সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসন

মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করার পর চার মাসের কঠিন আইনি লড়াই শেষে আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন ব্রায়ান মোরালেস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও মেক্সিকোয় ডিপোর্ট! ৪ মাসের লড়াই শেষে দেশে ফিরলেন টেক্সাসের তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ২৫ বছর বয়সী ব্রায়ান হোসে মোরালেস গার্সিয়াকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করার পর প্রায় চার মাসের আইনি লড়াই শেষে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে দেওয়া হয়েছে। টেক্সাসে একটি ট্রাফিক থামানোর ঘটনার পর তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে যান এবং পরে ৭ এপ্রিল তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। পরে তার আইনজীবীরা তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ সামনে এনে দেশে ফেরানোর জন্য আইনি পদক্ষেপ নেন।   মোরালেস গার্সিয়ার জন্ম ডেনভারে। তবে শৈশবের বড় একটি সময় তিনি মেক্সিকোয় কাটিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। পরে টেক্সাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের কাজ করছিলেন তিনি।   এপ্রিল মাসে ফ্রেডেরিক্সবার্গের কাছে বসকে সঙ্গে নিয়ে একটি গাড়িতে করে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় টেক্সাসের এক রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গাড়ি থামান। অভিযোগ ছিল গাড়ির জানালার কাচে অতিরিক্ত কালো রং করা নিয়ে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো টিকিট দেওয়া হয়নি। এরপর মোরালেস গার্সিয়াকে কয়েকটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়।   মোরালেস গার্সিয়া তখন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করেন এবং তার নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর কথা জানান। তার আইনজীবীর অভিযোগ, আটক থাকার সময় তাকে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয় এবং কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। চার দিন বিভিন্ন হেফাজতকেন্দ্রে থাকার পর তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। সরকারপক্ষ অবশ্য আদালতে দাবি করেছে, মোরালেস গার্সিয়া শুরুতে নিজেকে মেক্সিকোয় জন্ম নেওয়া ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং স্বেচ্ছায় মেক্সিকোয় ফেরার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন।   মেক্সিকোয় যাওয়ার পর তার আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে এনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তারা যুক্তি দেন, মোরালেস গার্সিয়া ডেনভারে জন্মেছেন এবং তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসনদ রয়েছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ মেক্সিকোর কিছু নথির কথা তুলে ধরে, যেখানে তার নামের বানান ও জন্মতারিখে পার্থক্য রয়েছে। এসব নথিতে তার জন্মস্থানও মেক্সিকোর জাকাতেকাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইনি প্রক্রিয়ার সময় দুই দেশের নথিতে থাকা তথ্যের এই পার্থক্য নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তার আইনজীবীদের দাবি, মেক্সিকোয় তার জন্ম নিবন্ধনের সময় তথ্যের ভুল হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে নথিপত্র ও জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ পান মোরালেস গার্সিয়া।   আগস্টের শেষ দিকে মেক্সিকোর আগুয়াসকালিয়েন্তেস থেকে বাসে করে তিনি সীমান্তের দিকে যান। ৩০ আগস্ট সীমান্তে পৌঁছানোর পর তার কলোরাডোর জন্মসনদ গ্রহণ করা হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ মাস দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তার আইনজীবীরা তাকে একটি কফি শপে নিয়ে যান।   তবে দেশে ফিরলেও পুরো ঘটনার মানসিক চাপ কাটেনি বলে জানিয়েছেন মোরালেস গার্সিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে চেহারা ও ইংরেজিতে কথা বলতে না পারার কারণে বিচার করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে আবার কোনো পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়লে একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে তার। এদিকে তাকে মেক্সিকোয় পাঠানোর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে করা মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে কতজন নাগরিককে অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় আটক বা বহিষ্কার করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে না। সরকারি হিসাব পর্যালোচনা করে অতীতেও এমন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কারের নজির পাওয়া গেছে। মোরালেস গার্সিয়ার ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে।   সূত্র: ইউএসএ টুডে

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো নাগরিকত্ব পরীক্ষা। ছবি: সংগৃহীত
সিটিজেনশিপ টেস্টে ফেল করার ৪টি কারণ জানাল মার্কিন সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষার লিখিত পরীক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট ভুল করলে আবেদনকারীকে ব্যর্থ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (ইউএসসিআইএস) সরকারি নির্দেশিকায় লিখিত পরীক্ষায় কোন ধরনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।   ইউএসসিআইএসের স্কোরিং নির্দেশিকা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে কর্মকর্তার বলা একটি বাক্য লিখতে হয়। নির্ধারিত বাক্যটি সঠিকভাবে এবং বোঝা যায় এমনভাবে লিখতে পারলেই লিখিত ইংরেজির দক্ষতা প্রদর্শন করা সম্ভব। তবে উত্তরটি যদি নির্দেশিত বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ না করে, সেটি ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   লিখিত পরীক্ষায় প্রথম যে ভুলটি ব্যর্থতার কারণ হতে পারে, সেটি হলো কর্মকর্তার বলা বাক্য বা শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য বা শব্দ লেখা। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে যে বাক্যটি লিখতে বলা হয়েছে, সেটির পরিবর্তে নিজের মতো করে অন্য কিছু লিখলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।   দ্বিতীয়ত, নির্দেশিত কোনো শব্দের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করলেও উত্তরটি ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মকর্তার বলা শব্দের জায়গায় সংক্ষিপ্ত রূপ লিখলে সেটি ভুল উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে।   তৃতীয়ত, পরীক্ষার্থী কিছু না লিখলে অথবা মাত্র এক-দুটি বিচ্ছিন্ন শব্দ লিখলে সেটিও ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। তাই পরীক্ষার্থীর উচিত কর্মকর্তার নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখার চেষ্টা করা।   চতুর্থত, হাতের লেখা এতটাই অস্পষ্ট হলে যে কর্মকর্তা সেটি পড়তে বা বুঝতে না পারেন, সেই উত্তরও ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হবে। ইউএসসিআইএসের সরকারি স্কোরিং গাইডলাইনে সম্পূর্ণ অপাঠ্য লিখিত উত্তরকে সরাসরি ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর পাশাপাশি, লিখিত বাক্যটি এমনভাবে লেখা হলে যাতে নির্দেশিত বাক্যের অর্থ বোঝা না যায়, সেটিও ব্যর্থতার কারণ। ফলে শুধু বানান বা লেখার সৌন্দর্য নয়, পরীক্ষার্থীর লেখা বাক্যটি কর্মকর্তার কাছে অর্থবোধক ও বোধগম্য কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের ইংরেজি পরীক্ষার তিনটি অংশ রয়েছে, কথা বলা, পড়া এবং লেখা। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ তিনটি বাক্য দেওয়া হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি বাক্য সঠিকভাবে লিখতে পারলেই এই অংশে ইংরেজিতে লেখার সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়। পরীক্ষার জন্য ইউএসসিআইএস একটি নির্দিষ্ট লিখিত শব্দভান্ডারের তালিকাও প্রকাশ করে, যার শব্দগুলো নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।   নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীকে ইংরেজি ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরীক্ষা দিতে হয়, যদি তিনি কোনো ছাড় বা অব্যাহতির যোগ্য না হন। ইংরেজি পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি নাগরিকত্ব পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞানও যাচাই করা হয়।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেউ প্রথম পরীক্ষায় ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার কোনো অংশে ব্যর্থ হলে তাকে সাধারণত দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম পরীক্ষার পর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং আগেরবার যে অংশে ব্যর্থ হয়েছেন, সাধারণত সেই অংশেই আবার পরীক্ষা নেওয়া হয়।   তাই নাগরিকত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আবেদনকারীদের শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি কর্মকর্তার বলা বাক্য মনোযোগ দিয়ে শোনা, পূর্ণ বাক্য লেখা এবং হাতের লেখা স্পষ্ট রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত প্রস্তুতি উপকরণ ব্যবহার করে আগে থেকেই লিখিত অংশের অনুশীলন করাও গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: ইউএসসিআইএস, লেজিট.এনজি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব, সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব, সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অর্থের বিনিময়ে বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব এবং গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ এবং তার আর্থিক সহযোগী আদেনিয়ি আকিম সোমোয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের দাবি, এই দুজন মিলে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের (প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৮ ডলার) বিশাল এক ঘুষ বাণিজ্য চালিয়েছেন। টেক্সাসভিত্তিক এই চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং ঘুষের বিনিময়ে তাদের ফাইলগুলো সরাসরি গানিউর কাছে পাঠিয়ে দিত।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, গানিউ তার পদের চরম অপব্যবহার করে ইউএসসিআইএস-এর সিস্টেমে কারসাজি করতেন। তিনি মিনিয়াপলিস, শার্লট এবং হিউস্টনের মতো বিভিন্ন ফিল্ড অফিস থেকে আবেদনকারীদের ফাইল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন। এরপর স্থানীয় সুপারভাইজারদের পর্যালোচনা এবং অপরাধের ইতিহাস যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে গিয়ে দ্রুত সেসব আবেদন অনুমোদন করে দিতেন।   এমনকি তিনি তার অপরাধের সহযোগী সোমোয়ের নাগরিকত্ব এবং সোমোয়ের স্ত্রী ও সন্তানের রেসিডেন্সি বা স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনও দ্রুত ও বেআইনিভাবে পাস করিয়েছিলেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ জেল (Zelle), ক্যাশ অ্যাপ (Cash App) এবং নগদ জমার মাধ্যমে প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৮ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে, সোমোয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন এবং তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর একটি অংশ তিনি নিজের পারিশ্রমিক হিসেবে রাখতেন।   গানিউর বার্ষিক সরকারি বেতন ছিল ৬৭ হাজার ৭৩২ ডলার এবং সোমোয়ের বৈধ আয় ছিল বছরে মাত্র ৭ হাজার ৫০৬ ডলার। আয়ের তুলনায় বিপুল অঙ্কের এই অবৈধ লেনদেনই তাদের ধরিয়ে দেয়।   গত ২ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে তোলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি রায়ান রেবোল্ড বলেন, "নগদ অর্থের বিনিময়ে অভিবাসন সুবিধা বিক্রি করা জনগণের আস্থার চরম অবমাননা।"

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলিমামি সেসাই। ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালের বেডে শিকলবন্দী আইসিই আটক অভিবাসী, অস্ত্রোপচারের পরও স্বজনদের সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে থাকা ৪১ বছর বয়সী আলিমামি সেসাই একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায়ের সঙ্গে বিছানায় শিকলবন্দী থাকছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকলেও তাঁর বাগদত্তা ও পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।   সেসাইকে গত ২৮ মে আইসিই আটক করে। হারিয়ে যাওয়া চালকের লাইসেন্সের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিতে তিনি নিজেই নিউয়ার্কের একটি ফেডারেল ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে অপেক্ষা করার সময় একজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তদারকি আদেশ অনুযায়ী তিনি একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আটক করা হয় এবং ইউনিয়ন কাউন্টির এলিজাবেথ কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।   জুলাইয়ের শুরুতে অন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসার জন্য সেসাইকে নিউয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে তাঁর বৃহদান্ত্রের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেটের বড় ক্ষত বন্ধ রাখতে চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষত থেকে তরল বের করার জন্য পেটে একটি নলও রাখা হয়েছে এবং অন্তত ছয় মাস তাঁকে কলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হাসপাতালে থাকার সময়ে সেসাইয়ের ওজনও দ্রুত কমেছে। আটকের সময় তাঁর ওজন ২০০ পাউন্ডের বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ১৩৪ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্ষত পরিষ্কার করার সময় চিকিৎসকদের সহায়তা করতে হয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসকেরা ক্ষত পরিষ্কার করার সময় কখনো কখনো বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাই তিনি নিজেই ক্ষত পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করেন।   সেসাইয়ের অভিযোগ, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই তাঁর পা বিছানার সঙ্গে শিকল বা হাতকড়া দিয়ে আটকানো থাকে। এতে অস্বস্তি হয় এবং ঘুমাতেও সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর বাগদত্তা জেনা কার্টার এবং তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে কিং সালিম সেসাইকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।   কার্টার জানান, সেসাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত তিনি বিষয়টি জানতেন না। জুলাইয়ে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সেসাইয়ের শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি এবং তাঁকে দেখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ২০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবার সেসাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। পরে সেসাইয়ের একটি ছবি দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কার্টার।   ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আটক ব্যক্তি ও অন্য রোগীদের দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কি না এবং এ বিষয়ে আইসিই কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না। হাসপাতাল এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানায়, তাদের চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা দল প্রত্যেক রোগীকে সহানুভূতিশীল ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, সেসাইয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁদের মতে, নিউ জার্সির এলিজাবেথ ও নিউয়ার্কের ডেলানি হলসহ বিভিন্ন আটককেন্দ্রের আটক ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে হাসপাতালে ভর্তি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বজনদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে দেখা যায় এমন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   সেসাইয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টারে থাকার সময় একজন নার্সের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মৌখিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়ার সময় ওই ঘটনা ঘটে। ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে এবং তা ভিত্তিহীন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।   সেসাইয়ের আইনজীবী র‍্যাচেল মারানডেট তাঁকে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্ত করতে নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। আটক ব্যক্তিদের করা এ ধরনের আবেদনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখার আইনি ভিত্তি আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে হয়। সেসাইয়ের আবেদনটি নিউয়ার্কের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল শিপের সামনে বিচারাধীন রয়েছে।   সেসাই কিশোর বয়সে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১১ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে প্রায় এক দশক আগে গাঁজা-সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল হয় বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন।   আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সেসাইকে বহিষ্কার স্থগিত রাখার আদেশ এবং তদারকির আওতায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারতেন। সেসাই সায়রভিলে একটি গুদামে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে জেনা কার্টারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের সন্তান জন্ম নেয় এবং তাঁরা নিউ জার্সিতে একটি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন।   সেসাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাঁর বাড়ি এবং এখানেই তিনি তাঁর ছেলেকে বড় করতে চান। তাঁর ভাষ্য, জীবনের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর সিয়েরা লিওনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন, তা জানা নেই।   সূত্র: এনজে ডটকম

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত
আগস্টে রেকর্ড ৫১ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করেছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে ৫০ হাজার ৯২৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, এক মাসে গ্রেপ্তারের হিসাবে এটি সংস্থাটির নতুন রেকর্ড। এর আগে জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুলাইয়ের আগের রেকর্ডকে ৭১৭ জন ছাড়িয়ে গেছে। জুনে আইসিই ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ফলে জুন, জুলাই ও আগস্ট, টানা তিন মাসে সংস্থাটির মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।   আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়া ৫০ হাজার ৯২৫ জনের সংখ্যা ৫১ হাজারের খুব কাছাকাছি হওয়ায় তা প্রায় ৫১ হাজার হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে সরকারি হিসাবে সঠিক সংখ্যা ৫০ হাজার ৯২৫ জন। জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জন এবং জুনের ৪৩ হাজার ৯০০ জনের তুলনায় আগস্টে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগস্টের গ্রেপ্তারের পরিমাণ সেই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।   জুনে ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তারের পর জুলাইয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনে পৌঁছায়। এরপর আগস্টে আরও ৭১৭ জন বেশি গ্রেপ্তার করা হয়। তিন মাসের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের সংখ্যাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, আগস্টের এই সংখ্যা এক মাসে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জনই ছিল এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের সংখ্যা। আগস্টে সেই রেকর্ড আবারও অতিক্রম করা হয়েছে।   আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালনকারী একটি সংস্থা। সংস্থাটির আগস্টের কার্যক্রমের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসে প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫০ হাজারের সীমা অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা টানা তৃতীয় মাসে বেড়েছে।   আগস্টের ৫০ হাজার ৯২৫ জনের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুনের তুলনায় ৭ হাজারেরও বেশি বেশি। একই সময়ে জুলাইয়ের তুলনায়ও আগস্টে গ্রেপ্তার বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পরিমাণ তুলে ধরছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্যে আগস্টের গ্রেপ্তারকে সংস্থাটির মাসিক কার্যক্রমের নতুন সর্বোচ্চ হিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাইয়ে রেকর্ড গড়ার এক মাস পরই সেই সংখ্যা আবার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে টানা তিন মাসের প্রতিটিতেই আগের মাসের তুলনায় বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।   সরকারি হিসাবে, জুনে ৪৩ হাজার ৯০০, জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ এবং আগস্টে ৫০ হাজার ৯২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিন মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগস্টেই সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। নতুন এই রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইসিইর সাম্প্রতিক তৎপরতার পরিমাণকে সামনে এনেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার বোভিনো I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ইহুদিবি/দ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে তদন্ত চলাকালে পদত্যাগ করেছিলেন সাবেক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার বোভিনো

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো অবসরে যাওয়ার সময় একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের মুখে ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ফেডারেল আদালতে দেওয়া তার বিতর্কিত সাক্ষ্য এবং অতীতের ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল।   কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) গত ২ মার্চ এক ইমেইলে বোভিনোকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর কথা জানায়। এই বার্তার মাত্র ১৬ দিন পরই তড়িঘড়ি করে তিনি অবসরের আবেদন জমা দেন।   মিনিয়াপোলিসে দুই মার্কিন নাগরিক রেনে গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটির প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর গত জানুয়ারির শেষের দিকে বোভিনোকে তার ‘কমান্ডার অ্যাট লার্জ’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর কোনো প্রমাণ ছাড়াই বোভিনো দাবি করেছিলেন যে, প্রেটি ফেডারেল এজেন্টদের ‘গণহত্যা’ করার পরিকল্পনা করছিলেন।   তার এমন মন্তব্যে সেসময় ব্যাপক রাজনৈতিক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে থেকেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বর্ডার প্যাট্রল সমালোচনার মুখে ছিল। বিশেষ করে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের ওপর টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোঁড়ার মতো অমানবিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল।   তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ সারা এলিসের একটি পর্যবেক্ষণ। তিনি লিটল ভিলেজে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বোভিনোকে আদালতে বারবার মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। সিবিপি কর্মকর্তারা তদন্তের অংশ হিসেবে বোভিনোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বিচারকের এই মন্তব্যের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।   এছাড়া, মিনিয়াপোলিসের একজন বিচারককে নিয়ে তার কথিত ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে, "অর্থোডক্স অপরাধীরাও কি শনিবারে ছুটি কাটায়?" বা "মনোনীত জাতি" শীর্ষক তার বৈষম্যমূলক মন্তব্যগুলো সিবিপি’র পেশাদারিত্ব ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কি না, তদন্তে সেটিই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) তাদের 'থার্ড কান্ট্রি' বা তৃতীয় দেশে বিতাড়ন কর্মসূচির আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে। সিবিএস নিউজের হাতে আসা মার্কিন সরকারের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা গেছে, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আফগানিস্তান, কিউবা, নিকারাগুয়াসহ অন্যান্য দেশের ১০০ জনের বেশি অভিবাসীকে আফ্রিকা মহাদেশের আটটি দেশে বিতাড়িত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।   আইসের তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এসব নারী-পুরুষকে বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নিরক্ষীয় গিনি, এসওয়াতিনি, লাইবেরিয়া, রুয়ান্ডা এবং সিয়েরা লিওনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিতাড়িত এই অভিবাসীদের কেউই সেসব দেশের নাগরিক নন।   গত দেড় সপ্তাহে আফগান, কিউবান ও নিকারাগুয়ানদের পাশাপাশি ইরান, নেপাল, তুরস্ক এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদেরও আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে।   মার্কিন সরকারের এই অভ্যন্তরীণ নথিগুলো প্রকাশ্যে আসার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। নিজ দেশের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও চুক্তির মাধ্যমে অভিবাসীদের সম্পূর্ণ অপরিচিত ও দূরবর্তী দেশে নির্বাসিত করার এই অভিযান ক্রমশ জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র।   লাতিন আমেরিকার কোস্টারিকা, পানামা ও প্যারাগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ধরনের অভিবাসীদের গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। তবে বর্তমানে আফ্রিকার অনেক দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এই চুক্তিতে জড়াচ্ছে, যার মধ্যে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং দক্ষিণ সুদানের মতো সশস্ত্র সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত দেশগুলোও রয়েছে।   ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশগুলো কেবল আফ্রিকার অন্যান্য স্থানের অভিবাসীদের গ্রহণ করলেও এসওয়াতিনি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং লাইবেরিয়ার মতো দেশগুলো লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া থেকে আসা বন্দীদেরও গ্রহণ করছে।   আফ্রিকায় বিতাড়িত এসব অভিবাসীর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও অনেকেই কেবল অবৈধভাবে প্রবেশ বা বৈধ নথিপত্রের অভাবের কারণে আইসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সর্বশেষ ফ্লাইটে সিয়েরা লিওন এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বন্দীদের নামানো হয়।   দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 'লেভেল ফোর' সতর্কতা জারি রয়েছে।   এদিকে, এ বিষয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে আবেদন করে, তবে আইন অনুযায়ী তাদের জন্য একটি নিরাপদ দেশের ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যদিকে তারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে চাইলে তাদের বিনা মূল্যে ফ্লাইট এবং ৩ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হয়।   সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিতাড়িত হওয়া এক ২৪ বছর বয়সী আফগান যুবকের ঘটনা এই নীতির ভয়াবহ দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে। খলিল নামের ওই যুবকের পরিবার আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হয়ে কাজ করেছিল এবং সে নিজেও মার্কিন অভিবাসন আদালতে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিল।   তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাকে তৃতীয় এই দেশে বিতাড়িত করেছে। মার্কিন মেরিন কর্নেল জাচারি শ্মিডট, যিনি খলিলের ভাইয়ের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, তিনি খলিলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্মিডট জানান, খলিলকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তালেবানরা তাকে হত্যা করবে। খলিলের আইনজীবী আলমা ডেভিডের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার শামিল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানে ২০ লাখ ডলারের ‘রোবট কুকুর’ কিনছে আইস
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানে ২০ লাখ ডলারের ‘রোবট কুকুর’ কিনছে আইস

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) তাদের অভিযানগুলোতে কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য কুকুরের আকৃতির অত্যাধুনিক রোবট কেনার পরিকল্পনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অর্থায়নসংক্রান্ত একটি নথির বরাতে জানা গেছে, এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে সংস্থাটি সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   মূলত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকসের তৈরি 'স্পট' নামের এই বিশেষ রোবটগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রকাশিত নথি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই রোবটগুলো কাউকে সরাসরি গ্রেফতারের কাজে ব্যবহার করা হবে না। বরং যেসব স্থানে কর্মকর্তাদের প্রবেশ করা বিপজ্জনক, সেখানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিরূপণে এগুলো মোতায়েন করা হবে।   ক্যামেরা এবং সংবেদনশীল সেন্সরযুক্ত এই রোবটগুলো খুব সহজেই কম্পন, ক্ষতিকর গ্যাস ও তেজস্ক্রিয়তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান শনাক্ত করতে সক্ষম। এর ফলে বিপজ্জনক, সংকীর্ণ বা সহজে প্রবেশ করা যায় না এমন এলাকায় অভিযানের সময় পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।   অবশ্য রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকস স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের এই প্রযুক্তি কোনোভাবেই অস্ত্র হিসেবে বা স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের মতো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।   কুকুরের আকৃতির এই রোবট প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ইতোমধ্যে ব্যবহার করছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবনের নিরাপত্তায়ও এমন রোবট ব্যবহৃত হয়েছিল।   তবে আইসের এই রোবট কেনার পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সম্প্রতি সংস্থাটির জন্য ২ কোটি ডলার ব্যয়ে বিদ্যুৎ-শক দেওয়া দস্তানা (গ্লাভস) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ইতোমধ্যে ওই দস্তানা কেনার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।   তীব্র বিতর্কের মাঝেই নতুন করে রোবট কুকুর যুক্ত করার এই উদ্যোগ অভিবাসন অভিযানে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় নিউ অরলিন্স বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ানোপুলোসকে আটক করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন শুনানিতে অনুপস্থিত, বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে আটক ব্রিটিশ ভাষ্যকার

