আমেরিকা

ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশা দেখছে হোয়াইট হাউস, ইসলামাবাদেই হতে পারে দ্বিতীয় দফা সংলাপ

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৬:১৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। দেশটির প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

 

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি, তবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউস আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়, কিন্তু আমরা ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছি।

 

প্রেস সচিব আরও জানান, সম্ভাব্য এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে গত সপ্তাহেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

 

হোয়াইট হাউসের ধারণা, পূর্ববর্তী বৈঠকের ধারাবাহিকতায় একই স্থানেই আবারও আলোচনা হতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই সংলাপ প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও কূটনৈতিক এই অগ্রগতি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: কোলাজ । আমেরিকা বাংলা
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল : সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানালেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বাতিল করার পর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি।   ৩০ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে দেড় শতাব্দীরও বেশি আগে অন্তর্ভুক্ত একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, আমেরিকার মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই মার্কিন নাগরিক। একজন মানুষের ত্বকের রঙ, বাবা-মায়ের জন্মস্থান, ধর্মীয় পরিচয় বা বাড়িতে কোন ভাষায় কথা বলা হয়, নাগরিকত্ব নির্ধারণে এসব বিষয়ের কোনো প্রভাব নেই।   মেয়র বলেন, এই বিষয়টি কখনোই বিতর্কের হওয়ার কথা ছিল না। তার ভাষায়, ফেডারেল প্রশাসন সংবিধানের অন্যতম স্পষ্ট নিশ্চয়তাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল, যাতে তারা নির্ধারণ করতে পারে কে এই দেশের অন্তর্ভুক্ত এবং কে নয়। আদালত সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে।   তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্ক সিটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের শক্তির একটি জীবন্ত উদাহরণ। অভিবাসী পরিবারের সন্তানরাই আজ শহরের শিক্ষক, নার্স, নির্মাণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পী, সরকারি কর্মচারী এবং সাধারণ প্রতিবেশী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।   নিউইয়র্কে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্দেশে মেয়র বলেন, পাঁচটি বরোজুড়ে বসবাসকারী প্রতিটি অভিবাসী পরিবারকে তিনি স্পষ্টভাবে জানাতে চান, তারা এই শহরেরই অংশ এবং তাদের সন্তানরাও এখানকারই অংশ।   তিনি বলেন, কোনো আদালত তাদের মানবিক মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডাও এই সত্য পরিবর্তন করতে পারবে না যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যই দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি।   বিবৃতির শেষাংশে মেয়র মামদানি অঙ্গীকার করেন, যতদিন তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন শহর অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা করবে, তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবে এবং আরও উন্নত আমেরিকা গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় তাদের পাশে থাকবে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৩:৪২
ভারতী শর্মা । ছবি: লিঙ্কডইন.কম

নিউইয়র্ক সিটির সেন্টার ফর ইনোভেশন থ্রু ডাটা ইন্টেলিজেন্সের নির্বাহী পরিচালক হলেন ভারতী শর্মা

মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি । ছবি: মেয়রের কার্যালয়

তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিশ্বকাপ ঘিরে নিউইয়র্কবাসীকে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান মেয়র মামদানির

ফ্লোরিডায় গাড়ির ভেতরে ২৩ মাসের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

স্কুলে নামাতে ভুলে যান বাবা, ফ্লোরিডায় গাড়ির ভেতরে ২৩ মাসের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আটটি এটিএম থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এটিএম হ্যাক করে ৫ লাখ ডলারের বেশি চুরি, গ্রেফতার ৪ জন

