সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৯:৩৪
সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ
সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা প্রেমিকা ও তার প্রেমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবকের বিরুদ্ধে এবার বেরিয়ে এসেছে আরও ভয়ংকর তথ্য। জোড়া খুনের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩৩ বছর বয়সী রায়ান ওয়েসলি প্রফিট নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে দুজন শিশুকে যৌন নির্যাতনের নতুন অভিযোগ গঠন করেছেন প্রসিকিউটররা।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায়ানের বিরুদ্ধে শিশু নিগ্রহ ও যৌন নির্যাতনের মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌন মিলন এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর জোরপূর্বক বিকৃত যৌনাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই জঘন্য অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছিল।

 

তবে এই শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সাথে সাম্প্রতিক জোড়া খুনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং দুটি মামলা সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। রায়ানের বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগে বলা হয়েছে যে, সে এক শিশুর ওপর মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনও চালিয়েছিল। যদিও আদালতে নতুন করে যুক্ত হওয়া এই শিশু নির্যাতনের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে রায়ান।

 

চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। পুলিশ জানায়, একটি 'ওপেন রিলেশনশিপ' বা উন্মুক্ত সম্পর্কের চুক্তির অংশ হিসেবে ২৮ বছর বয়সী নৌবাহিনীর নাবিক কোর্টনি চ্যান্ডলার তার ২৭ বছর বয়সী গৃহহীন প্রেমিক নিকোলাস ম্যাকক্লুরকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। নিকোলাস প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে তাদের সাথেই ওই বাড়িতে থাকছিলেন।

 

কিন্তু একপর্যায়ে রায়ান তাদের সম্পর্ক নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে বন্দুক নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। প্রসিকিউটররা জানান, ম্যাকক্লুর বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে রায়ান তাকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি চালায় এবং এরপর প্রেমিকা চ্যান্ডলারকেও নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। চ্যান্ডলার আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে রায়ানের কাছে বন্দুক রয়েছে, যা তিনি টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তার এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন।

 

হত্যার পর রায়ান নিজেই ৯১১ নম্বরে কল করে জরুরি সেবায় খবর দেয়। পুলিশ সামরিক ওই কমপ্লেক্সের ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিঁড়িতে বসে তাকে নির্লিপ্তভাবে বিয়ার পানরত অবস্থায় দেখতে পায়। গত বৃহস্পতিবার আদালতে প্রথম মাত্রার দুটি হত্যার অভিযোগেও রায়ান নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে। বর্তমানে তাকে কোনো জামিন ছাড়াই কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে নিহত চ্যান্ডলারের পরিবারের সহায়তায় 'গোফান্ডমি'-তে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে, যেখানে এই নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে একজন স্নেহময়ী বোন, কন্যা এবং নাতনি হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর নিজের অনুপস্থিতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক সাফল্যের পর ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।   ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, তিনি নির্বাচনের ব্যালটে ছিলেন না। থাকলে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতো। নিজের বক্তব্যের শেষে বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী তথ্য বা পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের আসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দলটি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন। সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও এবং নর্থ ক্যারোলাইনাতেও গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এসব ফলাফল রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভার্চুয়াল ক্যাম্পেইনেও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সমর্থকদের উদ্দেশে বারবার অনুরোধ করেন, তাঁরা যেন মনে করেন ট্রাম্প নিজেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   ২ নভেম্বর সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে এক ভার্চুয়াল সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তাঁর নাম ব্যালটে থাকলে সাধারণত বেশি ভোটার ভোট দিতে আসেন। সেই কারণে সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচনের পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও একই ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ট্রাম্প নিজে প্রার্থী হলে তাঁর সমর্থকেরা বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে আসেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রচারের কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   অন্যদিকে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সিবিএস নিউজের সঙ্গে আলাপকালে ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। পৃথকভাবে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরও নিজের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান বজায় রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন এক্সিট পোলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফলের কারণে আগামী দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেসে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে আইন পাস, সরকারি ব্যয় অনুমোদন এবং প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ, এএফপি।  

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ০:৫৯
মিশিগান অঙ্গরাজ্যে পঞ্চমবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে পঞ্চমবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ

ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটদের চমক, সিনেটর নির্বাচিত অ্যানি অ্যান্ড্রুজ

লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন

মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও ট্রাস্টের অর্থ পাননি তিন সন্তান, আদালতে মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে রিপাবলিকানরা, এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে একের পর এক আসনে জয় পাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনও হাতছাড়া হয়েছে। এনবিসি নিউজ ও সিএনএনের নির্বাচনী পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। এমনটি হলে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে দলটি।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকটি আসনে জয় নিশ্চিত করেন। রাত ১০টার দিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ঘোষিত ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের জয়ী আসনের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জয়ী আসন ছিল ৬২টি। তবে ওই সময়ও অনেক আসনের ভোট গণনা বাকি ছিল। প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে নির্বাচন হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হবে।   ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগও প্রত্যাশিত সুবিধা এনে দিতে পারেনি। ওই অঙ্গরাজ্যের অন্তত চারটি আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়েছেন বা জয়ের পথে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনায় ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও কৃষক জেমি অ্যাগার রিপাবলিকান প্রার্থী জেনিফার ক্যাপস বালকমকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পূর্বাভাসে অ্যাগারের পক্ষে ৬০ দশমিক ১ শতাংশ এবং বালকমের পক্ষে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট দেখানো হয়।   নিউ জার্সিতেও রিপাবলিকানদের একটি আসন হাতছাড়া হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেবেকা বেনেট রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টম কিন জুনিয়রকে ২০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এ ছাড়া কেনটাকির ষষ্ঠ কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যাক ডেম্বোর জয়ের খবরও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব ফল রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।   নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দুর্বল অবস্থানের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্ব পেয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিসের নেতৃত্বে দলটি এসব ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার চালায়। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন নির্বাচনের আগে নিজের দলের প্রতি সমর্থন ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।   নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে বলেও রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ রয়েছে।   তবে প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনা ও যাচাই করতে সময় লাগতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সব আসনের ফল নির্ধারণে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পূর্বাভাস থাকলেও চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, সিবিএস নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ২৩:৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন জর্জিয়ার কিশা ল্যান্স বটমস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হলেন কিশা ল্যান্স বটমস

প্রাথমিক ভোট গণনায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আবদুল এল-সাইদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!

উত্তর ক্যারোলাইনা থেকে সিনেট নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী রয় কুপার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনায় সিনেটর নির্বাচিত রয় কুপার

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে গাড়ির ধাক্কায় নিহত এক বছরের শিশু জেনেসা মিলাগ্রো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দাদির কবর দেখতে গিয়ে নেশাগ্রস্ত চালকের গাড়িচাপায় নিহত শিশু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্যাক্রামেন্টো শহরে দাদির কবর দেখতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে এক বছরের শিশু। গত রোববার (১ নভেম্বর) ‘দিয়া দে লস মুয়ের্তোস’ বা মৃত স্বজনদের স্মরণে পালিত দিবসে পরিবারের সঙ্গে সেন্ট মেরি কবরস্থানে গিয়েছিল জেনেসা মিলাগ্রো মাজুর দিয়াজ। এ সময় একটি গাড়ি শিশুটিকে ও তার বাবাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। তার বাবা এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।   স্যাক্রামেন্টো পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কবরস্থানের ২১তম অ্যাভিনিউ এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে এক ব্যক্তি ও এক শিশুকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। দুজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটির মৃত্যুর পর এ ঘটনায় ৫০ বছর বয়সী মিগুয়েল গুজম্যানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির প্রধান কারাগারে পাঠানো হয়েছে।   গুজম্যানের বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে অবহেলাজনিতভাবে মৃত্যুর কারণ হওয়া, মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালিয়ে আহত করা, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়া এবং শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর তিনি প্রথমে ঘটনাস্থলে থাকলেও পরে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ কারণে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবেও তদন্ত করা হচ্ছে। তবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার আইনি নীতি প্রযোজ্য থাকবে।   শিশুটির মা জ্যাকলিন পাতিনো দিয়াজ স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কেসিআরএ থ্রিকে জানান, ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে মেয়ের প্রথম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছিলেন তাঁরা। পরিবারের সঙ্গে কবরস্থানে সময় কাটানোর সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটবে, তা কল্পনাও করেননি। দুর্ঘটনায় শিশুটির বাবার পাঁজরের কয়েকটি হাড়, নাক ও মাথার খুলি ভেঙে গেছে। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   মেয়ের মৃত্যুর খবর স্বামীকে জানানোর মুহূর্তটির কথাও তুলে ধরেছেন জ্যাকলিন। তিনি জানান, হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর স্বামীর প্রথম প্রশ্ন ছিল, তাঁদের মেয়ে কোথায়। তখন তাঁকে জানাতে হয়, মেয়ে আর বেঁচে নেই। এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি গভীর শোকের পাশাপাশি চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয় নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।   এদিকে, শিশুটির শেষকৃত্যের ব্যয়, তার বাবার চিকিৎসা এবং পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে স্বজনেরা। এ জন্য অনলাইন তহবিল সংগ্রহের একটি পাতা চালু করা হয়েছে। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাঁরা ভেঙে পড়েছেন। শিশুটির মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মেয়ের স্মৃতির প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অভিযুক্ত গুজম্যানকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও জামিন শুনানি শুক্রবার পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে কেসিআরএ থ্রির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সময় চালকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তদন্ত চলছে।   সূত্র: কেসিআরএ থ্রি, স্যাক্রামেন্টো পুলিশ বিভাগের তথ্য।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ২২:১৫
যুক্তরাষ্ট্রে জিন বিশ্লেষণ ও গবেষণায় কাজ করছেন বাংলাদেশি গবেষক সামরিন মেহক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ডিএনএ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রে সফল বাংলাদেশি তরুণী সামরিন মেহাক

নিউ ইয়র্কে নতুন আবাসন লটারিতে ৭৫১ ডলার থেকে ভাড়ায় বাসা পাওয়ার সুযোগ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কের গ্রিনপয়েন্টে সাশ্রয়ী আবাসন লটারি, ভাড়া শুরু ৭৫১ ডলার থেকে

ফ্লোরিডায় আসন পুনর্বিন্যাসের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজ নিজ আসনে ভোটারদের রায়ে বড় চমক দেখিয়েছেন তিন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য, তিন আসনেই হারলেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা

0 Comments