কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার: বদলে যাচ্ছে আগামীর কর্মসংস্থান ও পেশার ধরন
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যেভাবে ডালপালা মেলছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের চেনা কর্মসংস্থানের চিত্রটি আমূল বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উৎকর্ষের ফলে অনেক প্রথাগত পেশা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল কাজের এক বিশাল ক্ষেত্র যা আগে কল্পনা করাও কঠিন ছিল।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে যারা নিজেদের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন না তারা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন এবং আধুনিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কেবল গাণিতিক বা প্রযুক্তিগত কাজ নয় বরং এখন চিকিৎসা, আইন এবং সাংবাদিকতার মতো সৃজনশীল পেশাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন অনিবার্য হয়ে পড়ছে।
রোবটিক্স ও অটোমেশনের ফলে কলকারখানার কায়িক শ্রমের চাহিদা কমে গেলেও ডাটা সায়েন্স এবং অ্যালগরিদম বিশেষজ্ঞের মতো নতুন নতুন কারিগরি পদের চাহিদা এখন তুঙ্গে রয়েছে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই মানুষের মেধা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না বরং এটি মানুষের কাজের গতি ও নির্ভুলতা বাড়াতে এক শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে নতুন প্রজন্মকে কোডিং ও ডিজিটাল লিটারেসিতে দক্ষ করে তোলা না গেলে বিশাল এক বেকার জনগোষ্ঠী তৈরির আশঙ্কা করছেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কর্মীদের খুঁজছে যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং যাদের চিন্তাভাবনা অনেক বেশি আধুনিক।
ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে কেবল পুথিগত বিদ্যা যথেষ্ট নয় বরং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সবচাইতে বেশি জরুরি।
পরিশেষে বলা যায় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো ভয়ের কারণ নয় বরং এটি আমাদের জীবন ও জীবিকাকে আরও সহজ ও উন্নত করার এক সুবর্ণ সুযোগ যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
ডিজিটাল এই রূপান্তরের ঢেউ যখন প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ছে তখন আমাদের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করবে আমরা এই পরিবর্তনের সুফল কতটুকু ভোগ করতে পারব এবং বিশ্বমঞ্চে কতটা এগিয়ে থাকব।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যপ্রযুক্তি
View moreযুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি ‘ভলান্টারি এক্সিট অফার’ নামে নতুন এই কর্মসূচি চালু করে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে কর্মরত নির্দিষ্ট বিভাগের কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ৬০ হাজার কর্মীকে সরাসরি ছাঁটাই করা হচ্ছে না। তাঁদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় মাইক্রোসফটের মোট কর্মীর প্রায় ২৭ শতাংশ চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হবেন। গত জুনের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটিতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন। সেই হিসাবে প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বেশি কর্মী নতুন কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। তবে কতজন শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে মাইক্রোসফট এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। মাইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান সোমবার কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন পেশাগত সুযোগ খুঁজতে আগ্রহী কর্মীদের আর্থিক সহায়তা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সুবিধা দিয়ে বিদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটি। যোগ্য কর্মীদের ইমেইলের মাধ্যমে প্রস্তাবের বিস্তারিত জানানো হবে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের এআই এক্সপেরিয়েন্সেস, কোপাইলট, ফিন্যান্স, হিউম্যান রিসোর্সেস, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ অ্যান্ড ডিভাইসেস বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন। তবে সব বিভাগের কর্মীরা সমানভাবে যোগ্য নন। মার্কেটিং, কমার্শিয়াল বিজনেস ও সিকিউরিটিসহ কয়েকটি বিভাগ এই প্রস্তাবের বাইরে রয়েছে। ডেটা সেন্টার ও বিক্রয় বিভাগের কিছু কর্মীও সুবিধাটি পাবেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাইক্রোসফটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী বিভাগের লেভেল ৭০ এবং তার নিচের কর্মীরা এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট পদে কর্মরত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যাবে না। কর্মীর বিভাগ, দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। এটি সীমিত সময়ের জন্য চালু করা স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচি। চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গ্রহণকারী কর্মীরা সেভারেন্স প্যাকেজের মতো আর্থিক সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে চাকরি ছাড়লে কর্মীকে কিছু অর্থ ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনে সহায়তা দেওয়া হবে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্যাকেজের শর্ত মাইক্রোসফটের প্রচলিত সেভারেন্স ব্যবস্থার কাছাকাছি হবে। তবে নতুন কর্মসূচিতে প্রত্যেক কর্মী ঠিক কত অর্থ পাবেন, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চাকরির মেয়াদ, পদ ও সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী সুবিধার পরিমাণ আলাদা হতে পারে। মাইক্রোসফট এমন এক সময়ে নতুন এই ঘোষণা দিল, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে এআই ডেটা সেন্টার, উন্নত চিপ, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কোপাইলটের মতো প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বছরে মাইক্রোসফটের মূলধনি বিনিয়োগ প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশ এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচির যোগ্য কর্মীদের ৩০ শতাংশের বেশি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এরপর জুলাই মাসে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তে এক্সবক্সসহ কয়েকটি বিভাগ প্রভাবিত হয়েছিল। ফলে অক্টোবরের নতুন কর্মসূচি চলতি বছরে মাইক্রোসফটের কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে নতুন কর্মসূচির সঙ্গে আগের ছাঁটাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জুলাই মাসে নির্দিষ্টসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে এবার কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ফলে ৬০ হাজার কর্মী এই প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হলেও তাঁদের সবাই চাকরি ছাড়বেন, এমন নয়। কতজন প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীসংখ্যা কতটা কমবে, তা এখনো অনিশ্চিত। মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের মধ্যেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণের সঙ্গে প্রচলিত চাকরির ধরন কীভাবে বদলাচ্ছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে নতুন এআই বিশেষজ্ঞ নিয়োগ ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে, অন্যদিকে কিছু বিভাগে ব্যয় কমাতে চাইছে। তবে মাইক্রোসফটের নতুন কর্মসূচির আওতায় থাকা প্রতিটি পদ সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে, এমন প্রমাণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফটে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী প্রযুক্তিকর্মীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা বা অন্য নিয়োগকর্তানির্ভর ওয়ার্ক স্ট্যাটাসে কর্মরত কেউ স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গ্রহণের আগে অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম বিবেচনা করা প্রয়োজন। চাকরি শেষ হওয়ার পর বৈধ স্ট্যাটাস বজায় রাখা, নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ শুরু করা কিংবা প্রযোজ্য গ্রেস পিরিয়ডের বিষয়গুলো ব্যক্তির ভিসা ও ইমিগ্রেশন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আর্থিক প্যাকেজ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে, এমন নয়। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তিত ব্যবসায়িক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন দায়িত্বে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরিতে কাজ করা হবে। আগামী বুধবার প্রতিষ্ঠানটির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীর জন্য স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব প্রযুক্তি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে কতজন কর্মী প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কর্মীসংখ্যা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তার ভিত্তিতে।
ইলন মাস্কের টেসলা রোডস্টারের গবেষণায় বাংলাদেশের বুয়েটের তারেক সরোয়ার! জানালেন অভিজ্ঞতা
বাজারে আসার কয়েক ঘণ্টায় আইফোন ডুওর মজুত শেষ, পুনর্বিক্রিতে দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ হাজার ডলার!
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন ‘ডুয়ো’ কিনতে বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের ভিড়
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডালাস ও ফোর্ট ওয়ার্থ, অস্টিন এবং হিউস্টনকে ঘিরে তিনটি এয়ার ট্যাক্সি নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে আর্চার এভিয়েশন। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রধান বিমানবন্দর, ব্যবসাকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের মধ্যে বিদ্যুৎচালিত আকাশযানে যাতায়াতের ব্যবস্থা গড়তে চায় তারা। উদ্দেশ্য, সড়কের যানজট এড়িয়ে যাত্রীদের ভ্রমণের সময় কমানো। আর্চারের দাবি, তাদের ‘মিডনাইট’ এয়ার ট্যাক্সির মাধ্যমে সড়কপথের ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের কিছু যাত্রা আকাশপথে ১০ থেকে ২০ মিনিটে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এটি কোম্পানির পরিকল্পিত উড্ডয়নের সময়ের হিসাব। ঘোষণায় যাত্রীসেবা শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ বা ভাড়া জানানো হয়নি। ডালাস ও ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলের পরিকল্পনায় রয়েছে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, ডালাস লাভ ফিল্ড, অ্যাডিসন, আর্লিংটন মিউনিসিপ্যাল, ফোর্ট ওয়ার্থ মিচাম এবং পেরট ফিল্ড ফোর্ট ওয়ার্থ অ্যালায়েন্স বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দরের সঙ্গে ফ্রিসকো স্টেশনের মতো ব্যবসাকেন্দ্র যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। হিউস্টনে জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল, উইলিয়াম পি. হবি ও সুগার ল্যান্ড রিজিওনাল বিমানবন্দর থেকে ডাউনটাউনের থম্পসন হোটেলের হেলিপ্যাড এবং উপকূলীয় গ্যালভেস্টনে সংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। অস্টিনে অস্টিন বার্গস্ট্রম ইন্টারন্যাশনাল ও অস্টিন এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরের সঙ্গে সার্কিট অব দ্য আমেরিকাসের ফর্মুলা ওয়ান হেলিপ্যাড যুক্ত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এই পরিকল্পনার পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আর্চার। প্রতিষ্ঠানটি, বেটা টেকনোলজিস ও ম্যাকুয়ারি ক্যাপিটালের গড়া জোট এসিইএস টেক্সাসের পরিবহন বিভাগ এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। কোথায় আকাশযান চলবে এবং কোন স্থানে চার্জার বসানো সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা চিহ্নিত করাই এই উদ্যোগের অংশ। একাধিক প্রতিষ্ঠানের আকাশযান একই চার্জিং ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারবে, এমন অবকাঠামো গড়ার লক্ষ্য তাদের। টেক্সাসের উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএর পরীক্ষামূলক কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত। গত ৯ মার্চ ঘোষিত ওই কর্মসূচিতে টেক্সাসের পরিবহন বিভাগের প্রস্তাব নির্বাচিত হয়। এতে ডালাস, অস্টিন, সান অ্যান্টোনিও এবং পরবর্তী পর্যায়ে হিউস্টনের মধ্যে আঞ্চলিক উড্ডয়ন ও সংশ্লিষ্ট শহরগুলোতে এয়ার ট্যাক্সি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কথা রয়েছে। আর্চারের পাশাপাশি বেটা, জোবি ও উইস্ক এই প্রকল্পের অংশীদার। এফএএ জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম থেকে পাওয়া তথ্য নতুন ধরনের আকাশযানকে নিরাপদে জাতীয় আকাশসীমায় যুক্ত করার মানদণ্ড ও বিধি তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। আর্চারও তাদের ঘোষণায় স্পষ্ট করেছে, প্রস্তাবিত রুট, সেবা চালুর সময় ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ। বাস্তবায়নের ফল ঘোষিত প্রত্যাশা থেকে ভিন্ন হতে পারে।
এক্সে ১৫ ভিডিওতে বোনাসের সুযোগ, নেই কোন ফলোয়ারের শর্ত
টেসলার এআই সফটওয়্যারের নেতৃত্বে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট অশোক
ফ্রান্সে অ্যাপল স্টোরে লু ট পা টের পর চো রদের আইফোনেই ভেসে উঠল সতর্কবার্তা
বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো কতটা সুরক্ষিত, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি কেমন এবং এ ধরনের আক্রমণ হলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি সেবা, আর্থিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের বড় একটি অংশ ইন্টারনেটনির্ভর। ফলে কোনো বড় ধরনের সাইবার হামলা হলে শুধু ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাওয়াই নয়, গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়া এবং তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সাইবার হামলার ধরন অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। কোনো হামলায় ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়তে পারে। আবার কোনো আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভেঙে দেওয়া। এতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ব্যাংকিং সেবা, অনলাইন লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকলে সাইবার অপরাধীরা তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করা, নিয়মিত দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকা জরুরি। সাইবার হামলা প্রতিরোধে শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষা যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সচেতনতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করা, তথ্যের ব্যাকআপ রাখা এবং হামলার পর দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় থাকলে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সহজ হতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বন্ধের আশঙ্কা বা সাইবার হামলার খবর থাকলেই বাংলাদেশের সব অনলাইন সেবা তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু, ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর। বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর, তা মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতা, নিরাপত্তাব্যবস্থার সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ডিজিটাল সেবা যত বাড়ছে, সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও তত বাড়ছে। তাই সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, দ্রুত সতর্কতা এবং কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
ফেসবুকে বন্ধ হচ্ছে পরিচিত ‘রিচ’, জায়গা নিচ্ছে নতুন সূচক ‘ভিউয়ারস’
এআই নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলে দিলেন এনভিডিয়া সিইও, শিল্পখাতকে দিলেন জরুরি পরামর্শ