ইসরায়েল

ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা
ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন যানবাহনে হামলা এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে বলা হয়েছে, সালফিত ও কালকিলিয়া গভর্নরেটকে সংযুক্তকারী সড়কে বসতি স্থাপনকারীরা সড়ক অবরোধ করে ফিলিস্তিনিদের চলাচলকারী একাধিক গাড়িতে পাথর ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    ওয়াফা আরও জানায়, কালকিলিয়ার পূর্বাঞ্চলের আন-নবি ইলিয়াস গ্রামের প্রবেশপথে ইসরায়েলি বাহিনী একটি লোহার গেট বন্ধ করে রেখেছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে উল্লেখযোগ্য বাধার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।    অন্যদিকে, তুবাসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খিরবেত আল-রাস আল-আহমার এলাকায় এক ফিলিস্তিনির ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। মানবাধিকারকর্মী আরেফ দারাঘমেহ ওয়াফাকে জানান, ফিলিস্তিনি নাগরিক সুলেইমান জামিল বানি ওদেহকে আটকে রেখে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ে যায় বসতি স্থাপনকারীরা।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।    এদিকে, রয়টার্সের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর পশ্চিম তীরে নিহত ফিলিস্তিনিদের একটি অংশ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।    উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ওই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ বলে জাতিসংঘসহ অধিকাংশ দেশ মনে করলেও ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হ ত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি I ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হ ত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের ‘তেল’ গ্রামে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর পাল্টা আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই এক ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে গুলি করে হত্যা করে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পাল্টা তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।   হত্যাকাণ্ড ও সংঘাতের পর রাতভর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক অভিযান ও তাণ্ডব চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। অভিযানের নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে আরও কয়েকশ সাধারণ মানুষকে চরম হেনস্তা ও হয়রানি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তেল গ্রামে অবৈধ সেটেলারদের সাথে সংঘাতের পর সেখান থেকেই ১১ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অন্তত ৮০ জনের বেশি মানুষকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।   অন্যদিকে, পশ্চিমতীরের জেনিন এলাকায় প্রায় ৩০০টিরও বেশি স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা। সেখান থেকেও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, আটককৃত সকলেই আন্তর্জাতিক কিংবা স্থানীয়ভাবে 'ওয়ান্টেড' তালিকায় ছিল এবং সশস্ত্র সংগঠন হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিস্ফোরক দিয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়, তবে এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি দখলদার বাহিনী।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে নতুন শর্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক ঠিক করার সময় হয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, সৌদি আরবকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দিতে হবে।   শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের এখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার সময় এসেছে। তিনি দাবি করেন, এই শর্ত নতুন নয়; বরং শুরু থেকেই এটি দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার অংশ ছিল। এর আগে বুধবার মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও সহায়তায় বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।   তবে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই পরমাণু চুক্তি কার্যকর হবে না। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হবে এবং এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করেননি। তবে তার দাবি, সৌদি আরব এবং সংশ্লিষ্ট সবাই জানত যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই চুক্তির অন্যতম শর্ত।   এদিকে ট্রাম্পের নতুন শর্তের বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। এই অবস্থান সৌদি আরব একাধিকবার প্রকাশ্যে পুনর্ব্যক্ত করেছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।   হোয়াইট হাউসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা কয়েক দশকব্যাপী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের চুক্তি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, চুক্তিটি কেবল শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার একটি রিসোর্টে মারা গেছেন ইসরায়েলি-আমেরিকান টিভি ব্যক্তিত্ব ইয়াকির লেভি। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডার হোটেলের ২৮ তলা থেকে নিচে পড়ে ইসরায়েলি-মার্কিন তারকা ইয়াকির লেভির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ইসরায়েলি-আমেরিকান রিয়েলিটি টেলিভিশন তারকা ও ব্যবসায়ী ইয়াকির লেভি মারা গেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   টিএমজেড, জেরুজালেম পোস্ট এবং মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফ্লোরিডার সানি আইলস বিচ এলাকার অ্যাকুয়ালিনা রিসোর্ট অ্যান্ড রেসিডেন্সেস থেকে জরুরি সহায়তার জন্য পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।   