সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৩:৫০
টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন
টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাকিনিতে একটি নতুন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যান কিথ সেলফ। তিনি ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিলের কাছে ৫ দশমিক ৫ একর জায়গার ওপর ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যাকিনি’-এর এই জোনিং আবেদনটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। তবে তার এই কড়া বিরোধিতা এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক অভিযোগ সত্ত্বেও সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে মসজিদ নির্মাণের পক্ষেই রায় দিয়েছে। কাউন্সিল সদস্যদের মতে, মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবটি শহরের সব নিয়মকানুনের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।

 

সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে কিথ সেলফ তথাকথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ বা রাজনৈতিক ইসলাম এবং শরিয়া আইনকে স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কাউন্সিল সদস্যদের সতর্ক করে তিনি দাবি করেন যে, বাল্যবিবাহ বা অনার কিলিংয়ের মতো ঘটনা এখানে ঘটবে না—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী স্থানীয়দের বাঁচাতে আসবে না। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর মাধ্যমে নির্যাতনের কিছু অভিযোগও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি প্রায় আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করেন। তবে সরকারি বা নির্ভরযোগ্য কোনো নথিতে তার এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

 

ভার্জিনিয়া পার্কওয়ে এবং ক্রুচার ক্রসিংয়ের কাছাকাছি প্রস্তাবিত এই মসজিদটি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকেই বিতর্ক চলে আসছিল। শুরুতে যানজট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কিছু উদ্বেগ থাকলেও পরবর্তীতে অ্যাসোসিয়েশন তাদের নকশা পরিবর্তন করে এবং যানজট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নিজস্ব সমীক্ষা চালায়। মূলত উত্তর টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলের নজরদারি এবং রিপাবলিকান নেতাদের একাংশের কট্টর অবস্থানের কারণেই এই বিতর্ক বড় আকার ধারণ করে। এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদটির নির্ধারিত স্থানে লাগানো একটি সাইনবোর্ডে বড় আকারের ক্রস চিহ্ন এঁকে এবং যিশু খ্রিস্টের নাম লিখে তা ভাঙচুর করার ঘটনাও ঘটেছিল।

 

শুনানিতে দেড় শতাধিক মানুষের দীর্ঘ মন্তব্য ও কিথ সেলফের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকের সরাসরি হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পটির জোনিং আবেদনটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে। সিটি কাউন্সিলের সদস্য জাস্টিন বেলার এই প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের তীব্র সমালোচনা করেন। বিষয়টিকে ‘নির্বাচনি বছরে ভীতি ছড়ানোর অপকৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষকে আলাদা করে বা বিভাজন তৈরি করে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা অত্যন্ত সস্তা একটি উপায়। জোনিং আবেদনটি পাস হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে প্রতিটি ধাপে আলাদাভাবে ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমতি নিতে হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গ্রাহকের পিৎজা হাতে দরজায় হাজির দুই পুলিশ কর্মকর্তা
পিৎজা নিয়ে যাওয়ার আগেই হেফাজতে ডেলিভারি চালক, অর্ডার পৌঁছে দিল পুলিশ

বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে এক ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর তার গাড়িতে থাকা গ্রাহকের পিৎজার অর্ডারটি নিজেরাই পৌঁছে দিলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টেম্পি শহরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঘটে এই অদ্ভুত ঘটনা। বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে ট্রাফিক স্টপের সময় এক গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে চালককে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়িতে একজন গ্রাহকের পিৎজার অর্ডার পড়ে ছিল।   চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর পিৎজাটি কীভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে, তা নিয়ে ভাবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই অর্ডারটি পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর দুই কর্মকর্তা পিৎজার বাক্স হাতে ওই নারীর বাড়ির দরজায় গিয়ে হাজির হন।   দরজা খুলে সামনে পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখে বিস্মিত হয়ে যান গ্রাহক। তখন এক কর্মকর্তা তাকে জানান, তার গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে, তাই তারা পিৎজাটি পৌঁছে দিতে এসেছেন। পাশে থাকা আরেক কর্মকর্তা মজা করে বলেন, পিৎজাটি এখনো গরম থাকার কথা।   অপ্রত্যাশিত এই ডেলিভারিতে অবাক হলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ওই নারী। পরে টেম্পি পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা বডিক্যাম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ঘটনাটি দেখা যায়।   ঘটনাটি নিয়ে টেম্পি পুলিশও রসিকতা করে জানায়, ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়া হলেও পিৎজার ডেলিভারি শেষ পর্যন্ত ঠিকই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে একটি সাধারণ ট্রাফিক স্টপই পরিণত হয় অস্বাভাবিক এক পিৎজা ডেলিভারির ঘটনায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৯:৩৪
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন উপসাগরীয় ছয় দেশের নেতারা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ৬ উপসাগরীয় দেশের বৈঠক, টেবিলে যেসব বড় দাবি

২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট বাড়ার নতুন পূর্বাভাস

২০২৭ সালে বাড়বে সোশ্যাল সিকিউরিটি! মিলছে ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির আভাস

Ota Benga was put on display at the Bronx Zoo in 1906.

১৯০৬ সালে চিড়িয়াখানার বানরের খাঁচায় বন্দী করা হয়েছিল যে কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে

গৃহঋণের সুদ ও ফি তুলনা না করায় বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ
একটু খোঁজ নিলেই বাঁচত হাজার হাজার ডলার, গৃহঋণে বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাড়ির মালিক গৃহঋণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রতি বছর হাজার হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করছেন। ব্যাংরেটের নতুন এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ঋণদাতার সুদের হার ও ফি তুলনা না করার কারণে একজন সাধারণ বাড়ির মালিক বছরে ৩ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত খরচ করতে পারেন। এই বাড়তি ব্যয়কে বিশ্লেষণে ‘লুকানো বাড়ির মালিকানা কর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।   ব্যাংরেটের অ্যালেক্স গেইলি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জন বাড়ির মালিক তাদের গৃহঋণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছেন। এর কারণ সবসময় ভালো সুযোগ না থাকা নয়; বরং অনেকেই বিভিন্ন ঋণদাতার কাছ থেকে সুদের হার ও অন্যান্য খরচের হিসাব নিয়ে তুলনা করেন না। ফলে একই ধরনের ঋণের জন্যও তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।   গেইলির মতে, সুদের হার ও ফি তুলনা না করার কারণে একজন সাধারণ মার্কিন বাড়ির ক্রেতার বছরে ৩ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। এই অর্থ পরিবারগুলো অবসর সঞ্চয়, সন্তানের পড়াশোনার খরচ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করতে পারত। দীর্ঘমেয়াদে এই বাড়তি খরচ পরিবারের সম্পদ গড়ে তোলার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের হারের গৃহঋণের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও বড় হয়ে উঠতে পারে। ব্যাংরেটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পুরো ঋণের মেয়াদে এড়ানো সম্ভব এমন বাড়তি খরচ ৭৮ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতে কয়েক হাজার ডলারের পার্থক্য মনে হলেও দীর্ঘ সময়ের হিসাবে সেটি বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে।   এ কারণে বাড়ি কেনার সময় একাধিক ঋণদাতার কাছ থেকে সুদের হার ও খরচের হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গেইলি। তার মতে, একই দিনে একাধিক ঋণদাতার কাছ থেকে প্রস্তাব নেওয়া ভালো। এতে একই সময়ের বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলনা করা সহজ হয় এবং কোন ঋণদাতা তুলনামূলক ভালো শর্ত দিচ্ছে, তা বোঝা যায়।   তবে শুধু সুদের হার দেখলেই হবে না, ঋণের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন ফি ও অতিরিক্ত খরচও হিসাব করতে হবে। ডিসকাউন্ট পয়েন্ট, ঋণ প্রক্রিয়াকরণের ফি এবং অন্যান্য প্রাথমিক খরচ যোগ করলে একটি গৃহঋণের প্রকৃত ব্যয় কত হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। তাই প্রতিটি ঋণদাতার কাছ থেকে খরচের বিস্তারিত, লাইন-বাই-লাইন হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ঋণ নেওয়ার আগে নিজের জন্য একটি সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সুদের হার ঠিক করে রাখাও কাজে আসতে পারে। কোনো ঋণদাতার প্রস্তাব সেই সীমার বাইরে গেলে অন্য বিকল্প খোঁজা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গৃহঋণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে নিজের ক্রেডিট স্কোর, ডাউন পেমেন্ট ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সুদের হার এবং মাসিক কিস্তির ধারণাও নেওয়া যায়।   বিশ্লেষণটি মূলত দেখিয়েছে, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, গৃহঋণের শর্তও দীর্ঘমেয়াদি খরচের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই ঋণ নেওয়ার আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুদের হার, ফি ও অন্যান্য শর্ত তুলনা করলে সম্ভাব্য বাড়তি খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:৩০
আইসিই অভিযানের ভিডিও করা মার্কিন কিশোর লুইস ওচোয়া