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটিএম থেকে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির অভিযোগে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তারা বিশেষ ধরনের হার্ডওয়্যার ও ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে এটিএমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে মেশিন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নিতেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনের অভিযানে কানেকটিকাটের ইন্টারস্টেট-৯৫ (I-95) মহাসড়কের বিভিন্ন বিশ্রামকেন্দ্রে থাকা এটিএমকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। ওই সময়ে অন্তত নয়টি এটিএমে হামলার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে আটটি এটিএম থেকে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ২২০ ডলার চুরি হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, অভিযুক্তরা এটিএমের ভেতরের যন্ত্রাংশে প্রবেশ করে বিশেষ হার্ডওয়্যার ও ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার করতেন। এরপর মেশিনকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো, যাতে সেটি প্রায় সীমাহীনভাবে টাকা বের করে দিতে থাকে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাছে এই কৌশলটি 'জ্যাকপটিং' নামে পরিচিত।   অভিযোগ অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে কানেকটিকাটের ফেয়ারফিল্ড এলাকায় আই-৯৫ মহাসড়কের উত্তরমুখী বিশ্রামকেন্দ্রের একটি এটিএমে। সেখান থেকে এক অভিযানে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ডলার তুলে নেওয়া হয়। তবে একই সময় অ্যানসোনিয়ার একটি এটিএমে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। কারণ, ওই মেশিনে আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদারে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছিল, যা হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত চারজন হলেন ইউক্লিডেস মোরেনো ইতানারে (২৮), উইলিয়ান রিকার্ডো ফ্লোরেস (৪৯), আলবার্তো হোসে ফ্রেইতেস আরভিলা (৪১) এবং লুইস হোসে ফ্রেইতেস আরভিলা (৩৮)। তারা সবাই ভেনেজুয়েলার নাগরিক। তাদের মধ্যে দুজন নিউইয়র্কে, একজন নর্থ ক্যারোলাইনায় এবং অপরজন ম্যাসাচুসেটসে বসবাস করতেন।   প্রসিকিউটরদের দাবি, প্রতিটি চুরির সময় অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডের ধরণ প্রায় একই ছিল। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, লুইস ফ্রেইতেস আরভিলা আশপাশে নজরদারির দায়িত্ব পালন করতেন। অন্যদিকে আলবার্তো ফ্রেইতেস আরভিলা এটিএমের ঢাকনা খুলে ভেতরের যন্ত্রাংশে প্রবেশ করতেন। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে অন্য সদস্যরা পালাক্রমে এটিএম থেকে টাকা তুলে নিয়ে যেতেন।   তদন্তে আরও জানা গেছে, সন্দেহ এড়াতে তারা একই এটিএমে বারবার যাওয়ার আগে পোশাক পরিবর্তন করতেন এবং নিজেদের চেহারা আড়াল করারও চেষ্টা করতেন। গত বৃহস্পতিবার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), কানেকটিকাট স্টেট পুলিশ এবং নিউইয়র্ক ও নর্থ ক্যারোলাইনার স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।   বর্তমানে তারা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে চুরি করা সম্পদ অঙ্গরাজ্যের সীমানা পেরিয়ে পরিবহন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রথম অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং দ্বিতীয় অভিযোগে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মামলার সঙ্গে প্রকাশ করা কয়েকটি ছবিতে অভিযুক্তদের এটিএমের যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করতে এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ হাতে নিয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিএমে জ্যাকপটিং পদ্ধতির হামলা নতুন নয়। ২০১৮ সালেই বিশ্বের কয়েকটি বড় এটিএম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস সতর্ক করেছিল যে সাইবার অপরাধীরা বিশেষ ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে এটিএমের নিরাপত্তা ভেঙে নগদ অর্থ চুরির চেষ্টা করছে। এরপর থেকে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করলেও এ ধরনের হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ২৩:১৬
টেক্সাসে ড্রাইভিং লাইসেন্সের নিয়ম বদলাতে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে ড্রাইভিং লাইসেন্সের নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব, বিপাকে পড়তে পারেন বৈধ ভিসাধারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের নিয়মে বড় পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত

১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের নতুন নিয়ম কার্যকর, প্রভাব পড়বে লাখো শিক্ষার্থীর ওপর

ক্রিপ্টো ব্যবসাই এখন ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে এক বছরে ট্রাম্পের আয় প্রায় ১২০ কোটি ডলার, প্রকাশ্যে সরকারি নথি

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসন ধাক্কা খেলেও আশা ছাড়ছেন না জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘ভুল’ বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে রায়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য পুরোপুরি হতাশাজনক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিভক্ত এই রায় ভবিষ্যতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রেখে দিয়েছে।   মঙ্গলবার ফক্স নিউজ-এর অনুষ্ঠান দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, অনেক রক্ষণশীল সমর্থক এই রায়ে হতাশ হলেও তিনি এর মধ্যে একটি "বড় ইতিবাচক দিক" দেখছেন।   ভ্যান্সের ভাষ্য, অনেক আইন বিশেষজ্ঞ ধারণা করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও বড় ব্যবধানে হারতে পারে। কিন্তু আদালতের বিভক্ত অবস্থান প্রমাণ করে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যাখ্যা নিয়ে বিচারপতিদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে।   তিনি বলেন, "অনেকে ভেবেছিলেন রায় ৭-২ বা ৮-১ হবে। কিন্তু ৫-৪ ব্যবধানের রায় দেখাচ্ছে, বিষয়টি এখনও বিতর্কের বাইরে নয়।" এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে, যেখানে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসী এবং অস্থায়ীভাবে দেশটিতে আসা বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন, এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের সঙ্গে বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট, সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান এবং কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ আলাদা মত দিয়ে বলেন, নির্বাহী আদেশটি ১৪তম সংশোধনী লঙ্ঘন না করলেও ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকের ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, বিদেশ থেকে গর্ভবতী নারীরা শুধু সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে এলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের সুযোগ পেতে পারেন, যা তিনি "অযৌক্তিক" বলে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, এই রায়ের কারণে অভিবাসন নীতিতে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার করেন তিনি। ভ্যান্সের ভাষায়, "আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, কারণ এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ এখনও রয়েছে।"   জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্কিত একটি বিষয়। ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নীতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়। তবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ব্যাখ্যা নিয়ে আদালত ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ের পর বিষয়টি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন আইনি বা নীতিগত পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর পর্যবেক্ষকদের।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ২১:১৮
নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণে দেশ বদল করেছিলেন তারা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বাড়ি কেনা সম্ভব হয়নি, ইতালির ছোট্ট গ্রামে নগদ টাকায় মিলল নিজের বাড়ি

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কে ১২৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাজেট অনুমোদন, তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদরা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় ১২ ফুট কুমিরের সঙ্গে লড়েও প্রেমিকাকে বাঁচাতে পারলেন না প্রেমিক, প্রাণ গেল তরুণীর

0 Comments