যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় পাকিস্তান ত্যাগ করেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। এই দলে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং ইরান মার্কিন প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি। সব মিলিয়ে, ব্যর্থ আলোচনার পর দুই পক্ষই পাকিস্তান ছেড়ে চলে গেছে। ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে এই বৈঠকটি শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত চলে। আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে কথা হলেও কোনো চুক্তি হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও সীমারেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছিল—কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং কোথায় নয়। তবে ইরান সেই শর্তগুলো মেনে নেয়নি বলে জানান তিনি।
ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে টানা আলোচনা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ করে ফিরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই ব্যর্থতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন বিকল্প দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথে থাকা। দ্বিতীয়ত, আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ানো—যা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। তৃতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়া। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিজেই জানাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও সীমারেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে, তবে ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তাদের সহজভাবে নতি স্বীকার করা উচিত। তবে অতীত অভিজ্ঞতা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। বারাক ওবামার সময় দুই দেশের মধ্যে বড় একটি চুক্তি করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল, যেখানে ইরানকে সীমিত আকারে পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রশ্ন। ইরান বলছে, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় নিজেদের ভূখণ্ডে এই কার্যক্রম চালানো তাদের অধিকার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দেয়। সাম্প্রতিক সংঘাত এই অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে। এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। কারণ, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাজার অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি তাদের অবস্থানকে দুর্বল করেনি, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আরও দৃঢ় করেছে। সব মিলিয়ে, আলোচনার এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে শক্ত মনে করছে। তাই আপাতত সমঝোতার সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। সূত্র – নিউইয়র্ক টাইমস
চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে নতুন দফায় সরাসরি আলোচনা চলছে। আলোচনাটি এখন গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এই বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি। সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদল কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখালেও মার্কিন প্রধান দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এদিকে আলোচনার মধ্যেই পাকিস্তানে ইরানের আরও কয়েকটি উড়োজাহাজ পৌঁছেছে। এক ঘণ্টার ব্যবধানে সেগুলো একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এই উড়োজাহাজগুলোর আগমনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় সহায়তার জন্য অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ দল আনা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। একটি সমাধানে পৌঁছাতে দুই পক্ষই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন এক অস্বাভাবিক নীরবতায় ঢেকে আছে। তবে এই নীরবতা স্বস্তির নয়, বরং চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সড়কে সশস্ত্র বাহিনীর টহল, যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ- কার্যত অবরুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশের উচ্চনিরাপত্তা এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেল খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ একটাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা। ঘটনার সূত্রপাত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নিহত হন বলে জানানো হয়। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়, তেলের দাম বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। এখন সেই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন দেশটির বিশেষ দূত এবং প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দুই পক্ষের প্রস্তাবে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর দাবিও রয়েছে। অন্যদিকে ইরান চায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা, পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার বজায় রাখা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়। এই আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ- ইসলামাবাদ একটি কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বললেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে আলোচনা অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। আলোচনার ধরন সরাসরি নয়। দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করবে এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মধ্যস্থতা করে বার্তা আদান-প্রদান করবেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে সামনে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আলোচনা সফল হলে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হয়ে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যর্থ হলে ২২ এপ্রিলের পর আবারও ভয়াবহ সংঘাত শুরু হতে পারে। তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা বজায় রেখে আলোচনা চলতে পারে। ইসলামাবাদে চলমান এই আলোচনার প্রতিটি সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। বিশ্বের জ্বালানি বাজার, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকনির্দেশনা—সবই এখন এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে জব্দকৃত সম্পদ ইস্যুতে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে কোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন এখনো পর্যন্ত তেহরানের সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এর আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, আলোচনার অগ্রগতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নাকি কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে জমা থাকা ইরানের অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন। উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন কারণে স্থগিত রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল সময়ে ভিন্নমুখী তথ্য সামনে আসা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই সংলাপে উভয় পক্ষই একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আস্থার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ওয়াশিংটনের হাতে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও উৎপাদন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে পাকিস্তানে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স। প্যারিস ত্যাগের আগে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান আলোচনায় কোনো কৌশলী আচরণ করলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেবে। বৈঠকের আগেই দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে ইরানকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বন্ধসহ সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান ১০ দফা প্রস্তাবে ক্ষতিপূরণ দাবি এবং হরমুজ প্রণালী-এ নিজেদের পূর্ণ অধিকার স্বীকৃতির কথা বলেছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক প্রেক্ষাপটে লেবানন ও ইসরায়েল-এর মধ্যেও নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর সাময়িক শান্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: NDTV
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননে অব্যাহত হামলার কারণে পুরো প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ–এ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের প্রস্তুতি চলছে। দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতির আওতায় আজ শুক্রবার থেকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা, আর শনিবার নির্ধারিত রয়েছে মূল বৈঠক। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি, দুই দেশের প্রতিনিধিদলে কারা অংশ নেবেন। পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা। যুদ্ধবিরতির পরও এই হামলা অব্যাহত থাকায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধ বন্ধ হবে না’। এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, তাদের প্রস্তাবিত ১০ দফার অন্তত তিনটি ইতিমধ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে আরও বড় পরিসরে হামলা চালানো হবে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে নিজেদের অধিকার নিয়ে কোনো ছাড় দেবে না। সংলাপকে ঘিরে ইসলামাবাদে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুই দিনের জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো কার্যত লকডাউন করা হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ থাকতে পারেন। আর ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় ওয়াশিংটন ইসলামাবাদকে আশ্বাস দিয়েছিল ইসরায়েলকে হামলা বন্ধে রাজি করানো হবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে, যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাই তুলে ধরছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ সংলাপ সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আপাতত দুই সপ্তাহের এই সময়ই নির্ধারণ করে দেবে—সংলাপ শান্তির পথ খুলবে, নাকি আবারও যুদ্ধের আগুন জ্বলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews