অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বি-২ ভিসার জন্য আবেদনকারীদের চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয়ের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ভিসায় আবেদনকারীদের জন্য কী বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র?

মার্কিন চিকিৎসা ভিসায় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বাধ্যতামূলক, করদাতাদের ওপর বোঝা না হওয়ার বিষয়টি যাচাই করবে কনস্যুলার কর্মকর্তা   যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বি-২ ভিসার জন্য আবেদনকারীদের চিকিৎসা ব্যয়, সংশ্লিষ্ট সব খরচ এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের ব্যয় বহনের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি আবেদন কনস্যুলার কর্মকর্তারা পৃথকভাবে পর্যালোচনা করবেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্র সফর দেশটির করদাতাদের ওপর কোনো আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে না।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য বি-২ ভিসা আবেদনকারীদের সাধারণত নিজ দেশের একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগ নির্ণয়সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হয়। এতে কেন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা প্রয়োজন, তার চিকিৎসাগত কারণ উল্লেখ থাকতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের যে হাসপাতাল বা চিকিৎসক চিকিৎসা দিতে সম্মত, তাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সম্ভাব্য সময়কাল, ব্যয় এবং চিকিৎসা গ্রহণের সম্মতিপত্রও দাখিল করতে হতে পারে।    এ ছাড়া আবেদনকারী বা তার চিকিৎসার ব্যয় বহনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, আয়-সঞ্চয়ের নথি কিংবা কর-সংক্রান্ত কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে চিকিৎসা, আবাসন, যাতায়াত এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহনের পর্যাপ্ত সামর্থ্য রয়েছে।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা আবেদনগুলো মামলাভিত্তিক পর্যালোচনা করা হয়। কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ভিসা পাওয়ার যোগ্য কি না। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত হন যে আবেদনকারী চিকিৎসা বা অন্যান্য ব্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না এবং এতে মার্কিন করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে না।

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর শিশুদের নিয়ে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে সীমান্তেই আটকে দেওয়া হলো এক পরিবারকে | ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হলো না কানাডীয় পরিবারকে

শিশুদের নিয়ে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এক কানাডীয় পরিবারকে সীমান্তে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মুঠোফোন তল্লাশি করা হয় এবং একজনের ফোন রেখে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফোনটি ফেরত পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের এক বন্ধুর ভাষ্য।   ঘটনাটি সামনে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। ভ্রমণকারীদের এক বন্ধু ওই পোস্টে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সীমান্তে কী ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। পরে ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রাভেল ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, পরিবারটির সদস্যরা কানাডার নাগরিক। তবে সীমান্তে নথিপত্র পরীক্ষা করার সময় তাদের কাছে তিউনিসিয়ার পাসপোর্টও পাওয়া যায়। এরপর তাদের আরও বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।   তবে তিউনিসিয়ার দ্বিতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণেই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, এমন কোনো তথ্য মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি নিশ্চিত করেনি। পরিবারটির প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নির্দিষ্ট কারণও প্রকাশ্যে জানা যায়নি।   পরিবারটির বন্ধুর দাবি, সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনের সময় তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং মুঠোফোন পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে একজনের ফোন নিজেদের কাছে রেখে দেন সিবিপি কর্মকর্তারা।   পোস্টে আরও দাবি করা হয়, শুরুতে কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে প্রক্রিয়াটি শেষ হতে বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু অপেক্ষা দীর্ঘ হতে হতে প্রায় ১২ ঘণ্টায় গড়ায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে কানাডায় ফেরত পাঠানো হয়।   পরিবারটির একজনের মুঠোফোন ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফেরত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পোস্টদাতা। ফোনটির বিষয়ে জানতে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।   এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সিবিপির পক্ষ থেকেও পরিবারটির পরিচয়, ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের কারণ কিংবা ফোনটি দীর্ঘ সময় ধরে রাখার বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে বিদেশি ভ্রমণকারীদের সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সিবিপির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় নথিপত্র বা দেওয়া তথ্যে কোনো বিষয় আরও যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশ্ন দেখা দিলে অথবা কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন মনে করলে একজন যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠাতে পারেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীকে দৈবচয়নের ভিত্তিতেও অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়।   সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথগুলোতে ৪২ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠানো হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর প্রায় ৩ শতাংশ।   সীমান্তে মুঠোফোন তল্লাশির বিষয়েও সিবিপির নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশটি থেকে বের হওয়ার সময় কর্মকর্তারা প্রয়োজনে যাত্রীর মুঠোফোন, কম্পিউটার, ক্যামেরাসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করতে পারেন। সিবিপির হিসাবে, ২০২৪ অর্থবছরে ৪৭ হাজার ৪৭ জন আন্তর্জাতিক যাত্রীর ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করা হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশেরও কম।   সিবিপির নীতিমালা অনুযায়ী, সীমান্ত তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাময়িকভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারেন কর্মকর্তারা। পাঁচ দিনের বেশি ডিভাইস রাখতে হলে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ১৫ দিনের বেশি রাখার ক্ষেত্রেও আরও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন।   তাই আলোচিত ঘটনায় ফোনটি সত্যিই তিন সপ্তাহ ধরে সিবিপির কাছে থেকে থাকলে সেটি সাধারণ প্রাথমিক সময়সীমার চেয়ে দীর্ঘ। তবে কেন ফোনটি রাখা হয়েছে বা এর জন্য প্রয়োজনীয় ঊর্ধ্বতন অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   কানাডার নাগরিকদের সাধারণ পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কানাডার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথে একজন বিদেশি নাগরিককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সিবিপি কর্মকর্তাদের রয়েছে।   এ কারণে পরিবারটির দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর অতিরিক্ত যাচাই শুরু হওয়ার দাবি সংবাদটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, সেই পাসপোর্টকেই তাদের প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখানোর মতো সরকারি তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে আইসের হাতে আটক হলেন ইউক্রেনীয় নারী ইরিনা গোর্ব | ছবি: সংগৃহীত
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ বছর পর আটক ইউক্রেনীয় নারী, উত্তাল সান ফ্রান্সিসকো

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের হাতে এক ইউক্রেনীয় নারী আটকের ঘটনায় উদারপন্থী শহরটিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসকারী ওই নারীর আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৮ বছর বয়সী ইরিনা গোর্ব পেশায় একজন কফি তৈরির কারিগর এবং পেশাদার আলোকচিত্রী। গত বুধবার পোর্টল্যান্ড থেকে সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে ফিরে আসার পর ফেডারেল এজেন্টরা তাকে আটক করেন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ইরিনা ২০১০ সালের জুলাই মাসে আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০১১ সালের মে মাস পর্যন্ত তার ভিসার মেয়াদ ছিল। কিন্তু এরপরও তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের একটি দোকানের সামনে কয়েকজন সাদা পোশাকের এজেন্ট ইরিনাকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন। এ সময় তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় যে তাকে শ্বাসরোধ করা হচ্ছে এবং তিনি ইউক্রেন থেকে এসেছেন। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা এজেন্টদের পরিচয়পত্র দেখতে চান এবং আটকের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে এজেন্টরা তাকে একটি হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যান।   আইসিই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরিনা পালানোর চেষ্টা করায় এবং গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তাকে হেফাজতে রেখে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের মুখপাত্র বলেছেন, অনিয়মিত প্রবাসীদের জন্য নিজ দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এদিকে এই ঘটনায় সান ফ্রান্সিসকোর প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর স্কট উইনার এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইরিনা সান ফ্রান্সিসকোতে নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলেছিলেন এবং তিনি কোনো অপরাধ করেননি। অথচ তাকে জোরপূর্বক ধরে এমন একটি দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে, যা বর্তমানে যুদ্ধের মুখোমুখি। এছাড়া রিচমন্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য ডোরিয়া রবিনসন এই আটককে একটি 'অপহরণ' বলে অভিহিত করেছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশি নাগরিকদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭টি প্রধান আইনি পথ প্রকাশ করল যুক্তরাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭টি আইনি পথ জানাল সরকার

বিদেশি নাগরিকরা কীভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে সাতটি প্রধান আইনি পথের তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক, বসবাসের ইতিহাস ও আইনি অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নির্ধারণ করা হয়।   যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব, ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং কিছু ঐতিহাসিক পরিস্থিতির আওতায় আবেদন।   সরকারের প্রকাশিত সাতটি প্রধান পথ হলো: প্রথমত, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে শুধু যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না; বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থা ও জন্মের সময়কার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।   দ্বিতীয়ত, ব্রিটিশ নাগরিকের স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনারের মাধ্যমে আবেদন। নির্ধারিত সময় যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাস এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।   তৃতীয়ত, আইরিশ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ। নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী কিছু আইরিশ নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন।   চতুর্থত, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বিধান। যাদের কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই, তারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেতে পারেন।   পঞ্চমত, আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এমন ব্যক্তিরা। যারা আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পুনরায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।   ষষ্ঠত, বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেদন। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইনের আওতায় কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।   সপ্তমত, চাগোসিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুযোগ। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট বংশধররা বিশেষ নিয়মের অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন।   এ ছাড়া সাধারণভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে বৈধ বসবাসের নির্দিষ্ট সময় পূরণ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ‘লাইফ ইন দ্য ইউকে’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ‘গুড ক্যারেক্টার’ বা ভালো নৈতিক অবস্থানের প্রমাণ দেওয়া।   তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ভিসার ধরন, যুক্তরাজ্যে থাকার ইতিহাস, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত ও প্রমাণপত্র ভালোভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

তাবাস্সুম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ঋণমুক্ত জীবনের আশায় দুই সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে না পেরে ভিটেমাটি ত্যাগ: বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমাচ্ছেন অস্ট্রেলীয় দম্পতি

অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন খরচ এবং আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের এক দম্পতি। নিজেদের বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আশা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই ঋণমুক্ত জীবন শুরু করতে পারবেন।   ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের বাসিন্দা ক্রিস্টি-গ্লোরি গ্যালো (কেজি) এবং তার স্বামী রিকার্ডো পারাটা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইতালির তুসকানি অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর লুক্কায় বসবাস শুরু করবেন। দম্পতির দুই সন্তানের বয়স ১১ ও ৭ বছর। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করেছেন তারা।   ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, তারা অল্প বয়সেই বিয়ে করেছেন, বাড়ি কিনেছেন, ব্যবসা শুরু করেছেন, ব্যবসা বিক্রিও করেছেন, সম্পত্তি সংস্কার করেছেন এবং পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি দুই সন্তানকে বড় করেছেন। জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রচলিত সব পথই অনুসরণ করেছিলেন তারা। কিন্তু এত কিছুর পরও কাঙ্ক্ষিত আর্থিক স্বস্তি পাননি।   তার ভাষায়, "আমরা বসে নিজেদের প্রশ্ন করলাম, এত চেষ্টা করার পরও কেন মনে হচ্ছে আমরা এগোতে পারছি না?" ক্রিস্টি-গ্লোরি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও স্টাইলিং খাতে কাজ করেন। অন্যদিকে রিকার্ডো শিক্ষা খাতে কর্মরত। তারা জানান, প্রতিদিনের খরচ বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরো জীবনযাত্রা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন।   ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "প্রতিবার বিল এলে গভীর শ্বাস নিতে হতো। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, সেটাও দেখে নিতে হতো।" তিনি আরও বলেন, তার স্বামীর আয়ের ওপর করের বোঝাও অনেক বেশি হয়ে উঠেছিল।   গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে খরচ কমানোর জন্য পরিবারটি নানা উদ্যোগ নেয়। বিনোদনমূলক অনলাইন সেবার সদস্যপদ বাতিল করা, সন্তানের ফুটবল ক্লাব পরিবর্তন করা, অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, "আমরা বিলাসবহুল গাড়ি চালাই না। খুব সাধারণভাবেই জীবন কাটিয়েছি। তারপরও মনে হয়েছে শুধু খরচ কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।" শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নেন, জীবনযাত্রাকে আরও সীমাবদ্ধ না করে বরং নতুন দেশে নতুনভাবে শুরু করবেন। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ ছিল আবাসনের দামের বিশাল পার্থক্য।   দম্পতি জানান, ২০২৩ সালে তারা গোল্ড কোস্টে ৫ লাখ ২৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে একটি টাউনহাউস কিনেছিলেন। পরে সেটি সংস্কার করেন। বর্তমানে বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কাছাকাছি। অন্যদিকে ইতালির লুক্কায় তারা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) মূল্যের সম্পূর্ণ সংস্কার করা তিন শয়নকক্ষের একটি বাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন।   তাদের দাবি, বাড়িটিতে নতুন পাইপলাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জানালা ও তাপ নিরোধকসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা আগে থেকেই রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত সংস্কারের প্রয়োজন হবে না। অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি বিক্রি করলে ইতালির নতুন বাড়ি কেনার পরও তাদের হাতে সঞ্চয় থাকবে এবং সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত জীবন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।   পরিবারটির ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পথ সহজ হয়েছে রিকার্ডোর ইতালীয় বংশসূত্রের কারণে। তিনি ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দুই সন্তানও দ্বৈত নাগরিকত্ব অর্জন করেছে। আর ক্রিস্টি-গ্লোরি স্বামীর মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন এবং তিন বছর পর ইতালির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   তিনি স্বীকার করেন, এই সুযোগ সবার জন্য সহজলভ্য নয়। ক্রিস্টি-গ্লোরি আরও জানান, জীবনে দুবার মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, "এ ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষকে বদলে দেয়।" তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় অনেক মানুষ বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারটি যখন নতুন জীবনের সুবিধা-অসুবিধার তালিকা তৈরি করে, তখন সবচেয়ে বড় ভয় ছিল ৪০ বছর বয়সে পৌঁছে এই সুযোগ না নেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হওয়া।   ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "ওটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।" নতুন জীবনে তারা সন্তানদের নিয়ে আরও বেশি সময় বাইরে কাটাতে, সাইকেল চালাতে, ফুটবল খেলতে এবং ইতালীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যেতে চান। তিনি বলেন, "এখন প্রথমবারের মতো ভবিষ্যতের চাকরি নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে অনেক হালকা লাগছে। আমরা আর ঋণের বোঝা নিয়ে বাঁচব না।"   সূত্র: ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ
ট্রাম্পের অভিবাসন কড়াকড়ির মাঝে কোন মার্কিন ভিসা এখনো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ, বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। শিক্ষার্থী, কর্মসংস্থান ও পারিবারিক ভিসাসহ বিভিন্ন অভিবাসন ক্যাটাগরিতে কড়াকড়ির আলোচনা চললেও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচি এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।   ইবি-৫ হলো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমাণ বিনিয়োগ করে অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলে বিদেশি বিনিয়োগকারী, তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। ২০২২ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া ইবি-৫ রিফর্ম আন্ড ইন্টেগ্রিটি এক্ট এর আওতায় বর্তমানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করেছে।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি নতুন “গোল্ড কার্ড” কর্মসূচির প্রস্তাব সামনে আনলেও সেটি এখনো আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো অভিবাসন কর্মসূচি নয়। অন্যদিকে ইবি-৫ কংগ্রেস অনুমোদিত বিদ্যমান একটি কর্মসূচি হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী এখনো এটিকেই বেশি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।   ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবী রন ক্লাসকো বলেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তিনি ইবি-৫ এবং প্রস্তাবিত গোল্ড কার্ড কর্মসূচির আইনি পার্থক্য ব্যাখ্যা করেন। তার অভিজ্ঞতায়, অধিকাংশ ক্লায়েন্ট শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ইবি-৫ কর্মসূচিকেই বেছে নেন।   অন্যদিকে কর্নেল ল স্কুলের সাবেক অভিবাসন আইন অধ্যাপক ও দীর্ঘদিনের ইবি-৫ বিশেষজ্ঞ স্টিফেন ইয়েল-লোয়ের বলেন, ইবি-৫ কর্মসূচির অন্যতম কঠিন দিক হলো বিনিয়োগের অর্থের বৈধ উৎস কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। তার মতে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচি চালু হলেও একই ধরনের আর্থিক ও আইনি যাচাই অপরিহার্য হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চলতি অর্থবছরের ভিসা বরাদ্দ অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে ইবি-৫ ক্যাটাগরিতে মোট ১৩ হাজার ২০৬টি অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ রয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি তার স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের ভিসাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।   বাংলাদেশের আবেদনকারীদের জন্যও তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক একটি দিক রয়েছে। চীন ও ভারতের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে ইবি-৫ আবেদনকারীর সংখ্যা এখনো কম। ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে সেই দেশগুলোর তালিকায় নেই, যাদের জন্য ইবি-৫ ভিসায় দীর্ঘ দেশভিত্তিক অপেক্ষা বা রেট্রোগ্রেশন রয়েছে। সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো “অল চার্জাবিলিটি এরিয়াস” বা সাধারণ বৈশ্বিক কোটার আওতায় রয়েছে, যা যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।   তবে আইনজীবীরা সতর্ক করে বলছেন, ইবি-৫ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত মনে করার সুযোগ নেই। আবেদনকারীর বিনিয়োগের অর্থের বৈধ উৎস, প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্ত এবং জাতীয় নিরাপত্তা যাচাইসহ একাধিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই আবেদন অনুমোদিত হয়। ভুল প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও থেকে যায়।   অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা, কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা এবং অন্যান্য অভিবাসন ক্যাটাগরিতে বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই, দীর্ঘ প্রসেসিং সময় এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনেক আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো মার্কিন ভিসা ক্যাটাগরিকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাবে না। তবে দীর্ঘদিনের আইনি কাঠামো, কংগ্রেসের অনুমোদন এবং চলমান কার্যক্রমের কারণে ইবি-৫ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসনের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা, ভিসা বুলেটিন এবং অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসীদের কাজের অধিকার রক্ষায় ট্রাম্পের নীতির ওপর বোস্টন আদালতের সাময়িক স্থগিতাদেশ। ছবি: সংগৃহীত
