খেলাধুলা

বিশ্বকাপে ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নিষিদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২১:১০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালে প্রায় ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। মূলত সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া, আদালতের নির্দেশ অমান্য করা এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

 

বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করছে। ‘জে’ গ্রুপে লিওনেল স্কালোনির দল প্রথম ম্যাচ খেলবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। মাঠের লড়াইয়ে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি মাঠের বাইরে সমর্থকদের আচরণ ও নিরাপত্তা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে বুয়েনস আইরেস।

 

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েক হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে। তালিকাভুক্তদের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সহিংসতা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

আর্জেন্টিনা সরকারের অবস্থান হলো, যারা নিজেদের সন্তানদের মৌলিক আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তারা দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দলের খেলা দেখতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার নৈতিক অধিকার হারান। বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি এ বিষয়ে বলেন, “যদি কেউ নিজের সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে না পারে, তাহলে তার কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশের অধিকার থাকা উচিত নয়।”

 

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করছে আর্জেন্টিনা। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য হলো আদালতে প্রমাণিত অপরাধী, ভরণপোষণ বকেয়া রাখা ব্যক্তি এবং ক্রীড়া ভেন্যুতে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে স্টেডিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পর থেকে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন ফুটবল ম্যাচে দর্শকদের পরিচয় যাচাইয়ের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩২৮টি ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শকের তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শনাক্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যক্তির একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে সহিংসতা বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো জায়গা নেই।”

 

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রীড়া ভেন্যুগুলোকে আরও নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করতে বিভিন্ন দেশ নতুন নতুন নীতি গ্রহণ করছে। আর্জেন্টিনার এই পদক্ষেপও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। বিশেষ করে ফুটবলকে ঘিরে সহিংসতা, দর্শক বিশৃঙ্খলা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে দেশটির সরকার ক্রমেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে।

 

বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে এবারের বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে খেলা শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে ভাইরাল জাপানের সমর্থকেরা

বিশ্বকাপের মাঠে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। তবে খেলা শেষ হওয়ার পর ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে জাপানি সমর্থকদের একটি পরিচিত ও প্রশংসিত অভ্যাস। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে পড়ে থাকা আবর্জনা নিজেরাই পরিষ্কার করতে দেখা গেছে তাদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্য আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচ শেষে জাপানের সমর্থকদের হাতে দেখা যায় বড় বড় ময়লার ব্যাগ। তারা গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ঘুরে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের মোড়ক এবং অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করেন। অনেকেই নিজেদের আসনের আশপাশের পাশাপাশি অন্য দর্শকদের ফেলে যাওয়া আবর্জনাও তুলে নেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ কাভারেজে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এনএফএল তারকা এবং বর্তমানে সম্প্রচারক জেমিস উইনস্টনকেও কয়েকজন জাপানি সমর্থকের সঙ্গে আবর্জনা সংগ্রহে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো দ্রুতই ব্যাপক সাড়া ফেলে।   জাপানের জাতীয় ফুটবল দল ‘সামুরাই ব্লু’-এর সমর্থকদের এই অভ্যাস নতুন নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছিলেন তারা। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরেও একই আচরণ দেখা গেছে। এবারের বিশ্বকাপেও সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেছেন জাপানি দর্শকেরা।   জাপানের সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও ইতিহাসের অধ্যাপক কোইচি নাকানো বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে জাপানি সমর্থকদের এই আচরণ তাদের সামাজিক ও শিক্ষাগত সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। ছোটবেলা থেকেই তারা শিখে যে কোনো স্থান ব্যবহার করার পর সেটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবস্থায় রেখে যেতে হবে।   ফক্স স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে জাপানি একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদও উল্লেখ করা হয়েছে। “তাতসু তোরি আতো ও নিগোসাজু” নামে পরিচিত এই কথাটির অর্থ হলো, “যেভাবে পেয়েছিলে, সেভাবেই রেখে যাও।” জাপানে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার করার দায়িত্ব পালন করতে শেখানো হয়। অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে জাপানি সমর্থকদের আচরণের পেছনে এই সামাজিক শিক্ষার বড় ভূমিকা রয়েছে।   অন্যদিকে মাঠের খেলাটিও ছিল দারুণ উপভোগ্য। প্রথমার্ধে কোনো দল গোল করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে ম্যাচ। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ভার্জিল ফন ডাইক ও ক্রিসেনসিও সামারভিল দুটি গোল করেন। তবে প্রতিবারই জবাব দেয় জাপান। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে দাইচি কামাদার হেড থেকে পাওয়া গোলে ২-২ সমতা ফেরায় ‘সামুরাই ব্লু’।   শেষ পর্যন্ত উভয় দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে ম্যাচের পর গ্যালারি পরিষ্কার করার দৃশ্য অনেকের কাছেই খেলাটির সবচেয়ে ইতিবাচক মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।   বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে সাধারণত সমর্থকদের আবেগ, উল্লাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি আলোচিত হয়। কিন্তু জাপানি সমর্থকদের এই উদ্যোগ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, ক্রীড়াসুলভ আচরণ শুধু মাঠের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, মাঠের বাইরেও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ব্যবহারকারী তাদের এই উদ্যোগকে অন্য দেশের সমর্থকদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২২:১২
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নিষিদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ

ছবি: কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ে উচ্ছ্বাসে জার্মান ফুটবলাররা

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ব্রাজিলের পর কুরাসাওকেও ‘সেভেন আপ’ খাওয়াল জার্মানি