আইসিই অভিযানের ভিডিও করা মার্কিন কিশোরের মা মেক্সিকোতে ফেরত

কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের সুযোগ

বিদেশিদের জন্য গ্রিন কার্ডের সুযোগ, চাকরির ক্ষেত্রে যেসব যোগ্যতা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

জাতিসংঘে আজ ট্রাম্পের ভাষণে ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধসহ জ্বালানি সংকট, থাকছে যেসব বিষয়

ছবির ক্যাপশন: ২০২৬ সালে বিভিন্ন বক্তব্য ও পোস্টে প্রায় ৯০০ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প
১ বছরেই ট্রাম্পের মুখে বাইডেনের নাম প্রায় ৯০০ বার, নেপথ্যে কারণ

২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ বার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্পের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার এবং ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে অন্তত ৮৯০ বার বাইডেনের নাম এসেছে। প্রায় ২০০টি অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকার এবং ১৯০টি ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে।   রয়টার্সের হিসাবে, গড়ে দিনে প্রায় তিনবার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। অর্থনীতি নিয়ে তিনি প্রায় ২১০ বার বাইডেনের নাম তুলেছেন। অভিবাসন প্রসঙ্গে ১৬৮ বার এবং পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে ১৩৮ বার সাবেক প্রেসিডেন্টকে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেও বাইডেনের প্রশাসনের দিকে দায় ঠেলে দিতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে।   বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের প্রসঙ্গ বারবার এসেছে। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পণ্যের দাম বাড়ার জন্য বাইডেন ও তার প্রশাসনকে দায়ী করেন ট্রাম্প। অর্থনীতির পাশাপাশি বাড়ির দাম, সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ইস্পাত শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেও বাইডেনের প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি।   অভিবাসনও ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের নাম আসার অন্যতম বড় কারণ। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অনিবন্ধিত অভিবাসন বেড়ে যাওয়ার জন্য বাইডেন প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে আসছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে নিজের প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও বি তাড় ন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা হলে তার জবাবেও বাইডেন আমলের নীতির প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি।   পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব বিষয়ে অন্তত ১৩৮ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ইরান ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের প্রসঙ্গও রয়েছে। জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে এক দিনেই ১৬ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেন ট্রাম্প, যা এক দিনে তার সর্বোচ্চ।   ট্রাম্পের বাইডেনকে বারবার উল্লেখ করার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বিভিন্ন জরিপেও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আগের প্রশাসনের নীতিকে সামনে আনা ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।   হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে কাজ করছে। অন্যদিকে বাইডেনের সাবেক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের বারবার তার পূর্বসূরির নাম উল্লেখ করার সমালোচনা করেছেন। তবে রয়টার্সের পর্যালোচনায় যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো—২০২৬ সালের রাজনৈতিক বক্তব্যে বাইডেন এখনো ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আলোচ্য ব্যক্তি হয়ে রয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:৭
ইয়েমেনে অগ্রযাত্রা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের হা মলা আর হলো না, ইয়েমেনে বড় অ ভিযানে হুতিদের অগ্রযাত্রা

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন

হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন

0 Comments