সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া! সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দারা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১০:১৬
এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া!
এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া!

রাশিয়া এ বছরের শরৎকাল থেকেই ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশকে সীমিত সামরিক বা বড় ধরনের হাইব্রিড হামলার মাধ্যমে পরীক্ষা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন, যার লক্ষ্য হবে ন্যাটোর ঐক্য এবং বিশেষ করে জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা।

 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় রাশিয়া সরাসরি কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে বড় ঝুঁকি নেবে না। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে সেই ধারণা বদলেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এ বছরের শরৎ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বড় আকারের হাইব্রিড হামলা, নাশকতা কিংবা সীমিত স্থল অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

বিশেষভাবে নজরে রয়েছে বাল্টিক অঞ্চল ও পোল্যান্ড। লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে ভুয়া পতাকা হামলা চালাতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করতে পারে। তার মতে, এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে ন্যাটোর ভেতরে বিভক্তি তৈরি করা এবং ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন দুর্বল করা।

 

গত কয়েক মাসে বাল্টিক অঞ্চলের আকাশসীমা এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা ঘটনার পর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার ঘটনাও ইউরোপে হাইব্রিড হামলার আশঙ্কাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। জার্মান কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে, যদিও প্রকাশ্যে রাশিয়াকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।

 

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া পুতিনকে নতুন কোনো কৌশলগত সাফল্য দেখানোর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সীমিত উসকানি দিয়ে জোটের প্রতিক্রিয়া যাচাই করার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫। এই ধারায় বলা হয়েছে, জোটের একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে রাশিয়ার কোনো সীমিত হামলাও দ্রুত বড় আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

 

এরই মধ্যে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে একাধিকবার সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশও সামরিক ব্যয় বাড়ানো, পূর্ব সীমান্তে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। রাশিয়া সত্যিই ন্যাটো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। মস্কোও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমাদের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং উল্টো ন্যাটোকেই রাশিয়ার সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য দায়ী করে।

 

তারপরও নতুন সতর্কবার্তাটি ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় ন্যাটো সীমান্তে যেকোনো সামরিক বা হাইব্রিড ঘটনা এখন শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং পুরো জোটকে সরাসরি সংঘাতের মুখে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

বিশ্ব

View more
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য পেতে ২০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গোপন তথ্য দিলে ২০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তথ্যদাতাদের জন্য পুনর্বাসনের সুযোগও রাখা হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সেখানে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, কর্মী এবং বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি।   শনিবার (৭ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ কর্মসূচির ঘোষণা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্যের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হতে পারে। এসব তথ্যের মধ্যে পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থানান্তরের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পুরস্কারের অর্থ নির্দিষ্ট নয়, তথ্যের গুরুত্ব ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এই পরিমাণ দেওয়া হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মসূচিটির ওয়েবসাইটে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছিল, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছাতে সাধারণত ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানই একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্র, যারা এত উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তা একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে।   বিবৃতিতে আইএইএ-এর সুরক্ষা চুক্তি পালনের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটির সঙ্গে ইরানের সহযোগিতার ঘাটতির কারণে দেশটির সেন্ট্রিফিউজসহ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক সরঞ্জামের উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে আইএইএ সমস্যায় পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যেই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন দাবির পরও কর্মসূচি-সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কী ধরনের তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।   সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) ও আল জাজিরা।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ২২:৬
বিজয় ভাষণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ সম্বোধন করেন আবদুল এল-সায়েদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

‘জেডি, হাবিবি’ বলে ভাইস প্রেসিডেন্টকে খোঁচা, আরব বিশ্বে প্রশংসায় ভাসছেন আবদুল এল-সায়েদ

এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিদ্র ওজোন স্তরে, কারণ জানাল নাসা

এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিদ্র ওজোন স্তরে, কারণ জানাল নাসা

নাইকির পোশাক কেনা, বিক্রি ও পরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে লিবিয়ার দারুল ইফতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শিরক ও ইসরায়েলকে সমর্থনের অভিযোগে লিবিয়ায় নিষিদ্ধ হচ্ছে নাইকি

মজুরি বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফ্রান্সের প্যারিসে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, বেতন ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

