প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
সমকালীন বিশ্বব্যবস্থায় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের টিকে থাকা, পতন কিংবা পুনরুত্থানের সমীকরণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজতাত্ত্বিক এবং অপরাধবিজ্ঞানীদের চিরকালই এক গভীর তাত্ত্বিক ভাবনায় নিমগ্ন করেছে। প্রচলিত নব্য-উদারবাদী অর্থনৈতিক তত্ত্বগুলো প্রায়শই সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক, জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য দিয়ে একটি দেশের সামগ্রিক শক্তি ও স্থায়িত্ব পরিমাপ করতে চায়।
কিন্তু ইতিহাসের অমোঘ গতিপথ বলে, কেবল বাহ্যিক বস্তুগত উপাদান কোনো রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অস্তিত্বের নিশ্চয়তা হতে পারে না। সংকটের চরম মুহূর্তে রাষ্ট্রকে যা ভেতর থেকে খণ্ডবিখণ্ড হওয়া থেকে টিকিয়ে রাখে, তা হলো তার প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান-কাঠামো (Institutional Knowledge Infrastructure) এবং সামষ্টিক মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক পুঁজি (Cultural Capital)। এই সমাজতাত্ত্বিক সত্যের সবচেয়ে সমকালীন এবং জীবন্ত ল্যাবরেটরি হলো লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের নিরিখে বর্তমান আর্জেন্টিনা এক দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর কাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, জাতীয় মুদ্রার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) ঋণ-ফাঁদ দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিকে বারবার প্রান্তিক সীমানায় ঠেলে দিচ্ছে। অপরাধবিজ্ঞানের (Criminology) দৃষ্টিতে, এমন তীব্র অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা, বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকারিতা যেকোনো সমাজেই চরম নৈরাজ্য, সামাজিক অপরাধের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং শেষ বিচারে সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় ভাঙন (State Collapse) ডেকে আনার জন্য যথেষ্ট অনুঘটক।
অথচ, বিশ্বরাজনীতির সমস্ত নেতিবাচক পূর্বাভাস ও তাত্ত্বিক মডেলকে ভুল প্রমাণিত করে আর্জেন্টিনা এখনো কেবল টিকেই নেই, বরং তারা বৈশ্বিক মঞ্চে লড়ে যাচ্ছে এবং সামূহিক সামাজিক বিপর্যয়কে রুখে দিচ্ছে।
কী সেই অদৃশ্য অথচ অভেদ্য শক্তি, যা এই ভঙ্গুর অর্থনীতির ভেতরেও রাষ্ট্রটিকে এক সুদৃঢ় সামাজিক চুক্তিতে একীভূত করে রেখেছে? উত্তরটি লুকিয়ে আছে দেশটির দীর্ঘদিনের শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জ্ঞান–অবকাঠামো এবং উচ্চশিক্ষিত, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সচেতন নাগরিকসমাজের ভেতর।
বৌদ্ধিক জ্ঞান-অবকাঠামো: সংকটের ঢালঃ আর্জেন্টিনার টিকে থাকার প্রধানতম মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত স্তম্ভ হলো তার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা। মর্যাদাপূর্ণ কিউএস (QS) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে বুয়েনোস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় (Universidad de Buenos Aires) আজ বিশ্বসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ৮৪তম স্থানে সগৌরবে অবস্থান করছে।
এর বাইরেও দেশটির একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান কেবল কিছু সংখ্যার গাণিতিক বিন্যাস নয়; এটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি অকাট্য প্রমাণ যে, রাষ্ট্রটি চরম অর্থনৈতিক দোলাচলের মধ্যেও তার ‘জ্ঞান-উৎপাদনের কারখানা’ (Knowledge Production Houses) এবং বৌদ্ধিক চর্চাকে সচল ও স্বায়ত্তশাসিত রাখতে পেরেছে।
আর্জেন্টিনার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল ডিগ্রি বা সনদ বিতরণের কোনো যান্ত্রিক কারখানা নয়, বরং এগুলো হলো ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা সমালোচনামূলক বোধ, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং মননশীলতার আঁতুড়ঘর। এই উচ্চশিক্ষা কাঠামো রাষ্ট্রকে এমন এক সচেতন মধ্যবিত্ত ও সিভিল সোসাইটি উপহার দিয়েছে, যা যেকোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অচলাবস্থায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিকল্প ও টেকসই চিন্তার খোরাক জোগায়।
সামষ্টিক অর্থনীতি যখন সাময়িকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সরবরাহ করা বৌদ্ধিক ভিত্তি সমাজকে সম্পূর্ণ নৈরাজ্যের অতলে তলিয়ে যেতে দেয় না। বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সমাজতত্ত্বের এই নিরবচ্ছিন্ন ও প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা দেশটির নীতি-কাঠামোকে একটি অদৃশ্য অথচ শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় দান করে।
মানবপুঁজি ও অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার ভূমিকাঃ একজন অপরাধবিজ্ঞানী হিসেবে আমি মনে করি, মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা সরাসরি অপরাধের গ্রাফ ও সামাজিক বিচ্যুতিকে (Social Deviance) নিয়ন্ত্রণ করে। যখন কোনো রাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার মান উন্নত ও সর্বজনীন থাকে, তখন সংকটের সময়েও যুবসমাজ কোনো চরমপন্থী মতাদর্শ বা সংঘবদ্ধ অপরাধের (Organized Crime) দিকে সহজে ধাবিত হয় না।
