আমেরিকা

অযোগ্য ৭০ পুলিশ রিক্রুটকে নিয়োগের অভিযোগে নিউইয়র্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৭:৫৯
অযোগ্য ৭০ পুলিশ রিক্রুটকে নিয়োগের অভিযোগে নিউইয়র্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি
অযোগ্য ৭০ পুলিশ রিক্রুটকে নিয়োগের অভিযোগে নিউইয়র্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি

মানসিক স্বাস্থ্য মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও অন্তত ৭০ জন রিক্রুটকে পুলিশ একাডেমিতে বেআইনিভাবে রেখে দেওয়ার অভিযোগে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তার পদ থেকে নীরবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 'ক্যান্ডিডেট অ্যাসেসমেন্ট ডিভিশন'-এর প্রধান ইন্সপেক্টর টেরেল অ্যান্ডারসনকে এই অভিযোগে গত ১২ মে হাউজিং ইউনিটে বদলি করা হয়।

 

ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর (IAB) চলমান তদন্তে জানা গেছে, মানসিক পরীক্ষায় ফেল করা ওই অযোগ্য রিক্রুটদের মধ্যে নিউইয়র্ক পুলিশের সাবেক লেফট্যানেন্ট কোয়াথিশা এপসের ভাতিজা এমিলিও অ্যান্ডিনোও রয়েছেন। উল্লেখ্য, কোয়াথিশা এপস সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর 'ওভারটাইমের বিনিময়ে যৌনতা' কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। সূত্র জানায়, এপস ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তার ভাতিজাকে একাডেমিতে টিকিয়ে রাখার জন্য অ্যান্ডারসনকে ফোন করেছিলেন। তবে তদন্তকারীদের কাছে অ্যান্ডারসনের দাবি, পুলিশ বাহিনীতে চরম কর্মী সংকট থাকায় শূন্যস্থান পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপেই তিনি অযোগ্য প্রার্থীদের রেখে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

 

অ্যাকাডেমিতে অপর এক রিক্রুটকে চড় মারার অভিযোগে গত মাসে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও অ্যান্ডিনো এখনও সেখানে বহাল আছেন। উল্টো তিনি তার ফুফুর ওই কেলেঙ্কারির জেরে বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দাবি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাদের আইনজীবী এরিক স্যান্ডার্স দাবি করেছেন যে, এটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশোধের একটি নজির।

 

এদিকে, কর্মী সংকটে ধুঁকতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশে ২০০০ সালের ৪০,২০০ জন সদস্য থেকে বর্তমানে সংখ্যাটি ৩৪,৪৭৫-এ নেমে এসেছে। এই সংকট সামাল দিতে এবং আগামী বছরের মধ্যে ৩৫ হাজার পুলিশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ রিক্রুটদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো কিছু মানদণ্ড শিথিল করেছেন। অপরদিকে, কোয়াথিশা এপসকে ওভারটাইমের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক চিফ অফ ডিপার্টমেন্ট জেফরি ম্যাড্রেও বিতর্কের মুখে আকস্মিকভাবে অবসরে গেছেন। সব মিলিয়ে একের পর এক কেলেঙ্কারি ও কর্মী সংকটে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এখন চরম ভাবমূর্তি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল প্রশাসন
দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল প্রশাসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্বৈত নাগরিকদের (যাদের যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য দেশেরও নাগরিকত্ব রয়েছে) জন্য ভ্রমণ নীতিমালায় কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং দেশ ত্যাগের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনোভাবেই বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করা যাবে না।   ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দ্বৈত নাগরিকরা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএ (ESTA)-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। কেউ বিদেশি পাসপোর্ট দিয়ে এই আবেদন করলে তা নিয়মিতভাবেই বাতিল করে দেওয়া হবে। মূলত, মার্কিন নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা ইএসটিএ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।   এই কঠোর নিয়মটি প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কোনো শিশুর পিতা-মাতা মার্কিন নাগরিক হলে, সেই শিশুটির মার্কিন নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক নথিপত্র বা ডকুমেন্টেশন না থাকলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা ত্যাগ করতে চাইলে অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুটির জন্য একটি মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।   এছাড়া, যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে বসবাস করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের পাসপোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই তা নবায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশে প্রবেশের তারিখ থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা বাঞ্ছনীয়।   ভ্রমণ সংক্রান্ত নির্দেশনার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন দ্বৈত নাগরিকদের কর বিষয়ক আইনি বাধ্যবাধকতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তাদের দেশটির কর আইন মেনে চলা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দ্বৈত নাগরিকদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে অভিজ্ঞ কোনো কর উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৮:৪৮
জর্জিয়ায় স্কুল হামলায় ৪ জন নিহত, ছেলের অপরাধে বাবার ১৫ বছরের কারাদণ্ড

জর্জিয়ায় স্কুল হামলায় ৪ জন নিহত, ছেলের অপরাধে বাবার ১৫ বছরের কারাদণ্ড

ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় ধীর মার্কিন অর্থনীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ১.৫ শতাংশ

ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় তলানিতে মার্কিন অর্থনীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ১.৫ শতাংশ

অযোগ্য ৭০ পুলিশ রিক্রুটকে নিয়োগের অভিযোগে নিউইয়র্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি

অযোগ্য ৭০ পুলিশ রিক্রুটকে নিয়োগের অভিযোগে নিউইয়র্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি

একসময় সমুদ্র শাসন করত আমেরিকা, এখন চীনের ৪০০০ জাহাজের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বানাচ্ছে মাত্র ১৫টি
একসময় সমুদ্র শাসন করত আমেরিকা, এখন চীনের ৪০০০ জাহাজের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বানাচ্ছে মাত্র ১৫টি

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ১৫টি কার্গো বা মালবাহী জাহাজ নির্মাণ করছে, যেখানে চীনের নির্মাণাধীন জাহাজের সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি এবং দক্ষিণ কোরিয়া তৈরি করছে প্রায় ৭৫০টি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমেরিকার এই ১৫টি জাহাজের মধ্যে ১২টিরই মূল নির্মাণকাজ হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। তারপরও এটি আগের বছরগুলোর তুলনায় ভালো অবস্থা, কারণ তখন মার্কিন শিপবিল্ডারদের হাতে মাত্র তিন-চারটি জাহাজের অর্ডার থাকত।   সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের এই চরম দুর্দশা ও পতনের মূল কারণ হলো প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের স্বাক্ষরিত শতবর্ষী পুরোনো একটি আইন, যা 'জোনস অ্যাক্ট' নামে পরিচিত। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একচেটিয়াভাবে দেশীয় জাহাজ শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে সুরক্ষাবাদের নামে গত এক শতাব্দী ধরে কোনো প্রতিযোগিতা না থাকায় মার্কিন জাহাজ নির্মাণ শিল্প তার সক্ষমতা হারিয়ে এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে।   বালসা রিসার্চের প্রধান গবেষক জেনিফার চেন জোনস অ্যাক্টের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি জানান, শতবর্ষ ধরে চলা এই আইনের কারণে প্রতি দশকেই আমেরিকার অভ্যন্তরীণ জাহাজ নির্মাণের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে সক্ষম এমন জোনস অ্যাক্ট-সমর্থিত মার্কিন জাহাজের সংখ্যা মাত্র ৯২টি।   এর ফলে পুয়ের্তো রিকো, হাওয়াই বা গুয়ামের মতো বন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহনের খরচ আন্তর্জাতিক বাজারদর থেকে বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একটি জোনস অ্যাক্ট-সমর্থিত দেশীয় ট্যাংকার জাহাজ পরিচালনায় প্রতিদিন খরচ হয় ৮৬ থেকে ৯১ হাজার ডলার, যেখানে একটি আন্তর্জাতিক মাঝারি মানের ট্যাংকারের ক্ষেত্রে এই খরচ মাত্র ৯ হাজার ডলার। সাংহাই থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পণ্য নেওয়ার চেয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচ থেকে হাওয়াইয়ের অনুলুলুতে পণ্য পাঠাতে প্রায় ছয় গুণ বেশি খরচ হয়। আকাশচুম্বী খরচের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনের মাত্র ৩.৯ শতাংশ নৌপথে সম্পন্ন হয়, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই হার ২৮ শতাংশ।   বর্তমানে আমেরিকায় বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণের জন্য মাত্র চারটি শিপইয়ার্ড রয়েছে এবং সেগুলো বছরে মাত্র চার-পাঁচটি জাহাজ তৈরি করতে পারে। এই উৎপাদন সক্ষমতা ১৯৮০-এর দশক থেকে স্থবির হয়ে আছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে ঢেলে সাজানোর উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নিয়েছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৫টি নতুন 'ট্রাম্প-ক্ল্যাস ব্যাটলশিপ' নিয়ে একটি 'গোল্ডেন ফ্লিট' বা সোনালী নৌবহর গঠনের পাশাপাশি নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজ নির্মাণ বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ালে মিত্রদের থেকে জাহাজ পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে, তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আমেরিকাকে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং জোনস অ্যাক্ট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাথে সংঘাতের প্রাথমিক দিনগুলোতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ৬০ দিনের জন্য জোনস অ্যাক্ট স্থগিত করেছিলেন, যা এই বিতর্কিত আইনের কার্যকারিতা নিয়ে খোদ প্রশাসনের সংশয়েরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৭:৪৫
মামদানির বিচারিক কমিটিতে নেই কোনো ইহুদি সদস্য, আছেন বিতর্কিত আসামিদের আইনজীবীরা

মামদানির বিচারিক কমিটিতে নেই কোনো ইহুদি সদস্য, আছেন বিতর্কিত আসামিদের আইনজীবীরা

নিউইয়র্কে দিনের পর দিন অনাহারে রেখে অটিস্টিক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা-নানি

নিউইয়র্কে দিনের পর দিন অনাহারে রেখে অটিস্টিক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা-নানি

শতভাগ শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় ৮ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি কিনে বিতর্কে কমলা হ্যারিস

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় শতভাগ শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় ৮ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি কিনে বিতর্কে কমলা হ্যারিস

কোভিডের উৎস ও চীনে গবেষণা নিয়ে প্রশ্নে নীরব ফাউচি, শুনানিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা
কোভিডের উৎস ও চীনে গবেষণা নিয়ে প্রশ্নে নীরব ফাউচি, শুনানিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি)-এর প্রাক্তন প্রধান ড. অ্যান্থনি ফাউচি সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে রিপাবলিকান সেনেটরদের হতবাক করে দিয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারী সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে তিনি শুনানির শুরুতেই মার্কিন সংবিধানের 'ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট' বা পঞ্চম সংশোধনীর আইনি অধিকার প্রয়োগ করেন। সাধারণত কোনো সাক্ষী এই অধিকার প্রয়োগ করলে শুনানি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে সেনেট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ফাউচিকে প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যান।   চেয়ারম্যান র‍্যান্ড পলের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা মহামারীর উৎস, ফাউচির প্রকাশ্য মন্তব্য ও ব্যক্তিগত মতের বৈপরীত্য এবং ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ঝুঁকিপূর্ণ 'গেইন অফ ফাংশন' গবেষণায় অর্থায়নের বিষয়ে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেন। অন্যদিকে, কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই শুনানিকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' বলে আখ্যায়িত করে এর সমালোচনা করেন।   শুনানি শেষে সেনেটর র‍্যান্ড পল ঘোষণা করেন যে, আগামী সপ্তাহে ফাউচির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। একইসঙ্গে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক ফাউচিকে দেওয়া বিশেষ ক্ষমার (পার্ডন) বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পলের দাবি, ফাউচি যদি সত্য কথা বলতেন এবং রুটিনমাফিক রেকর্ড ধ্বংস করার কথাও স্বীকার করতেন, তাহলেও তার কোনো আইনি ঝুঁকি থাকতো না। তবে ড. ফাউচি তার প্রারম্ভিক বিবৃতিতে র‍্যান্ড পলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়ে পলের এক ধরনের 'প্রকাশ্য উন্মাদনা' রয়েছে এবং তাকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত ডায়েরি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।   শুনানি চলাকালে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম হয়। সিআইএ-এর অর্থায়ন, চীনে বিতর্কিত গবেষণা এবং তার প্রাক্তন উপদেষ্টা ডেভিড মোরেন্সের কেন্দ্রীয় সরকারের রেকর্ড ধ্বংস করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যেতে ফাউচি অন্তত ১১১ বার 'ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট'-এর আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শুনানির আধা ঘণ্টা পার হওয়ার পর, যখন ফাউচির আইনজীবী ডেভিড শার্টলার একটি বিবৃতি পড়ার চেষ্টা করেন। চেয়ারম্যান র‍্যান্ড পল তাকে থামিয়ে দেন এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর ইউএস ক্যাপিটল পুলিশের সাহায্যে তাকে শুনানি কক্ষ থেকে বের করে দেন।   রিপাবলিকান সেনেটররা মহামারী চলাকালীন ফাউচির নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও লকডাউনের তীব্র সমালোচনা করেন। সেনেটর বার্নি মোরেনো মাস্ক ছাড়া ফুটবল খেলা দেখতে যাওয়ায় এক পরিবারের গ্রেপ্তারের ঘটনা উল্লেখ করে ফাউচির চরম সমালোচনা করেন। পাশাপাশি, সেনেটর অ্যাশলি মুডি ফাউচির সদ্য প্রকাশিত ব্যক্তিগত ডায়েরির সূত্র ধরে দাবি করেন যে, ফাউচি প্রকাশ্যে লকডাউনের কথা অস্বীকার করলেও বাস্তবে তিনিই নিউইয়র্কের মেয়র এবং প্রেসিডেন্টকে লকডাউন দিতে প্ররোচিত করেছিলেন। এছাড়াও, সেনেটর জশ হাউলি ফাউচির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মীদের ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থমূল্যের নগদ পুরস্কার সংগ্রহের অবৈধ চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ আনেন।   শুনানির সবচেয়ে অস্বস্তিকর মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন সেনেটর জনি আর্নস্ট অভিযোগ করেন যে, ফাউচি করোনা গবেষণায় ইঁদুরের শরীরে গর্ভপাত হওয়া ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন। আর্নস্ট জানান, গবেষকরা এই ইঁদুরগুলোর নাম দিয়েছিলেন 'বিএলটি-এল', যা মূলত ইঁদুরের ভেতরে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের একটি 'স্যান্ডউইচ' তৈরি করার সমতুল্য একটি অমানবিক প্রক্রিয়া। এই চরম বিতর্কিত অভিযোগের বিষয়েও ড. ফাউচি কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজের নীরবতা বজায় রাখেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৬:৩৫
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক প্যালিসেইডসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভবনে ঢুকে পড়ল ট্রাক, ক্যাবে আটকা চালক

ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক প্যালিসেইডসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভবনে ঢুকে পড়ল ট্রাক, ক্যাবে আটকা চালক

৫ বছর বয়সী ছেলে জাস্টিন ভু

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে পারিবারিক ছুটিতে পেটব্যথা থেকে ধরা পড়ল বিরল রোগ, প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশুর

অভিবাসী ট্রাক ড্রাইভারদের লাইসেন্স বাতিলের পর ট্রাকিং খাতে সামরিক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসী ট্রাক ড্রাইভারদের লাইসেন্স বাতিলের পর ট্রাকিং খাতে সামরিক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

0 Comments