বেতন বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্মঘট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির দুই শতাধিক স্থানে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন ৬ লাখের বেশি মানুষ। তবে দেশটির অন্যতম বড় শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, সারা দেশে বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ।   প্যারিসের বিক্ষোভে শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশার কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা একসঙ্গে অংশ নেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে বৈষম্য, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং জীবনধারণের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বৈষম্য আমাদের ভবিষ্যৎকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে।’ আরেকটিতে বলা হয়, ‘সারাজীবন শুধু জীবিকা নির্বাহের জন্য লড়াই করে কাটাতে পারি না।’ সিজিটির হিসাবে, শুধু প্যারিসেই বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ।   বিক্ষোভের কারণে দেশটির শিক্ষা ও পরিবহন খাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ফ্রান্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চবিদ্যালয় বন্ধ ছিল অথবা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। কোথাও শিক্ষার্থীদের অবরোধ, আবার কোথাও শিক্ষকদের ধর্মঘটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হয়। কয়েকটি এলাকায় গণপরিবহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতির কারণে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারও বন্ধ রাখা হয়।   বিক্ষোভের আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। তাঁদের সঙ্গে ছিল সাঁজোয়া যান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার। প্যারিসের কর্মসূচি বেশির ভাগ সময় শান্তিপূর্ণ থাকলেও রেন, লিওঁ, নঁত, পাউ, অর্লেয়াঁ ও তুলুজসহ কয়েকটি শহরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিছু এলাকায় মুখোশধারী ব্যক্তিরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ঘটনায় অন্তত ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে।   ফ্রান্সের প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, দেশটি অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, বাড়িভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় বেতন ও পেনশন বাড়ছে না। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বেতন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং সরকারি সেবার মান উন্নত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো।   শিক্ষার্থীদের দাবিও এবারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। প্যারিসের ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গারাঁস ব্লেজ বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকেরাও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী কোরিন কুচিনি কর্মীসংকট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবের কথা তুলে ধরে বেতন এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করার দাবি জানান।   আন্দোলনের সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মীসংকটের প্রতিবাদ থেকে। পরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেন। ধীরে ধীরে বেতন, পেনশন, জ্বালানির দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তুষ্ট শ্রমিকেরাও এতে যুক্ত হন। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমে দেশজুড়ে বৃহত্তর শ্রমিক ও নাগরিক বিক্ষোভে রূপ নেয়। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। এবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সেই সময়ের তুলনায় আরও বেশি বলে জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।   বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামী বছর মে মাসে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা আন্দোলনের প্রতি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। বৃহস্পতিবার প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ, গ্রিন পার্টির নেতা মারিন তন্দেলিয়ে এবং মধ্যপন্থী বাম রাজনীতিক রাফায়েল গ্লুকসম্যান। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সংবিধান অনুযায়ী টানা তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।   এদিকে আন্দোলনের চাপ সামাল দিতে সরকার শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সোমবার শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সামাজিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বেতন ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু আলোচনা নয়, বেতন বৃদ্ধি, সরকারি সেবায় অর্থায়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।   সংবাদ সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিজিটি শ্রমিক সংগঠন

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২২:২০
মোবাইল গেমের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার প্রতারণার ঘটনায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মেহমেত আইদিন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মোবাইল গেম দিয়ে ১৩ কোটি ডলার প্রতারণা, যুবকের ৪৫ হাজার বছরের বেশি কারাদণ্ড

রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র দিতে চুক্তি রাশিয়ার

যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট ধরনের পর্নোগ্রাফিক সামগ্রী রাখা ও প্রকাশের বিরুদ্ধে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে বিকৃত পর্নোগ্রাফি, আইন ভঙ্গ করলে ৫ বছরের জেল

ম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে গিয়ে পড়েন এক নারী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আটতলা থেকে পড়ে আধঘণ্টা অচেতন, জ্ঞান ফিরেই নির্বিকার ভঙ্গিতে ২০ মিনিট মোবাইল ব্যবহার করলেন নারী

কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল শহরে একটি ভবনের আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে গিয়ে পড়েছেন এক নারী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পর তাঁর জ্ঞান ফেরে। এরপর ছাদের ওপর বসে প্রায় ২০ মিনিট মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তিনি। পরে নিজেই ছাদ থেকে নেমে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। তবে এত উঁচু থেকে পড়ার পর তাঁর শরীরে কী ধরনের আঘাত লেগেছিল, কিংবা পরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে। সিহানুকভিলের বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে পাশের একটি বাড়ির ঢেউটিনের ছাদের ওপর ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। প্রথমে তাঁরা ধারণা করেছিলেন, এত উঁচু থেকে পড়ে নারীটির মৃত্যু হয়েছে অথবা তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর তাঁকে নড়াচড়া করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি উঠে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করেন।   ঘটনাস্থলে ততক্ষণে আশপাশের মানুষের ভিড় জমে যায়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিচ থেকে টর্চের আলো দিয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। নারীটিকে ধূসর রঙের পোশাক পরা অবস্থায় ছাদের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। প্রায় ২০ মিনিট ফোন ব্যবহারের পর তিনি ধীরে ধীরে উঠে ছাদের কিনারার দিকে এগিয়ে যান। পরে নিজেই নিচে নেমে সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এই ঘটনার বেশ কিছু বিষয় এখনো অজানা। নারীর পরিচয়, তিনি কোন ভবন থেকে কীভাবে পড়ে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার সময় সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তিনি পড়ে যাওয়ার পর কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই বেঁচে ফিরেছেন বলে নিশ্চিতভাবে দাবি করার সুযোগ নেই।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএনবি নিউজের বরাতে চীনা সংবাদমাধ্যম সিন চিউ ডেইলি প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ করে। পরে সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম মাদারশিপ, স্টম্পসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও খবরটি প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের বাইরে নারীর শারীরিক অবস্থা বা ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: সিন চিউ ডেইলি, মাদারশিপ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২২:২৬
অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতে পড়াশোনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া চীনের শিক্ষার্থী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

অসুস্থ মায়ের সেবায় পড়াশোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত, পাশে দাঁড়াল সহপাঠীরা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনেয়ী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পালাবদল, ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্পের দল

চীনে শাওমির গাড়ি কারখানায় যন্ত্রাংশ বাছাই ও সাজানোর কাজে ব্যস্ত মানবাকৃতির রোবট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

চীনের কারখানায় ৮ ঘণ্টার শিফট শেষ করে ইতিহাস গড়ল শাওমির হিউম্যানয়েড রোবট

0 Comments