উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক বীভৎস ছুরি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র অভিবাসী-বিরোধী সহিংস দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা একটি বাস, বেশ কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি, ডাস্টবিন এবং আবাসিক বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছুরি হামলার একটি গ্রাফিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো গণ-বিক্ষোভের ডাক দিলে এই রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটিতে এক ব্যক্তিকে অন্য এক ব্যক্তির মাথা ও ঘাড়ে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করতে দেখা গেছে, যা ইন্টারনেট দুনিয়ায় ‘শিরশ্ছেদের চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
এই নৃশংস ঘটনায় পুলিশ সুদান থেকে আসা ৩০ বছর বয়সী এক আশ্রয়প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত এই ব্যক্তি ২০২৩ সালে পাঁচ বছরের ব্রিটিশ ভিসা পেয়েছিলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, জনসমক্ষে ধারালো অস্ত্র রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, হামলায় গুরুতর আহত ভুক্তভোগীকে চোখ, মুখ এবং পিঠে মারাত্মক জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও, মঙ্গলবার রাতে শত শত মুখোশধারী বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে ইট-পাটকেল ও বোতল ছুড়ে তাণ্ডব চালায় এবং অভিবাসীদের খোঁজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক অ্যান্ড লেবার পার্টির এমপি ক্লেয়ার হ্যানা এই তাণ্ডবকে একটি 'বর্ণভিত্তিক পোগ্রাম' বা পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এই দাঙ্গা ও সহিংসতা ছড়ানোর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্র ডানপন্থীদের উসকানিকে সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে। এমপি ক্লেয়ার হ্যানা অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রযুক্তি টাইকুন ইলন মাস্ক, ব্রিটিশ রিফর্ম ইউকে পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ এবং উগ্র ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা ওই হামলার ভিডিও শেয়ার করে গণ-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে উসকে দিয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নিল বিক্ষোভকারীদের এই তাণ্ডবকে ‘চরম কাপুরুষতা’ এবং ‘গুন্ডামি’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ড ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রাতারাতি তারা অন্তত ৬২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মোকাবিলা করেছে, যেখানে অনেক অভিবাসী পরিবারকে জ্বলন্ত ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ছুরি হামলাকে ‘ভয়াবহ ও জঘন্য’ বলে বর্ণনা করে রাস্তায় এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
এই তীব্র উত্তেজনার মাঝেও কিছু স্থানীয় বাসিন্দা শান্তি ও সংহতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে সাধারণ নাগরিকদের একাংশের মধ্যে সরকারের অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে, যা এই দাঙ্গার মাধ্যমে নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে আবাসন সংকট এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষ ক্ষুব্ধ।
এর আগে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে হেনরি নোয়াক নামের এক ব্রিটিশ তরুণ হত্যার ঘটনাতেও একই ধরনের অভিবাসী-বিরোধী বিক্ষোভ ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছিল, যা নিয়ে খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সমালোচনা করেছিলেন।
সাউদাম্পটনের সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বেলফাস্টের এই সহিংসতা পুরো যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুপ্তহত্যা করতে রাশিয়া অভিনব ও ভয়ংকর এক 'হানিপট' বা প্রলোভনের ফাঁদ তৈরি করেছে। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ প্রধান ইভান ভিহিভস্কি চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগে জানিয়েছেন, রাশিয়ান গোয়েন্দারা এই জঘন্য কাজে ইউক্রেনের তরুণী এবং উঠতি বয়সি কিশোরীদের নিয়োগ করছে। মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে এসব নারীদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে এবং দূর থেকে পুরো হত্যা মিশনটি সুকৌশলে পরিচালনা করা হচ্ছে। ইউক্রেন পুলিশের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত টেলিগ্রামের মাধ্যমে কমপক্ষে ছয়টি চুক্তিবদ্ধ হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে, যার মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ প্রধান ভিহিভস্কি জানান, রাশিয়ান এজেন্টরা এই নারীদের প্রাপ্তবয়স্কদের ডেটিং সাইটগুলোতে গিয়ে ইউক্রেনীয় সামরিক সদস্যদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়। এরপর সেনাদের সাথে একান্তে দেখা করার জন্য বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার টাকাও সরাসরি সরবরাহ করে তারা। সাক্ষাতের আগে মেয়েদের কাছে পার্সেলের মাধ্যমে মেথাডোন নামের উচ্চমাত্রার সিন্থেটিক ওপিওড বা ব্যথানাশক ওষুধ পাঠানো হয়, যা অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগ করলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ডেটিংয়ে আসা ওই সেনাদের পানীয়ের সাথে সেই বিষাক্ত ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় তাদের। সম্প্রতি ইউক্রেনের জাইতোমির অঞ্চলে এমনই এক মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে সেখানকার একটি বাড়ি থেকে ২৭ বছর বয়সী এক ইউক্রেনীয় সেনার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যার ব্যবহৃত পাত্রে পাউডার জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে গত ৪ জুন বারদিচিভ শহরের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই কিশোরী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে টেলিগ্রামে এক সন্দেহভাজন রাশিয়ান এজেন্টের নির্দেশে ওই সেনার অ্যালকোহলের সাথে মেথাডোন মিশিয়েছিল। সেনা সদস্যটি অচেতন হয়ে পড়ার পরপরই সে ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালিয়ে যায়। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার একশরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নিজ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং রাশিয়ার হয়ে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসবাদ বা নাশকতামূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়িতে একটি গোপন চীনা ট্র্যাকিং ডিভাইস বা নজরদারি যন্ত্র উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের (এমপি) কাছে এই রোমহর্ষক তথ্য তুলে ধরা হয়। জানা গেছে, চীন থেকে আমদানি করা গাড়ির একটি সিল করা যন্ত্রাংশের ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই ট্র্যাকিং বা আড়িপাতার ডিভাইসটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ডিভাইসটি মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানে সক্ষম ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রথমবার একটি বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এই নজরদারির বিষয়টি সামনে আসে। সে সময় তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের মন্ত্রীদের ওপর বেইজিংয়ের আগ্রাসী গুপ্তচরবৃত্তির ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছে, ডিভাইসটি মূলত এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালেই খোদ প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে শনাক্ত হয়েছিল। কাউন্সিল অন জিওস্ট্র্যাটেজি নামক থিংক-ট্যাংকের সদস্য চার্লস পার্টন সম্প্রতি কমন্স বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড কমিটিকে জানান, ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি থেকে একটি সেলুলার মডিউলের মাধ্যমে চীনে সরাসরি তথ্য পাচার হচ্ছিল। তবে সে বছর দায়িত্ব পালন করা তিন রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী—বরিস জনসন, লিজ ট্রাস নাকি ঋষি সুনাক, ঠিক কার গাড়ি লক্ষ্য করে এই নজরদারি চালানো হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। দীর্ঘ ৪০ বছর কূটনীতিক হিসেবে কাজ করা পার্টন জানান, সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যায়, গাড়ির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই এই জিওলোকেটর বা স্থান শনাক্তকারী যন্ত্রটি গাড়ির নির্দিষ্ট অংশে যুক্ত করেছিল। গাড়ির যন্ত্রাংশগুলো প্রস্তুতকারকদের কাছে সিল করা ইউনিট হিসেবে পাঠানোর আগেই সেগুলোতে সিম কার্ড যুক্ত করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। চার্লস পার্টন সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে বিমান, গাড়ি থেকে শুরু করে স্মার্ট ডোরবেল পর্যন্ত সবকিছুর ভেতরেই এ ধরনের সেলুলার মডিউল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর উৎপাদনে চীন একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চীন চাইলে এই প্রযুক্তির সাহায্যে দূর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যেকোনো যানবাহন মুহূর্তের মধ্যে অচল করে দিতে পারে। এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তা বা মেট্রোপলিটন পুলিশ সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সরকারের মুখপাত্র এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন না। অন্যদিকে, গুপ্তচরবৃত্তির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও 'স্রেফ গুজব' বলে উড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং। চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্মসংস্থান অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার চালু করেছে। দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায়, কোনো সহায়ক নথিপত্র জমা না দিয়েই শতভাগ কাগজবিহীন পদ্ধতিতে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট পারমিটের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে, ফলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে। সরকারি কার্যক্রমে জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে পরিচালিত ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে এই সংস্কার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন পদ্ধতি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেবা গ্রহণকে আরও কার্যকর করবে এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করবে। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে সক্ষম হবেন। সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রচলিত ওয়ার্ক পারমিট সেবাগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি ইলেকট্রনিক গণপরামর্শ কার্যক্রম চালু করেছে। এই অনলাইন পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক, সেবাগ্রহীতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত ও পরামর্শ জমা দিতে পারবেন। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে সেবাগুলোকে আরও উন্নত ও ব্যবহারবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি বাড়াতে মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োগকর্তা এবং কর্মীরা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্যোগ একদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়নকে সহায়তা করবে, অন্যদিকে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে শ্রমবাজারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সেবার গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই বছর মেয়াদি বাহিরাগত কর্মী নিয়োগ পারমিট, যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া যাবে। একইভাবে দেশটির অভ্যন্তরে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পরিবর্তনের জন্য দুই বছর মেয়াদি ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জরুরি কাজের জন্য মিশন ওয়ার্ক পারমিট এবং স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রয়েছে। আধুনিক কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্রিল্যান্সার এবং খণ্ডকালীন কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকেও স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দক্ষ কর্মীরা মূল নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে। এছাড়া শিক্ষকতা খাতে প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট এবং গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ কয়েকটি পারমিট চালু করেছে মন্ত্রণালয়। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে স্টুডেন্ট ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট চালু রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিসিসিভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ কর্মসংস্থান পারমিটের পাশাপাশি স্থানীয় আমিরাতি স্নাতকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিটও চালু করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারকে আরও আধুনিক, নমনীয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।