দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে নিউইয়র্ক নিক্স। তবে দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মিডটাউন ম্যানহাটনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। হাজার হাজার সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপন একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। এ সময় বিশ্বকাপের দর্শক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি শাটল বাসে আগুন দেওয়া হয়, ভাঙচুর করা হয় আরও কয়েকটি বাস এবং গোলাগুলির ঘটনায় এক কিশোর আহত হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে এনবিএ ফাইনালের পঞ্চম ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে নিউইয়র্ক নিক্স। ১৯৭৩ সালের পর এটি দলটির প্রথম এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়ায় শহরজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
খেলা শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন বার, রেস্তোরাঁ এবং উন্মুক্ত দর্শনস্থল থেকে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। "নিক্স ইন ফাইভ" স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ম্যানহাটনের বিভিন্ন এলাকা। অনেকেই আতশবাজি ফোটান, ধোঁয়া তৈরির ফ্লেয়ার ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করেন, ফলে কয়েকটি এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একই সময়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ শেষে ফুটবল সমর্থকদের বহনকারী একাধিক শাটল বাস টাইমস স্কোয়ার এলাকায় পৌঁছায়। ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচ ড্র হওয়ার পর দর্শকদের বহনের জন্য প্রায় ১৫টি বাসের একটি বহর শহরের কেন্দ্রস্থলে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্কেটবল ও ফুটবল সমর্থকদের একটি উচ্ছৃঙ্খল অংশ বাসগুলোর চারপাশে জড়ো হয়। কেউ কেউ বাসের ছাদে উঠে পড়ে, আবার কেউ চালকের আসনে বসার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ফুটবল সমর্থকদের পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি হলুদ স্কুল বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে বাসটিকে আগুনে পুড়তে দেখা গেছে। আগুন লাগার ঘটনায় বাসটি প্রায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি আরও অন্তত তিনটি শাটল বাস ভাঙচুর ও অন্যান্য ক্ষতির মুখে পড়ে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন একটি বাসের ছাদে কয়েকজন ব্রাজিলিয়ান সমর্থক জাতীয় পতাকা উড়াতে শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরই বিশৃঙ্খলার মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে অন্তত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং গোলাগুলির উৎস ও দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা বিশৃঙ্খলার পর নিউইয়র্ক পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেয়। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। নিক্সের হোম ভেন্যু ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশের এলাকায় ঘোড়সওয়ার পুলিশও মোতায়েন করা হয়। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল সীমিত করা হয় এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
রবিবার ভোরের দিকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্ক নিক্সের ৫৩ বছর পর শিরোপা জয়ের আবেগ শহরের ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে বিরাট উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল। তবে বিপুল জনসমাগম এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টের সমর্থকদের একসঙ্গে উপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশ বলছে, অধিকাংশ সমর্থক শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে অংশ নিলেও একটি ছোট অংশের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এবং সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য দেশে যাওয়ার সবচেয়ে বড় ব্যয়ের একটি হলো বিমান ভাড়া। বিশেষ করে ঈদ, সামার ভ্যাকেশন, শীতকালীন ছুটি কিংবা বছরের শেষভাগে বাংলাদেশমুখী যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে ভ্রমণ খাতের অভিজ্ঞরা বলছেন, কিছু কার্যকর কৌশল জানা থাকলে একই যাত্রায় কয়েকশ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। বর্তমানে অধিকাংশ যাত্রী সরাসরি একটি শহর থেকে ঢাকা পর্যন্ত টিকিট খোঁজেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ভ্রমণকারীরা বলছেন, অনুসন্ধানের ধরন পরিবর্তন করলেই অনেক সময় বড় ধরনের মূল্য পার্থক্য দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো একাধিক শহরভিত্তিক বা মাল্টি-সিটি অনুসন্ধান। অনেক ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা এবং ফেরার সময় ভিন্ন কোনো মার্কিন শহরে অবতরণের বিকল্প বেছে নিলে প্রচলিত যাতায়াত টিকিটের তুলনায় কম ভাড়া পাওয়া যায়। ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব ফ্লাইটে অপেক্ষার সময় বা ট্রানজিট দীর্ঘ হয়, সেগুলোর ভাড়া সাধারণত তুলনামূলক কম থাকে। অধিকাংশ যাত্রী দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চান বলে স্বল্প ট্রানজিটের ফ্লাইটের চাহিদা বেশি থাকে। ফলে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি ট্রানজিটযুক্ত কিছু ফ্লাইটে উল্লেখযোগ্য মূল্যছাড় দেখা যায়। বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করাও অনেকের জন্য লাভজনক হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, আটলান্টা বা অন্য কোনো শহর থেকে সরাসরি বাংলাদেশগামী টিকিটের তুলনায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি কিংবা অরল্যান্ডো থেকে একই সময়ে কম ভাড়ার টিকিট পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী প্রথমে স্বল্পমূল্যের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে অন্য শহরে গিয়ে সেখান থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করে খরচ কমিয়ে থাকেন। জর্জিয়ার আটলান্টাভিত্তিক বাংলা ট্রাভেলের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ মামুন বলেন, ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নমনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট একটি দিনের পরিবর্তে পুরো সপ্তাহ বা মাসজুড়ে ভাড়ার তুলনা করলে দেখা যায়, মাত্র এক বা দুই দিনের ব্যবধানে টিকিটের দামে কয়েকশ ডলারের পার্থক্য হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই সুবিধা সহজেই পাওয়া যায়। অনেক অভিজ্ঞ যাত্রী ‘ওপেন-জ’ পদ্ধতিও ব্যবহার করেন। অর্থাৎ এক শহরে পৌঁছে অন্য শহর থেকে ফেরার টিকিট কাটা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেউ ঢাকায় পৌঁছে ফেরার যাত্রা চট্টগ্রাম বা সিলেট থেকে শুরু করলে কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া কম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আরেকটি জনপ্রিয় কৌশল হলো যাত্রাকে দুই বা ততোধিক অংশে ভাগ করা। উদাহরণস্বরূপ, আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত একটি টিকিট এবং নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা পর্যন্ত আলাদা আরেকটি টিকিট কেনা। অনেক সময় এই পদ্ধতিতে মোট ব্যয় কম হয়। তবে ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ট্রানজিট সময় রাখার পরামর্শ দেন, যাতে একটি ফ্লাইট বিলম্বিত হলেও পরবর্তী যাত্রা ব্যাহত না হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা নীতির আওতায় অনেক এয়ারলাইন্স ও বুকিং প্ল্যাটফর্ম টিকিট কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনা খরচে বাতিল বা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। ফলে যাত্রীরা ভালো ভাড়া পেলে দ্রুত বুকিং করে পরে প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, গভীর রাত বা ভোরবেলার ফ্লাইটেও অনেক সময় তুলনামূলক কম ভাড়া দেখা যায়। একই সঙ্গে ভাড়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রাখলে মূল্য কমার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে প্রচলিত কিছু তথাকথিত ‘গোপন কৌশল’ সব সময় নিরাপদ বা গ্রহণযোগ্য নয়। বিমান সংস্থার নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে যাত্রা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সব সময় বৈধ ও স্বীকৃত উপায়ে টিকিট কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণ খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম পরিকল্পনা, বিভিন্ন শহর ও বিমানবন্দরের ভাড়া তুলনা, নমনীয় তারিখ নির্বাচন, দীর্ঘ ট্রানজিট গ্রহণের মানসিকতা এবং একাধিক রুট যাচাই—এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি পরিবারের বিমান ভাড়ায় কয়েকশ থেকে এক হাজার ডলারেরও বেশি সাশ্রয় হওয়া অস্বাভাবিক নয়। নুরুল্লাহ সাঈদ আটলান্টা, জর্জিয়া. যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আমাজনের এক ডেলিভারি কর্মীর বিরুদ্ধে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার সময় এক গ্রাহকের পোষা বিড়াল চুরির অদ্ভুত অভিযোগ উঠেছে। দরজার ক্যামেরার (ডোরবেল ক্যামেরা) একটি ফুটেজে দেখা যায়, বেকার্সফিল্ডের একটি বাড়ির দরজায় পার্সেল রাখার পর সেখানকার একটি বিড়াল তুলে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ওই কর্মী। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন জশুয়া গঞ্জালেস নামের ওই ব্যক্তি। তবে তাঁর দাবি, 'জুনি' হিসেবে পরিচিত ওই বিড়ালটি তিনি চুরি করেননি, বরং এটি তাঁরই হারিয়ে যাওয়া পোষ্য। পার্সেল দিতে গিয়ে হঠাৎ নিজের বিড়ালটিকে চিনতে পেরেই তিনি সেটি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। জশুয়া গঞ্জালেস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর নিয়মিত রুটেই কাজ করছিলেন। পার্সেল রাখার পর একটি বিড়ালের ডাক শুনে তিনি নিচে তাকান এবং সঙ্গে সঙ্গেই এটিকে চিনতে পারেন। কপাল, চোখ এবং শরীরের গঠন দেখে নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি বিড়ালটিকে তুলে নিয়ে চলে যান। নিজের দাবির স্বপক্ষে তিনি প্রমাণ হিসেবে কিছু কাগজপত্রও উপস্থাপন করেছেন, যেখানে দেখা যায় ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর তিনি তাঁর ৭ বছর বয়সী মেয়ের জন্য বিড়ালটিকে দত্তক নিয়েছিলেন। তবে এই ঘটনার জেরে আমাজন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। আমাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই কর্মীকে আর তাদের হয়ে পার্সেল ডেলিভারি করতে দেওয়া হবে না এবং তারা বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে, ওই বাড়ির বাসিন্দা ব্রেন্ডা উইলসন জশুয়ার এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, জুনি নামের ওই বিড়ালটি গত পাঁচ বছর ধরেই তাঁর কাছে রয়েছে। ব্রেন্ডা আরও জানান, জশুয়া একসময় তাঁদের পাড়াতেই বসবাস করতেন। জশুয়া অবশ্য স্বীকার করেছেন যে সিসিটিভি ভিডিওটি দেখে তাঁকে দোষী মনে হতে পারে, কিন্তু তিনি স্রেফ নিজের হারিয়ে যাওয়া বিড়ালটিকেই নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিড়ালটি বর্তমানে তাঁর বাড়িতেই আনন্দে ও নিরাপদে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় জশুয়ার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে স্থানীয় শেরিফ অফিস জানিয়েছে, মামলাটি এখনো উন্মুক্ত রয়েছে এবং তদন্তকারীরা বিড়ালের প্রকৃত মালিকানার এই দ্বন্দ্বটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যানের এক সাবেক কর্মীর করা চাঞ্চল্যকর যৌন হয়রানির মামলা ভেস্তে যাওয়ার পথে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। চিরায়ু রানা নামের ওই ব্যাংকার তার নারী বস লর্না হাজডিনির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ‘যৌনদাস’ বা সেক্স স্লেভ বানানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। তবে সম্প্রতি এই হাই-প্রোফাইল মামলার গতিপ্রকৃতি এবং বাদীর আইনজীবীদের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলাটি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ছে। ম্যানহাটনের আদালতে চলা এই মামলাটিকে ‘আবেগজনিত হতাশা’ এবং একটি ভিত্তিহীন অভিযোগের দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কর্মক্ষেত্র বিষয়ক আইনজীবী নিকোল ব্রেনেকি। মামলাটির দুর্বলতার অন্যতম বড় লক্ষণ হলো, রানার নতুন পাঁচ সদস্যের আইনজীবী দল গত সপ্তাহে রাজ্য আদালত বা স্টেট কোর্ট থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে ফেডারেল কোর্টে নেওয়ার আবেদন করেছে। প্রকাশ্যে তারা নতুন প্রমাণ ও ফেডারেল আইনের কথা বললেও, বিশেষজ্ঞরা এটিকে স্রেফ ‘ফোরাম-শপিং’ বা নিজেদের সুবিধামতো বিচারক খোঁজার কৌশল হিসেবেই দেখছেন। স্টেট কোর্টের বিচারক ডাকোটা রামসিউর অত্যন্ত কড়া ধাচের মানুষ এবং তিনি ইতিমধ্যে মামলাটির যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এটি আদালতের বাইরে মীমাংসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মূলত এই বিচারকের হাত থেকে বাঁচতেই ফেডারেল কোর্টে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আরেক আইনজীবী ডেভিড রিং সতর্ক করে বলেছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে ফেডারেল কোর্টে গেলে রানাকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, কারণ সেখানকার বিচারকরা এ ধরনের অসদাচরণ একেবারেই বরদাশত করেন না। মামলাটি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন রানার প্রথম আইনজীবী ড্যানিয়েল কায়সার বাদীর নাম গোপন রাখার একটি শুনানির ঠিক আগমুহূর্তে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইনজীবী সুসান ক্রুমিলার জানিয়েছেন, এত সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও রানার আইনজীবীরা এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো শক্ত প্রমাণ—যেমন টেক্সট মেসেজ বা ইমেইল—উপস্থাপন করতে পারেননি। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে লর্না হাজডিনি উল্টো রানার বিরুদ্ধে মানহানির পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। তার দাবি, এই ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো ধরনের ডিজিটাল বা লিখিত প্রমাণ ছাড়া চিরায়ু রানা আদৌ এই মামলায় টিকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।