হাজারো অভিবাসীর স্বস্তি, কর্মঅনুমতি বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আটকাল ফেডারেল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী এবং টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) কর্মসূচির আওতায় থাকা হাজারো অভিবাসীর জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। মঙ্গলবার ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতির ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, যার ফলে হাজারো আশ্রয়প্রার্থী ও টিপিএসধারী অভিবাসী তাদের বৈধভাবে কাজ করার অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছিলেন।    মার্কিন জেলা বিচারক নাথানিয়েল গর্টন এই আদেশ দেন। তিনি বলেন, মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পারবে না। আদালত জানিয়েছেন, আগামী ৫ আগস্ট তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন এই স্থগিতাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকবে কি না।    মামলাটি দায়ের করে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক কয়েকটি সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের একটি জোট। তাদের অভিযোগ, কংগ্রেসে গত বছর পাস হওয়া নতুন অভিবাসন আইনের কিছু বিধান ইউএসসিআইএস যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পূর্ববর্তী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে চেয়েছিল। এর ফলে হাজারো আশ্রয়প্রার্থী ও টিপিএসধারী কর্মঅনুমতি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন।    আদালতের আদেশ অনুযায়ী, প্রশাসন আপাতত কর্মঅনুমতি বাতিল করতে পারবে না বা নতুন বিধিনিষেধের কারণে কর্মঅনুমতি প্রত্যাহার করতে পারবে না। তবে আশ্রয় আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নতুন ফি আদায়ের বিষয়টি এই আদেশের আওতার বাইরে রয়েছে।    মামলায় বিশেষভাবে এল সালভাদর, সুদান ও ইউক্রেনের টিপিএসধারীদের বিষয়টি উঠে এসেছে। টিপিএস এমন একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য গুরুতর সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি পান।    অভিবাসী অধিকারকর্মীরা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে হাজারো পরিবারের জীবিকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্যে এটিও একটি উল্লেখযোগ্য মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিতে কঠিন হচ্ছে হাজারো মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথ
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিতে কঠিন হচ্ছে হাজারো মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর লাখো মানুষ শিক্ষার্থী ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড কিংবা অন্যান্য বৈধ অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটিতে আসার চেষ্টা করেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে একের পর এক কঠোর অভিবাসন নীতি কার্যকর ও প্রস্তাবিত হওয়ায় বৈধ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথ আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।    ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে এর প্রভাব শুধু অবৈধ অভিবাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থী, দক্ষ পেশাজীবী, গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী এবং পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম ও বাড়তি যাচাইয়ের প্রভাব পড়ছে।    সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন বিতর্কিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পারিবারিক অবস্থা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়ন করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এই নীতির উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে স্বনির্ভর অভিবাসীদের উৎসাহিত করা।    এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করা কিছু গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীর জন্য ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড চালুর একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত না হলেও এটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।    অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ভিসা আবেদনকারীর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশনা দিয়েছে। এফ, এম ও জে ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা, এইচ-১বি এবং আরও কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল উন্মুক্ত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোরভাবে করা যায়।    এছাড়া সাম্প্রতিক এক চূড়ান্ত নিয়মে এফ, জে এবং আই ভিসাধারীদের দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিত্তিতে অবস্থানের নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে।    অভিবাসন আইনজীবীদের জাতীয় সংগঠন আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (AILA) নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, এই পরিবর্তনের ফলে অভিবাসন ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি বাড়তে পারে, একই সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হবে, যা অভিবাসী পরিবার ও কমিউনিটির জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।    AILA-এর প্রেসিডেন্ট জেফ জোসেফ এক বিবৃতিতে বলেন, বহু বছর ধরে কংগ্রেস নির্ধারিত সুস্পষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে পাবলিক চার্জ মূল্যায়ন করা হতো। নতুন নীতিতে সেই স্বচ্ছ কাঠামো থেকে সরে এসে কর্মকর্তাদের বিবেচনাধীন ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে, যা আবেদনকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।    অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ভিসা, কর্মভিত্তিক ভিসা, গ্রিন কার্ড বা পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের আবেদন করার আগে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করা উচিত। তাদের মতে, বর্তমান নীতিগত পরিবেশে ছোট একটি অসঙ্গতিও অতিরিক্ত যাচাই, বিলম্ব বা আবেদন জটিল হওয়ার কারণ হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশি সন্ত্রাসীদের নির্বাসনে ৩০ বছরের পুরোনো গোপন আদালতে প্রথমবারের মতো আবেদন করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ছবি: এপি
বিদেশি সন্ত্রাসী তাড়াতে ৩০ বছরের পুরনো গোপন আদালত সচল করল মার্কিন বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত বিদেশি সন্ত্রাসীদের নির্বাসনের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগ ৩০ বছর আগে তৈরি একটি গোপন ও নিষ্ক্রিয় আদালতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি আবেদন ফাইল করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন গত বুধবার এই আবেদনটি জমা দেয়। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশেষ আদালতে সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে কখনো কোনো পিটিশন দাখিল করা হয়নি।   পাঁচ সদস্যের এই আদালতের প্রধান বিচারক জোয়ান এরিকসেন এক লিখিত আদেশে জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার এই আবেদনের ওপর একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সাথে সরকারের দাবিকৃত সুনির্দিষ্ট আইনি ধারাগুলোর যোগসূত্র নিয়ে আদালত কিছু প্রশ্ন তুলেছে। ফেডারেল বিচারক এরিকসেন বিচার বিভাগকে আগামী বুধবারের মধ্যে এ বিষয়ে আরও অতিরিক্ত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।   আদালতের এই বিশেষ ক্ষমতাটি ১৯৯৬ সালের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতা থেকে এসেছে। এই আইনের অধীনে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল বা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সরাসরি অনুমোদনে যেকোনো সন্দেহভাজন বিদেশি সন্ত্রাসীকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সিলমোহরযুক্ত গোপন আবেদন ফাইল করা যায়। ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকা, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা উস্কানি দেওয়া অথবা এই ধরনের কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এর আওতায় পড়েন।   আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস কর্তৃক নির্বাচিত পাঁচজন বিচারক নিয়ে এই বিশেষ আদালত গঠিত। গত তিন দশক ধরে এই আদালতে কোনো আবেদন বা শুনানি না হলেও সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র গতিতে অভিবাসী বহিষ্কার অভিযানের অংশ হিসেবে এটিকে সচল করা হলো। এই গোপন আবেদনের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে কোর্ট ওয়াচ নামের একটি স্বাধীন সংবাদ সাইট।   এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ১৭৯৮ সালের একটি যুদ্ধকালীন আইন ব্যবহার করে ভেনিজুয়েলার অভিবাসীদের সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের সদস্য আখ্যা দিয়ে তাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই ওয়াশিংটনের বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো অভিবাসীকে তাড়াতে হলে এই নিষ্ক্রিয় আদালতটিই হতে পারে সরকারের আসল ফোরাম।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

তাবাস্সুম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
কাগজে জমা দেওয়া নাগরিকত্ব আবেদন ফরমের ফি ৭৬০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার স্বপ্ন কি এখন শুধু ধনীদের? নাগরিকত্বের খরচ বাড়িয়ে নতুন চাপে নিম্ন আয়ের অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন করতে আগ্রহী অভিবাসীদের ব্যয় বড় ধরনের বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কাগজে জমা দেওয়া নাগরিকত্ব আবেদন ফরমের ফি বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারে পৌঁছাবে। অনলাইনে আবেদনের খরচও ৭১০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে।   প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে একে পাসপোর্ট ফি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এটি সরাসরি মার্কিন পাসপোর্টের মূল্য নয়। এই অর্থ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য এন ৪০০ ফরম জমা দেওয়া বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন, শপথ গ্রহণ এবং নাগরিকত্ব সনদ পাওয়ার পরই একজন ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন।   নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হলে কাগজে নাগরিকত্ব আবেদন করার খরচ প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং অনলাইনে আবেদনের খরচ প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে থাকা ৩৮০ ডলারের বিশেষ কম ফি বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।   নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত এন ৩৩৬ ফরমের ফিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কাগজে এই আবেদন জমা দিতে প্রস্তাবিত ফি ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে জমা দিলে ১ হাজার ৪২৫ ডলার হতে পারে।   বর্তমানে এন ৪০০ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আবেদনকারী প্রশাসনিক শুনানির অনুরোধ জানাতে এন ৩৩৬ ফরম ব্যবহার করতে পারেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ দুই ধরনের আবেদনেই ফি মওকুফের সুযোগ সীমিত বা বাতিল করা হতে পারে।   মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া থেকে যারা সরাসরি সুবিধা পান, তাদের কাছ থেকে এর পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ নেওয়া হলে ব্যবস্থা আরও ন্যায্য হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস মূলত আবেদন ও অন্যান্য অভিবাসন সেবার ফি দিয়ে পরিচালিত হয়।   তবে প্রস্তাবিত নতুন হার এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। নিয়ম তৈরির সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন ফি কার্যকর হতে পারে। ফলে বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি ফি তালিকা দেখে সঠিক অর্থসহ আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য সাধারণভাবে একজন আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময় বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়। এরপর এন ৪০০ ফরম জমা দেওয়ার পাশাপাশি পরিচয় ও অভিবাসনসংক্রান্ত যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা ও নাগরিক জ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।   নতুন প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার আগে নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়ার চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন অভিবাসনসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ছাড় বাতিল হলে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর থেকে ফু নুয়েনকে গ্রেপ্তারের মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অস্ট্রেলীয় নাগরিকে বিমানবন্দরেই মাটিতে ফেলে হাতকড়া, জরুরি ব্যাখ্যা চাইল অস্ট্রেলিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অস্ট্রেলীয় নাগরিককে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ওই অভিযানটি পরিচালনা করেছিলেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর কর্মকর্তারা। তবে ঘটনাস্থলে তারা গ্রেপ্তার সম্পন্ন না করেই সরে যান।    অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ৫৭ বছর বয়সী ফু নুয়েন, যিনি ভিয়েতনামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, গত ১৩ জুলাই লাস ভেগাস বিমানবন্দরের টার্মিনাল–৩ থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় সাধারণ পোশাকে থাকা দুই আইসিই কর্মকর্তা তাকে আটক করার চেষ্টা করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নুয়েন আতঙ্কিত কণ্ঠে চিৎকার করে বলছেন তিনি বুঝতে পারছেন না কী হচ্ছে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছেন।    প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে শুরু করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মকর্তারা নুয়েনের এক হাতে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় সেখান থেকে চলে যান। পরে লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তার বিরুদ্ধে কোনো স্থানীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না পেয়ে হাতকড়া খুলে দেয় এবং বিষয়টি আইসিইকে জানায়।    হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, ফু নুয়েন ২০১৩ সালে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ ২০১৫ সালে শেষ হলেও তিনি দেশ ছাড়েননি। এ কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, বিমানবন্দরে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি আইসিই কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ায় সেদিন গ্রেপ্তার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।    পরদিন লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটে ওঠার আগে নুয়েনকে আবার আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাডেলান্টো আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের অধীনে বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ।    ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেভাডার সিনেটর জ্যাকি রোজেন বলেন, পরিচয়পত্র বা বডি ক্যামেরা ছাড়া সাধারণ পোশাকে অভিযান পরিচালনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং এ ধরনের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নেভাডার কয়েকটি আইনপ্রণেতা ককাসও ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে।    অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জরুরি ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বন্ড ব্যবস্থার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডে ১ লাখ ডলারের বন্ড নিয়ে আলোচনা, যা জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলারের ফেরতযোগ্য (Refundable) বন্ড চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা তথ্য ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো কার্যকর আইন বা নীতি নয়; ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনাধীন একটি প্রস্তাব মাত্র।    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার আবেদন করা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলারের বন্ড নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, নতুন অভিবাসীরা যাতে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে।    প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারী অথবা তার কোনো স্বজন এই বন্ড জমা দিতে পারবেন। আলোচনায় রয়েছে, আবেদনকারী পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করলে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে বন্ডের পরিমাণ সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এক হবে না; ব্যক্তিভেদে তা কম বা বেশি হতে পারে। এছাড়া এটি শুরুতে সীমিত কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।    এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি-আমেরিকান ইমিগ্রেশন আইনজীবী অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি এখনো কেবল একটি প্রস্তাব। এটি কোনো কার্যকর আইন নয়। তাই এ ধরনের খবর শুনে হতাশ বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো তথ্য শুনলেই তা বিশ্বাস না করে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা উচিত।”   ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (Adjustment of Status) প্রক্রিয়ায় গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব প্রযোজ্য হবে না বলেই আলোচনা রয়েছে। তবে সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি। তাই গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেন তিনি।   মইন চৌধুরী আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের কোনো নীতি কার্যকরও হয়, তাহলে সেটি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশাসন বিদ্যমান আইনি ক্ষমতার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বন্ডের বিধান ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিকল্পটি বিবেচনায় রয়েছে।    সব মিলিয়ে, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড নিয়ে আলোচনা বাস্তব হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত নীতি নয়। ফলে এটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বা সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন নির্দেশনা এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
আইসিই হেফাজতে ক্যানসারজয়ী অভিবাসী, চিকিৎসার অভাবে ৩ বার হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিইর হেফাজতে থাকা এক ক্যানসারজয়ী অভিবাসীকে চিকিৎসাজনিত জটিলতায় তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আদালতের নথি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ডে উঠে এসেছে, হেফাজতে থাকার সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি নতুন করে আইসিই হেফাজতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।    নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি একজন রোমানিয়ান নাগরিক। ২০২৫ সালে জরুরি ট্রিপল বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬টি ওষুধ সেবনের প্রয়োজন ছিল। পরে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়, কিছু সময় তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তার চিকিৎসা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এর ফলে বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে তিন দফা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।    আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে আটক রেখে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়া তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।    এদিকে আইসিই বরাবরের মতোই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।    এ ঘটনা এমন এক সময় সামনে এলো, যখন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও কেএফএফ হেলথ নিউজের যৌথ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন আটককেন্দ্রে চিকিৎসা অবহেলার শত শত অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের নথিতে বহু আটক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতা, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া এবং চিকিৎসায় বিলম্বের অভিযোগ করেছেন।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই হেফাজতে অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আটককেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সুবিধা ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানালেও আইসিই বলছে, তাদের স্বাস্থ্যসেবা জাতীয় মানদণ্ড অনুসারেই পরিচালিত হয়।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
'ডাকা' কর্মসূচির নবায়ন জটিলতায় বোস্টন বিমানবন্দরে আইস কর্মকর্তাদের হাতে ফ্লোরিডার নারী আটক। ছবি: সংগৃহীত
কনসার্ট দেখতে ফ্লোরিডা থেকে বোস্টনে এসে আইসের হাতে আটক নারী

ফ্লোরিডা থেকে বোস্টনে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নোয়া কাহানের কনসার্ট দেখতে আসা এক নারী ফেরার পথে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) কর্মকর্তাদের হাতে আটক হয়েছেন। তার আইনজীবীর দাবি, বর্তমানে তিনি ম্যাসাচুসেটসের বার্লিংটনে আইসের একটি আটককেন্দ্রে রয়েছেন।    আটক হওয়া ৩২ বছর বয়সী মারিয়া রোসালেস যুক্তরাষ্ট্রে চার বছর বয়সে কলম্বিয়া থেকে আসেন এবং ফ্লোরিডায় বেড়ে ওঠেন। তার আইনজীবী টড পোমারলোর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) কর্মসূচির সুবিধাভোগী ছিলেন। তবে তার ডাকা নবায়নের আবেদন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অপেক্ষমাণ রয়েছে।   আইনজীবী জানান, গত সপ্তাহে বাড়ি ফেরার জন্য বিমানে ওঠার সময় বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। তার দাবি, ২০১৭ সালের একটি বহিষ্কার আদেশ সম্পর্কে রোসালেস আগে অবগত ছিলেন না। ওই আদেশটি নিউ মেক্সিকোতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্বের একটি ঘটনার জেরে জারি হয়েছিল বলে তিনি জানান।    ঘটনার পর রোসালেসের আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন করেন তার আইনজীবী। পরে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত জরুরি আদেশ দিয়ে মামলার শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে রাজ্যের বাইরে স্থানান্তর না করার নির্দেশ দেন।    রোসালেস পেশায় একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সহকারী। পাশাপাশি তিনি ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি ইনডোর কালার গার্ড দলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন। তার বন্ধু ও সহকর্মীরা আদালতে পাঠানো সমর্থনপত্রে তাকে পরিশ্রমী ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।    এ ঘটনায় আইস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রোসালেসের আইনজীবী জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার দাবি, এসবের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ ছিল না।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দেবে না ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি সহায়তা নিলে মিলতে নাও পারে গ্রিন কার্ড, পুরোনো যে  নিয়ম ফিরিয়ে আনছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে আবারও বড় পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব অভিবাসী খাদ্য সহায়তা, মেডিকেইড, আবাসন ভাউচারসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল বলে বিবেচিত হবেন, তাদের গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পুনর্বহালের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, নতুন নিয়মটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবেন।    ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি প্রথম ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে কার্যকর হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন এটি বাতিল করে আগের তুলনায় শিথিল নীতি চালু করে। এবার সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের নীতিই আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।    প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। নতুন নীতির লক্ষ্যও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা।    তবে এই নীতিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল হবে না। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।    নতুন নিয়মটি এমন সময় আনা হচ্ছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ ও অবৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন কঠোর করার পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ড আবেদনের নিয়মে পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতে কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি আর্থিক সহায়তা বা কল্যাণমূলক কর্মসূচি ব্যবহারের ইতিহাস গ্রিন কার্ড আবেদন মূল্যায়নে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাবে। এর ফলে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও গভীরভাবে যাচাই করবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন যে নীতিমালা চালু করেছিল, সেটি বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। প্রশাসনের দাবি, আগের নীতির কারণে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা ও সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছিলেন না।   মার্কিন অভিবাসন আইনে 'পাবলিক চার্জ' বা 'সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তি' ধারণাটি বহুদিন ধরেই রয়েছে। কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে নিজের আয়ের পরিবর্তে প্রধানত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করবেন বলে মনে হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। আবেদন মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের ইতিহাস, দক্ষতা, সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্যসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।   নতুন নীতির ফলে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি), আবাসন সহায়তাসহ আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্যও কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়। বরং প্রতিটি আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার প্রত্যাশাই এই নীতির মূল ভিত্তি। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইনের মতে, ইউএসসিআইএস থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারণী কর্মীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছেন। একই সময়ে কর্মকর্তাদের হাতে আরও বেশি বিবেচনাধিকার দেওয়া হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তার মতে, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও কার্যকর তদারকি ছাড়া অতিরিক্ত বিবেচনাধিকার সমস্যার কারণ হতে পারে।   নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে বলে ধারণা করছে মার্কিন প্রশাসন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিবছর ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকার মিলিয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার সরকারি ব্যয় কমতে পারে। তবে প্রশাসন স্বীকার করেছে, এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুদি দোকান, বাড়িওয়ালাসহ বিভিন্ন খাতেও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য আরও একটি নতুন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের জামানত বা বন্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বন্ডের পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারবেন যে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।   অভিবাসন নীতি নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দেওয়া অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য বাস্তবসম্মত হবে না। ফলে এটি অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সমালোচকদের মতে, নতুন নীতির কারণে বৈধভাবে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকা অনেক অভিবাসীও ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডের আশঙ্কায় এসব সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন।   ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, নতুন 'পাবলিক চার্জ' নীতি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ওই দিন বা তার পর থেকে যারা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন, তাদের নতুন সংস্করণের আই-৪৮৫ আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হবে এবং নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদন মূল্যায়ন করা হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
শর্ত ভঙ্গের দায়ে আইসিই-এর হাতে গ্রেপ্তার আলাস্কা ডিপার্টমেন্ট অব ল’-এর চীনা আইনজীবী শুচেং ইয়াং। ছবি: সংগৃহীত
আলাস্কার সরকারি আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করল যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আলাস্কা ডিপার্টমেন্ট অব ল’-এর একজন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে। চীনা নাগরিক শুচেং “চার্লি” ইয়াংকে আটক করে বর্তমানে ওয়াশিংটনের টাকোমার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।   আইসিই-এর একজন মুখপাত্র জানান, ৩২ বছর বয়সী ইয়াংকে ১০ জুলাই আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটির দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমোদিত শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং তাকে “বহিষ্কারযোগ্য বিদেশি নাগরিক” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   ইয়াং বর্তমানে ওয়াশিংটনের টাকোমার নর্থওয়েস্ট আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে আটক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিবাসন আদালতের প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে আইসিই।   আলাস্কা ডিপার্টমেন্ট অব ল’-এর সঙ্গে যুক্ত একজন আইনজীবী হিসেবে ইয়াংয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে তার বর্তমান চাকরির অবস্থা, অভিবাসন মামলার বিস্তারিত এবং ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।   যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী বা কর্মরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও ভিসা, স্ট্যাটাস বা অভিবাসন শর্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি সাধারণত ইমিগ্রেশন আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।   টাকোমার নর্থওয়েস্ট আইসিই প্রসেসিং সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ইমিগ্রেশন আটক কেন্দ্রগুলোর একটি, যেখানে অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালে অনেক ব্যক্তিকে রাখা হয়।   আলাস্কা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী কমিউনিটির জন্য এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে ভিসা, কাজের অনুমতি, স্ট্যাটাস পরিবর্তন বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন নথির ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ইয়াংয়ের মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইউএস ক্যাপিটলে ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ চিপ রয়। ছবি: গেটি ইমেজস
চিকিৎসাসেবার আগে জানতে হবে নাগরিকত্ব! মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিলের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য চিপ রয় মার্কিন আইনসভায় একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশটির যেসব হাসপাতাল সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তহবিল গ্রহণ করে, তাদের চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিবাসন মর্যাদা বা আইনি বৈধতার তথ্য সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। চিপ রয়ের মতে, অবৈধ অভিবাসীদের চিকিৎসায় করদাতাদের কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা স্পষ্ট করার মাধ্যমেই কেবল এই খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।   "ইললিগাল এলিয়েন পেশেন্ট রিপোর্টিং অ্যাক্ট" নামের এই প্রস্তাবিত আইনের আওতায়, ফেডারেল স্বাস্থ্য তহবিল পাওয়া হাসপাতালগুলোকে রোগীদের ভর্তির সময় সরাসরি জিজ্ঞেস করতে হবে—তারা মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, বৈধ ভিসাধারী নাকি অন্য কোনো উপায়ে আইনগতভাবে দেশে আছেন। যদি কোনো হাসপাতাল রোগীদের এই তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত প্রতিবেদন আকারে সরকারের কাছে জমা না দেয়, তবে তারা সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির তহবিল হারাতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন রোগীদের জরুরি সেবা ব্যাহত না হয়, সেজন্য ভর্তির ফরমে স্পষ্ট লেখা থাকতে হবে যে—রোগীরা এই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও তাদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না।   ইতিমধ্যে টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির (মেডিকেয়ার ও মেডিকেড) মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নেওয়া অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বিভিন্ন অভিবাসী এবং রোগী অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর আইনি মর্যাদা বা নাগরিকত্ব কখনোই বাধা হওয়া উচিত নয়।   বর্তমানে প্রচলিত মার্কিন আইন অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোর জন্য রোগীদের নাগরিকত্ব বা বৈধতার তথ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ১৯৮৬ সালে পাস হওয়া "ইমার্জেন্সি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড লেবার অ্যাক্ট" বা "ইএমটিএএলএ" আইনের অধীনে সরকারি তহবিলভুক্ত যেকোনো হাসপাতাল জরুরি বিভাগে আসা যেকোনো রোগীকে পরীক্ষা করতে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এক্ষেত্রে রোগীর বিল পরিশোধের সক্ষমতা, বীমা সুবিধা কিংবা অভিবাসন মর্যাদা দেখার কোনো সুযোগ নেই।   সাধারণত, বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা অধিকাংশ সরকারি স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা পান না। তবে তাদের জরুরি চিকিৎসার খরচ অনেক সময় বিশেষ জরুরি তহবিলের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। এর আগে টেক্সাসের গভর্নর ২০২৪ সালে একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোকে রোগীদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে সময় নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠন এসিএলইউ জানিয়েছিল, হাসপাতালগুলো প্রশ্ন করতে বাধ্য হলেও রোগীরা চাইলে উত্তর না দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।   প্রস্তাবিত এই বিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে "ফেডারেশন ফর আমেরিকান ইমিগ্রেশন রিফর্ম" এর পরিচালক জো চ্যাথাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন প্রশাসন স্বাস্থ্য খাতে অবৈধ অভিবাসনের প্রকৃত খরচ করদাতাদের কাছে আড়াল করে রেখেছে। ফ্লোরিডার এক বছরের তথ্যে দেখা গেছে, সেখানে করদাতাদের ৫৬৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পুরো দেশজুড়ে এই খরচের আনুমানিক পরিমাণ অন্তত ২১ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।   তবে বিলটি সরাসরি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে (প্রতিনিধি সভা ও সিনেট) বিভিন্ন কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শুনানির পর এটি পাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্কিন রাজনীতিতে একক কোনো সদস্যের আনা বিল অনেক সময়ই শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির টেবিলে পৌঁছাতে পারে না।

তাবাস্সুম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মেইন ও টেক্সাসের গুলির ঘটনার প্রতিবাদে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
'আইসিই মানি না' স্লোগানে উত্তাল বোস্টন, মেইন-টেক্সাসের প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন ও টেক্সাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-সংশ্লিষ্ট পৃথক দুটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার প্রতিবাদে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা “উই ওন’ট পুট আপ উইথ আইসিই” (আইসিইর কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না) স্লোগান দিয়ে সংস্থাটির অভিযানের ধরন ও বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মেইন ও টেক্সাসে আইসিই-সংশ্লিষ্ট দুটি পৃথক ঘটনায় প্রাণহানির পর দেশজুড়ে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই বোস্টনের রাজপথে বিক্ষোভে নামেন শতাধিক মানুষ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ বাড়ছে এবং এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ও আইসিইর অবস্থান হলো, সংস্থাটি ফেডারেল আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অপরাধে অভিযুক্ত বা অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। তাদের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। মেইন ও টেক্সাস—উভয় ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করেনি। ফলে গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রেক্ষাপটে আইসিইর অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিবাসন অভিযানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বোস্টনের এই বিক্ষোভ সেই জাতীয় বিতর্কেরই সর্বশেষ প্রতিফলন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের বিষয়ে আবেদনকারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত: যে ৭টি বিষয় এখনই জানা জরুরি

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনেক আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কেউ জানতে চাইছেন, তাদের আবেদন বাতিল হবে কি না, আবার কেউ ভাবছেন পর্যটক বা শিক্ষার্থী ভিসার ওপরও এর প্রভাব পড়বে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি।   ১. এই সিদ্ধান্ত কার জন্য প্রযোজ্য? সাময়িক স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র ইমিগ্র্যান্ট (Immigrant) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যেসব ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস বা গ্রিন কার্ড নিয়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়, সেগুলোর নতুন ভিসা ইস্যু আপাতত স্থগিত রয়েছে।   ২. ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট বা অন্যান্য ভিসায় কি কোনো প্রভাব পড়বে? না। পর্যটক (বি-১/বি-২), শিক্ষার্থী (এফ-১), এক্সচেঞ্জ ভিজিটর (জে-১), অস্থায়ী কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই সিদ্ধান্তের আওতায় নয়। এসব ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকার স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে।   ৩. চলমান আবেদন কি বাতিল হয়ে যাবে? না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্থগিতাদেশ মানেই আবেদন বাতিল নয়। এটি মূলত নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত। ইতোমধ্যে জমা দেওয়া আবেদন বা চলমান কেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা হচ্ছে না।   ৪. যাদের সাক্ষাৎকার বা কেস প্রক্রিয়াধীন, তাদের কী হবে? যেসব আবেদন ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (NVC) বা দূতাবাসে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলতে পারে। তবে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু করা হবে না। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীদের জানানো হবে।   ৫. কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন অভিবাসীরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর অযৌক্তিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ভিসা যাচাই-বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনার সুযোগও তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে।   ৬. এই সিদ্ধান্ত কি শুধু বাংলাদেশের জন্য? না। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ নয়। মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের নতুন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে একই নীতিমালার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।   ৭. কবে আবার ইমিগ্র্যান্ট ভিসা চালু হবে? এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ভিসা যাচাই-বাছাই নীতিমালা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তাই আবেদনকারীদের গুজব বা অনির্ভরযোগ্য তথ্যের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের কেসের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং দূতাবাস বা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।

তাবাস্সুম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০