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মেসি, ইতিহাস গড়ার সামনে আর্জেন্টাইন মহাতারকা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ভাগ্য বদলাতে স্ত্রীর পায়জামা নিয়ে এলেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের নানা গল্পও। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সৌভাগ্যের প্রতীক কিংবা অদ্ভুত অভ্যাস প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে। এবারের বিশ্বকাপেও তেমনই এক ব্যতিক্রমী কারণে সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন স্পেনের ডিফেন্ডার Marc Cucurella।    স্প্যানিশ এই লেফট-ব্যাক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে এসে তিনি নিজের লাগেজে স্ত্রীর একটি পায়জামা সঙ্গে করে এনেছেন। তার বিশ্বাস, এই পায়জামাটি তার জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করে।   বর্তমানে Spain national football team-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কুকুরেয়া ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও একই পায়জামা সঙ্গে নিয়েছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে স্পেন শিরোপা জিতেছিল। এরপর থেকেই বিষয়টি তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করে। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুকুরেয়া বলেন, তিনি বিশ্বকাপে কয়েকটি ব্যক্তিগত জিনিস সঙ্গে এনেছেন, যেগুলো তাকে মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করে।   তার ভাষায়, “আমি কিছু বিশেষ জিনিস সঙ্গে এনেছি। আমার সন্তানরা আমাকে যে কয়েকটি চাবির রিং বানিয়ে দিয়েছে, সেগুলো রয়েছে। এছাড়া আমার স্ত্রীর একটি পায়জামাও এনেছি, যা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সময় আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। এবারও সেটি স্যুটকেসে রেখেছি, যদি আবারও সৌভাগ্য বয়ে আনে।”   ফুটবল ইতিহাসে এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। বিশ্বের অনেক তারকা খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে নিজেদের সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে নির্দিষ্ট পোশাক, তাবিজ, পারিবারিক উপহার কিংবা ব্যক্তিগত স্মারক সঙ্গে রাখেন। অনেকের কাছে এগুলো কুসংস্কার মনে হলেও খেলোয়াড়দের মতে, এসব বিষয় মানসিক স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।   বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে মানসিক প্রস্তুতি শারীরিক প্রস্তুতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনেক ফুটবলারই নিজের পরিচিত পরিবেশ বা প্রিয় স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত কিছু জিনিস কাছে রাখার চেষ্টা করেন। কুকুরেয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই। তিনি এটিকে কোনো রহস্যময় সৌভাগ্যের উপাদান হিসেবে নয়, বরং পরিবারের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ এবং আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসেবে দেখছেন।   ২০২৪ ইউরোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম ভরসার নাম কুকুরেয়া। এখন দেখার বিষয়, তার ‘সৌভাগ্যের সঙ্গী’ পায়জামা সত্যিই স্পেনকে আরেকটি বড় শিরোপার পথে এগিয়ে নিতে পারে কি না।   বিশ্বকাপের মঞ্চে ট্রফি জয়ের লড়াই যেমন চলবে, তেমনি মাঠের বাইরের এমন মানবিক ও ব্যতিক্রমী গল্পও সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ২২:২৬
ছবি: সংগৃহীত

শুরুতেই হোঁচট, হেক্সা মিশন সফল করতে পারবে ব্রাজিল?

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ এলেই কেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা জ্বরে কাঁপে বাংলাদেশ, কখনো কখনো কেন তৈরি হয় সংঘাত?

ছবি: সংগৃহীত

ভিনিসিউসের ঝলকে হার এড়াল ব্রাজিল, মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র

ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের প্রথমার্ধ ১-১ গোলে সমতা

বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নেমেই শুরুতে ধাক্কা খায় ব্রাজিল। তবে পিছিয়ে পড়ার সেই প্রাথমিক ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোলে ১-১ সমতায় থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।   দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমারকে ছাড়া খেলতে নামা ব্রাজিল ম্যাচের শুরু থেকেই কিছুটা ছন্নছাড়া ছিল। অন্যদিকে, প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই দারুণ গোছানো ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো।   ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল তারা। ডান প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়ে যান তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। তার নেওয়া শট শেষ মুহূর্তে সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস আটকে দিলে সে যাত্রায় রক্ষা পায় ব্রাজিল।   পরবর্তীতে ব্রাজিলও ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ইগর থিয়াগো দারুণ সুযোগ পেলেও বলের সঙ্গে সঠিক সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন। ব্রাজিল যখন কেবল গুছিয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ২১তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের দারুণ এক পাসে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি।   তবে এই লিড খুব বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি মরক্কো। গোল হজমের মাত্র ১১ মিনিট পরই ব্রাজিলকে জাদুকরী এক গোলে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।   ৩২তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির এক শটে জাল কাঁপান তিনি। দৃষ্টিনন্দন এই গোলের মাধ্যমেই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫০তম গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধের এই সমতা দ্বিতীয়ার্ধের লড়াইকে যে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলবে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কোনো সন্দেহ নেই।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১৯:৫
সবুজ-হলুদ জার্সিতে নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মরক্কো ম্যাচের আগে ব্রাজিল সমর্থকদের দখলে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার

ছবিঃ এ পি

লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: দীপু মালাকার

ফেসবুকে বিশ্বকাপ উন্মাদনা: ‘মৌসুমি ফ্যান’ বনাম ‘আসল ফ্যান’ বিতর্কে জমজমাট সামাজিক মাধ্যম

0 Comments