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ানোপুলোসকে আটক করেছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই। গত মাসে নির্ধারিত অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ৪১ বছর বয়সী ইয়ানোপুলোস গত মাসের অভিবাসন শুনানিতে হাজির হননি। এরপর বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, ইয়ানোপুলোস যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং ২০১৯ সালের ১৪ মে নিউইয়র্ক সিটি দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরে অনুমোদিত সময়ের বেশি দেশটিতে অবস্থান করেন বলে বিভাগটি জানিয়েছে।   বিভাগটি আরও জানায়, শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় ২২ জুলাই একজন অভিবাসন বিচারক ইয়ানোপুলোসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করেন। বর্তমানে তিনি আইসিইর হেফাজতে থাকবেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলবে।   ইয়ানোপুলোস ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টে কাজ করার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে তখন সমালোচনা ও নিন্দা দেখা দেয়। ২০১৭ সালে তার পুরোনো কিছু মন্তব্য গণমাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় আসার পর তিনি ব্রেইটবার্ট থেকে পদত্যাগ করেন।   এরপর বিভিন্ন ডানপন্থী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। মূলধারার রিপাবলিকানদের সঙ্গেও তার বিরোধ তৈরি হয়। ২০২০ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। পরে র‍্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০২৪ সালের ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনায় সহায়তা করেন।   আইসিইর তথ্যভান্ডারে ইয়ানোপুলোসকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীদের বহিষ্কার নিয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।   বিভাগটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা যেন আর দেশের ভেতরে বিমান ভ্রমণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি সরকারি আবেদনের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৩ হাজার ডলার এবং বিনামূল্যে বিমান ভ্রমণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে যারা এই সুযোগ গ্রহণ করবেন না, তাদের আটক করে বহিষ্কার করা হতে পারে বলেও বিভাগটি সতর্ক করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে দৃশ্যমান হচ্ছে ধর্মীয় বৈচিত্র্য। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসনে বদলাচ্ছে আমেরিকার ধর্মীয় মানচিত্র, বাড়ছে মসজিদ, ইসলামিক স্কুল ও মন্দির

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। বিভিন্ন শহর ও শহরতলিতে নতুন মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিন্দু মন্দির ও ধর্মীয় কমিউনিটি সেন্টার গড়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে পুরোনো চার্চ, বাড়ি, অফিস কিংবা বাণিজ্যিক ভবন কিনে সেগুলোকে উপাসনালয় ও কমিউনিটি ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে।   এই পরিবর্তনের পেছনে অভিবাসনের ভূমিকা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ বিস্তারিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৬২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ কোটি। অর্থাৎ এক দশকে বিদেশে জন্ম নেওয়া জনসংখ্যা ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।   ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩-২৪ সালের ধর্মীয় চিত্রবিষয়ক গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ১৪ শতাংশ খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী। তাদের মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ মুসলিম, ৪ শতাংশ হিন্দু এবং ৩ শতাংশ বৌদ্ধ।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের একই গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ৭৭ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। ফলে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সম্পর্কটি জনসংখ্যার পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   মসজিদের ক্ষেত্রেও গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য বিস্তার দেখা গেছে। সর্বশেষ বড় আকারের জাতীয় মসজিদ জরিপের ২০২০ সালের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৭৬৯টি মসজিদ শনাক্ত করা হয়েছিল। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১০৬টি। অর্থাৎ এক দশকে মসজিদের সংখ্যা ৩১ শতাংশ বেড়েছিল।   তবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এর চেয়ে নতুন কোনো সমমানের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মসজিদ জরিপ প্রকাশিত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ২ হাজার ৭৬৯ সংখ্যাটিকে বর্তমানের নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে নয়, সর্বশেষ বড় জাতীয় জরিপের সংখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মসজিদ এখন শুধু নামাজের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেক ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে শিশুদের ইসলামিক শিক্ষা, কোরআন শিক্ষা, ইসলামিক স্কুল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এসব প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় জীবনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ ও কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।   মন্দিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরের কোনো একক সরকারি জাতীয় তালিকা নেই। তবে ২০২৬ সালের একটি হিন্দু মন্দিরভিত্তিক তথ্যভান্ডারে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ২৫৬টি মন্দিরের তালিকা রয়েছে। এটি সরকারি গণনা নয়, বরং একটি বেসরকারি তথ্যভান্ডার। ফলে এই সংখ্যাকে বর্তমান মন্দিরের আনুষ্ঠানিক জাতীয় সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   হিন্দু মন্দিরগুলোও অনেক ক্ষেত্রে শুধু পূজার স্থান নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা, ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা, সংগীত, নৃত্য এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফলে মন্দিরগুলো অভিবাসী পরিবারগুলোর কাছে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।   পুরোনো ভবনকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করার প্রবণতাও এই পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান দিক। কোনো এলাকায় নতুন অভিবাসী কমিউনিটি গড়ে উঠলে তারা অনেক সময় নতুন করে জমি কিনে ভবন নির্মাণের পরিবর্তে আগে থেকেই থাকা চার্চ, বাড়ি, অফিস বা অন্য কোনো স্থাপনা কিনে সেটিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করে। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ে ওঠে, তেমনি পুরোনো ভবনও নতুন কমিউনিটির সামাজিক জীবনের অংশ হয়ে যায়।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের আরেকটি বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ কোনো না কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ খ্রিস্টান। মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।   সামগ্রিক জনসংখ্যার চিত্রেও পরিবর্তনটি ধরা পড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩-২৪ সালের জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৭ দশমিক ১ শতাংশ খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের পরিচয় দিয়েছেন। ২০০৭ সালে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। নতুন জরিপে মুসলিম ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং হিন্দু ০ দশমিক ৯ শতাংশ।   