সেন্টকম

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নৌ-অবরোধের পাল্টা জবাবে লোহিত সাগর রুদ্ধ করার হুমকি ইরানের

ইরানি বন্দরে আমেরিকার কঠোর নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লোহিত সাগরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রুদ্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার জানিয়েছে, আমেরিকা যদি তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে। জেনারেল আলী আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন আগ্রাসন চলতে থাকলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে কোনো দেশের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেওয়া হবে না। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ঘোষণা করেছিল যে, তারা ইরানের সব বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং সব দেশের জাহাজের ওপর সমভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠোর নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন। সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই মার্কিন সীমানা পার হতে পারেনি এবং ছয়টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। গদর উপসাগর থেকে রাস আল হাদ্দ পর্যন্ত বিশাল এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনী অবস্থান নিয়েছে। ফলে ওমান সাগর থেকে আরব সাগরে জাহাজ চলাচলের প্রধান রুটটি এখন কার্যত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নৌ-ট্রাফিক ডাটা অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমজ প্রণালী দিয়ে অন্তত ১৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। যার মধ্যে গ্যালাক্সি গ্যাস, অল নাজির এবং গ্রিসের বেশ কিছু তেল ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ ও তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক জাহাজ সংঘাত এড়াতে মাঝপথ থেকে ফিরে যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
সমুদ্রে মার্কিন বাহিনীর মাইন অপসারণের খবর ভুয়া বলছে ইরান।
হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব, সরাসরি নাকচ ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কাজ শুরু করেছে—এমন দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে এই তথ্য দ্রুতই নাকচ করেছে ইরান।   শনিবার সেন্টকম জানায়, তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন ও ইউএসএস মাইকেল মারফি—হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আরব উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং সেখানে মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। মার্কিন পক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ রুট তৈরি করা হচ্ছে।   মার্কিন নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে এবং শিগগিরই নিরাপদ পথ বাণিজ্যিক খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।   তবে ইরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে—এমন কোনো তথ্য সঠিক নয়। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যেকোনো জাহাজের চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানেই ঘটে।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণালিতে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি দেখা গেলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই মার্কিন জাহাজ ওই পথে চলাচল করে থাকে, তবে তা ইরানের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়। কারণ, হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।   এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিকে দুই দেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি সংলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর শুরু হওয়া এই আলোচনায়ও বেশ কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং আঞ্চলিক সামরিক অভিযান—এসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।   ইরানি সূত্রগুলোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালি আংশিক খোলার ইঙ্গিত দিলেও, মাইন থাকার অজুহাতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই দাবি মানতে নারাজ তেহরান।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরানকে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে দেশটির প্রধান তেল অবকাঠামো হাব ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই বিষয়ে অবগত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ না করে, তবে ট্রাম্প এই কৌশলগত দ্বীপে সরাসরি আঘাত হানার হুমকিও দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে খারগ দ্বীপে একটি বড় ধরনের সূক্ষ্ম লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ পরিচালিত ওই অভিযানে তেল অবকাঠামোর ক্ষতি না করেই দ্বীপের ভেতরে থাকা ৯০টিরও বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলায় ইরানের নৌ-মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার বাঙ্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।   তেল সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, খারগ দ্বীপ অবরোধ বা দখল করলে ইরান চাপের মুখে পড়বে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের আধিপত্য কমাতে বাধ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পরিকল্পনা সংঘাতের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথমবার ইরানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার

বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও ব্যয়বহুল স্টিলথ যুদ্ধবিমান মার্কিন এফ-৩৫ লাইটনিং-২ সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ছোঁড়া ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্কিন সামরিক আধুনিক ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তি ও স্টিলথ সক্ষমতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।   মার্কিন সেন্টকমের নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ওপর একটি কমব্যাট মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ বিমান আঞ্চলিক বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। বিভিন্ন ওপেন সোর্স ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ কোটি ডলার মূল্যের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি মাত্র ৩ হাজার ডলার ব্যয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ ইরানি প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর বিমানের পেছনে আগুনের শিখা দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেক বিশ্লেষক।   সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার প্রভাব কেবল একটি বিমান হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে ইরান এফ-৩৫ বিমানের ‘ইনফ্রারেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা হিট সিগনেচার ডাটা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যা মস্কো ও বেইজিংয়ের মতো প্রতিপক্ষের জন্য অমূল্য তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর ফলে মার্কিন আকাশসীমার শ্রেষ্ঠত্ব বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং এফ-৩৫ পাইলটরা এখন থেকে আর নিজেদের ‘অদৃশ্য’ মনে করতে পারবেন না।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক বিমান হারানো গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল এবং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কারের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল সরঞ্জাম। এই ঘটনাটি মার্কিন সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: প্রেস টিভি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে আগুন; আহত ২

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি স্পেস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের কারণ যুদ্ধ-সম্পর্কিত ছিল না এবং দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন নৌসেনা আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় এবং বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা ইঞ্জিন রুমের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। প্রাথমিক আগুন নেভানো হলেও ক্রু সদস্যরা এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নেভাল সি সিস্টেমস কমান্ডের রিজিওনাল মেইনটেন্যান্স সেন্টার বহরটিকে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   জাহাজ পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রণতরীটি সৌদি আরবের আল ওয়াজ উপকূলে লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছিল। ফোর্ড এবং এর তিনটি সহায়ক যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ ও ইউএসএস উইনস্টন এস. চার্চিল—গত সপ্তাহে সুয়েজ খাল অতিক্রম করেছিল। ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, ১৭ রণতরী ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ব্র্যাড কুপার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন।   তার দাবি অনুযায়ী, ইরান–এ প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযানে ইরানের একটি সাবমেরিনসহ অন্তত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ রণতরী ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   তিনি বলেন, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা সদস্য, প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক বোমারু বিমান অংশ নিচ্ছে। সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর আঘাত হানার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দিন দিন কমছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।   তার ভাষ্যমতে, ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছে। শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং ড্রোন ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, ইরান প্রতিশোধ নিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে বর্তমানে তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা সংকটের মুখে পড়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব সামরিক দাবি সত্য হয়, তাহলে ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর ইরানের পরবর্তী কৌশলের দিকে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে ইরানের হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে ইরানের হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, কুয়েতের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলায় প্রথমে তিনজন সেনা নিহত হন।   পরবর্তীতে আরও তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। অতিরিক্ত নিহতদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান এবং দু’জনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, হামলাটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে চালানো হয়। কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও একটি প্রজেক্টাইল প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।   মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এদিকে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় নিহত মার্কিন সেনা বেড়ে ৪

ইরানের হামলায় নিহত মার্কিন সেনা সদস্যের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রোববার (১ মার্চ) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তিন সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং আরও পাঁচজনের গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য জানায়। এর পর আজ সোমবার (২ মার্চ) সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন করে আরও একজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।   সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের প্রাথমিক হামলায় গুরুতর আহত হওয়া ওই চতুর্থ সেনা সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তার আঘাতজনিত কারণে মারা যান।   একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, বর্তমানে বড় পরিসরে তাদের যুদ্ধ অভিযান চলমান রয়েছে এবং এর জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।   তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১১, ২০২৬ 0