জি৭ সম্মেলনকে ঘিরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত একটি বড় বিক্ষোভ রোববার সহিংস রূপ নেয়। প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া মিছিলে অংশ নেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি টেসলা গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জেনেভার কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধনী রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণবিরোধী আন্দোলনের অংশ ছিল। তবে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, জেনেভার আকাশে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের একটি কেন্দ্রীয় বাসস্টপের পাশে পার্ক করে রাখা একটি টেসলা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া কয়েকটি ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবনের জানালাও ভাঙচুর করা হয়।
আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-ব্যাঁ শহরে জি৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লেক জেনেভার তীরবর্তী ওই শহরটি সুইজারল্যান্ড সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থিত। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্দোলনকারী গোষ্ঠী কর্মসূচি দিয়ে আসছিল।
আয়োজকদের দাবি, জি৭ বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর একটি ক্লাব, যেখানে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর সুবিধাকে প্রাধান্য দেয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই বিশ্বায়ন, সম্পদের অসম বণ্টন, জলবায়ু সংকট, লিঙ্গ বৈষম্য এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী পিপা সজি বলেন, “এটি ধনীদের একটি বৈঠক, যা আবারও দেখায় কীভাবে ধনীরা আরও ধনী হয়ে ওঠে, আর দরিদ্ররা পিছিয়ে পড়ে।”
বিক্ষোভের সময় টেসলা গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কারণ এর কয়েকদিন আগেই টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে আলোচনায় আসেন। বিশ্লেষকদের মতে, টেসলায় আগুন দেওয়ার ঘটনাকে অনেকেই চরম সম্পদ বৈষম্য ও করপোরেট ক্ষমতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।
তবে আন্দোলনের আয়োজকরা দাবি করেছেন, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী শান্তিপূর্ণ ছিলেন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। একই ধরনের চিত্র অতীতের বিভিন্ন জি৭ সম্মেলন ঘিরেও দেখা গেছে, যেখানে বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশাপাশি ছোট কিছু গোষ্ঠী সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।
এদিকে সম্মেলনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড। ফরাসি সরকার জানিয়েছে, জি৭ সম্মেলনের নিরাপত্তায় ১৩ হাজারের বেশি পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত শত শত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এবারের জি৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপানের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ এখনো গ্রেপ্তার বা হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে, সম্মেলন চলাকালেও আরও বিক্ষোভ কর্মসূচি হতে পারে। তবুও নির্ধারিত সময়েই জি৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মাসের পর মাস ধরে চলা সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে শান্তিচুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধ এবং সামরিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে দেওয়া এক ঘোষণায় শেহবাজ শরিফ বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। চুক্তির আওতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করা, উত্তেজনা কমানো এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করে আসছিল। চুক্তির খবর প্রকাশের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ট্রাম্প তার বার্তায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশাও প্রকাশ করেন। ইরানের পক্ষ থেকেও সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এসব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সেগুলো আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় নির্ধারিত হতে পারে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল এবং তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। শান্তিচুক্তির ঘোষণার আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই হামলার সমালোচনা করে বলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, তখন এমন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারাও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং চলমান আলোচনার ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদিও চুক্তি সইয়ের আগে এবং পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এখনও বেশ কিছু জটিল ইস্যু রয়ে গেছে, তবুও উভয় পক্ষের প্রকাশ্য সমর্থন এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অর্জিত এই সমঝোতা অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
টানা তিনটি সফল উড্ডয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের বহুমুখী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (বিএমডি) অভাবনীয় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, গত ১০ ও ১১ জুন এই যুগান্তকারী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই গুটিকয়েক শক্তিশালী দেশের কাতারে যুক্ত হলো, যাদের কাছে শত্রুর দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই রুখে দেওয়ার মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) এই অসামান্য অর্জন দেশটির সার্বিক সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ধারাবাহিক সামরিক পরীক্ষার প্রধান লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য শত্রুর বহুমুখী ও জটিল হুমকি থেকে দেশকে নিশ্ছিদ্র পাহারায় রাখা। পরপর তিনটি ফ্লাইট টেস্টের মাধ্যমে মূলত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ঠেকানোর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং মাঝারিপাল্লার জাহাজ বিধ্বংসী সক্ষমতা গভীরভাবে যাচাই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটির পর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটির কার্যকারিতা ও নিখুঁত নিশানার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করা হয়। বিশেষত, এই পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো মাঝারিপাল্লার নৌবাহিনীর জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়। ফলস্বরূপ, ভারত এখন স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি সমুদ্রপথেও যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ বলয় গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ সক্ষম। নতুন উদ্ভাবিত এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দুই ধরনের বিশেষায়িত ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এই শক্তিশালী প্রযুক্তি ২,০০০ কিলোমিটার থেকে শুরু করে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইআরবিএম) নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বায়ুমণ্ডলের ভেতরে এবং বাইরে—উভয় স্থানেই ধেয়ে আসা লক্ষ্যবস্তুকে প্রতিহত করার সুযোগ দেয়। ফলে মহাকাশ থেকে আসা যেকোনো ধরনের আকস্মিক হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের আকাশসীমায় একটি অত্যন্ত নমনীয় ও সুদৃঢ় সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়েছে।
ইরানের বন্দর ও তেল রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না—এ বিষয়ে ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ওইদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ফোনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেন। আলাপচারিতায় হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের তেল অবৈধভাবে পরিবহন বা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও সতর্ক করেন রুবিও। তবে এই অবস্থানের মধ্যেই সাম্প্রতিক এক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জয়শঙ্কর লিখেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ওই হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের প্রাণঘাতী আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিষয়টি সরাসরি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও অবহিত করেছেন। এদিকে সরকারি সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, ওই ঘটনার প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত সরকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন কূটনীতিককে তলব করা হলো, যা দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানের তেল পরিবহনের অভিযোগে তারা তিনটি জাহাজে অভিযান চালিয়েছে। এতে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এম/টি জলবীর’, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এম/টি ম্যারিভেক্স’ এবং ‘এম/টি সেত্তেবেলো’ নামের ট্যাংকারগুলো অচল করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখার প্রশ্নে হরমুজ প্রণালি এখন নতুন করে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।