জীবিকার তাগিদে দেশের বাইরে বা দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করা অনেক মানুষের বাস্তবতা। তবে দীর্ঘ সময় স্ত্রী ও পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা নিয়ে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
হানাফি ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও দাম্পত্য জীবনের ভারসাম্য রক্ষা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার অংশ। এ কারণে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া দীর্ঘ সময় তার কাছ থেকে দূরে থাকা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
ইসলামী শরিয়তের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ত্রীর আন্তরিক সম্মতি ছাড়া স্বামীর চার মাসের বেশি সময় দূরে অবস্থান করা সমীচীন নয়। তবে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুমতি দেন এবং এতে কোনো ধরনের পারিবারিক বা নৈতিক সমস্যার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে বিশেষ পরিস্থিতিতে চার মাসের বেশি সময় প্রবাসে থাকা বৈধ হতে পারে।
তবে ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, বিষয়টি শুধু সময়ের হিসাব দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। বরং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশ, মানসিক অবস্থা এবং নৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হয়।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ দূরত্বের কারণে যদি স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কেউ নৈতিক বিপর্যয়, পারিবারিক সংকট বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে দীর্ঘ সময় আলাদা থাকা উচিত নয়। এমনকি ঝুঁকি প্রবল না হলেও যদি বাস্তব কোনো উদ্বেগ থাকে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব পারিবারিকভাবে একত্রে থাকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সময়ে লাখো বাংলাদেশি জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থান করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। এ বাস্তবতার আলোকে আলেমরা মনে করেন, প্রবাসজীবনে দাম্পত্য সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি কর্মস্থলের পরিস্থিতি অনুকূল হয়, তাহলে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা। তা সম্ভব না হলে সুযোগ পেলেই পরিবারের কাছে ফিরে আসার চেষ্টা করা উচিত।
তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করতে হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ত্রীর আন্তরিক সম্মতি, উভয়ের নৈতিক নিরাপত্তা, পরিবারের ভরণ-পোষণের যথাযথ ব্যবস্থা, সন্তানদের শিক্ষা ও লালন-পালনের দায়িত্ব পালন এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা।
আলেমদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দূরত্ব থাকলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর খোঁজখবর নেওয়া, তার মানসিক চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং পারিবারিক সম্পর্ককে সক্রিয় রাখা।
পবিত্র কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তম আচরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের ভিত্তিতে জীবনযাপন করো।”
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানসিক সঙ্গ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত যোগাযোগও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকলেও পরিবার ও দাম্পত্য অধিকারের বিষয়টি সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
সবশেষে আলেমদের পরামর্শ হলো, প্রবাসজীবনের পরিকল্পনা করার সময় শুধু উপার্জনের বিষয় নয়, বরং পারিবারিক স্থিতি, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং নৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
জীবিকার তাগিদে দেশের বাইরে বা দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করা অনেক মানুষের বাস্তবতা। তবে দীর্ঘ সময় স্ত্রী ও পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা নিয়ে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। হানাফি ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও দাম্পত্য জীবনের ভারসাম্য রক্ষা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার অংশ। এ কারণে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া দীর্ঘ সময় তার কাছ থেকে দূরে থাকা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামী শরিয়তের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ত্রীর আন্তরিক সম্মতি ছাড়া স্বামীর চার মাসের বেশি সময় দূরে অবস্থান করা সমীচীন নয়। তবে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুমতি দেন এবং এতে কোনো ধরনের পারিবারিক বা নৈতিক সমস্যার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে বিশেষ পরিস্থিতিতে চার মাসের বেশি সময় প্রবাসে থাকা বৈধ হতে পারে। তবে ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, বিষয়টি শুধু সময়ের হিসাব দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। বরং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশ, মানসিক অবস্থা এবং নৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ দূরত্বের কারণে যদি স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কেউ নৈতিক বিপর্যয়, পারিবারিক সংকট বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে দীর্ঘ সময় আলাদা থাকা উচিত নয়। এমনকি ঝুঁকি প্রবল না হলেও যদি বাস্তব কোনো উদ্বেগ থাকে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব পারিবারিকভাবে একত্রে থাকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে লাখো বাংলাদেশি জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থান করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। এ বাস্তবতার আলোকে আলেমরা মনে করেন, প্রবাসজীবনে দাম্পত্য সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি কর্মস্থলের পরিস্থিতি অনুকূল হয়, তাহলে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা। তা সম্ভব না হলে সুযোগ পেলেই পরিবারের কাছে ফিরে আসার চেষ্টা করা উচিত। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করতে হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ত্রীর আন্তরিক সম্মতি, উভয়ের নৈতিক নিরাপত্তা, পরিবারের ভরণ-পোষণের যথাযথ ব্যবস্থা, সন্তানদের শিক্ষা ও লালন-পালনের দায়িত্ব পালন এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা। আলেমদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দূরত্ব থাকলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর খোঁজখবর নেওয়া, তার মানসিক চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং পারিবারিক সম্পর্ককে সক্রিয় রাখা। পবিত্র কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তম আচরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের ভিত্তিতে জীবনযাপন করো।” ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানসিক সঙ্গ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত যোগাযোগও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকলেও পরিবার ও দাম্পত্য অধিকারের বিষয়টি সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সবশেষে আলেমদের পরামর্শ হলো, প্রবাসজীবনের পরিকল্পনা করার সময় শুধু উপার্জনের বিষয় নয়, বরং পারিবারিক স্থিতি, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং নৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা আরাফাতের ময়দানে লাখো হাজির উপস্থিতিতে হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদে নববির ইমাম শেখ আলী আল-হুদাইফি। মঙ্গলবার মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া এই খুতবায় তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানান। মরুর তীব্র গরমের মধ্যেই এদিন আরাফাতের ময়দানে হাজিরা একত্রিত হন। প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় ও ইবাদতে অংশ নেন। খুতবা শেষে শেখ আল-হুদাইফি আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি হাজিদের হজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও শান্তি এবং হাজিদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্যও প্রার্থনা জানান। মোনাজাতে তিনি বলেন, “হে আল্লাহ, আপনি মুসলিমদের অবস্থার উন্নতি করুন। তাঁদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে দিন এবং তাঁদের সত্যের পথে পরিচালিত করুন।” সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, খুতবায় শেখ আল-হুদাইফি হজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, হজ ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ। এর ভিত্তি হলো আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। তিনি বলেন, হজ বিশ্বের বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের মুসলিমদের মধ্যে পরিচিতি, সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ মিলনমঞ্চ। খুতবায় তিনি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, তাকওয়ার গুরুত্ব এবং মুমিনদের জন্য আল্লাহর সাহায্যের বিষয়েও আলোচনা করেন। একই সঙ্গে উত্তম আচরণ ও সত্য কথা বলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ আল-হুদাইফি হাজিদের গুনাহ, ঝগড়া-বিবাদ এবং রাজনৈতিক বা দলীয় স্লোগান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ভোর থেকেই হাজিরা মক্কার নিকটবর্তী ৭০ মিটার উঁচু জাবালে রহমতে সমবেত হন। সাদা ইহরাম পরিহিত অবস্থায় তারা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় অংশ নেন। প্রায় ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই পাহাড়েই বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। এসপিএ জানায়, খুতবা শেষে হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে কসর করে আদায় করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মসজিদে নামিরা ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর একটি। কারণ, এই স্থানেই মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেছিলেন। নামিরা পাহাড়ের নামানুসারে মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। আরাফাতের ময়দানের উত্তরে অবস্থিত এই মসজিদ মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। মিন, আরাফাত ও মুজদালিফার মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা মক্কা জেনারেল ট্রান্সপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটের মধ্যেই হাজিদের আরাফাতে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শেষ হয়। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। হাজিদের যাতায়াতে শাটল বাস, সাধারণ যানবাহন এবং আল মাশায়ের আল মুকাদ্দাসাহ মেট্রোরেল ব্যবহার করা হয়।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। শেষ দশ রাত যেমন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ, তেমনি এই দশ দিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় সময় হিসেবে বিবেচিত। সামর্থ্য থাকুক বা না থাকুক, এই সময়ে বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে বেশি সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এই বরকতময় দিনগুলোতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে আল্লাহর জিকির করার কথা বলা হয়েছে। হজ পালনকারীরা তালবিয়া পাঠ করেন, আর যারা হজে যাননি তারা বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণে সময় কাটাতে উৎসাহিত হন। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে। এ সময় দান-সদকার গুরুত্বও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা, সেবা করা কিংবা মানুষের উপকারে আসা কাজও সদকার অন্তর্ভুক্ত। কোরআনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে বা গোপনে আল্লাহর পথে ব্যয়কারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। জিলহজের নবম দিন, অর্থাৎ আরাফার দিনে রোজা রাখাকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রোজা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে। এই সময় নফল ইবাদত হিসেবে চাশতের নামাজ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূর্যোদয় থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত অন্তত দুই রাকাত নামাজ আদায়কে উৎসাহিত করা হয়। এছাড়া পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা, উপহার বিনিময় এবং ভালো আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আরাফার দিন বিশেষ দোয়ার গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামর্থ্য থাকলে হজ পালনকে এই সময়ের শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। কোরবানির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি করা এবং এর মাংস দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করার মাধ্যমে ত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষা পাওয়া যায়। এ সময় পরিবার ও সমাজে ভালো কাজের আহ্বান জানানো এবং অন্যদের উৎসাহিত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।