অংশীজনদের ব্যাপক আপত্তি ও দেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রণীত ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫’ সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, তথ্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মিলে একটি ক্লাস্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নীতিমালা সংশোধনের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত এই নীতিমালায় টেলিকম খাতের লাইসেন্সগুলোকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হলেও এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এই নীতিমালাকে একতরফা এবং বড় কোম্পানিগুলোর স্বার্থরক্ষাকারী হিসেবে অভিহিত করে এর আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল।
নীতিমালাটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোবাইল অপারেটরদের বিদেশি মালিকরা চাইলে গ্রাহক পর্যায়ে সেবার পাশাপাশি টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক নির্মাণের মতো অবকাঠামো খাতেও বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একই ধরনের সুবিধা দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়নি।
এমনকি টাওয়ার বা এনটিটিএন লাইসেন্সধারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন ক্যাবলসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য পরিষেবা খাতে লাইসেন্স না দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক নীতির কারণে দেশি ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো বড় টেলিকম জায়ান্টদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাংলাদেশের টেলিকম খাতের মোট রাজস্বের ৮০ শতাংশই বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের দখলে। বাকি ২০ শতাংশ রাজস্বের জন্য ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা এবং অবকাঠামো খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো লড়াই করছে। ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সুমন আহমেদ সাবির এবং সামিট কমিউনিক্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলামের মতে, মোবাইল অপারেটররা যদি সরাসরি ফাইবার ও অবকাঠামো খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে, তবে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এনআইসিএসপি) ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
এমনকি ব্রডব্যান্ড সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি-র সভাপতি আমিনুল হক দাবি করেছেন, নীতিমালায় মোবাইল অপারেটরদের বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।
রাজনৈতিক মহলেও এই নীতিমালা নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, নীতিমালায় নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই এবং এটি বড় কোম্পানিগুলোকে অন্যায্য সুযোগ দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলমও যৌক্তিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পুরো নীতিমালা ঢেলে না সাজিয়ে যেসব সুনির্দিষ্ট ধারায় সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা উত্তম হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালা সংশোধনের এই আশ্বাস টেলিকম খাতের দেশি বিনিয়োগকারী ও ছোট উদ্যোক্তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যাজ চালুর মাধ্যমে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণা রোধে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও জালিয়াতি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সেলফি রেকর্ড করতে হবে। মেটার সিস্টেম সেই ভিডিওটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে আসল পরিচয় নিশ্চিত করবে। সাধারণত এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি ব্যবহারকারীরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে অ্যাকাউন্টটিকে অবশ্যই মেটার কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হবে। এই মুহূর্তে ফেসবুক পেজ কিংবা প্রফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। প্রাথমিক অবস্থায় প্রোফাইল ছাড়াও ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ডেটিং এবং গ্রুপে এই ভেরিফিকেশন ব্যাজটি শো করবে। পরবর্তীতে এটি ফিড পোস্টেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভেরিফিকেশনের জন্য সংগৃহীত ভিডিও সেলফি এবং ফেসিয়াল ডাটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে। এই ব্যাজটি কেবল এটি নিশ্চিত করে যে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন বাস্তব মানুষ রয়েছে। তবে এটি ব্যবহারকারীর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বস্ততা বা কোনো লেনদেনের নিশ্চয়তা দেয় না। পেইড মেটা ভেরিফাইড সাবস্ক্রিপশন থেকে এটি আলাদা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন এক নজিরবিহীন ঘটনার কথা প্রকাশ করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের পরীক্ষাধীন দুটি উন্নত এআই মডেল মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ওপেন-সোর্স এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের সিস্টেমে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। প্রযুক্তি বিশ্বে এ ঘটনাকে এআই নিরাপত্তার জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওপেনএআই জানায়, ঘটনাটি ঘটে একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরীক্ষার সময়। ওই পরীক্ষায় এআই মডেলগুলোর সাইবার সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছিল। এজন্য স্বাভাবিকের তুলনায় কিছু নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল। সেই সুযোগে মডেলগুলো পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে এবং পরে হাগিং ফেসের সার্ভারে ঢোকার পথ খুঁজে নেয়। তদন্তে জানা গেছে, এআই মডেলগুলোর লক্ষ্য ছিল পরীক্ষায় ভালো ফল করা। এজন্য তারা নিজেরাই পরীক্ষার উত্তর খুঁজতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। একপর্যায়ে চুরি হওয়া লগইন তথ্য এবং আগে থেকে অজানা একটি সফটওয়্যার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হাগিং ফেসের সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। হাগিং ফেস প্রথমে তাদের সিস্টেমে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ শনাক্ত করে হামলাটি থামিয়ে দেয়। পরে ওপেনএআই তদন্ত করে নিশ্চিত হয়, হামলার পেছনে ছিল তাদের নিজস্ব পরীক্ষাধীন এআই মডেল। দুটি প্রতিষ্ঠান এখন যৌথভাবে পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। ওপেন এআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এ ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এআই তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই উন্নত এআই মডেল পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে। হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহী ক্লেমেন্ট ডেলাঙ্গেও জানিয়েছেন, হামলার ধরন এতটাই জটিল ছিল যে শুরু থেকেই তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল এটি কোনো শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালানো হয়েছে। পরে ওপেনএআইয়ের তদন্তে সেই ধারণাই সত্য প্রমাণিত হয়। ওপেনএআই বলেছে, এ ঘটনায় ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত কোনো এআই মডেল, ডেটাসেট বা সেবায় পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে গবেষণার পরিবেশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ যুক্ত করা হচ্ছে এবং হাগিং ফেসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তাদের পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিশাল ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। মূলত কোম্পানির এক্সবক্স গেমিং খাতের লোকসান ও মন্দা কাটিয়ে উঠতেই এই বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরীণ বার্তা অনুযায়ী, এবারের ছাঁটাইয়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে এক্সবক্স গেমিং বিভাগের ওপর। আগামী ২০২৭ অর্থবছর নাগাদ এই বিভাগ থেকে মোট ৩ হাজার ২০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জন কর্মীকে সোমবারই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের পরিমাণ এক্সবক্সের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। ব্যয় সংকোচনের এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাইক্রোসফট তাদের অধীনস্থ চারটি জনপ্রিয় গেমিং স্টুডিওর মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২০১০-এর দশকে কিনে নেওয়া ‘কমপালশন গেমস’ এবং ‘ডাবল ফাইন প্রোডাকশনস’ আবার স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করবে। এছাড়া ‘নিনজা থিওরি’ ও ‘আনডেড ল্যাবস’ নতুন মালিকানায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ২০২১ সালে ৮১০ কোটি ডলারে কেনা ‘আর্কেন স্টুডিও’র ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। মাইক্রোসফটের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের জানিয়েছেন যে, বর্তমান প্রযুক্তি খাতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পরিবর্তন আসছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সরাসরি এই কর্মীদের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে না, বরং কোম্পানির বাণিজ্যিক খাতের ব্যয় কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করেছিল, যেখানে বহু সিনিয়র কর্মকর্তা অংশ নেন। চলতি বছরে পুঁজিবাজারে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উইন্ডোজ লাইসেন্স, সারফেস ডিভাইস ও এক্সবক্সের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এক্সবক্সের প্রধান নির্বাহী আশা শর্মা কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, দীর্ঘ এক বছরের এই কঠিন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৭ সালের মধ্যে কোম্পানি আবার আগের মতো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে।