মন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ
পুলিশের পুরোনো পোশাক ফেরাতে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন।  তিনি জানান, বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না। তাই বাহিনীর গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আগের যেকোনো একটি পোশাকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না; বরং তারা হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে 'পুলিশ সংস্কার কমিশন' গঠন করা হয়েছে, যার সুফল দেশবাসী খুব দ্রুতই ভোগ করবে। উল্লেখ্য, এবারের ৪৩তম বিসিএস ব্যাচের মোট ৭২ জন এএসপি তাদের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা ও ফ্লাইট সমস্যায় প্রবাসীদের সহায়তা করবে সরকার: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ভিসা ও ফ্লাইট বাতিল হওয়া প্রবাসীদের সহায়তার জন্য হটলাইন চালু করার কথা জানিয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গাল মণিপুরি রাজবাড়ি এলাকায় একাডেমি ফর মণিপুরি কালচার অ্যান্ড আর্টস আয়োজিত হোলি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।   মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ফ্লাইট বাতিলের কারণে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সমস্যা থাকলেও সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করবে। তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রবাসীদের জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সিভিল এভিয়েশন যৌথভাবে কাজ করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে অবহিত করে নিয়ম মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের বিষয় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং তাদের যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে।   অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রস্তুত করতে দুই দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে বিএনপি। বিশেষ করে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।   শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ভাগাভাগি করছেন।   উদ্বোধনী পর্বে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মশালায় তার কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।   দলীয় নেতারা জানান, কর্মশালায় সংসদের নিয়ম-কানুন, আচরণবিধি, বিল প্রণয়ন ও পর্যালোচনার পদ্ধতি, বাজেট সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজের ধরনসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নতুনদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।   রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। তার ঘোষণানুযায়ী, ১২ মার্চ সকাল ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। সেই অধিবেশনকে সামনে রেখেই নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তুত করতে এই নিবিড় প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।   কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে সাবেক আমলা, শিক্ষাবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। তারা সংসদীয় কার্যপ্রণালী, বিল ও বাজেট প্রক্রিয়া এবং স্থায়ী কমিটির ভূমিকা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দিচ্ছেন।   দুই দিনের এই কর্মশালার কার্যক্রম বিভিন্ন সেশনে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দিনের সকালে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অংশ নেন। বিকেলে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের কিছু সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা বিভাগের বাকি সদস্যরা অংশ নেবেন এবং বিকেলে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সংসদ সদস্যরা কর্মশালায় যোগ দেবেন।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মোট ২০৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৬ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। ফলে সংসদীয় কার্যপ্রণালী সম্পর্কে নতুন সদস্যদের প্রস্তুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, কর্মশালায় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের পদ্ধতি, বিল প্রণয়ন ও তা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার নিয়ম, নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা সংসদে তুলে ধরার কৌশল এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংসদ অধিবেশনে সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।   দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়ে কর্মশালায় আলোচনা হচ্ছে। স্থানীয় উন্নয়ন তদারকি, নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে।   এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে এই প্রশিক্ষণে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৬, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
বাংলা ভাষার সঙ্গে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বেমানান: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাকে যদি প্রকৃত অর্থে হৃদয়ে ধারণ করতে হয় এবং মাতৃভাষা হিসেবে এর মর্যাদা রক্ষা করতে হয়, তবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান পরিহার করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ বা ইনকিলাব মঞ্চের মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই। শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, এই ধরনের সত্য কথা বললে তাকে অনেকেই ভিনদেশের দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারেন, তবুও তিনি সত্য বলতে দ্বিধা করবেন না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলেই আজ তিনি দেশসেবার সুযোগ পেয়েছেন। ব্রিটিশ আমলের শোষণের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক শাসকরা এ দেশের রাষ্ট্রভাষাকে দমন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রক্ষার যে বীজ বপন করে গেছেন, তা আজ আমাদের অস্তিত্বের অংশ। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে এই ইতিহাস ও ভাষার গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, সঠিক ইতিহাস চর্চা না করলে দেশে চরমপন্থার উত্থান ঘটতে পারে। বিদ্যুৎমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, নিজেদের ভাষাকে সঠিকভাবে জানার চেষ্টার অভাবে আমাদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠেনি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, অন্য কেউ এসে আমাদের দেশ বা ভাষা গড়ে দেবে না; নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখে দেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা, আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা, আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রকাশিত এ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   একই রাতে আলাদা গেজেটে জানানো হয়, তারেক রহমান-কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।   প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব এখন নবগঠিত মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত থাকবে।   কার দায়িত্বে কোন মন্ত্রণালয়   পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ), সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্র), ড. খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্র—টেকনোক্র্যাট), মো. আমিন উর রশিদ (কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য—টেকনোক্র্যাট), ইকবাল হাসান মাহমুদ (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক), আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ), আব্দুল আওয়াল মিন্টু (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (ধর্ম বিষয়ক), মিজানুর রহমান মিনু (ভূমি), নিতাই রায় চৌধুরী (সংস্কৃতি), খন্দকার আব্দুল মোকতাদির (বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট)।   এ ছাড়া পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন— আরিফুল হক চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান), জহির উদ্দিন স্বপন (তথ্য ও সম্প্রচার), আফরোজা খানম রিতা (বেসামরিক বিমান ও পর্যটন), মো. শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (পানি সম্পদ), আসাদুল হাবিব বুলু (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ), মো. আসাদুজ্জামান (আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক), জাকারিয়া তাহের (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত), দীপেন দেওয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক), আ ন ম এহসানুল হক মিলন (শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি) এবং শেখ রবিউল আলম (সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন)।   প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— এম রশিদুল জামান মিল্লাত (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ), মো. শরিফুল আলম (বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট), শ্যামা ওবায়েদ (পররাষ্ট্র), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য), ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ভূমি), ফরহাদ হোসেন আজাদ (পানি সম্পদ), আমিনুল হক (যুব ও ক্রীড়া), মীর হেলাল উদ্দীন (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক), হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান (সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন), মো. আব্দুল বারী (জনপ্রশাসন), মীর শাহে আলম (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়), মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (অর্থ ও পরিকল্পনা), ইশরাক হোসেন (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক), ফারজানা শারমিন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ), শেখ ফরিদুল ইসলাম (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন), মো. নুরুল হক নুর (শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ), ইয়াসের খান চৌধুরী (তথ্য ও সম্প্রচার), এম ইকবাল হোসেইন (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ), এম এ মুহিত (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ), আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত), ববি হাজ্জাজ (শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা) এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (সংস্কৃতি)।   এর মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
নতুন মন্ত্রীদের বরণে প্রস্তুত ৫০টি বিলাসবহুল গাড়ি!
নতুন মন্ত্রীদের বরণে প্রস্তুত ৫০টি বিলাসবহুল গাড়ি!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিতে পারেন নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। আর এই নতুন অতিথিদের বরণ করে নিতে রাজধানীর আব্দুল গণি রোডের সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে এখন সাজ সাজ রব।   প্রস্তুতির খুঁটিনাটি: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৫০টি গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে ভিভিআইপি প্রটোকল বজায় রাখতে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত গাড়ি তৈরি রাখা হয়েছে। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই বাড়তি সতর্কতা।   গাড়ির ধরণ ও বর্তমান অবস্থা: পরিবহন কমিশনার মো. খায়রুল কবীর মেনন জানিয়েছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য সাধারণত ল্যান্ডক্রুজার এবং কেমব্রিজ গাড়ি ব্যবহার করা হয়। নতুন কোনো গাড়ি কেনা হয়নি; বরং বর্তমান বহরের গাড়িগুলোই মেরামত ও ধুয়ে-মুছে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০-১২ জন উপদেষ্টা তাদের ব্যবহৃত গাড়ি জমা দিয়েছেন, বাকিরাও প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।   শপথের দিন আমন্ত্রণ পাওয়া অতিথিদের তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে বঙ্গভবনে পৌঁছে দেবে এই বিশেষ যানবাহনগুলো। পতাকা স্ট্যান্ড ও রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম সংবলিত এই গাড়িগুলোই হবে নতুন সরকারের প্রথম যাত্রার সঙ্গী।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0