আর্জেন্টিনা থেকে আমাদের সমকালীন বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় বিষয় এটাই—মানসম্মত শিক্ষা থেকে যে উচ্চমানের 'মানবপুঁজি' (Human Capital) তৈরি হয়, তা যেকোনো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অভিঘাতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশের দিকে তাকালে এই প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান-অবকাঠামোর তীব্র অভাব ও সংকট আমাদের গভীরভাবে পীড়িত করে। আমাদের অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ কিংবা জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend) থাকা সত্ত্বেও, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা, গবেষণার খরা, জ্ঞানতাত্ত্বিক দৈন্যতা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে থাকার কারণে আমরা টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনে হিমশিম খাচ্ছি। মানবপুঁজি যদি যথাযথ জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তিতে এবং নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে না ওঠে, তবে তা শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক বোঝায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সাংস্কৃতিক পুঁজি ও মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিস্থাপকতাঃ আর্জেন্টিনার সমাজ-গঠনের পেছনে আরেকটি অনন্য ও শক্তিশালী উপাদান হলো তাদের ক্রীড়া সংস্কৃতি এবং অভিবাসনের ইতিহাস, যা তাদের জাতীয় আত্মপরিচয়কে সংকটের দিনে এক দুর্ভেদ্য দুর্গে রূপান্তর করেছে। ফুটবল সেখানে কেবল মাঠের কোনো বিনোদন বা খেলা নয়, বরং তা জাতীয় সংহতি ও সামষ্টিক মনস্তাত্ত্বিক আরোগ্য (Collective Psychological Healing)-এর এক অবিকল্প মাধ্যম। মারাদোনা থেকে মেসি পর্যন্ত প্রতীকী নায়করা সংকটের মুহূর্তে গোটা জাতির মনস্তত্ত্বে আশা ও আত্মবিশ্বাসের আলো প্রজ্বলন করেন।
যখন নেতিবাচক অর্থনৈতিক খবর সমাজকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলে, তখন ফুটবলের সবুজ মাঠে অর্জিত সাফল্য নাগরিকদের মনে করিয়ে দেয়—“আমরা এখনো ফুরিয়ে যাইনি।” এই সামষ্টিক আত্মবিশ্বাস অপরাধ ও সামাজিক অস্থিরতা রোধে এক মনস্তাত্ত্বিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
এই সমাজের পেছনে রয়েছে এক গভীর ও বৈচিত্র্যময় বহুসাংস্কৃতিক ইতিহাস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের, বিশেষ করে ইতালি থেকে আসা লাখ লাখ অভিবাসী তাদের শ্রমনিষ্ঠা, কারিগরি দক্ষতা এবং রন্ধনশৈলী নিয়ে মিশে গেছে আর্জেন্টিনার মূলধারায়।
এই ইউরোপীয়-লাতিন সংমিশ্রণ দেশটির শিল্প-সাহিত্য, দর্শন ও রাজনৈতিক চেতনাকে এক অনন্য বহুমাত্রিকতা দিয়েছে। লিওনেল মেসির মতো বিশ্বসেরা ব্যক্তিত্বরা মূলত এই অভিবাসন, কঠোর অধ্যাবসায় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরই ফসল।
সংকটের ছাইস্মৃতি থেকে পুনর্জাগরণের বার্তাঃ আর্জেন্টিনার এই জটিল দ্বৈত রূপ—একদিকে সামষ্টিক অর্থনীতির সাময়িক অস্থিরতা, অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা ও সংস্কৃতির সুগভীর ঐতিহ্য—আমাদের সামনে এক নতুন রাষ্ট্রদর্শন ও আশাবাদের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, কোনো জাতির প্রকৃত দেউলিয়াত্ব তার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোষাগারের শূন্যতায় ঘটে না, বরং তার মেধা ও মননের শূন্যতায় ঘটে। আর্জেন্টিনা আজ বিশ্বকে দেখাচ্ছে কীভাবে একটি দেশ তার অভ্যন্তরীণ জ্ঞান-কাঠামোর জোরে অর্থনৈতিক ঝড়ঝাপ্টাকে উপেক্ষা করে নিজস্ব সার্বভৌম অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা টিকিয়ে রাখতে পারে।
প্রতিটি সংকটই সেখানে ধ্বংসের শেষ রেখা নয়, বরং তা হয়ে উঠছে নতুন এক পুনর্জাগরণের (Renaissance) সূচনাবিন্দু। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং গবেষকদের জন্য আর্জেন্টিনার এই জীবনসংগ্রাম এক যুগান্তকারী ও ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আমাদের রয়েছে অফুরন্ত জনমিতিক লভ্যাংশ এবং অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্ম। এই বিশাল তরুণ সমাজকে যদি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিশ্বমানের জ্ঞান-অবকাঠামো, মৌলিক গবেষণা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার শক্তিতে দীক্ষিত করতে পারি, তবে যেকোনো বৈশ্বিক বা অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা করা আমাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।
টেকসই সমৃদ্ধির এই অভিযাত্রায় আমাদের অতিসত্বর শিক্ষা খাতে কৌশলগত ও কাঠামোগত রূপান্তর ঘটাতে হবে এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, ইতিহাসের অমোঘ সত্য এটাই—অর্থনৈতিক সূচক সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে, কিন্তু যে রাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বমানের মানবপুঁজি তৈরি করে এবং যে জাতির সংস্কৃতি অভেদ্য মনস্তাত্ত্বিক দুর্গ হিসেবে কাজ করে, পৃথিবীর কোনো সংকটের সাধ্য নেই তাকে চিরতরে থামিয়ে দেওয়ার। জ্ঞান ও সংস্কৃতির এই অক্ষয় আলোকেই বাংলাদেশ একদিন তার টেকসই সমৃদ্ধির চূড়ান্ত শিখর স্পর্শ করবে—আর্জেন্টিনা আখ্যান আজ আমাদের সেই অবিনাশী আত্মবিশ্বাসই জোগায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।