জাতীয়

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা, আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা, আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা, আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রকাশিত এ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

একই রাতে আলাদা গেজেটে জানানো হয়, তারেক রহমান-কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব এখন নবগঠিত মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত থাকবে।

 

কার দায়িত্বে কোন মন্ত্রণালয়

 

পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন—
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ), সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্র), ড. খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্র—টেকনোক্র্যাট), মো. আমিন উর রশিদ (কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য—টেকনোক্র্যাট), ইকবাল হাসান মাহমুদ (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক), আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ), আব্দুল আওয়াল মিন্টু (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (ধর্ম বিষয়ক), মিজানুর রহমান মিনু (ভূমি), নিতাই রায় চৌধুরী (সংস্কৃতি), খন্দকার আব্দুল মোকতাদির (বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট)।

 

এ ছাড়া পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন—
আরিফুল হক চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান), জহির উদ্দিন স্বপন (তথ্য ও সম্প্রচার), আফরোজা খানম রিতা (বেসামরিক বিমান ও পর্যটন), মো. শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (পানি সম্পদ), আসাদুল হাবিব বুলু (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ), মো. আসাদুজ্জামান (আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক), জাকারিয়া তাহের (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত), দীপেন দেওয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক), আ ন ম এহসানুল হক মিলন (শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি) এবং শেখ রবিউল আলম (সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন)।

 

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—
এম রশিদুল জামান মিল্লাত (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ), মো. শরিফুল আলম (বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট), শ্যামা ওবায়েদ (পররাষ্ট্র), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য), ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ভূমি), ফরহাদ হোসেন আজাদ (পানি সম্পদ), আমিনুল হক (যুব ও ক্রীড়া), মীর হেলাল উদ্দীন (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক), হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান (সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন), মো. আব্দুল বারী (জনপ্রশাসন), মীর শাহে আলম (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়), মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (অর্থ ও পরিকল্পনা), ইশরাক হোসেন (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক), ফারজানা শারমিন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ), শেখ ফরিদুল ইসলাম (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন), মো. নুরুল হক নুর (শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ), ইয়াসের খান চৌধুরী (তথ্য ও সম্প্রচার), এম ইকবাল হোসেইন (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ), এম এ মুহিত (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ), আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত), ববি হাজ্জাজ (শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা) এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (সংস্কৃতি)।

 

এর মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

জাতীয়

View more
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে রিমান্ডে নিতে ডিবির আবেদন

রাজধানীর লালবাগ থানায় করা সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার এক মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ মামলায় তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে সংস্থাটি।   মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা একটার পর ডিবি কার্যালয় থেকে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা-এর আদালতে।   ডিবির আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।   মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এতে আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল ফাহিম গুরুতর আহত হন এবং তাঁর বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।   মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর নির্দেশে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার পরিকল্পনায় এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।   ডিবি আরও জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিরীন শারমিন নিজের পরিচয় নিশ্চিত করলেও মামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান। তবে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পলাতক আসামিদের অবস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।   এ ছাড়া ডিবি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হতে পারেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে।   পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গণ–অভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তিনটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু । ছবি: সংগৃহীত

এপ্রিলের মধ্যে আসছে ১.৩৮ লাখ টন ডিজেল, দাম বাড়েনি এখনো: জ্বালানিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বর্তমান সংসদ সদস্যদের; অর্থমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ ভবন | ছবি: সংগৃহীত

১৩৩ অধ্যাদেশ পাসের চ্যালেঞ্জ: কাল থেকে দিনে দুই বেলা বসছে সংসদ অধিবেশন

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি সংকটে বিকল্প উৎস: নাইজেরিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে দেশে ‘কুল ভয়েজার’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে নাইজেরিয়া থেকে ৬৮ হাজার ৬৪৮ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী ‘কুল ভয়েজার’ নামের এই জাহাজটি গত রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহেশখালীর ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) নোঙর করেছে।   হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতার থেকে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎসের দিকে নজর দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ নাইজেরিয়ার বনি বন্দর থেকে রওনা দিয়ে প্রায় ২৪ দিন পর জাহাজটি মহেশখালী উপকূলে পৌঁছায়। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে এই এলএনজি খালাসের কাজ শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।   আরপিজিসিএল-এর উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির জানান, নাইজেরিয়া থেকে আমদানি করা এই এলএনজির দাম মধ্যপ্রাচ্যের দরের কাছাকাছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চলতি এপ্রিল মাসে এটি এলএনজির দ্বিতীয় চালান। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আরেকটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির উৎস পরিবর্তন ও বহুমুখীকরণ এখন সরকারের অন্যতম কৌশল।   কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে আটটি জাহাজে করে প্রায় ছয় লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে বাংলাদেশ। দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস চাহিদা মেটাতে এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে চলতি এপ্রিল মাসে আরও আট থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাতার সংকটের প্রভাবে জ্বালানি খাতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বিকল্প সরবরাহ তা কাটিয়ে উঠতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর: আলোচনায় ফিরছে হাসিনা ও মাসুদের প্রত্যর্পণ ইস্যু

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন | ছবি: সংগৃহীত

খাতা মূল্যায়নে বাড়তি নম্বর দিলে শিক্ষকদের শাস্তি: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা; ৭ এপ্রিল থেকে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ

সাড়ে পাঁচ বছর হয়নি হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর সাড়ে পাঁচ বছর ধরে এমন কোনো কর্মসূচি হয়নি, যদিও নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর এটি আয়োজনের কথা।   সোমবার সংসদে এনসিপির এমপি আখতার হোসেন-এর নোটিশের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় দেশে হামের বিস্তার ও তা মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।   আখতার হোসেন তার বক্তব্যে জানান, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ ছাড়িয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন অন্তত ২০ জন। হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা ও আইসিইউ সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।   জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টিকা সংগ্রহে অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে শুধু হাম নয়, আরও কয়েক ধরনের টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।   তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।   পরবর্তী ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শিশুদের জন্য ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।   স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুতের কাজ চলছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি-এর উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের অক্সিজেন সরবরাহ প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে।   তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহে ইউনিসেফ-এর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সংসদ সদস্যদের ঋণ ১১ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে, খেলাপি ৩৩৩০ কোটি

সংসদ অধিবেশনের ফাঁকে দর্শক গ্যালারিতে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

সংসদ অধিবেশনের বিরতিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে: জুলাই সনদ অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

0 Comments