বিশ্ব

গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৫, যুদ্ধবিরতির পর বেড়েছে হামলার মাত্রা

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১০:২৪
Men carry the body of one of several victims who were killed after a police station was was hit by Israeli bombardment in the Jabalia camp.
Men carry the body of one of several victims who were killed after a police station was was hit by Israeli bombardment in the Jabalia camp.

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। 

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় একটি বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ট্যাংকের গোলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া পশ্চিম গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় একজন এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে একটি গাড়িতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও বিমান হামলার খবর দিয়েছেন।

 

এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই বলছে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতেই তারা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে।

 

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। হামাস তাদের নিজস্ব যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত প্রকাশ করে না। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

 

অন্যদিকে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, জুন মাসে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলার সংখ্যা ৪০টির বেশি ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা।

 

সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী গবেষণা ব্যবস্থাপক নাসের খদুর বলেছেন, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিতে পারেন।

 

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তপারের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উভয় পক্ষের এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বিশ্ব

View more
সিরিয়া-ইসরায়েল নিরাপত্তা চুক্তির পথে
সিরিয়া-ইসরায়েল নিরাপত্তা চুক্তির পথে? গোলান মালভূমির অধিকার ছাড়বে না দামেস্ক

ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ‘আল মুকাবলা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন একটি চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত শান্তির পথ তৈরি করতে পারে।   তবে সম্ভাব্য কোনো নিরাপত্তা সমঝোতা হলেও ইসরায়েলের দখলে থাকা গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ঐতিহাসিক ও আইনগত অধিকার কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন শারা।   গোলান মালভূমি একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চল, যা ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল দখল করে নেয়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে ইসরায়েল ওই অঞ্চল নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দিলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ তা স্বীকৃতি দেয়নি।   সিরীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, তার সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়িয়ে চলতে চায়। দুই দেশের মধ্যে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি একটি স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।   বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আহমেদ আল-শারা ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা, সীমান্ত উত্তেজনা এবং বিমান হামলার ঘটনা নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এমন এক সংঘাতপূর্ণ পরিবেশেই ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনার কথা সামনে আনলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট।   এদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, লেবাননে হিজবুল্লাহকে মোকাবিলায় সিরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকতে পারে।   তবে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা নেই সিরিয়ার। বরং তার সরকার লেবাননের বৈধ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার পথ খুঁজছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। দীর্ঘদিনের শত্রুতার পর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করলে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১:২৯
মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করায় দণ্ডিত ব্রিটিশ নারী ইসাবেল রোজ। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ অভিযোগ দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা! ব্রিটিশ নারীকে কারাগারে দিল হংকং আদালত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানি জাহাজে হামলার জবাব দেওয়া হবে, ইউক্রেনকে কড়া বার্তা আরাগচির

হামলার পর টিয়ারগার্টেন এলাকায় তদন্ত চালাচ্ছে জার্মান পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে সমকামীদের মিছিলে হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত

আল-আকসা সংলগ্ন নিজের বাড়ির সামনে ফিলিস্তিনি নারী আয়েশা মসলুহি। ছবি: সংগৃহীত
আল-আকসার পাশের ছোট্ট ঘরের জন্য ১০ লাখ ডলারের প্রস্তাব, ফিরিয়ে দিলেন ফিলিস্তিনি নারী

দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের মসজিদ আল-আকসা সংলগ্ন নিজের এক কক্ষের ছোট্ট বাড়ি বিক্রির জন্য দেওয়া ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনি নারী আয়েশা মসলুহি। তিনি বলেছেন, নিজের জন্মভূমি ও বাড়িঘর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।   তুরস্কভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়েশা মসলুহি জানান, মসজিদ আল-আকসা ও বোরাক স্কয়ারের কাছাকাছি অবস্থিত তার ছোট্ট বাড়িটি কেনার জন্য কয়েক দফায় বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সব প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেছেন।   আয়েশা বলেন, এক পর্যায়ে তিনি প্রস্তাবদাতাকে প্রশ্ন করেছিলেন, "মাত্র এক কক্ষের একটি ছোট বাড়ির জন্য কেন এত বড় অঙ্কের অর্থ দিতে চান?" জবাবে ওই ব্যক্তি নাকি বলেন, তারা একটি বাড়ি দিয়ে শুরু করতে চান। একবার একটি বাড়ি কিনতে পারলে ধীরে ধীরে আশপাশের আরও বাড়ি অধিগ্রহণ করা সহজ হবে।   এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে আয়েশা বলেন, "ইনশাআল্লাহ, তারা সেই শুরু করার সুযোগ পাবে না।" তিনি আরও বলেন, "যে নিজের মাতৃভূমি বিক্রি করে, সে নিজের সম্মান, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসও বিক্রি করে দেয়। আমি আশা করি, কেউই নিজের ভূমি শুধু অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেবে না।"   আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়েশার বাড়িটি পূর্ব জেরুজালেমের এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যা ধর্মীয় ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই সম্পত্তিটি নিয়ে আগ্রহ দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন ও অর্থায়নের মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমে সম্পত্তি কেনার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।   আয়েশা মসলুহি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের প্রতি আল-আকসা মসজিদের প্রতি আগ্রহ ও উপস্থিতি বজায় রাখার আহ্বানও জানান। তার ভাষায়, শুধু নামাজের সময় নয়, সব সময়ই আল-আকসা প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত থাকা প্রয়োজন। তিনি তুরস্কের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আল-আকসা ও জেরুজালেমের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা নানাভাবে সমর্থন দিয়ে আসছেন।   উল্লেখ্য, পূর্ব জেরুজালেমের মর্যাদা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত একটি বিষয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ পূর্ব জেরুজালেমকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, ইসরাইল পুরো জেরুজালেমকে তার রাজধানী বলে দাবি করে। এই অবস্থাকে কেন্দ্র করে শহরটিতে ভূমি, আবাসন ও বসতি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো প্রায়ই আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ২২:৫২
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাতে নির্মাণস্থলে ইট বহন করছে ইউয়ানইউয়ান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খরচ জোটাতে মায়ের সাথে কড়া রোদে ইট টানছেন চিনা তরুণ

অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামাল দিতে নতুন পরিকল্পনা করছে বার্সেলোনা। ছবি: সংগৃহীত

'আর একজন পর্যটকও নয়’! পর্যটকের চাপে অতিষ্ঠ ইউরোপের জনপ্রিয় শহর

গলার বিশেষ কলার খুলে বিড়ালটির তল্লাশি চালাচ্ছেন কারা কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার কারাগারে ধরা পড়ল মাদক পাচারকারী বিড়াল, তদন্ত শুরু

ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ
অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ

দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা এবং দুটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে নাবলুসের কাছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিম তীরে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল গ্রামের কাছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের একটি দল প্রবেশ করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা তাদের প্রতিহত করতে বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে সেখানে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারান। নিহত দুই সেনার একজন স্থানীয় নিরাপত্তা সমন্বয়কের দায়িত্বেও ছিলেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সংঘর্ষের সময় এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান। তবে পুরো ঘটনার পরিস্থিতি ও কার গুলিতে কারা নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।   এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর রোববার ভোরে পশ্চিম তীরের কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলার অভিযোগ ওঠে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে কুসরা গ্রামে একটি সদ্য নির্মিত মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রামের পরিষদপ্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি বলেন, হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘ইহুদি প্রতিশোধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে যায়। নিহত এক ইসরায়েলির নামও সেখানে লেখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।   ওয়াদি বলেন, ২০১১ সাল থেকে কুসরা গ্রাম বারবার হামলার শিকার হয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   একই দিনে তুলকারেম শহরের দক্ষিণ-পূর্বে কুর গ্রামের একটি মসজিদেও আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গ্রামের পরিষদ সদস্য ফারিদ জিয়ুসির ভাষ্য, ভোরে তিনজন বসতিস্থাপনকারী মসজিদটিতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। তবে মুসল্লিরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলায় তা মসজিদের মূল অংশে ছড়িয়ে পড়েনি। ওই মসজিদের দেয়ালেও হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি লেখা হয়েছে বলে তিনি জানান।   ঘটনার পর কুসরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে অগ্নিসংযোগের আলামত ও গ্রাফিতি দেখতে পেয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদেরও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ধর্মীয় স্থাপনায় হামলাসহ এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এলাকায় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।   পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অধিকাংশ দেশ ও জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ফিলিস্তিনিরা গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকদের একটি অংশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ ও মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও হামলার আশঙ্কা করছেন, আর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ৯:৩২
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

মোদির ইনস্টাগ্রাম রিলে ২৪ ঘণ্টায় ৩০ কোটির বেশি ভিউ, নতুন বিশ্বরেকর্ডের দাবি

১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা হত্যার দাবি ইরানের

১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা হত্যার দাবি ইরানের

গাজার শিশুদের আঁকা ছবি অফিসে রাখি

‘গাজার শিশুদের আঁকা ছবি অফিসে রাখি, যেন ভুলে না যাই: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

0 Comments