মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারে হামলার জবাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাত
মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ওপর হামলার কড়া জবাব হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক’ সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিল।
সেন্টকমের দেওয়া ওই বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম (ইটি) বিকেল ৫টায় ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এই পাল্টা হামলা চালানো শুরু হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম, আকাশসীমার নিরাপত্তা এবং সেনাদের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যেই তারা সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার খাতিরে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
তবে এই হামলায় ইরানের ঠিক কোন কোন অঞ্চলে আঘাত হানা হয়েছে বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে সেন্টকমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর এই সরাসরি হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া ওই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreলোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’ অবরুদ্ধ করার লক্ষ্যে ইয়েমেনে নিজেদের বিশেষ সামরিক বাহিনী আইআরজিসি-এর (IRGC) শত শত কর্মকর্তা পাঠিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অভিযানে সরাসরি মাঠপর্যায়ে সহায়তা করছে এই ইরানি বাহিনী। টানা সংঘর্ষের পর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাত থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘মোখা’ বন্দরটি পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে হুথিরা। এই বন্দরটি বাবেল-মানদেব প্রণালির খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় পুরো সমুদ্রপথটি এখন হুথি ও ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে আগে থেকেই ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে আছে। এর ওপর বাবেল-মানদেব প্রণালিও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ধাক্কা খাবে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে তখন সুয়েজ খালের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। এর ফলে যাতায়াতের সময় ও খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। যদিও ইরান বরাবরের মতো এবারও হুথিদের সরাসরি পরিচালনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে মাঠপর্যায়ে ইরানি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
মৃত্যুর পর ফের জীবিত হওয়ার আশায় ২ লাখ ডলারে অস্ট্রেলিয়ায় হিমায়িত ৭ মরদেহ
কোলাজেনের বদলে মুখে তেল, ভয়াবহ কসমেটিক প্রতারণায় স্থায়ী ক্ষতি মেক্সিকান অভিনেত্রীর
কারাগারে গিয়ে আরও অসুস্থ মাদুরোর স্ত্রী হৃদরোগের চিকিৎসায় চাইলেন মুক্তি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পর নিজের দেশ কিউবায় ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করার কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন এক কিউবান নাগরিক। একসময় উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও বহিষ্কারের পর তাকে ফিরতে হয়েছে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে থাকা কিউবায়। কিউবায় ফিরে তার সামনে এখন একেবারে ভিন্ন বাস্তবতা। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দেশটিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ঘাটতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন ছেড়ে হঠাৎ নিজ দেশে ফিরে আসা তার জন্য সহজ হয়নি। সেখানে আবারও শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে। কাজের সুযোগ সীমিত, আয় কম এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়েছে। কিউবার অর্থনৈতিক সংকট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গভীর হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহন, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে কিউবান অভিবাসীদের জন্যও পরিস্থিতি বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নতুন জীবন গড়ার সুযোগের পাশাপাশি বহিষ্কারের আশঙ্কাও এখন অনেকের জন্য বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে আসা ওই ব্যক্তির অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন মানুষের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে অভিবাসন, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিজের দেশে ফিরে নতুন করে বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতার একটি চিত্র তুলে ধরছে।
হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ জানিয়ে দুবার ফোন সৌদি যুবরাজের, ‘না’ করে দেন ট্রাম্প
পবিত্র শহরে তীর্থযাত্রার সময় ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও চুমু, বিশপ আটক
নেতানিয়াহুর পরকীয়া কেলেঙ্কারি, নীরবতা ভাঙলেন গোপন প্রেমিকা
বংশগত গুরুতর মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাজ্যে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আটটি শিশু জন্ম নিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অগ্রগতিকে বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের মানব নিষেক ও ভ্রূণবিজ্ঞান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এইচএফইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টের জন্য ৩৫ জন রোগীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন প্রোনিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতির চিকিৎসা নিয়েছেন। এই চিকিৎসার লক্ষ্য হলো মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়ায় থাকা ক্ষতিকর জিনগত পরিবর্তন সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো। মাইটোকন্ড্রিয়া মানুষের প্রায় সব কোষে থাকা ক্ষুদ্র কাঠামো, যা কোষের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাইটোকন্ড্রিয়ার জিনে ক্ষতিকর পরিবর্তন থাকলে গুরুতর ও কখনও প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। এসব রোগ মায়ের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে বংশগতভাবে যেতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টে মা ও বাবার মূল জিনগত উপাদানের সঙ্গে একজন সুস্থ নারী ডোনারের ডিম্বাণু থেকে নেওয়া সুস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী মায়ের পারমাণবিক জিনগত উপাদান এমন একটি ডোনার ডিম্বাণুতে স্থানান্তর করা হয়, যার নিজস্ব পারমাণবিক জিনগত উপাদান আগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর শুক্রাণু ব্যবহার করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এ কারণেই এ ধরনের শিশুকে অনেক সময় গণমাধ্যমে ‘থ্রি-প্যারেন্ট বেবি’ বলা হয়। তবে বৈজ্ঞানিক ও আইনগত অর্থে ডোনারকে শিশুটির তৃতীয় অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ডোনারের অবদান মূলত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পর্যন্ত সীমিত এবং এটি শিশুর মোট জিনগত উপাদানের ১ শতাংশেরও কম। এই চিকিৎসা বিশেষভাবে তাঁদের জন্য, যাঁদের গুরুতর মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ সন্তানের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি। যুক্তরাজ্যে প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে আলাদাভাবে অনুমোদন দিতে হয়। ফলে এটি সাধারণ আইভিএফ চিকিৎসার মতো সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো পদ্ধতি নয়। যুক্তরাজ্য ২০১৫ সালে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশনকে নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হয়। দেশটির আইন অনুযায়ী, অনুমোদিত ক্লিনিকগুলোকে প্রতিটি চিকিৎসার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি নিতে হয়। বর্তমানে নিউক্যাসল ফার্টিলিটি সেন্টার অ্যাট লাইফ এই চিকিৎসা পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্যের একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত কেন্দ্র। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখনো এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন। এইচএফইএ জানিয়েছে, পদ্ধতিটি তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় ঝুঁকি ও সফলতার হার সম্পর্কে প্রমাণ এখনো সীমিত। জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসাটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই সাফল্য গুরুতর বংশগত মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার পথ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এই প্রযুক্তির প্রভাব, নিরাপত্তা এবং জিনগত চিকিৎসার নৈতিক সীমা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বললেন ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া
যুক্তরাজ্যে একে অপরের সন্তানকে স্তন্যপান করান দুই ননদ-ভাবি, বললেন ‘দুধ তো দুধই’