দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হলো না কানাডীয় পরিবারকে
শিশুদের নিয়ে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এক কানাডীয় পরিবারকে সীমান্তে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মুঠোফোন তল্লাশি করা হয় এবং একজনের ফোন রেখে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফোনটি ফেরত পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের এক বন্ধুর ভাষ্য।
ঘটনাটি সামনে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। ভ্রমণকারীদের এক বন্ধু ওই পোস্টে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সীমান্তে কী ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। পরে ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রাভেল ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, পরিবারটির সদস্যরা কানাডার নাগরিক। তবে সীমান্তে নথিপত্র পরীক্ষা করার সময় তাদের কাছে তিউনিসিয়ার পাসপোর্টও পাওয়া যায়। এরপর তাদের আরও বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে তিউনিসিয়ার দ্বিতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণেই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, এমন কোনো তথ্য মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি নিশ্চিত করেনি। পরিবারটির প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নির্দিষ্ট কারণও প্রকাশ্যে জানা যায়নি।
পরিবারটির বন্ধুর দাবি, সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনের সময় তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং মুঠোফোন পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে একজনের ফোন নিজেদের কাছে রেখে দেন সিবিপি কর্মকর্তারা।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, শুরুতে কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে প্রক্রিয়াটি শেষ হতে বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু অপেক্ষা দীর্ঘ হতে হতে প্রায় ১২ ঘণ্টায় গড়ায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে কানাডায় ফেরত পাঠানো হয়।
পরিবারটির একজনের মুঠোফোন ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফেরত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পোস্টদাতা। ফোনটির বিষয়ে জানতে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।
এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সিবিপির পক্ষ থেকেও পরিবারটির পরিচয়, ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের কারণ কিংবা ফোনটি দীর্ঘ সময় ধরে রাখার বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে বিদেশি ভ্রমণকারীদের সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সিবিপির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় নথিপত্র বা দেওয়া তথ্যে কোনো বিষয় আরও যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশ্ন দেখা দিলে অথবা কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন মনে করলে একজন যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠাতে পারেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীকে দৈবচয়নের ভিত্তিতেও অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়।
সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথগুলোতে ৪২ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠানো হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর প্রায় ৩ শতাংশ।
সীমান্তে মুঠোফোন তল্লাশির বিষয়েও সিবিপির নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশটি থেকে বের হওয়ার সময় কর্মকর্তারা প্রয়োজনে যাত্রীর মুঠোফোন, কম্পিউটার, ক্যামেরাসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করতে পারেন। সিবিপির হিসাবে, ২০২৪ অর্থবছরে ৪৭ হাজার ৪৭ জন আন্তর্জাতিক যাত্রীর ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করা হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশেরও কম।
সিবিপির নীতিমালা অনুযায়ী, সীমান্ত তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাময়িকভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারেন কর্মকর্তারা। পাঁচ দিনের বেশি ডিভাইস রাখতে হলে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ১৫ দিনের বেশি রাখার ক্ষেত্রেও আরও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন।
তাই আলোচিত ঘটনায় ফোনটি সত্যিই তিন সপ্তাহ ধরে সিবিপির কাছে থেকে থাকলে সেটি সাধারণ প্রাথমিক সময়সীমার চেয়ে দীর্ঘ। তবে কেন ফোনটি রাখা হয়েছে বা এর জন্য প্রয়োজনীয় ঊর্ধ্বতন অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
কানাডার নাগরিকদের সাধারণ পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কানাডার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথে একজন বিদেশি নাগরিককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সিবিপি কর্মকর্তাদের রয়েছে।
