খেলাধুলা

আমেরিকায় ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে বকশিশ থেকেই দিনে ১ হাজার ডলার আয় করছেন এক তরুণী

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১১:১৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেশটির সেবা খাতের কর্মীদের জন্য এক অবিশ্বাস্য আর্থিক আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে। দেশটির বোস্টন শহরের এক নারী বারটেন্ডার মাত্র একটি দিনের শিফটে কাজ করে প্রায় ১,০০০ মার্কিন ডলার বকশিশ বা টিপস পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় এটি অনেক গুণ বেশি অর্থ। আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্ত ও দর্শকদের ভিড়ের কারণে বারের সাধারণ একটি দিনের শিফট কীভাবে বিপুল আয়ের সুযোগে পরিণত হয়েছে, সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

 

ক্যালে ম্যাটুলোনিস নামের ওই তরুণী বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার আন্তর্জাতিক দর্শক এখন বোস্টন শহরে অবস্থান করছেন। ঘটনার দিন সকালের শেষভাগ থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত প্রায় পৌনে সাত ঘণ্টা তিনি একটানা কাজ করেন। ক্যালে ম্যাটুলোনিস সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে বলেন, "আজ কাজের চাপ এত বেশি ছিল যে আমি পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এটি ছিল অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের একটি দিন, তবে একই সাথে এটি বেশ মজাদারও ছিল।"

 

একটি মাত্র কর্মদিবসে বকশিশ বা টিপস থেকে এত বিশাল পরিমাণ টাকা আয় করাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন ক্যালে। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, আমি নিশ্চিতভাবেই অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি টাকা আয় করেছি। দিনে এক হাজার ডলার আয় করা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।" বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে বারে বেচাকেনা এবং গ্রাহকদের ভিড় কিছুটা বাড়বে বলে তিনি আগে থেকে ধারণা করলেও, আয়ের পরিমাণ যে এতটা আকাশচুম্বী হবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি। এই অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি তাকে বেশ চমকে দিয়েছে।

 

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন আয়োজক শহরগুলোর বার, রেস্তোরাঁ এবং হোটেলগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আনাগোনা এবং ভিড় অনেক বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা দেখা, বন্ধুদের বড় দল নিয়ে টেবিল বুকিং করা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে খরচ করার প্রবণতার কারণেই মূলত বারের কর্মীরা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে বকশিশ বা টিপস পেয়ে থাকেন। ক্যালের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটেছে, যার বড় একটি অংশ এসেছে স্কটল্যান্ডের ফুটবল ভক্তদের কাছ থেকে।

 

চলতি সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের বিপুল সংখ্যক ফুটবল সমর্থক বোস্টন শহরজুড়ে অবস্থান করছেন। ক্যালের বারে আসা গ্রাহকদের একটি বড় অংশই ছিল স্কটিশ নাগরিক। ক্যালে জানান, সেই নির্দিষ্ট দিনে তার মোট আয়ের অন্তত অর্ধেক টাকাই এসেছে এই স্কটিশ সমর্থকদের পকেট থেকে। সাধারণত যেসব দেশে বকশিশ বা টিপস দেওয়ার নিয়ম নেই, সেসব দেশের নাগরিকদের সুবিধার্থে বিশ্বকাপের এই ব্যস্ত সময়ে বিলের সাথে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ বা গ্র্যাচুইটি যোগ করার অনুমতি দিয়েছিল বারের মালিকপক্ষ। তবে স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা সেই নির্ধারিত বিলের বাইরেও অত্যন্ত উদারভাবে আলাদা করে ক্যালেকে মোটা অঙ্কের বকশিশ দিয়েছেন।

 

আন্তর্জাতিক এই ফুটবল ভক্তদের উদারতা ও চমৎকার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ক্যালে ম্যাটুলোনিস এখন তাদের দেশের ফুটবল দলের সমর্থক হয়ে গেছেন। তিনি আনন্দের সাথে জানান, যেহেতু ওই দিন আগত গ্রাহকদের বেশিরভাগই স্কটল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন এবং তারা তাকে মন খুলে বকশিশ দিয়েছেন, তাই তিনি এখন মনেপ্রাণে ফুটবল মাঠে স্কটল্যান্ড দলের জয় কামনা করছেন। ফুটবল বিশ্বকাপ আমেরিকার সাধারণ চাকরিজীবী ও সেবা খাতের কর্মীদের জীবনে যে এমন দারুণ অর্থনৈতিক জোয়ার নিয়ে আসবে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে বকশিশ থেকেই দিনে ১ হাজার ডলার আয় করছেন এক তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেশটির সেবা খাতের কর্মীদের জন্য এক অবিশ্বাস্য আর্থিক আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে। দেশটির বোস্টন শহরের এক নারী বারটেন্ডার মাত্র একটি দিনের শিফটে কাজ করে প্রায় ১,০০০ মার্কিন ডলার বকশিশ বা টিপস পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় এটি অনেক গুণ বেশি অর্থ। আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্ত ও দর্শকদের ভিড়ের কারণে বারের সাধারণ একটি দিনের শিফট কীভাবে বিপুল আয়ের সুযোগে পরিণত হয়েছে, সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।   ক্যালে ম্যাটুলোনিস নামের ওই তরুণী বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার আন্তর্জাতিক দর্শক এখন বোস্টন শহরে অবস্থান করছেন। ঘটনার দিন সকালের শেষভাগ থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত প্রায় পৌনে সাত ঘণ্টা তিনি একটানা কাজ করেন। ক্যালে ম্যাটুলোনিস সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে বলেন, "আজ কাজের চাপ এত বেশি ছিল যে আমি পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এটি ছিল অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের একটি দিন, তবে একই সাথে এটি বেশ মজাদারও ছিল।"   একটি মাত্র কর্মদিবসে বকশিশ বা টিপস থেকে এত বিশাল পরিমাণ টাকা আয় করাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন ক্যালে। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, আমি নিশ্চিতভাবেই অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি টাকা আয় করেছি। দিনে এক হাজার ডলার আয় করা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।" বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে বারে বেচাকেনা এবং গ্রাহকদের ভিড় কিছুটা বাড়বে বলে তিনি আগে থেকে ধারণা করলেও, আয়ের পরিমাণ যে এতটা আকাশচুম্বী হবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি। এই অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি তাকে বেশ চমকে দিয়েছে।   খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন আয়োজক শহরগুলোর বার, রেস্তোরাঁ এবং হোটেলগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আনাগোনা এবং ভিড় অনেক বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা দেখা, বন্ধুদের বড় দল নিয়ে টেবিল বুকিং করা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে খরচ করার প্রবণতার কারণেই মূলত বারের কর্মীরা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে বকশিশ বা টিপস পেয়ে থাকেন। ক্যালের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটেছে, যার বড় একটি অংশ এসেছে স্কটল্যান্ডের ফুটবল ভক্তদের কাছ থেকে।   চলতি সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের বিপুল সংখ্যক ফুটবল সমর্থক বোস্টন শহরজুড়ে অবস্থান করছেন। ক্যালের বারে আসা গ্রাহকদের একটি বড় অংশই ছিল স্কটিশ নাগরিক। ক্যালে জানান, সেই নির্দিষ্ট দিনে তার মোট আয়ের অন্তত অর্ধেক টাকাই এসেছে এই স্কটিশ সমর্থকদের পকেট থেকে। সাধারণত যেসব দেশে বকশিশ বা টিপস দেওয়ার নিয়ম নেই, সেসব দেশের নাগরিকদের সুবিধার্থে বিশ্বকাপের এই ব্যস্ত সময়ে বিলের সাথে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ বা গ্র্যাচুইটি যোগ করার অনুমতি দিয়েছিল বারের মালিকপক্ষ। তবে স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা সেই নির্ধারিত বিলের বাইরেও অত্যন্ত উদারভাবে আলাদা করে ক্যালেকে মোটা অঙ্কের বকশিশ দিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক এই ফুটবল ভক্তদের উদারতা ও চমৎকার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ক্যালে ম্যাটুলোনিস এখন তাদের দেশের ফুটবল দলের সমর্থক হয়ে গেছেন। তিনি আনন্দের সাথে জানান, যেহেতু ওই দিন আগত গ্রাহকদের বেশিরভাগই স্কটল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন এবং তারা তাকে মন খুলে বকশিশ দিয়েছেন, তাই তিনি এখন মনেপ্রাণে ফুটবল মাঠে স্কটল্যান্ড দলের জয় কামনা করছেন। ফুটবল বিশ্বকাপ আমেরিকার সাধারণ চাকরিজীবী ও সেবা খাতের কর্মীদের জীবনে যে এমন দারুণ অর্থনৈতিক জোয়ার নিয়ে আসবে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১১:১৭
ছবি: সংগৃহীত

সমালোচনার জবাবে যা বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচসেরার পুরস্কারে বিয়ার পেয়ে ভিনিসিয়ুস বললেন, ‘আমরা ভাত খাই’

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রথমার্ধের দুই গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
ছেলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের পথে ভোজিনহার মা

বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে কেপ ভার্দেকে ঐতিহাসিক ড্র এনে দেওয়া গোলরক্ষক ভোজিনহার আবেগঘন এক আক্ষেপের অবসান হতে যাচ্ছে। ছেলের বিশ্বকাপের খেলা সরাসরি মাঠে বসে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন তার মা আনা কান্দিদা এভোরা।   স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আলোচনায় আসেন ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সে সময় তিনি জানান, অর্থসংকট ও ভিসা জটিলতার কারণে তার মা গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণের মুহূর্তটি দেখতে পারেননি।   ভোজিনহার সেই অশ্রুসিক্ত বক্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার মায়ের অনুপস্থিতির গল্প ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় স্পর্শ করে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে দ্বীপের সেসারিয়া এভোরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন আনা কান্দিদা এভোরা।   যাত্রার আগে নাতি মারভিন জুনিয়র ও নাতনি লাইস সোফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরে তোলা তার কয়েকটি আবেগঘন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ছবিগুলোতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আনন্দঘন মুহূর্ত ফুটে উঠেছে।   এর আগে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভোজিনহা বলেছিলেন, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলেও মায়ের অনুপস্থিতি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তটি তিনি মায়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান এই গোলরক্ষক।   এবার সেই আক্ষেপ দূর হতে যাচ্ছে। গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন আনা কান্দিদা এভোরা, যা ভোজিনহা ও তার পরিবারের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ৯:৫
মরক্কোর হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন এই ডিফেন্ডার। এরই মাঝে এই খবর পেলেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ মামলায় বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন মরক্কোর ফুটবলার আশরাফ হাকিমি

ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকান সস বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ধুম, বিমানবন্দরে সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

গোলরক্ষকের মস্ত ভুলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে মেক্সিকো

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে খেলা দেখতে যাওয়ার পথে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের গাড়িতে গুলি, নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে ম্যাচ দেখতে যাওয়ার পথে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকদের বহনকারী একটি উবার গাড়ি লক্ষ্য করে চলন্ত গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে এক বন্দুকধারী। এই ভয়াবহ ধারাবাহিক গুলিবর্ষণের (সিরিয়াল শ্যুটিং) ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।   স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে শহরের প্রায় ৫ মাইল এলাকা জুড়ে এই তাণ্ডব চালানো হয়। ঘটনার সময় দুই আর্জেন্টিনা সমর্থক উবারে করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দেখার জন্য অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন। স্টেডিয়াম থেকে মাত্র ৪ মাইল দূরে ইন্টারস্টেট মহাসড়কে আচমকা একটি গাড়ি তাদের পাশে এসে দুটি গুলি ছোড়ে। এতে উবার চালকের পায়ে গুলি লাগে। পরে পুলিশ ওই সমর্থকদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে জবানবন্দি নেয় এবং নিজেদের টহল গাড়িতে করে স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত চালক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আধা ঘণ্টার ব্যবধানে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে মোট পাঁচটি গুলির ঘটনা ঘটে। সব ভুক্তভোগীই চলন্ত গাড়িতে থাকা অবস্থায় এই হামলার শিকার হন। মহাসড়কের পর শহরের প্রধান সড়ক ট্রুম্যান রোডেও গুলি চালায় ওই বন্দুকধারী। সেখানে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেলে পুলিশ চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা তার শরীরে গুলির আঘাত শনাক্ত করেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।   কানসাস সিটি পুলিশের কর্মকর্তা জ্যাকব বেকিনা জানান, অল্প সময়ের ব্যবধানে এই ধারাবাহিক হামলাগুলো একই সন্দেহভাজন ব্যক্তি চালিয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কানসাসের শহরতলি ইনডিপেনডেন্সের একটি বাড়িতে অভিযান চালালেও সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।   পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন ২২ বছর বয়সি এক যুবক এখনও পলাতক রয়েছে। তার কাছে ভারী অস্ত্র রয়েছে এবং সে অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাকে গ্রেফতারে পুরো শহর জুড়ে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন পুলিশ।   সূত্র: এবিসি নিউজ

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ০:৪৮
ছবি: সংগৃহীত

মেসির বাবা অসুস্থ, ফুটবল জাদুকরের হ্যাটট্রিক উদযাপনের নেপথ্যে নীরব প্রার্থনা

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার | ছবি: সংগৃহীত

এক মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, তবে খেলবেন না গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচ

ছবি: সংগৃহীত

উদ্বোধনী ম্যাচেই লাল কার্ড, ৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার

0 Comments