আমেরিকা

টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১০:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের টেক্সোমা এলাকায় একটি নিলাম থেকে কেনা পুরোনো ড্রাম আকস্মিক বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলেও নিজের শরীরের মারাত্মক ক্ষত উপেক্ষা করে বাড়ি এবং নাতি-নাতনিদের রক্ষা করেছেন এক বৃদ্ধ। কার্ল মটলি নামের ওই সাহসী দাদা নিজের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পরও আগুনের লেলিহান শিখার ভেতর ঝাঁপিয়ে পড়ে এই বীরত্বপূর্ণ উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেন। পুরো ঘটনার একটি শিউরে ওঠার মতো ভিডিও চিত্র মটলির বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, যা পরবর্তীতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএক্সআইআই প্রকাশ করেছে।

 

নথিপত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে, কার্ল মটলি নিলাম থেকে যে পুরোনো ব্যারেল বা ড্রামটি কিনে এনেছিলেন, সেটির ভেতরে অলক্ষ্যে কিছু অব্যবহৃত বা অবশিষ্ট খনিজ তেল রয়ে গিয়েছিল। ঘটনার দিন মটলি যখন বাড়ির ঠিক বাইরে একটি প্লাজমা টর্চ বা কাটার দিয়ে সেই ড্রামটি কাটার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই ভেতরে থাকা তেলের কারণে সেটি তীব্র শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে একটি বিশাল আগুনের গোলায় পরিণত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুনের শিখা মটলিকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে নেয় এবং চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

 

ঠিক সেই ভয়াবহ মুহূর্তটিতে মটলির দুই নাতি-নাতনি এবং তাদের পোষা কুকুরটি বিস্ফোরণস্থল থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর মটলি জ্বলন্ত আগুনের ভেতর থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং তখনও তার একটি পায়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল। আগুনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তার বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারের দিকে চলে যাচ্ছিল। এই চরম বিপদের মুখেও নিজের পায়ের আগুন হাত দিয়ে থাপড়িয়ে নেভানোর পর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সিদ্ধান্ত নেন এই প্রবীণ ব্যক্তি।

 

নিজের শরীরের তীব্র যন্ত্রণা উপেক্ষা করে এই উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন দাদা জ্বলন্ত আগুনের তোড়াক্কা না করে ঘরের ভেতরে ছুটে যান। সেখান থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা ফায়ার এক্সটিংগুইশার নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে বাড়ির প্রবেশদ্বারের আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। কার্ল মটলির বোন ক্যারিন কারি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তার ভাইয়ের এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপের কারণেই মূলত বাড়িটি বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছে এবং শিশুরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।

 

বোন ক্যারিন কারি আরও যোগ করে বলেন যে, তার ভাই নিজেকে এক প্রকার 'সুপারম্যান' ভাবতেই পছন্দ করেন, কারণ তিনি সবসময় যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষকে সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকেন। ঘটনার দিনও তিনি ঠিক একজন আসল সুপারম্যানের মতোই আচরণ করেছেন এবং নিজের জীবনের পরোয়া না করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে মটলির শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত টেক্সাসের প্ল্যানো শহরের একটি বিশেষায়িত বার্ন সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

 

হাসপাতালে নেওয়ার পর মটলির জ্ঞান ফিরলে তিনি চিকিৎসক বা নিজের কষ্টের কথা না ভেবে সবার আগে জানতে চান যে তার নাতি-নাতনিরা সুস্থ আছে কি না। মটলির মেয়ে কার্লি মটলি তার বাবার এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে একটি অনলাইন ফান্ডরাইজিং প্ল্যাটফর্ম বা 'গোফান্ডমি'-তে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ৬,৫০০ মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতিমধ্যেই প্রায় অর্ধেক টাকা সংগৃহীত হয়েছে। বাবার এই বীরত্বে পুরো পরিবার আজ গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: রয়টার্স
চার বছর পর দুই সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন হ্যারি ও মেগান

দীর্ঘ চার বছর পর এই প্রথমবার নিজেদের পুরো পরিবার নিয়ে একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই অত্যন্ত আলোচিত ও সংবেদনশীল সফরে তাদের সঙ্গে থাকবেন সাত বছর বয়সী ছেলে আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী ছোট মেয়ে লিলিবেট। চার বছর পর সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে হ্যারি-মেগানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সাধারণ পারিবারিক সফর নয়; এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে রাজকীয় এস্টেটের ভেতরে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত বাসভবনে থাকার জন্য হ্যারি ও মেগান দম্পতিকে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই আমন্ত্রণের বিষয়ে হ্যারি বা মেগানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা সম্মতি জানানো হয়নি। এর আগে যুক্তরাজ্য সফরের সময় বাকিংহাম প্যালেসে থাকার একটি সরকারি প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি, কারণ তার মতে জনসম্মুখে থাকা এমন বড় স্থানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে।   এবার এই চার সদস্যের পরিবারের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট রাজকীয় বাসভবনটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। মূলত আগামী বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আহত ও অসুস্থ সামরিক সদস্যদের আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া আসর ‘ইনভিকটাস গেমস’। হ্যারির নিজের প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষ ক্রীড়া আয়োজনের কাউন্টডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আগামী মাসে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির, যা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।   রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইচ্ছার কথা গত বছর এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন প্রিন্স হ্যারি। বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ২০২২ সালে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপনের সময় বাবা ও ছেলের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য ও দীর্ঘ সাক্ষাৎ হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্ল্যারেন্স হাউসে বাবার সঙ্গে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি বৈঠক করেছিলেন হ্যারি।   তবে আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে রাজা চার্লসের সঙ্গে হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা ঘরোয়া সাক্ষাৎ হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বাকিংহাম প্যালেস কর্তৃপক্ষ। রাজপরিবারের মুখপাত্ররা এই পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে এড়িয়ে গেছেন। এদিকে হ্যারি ও মেগানের এই সফরকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে জানা গেছে, যা এই স্পর্শকাতর সফরের অন্যতম বড় চিন্তার কারণ।   বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বাকিংহাম প্যালেস থেকে হ্যারির পরিবারের জন্য অতিরিক্ত কোনো বিশেষ নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তাব বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি। যুক্তরাজ্যে রাজপরিবারের পদত্যাগকারী সদস্যদের এ ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট বিশেষ কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। রাজকীয় বাসভবনে থাকার এই নতুন আমন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য পারিবারিক পুনর্মিলনের জল্পনা সফরটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়— এই সফর কি দূরত্ব কমিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, নাকি পুরোনো টানাপোড়েনই বহাল থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১১:৩৯
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার এক রেস্তোরাঁয় ড্রয়ারে পাওয়া ১২ হাজার ডলার মালিককে ফিরিয়ে দিলেন ব্যবসায়ী

ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ১০ লাখ ডোজ নিষিদ্ধ মাদক পাচারের অভিযোগে দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার কলোরাডোতে হেলিকপ্টার দিয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় আটকে পড়া পর্বতারোহী উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের পাহাড়ে গত সপ্তাহে এক আহত পর্বতারোহীকে উদ্ধারে চালানো একটি সফল অভিযান এখন পর্যন্ত রাজ্যটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উচ্চতার 'হোইস্ট রেসকিউ' বা হেলিকপ্টারের দড়ির সাহায্যে করা উদ্ধার অভিযান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। গত ১৩ জুন কাস্টার এবং সাগওয়াচ কাউন্টির সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত ক্রেস্টোন পিক পাহাড়ের পূর্ব পাশের একটি সংকীর্ণ খাঁজ থেকে কলোরাডো আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের একটি দল ওই আহত ব্যক্তিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।   আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ের ১৪,৩৫৬ ফুট উচ্চতায় ঝুলন্ত অবস্থা থেকে ওই আহত পুরুষ আরোহীকে হেলিকপ্টারের বিশেষ দড়ির সাহায্যে ওপরে টেনে তোলা হয়। উদ্ধারকাজের সময় ‘ইউএইচ-৬০এল ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারটি পাতলা বাতাসের তীব্র ঝুঁকি উপেক্ষা করে পাহাড়ের ১৪,৩৮০ ফুট ওপরে শূন্যে স্থির বাHover অবস্থায় ছিল এবং উদ্ধারকর্মীরা প্রায় ১৮০ ফুট লম্বা কেবল বা তার নিচে নামিয়ে দিয়ে এই অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন।   জানা গেছে, ওই পর্বতারোহী পাহাড় বেয়ে ওঠার সময় প্রায় ৩০ ফুট ওপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পড়ে যাওয়ার সময় তার মাথায় হেলমেট পরা থাকলেও তিনি মাথায় মারাত্মক আঘাত পান এবং শরীরের অন্যান্য অংশেও প্রচণ্ড চোটের কারণে পাহাড়ের ওপর অবশ হয়ে পড়েছিলেন। তার এই বিপদের খবর পেয়ে কাস্টার, সাগওয়াচ এবং অ্যালামোসা কাউন্টির স্থল উদ্ধারকারী দলগুলো পায়ে হেঁটে পাহাড়ের দুর্গম পথ বেয়ে ওপরের দিকে রওনা হয়েছিল।   স্থলভাগের দলগুলো পৌঁছানোর আগেই আকাশপথে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ‘অ্যালপাইন রেসকিউ’ নামের একটি সংস্থার দুজন বিশেষ উদ্ধারকর্মী হেলিকপ্টার থেকে দড়ির সাহায্যে নিচে নেমে আসেন। এই উদ্ধার অভিযানকে ব্যাকআপ বা সহায়তা দিতে পাহাড়ের দুই পাশে আরও দুটি মেডিকেল হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পাহাড় থেকে ওপরে টেনে তোলার পর আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ আছেন।   এর আগে ২০২৫ সালে টরিস পিক পাহাড়ে বজ্রপাতের শিকার এক ব্যক্তিকে ১৪,২০০ ফুটের বেশি উচ্চতা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা ছিল পূর্ববর্তী রেকর্ড। এবারের অভিযানটি আগের সেই রেকর্ড উচ্চতাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, পাহাড়ের এমন চরম উচ্চতায় বাতাস অনেক পাতলা থাকে, যার ফলে হেলিকপ্টার শূন্যে ভাসিয়ে রাখা বা লিফট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন উদ্ধারকারীরা এই ঐতিহাসিক ও সফল উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ৯:৫৭
ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় মোবাইল ঘর কিনে সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ করছে বড় বড় কোম্পানি

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নির্বাচনী তহবিলদাতাকে টেন্ডার ছাড়াই ১৭ লাখ ডলারের সরকারি কাজ বরাদ্দ

ছবি: সিএনএন

দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর নির্বাচনে দুই প্রার্থীকে সমর্থন ট্রাম্পের

ছবি: এএফপি
ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে পেন্টাগনের প্রয়োজন ৮ হাজার কোটি ডলার

ইরান যুদ্ধ এবং অন্যান্য অ-যুদ্ধকালীন ব্যয় সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৮ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন বলে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে। উপ-প্রতিরক্ষা সচিব স্টিফেন ফেইনবার্গ সম্প্রতি কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই তথ্য উপস্থাপন করেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।   প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইনপ্রণেতাদের কাছে একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে। এই প্রস্তাবে শুধু পেন্টাগনের তহবিলই নয়, কৃষি খাত ও দুর্যোগ সহায়তার মতো অপ্রতিরক্ষামূলক খাতের অর্থায়নের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   তবে এ বিষয়ে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য দেয়নি। এর আগে এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এটিই ছিল যুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব হিসেবে প্রকাশিত তথ্য।   তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের মোট ব্যয় কত—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার মুখে পড়ে।   বাজেট বিতর্কের মধ্যে গত এপ্রিল মাসে প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শুনানিতে হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক রাসেল ভট বলেন, যুদ্ধ ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব তার কাছে নেই। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান জানান।   এই বিশাল সামরিক বাজেটকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের আর্থিক চাপ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ৪:১৩
যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডের দক্ষিণে ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে জরুরি সেবাদানকারী দল

যুক্তরাজ্যে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত ৮৯

ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় এক লাখ ডলারের ফি বহাল রাখতে আদালতে ট্রাম্প প্রশাসন

0 Comments