাব্য বিন্যাস অনুমান করে এবং প্রশ্নের উত্তর, সারসংক্ষেপ, অনুবাদ কিংবা নতুন লেখা তৈরি করে—তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডিজিটাল যোগাযোগ, শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে এসব মডেলের প্রভাবও আলোচনায় এসেছে। লিংক: [https://youtu.be/RVFj88i63rU](https://youtu.be/RVFj88i63rU) চতুর্থ লেকচার: এআই দিয়ে ছবি তৈরি চতুর্থ লেকচারের বিষয় ইমেজ জেনারেশন। DALL-E, Stable Diffusion ও Midjourney-এর মতো ব্যবস্থা লিখিত নির্দেশনা থেকে কীভাবে নতুন ছবি তৈরি করে, তার পেছনের ধারণা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ডিফিউশন মডেল, প্রশিক্ষণ ডেটা, টেক্সট ও ছবির মধ্যে সম্পর্ক এবং প্রম্পটের ভূমিকা বুঝতে আগ্রহীদের জন্য এই পর্বটি কার্যকর হতে পারে। লিংক: [https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw](https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw) পঞ্চম লেকচার: জেনারেটিভ এআইয়ের ইকোসিস্টেম জেনারেটিভ এআই কেবল একটি অ্যাপ বা সফটওয়্যার নয়; এর সঙ্গে ডেটা, কম্পিউটিং অবকাঠামো, চিপ নির্মাতা, ক্লাউড পরিষেবা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মডেল নির্মাতা, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও ব্যবহারকারীদের একটি বড় নেটওয়ার্ক যুক্ত। পঞ্চম লেকচারে এই বিস্তৃত ইকোসিস্টেমের প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও বাণিজ্যিক দিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লিংক: [https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo](https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo) ষষ্ঠ লেকচার: জীববিজ্ঞানে জেনারেটিভ এআই এই লেকচারে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণায় জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। প্রোটিনের গঠন ও কার্যকারিতা বিশ্লেষণ, জিনগত তথ্য বোঝা, সম্ভাব্য ওষুধের অণু শনাক্ত করা এবং ড্রাগ ডিসকভারির প্রক্রিয়া দ্রুত করার ক্ষেত্রে এআইয়ের সম্ভাবনা এখানে আলোচিত হয়েছে। অতিথি বক্তা হিসেবে লেকচারটি দিয়েছেন এমআইটির অধ্যাপক মানোলিস কেলিস। ([YouTube][3]) লিংক: [https://youtu.be/pHzdw6YWB9I](https://youtu.be/pHzdw6YWB9I) সপ্তম লেকচার: রোবোটিক্স ও স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ি, স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা সপ্তম লেকচারের মূল বিষয়। বাস্তব জগতের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে সম্ভাব্য ফলাফল বিবেচনা করে কাজ নির্বাচন করতে পারে, সেটিও এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লিংক: [https://youtu.be/ucfAlovLN-U](https://youtu.be/ucfAlovLN-U) অষ্টম লেকচার: নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল এআই জেনারেটিভ এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল তথ্য, পক্ষপাত, গোপনীয়তা, কপিরাইট, ডিপফেক, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অষ্টম লেকচারে এসব নৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে এআই তৈরি ও ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লিংক: [https://youtu.be/VBHmEwr7kf0](https://youtu.be/VBHmEwr7kf0) নবম লেকচার: বিশেষজ্ঞদের প্যানেল আলোচনা শেষ লেকচারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে জেনারেটিভ এআইয়ের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ প্রবণতা, সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং বিভিন্ন খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনে এআই কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যাবে এই পর্বে। লিংক: [https://youtu.be/ewnBsnr7QRA](https://youtu.be/ewnBsnr7QRA) কোর্সটি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করলে একজন নতুন শিক্ষার্থী প্রথমে জেনারেটিভ এআইয়ের ভিত্তি বুঝতে পারবেন এবং পরে এর বিশেষায়িত প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও নৈতিক দিক সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি এআইয়ের সামাজিক প্রভাব বোঝার সুযোগ থাকায় কোর্সটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা, কনটেন্ট নির্মাতা ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের জন্য একটি কার্যকর প্রাথমিক শেখার গাইড হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা, পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং কর্মজীবনের সাফল্য তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত লিংকডইন। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে ভিন্ন এক প্রবণতা। পেশাদার এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এখন সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী বা প্রেমের সম্পর্ক যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করছেন অনেক ব্যবহারকারী। রিজিউমে তৈরির ওয়েবসাইট জেটি (Zety) ২০২৬ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজারের বেশি কর্মজীবী মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রতি আটজনের একজন জানিয়েছেন, লিংকডইনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, লিংকডইন ব্যবহার করে সম্পর্কের চেষ্টা করলে পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবুও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন। জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের একজন সম্ভাব্য সঙ্গী সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য লিংকডইন ব্যবহার করেছেন। প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইলের তুলনায় লিংকডইনে দেওয়া তথ্য বেশি নির্ভরযোগ্য। তবে সবাই এ ধরনের ব্যবহারকে সমর্থন করেন না। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৪ শতাংশ কর্মজীবী বলেছেন, লিংকডইন কেবল পেশাগত কাজের জন্যই ব্যবহার হওয়া উচিত। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ মনে করেন, পরিস্থিতি উপযোগী হলে সম্পর্কের উদ্দেশ্যেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা যেতে পারে। জেটির ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ জ্যাসমিন এসকালেরা বলেন, পুরুষদের মধ্যে লিংকডইনকে ডেটিংয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য মনে করার প্রবণতা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। প্রজন্মভিত্তিক পার্থক্যও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে জরিপে। সম্ভাব্য সঙ্গী সম্পর্কে তথ্য যাচাই করতে মিলেনিয়ালদের ৩৩ শতাংশ এবং জেন-জি প্রজন্মের ২৭ শতাংশ লিংকডইন ব্যবহার করেন। তুলনায় জেন-এক্সের ক্ষেত্রে এ হার ১৯ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, কারও লিংকডইন প্রোফাইলে রোমান্টিক আগ্রহ তৈরি হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রোফাইল ছবি, নিজের সম্পর্কে লেখা পরিচিতি, পারস্পরিক পরিচিত মানুষের সংখ্যা, পেশাগত অগ্রগতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা। জ্যাসমিন এসকালেরার মতে, আধুনিক কর্মজীবনে ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের সীমারেখা আগের তুলনায় অনেকটাই ঝাপসা হয়ে গেছে। এখন একটি লিংকডইন প্রোফাইল শুধু একজনের চাকরি নয়, তার ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসযোগ্যতারও একটি ধারণা দেয়। এ কারণেই অনেকে নেটওয়ার্কিংয়ের বাইরে গিয়েও প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছেন। তবে লিংকডইনে রোমান্টিক বার্তা পাঠানোর বিষয়ে ব্যবহারকারীদের মতামত বিভক্ত। জরিপে ৩৪ শতাংশ বলেছেন, এ ধরনের বার্তা পেলে তারা অস্বস্তি বোধ করবেন। ৩১ শতাংশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। ১৯ শতাংশ বলেছেন, এমন বার্তা পেলে প্রেরককে ব্লক বা অভিযোগ করবেন। অন্যদিকে ১৬ শতাংশ এটিকে ইতিবাচকভাবে নেবেন। গবেষকদের মতে, লিংকডইন ধীরে ধীরে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে, যেখানে কর্মজীবনের তথ্য অনেকের কাছে পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনলাইনে ভুয়া পরিচয়, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং প্রতারণার আশঙ্কার মধ্যে অনেক ব্যবহারকারী যাচাইকৃত কর্মজীবনের ইতিহাসকে একজন মানুষের স্থায়িত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, লিংকডইনের মূল উদ্দেশ্য এখনো পেশাগত যোগাযোগ ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন। তাই ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যের গোপনীয়তা, সম্মতি এবং পেশাগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: জেটি (Zety) জরিপ, এসএফগেট।
মহাকাশ বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের দাবি করেছে রাশিয়ার সরকারি পরমাণু সংস্থা। তারা এমন একটি অত্যাধুনিক 'প্লাজমা ইঞ্জিন'-এর প্রাথমিক মডেল বা প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ দিন। প্রচলিত রকেট দিয়ে যেখানে লাল গ্রহে পৌঁছাতে প্রায় ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগে, সেখানে এই নতুন প্রযুক্তি মহাকাশ যাত্রার সময়কে অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে আনবে। মস্কোর কাছে অবস্থিত পরমাণু সংস্থার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এই পরীক্ষামূলক ইঞ্জিনটি তৈরি করেছেন। এটি প্রচলিত রাসায়নিক জ্বালানি পোড়ানোর পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করে। এই পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন গ্যাসকে আয়নিত করে প্লাজমায় রূপান্তর করা হয় এবং শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের সাহায্যে সেই চার্জযুক্ত কণাগুলোকে তীব্র গতিতে বাইরে ছুড়ে দিয়ে রকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হয়। ল্যাবরেটরিতে করা পরীক্ষায় ৩০০ কিলোওয়াটের এই ইঞ্জিনটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে প্লাজমা ছুড়তে সক্ষম হয়েছে। এই ইঞ্জিনের গতি মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে এক বিশাল বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। মহাকাশচারীরা যত দ্রুত মঙ্গলে পৌঁছাতে পারবেন, মহাকাশের বিপজ্জনক কসমিক রেডিয়েশন বা ক্ষতিকর বিকিরণের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি ততটাই কমে আসবে। এর পাশাপাশি দীর্ঘ সফরের জন্য মহাকাশযানে যে বিপুল পরিমাণ খাবার, পানি ও অক্সিজেন বহন করতে হতো, তার ওপরেও নির্ভরতা অনেক কমে যাবে। তবে ল্যাবরেটরির এই পরীক্ষামূলক সফলতাকে মহাকাশে ওড়ার উপযোগী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা বিজ্ঞানীদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ মহাকাশযান চালানোর জন্য মহাশূন্যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তির জোগান দেওয়া এবং ইঞ্জিনের প্রচণ্ড তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। রুশ বিজ্ঞানীরা ২০৩০ সালের মধ্যে এই ইঞ্জিনের একটি চূড়ান্ত ও উড্ডয়নযোগ্য মডেল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। মহাকাশ ভ্রমণের এই নতুন প্রযুক্তির দৌড়ে রাশিয়া কিন্তু একা নয়। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও নিজস্ব উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন ও 'পালসড প্লাজমা রকেট' তৈরিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে, যা দুই মাসের মধ্যে মঙ্গলে পৌঁছাতে পারবে। এ ছাড়া টেক্সাসের একটি বেসরকারি সংস্থাও একই ধরনের প্লাজমা ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করছে। সব মিলিয়ে মানবজাতিকে গভীর মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার এই ইঞ্জিন তৈরির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে।