গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা আইতান গিলবোয়া বর্তমানে ভারতে ছুটি কাটাচ্ছেন। চাঞ্চল্যকর এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছে ব্রাসেলস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন’ (HRF)। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ব্যুরো এবং পুলিশের কাছে একটি জরুরি আইনি অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গিলবোয়া ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ২৭১তম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের একজন রিজার্ভ সেনা হিসেবে গাজার আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন, যা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ। হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনের জমা দেওয়া বিস্তারিত প্রমাণাদিতে দেখা গেছে, গিলবোয়া গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ অঞ্চলে বেসামরিক ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই ধ্বংসযজ্ঞ উদযাপনের ভিডিও নিজেই ধারণ করেছেন। পরবর্তীকালে তার পরিবারের সদস্যরা সেই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। মানবাধিকার সংস্থাটির দাবি, একজন সাধারণ পর্যটকের আড়ালে গিলবোয়া মূলত তার অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচতেই ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ভারতের হিমাচল প্রদেশের মানালি ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন। ভারত ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার আইনি বাধ্যবাধকতা ভারতের রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছে হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির জেনারেল ডিরেক্টর দিয়াব আবু জাহজাহ এক বিবৃতিতে জানান, ভারতকে অবিলম্বে আইতান গিলবোয়াকে গ্রেপ্তার করতে হবে। বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও ধ্বংস উদযাপনকারী কোনো অপরাধীর জন্য ভারতের মাটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এই গুরুতর আইনি অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি ও অবৈধ বসতি স্থাপনে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ একাধিক নেতার ফ্রান্সে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করে এই যৌথ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং নরওয়ের মতো দেশগুলোর সাথে একযোগে নেওয়া এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো— পশ্চিম তীরে যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এবং ঔপনিবেশিক তৎপরতা আরও জোরালো করছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। ফ্রান্সের এই নতুন নির্দেশনার ফলে অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ ছাড়াও ইসরায়েলের চারজন প্রভাবশালী বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) সংগঠনের নেতা এবং ২১ জন উগ্রপন্থী সেটলার ফ্রান্সে প্রবেশ করতে পারবেন না। বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মোট্রিচের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি এই মন্ত্রী সক্রিয়ভাবে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে নিরলস প্রচার চালাচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে এমন দাবিও করছেন। এর পাশাপাশি তিনি পশ্চিম তীরে নতুন করে অবৈধ বসতি তৈরি, গাজা পুনরুপনিবেশকরণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো নীতিকে প্রতিনিয়ত সমর্থন করে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো সতর্ক করে বলেন, স্মোট্রিচের এসব কট্টরপন্থী নীতি ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশাল অংশ, যারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংকট নিরসনে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তারা কোনোভাবেই এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মেনে নিতে পারে না। মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠার এই তাগিদ থেকেই ফ্রান্স এবং তার অংশীদার মিত্ররা মিলে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র দুই মাস পর আবারও সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও ইরান। সোমবার দেশ দুটির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর রাশিয়ার তেল আবিব দূতাবাস নিজ দেশের নাগরিকদের ইসরায়েল ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়া সতর্কতা জারি করেছে। সোমবার প্রকাশিত এক নির্দেশনায় রুশ দূতাবাস ইসরায়েলে অবস্থানরত নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সব ধরনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। তবে ইরানি রকেট হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো রুশ নাগরিকের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে দূতাবাস। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হাইফাতে অবস্থিত রাশিয়ান কনস্যুলেট চলতি সপ্তাহে তাদের কর্মঘণ্টা এক ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি তাদের সেবা প্রদানের পরিসর কমিয়ে শুধুমাত্র পাসপোর্ট, রুশ ভিসা এবং দেশে ফেরার ছাড়পত্র প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে তেল আবিবের কনস্যুলার শাখার কার্যক্রম অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ইসরায়েলের ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালায় ইরান। এর তাৎক্ষণিক জবাবে ইসরায়েলও মধ্য ও পশ্চিম ইরানে পাল্টা আক্রমণ চালায়। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে ফের একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে টেনে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। এই আহ্বানের পরপরই ইরানের সেনাবাহিনী ইসরায়েলে তাদের হামলা সমাপ্তির ঘোষণা দেয়। তবে একইসঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) আগ্রাসন ও শত্রুতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইসরায়েলও ইরানের ওপর তাদের আক্রমণ স্থগিত করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়াকে ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপকে 'সশস্ত্র আগ্রাসনের উসকানিমূলক কাজ' আখ্যা দিয়ে একাধিকবার নিন্দা জানিয়েছে মস্কো। গত এপ্রিলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে সেসময়ই তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন যে, নতুন করে কোনো সংঘাত শুরু হলে তা ওই অঞ্চল এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য অনিবার্য ও চরম ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও লেবাননকে ঘিরে সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষায় ইরান এখন শুধু প্রক্সি গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথে এগোচ্ছে, যা যুদ্ধবির্তার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান বারবার সতর্ক করে আসছিল যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই সতর্কতার মধ্যেই রোববার রাতে ইরান দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরায়েলে হামলা চালায়। ঘটনার সূত্রপাত হয় বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে ইসরায়েলি হামলার পর। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা না চালালে বৈরুতে আক্রমণ হবে না। তবে সেই অবস্থান ভেঙে গেলে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এটি ছিল একটি সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলা হলে জবাব আরও বিস্তৃত হবে এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুও এর আওতায় আসতে পারে। এর জবাবে সোমবার ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ইরানও দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। দ্বিতীয় দফা হামলার পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, আপাতত ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে অভিযান শেষ করা হয়েছে। তবে লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সহ্য করলেও বৈরুতকে একটি ‘লাল রেখা’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, বৈরুতে হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল সেই সীমা অতিক্রম করেছে এবং ইরানের সরাসরি প্রতিক্রিয়া তারই ফল। বর্তমান সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো, ইরান তার দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। আগে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং ইরাক-সিরিয়ার মিত্র সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করত তেহরান। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনার পরিবর্তে ইরান সরাসরি রাষ্ট্রীয় সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, হিজবুল্লাহকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে ইরানের পুরো আঞ্চলিক জোটব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সে কারণেই তেহরান লেবানন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত মার্চে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর লেবানন আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ দাবি করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার অভিযোগ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তারা হামলা চালিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে দেশটিতে ৩ হাজার ৬১৩ জন নিহত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে আলোচনার পর নতুন একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি একে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করে বলেন, লেবাননে বোমা হামলা চলতে থাকলে উত্তর ইসরায়েলে তাদের হামলাও অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাবে, অন্যদিকে ইরান, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করবে। ফলে সংঘাত পুরোপুরি থামার বদলে একটি অস্থির ভারসাম্যের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং আশপাশের জলপথে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বা ইসরায়েলের মালিকানাধীন কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। গোষ্ঠীটি বলছে, গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর অব্যাহত হামলার প্রতিবাদেই তারা এই নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবিও করেছে। বিবৃতিতে হুতিরা সতর্ক করে জানায়, ইসরায়েল যদি তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে কিংবা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায়, তাহলে তারাও নিজেদের হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে। তাদের ভাষ্য, এই অবস্থান শুধু ইয়েমেনের স্বার্থে নয়; বরং ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে নেওয়া হয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনসহ পুরো অঞ্চলের জনগণের বিরুদ্ধে ‘অন্যায় ও অবরোধ’ চলতে থাকলে তারা নীরব থাকবে না এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এদিকে রোববার রাত থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান ইসরায়েলের একাধিক স্থাপনায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ সময় হুতিরাও ওই হামলায় অংশ নেওয়ার দাবি করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, তারা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন জাফা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতিদের এই নতুন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এখানে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: দ্য ন্যাশনাল
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হিব্রু ভাষায় সংক্ষিপ্ত একটি পোস্টে লেখেন, ‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে।’ এর আগে ইরান থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পরপরই বেন-গভির এই মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে একাধিক পোস্টে জানায়, রোববার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরান থেকে আসা সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর হোম ফ্রন্ট কমান্ড বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেয়। অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও নাবাতিহ অঞ্চলের বেসামরিক হতাহতের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করে। আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আজ রাতের অভিযান ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে এর জবাব আরও বিস্তৃত হবে এবং এই অঞ্চলের সব আমেরিকান-জায়নবাদী লক্ষ্যবস্তু এতে অন্তর্ভুক্ত হবে।’ বেন-গভিরের মন্তব্য এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান রোববার রাতে ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলায় নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে ইরান থেকে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পরপরই ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার প্রায় এক ঘণ্টা পর দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ড নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়। ইসরায়েলের দাবি, হামলায় নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরের কাছাকাছি অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপকণ্ঠে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি থেকেই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাই এটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। হামলার পর প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, এটি কেবল একটি বার্তা। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত হতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়িও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরান বারবার জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ মেনে নেবে না। তার ভাষায়, “আজ রাতের জবাব ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি এই বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে।” মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যখন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তখন সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে তাকে নতুন করে পাল্টা হামলা না চালানোর অনুরোধ জানাবেন। মার্কিন সাংবাদিক বারাক রাভিদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের হামলায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আমি আশা করি ইসরায়েলও নতুন করে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। কারণ পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকলে এই সংঘাতের কোনো শেষ থাকবে না।” ট্রাম্প আরও জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অগ্রসর হয়েছে এবং তিনি চান না বর্তমান উত্তেজনা সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করুক। তার মতে, “আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। এটি একটি ইতিবাচক চুক্তি হতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেটি ভেস্তে যাক, তা আমি চাই না।” বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। যদিও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করছে, তবুও পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর ও মিজোরামে বসবাসরত ‘ব্নেই মেনাশে’ সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সরকার। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এই সম্প্রদায়টি বাইবেলে বর্ণিত ইসরায়েলের ‘দশটি হারিয়ে যাওয়া গোত্র’ বা ‘লস্ট ট্রাইবস’-এর বংশধর। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী ওফির সোফার সম্প্রতি এই আবাসন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। ‘অপারেশন উইংস অফ ডন’ (Operation Wings of Dawn) বা 'কানফেই সাহার' নামক এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫,৮০০ জন ভারতীয় ইহুদিকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ১,২০০ জন ব্নেই মেনাশে সদস্যকে ইসরায়েলে আনা হবে। অবশিষ্ট ৪,৬০০ জনকে পরবর্তী ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ইসরায়েল সরকার প্রায় ৯০ মিলিয়ন শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা) বরাদ্দ করেছে। ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের লোকেরা কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। মণিপুরে সাম্প্রতিক জাতিগত সংঘাতের ফলে এই সম্প্রদায়ের অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাইকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় গ্যালিলি (Galilee) ও নোফ হাগালিল এলাকায় পুনর্বাসিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবারগুলোকে একত্রিত করা হবে, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে ইহুদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার কৌশলও নিয়েছে তেল আবিব। ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের দাবি, খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ সালে আসিরীয়দের আক্রমণের পর তারা ইসরায়েল থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন। মধ্য এশিয়া ও চীন হয়ে একসময় তারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে থিতু হন। ২০০৫ সালে ইসরায়েলের প্রধান রাবাই (ধর্মগুরু) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্প্রদায়কে ‘ইসরায়েলের বংশধর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। গত দুই দশকে প্রায় ৪,০০০ ব্নেই মেনাশে সদস্য ইতোমধ্যে ইসরায়েলে পাড়ি জমিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক সদস্য ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তিতে ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ লেবাননের মারোনাইট খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেবেল গ্রামে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের আওতায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিটি একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে স্থাপিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা। আইডিএফ প্রথমে ছবিটির সত্যতা যাচাই করে এবং নিশ্চিত করেছে যে এটি প্রকৃত ঘটনা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সেনার এই আচরণ আইডিএফের প্রত্যাশিত মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল অনুসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান বলে অভিহিত করেছেন। কিছু প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ওই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পদ ধ্বংস করছে ও লুটপাট করছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের সর্বশেষ উদাহারণ এই ছবি, লিখেছে টাইমস অব ইসরায়েল। জেরুজালেমে খ্রীস্টান নেতাদের সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ছবি সামনে এল।
গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান। প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, যদি যুদ্ধবিরতি ভাঙা হয়, তাহলে তাদের যোদ্ধারা আবার ‘ট্রিগারে আঙুল রাখবে’। হিজবুল্লাহ–নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশন-এ প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সংগঠনটির মুজাহিদিনেরা প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো ‘বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা’ প্রতিহত করতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর বর্তালেও পরিস্থিতি অবনতি হলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে হিজবুল্লাহ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়। প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।
লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার এক ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টা (২১:০০ জিএমটি) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হলো। ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেন, "এই দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, দেশ দুটির মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ বিকেল ৫টা (EST) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।" এই শান্তি প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য ট্রাম্প একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান ‘রেজিন’ কেইন ইসরায়েল ও লেবাননের সাথে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে কাজ করবেন। নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে ট্রাম্প আরও বলেন, "বিশ্বজুড়ে ৯টি যুদ্ধ সমাধান করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল, আর এটি হতে যাচ্ছে আমার ১০ম সাফল্য। তাই চলুন, এটি সম্পন্ন করি!"
ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন এবং বর্ণবাদী নীতি অনুসরণের অভিযোগে ইসরায়েলকে জাতিসংঘ (UN) থেকে স্থগিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ১৫২তম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) অ্যাসেম্বলির উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, কুর্তুলমুস তার ভাষণে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৪ সালে বর্ণবাদী নীতির কারণে যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জাতিসংঘ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক আইন এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যা স্পষ্টত একটি বর্ণবাদী বা 'অ্যাপার্থাইড' ব্যবস্থার প্রতিফলন। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা চরম সংকটের মুখে পড়বে। কুর্তুলমুস আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, নির্বিচারে আটক এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র সমালোচনা, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং একের পর এক কূটনৈতিক আলোচনা। কিন্তু এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক শক্তি ইসরায়েলের ক্ষেত্রে। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যদিও দেশটি আজ পর্যন্ত এই বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। অথচ ইসরায়েলের এই গোপনীয়তা বা স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নেই কোনো চাপ। বিগত ১০ মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। যদিও এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত অকাট্য কোনো প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো একে পশ্চিমাদের 'দ্বিমুখী নীতি' বা 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান অভিযোগ করেছে যে, একই অঞ্চলে একটি দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব উত্তাল হলেও অন্য দেশের বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সবাই চোখ বুজে আছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘোতির ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের খবর নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী। সম্প্রতি বারঘোতির সাথে কারাগারে দেখা করার পর আইনজীবী বেন মারমারেলে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে তার মক্কেল অন্তত তিনবার বড় ধরনের সহিংস হামলার শিকার হয়েছেন। আইনজীবী মারমারেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এই পরিস্থিতিকে "গভীর উদ্বেগজনক" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৪শে মার্চ বারঘোতির সেলে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কুকুর লেলিয়ে দেয় ইসরায়েলি কারারক্ষীরা। এছাড়া গত ৮ই এপ্রিল তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। এর ফলে তিনি দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে কোনো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। মারমারেলে বলেন, "এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি পরিকল্পিত নির্যাতনের অংশ। সহিংসতা এবং সুচিকিৎসার অভাব তার জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।" উল্লেখ্য, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০২ সালে ইসরায়েল বারঘোতিকে গ্রেপ্তার করে। তাকে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও বারঘোতি বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ফিলিস্তিনিদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা এবং অনেকেই তাকে 'ফিলিস্তিনের নেলসন ম্যান্ডেলা' হিসেবে গণ্য করেন।
বিশ্ববাসীর নজর যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনার দিকে, ঠিক তখনই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র সেটেলাররা (দখলদার বসতি স্থাপনকারী)। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতার একাধিক চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ সকালেই ইসরায়েলি বাহিনীর কড়া পাহারায় উগ্রপন্থী ইহুদি সেটেলাররা পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে উসকানিমূলক তালমুডিক আচার অনুষ্ঠান পালন করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, হেব্রন শহরের উত্তর-পূর্বে আশ-শুয়ুখ নামক এলাকায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায় সশস্ত্র সেটেলাররা। তবে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী হেব্রন শহরের কেন্দ্রস্থল সিল করে দেয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। নাবলুসের উত্তর-পশ্চিমে বুরকা গ্রামের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় দুই ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ৬২ ও ২৪ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়া জেরিকোর উত্তরে আইন আল-আউজা ঝরনার কাছে পানির পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সেটেলাররা এবং বেথলেহেমের দক্ষিণে কৃষি জমি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বিচারে এই হামলা ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় পশ্চিম তীরে চরম মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও ইতালি একে অপরের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গবেষণার তথ্য আদান-প্রদান করত। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির এই ঘোষণার ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতায় বড় ধরনের ছেদ পড়ল। ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বলেছেন, "বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় মানবিক বিপর্যয় এবং সম্প্রতি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর আগে স্পেনও ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। ইতালির এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি রক্ষায় ‘চার দফা’ প্রস্তাব পেশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। শি জিনপিং সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বকে কোনোভাবেই ‘জঙ্গলের আইনে’ (law of the jungle) ফিরে যেতে দেওয়া যাবে না। প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এটিই চীনা প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে জোরালো এবং সরাসরি বক্তব্য। শি জিনপিংয়ের চার প্রস্তাবের মূল দিকগুলো: ১. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি’ বজায় রাখা। ২. টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা: একটি টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা, যা কোনো নির্দিষ্ট জোটের ওপর নির্ভরশীল হবে না। ৩. আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক আইনের কর্তৃত্ব রক্ষা করা এবং এর ‘নির্বাচিত প্রয়োগ’ বন্ধ করা। ৪. সার্বভৌমত্ব ও সমন্বয়: সকল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। বৈঠক শেষে চীনা সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শি জিনপিং আন্তর্জাতিক আইনের নিরপেক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে পরোক্ষভাবে সমালোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকে যখন খুশি তখন ব্যবহার বা ছুড়ে ফেলার সুযোগ নেই। সুবিধামতো আইন প্রয়োগ করলে বিশ্বজুড়ে চরম অরাজকতা তৈরি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট শি আরও জানান, চীন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সংলাপ প্রসারে সব সময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং কূটনৈতিক স্থাপনা ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি কড়া বার্তা দেন। বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই ‘টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো’র প্রস্তাব মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও সামরিক জোট ব্যবস্থার বিপরীতে একটি বিকল্প বৈশ্বিক নিরাপত্তার ধারণা। বেইজিং মনে করে, মার্কিন নীতিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই একতরফা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের একজন প্রভাবশালী সদস্য। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান জভিকা ফোগেল ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, "ডোনাল্ড, যদি আপনার গুলি করার থাকে তবে গুলি ছুড়ুন, হাঁসের মতো প্যাকপ্যাক করবেন না।" জভিকা ফোগেল ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দল 'জুয়িশ পাওয়ার' (ওতজমা ইহুদিয়া)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এই দলটি ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারের অন্যতম শরিক। দলটির প্রধান উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা ইতামার বেন-গভিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফোগেল। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইসরায়েল-গাজা পরিস্থিতি বা মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে আসা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেন ফোগেল। পশ্চিমা ঘরানার একটি জনপ্রিয় সিনেমাটিক সংলাপের ধাঁচে (If you have to shoot, shoot. Don’t talk) তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এই ব্যঙ্গাত্মক বার্তা দেন। মূলত ট্রাম্পের দীর্ঘ বাগাড়ম্বর বা মৌখিক হুঁশিয়ারির সমালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফোগেলের এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে এক ধরণের অদৃশ্য দূরত্ব বা অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবির ও ইসরায়েলি কট্টরপন্থীদের মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণে এই ধরণের কড়া সমালোচনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উগ্রপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত জভিকা ফোগেলের এই মন্তব্যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বা ট্রাম্প শিবিরে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেসেটের একজন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধানের পক্ষ থেকে এমন সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।