ঘটনাস্থলে পৌঁছে সানি আইলস বিচ পুলিশ বিভাগ এবং মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ সদস্যরা ইয়াকির লেভিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আলামত পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, ঘটনার সময় ৪৫ বছর বয়সী লেভি একাই ছিলেন। তবে কী পরিস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন সন্তানের জনক ইয়াকির লেভিকে ইসরায়েলে দাফন করা হবে।   তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা শোক প্রকাশ করেন। ফেসবুকে লেভির বোন পরিচয়ে এক নারী লেখেন, “আমার প্রিয় ভাই, আমি তার আত্মাকে সৃষ্টিকর্তার কাছে সমর্পণ করছি। কেউ যেন আমাকে এই দুঃস্বপ্ন থেকে জাগিয়ে দেয়।”   ইসরায়েলের রামলা শহরে জন্ম নেওয়া ইয়াকির লেভি চ্যানেল ১৩-এর জনপ্রিয় তথ্যচিত্রভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘দ্য আমেরিকানস’-এ অংশ নিয়ে পরিচিতি পান। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়তে আসা অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত ওই অনুষ্ঠানে তার সংগ্রামের গল্প দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।   অনুষ্ঠানে লেভি জানিয়েছিলেন, মাত্র ৩০০ মার্কিন ডলার নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের ব্যবসার মাধ্যমে তিনি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: টিএমজেড, জেরুজালেম পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স
মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক জোট শক্ত করার ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিলে ‘না’ ভোট চান স্যান্ডার্স

আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার লক্ষ্যে উত্থাপিত এক প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের ‘না’ ভোট দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ এখন স্পষ্ট ও উচ্চকণ্ঠে বার্তা দিচ্ছেন যে—চরমপন্থী নেতানিয়াহু সরকারের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা আর বাড়িয়ে দেওয়া সহ্য করা হবে না।   নিজের পোস্টের সঙ্গে বার্নি স্যান্ডার্স ‘কোয়িন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট’-এর গবেষক বেন ফ্রিম্যানের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে ফ্রিম্যান জানান, দুই দেশের সামরিক বাহিনীকে এভাবে এক সুতোয় গাঁথার প্রস্তাবটি মূলত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকেই পেশ করা হয়েছিল। এই প্রস্তাব পাস হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা এবং ড্রোন প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের প্রায় সব ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে এক অভূতপূর্ব সহযোগিতা গড়ে উঠবে।   উল্লেখ্য, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ সম্প্রতি ১.১৫ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ১৫ হাজার কোটি) ডলারের ঐতিহাসিক ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট’ (এনডিএএ) অনুমোদন করেছে। বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন মার্কিন সিনেটে পেশ করার অপেক্ষায় রয়েছে। মূলত এই বিশাল খসড়া বিলেই ইসরায়েলকে সামরিক প্রযুক্তিতে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার বিধান রয়েছে, যার বিরুদ্ধে এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ক্ষে প ণা স্ত্র, ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানের আকাবা অভিমুখে ইরানের ক্ষে প ণা স্ত্র, নিজ ভূখণ্ডে প্রবেশের আ শ ঙ্কায় ইসরায়েল

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে জর্ডানের উপকূলীয় শহর আকাবা অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এর কিছু অংশ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় আকাশসীমা বা ভূখণ্ডে প্রবেশের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।    এর আগে একাধিকবার জর্ডান জানিয়েছে, নিজেদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, জর্ডানের আকাশসীমা বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।   আকাবা জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর এবং এটি ইসরায়েলের ইলাত শহরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক তৎপরতা দ্রুত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং জর্ডানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী
নেতানিয়াহু পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হলে দেশ ছাড়তে চান ২৩ শতাংশ ইসরায়েলি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি আবারও ক্ষমতায় ফেরেন, তবে দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন দেশটির এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি নাগরিক। দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।   জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অন্তত ২৩ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তারা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশ ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। অন্যদিকে, ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরলেও তাদের দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বাকি অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনো মতামত দেননি।   জরিপে নাগরিকদের দেশ ছাড়ার ভাবনার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন জোটের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত আইন নিয়েও জনগণের গভীর অসন্তোষের চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৬৭ শতাংশ নাগরিক সরকার কর্তৃক পাস হওয়া এসব নতুন আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।   এই বিতর্কিত আইনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তোরাহ অধ্যয়নকে আধা-সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করা। এর পাশাপাশি কট্টরপন্থী অর্থোডক্স ইহুদিরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ না দিলেও তাদের গ্রেফতার থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার নতুন বিধানটি দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।   সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ এসব নীতি মেনে নিতে না পারলেও ক্ষমতাসীনদের প্রতি একাংশের সমর্থন রয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২১ শতাংশ উত্তরদাতা নতুন এই বিতর্কিত আইনগুলোকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং বাকিরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সাম্প্রতিক কট্টরপন্থী নীতিগুলো ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, জরিপের পরিসংখ্যানে যার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য প্রস্তাবিত ‘কুমির কারাগার’ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরঘেরা কারাগার তৈরি করছে ইসরায়েল

ফিলিস্তিনি বন্দিদের আটকে রাখার জন্য কুমিরে ভরা পরিখা দিয়ে ঘেরা কারাগার নির্মাণের বিতর্কিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান সম্প্রতি কুমিরকে 'পরিচালিত বন্যপ্রাণী' হিসেবে পুনঃশ্রেণিবিন্যাসের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা এই প্রকল্পের পথে থাকা প্রধান আইনি বাধা দূর করেছে। এর আগে কুমির ছিল 'সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী'—শুধুমাত্র অনুমোদিত চিড়িয়াখানায় রাখার অনুমতি ছিল।   খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ইসরায়েলের হিব্রু গণমাধ্যম চ্যানেল ৭। সূত্র জানায়, 'কুমির কারাগার' নামে পরিচিত এই প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিলেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি উচ্চ নিরাপত্তার এই কারাগার নির্মাণের ডাক দেন, যার চারপাশে কুমিরে ভরা জলপথ থাকবে, পালানোর যেকোনো চেষ্টা রুখতে।   পরিবেশ মন্ত্রীর সই করা নতুন আদেশের ফলে এখন ইসরায়েলের কারাবিভাগসহ সরকারি সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট শর্তে নিজেদের স্থাপনায় কুমির রাখতে পারবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কারাবিভাগ প্রকল্পটির বাস্তবতা যাচাই শুরু করেছে। কর্মকর্তারা কুমিরের পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চিড়িয়াখানা পরিদর্শনও করেছেন।   একটি চিড়িয়াখানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে কারাবিভাগের প্রতিনিধিরা কুমির পালনের প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে সরেজমিনে জানতে এসেছিলেন। তিনি জানান, ৬০টি কুমির পালনে সাপ্তাহিক খরচ হবে হাজার হাজার শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা), যার মধ্যে খাবার, রক্ষণাবেক্ষণ, পানি পরিশোধন ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা খরচ অন্তর্ভুক্ত।   কারাবিভাগের ধারণা, কুমিরে ভরা খাদ বা পরিখা শুধু কারাগারের নিরাপত্তা বাড়াবে না, পাহারার খরচও কমাবে। একটি কিশোর কুমিরের দাম প্রায় ৮ হাজার ডলার, আর পূর্ণবয়স্ক কুমিরের দাম ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে হিব্রু গণমাধ্যম। প্রাথমিকভাবে এই ভাবনার উৎস হিসেবে আমেরিকার কিছু কারাগারের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা নিরাপত্তা সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, এসব কারাগারে নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা এবং অনাহারের মতো পরিস্থিতি বিদ্যমান। গত কয়েক বছরে কয়েক ডজন বন্দি মারা গেছেন বলে দাবি তাদের।   এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি কারাবিভাগ এই পরিকল্পনা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা ইতিমধ্যেই উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের পতন, ভেঙে দেওয়া হলো ইসরায়েলের পার্লামেন্ট

চার বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট কনেসেট। দেশটির আইন অনুযায়ী আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটি হবে ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এবার বিরলভাবে পূর্ণ চার বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করেছে। দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ১৯৮৮ সালের পর এটাই প্রথম পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা কোনো সরকার।    নির্বাচনের আগে কনেসেটে একাধিক বিতর্কিত আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে অতিধর্মীয় (আল্ট্রা-অর্থডক্স) ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিষয়, বিচারব্যবস্থার কিছু ক্ষমতা সীমিত করা এবং সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর সরকারের প্রভাব বাড়ানোর মতো আইন রয়েছে। এসব পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।    সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় জোটের জনসমর্থন কমেছে। বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দল আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও, এখনো এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের নেই। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী জোট গঠনই সরকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।    গাজা যুদ্ধ, জাতীয় নিরাপত্তা, জিম্মিদের মুক্তি, অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন—এসব ইস্যুই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। ফলে ২৭ অক্টোবরের ভোট শুধু নতুন সরকারই নির্ধারণ করবে না, ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও অনেকাংশে ঠিক করে দেবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
Men carry the body of one of several victims who were killed after a police station was was hit by Israeli bombardment in the Jabalia camp.
গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৫, যুদ্ধবিরতির পর বেড়েছে হামলার মাত্রা

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।    স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় একটি বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ট্যাংকের গোলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া পশ্চিম গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় একজন এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে একটি গাড়িতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও বিমান হামলার খবর দিয়েছেন।   এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই বলছে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতেই তারা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে।   ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। হামাস তাদের নিজস্ব যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত প্রকাশ করে না। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।   অন্যদিকে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, জুন মাসে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলার সংখ্যা ৪০টির বেশি ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা।   সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী গবেষণা ব্যবস্থাপক নাসের খদুর বলেছেন, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিতে পারেন।   ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তপারের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উভয় পক্ষের এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা কমানোর প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন যেসব ডেমোক্র্যাটরা

ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৩৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে প্রত্যাখ্যাত হলেও ভোটের ফলাফল নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসির আনা সংশোধনীতে ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট সমর্থন জানালেও ৯৮ জন বিপক্ষে ভোট দেন এবং ১০ জন ‘উপস্থিত’ ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ১০৪-৩১৪ ভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হয়।   বুধবারের এই ভোটে দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলটির নেতাদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস সংশোধনীর বিরোধিতা করলেও ডেমোক্র্যাটিক হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এর পক্ষে ভোট দেন।    কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসির প্রস্তাবটি ২০২৭ অর্থবছরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এতে ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত ৩৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পাশাপাশি ওই অর্থ বিদেশি সামরিক অর্থায়ন খাত থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রস্তাবটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নিরাপত্তা সহায়তা কাঠামোর আওতায় দেওয়া নিয়মিত বার্ষিক সামরিক সহায়তায় বড় পরিবর্তন আসত।   ভোটের ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটই এবার ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। যদিও প্রস্তাবটি পাস হয়নি, দলটির ভেতরে ইসরায়েল ইস্যুতে দীর্ঘদিনের ঐকমত্য যে আর আগের মতো নেই, তা এই ভোটে স্পষ্ট হয়েছে।   গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ার বিষয়টিও সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। মে মাসে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের এক জরিপে ৭৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার ইসরায়েলকে আরও সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেন। মাত্র ৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট অতিরিক্ত সহায়তার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানান। একই জরিপে প্রায় অর্ধেক সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ভোটার মনে করেন, দলটি ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত সমর্থন দেখাচ্ছে।   ম্যাসির সংশোধনীকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানও ছিল ব্যাপকভাবে বিভক্ত। পিট আগুইলার, জেমস ক্লাইবার্ন, হাকিম জেফরিস, গ্রেগরি মিক্স, রিচি টরেস, ডেবি ওয়াসারম্যান শুল্টজসহ বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট এর বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ক্যাথরিন ক্লার্ক ও সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ শতাধিক ডেমোক্র্যাট ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেন। আরও ১০ জন ডেমোক্র্যাট ভোট দেন ‘উপস্থিত’ হিসেবে।    তবে এই ভোটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। সংশোধনীটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস না হওয়ায় ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক সামরিক সহায়তা বহাল রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই ভোটকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে চলমান পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   গাজা যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। বুধবারের ভোট সেই বিতর্ককে কংগ্রেসের মেঝেতে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে—যেখানে একসময় ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রায় অভিন্ন অবস্থান দেখা গেলেও এখন দলটি প্রকাশ্যেই দুই ভিন্ন শিবিরে  বিভক্ত।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েল ইস্যুতে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে নীতিগত বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিলেন শতাধিক ডেমোক্র্যাট

ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) শতাধিক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি পাস না হলেও, এই ভোটাভুটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান নীতিগত বিভাজনকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসি একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।   ভোটাভুটিতে সংশোধনীটি ৩১৪ ভোটে নাকচ হয়। এর বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩১৪টি এবং পক্ষে পড়ে ১০৪টি ভোট। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পক্ষে দেওয়া ১০৪ ভোটের মধ্যে ১০৩ জনই ছিলেন ডেমোক্র্যাট এবং একজন ছিলেন রিপাবলিকান সদস্য।   অন্যদিকে ৯৮ জন ডেমোক্র্যাট প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন এবং ১০ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। এই ফলাফল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট করেছে।   দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও ভিন্ন অবস্থান দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিস এবং পিট অ্যাগুইলার সংশোধনীর বিপক্ষে ভোট দেন। তবে দলের হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়ে আলোচনার জন্ম দেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মাত্র দুই বছর আগে একই ধরনের একটি প্রস্তাবে ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন মাত্র ৩৭ জন ডেমোক্র্যাট। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ১০৩-এ পৌঁছেছে।   ভোটের পর কংগ্রেসনাল প্রোগ্রেসিভ ককাসের চেয়ারম্যান গ্রেগ ক্যাসার বলেন, প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলের কাছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা পাঠানোর পক্ষে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।   তার দাবি, এই ভোট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। তার ভাষায়, যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিঃশর্ত সমর্থনের সময় শেষ হয়ে আসছে এবং এই ভোট ভবিষ্যতের মার্কিন নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   তবে ক্যাথরিন ক্লার্ক বলেছেন, রিপাবলিকানদের আনা সংশোধনীটি তার দৃষ্টিতে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কারণ এতে গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তাও বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার বার্তা দিতেই প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।   অন্যদিকে ভোটদানে বিরত থাকা ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড হাফম্যান বলেন, ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।   দলের অভ্যন্তরে বিভাজন আরও গভীর না করতে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ভোট নির্দেশনা বা 'হুইপ' জারি করেনি। ফলে সদস্যরা নিজ নিজ বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।   বিশ্লেষকদের মতে, সংশোধনীটি পাস না হলেও এই ভোটাভুটি মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থানের পরিবর্তনশীল চিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আগামী দিনে এ ইস্যুতে কংগ্রেসে আরও বিতর্ক এবং নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   সূত্র: সিএনএন ও আল-জাজিরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মালয়েশিয়ায় ইসরায়েলি শনাক্ত হলেই দেশ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার ভূখণ্ডে কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কঠোর অবস্থানের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার যে অনড় নীতি মালয়েশিয়ার রয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে কোনোভাবেই আপস করা হবে না।   সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে যে, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট এবং নাগরিকত্বের নথি ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক জোহর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।   প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিশ্চিত করেছেন যে, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। যদি কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের অনুপ্রবেশের সত্যতা মেলে, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বহিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জামব্রি আবদুল কাদির শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।   এদিকে জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে অবস্থিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক আবাসিক কমিউনিটিকে ঘিরে সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায় সেখানেও ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজির আহ্বানে গত ১৪ জুলাই মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম), রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।   জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসনের প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। মাসিক দেড় হাজার ডলার ফি দিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি নাগরিকদের গোপন সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।   মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে বিদেশিদের কাছে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেলেও তারা ইমিগ্রেশন আইন (১৯৫৯/৬৩) পুরোপুরি মেনে চলছেন কি না, তা নিশ্চিতে নিবিড় তদন্ত চলছে। পরিচয় গোপন, ভ্রমণ নথির জালিয়াতি কিংবা অভিবাসন সুবিধার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভিবাসন আইনের যেকোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে সতর্ক করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক স্থগিতের দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। ছবি: সংগৃহীত
ফিফা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের দাবি, এবার ইউরোপে চাপ বাড়াচ্ছে নরওয়ে

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এবার ইউরোপের ভেতরেই কূটনৈতিক ও ক্রীড়া পর্যায়ে চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে। রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) ইউরোপীয় ফুটবল মহলে এ বিষয়ে সমর্থন গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।   এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস। তিনি একজন আইনজীবী, নরওয়ে নারী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমানে উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার মতে, কোনো দেশকে একতরফাভাবে বয়কট করার পরিবর্তে ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গত বছর অসলোতে নরওয়ে ও ইসরায়েলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে ক্লাভেনেস প্রকাশ্যে বলেন, নরওয়ে বিশ্বাস করে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা উচিত। তার ভাষায়, বিষয়টি মূলত ফুটবলের নিয়ম ও নীতিমালা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের প্রশ্ন।   তবে নরওয়ে সেই ম্যাচ বয়কট করেনি। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, ম্যাচে অংশ না নিলে ইসরায়েল ওয়াকওভার পেয়ে যেত, যা তাদের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিত। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতে নেয়। নরওয়ের অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি হলো ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের পর ফিফা ও উয়েফার নেওয়া সিদ্ধান্ত। সে সময় রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। ক্লাভেনেস এবং তার সমর্থকদের দাবি, এই দুই ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ ফুটবলের নীতিমালা ও মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।   ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল গাজায় সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনি ও আরব ক্রীড়াবিদদের প্রতি বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোর ইসরায়েলি লিগে অংশগ্রহণ। মানবাধিকারবিষয়ক কয়েকজন আইনজীবীও দাবি করেছেন, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড এবং অধিকৃত অঞ্চলে ক্লাব পরিচালনা সংক্রান্ত ফিফার বিভিন্ন বিধিমালা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন লঙ্ঘন করেছে। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের সক্রিয় ভূমিকার ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু আরব বা এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।   এদিকে অসলোতে নরওয়ে-ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির বিভিন্ন কর্মসূচি দেখা যায়। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ম্যাচের টিকিট বিক্রির অর্থ গাজার চিকিৎসা সহায়তার জন্য দান করে। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে বহু দর্শক ফিলিস্তিনের পতাকা ও কেফিয়েহ প্রদর্শন করেন। স্টেডিয়ামে "শিশুদের বাঁচতে দাও" লেখা একটি ব্যানারও টানানো হয়। একই সময়ে স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সমাবেশ করেন। চলতি বছরের মার্চে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলোর ইস্যুতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে ফিফা। তবে বৈষম্য ও আপত্তিকর আচরণসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে সংস্থাটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়।   এর পাশাপাশি ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বাধ্যতামূলক বৈষম্য প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষা কার্যক্রম চালু, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ম্যাচে বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়।   ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকজন ফুটবল কর্মকর্তা এ বিষয়ে ফিফা ও উয়েফার আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা বা উয়েফা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের বিশিষ্ট রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ছবি সংগৃহীত
ইউক্রেন থেকে ইসরায়েল—মার্কিন কূটনীতির সক্রিয় মুখ লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই

মার্কিন সিনেটর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় ৭১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার’ পর তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে এ সময় সবার কাছে দোয়া চেয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে।    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “লিন্ডসে গ্রাহাম আমার পরিচিত সবচেয়ে অসাধারণ মানুষ ও সিনেটরদের একজন ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের মার্কিন দেশপ্রেমিক। তাকে গভীরভাবে মিস করা হবে।” সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও গ্রাহামকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী’ উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও স্বাধীনতাপন্থী দেশগুলোর পক্ষে তিনি সারাজীবন দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।    দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে ২০০২ সালে প্রথমবার সিনেটে নির্বাচিত হন গ্রাহাম। এর আগে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হন। বিশেষ করে ইরান, রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ বৈদেশিক নীতি ইস্যুতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তিনি ইউক্রেন সফর করে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।    মার্কিন রাজনীতিতে গ্রাহাম ছিলেন ‘হকিশ’ বা কঠোর পররাষ্ট্রনীতির প্রবল সমর্থক। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য থাকাকালে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। সিনেটে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিচারবিষয়ক কমিটি এবং সর্বশেষ বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের নিয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।    একসময় রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন গ্রাহাম। ম্যাককেইন ও সাবেক সিনেটর জো লিবারম্যানকে নিয়ে গঠিত ‘থ্রি অ্যামিগোস’ জোট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি গ্রাহামকে ‘ইসরায়েলের মহান বন্ধু’ এবং ‘ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদারে তিনি আজীবন কাজ করেছেন।   গ্রাহামের মৃত্যুতে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন শূন্য হলো। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার অস্থায়ীভাবে একজন সিনেটর নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী মেয়াদ শুরু হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)-এর সদস্য
ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলা, গুলি ও স্টান গ্রেনেডে আহত ১০ বছরের শিশুসহ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন, রামাল্লাহ, বেথলেহেম, জেনিন ও নাবলুসে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের পৃথক অভিযানে অন্তত কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। হেবরনে একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ১০ বছর বয়সী এক শিশু মাথায় আঘাত পেয়েছে।   স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রামাল্লাহর পূর্বে আল-মুঘাইয়ির গ্রামে মোহাম্মদ হামেদ আবু আলিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। এ সময় একজন ফিলিস্তিনি জীবন্ত গুলিতে উরুতে আহত হন এবং আরও দুজন রাবার মোড়ানো ধাতব বুলেটে আহত হন। এছাড়া ১০ বছর বয়সী রায়েদ ওদেহ আবু আলিয়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে মাথায় আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী বেথলেহেমের পশ্চিমে দোহা শহরে অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গ্রেপ্তার বা বাড়িতে তল্লাশির খবর পাওয়া যায়নি।   এদিকে জেনিনের দক্ষিণে খাবিরাত মাসউদ এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা তাদের ভেড়ার পাল ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে ছেড়ে দেয়। এতে ফসল ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাবলুসের দক্ষিণে কাবালান এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করছিলেন এমন পৌরসভার কর্মীদেরও হামলার মুখে পড়তে হয়। হামলার কারণে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।   অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ ধরনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে তাদের কৃষিজমি ও বসতি থেকে উচ্ছেদের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
পশ্চিম তীরে মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে ‘আটকে রাখার’ অভিযোগ
পশ্চিম তীরে মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে ‘আটকে রাখার’ অভিযোগ, ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরের সময় ইসরায়েলি সেটেলার ও সেনাবাহিনীর হাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেলধারী সেটেলাররা তার বহরের পথরোধ করে এবং পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়।   রয়টার্সের বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে অবস্থানকালে রো খান্না এ অভিযোগ করেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত এই মার্কিন আইনপ্রণেতা বলেন, বুধবার দক্ষিণ পশ্চিম তীরের খিরবেত যানুতা এলাকায় সফরের সময় তাদের বহরের মাইক্রোবাস ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি সেটেলাররা।   খান্নার ভাষ্য, তিনি এমন একটি গ্রাম পরিদর্শন করছিলেন, যেটি সেটেলারদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তার দাবি, সেখানে স্কুল ও অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সশস্ত্র সেটেলাররা তাদের পথ আটকে দেয় এবং পরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) ডেকে আনে।   তিনি বলেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেল নিয়ে আসে, রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের আটকে রাখে। পরে আইডিএফ আসে, কিন্তু তারা আমেরিকানদের নয়, সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়।”   খান্নার সফরসঙ্গী ক্যামেরন কাস্কি জানান, তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তারা জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে সহায়তা চান। পরে পুলিশ বলে মনে হওয়া একদল কর্মকর্তা এসে হস্তক্ষেপ করলে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন।   অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, খিরবেত যানুতার কাছে কিছু যানবাহন সেটেলাররা আটকে রেখেছে—এমন খবর পাওয়ার পর সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। তাদের দাবি, সেখানে পৌঁছে তারা ইসরায়েলি বেসামরিকদের ছত্রভঙ্গ করে এবং আটকে পড়া যানবাহনগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেয়।   খিরবেত যানুতা দক্ষিণ হেবরন এলাকার একটি ছোট ফিলিস্তিনি গ্রাম। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর ওই এলাকায় ইহুদি সেটেলারদের হামলার মুখে গ্রামটির বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হন এবং বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে এলাকাটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইসরায়েলি পুলিশ ও জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রো খান্নার অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধের মধ্যেই তিনগুণ বেড়েছে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা
ইরানের দাবি, যুদ্ধের মধ্যেই তিনগুণ বেড়েছে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা: ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের সময় উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ফলে ইরান তাদের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিনগুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মাজিদ ইবনে রেজা।   শনিবার পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান। পরে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা তার বক্তব্য প্রকাশ করে।   রেজার দাবি, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগই সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান অত্যন্ত উন্নত সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিল।   ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ১৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি সহায়তা দিয়েছিল। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেন।   তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।   তবে রেজার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই দাবি অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসনের মধ্যেই ড্রোন উৎপাদন তিনগুণ বাড়ানোর দাবি তেহরানের

চলমান মার্কিন-ইসরায়েল উত্তেজনার ও আগ্রাসী পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার এক অভাবনীয় সাফল্যের কথা জানিয়েছে ইরান। যুদ্ধের এমন চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেও দেশটির ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা আগের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা। শনিবার (১১ জুলাই) এই অভূতপূর্ব অর্জনকে তিনি সম্পূর্ণ ‘দেশীয় দক্ষতার ফল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বৈঠকে অংশ নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধির এই তথ্য নিশ্চিত করেন। জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাত সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে, ইরানের দেশীয় অভিজাত শ্রেণি এবং উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই হচ্ছে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী স্তম্ভ।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার বার্তায় আরও জানান, যুদ্ধের চরম মুহূর্তে যখন চারপাশ থেকে একের পর এক আগ্রাসন ও বহুমুখী প্রতিবন্ধকতা আসছিল, তখনও ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থা এক মুহূর্তের জন্যও থমকে যায়নি। বরং এমন চরম প্রতিকূল ও আগ্রাসী পরিস্থিতির মাঝেই নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে তেহরান তাদের ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সামরিক খাতে ইরানের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি শত্রুদের জন্য একটি কড়া বার্তা বলেই মনে করছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় নিহত শিশু'র ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
গাজায় নতুন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৯, প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশুও

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।   চিকিৎসাকর্মীরা জানান, গাজা সিটির একটি বিদ্যালয়ের কাছে চালানো বিমান হামলায় একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হন। এছাড়া খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল। একই দিনে গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। গাজা সিটির অন্য দুটি হামলায় আরও তিনজন নিহত হন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই অভিযান চালিয়েছে। তবে বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে পারেনি এবং ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও গাজায় নিয়মিত হামলা ও পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা হামাস-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের লক্ষ্য করছে। অন্যদিকে হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতও এর আগে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত উভয় পক্ষই বিভিন্ন সময়ে লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির (বামে) এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (ডানে)
ডেবিট কার্ড লেনদেন থেকে বাড়তি মুনাফার লক্ষ্যে জোট বাঁধছে মার্কিন ব্যাংক জায়ান্টরা

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নির্ধারিত নিউইয়র্ক সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের ‘ইউএন চিফস অব পুলিশ সামিট (ইউএনসিওপিএস)’-এ অংশ নিতে তার নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সফর বাতিলের আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি তার দপ্তর। এর আগে তার সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি, তদন্তের দাবি এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের আহ্বান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।     আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনটি মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সফরের কয়েকদিন আগেই ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, বেন-গভির নিউইয়র্ক সফর থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সফর বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করেনি।     বেন-গভিরের সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী এবং কয়েকটি প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠন তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে বেলজিয়ামভিত্তিক হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসসহ কয়েকটি সংগঠন মার্কিন বিচার বিভাগ ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।     অভিযোগকারীদের দাবি, গাজা যুদ্ধ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে তার ভূমিকার কারণে বেন-গভিরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করা উচিত। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষও তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।     এদিকে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিক জোহরান মামদানি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে অতীতে সমর্থনসূচক অবস্থান নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে, বেন-গভির নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা হতে পারে। তবে সফর বাতিলের সঙ্গে মামদানির বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেনি।     ইতামার বেন-গভির ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী সরকারের অন্যতম আলোচিত মন্ত্রী। গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা রয়েছে। এর আগে তার বিদেশ সফর ঘিরেও বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা গেছে।     সফর বাতিলের প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও, নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি চাপ, গ্রেপ্তারের দাবি এবং বিক্ষোভের প্রস্তুতি ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০