কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বানানোর ডিগ্রি চালু করল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি
আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ পার্টি স্কুল হিসেবে পরিচিত অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি কনটেন্ট তৈরি বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ওপর একটি নতুন ব্যাচেলর ডিগ্রি চালু করেছে। অনলাইনে দর্শক বাড়ানো, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরি এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল শেখাতে এই একাডেমিক প্রোগ্রামটি আনা হয়েছে। তবে ৪ বছর মেয়াদি এই ডিগ্রি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে অনেকেই একে অপ্রয়োজনীয় ও টিউশন ফি অপচয় বলে সমালোচনা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কোর্সটি কেবল টিকটকে ভিডিও বানানো শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্রনকি স্কুল অফ জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিন জেসিকা পুচ্চি জানান, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের পারফরম্যান্স মেট্রিকস বিশ্লেষণ করা, কনটেন্ট কৌশল নিয়ে কাজ করা এবং ডেটা ব্যবহার করে এনগেজমেন্ট বাড়ানোর পদ্ধতি শেখানো হবে। বিশেষ করে সমাপনী প্রজেক্ট হিসেবে শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট সেমিস্টারে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে কাজ করে দৃশ্যমান ফলোয়ার ও ব্র্যান্ড তৈরির প্রমাণ দেখাতে হবে। ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল একটি কাগজের সনদই নয়, বরং বাস্তবসম্মত অনলাইন ফলোয়ার ও প্রকাশিত কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সেলফ-লার্নিং বা নিজ চেষ্টায় শেখা যায় এমন বিষয়ের জন্য চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি আদতে কতটা জরুরি। অনেকের মতে, শিক্ষার্থীরা ঘরের বসে কোনো খরচ ছাড়াই এই দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তাই এই খাতে ডিগ্রি অর্জনের জন্য এত অর্থ খরচ করা পুরোপুরি বোকামি। কেউ কেউ আবার বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বর্তমান ইন্টারনেট ট্রেন্ডের সুযোগ নিয়ে কেবল আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, সমালোচকদের পাশাপাশি এই নতুন ডিগ্রির পক্ষেও জোরালো মতামত পাওয়া গেছে। অনেকে যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন যে, আধুনিক ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট ক্রিয়েশন একটি অত্যন্ত লাভজনক ও বড় পেশা হয়ে উঠেছে, যা প্রথাগত অনেক চাকরির চেয়েও বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি করে দেয়। কেউ কেউ আবার শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যদি ট্যাক্স, সঞ্চয় বা মর্টগেজের মতো মৌলিক জীবনমুখী দক্ষতাগুলোও শেখানো হয়, তবে এই ডিগ্রি কার্যকর হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ব্যয়বহুল শহরগুলোতে তরুণদের বাড়ি কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্সোনাল ফাইন্যান্স ওয়েবসাইট ওয়ালেটহাবের নতুন একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব শহরে ৩৫ বছরের কম বয়সী ক্রেতার হার সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার চারটি শহর শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও সান ডিয়েগোতে মর্টগেজ বা ঋণধারী তরুণদের হার ৮৪ শতাংশ। প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সান জোসেতে এই হার ৮২ শতাংশ, লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭৮ শতাংশ এবং সান ফ্রান্সিসকোতে ৭৩ শতাংশ। তবে পশ্চিম উপকূলের অন্যান্য শহর যেমন সিয়াটলে ৮৭ শতাংশ এবং পোর্টল্যান্ডে ৮৬ শতাংশ তরুণ বাড়ি কিনেছেন। জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নর্থ ক্যারোলিনার শার্লট শহর, যেখানে ৩৫ বছরের কম বয়সী বাড়ির মালিকের হার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ। এর ঠিক পরেই ৮৮ শতাংশ নিয়ে বাল্টিমোর এবং ৮৬ শতাংশ নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসি অবস্থান করছে। অন্যদিকে, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম কঠিন শহর নিউইয়র্কে তরুণ মর্টগেজধারীর হার মাত্র ৬৬ শতাংশ এবং সবচেয়ে তলানিতে থাকা মিশিগানের ডেট্রয়েটে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ। ওয়ালেটহাবের এই উৎসাহব্যঞ্জক তথ্যের বিপরীতে পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার আগস্ট মাসের একটি গবেষণায় কিছুটা ভিন্ন ও উদ্বেগের চিত্র দেখা গেছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার অর্ধেক তরুণই প্রথম বাড়ি কেনার জন্য গড়ে ৪৭ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় বয়স মাত্র ৩৭ বছর। গত ১৫ বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মালিকের চেয়ে ভাড়াটিয়ার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে নিজস্ব বাড়ির মালিকানা হার মাত্র ৫৬ শতাংশ, যা জাতীয় হার ৬৬ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। কেবল নিউইয়র্কেই মালিকানার হার এর চেয়ে কম (৫৪%)। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ ও এশিয়ানরা কৃষ্ণাঙ্গ ও ল্যাটিনোদের তুলনায় অনেক কম বয়সে বাড়ি কেনেন। বিশেষ করে আমেরিকান বংশোদ্ভূত এশিয়ানরা সবচেয়ে কম বয়সে (গড়ে ৩৯ বছর) বাড়ির মালিক হচ্ছেন। রিয়েল্টর ডটকমের তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সেরা জায়গা হলো পোর্টারভিল, যেখানে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার।
মিসৌরিতে কান্নারত নবজাতক কন্যাকে উল্টো ঝুলিয়ে ঝাঁকাতেন বাবা, নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত
ফ্লোরিডায় নিজের বিলাসবহুল ইয়টে নারী কর্মীকে মাদক খাইয়ে ধ র্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার মালিক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হ্যারিস কাউন্টিতে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রপার্টি ট্যাক্স বা সম্পত্তি কর বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হিউস্টন শহর এবং ৫০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার এই কাউন্টিটি লস অ্যাঞ্জেলেস ও কুক কাউন্টির পর যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম কাউন্টি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে কাউন্টি কমিশনাররা ৩-২ ভোটে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স ৭.৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এর ফলে করযোগ্য সম্পত্তির প্রতি ১০০ ডলার মূল্যের বিপরীতে বাসিন্দাদের বর্তমান ৬২ সেন্টের পরিবর্তে ৬৭ সেন্ট করে কর দিতে হবে। মূলত ১৮ কোটি ডলারেরও বেশি বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হ্যারিস কাউন্টির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং আদালতে সরকারি আইনজীবীদের ফি বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শুধু হ্যারিস কাউন্টি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্থানীয় সরকারই বর্তমানে জননিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে এই কর বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে কাউন্টির ভেতরেই রাজনৈতিক মতবিরোধ দেখা গেছে। রিপাবলিকান কমিশনার টম রামসে এবং ডেমোক্র্যাট কাউন্টি জজ লিনা হিডালগো কর বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। লিনা হিডালগো এক বিবৃতিতে জানান, কাউন্টি তাদের ব্যয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো খাতের জন্য টাকা না থাকলে তিনি কখনোই সেখানে অর্থায়নের পক্ষে নন এবং সেটাই প্রকৃত আর্থিক দায়িত্বশীলতা। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট কমিশনার আড্রিয়ান গার্সিয়া প্রথমে কিছুটা কম কর বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত ঘাটতি মেটাতে ৬৭ সেন্টের পক্ষেই ভোট দেন। এই কর বৃদ্ধির প্রস্তাবটি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এক গণশুনানির পর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে হ্যারিস কাউন্টির সাধারণ বাড়ির মালিকদের বছরে গড়ে প্রায় ১৯৮ ডলার অতিরিক্ত কর গুনতে হবে, যা কাউন্টির কোষাগারে প্রায় দেড় কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি করবে। টেক্সাসের আইনপ্রণেতারা এবং গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট দীর্ঘদিন ধরেই প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর চেষ্টা করে আসছেন। কারণ, সেখানে ব্যক্তিগত আয়কর না থাকায় বাড়ির মালিকদের জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স একটি বড় মাথাব্যথার কারণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিউস্টন এলাকায় বাড়ির দাম, ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম এবং করের পরিমাণ লাগামহীনভাবে বেড়েছে। মহামারির আগে ২০১৯ সালে হিউস্টনে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য যেখানে আড়াই লাখ ডলার ছিল, তা এখন বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের খরচও আকাশচুম্বী হয়ে টেক্সাসে গড়ে বার্ষিক ৪,৬৪৪ ডলারে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে, আগামী ১ অক্টোবরের নতুন অর্থবছরের আগে এই বাড়তি প্রপার্টি ট্যাক্স চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে তা সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসার অভাবে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃ ত্যু, বিচার দাবি পরিবারের
যুক্তরাষ্ট্রের ২০৩০ সালের আদমশুমারি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তলোয়ার হাতে পুলিশের ওপর হা মলা, গু লিবিদ্ধ যুবক
প্রবাসের জীবন মানেই ব্যস্ততা। জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা, কাজের ফাঁকে সময় বের করা, আর হাজার মাইল দূরে ফেলে আসা আপন দেশটাকে বুকের ভেতর লালন করে বেঁচে থাকা। তবে কখনো কখনো এমন কিছু সন্ধ্যা আসে, যখন দূরত্বের সব হিসাব যেন মুছে যায়। মনে হয়—দেশটা খুব বেশি দূরে নয়, বরং ঠিক পাশেই আছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর, লেবার ডে লং উইকেন্ডে মিসিসিপি বাংলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটি ছিল তেমনই এক সন্ধ্যা। ক্লিনটনের ব্যাপ্টিস্ট চার্চের হলরুম সেদিন আর কেবল একটি অনুষ্ঠানস্থল ছিল না; প্রবাসের মাটিতে সেটি যেন হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। মিসিসিপির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে চারপাশে তৈরি হয়েছিল আপন এক আবহ—বাংলা ভাষা, পরিচিত মুখ, নতুন পরিচয়, হাসি-আড্ডা আর গানের সুরে ভরে উঠেছিল পুরো পরিবেশ। অনুষ্ঠানের শুরুটাও ছিল একেবারে বাঙালিয়ানায় ভরা। অতিথি আপ্যায়নে চটপটি, চানাচুর, মুড়ি আর চা—এই সামান্য আয়োজনই যেন অনেক বড় এক স্মৃতির দরজা খুলে দিয়েছিল। এক কাপ চায়ের পাশে জমে ওঠা গল্প, পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়—সব মিলিয়ে শুরুতেই বোঝা গিয়েছিল, এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলাও। স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্বের সূচনা। এরপর মিসিসিপিতে নবাগত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর পরিচিতি পর্ব। প্রবাসে একটি নতুন পরিবার মানে শুধু একটি নতুন ঠিকানা নয়—বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যুক্ত হচ্ছে আরও কিছু মানুষ, আরও কিছু গল্প, আরও কিছু সম্পর্ক। এরপর মঞ্চে শুরু হলো সুরের মায়াজাল। রবীন্দ্রসংগীতের কোমল আবেশ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গানের ঐতিহ্য, নজরুলগীতির প্রাণময়তা এবং আধুনিক বাংলা গানের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা—একটির পর একটি পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে ওঠেন দর্শক-শ্রোতারা। গানের সুর যেন কখনো নিয়ে যাচ্ছিল বাংলার কোনো বর্ষার বিকেলে, কখনো শৈশবের স্মৃতির উঠোনে, আবার কখনো ফেলে আসা প্রিয় শহর কিংবা গ্রামের মেঠোপথে। প্রবাসে বসে বাংলা গান শোনার অনুভূতিটা যে কত গভীর, তা সেদিন হলরুমে উপস্থিত মানুষগুলোর চোখেমুখেই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাবেক মাইলস ব্যান্ডের ড্রামারের নেতৃত্বে ব্যান্ড সংগীত পরিবেশনা। অভিজ্ঞতার ছোঁয়ায় পরিবেশনাটি খুব দ্রুতই দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। গানের তালে তালে হলরুমের পরিবেশ বদলে যায়; একসময় মনে হচ্ছিল, আমরা যেন মিসিসিপির ক্লিনটনে নয়—বাংলাদেশের কোনো প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আসরে বসে আছি। এরপর ছিল খাবারের বিরতি। আবারও জমে উঠল গল্প, আড্ডা আর পরিচিত হওয়ার পর্ব। কেউ পুরোনো দিনের স্মৃতি হাতড়ালেন, কেউ নতুন পরিচয়ে যোগ করলেন নতুন গল্প। খাবারের টেবিলও হয়ে উঠল একেকটি ছোট্ট আড্ডার আসর। বিরতির পর আবার শুরু হলো সমবেত সংগীত। প্রবাসে থেকেও ভাষা, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে, সেই অনুভূতিই যেন ফুটে উঠেছিল সমবেত কণ্ঠে। এরপর আবারও ব্যান্ড সংগীত। গানের পর গান চলতে থাকে। সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু আনন্দের যেন কোনো বিরতি নেই। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে এই প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন। অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি সন্ধ্যার রেশ। কারণ প্রবাসে এমন একটি সন্ধ্যার মূল্য শুধু বিনোদনে নয়। এর মূল্য আরও গভীরে—এটি মানুষকে মানুষের কাছে নিয়ে আসে, নতুনদের পরিচিত করে, পুরোনো সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয়। মিসিসিপি বাংলা একাডেমির এই আয়োজন তাই কেবল একটি সংগীতসন্ধ্যা ছিল না; এটি ছিল শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক সুন্দর উপলক্ষ। হয়তো সেদিন ক্লিনটনের আকাশে বাংলাদেশের চাঁদ উঠেনি, হলরুমের বাইরে ছিল না বাংলার মেঠোপথ, ছিল না গ্রামের সেই চিরচেনা বাতাস। কিন্তু ভেতরে ছিল বাংলা গান, বাংলা ভাষা, বাঙালির আড্ডা, দেশীয় খাবারের ঘ্রাণ আর একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা। আর এসবই তো বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখে।দেশ থেকে হাজার মাইল দূরেও বাংলাদেশ হারিয়ে যায় না—বাংলাদেশ বেঁচে থাকে মানুষের হৃদয়ে, গানের সুরে, ভাষায়, সংস্কৃতিতে এবং একসঙ্গে মিলিত হওয়ার এমন সুন্দর মুহূর্তগুলোতে। সেদিন ক্লিনটনের সেই হলরুমে তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়নি—প্রবাসের মাটিতে সত্যিই তৈরি হয়েছিল একখণ্ড বাংলাদেশ।
ফোবানা অ্যালামনাই: ৩৪ বছরের গল্প, স্মৃতির পাতায় এক সকাল
স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার জেড়ে প্রতিবেশী নারীর মুখে মল ছুরলেন স্ত্রী