এ কারণে পরিবারটির দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর অতিরিক্ত যাচাই শুরু হওয়ার দাবি সংবাদটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, সেই পাসপোর্টকেই তাদের প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখানোর মতো সরকারি তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি বেসরকারি ইসলামি স্কুলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রয়েছে। তবে অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও সম্প্রসারণের আবেদন নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা চলছে। এসেক্স কাউন্টির ফেয়ারফিল্ড টাউনশিপে অবস্থিত আল-গাজালি জুনিয়র/সিনিয়র হাইস্কুলে বর্তমানে ৩১৩ জন শিক্ষার্থী পড়ছে, যদিও আগে প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ ৯০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়িয়ে ৪০০ করার অনুমতি চেয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শনে তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল বন্ধ করার মতো কোনো ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। তবে অনুমোদিত সীমা অতিক্রমের ঘটনায় স্কুলটিকে নিয়মভঙ্গের নোটিশ ও সমন জারি করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ফেয়ারফিল্ড টাউনশিপের পরিকল্পনা বোর্ডের শুনানিতে বিষয়টি সামনে আসে। নিউ জার্সির ইসলামিক এডুকেশনাল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হায়াত জালুদি বোর্ডকে জানান, স্কুলটিতে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীসংখ্যা ৯০ থেকে বাড়িয়ে ৪০০ এবং শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪৬ জন করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। কিন্তু অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় এত শিক্ষার্থী কীভাবে ভর্তি করা হলো, তা নিয়ে বোর্ডের সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তে অনুমোদিত শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানো যায় না। শুনানিতে হায়াত জালুদি বলেন, ওয়েন শহরের আগের ক্যাম্পাস থেকে ফেয়ারফিল্ডে স্থানান্তরের সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন এড়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বর্তমান শিক্ষার্থীসংখ্যা নিয়ে কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর ভাষ্য, একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি মনে করেছিলেন, ভবনটির শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পাঠদান করা সম্ভব। তবে বোর্ডের সদস্যরা জানান, ভবনে জায়গা থাকলেও নির্ধারিত সীমার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি করার আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। জালুদি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়েই তাঁরা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। শুনানির পরদিন, ১৪ অক্টোবর, টাউনশিপের অগ্নিনিরাপত্তা কর্মকর্তা স্কুল ভবন পরিদর্শন করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রায় ৪২ হাজার বর্গফুটের ভবনটিতে বর্তমান উপস্থিতির কারণে জরুরি ভিত্তিতে স্কুল বন্ধ করার মতো কোনো আসন্ন অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। তবে এই পরিদর্শনের ফল শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর অনুমোদন হিসেবে গণ্য হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি এবং আগের অনুমোদনের অন্যান্য শর্ত না মানার কারণে স্কুলটিকে নোটিশ ও সমন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও পৌর আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পথে এগোবে। স্কুলটির শিক্ষার্থীসংখ্যা ৯০ জনে সীমিত রাখার শর্তটি ২০১৯ সালে ভবনটিতে পরিচালিত আগের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত। চলতি বছর ইসলামিক এডুকেশনাল ফাউন্ডেশনও একই শর্তে সেখানে স্কুল চালুর অনুমতি পায়। প্রতিষ্ঠানটি জুলাইয়ে নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয় এবং ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করে। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। ইংরেজি, গণিত, সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে স্কুলটি। ফাউন্ডেশনটি ১৯৮৪ সালে আল-গাজালি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছে। স্কুলটির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও মতামত উঠে এসেছে। শুনানিতে কেউ কেউ আশপাশের সড়কে যানজট, শিক্ষার্থীদের পাসাইক অ্যাভিনিউ পারাপার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়াদান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। শুনানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু মন্তব্যে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দেখা যাওয়ায় টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ ইউটিউবে ভিডিওটির মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিসহ বৃহত্তর দর্শকের কাছে এসব মন্তব্য পৌঁছানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আল-গাজালি স্কুলের শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর আবেদন এখনো অনুমোদন পায়নি। ফেয়ারফিল্ডের পরিকল্পনা বোর্ডে পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ নভেম্বর। ওই শুনানিতে স্কুলের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা চলবে। ততদিন প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত শিক্ষার্থীসংখ্যা নিয়ে বিরোধ এবং নিয়মভঙ্গের বিষয়টি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকবে। সূত্র: ফেয়ারফিল্ড টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ, ফক্স ৫ নিউইয়র্ক এবং ইসলামিক এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন।
নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাবে ভোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে হ্যালোইন ক্যান্ডি বিক্রি, পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ
যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার ১৩০০ ভুক্তভোগীকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে নিউ ইয়র্কের চার্চ
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের জামিন শুনানির সুযোগ দেওয়া সংবিধান অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয় বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর নিউ অরলিন্সভিত্তিক পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত ১০-৭ ভোটে এ সিদ্ধান্ত দেন। এর ফলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে আটক সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের মুক্তির আবেদন করার সুযোগ সীমিত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এ রায়কে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটিতে প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিধান অনুযায়ী আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানির অধিকার রয়েছে কি না। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া এবং নির্দিষ্ট আইনি ধারায় আটক থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংবিধান এমন শুনানি নিশ্চিত করে না। ফলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের আটক রাখার বৈধতা নিয়ে জামিন শুনানির মাধ্যমে যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ বাধ্যতামূলক নয় বলে আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। রায়ের পক্ষে মত দেওয়া বিচারক কোরি উইলসন বলেন, আটক ব্যক্তিরা যদি শারীরিকভাবে আটকে না থাকার স্বাধীনতা চান, তাহলে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক। তবে এ বক্তব্য আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের অংশ হলেও রায়টি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। ভিন্নমত দেওয়া বিচারকেরা মনে করেন, নির্বাহী বিভাগের হাতে কাউকে আটক রাখার ক্ষমতা থাকলেও সেই ক্ষমতার ওপর সাংবিধানিক সীমা থাকা প্রয়োজন। এর আগে গত জুলাইয়ে পঞ্চম সার্কিট আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ রায় দিয়েছিল, ৯০ দিনের বেশি কোনো অভিবাসীকে আটক রাখলে তাঁকে জামিন শুনানির সুযোগ না দেওয়া সাংবিধানিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। পরে পুরো আদালত মামলাটি পুনরায় শুনে শুক্রবার আগের সিদ্ধান্ত উল্টে দেয়। মামলাটি করা হয়েছিল মেক্সিকোর দুই নাগরিক ও হন্ডুরাসের এক নাগরিকের পক্ষ থেকে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আটক থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। নতুন রায়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় দেশটির সবচেয়ে বড় অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলোর কয়েকটি অবস্থিত। রায়ের বিরোধিতা করে বিচারক ডানা ডগলাস সতর্ক করেছেন, সরকারের হাতে সীমাহীনভাবে গ্রেপ্তার ও আটক রাখার ক্ষমতা দেওয়া হলে তা ইতিহাসের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। মামলায় অভিবাসীদের পক্ষে থাকা ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের আইনজীবী এলি নর্টনও বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে যথেষ্ট কারণ ছাড়াই আরও বেশি মানুষকে আটক রাখার পথ তৈরি হতে পারে। এতে আটক ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান আইন কর্মকর্তা জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রায়টিকে প্রশাসনের জন্য বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত আইনি অবস্থান হিসেবে টিকে থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এ মাসে অভিবাসীদের জামিন শুনানি আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক কি না, সে বিষয়ে পৃথক একটি মামলা শুনতে সম্মত হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা প্রশ্নটি আইনগত, আর পঞ্চম সার্কিটের সাম্প্রতিক রায়টি সংবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে। দুটি প্রশ্নের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পঞ্চম সার্কিটের এই রায় টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে কার্যকর হবে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব অভিবাসী বা সব ধরনের আটক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য, এমনটি বলা যাবে না। নিম্ন আদালতগুলোতে অভিবাসীদের আটক রাখার বৈধতা নিয়ে মামলা চলতে থাকায় দেশজুড়ে এ বিষয়ে আইনি মতপার্থক্যও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানি অভিবাসন আটকনীতি নিয়ে বিতর্কের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালতের রায়।
নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে মাত্র ১ হাজার ৮২০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, চলছে আবাসন লটারির আবেদন
পবিত্র কোরআনের বাণী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলন্ত স্কুলবাস থামিয়ে ১৯ শিশুকে রক্ষা করলেন যুবক
বিল গেটসের শতকোটি ডলারের সম্পদ থেকে সন্তানেরা পাবেন মাত্র ১ শতাংশ, কেন এমন সিদ্ধান্ত
প্রায় চার দশক ধরে পেপসির পানীয় পরিবেশন করে আসার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁগুলোতে সরবরাহকারী ব্র্যান্ড বদলাচ্ছে কেএফসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দেশটির হাজারো কেএফসি রেস্তোরাঁয় পেপসির পরিবর্তে কোকাকোলা কোম্পানির পানীয় পাওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার এ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইনটি। এত দিন যুক্তরাষ্ট্রে কেএফসির পানীয় সরবরাহের ক্ষেত্রে পেপসিই ছিল একমাত্র অংশীদার। নতুন চুক্তির ফলে আটলান্টাভিত্তিক কোকাকোলা কোম্পানির সঙ্গে কাজ শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিনের এই পরিবর্তনকে কেএফসি তাদের খাবার ও পানীয়ের তালিকায় নতুনত্ব আনা এবং গ্রাহকদের রেস্তোরাঁয় আসার আগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে। কেএফসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন অংশীদারত্ব তাদের মেনু ও পানীয় পরিবেশনের ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার চলমান প্রচেষ্টার আরেকটি ধাপ। একই সঙ্গে গ্রাহকদের রেস্তোরাঁয় আসার নতুন কারণ তৈরি করাও এই উদ্যোগের লক্ষ্য। কেএফসি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন ট্যান-গিলেসপি বলেছেন, কেএফসি ও কোকাকোলা—দুটি ব্র্যান্ডের প্রতিই ভোক্তাদের গভীর আগ্রহ ও ভালোবাসা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অংশীদারত্ব শুধু গ্রাহকদের গ্লাসে কোন পানীয় থাকবে, সেই পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, কেএফসিকে সময়ের সঙ্গে আরও মানানসই করে তোলা, রেস্তোরাঁগুলোর কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং খাবার ও পানীয়ের প্রস্তাব আরও উন্নত করার প্রচেষ্টার অংশ এটি। বর্তমান সময়ের গ্রাহকদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরিও তাঁদের লক্ষ্য। কোকাকোলা কোম্পানি কেএফসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে একই ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভাগ করে নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কী করতে পারে, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী। কোকাকোলা কোম্পানির উত্তর আমেরিকায় ফুড সার্ভিস ও অন-প্রিমাইস বিভাগের প্রেসিডেন্ট ডাগমার বগসও নতুন চুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেএফসির পরিচিত খাবার ও স্বাদের সঙ্গে কোকাকোলার বিস্তৃত পানীয়সম্ভার এবং নতুন পণ্য তৈরির সক্ষমতা যুক্ত হলে গ্রাহকদের জন্য আরও সতেজ অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব হবে। বগসের মতে, এই অংশীদারত্ব গ্রাহকদের মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে। পানীয়ের ব্র্যান্ড পরিবর্তনের পাশাপাশি কেএফসি তাদের সামগ্রিক পানীয়ের তালিকাও সম্প্রসারণ করছে। নতুন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে আইসড কফি, বোবা এবং মিল্কশেকসহ বিভিন্ন পানীয়। এসব নতুন পণ্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনের কাজ চলছে টেক্সাসে অবস্থিত কেএফসির ‘ওপেন হাউস’ নামের উদ্ভাবনী রেস্তোরাঁয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনায় পানীয়ের বৈচিত্র্য বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন স্বাদ ও বিকল্প যুক্ত করার মাধ্যমে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি রেস্তোরাঁয় তাঁদের আগ্রহ বাড়াতে চায় কেএফসি। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের কেএফসি রেস্তোরাঁগুলোতে পানীয়ের তালিকায় বড় পরিবর্তন আসবে। তবে ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কেএফসি রেস্তোরাঁগুলোর ক্ষেত্রে একই পরিবর্তন কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সরকারি কর্মীদের শিক্ষাঋণ মওকুফে বিতর্কিত নিয়ম বাতিলের আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াল ট্রাম্প প্রশাসন
চোখের সামনে সাগরে তলিয়ে গেল বাড়ি, ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলজুড়ে বাড়ছে ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি