অযোগ্য ৭০ পুলিশ রিক্রুটকে নিয়োগের অভিযোগে নিউইয়র্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি
মানসিক স্বাস্থ্য মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও অন্তত ৭০ জন রিক্রুটকে পুলিশ একাডেমিতে বেআইনিভাবে রেখে দেওয়ার অভিযোগে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তার পদ থেকে নীরবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 'ক্যান্ডিডেট অ্যাসেসমেন্ট ডিভিশন'-এর প্রধান ইন্সপেক্টর টেরেল অ্যান্ডারসনকে এই অভিযোগে গত ১২ মে হাউজিং ইউনিটে বদলি করা হয়।
ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর (IAB) চলমান তদন্তে জানা গেছে, মানসিক পরীক্ষায় ফেল করা ওই অযোগ্য রিক্রুটদের মধ্যে নিউইয়র্ক পুলিশের সাবেক লেফট্যানেন্ট কোয়াথিশা এপসের ভাতিজা এমিলিও অ্যান্ডিনোও রয়েছেন। উল্লেখ্য, কোয়াথিশা এপস সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর 'ওভারটাইমের বিনিময়ে যৌনতা' কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। সূত্র জানায়, এপস ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তার ভাতিজাকে একাডেমিতে টিকিয়ে রাখার জন্য অ্যান্ডারসনকে ফোন করেছিলেন। তবে তদন্তকারীদের কাছে অ্যান্ডারসনের দাবি, পুলিশ বাহিনীতে চরম কর্মী সংকট থাকায় শূন্যস্থান পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপেই তিনি অযোগ্য প্রার্থীদের রেখে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
অ্যাকাডেমিতে অপর এক রিক্রুটকে চড় মারার অভিযোগে গত মাসে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও অ্যান্ডিনো এখনও সেখানে বহাল আছেন। উল্টো তিনি তার ফুফুর ওই কেলেঙ্কারির জেরে বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দাবি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাদের আইনজীবী এরিক স্যান্ডার্স দাবি করেছেন যে, এটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশোধের একটি নজির।
এদিকে, কর্মী সংকটে ধুঁকতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশে ২০০০ সালের ৪০,২০০ জন সদস্য থেকে বর্তমানে সংখ্যাটি ৩৪,৪৭৫-এ নেমে এসেছে। এই সংকট সামাল দিতে এবং আগামী বছরের মধ্যে ৩৫ হাজার পুলিশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ রিক্রুটদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো কিছু মানদণ্ড শিথিল করেছেন। অপরদিকে, কোয়াথিশা এপসকে ওভারটাইমের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক চিফ অফ ডিপার্টমেন্ট জেফরি ম্যাড্রেও বিতর্কের মুখে আকস্মিকভাবে অবসরে গেছেন। সব মিলিয়ে একের পর এক কেলেঙ্কারি ও কর্মী সংকটে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এখন চরম ভাবমূর্তি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফ্রিসকোর এক প্রবীণ নারীর সঙ্গে ব্যাংক জালিয়াতির ভুয়া ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার ডলারের প্রতারণা করা হয়। পরে একই চক্র তাঁর কাছ থেকে আরও ২২ হাজার ডলার নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ব্যাংক ও পুলিশের সহায়তায় প্রতারকদের ফাঁদে ফেলতে সহযোগিতা করেন। পুলিশের দেওয়া নকল টাকা নিতে আসা এক বাহককে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সোনা চুরি চক্রের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই চক্রটি দুই শতাধিক প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে ২৫ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে। পরিচয় প্রকাশ না করা ওই নারী জানান, এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে দাবি করেন, ওহাইওতে কেউ তাঁর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে হাজার হাজার ডলারের শিশুপণ্য কিনেছে। একই সঙ্গে তাঁর নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেগুলো অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তাঁকে জানানো হয়। ফোনকারী নিজেকে ওয়াশিংটনে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রতারণা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। প্রতারক নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন নথি দেখান। ওই নথির মাধ্যমে তাঁকে বোঝানো হয়, তাঁর অর্থ নিরাপদ রাখতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে টাকা তুলে দিতে হবে। প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে ওই নারী প্রথমে ৩০ হাজার ডলার দেন। পরে তাঁকে আরও ২২ হাজার ডলার অন্য একটি ব্যাংক থেকে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় টাকা তোলার সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওই নারীকে সতর্ক করেন। তিনি বুঝতে পারেন, পুরো ঘটনাটিই প্রতারণার অংশ। এরপর তিনি ফ্রিসকো পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পুলিশ তখন ওই নারীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারকদের ধরার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুলিশ ওই নারীকে প্রতারকদের দেওয়ার জন্য নকল টাকা দেয়। নির্ধারিত সময়ে চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক বাহক তাঁর কাছ থেকে টাকার বাক্স নিতে আসে। ওই নারী তাকে বাক্সটি তুলে দেন এবং ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি একটি বড় আন্তর্জাতিক সোনা চুরি চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত প্রবীণ ব্যক্তিদের ফোন করে নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। এরপর তাঁদের ব্যাংক হিসাব জালিয়াতির শিকার হয়েছে বা অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ভয় দেখানো হতো। প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আনতে অথবা সোনা কিনে নির্দিষ্ট বাহকের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত সোনা পরে গলিয়ে গয়না তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। নগদ অর্থের একটি অংশ ডিজিটাল মুদ্রা কেনার কাজে ব্যবহার করা হতো এবং সেই অর্থ বিদেশে পাঠানো হতো। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ এবং মোট চুরির পরিমাণ ২৫ কোটি ডলারের বেশি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত এই চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৩ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সোনা জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে। ট্যারান্ট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফিল সরেলস জানিয়েছেন, এক ভুক্তভোগী তাঁর পুরো জীবনের সঞ্চয় হারানোর পর আত্মহত্যা করেন। চক্রটির তদন্তে ৪০টির বেশি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে ১৮টি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল এবং অভিযুক্তদের ১২ জন এখনো ট্যারান্ট কাউন্টি কারাগারে আটক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়া ৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে ৩৫ বছর বয়সী মুজামিল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি চক্রটির অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তি এবং দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আহমেদ নিউ জার্সি থেকে চক্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং প্রবীণদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ পাচারের জন্য ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ট্যারান্ট কাউন্টিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। একই দিনে গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুজনকে ট্যারান্ট কাউন্টিতে এনে মামলার মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলছে। ট্যারান্ট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফিল সরেলস সতর্ক করে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনো ফোন করে কাউকে নিরাপত্তার নামে সোনা কিনতে, ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলতে বা ডিজিটাল মুদ্রা কিনতে বলবে না। এমন নির্দেশ পেলে ফোন কেটে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ফ্রিসকোর ওই প্রবীণ নারীর সাহস ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের কারণে চক্রটির একজন সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক এই প্রতারণা চক্রের তদন্ত এখনো চলছে এবং এর সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: ফক্স ৪
অনলাইনে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য ও বিস্ফোরক তৈরির ঘটনায় পেনসিলভানিয়ায় তরুণ গ্রেপ্তার
আমেরিকায় গাড়ি চালিয়ে এই ৭ ভুলে বছরে বাড়তে পারে হাজার ডলারের খরচ
নিউইয়র্কে অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্ট লটারির শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর, যেভাবে আবেদন করবেন
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে প্রায় এক বছর ধরে পিছু নেওয়া, হয়রানি ও হুমকির শিকার হওয়ার পর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুর। গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি শপিং প্লাজার বাইরে তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিতের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশের ধাওয়ার সময় হাইওয়ে ৫০ এলাকায় রোহিত নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আদালতের নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শালিনী ও রোহিতের পরিচয় হয়েছিল রোহিতের খাবার সরবরাহের কাজের সূত্রে। শালিনীর কর্মস্থলে খাবার পৌঁছে দিতে যেতেন রোহিত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে শুরু হওয়া তার আচরণ পরে আরও গুরুতর হয়ে ওঠে বলে শালিনীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, রোহিত শালিনীর বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন এবং তার চলাফেরার ওপর নজর রাখতেন বলে অভিযোগ করেন শালিনী। একপর্যায়ে তার গাড়ির নিচে একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ পাওয়া যায়। এটি ব্যবহার করে তার অবস্থান অনুসরণ করা হচ্ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। গাড়ির টায়ারেও হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এসব ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তার জন্য শালিনী আদালতের সুরক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৬ সালের মে মাসে শালিনী রোহিতের বিরুদ্ধে দেওয়ানি হয়রানি প্রতিরোধে সুরক্ষা আদেশ নেন। আবেদনে তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে হয়রানি ও পিছু নেওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং গুরুতর হয়ে উঠেছিল। রোহিত তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেন এবং অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার বাসায় প্রবেশের জন্য অতিরিক্ত চাবি তৈরি করে নেওয়ার অভিযোগও নথিতে রয়েছে। তবে সুরক্ষা আদেশ পাওয়ার পরও অভিযোগিত হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসেও রোহিত ওই আদেশ লঙ্ঘন করে শালিনীর বাড়িতে জিনিসপত্র রেখে গিয়েছিলেন। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হলেও কয়েক দফায় তাকে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই শালিনী নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে নথি ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর স্যাক্রামেন্টোর হাও অ্যাভিনিউ এলাকার একটি শপিং প্লাজার কাছে শালিনীকে লক্ষ্য করে হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের খবর পেয়ে দুপুর ৩টার কিছু আগে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তদন্তকারীদের মতে, রোহিত শালিনীর মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। রোহিত তাকে ধাওয়া করে গুলি করেন। শেরিফের কার্যালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, শালিনী মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে গুলি করা হয়। হামলার পর রোহিত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ডেপুটিরা তাকে শনাক্ত করে হাইওয়ে ৫০ এলাকায় অনুসরণ করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে তার অবস্থান শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করা হয় বলে শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে। পরে পুলিশের সঙ্গে অবস্থান নেওয়ার সময় রোহিত নিজের ওপর গুলি চালান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর রোহিতের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টিও সামনে এসেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের নাগরিক রোহিত ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সীমান্তে তাকে আটক করার পর পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বিভাগটি জানিয়েছে। তবে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি এবং শালিনী হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের আইনগত তদন্তকে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে। শালিনীর মৃত্যুর পর তার পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে পরিশ্রমী, যত্নশীল ও উদার মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি দীর্ঘদিনের হয়রানির অভিযোগের পর ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের সুরক্ষা আদেশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত এখনো চলছে। দীর্ঘদিনের পিছু নেওয়া ও হয়রানির অভিযোগ, সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ৮ সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী হামলার মধ্যকার পুরো ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
২৩ বছর বয়সে জর্জিয়ায় ইতিহাস গড়া তরুণ মেয়রকে ১০ মাসের মধ্যেই পদচ্যুত করল সিটি কাউন্সিল
মর্টগেজের চাপে বিপাকে আমেরিকানরা, সবচেয়ে ঝুঁকিতে মিনেসোটা
ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের হয়রানিতে নীরব থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মাহমুদ খলিল
যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে মঙ্গলবার সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে নজরদারি শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা তার নেতৃত্বের ধরন, এজেন্টদের বিদায়, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, ২০২০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত তদন্ত এবং জেফ্রি এপস্টেইন তদন্তসহ একাধিক বিতর্কিত বিষয় সামনে আনেন। রিপাবলিকানরা অন্যদিকে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে তদন্তের বিষয়গুলোতে জোর দেন। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিটি প্যাটেলের জন্য কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহির আরেকটি পর্ব। সিনেটের সরকারি সূচি অনুযায়ী, এফবিআইয়ের ওপর নজরদারি নিয়ে শুনানিতে প্যাটেলই ছিলেন প্রধান সাক্ষী। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একই কমিটির সামনে হাজির হয়েছিলেন। শুনানির শুরুতেই সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ডিক ডারবিন প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের লাইভ আপডেট অনুযায়ী, ডারবিন প্যাটেলের অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্ব পায়। প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো এফবিআইয়ের ভেতরে কর্মী পরিবর্তন। তার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা ও এজেন্টের পদত্যাগ, বরখাস্ত বা দায়িত্ব পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা জানতে চান, এসব পরিবর্তনের পেছনে পেশাগত প্রয়োজন ছিল, নাকি রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এফবিআইয়ের নিয়োগ নীতিও শুনানির আগে নতুন করে আলোচনায় আসে। সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, কেন সংস্থাটি কিছু আচরণকে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে রাখা থেকে সরে এসেছে। এর মধ্যে চাকরির জায়গা থেকে চুরি, যৌনসেবা ক্রয় এবং পশুর সঙ্গে যৌন আচরণের মতো বিষয়ও রয়েছে বলে সিনেটরদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি অর্থ ও এফবিআইয়ের বিমান ব্যবহারের বিষয়টিও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্যাটেলের ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভ্রমণে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আগে থেকেই তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন সরকারি বিমান ব্যবহারের বিষয়ে হুইসেলব্লোয়ারদের তথ্য তুলে ধরে সরকারি সম্পদের ব্যবহারের ওপর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এফবিআইয়ের তদন্তও শুনানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রয়টার্স জানিয়েছে, রিপাবলিকান সিনেটররা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের করা গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য এবং সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। জেফ্রি এপস্টেইনসংক্রান্ত তদন্ত ও নথি নিয়েও প্যাটেলকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের আগের এক শুনানিতে প্যাটেল বলেছিলেন, এপস্টেইন মামলার প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য যথেষ্টভাবে সংগ্রহ করা হয়নি। তিনি আরও বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনগতভাবে প্রকাশযোগ্য তথ্য কংগ্রেসের কাছে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে, প্যাটেল নিজের নেতৃত্বের পক্ষে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার দায়িত্বকালে সহিংস অপরাধ, মানবপাচার, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং মাদক ও গ্যাংবিরোধী অভিযানে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এফবিআইয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্যাটেল এসব কার্যক্রমকে তার নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। শুনানিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্যাটেলের কথোপকথনও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিনেটর কোরি বুকার প্যাটেলের নেতৃত্ব ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার আনুগত্য নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুকার প্যাটেলকে সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সমর্থন সবসময় স্থায়ী নাও হতে পারে। এদিকে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা এফবিআইয়ের অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সংস্থাটির ভূমিকার ওপর জোর দেন। ফলে শুনানিটি শুরু থেকেই এফবিআইয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের মঞ্চে পরিণত হয়। কাশ প্যাটেলের এই শুনানি এমন সময়ে হলো, যখন এফবিআইয়ের নেতৃত্ব, কর্মী ব্যবস্থাপনা, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। শুনানিতে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব এবং কংগ্রেসের পরবর্তী নজরদারি কার্যক্রম প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে বিতর্ককে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
শিশুদের খাবারের অর্থ আত্মসাত, ফাহাদ নুরকে ধরতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাকারীর শেষকৃত্যের খরচ দিলেন অজ্ঞাত দাতা, চুপ পরিবার