তবে এই পরিবর্তনকে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নতুন প্রজন্মের অভিবাসী পরিবারগুলো যেমন আমেরিকান সমাজের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে, তেমনি নিজেদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয়ও ধরে রাখছে।   ফলে আমেরিকার অনেক শহরের দৃশ্যপটে এখন পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে পুরোনো চার্চ, নতুন মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিন্দু মন্দির এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কমিউনিটি সেন্টার। অভিবাসনের ধারাবাহিকতার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের আরও দৃশ্যমান অংশ হয়ে উঠছে।   ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং অভিবাসনের ধারাবাহিক প্রভাব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় মানচিত্র যে আগের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিস্তার তারই দৃশ্যমান প্রতিফলন।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
পরিবারের সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই
পরিবারের সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কার্যক্রমের সময় দাবি করা পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করতে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা ব্যবহারের কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। এ জন্য ভার্জিনিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনএ ইন্টারন্যাশনালকে এক বছরের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের কাছাকাছি একটি চুক্তি দিয়েছে সংস্থাটি।   ফেডারেল ব্যয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি গত ১০ আগস্ট শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বা ইআরওর বিভিন্ন ফিল্ড অফিসে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা সরবরাহ করা হবে।   চুক্তির সরকারি বিবরণে বলা হয়েছে, এসব পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো দাবি করা জৈবিক পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করা। বিশেষ করে অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো শিশুর বাবা-মা বা আত্মীয় বলে দাবি করলে সেই সম্পর্ক সত্য কি না, তা দ্রুত পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হবে।   দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার এই পদ্ধতি আইসিইর জন্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বিভাগ এ ধরনের পরীক্ষার পাইলট কার্যক্রম শুরু করেছিল। ২০২২ সালে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৫১৬টি দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০০টি পরীক্ষায় দাবি করা বাবা-মা ও সন্তানের জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।   পরে ২০২১ সালে সীমান্তে পারিবারিক ডিএনএ পরীক্ষার দায়িত্ব কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির হাতে যায়। ২০২৫ সালে একই উদ্দেশ্যে ৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। নতুন চুক্তিসহ এই কর্মসূচিতে দুই দফায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল অর্থ বরাদ্দ হয়েছে বলে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিউজউইক জানিয়েছে।   তবে ডিএনএ পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো নিয়ে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, অনেক অভিবাসী কেন তাদের ডিএনএ নেওয়া হচ্ছে এবং সেই তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা পুরোপুরি বুঝতে নাও পারেন। জেনেটিক তথ্য অন্য বায়োমেট্রিক তথ্যের তুলনায় আলাদা, কারণ এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তির পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া সম্ভব।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে জর্জটাউন ল স্কুলের সেন্টার অন প্রাইভেসি অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক স্টিভি গ্ল্যাবারসন বলেন, অনেক মানুষ তাদের ডিএনএ কেন নেওয়া হয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে, তা বুঝতে পারেন না।   সরকারি নথিতে নতুন চুক্তির আওতায় ডিএনএ নমুনা নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্মতির নিয়ম, তথ্য কতদিন সংরক্ষণ করা হবে, কখন তা ধ্বংস করা হবে কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি। কোনো পরীক্ষায় দাবি করা জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের প্রক্রিয়াগত সুযোগ থাকবে, সেটিও এসব নথিতে স্পষ্ট নয়।   ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আগের নীতিমালা অনুযায়ী, পারিবারিক ডিএনএ পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসন কার্যক্রমে ভুয়া বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক শনাক্ত করা এবং প্রকৃত পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করা। সরকারি ব্যাখ্যায় এর আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত পরিবারকে একসঙ্গে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা করা।   এদিকে নতুন চুক্তির সময় এমনিতেই আইসিইর ডিএনএ সংগ্রহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ওয়্যারড জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আইসিইর হেফাজতে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষের ডিএনএ সংগ্রহ করে এফবিআইয়ের জাতীয় ডিএনএ ডেটাবেসে যুক্ত করা হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে পারিবারিক সম্পর্ক যাচাইয়ের দ্রুত ডিএনএ কর্মসূচি এবং অপরাধ তদন্তের ডিএনএ ডেটাবেসে প্রোফাইল জমা দেওয়ার কার্যক্রম আলাদা প্রক্রিয়া।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আইসের অভিযান ঘিরে বড় পরিবর্তন, কার্যকর হলো নতুন দুই আইন

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করে এবং স্থানীয় কারাগারে আইসের অভিবাসন-আটক কার্যক্রম বন্ধে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এসব বিধানের ফলে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়গুলো আইসের সঙ্গে ২৮৭(জি) ধরনের আনুষ্ঠানিক চুক্তি চালিয়ে যেতে পারবে না।    ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত আইনটি স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে আইসের হয়ে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া ২৮৭(জি) চুক্তি করা, নবায়ন বা বহাল রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিদ্যমান চুক্তিগুলোও বাতিল ও অকার্যকর করার বিধান রয়েছে।    ২৮৭(জি) ব্যবস্থার আওতায় আগে স্থানীয় কর্মকর্তারা আইসের প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। নতুন আইনের ফলে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়গুলো আর এ ধরনের ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিতে পারবে না। তবে গুরুতর অপরাধ বা ফৌজদারি তদন্তের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারবে।    আইন কার্যকরের আগে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয় ১২টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে ২৫ আগস্টের মধ্যে তাদের ২৮৭(জি) চুক্তি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ সংস্থা চুক্তি বাতিলের কথা জানালেও কয়েকটি কাউন্টি তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়।    এরই মধ্যে বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। রেনসেলার কাউন্টি নতুন আইন বাতিলের দাবিতে ফেডারেল মামলায় যোগ দিয়েছে। আরও কয়েকজন শেরিফও আইনটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দাবি করছেন, আইসের সঙ্গে সহযোগিতা জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রশাসনের অবস্থান হলো, স্থানীয় পুলিশকে স্থানীয় অপরাধ দমনে কেন্দ্রীভূত রাখা উচিত।    একই সঙ্গে ‘ডিগনিটি নট ডিটেনশন অ্যাক্ট’ স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন ভায়োলেশনের অভিযোগে মানুষকে আটক রাখার ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। আইনটি স্থানীয় সরকার ও কারাগারগুলোকে আইসের সঙ্গে এ ধরনের আটক চুক্তি করা বা চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখে।    রাজ্য সিনেটর জুলিয়া সালাজারের উদ্যোগে আনা ‘ডিগনিটি নট ডিটেনশন’ বিধানটি ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর আওতায় আইসের সঙ্গে বিদ্যমান ইন্টারগভর্নমেন্টাল সাপোর্ট অ্যাগ্রিমেন্টসহ অভিবাসন আটক-সংক্রান্ত চুক্তিগুলোও শেষ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।    নতুন আইনগুলোর ফলে নিউইয়র্কে আইসের ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বন্ধ হয়নি। পরিবর্তনটি মূলত স্থানীয় পুলিশ, শেরিফের কার্যালয়, কারাগার ও সরকারি সম্পদকে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করার পথ সীমিত করেছে। তবে আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কাউন্টির আইনি চ্যালেঞ্জ নতুন করে নিউইয়র্ক ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে বিরোধকে আরও তীব্র করেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, নতুন তারিখ দেবে দূতাবাস

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য শুরু হওয়া একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।   এরই মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ থাকা কিছু আবেদনকারী ইমেইলে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্বিন্যাসের বার্তা পেয়েছেন। নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি।    পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করা। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রাখেন কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো হবে।    ভিসা সাক্ষাৎকারের এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই এসেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায়ও কঠোর যাচাই-বাছাই জোরদার করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও সামনে এসেছে।   এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই তালিকায় বাংলাদেশও ছিল। তবে গত ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছে, কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকি যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর জন্য পাবলিক চার্জ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।   এদিকে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাসহ আরও কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশাসন এগোচ্ছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রেও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে ভিসা ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে অভিবাসন অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সমালোচনা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত বিধিনিষেধের ফলে বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে এবং নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন অভিযানের কারণে এক সেনা সার্জেন্টের স্ত্রীকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সেনা সার্জেন্টের স্ত্রীকে ডিপোর্ট, ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় দায়িত্বে থাকা এক সেনা সার্জেন্টের স্ত্রী ক্রিস্টি মেরিওরি ভিলাফ্রাঙ্কা ত্রেহোকে সোমবার হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার স্বামী সার্জেন্ট হেদার লিওনেল তুরসিওস হুয়ারেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছয় বছরের এক কন্যাসন্তানের মা ভিলাফ্রাঙ্কার এই বহিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন অভিযানে সামরিক সদস্যদের পরিবারের ওপর পড়া প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগও ভিলাফ্রাঙ্কাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিভাগের এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়। সরকারের দাবি, তার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।   গত ১১ জুলাই টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিসের কাছে একটি দোকানের বাইরে ভিলাফ্রাঙ্কাকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা আটক করেন। সে সময় তার ছয় বছরের মেয়ে গাড়িতে ছিল বলে তার স্বামী জানিয়েছেন। ভিলাফ্রাঙ্কা ২০১৬ সালে হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার স্বামীর দাবি, নিজ দেশের সহিংস পরিস্থিতির কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছিলেন।   সার্জেন্ট তুরসিওস হুয়ারেজও হন্ডুরাসে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। এর আগে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নয় মাস সামরিক দায়িত্ব পালন করেন। স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়াও তিনি শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভিলাফ্রাঙ্কার কোনো পরিচিত অপরাধের রেকর্ড নেই। তবে ২০১৭ সালে একটি অভিবাসন আদালতের শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ জারি হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই শুনানির বিষয়ে ভিলাফ্রাঙ্কা যথাযথভাবে অবহিত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   পরিবারটি তার অভিবাসন মামলা পুনরায় খোলার চেষ্টা করছিল। একই সঙ্গে সামরিক সদস্যদের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইনি সুবিধার আওতায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।   এর আগে ভিলাফ্রাঙ্কাকে হন্ডুরাসে পাঠানোর একটি প্রচেষ্টা আইনি জটিলতার কারণে আটকে যায়। পরে ২৪ আগস্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অভিবাসন অভিযানের মধ্যে ভিলাফ্রাঙ্কা অন্তত সপ্তম এমন স্ত্রী বা অভিভাবক, যিনি সক্রিয় দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন সামরিক সদস্যের পরিবারের সদস্য হয়েও দেশ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। একই সময়ে ৫০টির বেশি ঘটনায় মার্কিন সামরিক সদস্যদের নিকট পরিবারের সদস্যদের ফেডারেল অভিবাসন হেফাজতে নেওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।   স্ত্রীকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানোর পর সার্জেন্ট তুরসিওস হুয়ারেজকে সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি ছয় বছরের মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বও নিতে হচ্ছে। পরিবারকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালন করা তার জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের ইভিসা ব্যবস্থার বিভ্রাটে স্পেনে আটকে পড়া নিদিয়া ওয়েব দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
যমজ বোনের সঙ্গে পরিচয় মিলে যাওয়ায় ই-ভিসা বিভ্রাটে ব্রিটেনে ফিরতে পারলেন না নারী

যুক্তরাজ্যে আট বছর ধরে বসবাস করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক নারী স্পেন থেকে দেশে ফেরার পথে ইভিসা ব্যবস্থার বিভ্রাটের কারণে বিমানে উঠতে পারেননি। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় তার পরিচয় তার অভিন্ন যমজ বোনের সঙ্গে গুলিয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়। নিদিয়া ওয়েব নামের ওই নারীকে পরে জানানো হয়, যমজদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থায় পরিচিত প্রযুক্তিগত ত্রুটি।   চলতি মাসের শুরুতে স্পেনে ছুটি কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার চেষ্টা করেন নিদিয়া ওয়েব। বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। তার নির্ধারিত বিমানটি তাকে ছাড়াই চলে যায়। এরপর তিনি সমস্যাটি সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তা নম্বরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যোগাযোগ করেন।   ওয়েব জানান, তার ইলেকট্রনিক স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা তার নিজের তথ্যের পরিবর্তে অভিন্ন যমজ বোনের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ফলে তার বসবাসের মর্যাদার তথ্য তার পরিচয়ের সঙ্গে সঠিকভাবে মেলানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে তাকে জানানো হয়, যমজদের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থায় এমন প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।   ওয়েব বলেন, সমস্যাটি সমাধানের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ফোনে যোগাযোগ না করলে কতদিন বিদেশে আটকে থাকতে হতো, তা তিনি জানেন না। তার অভিজ্ঞতাটি রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যমের কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় যমজ ব্যক্তিদের পরিচয় সঠিকভাবে আলাদা করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদেশি নাগরিকদের জন্য কাগজের নথির ব্যবহার কমিয়ে ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এরপর লাখ লাখ মানুষ ইভিসা ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়েছেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে কাজ, পড়াশোনা, বাসা ভাড়া নেওয়া এবং দেশটিতে ভ্রমণের অধিকার প্রমাণ করা যায়। তবে ইভিসা ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ভুলের কারণে কিছু মানুষ এসব অধিকার প্রমাণ করতে সমস্যায় পড়েছেন।   এর আগে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা ইভিসা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে যুক্তরাজ্যে ফিরতে পারেননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির পরিচয় অন্য ব্যক্তির সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনার কারণে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থার তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি প্রচার সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মনিক হকিন্স বলেন, অন্য ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা কারও ইভিসা হিসাবের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার মতো অনেক ঘটনা তারা দেখেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বারবার উদ্বেগ জানানোর পরও এমন সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।   হকিন্সের মতে, ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থাকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এটি মানুষের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় ইভিসার তথ্য সঠিকভাবে কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন।   এর আগেও যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থায় তথ্য বিভ্রাটের ঘটনা সামনে এসেছে। একটি ঘটনায় কানাডার এক নারীর পাসপোর্টের তথ্য, অভিবাসন ইতিহাস ও যোগাযোগের তথ্য ভুলভাবে রাশিয়ার এক নারীর কাছে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ঘটনার মাধ্যমে দুই ব্যক্তির তথ্য একে অপরের সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।   গত মাসে মানবাধিকারকর্মীরাও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ও অভিযোগের সংখ্যা প্রকাশের দাবি করেন। একই সঙ্গে তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।   তবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এক কোটির বেশি মানুষ ইতোমধ্যে সফলভাবে ইভিসা ব্যবহার করে নিজেদের অভিবাসন মর্যাদা প্রমাণ করেছেন। সংস্থাটি বলেছে, ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং ইভিসা ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা সহজলভ্য রাখার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে ভুল শনাক্ত হয়, সেগুলোর অধিকাংশই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা হয়। তবে নিদিয়া ওয়েবের অভিজ্ঞতা ইভিসা ব্যবস্থায় যমজ ব্যক্তিদের পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্ত ও আলাদা রাখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

তাবাস্সুম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে আইসিই কর্তৃক আটক ইকুয়েডরের মা ও মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত
সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর মা-মেয়েকে আটক করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ইকুয়েডরের এক মা ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী মেয়ে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর দুজনকেই আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ঘটনাটি ঘটেছে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার পইনসিয়ানা এলাকায়।    ৩৯ বছর বয়সী গ্রেস স্টেফানি কালোরো কাবানিয়া ও তাঁর মেয়ে জিউলিয়ানা মিয়া কারিয়েল কালোরো ২০ আগস্ট মারিগোল্ড অ্যাভিনিউ ও শেলড্রেক রোডের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন। পোল্ক কাউন্টি শেরিফের অফিসের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের এইচসিএ ফ্লোরিডা পইনসিয়ানা হাসপাতালে নেওয়া হয়।    পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অন্য একটি গাড়ি তাঁদের গাড়ির যাত্রীপাশে আঘাত করলে সেটি কয়েকবার উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারের এক সদস্য নিউজউইককে জানান, ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাঁরা প্রাণে বেঁচে যাওয়াকেই সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন।    হাসপাতালে নেওয়ার পর মা ও মেয়েকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেসকে তাঁর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সে সময় তিনি ঘাড়ে ব্রেস পরেছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।    পোল্ক কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত করতে হাসপাতালে গিয়ে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে গ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করলেও তাঁর অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরে তাঁর মেয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর আইসিই দুজনের বিরুদ্ধেই ডিটেইনার জারি করে। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর তাঁদের পোল্ক কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়।    আইসিইও জানিয়েছে, গ্রেস ২০২৩ সালের মার্চে এবং তাঁর মেয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে সংস্থার দাবি, দুজনই অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন, জরুরি বিভাগে আসা প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে এলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মেনে চলতে হয় বলেও জানিয়েছে হাসপাতালটি।    দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অবস্থায় ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন এবং চিকিৎসা শেষে আটক করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালগুলোতে আইসিইর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নতুন ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। মার্কিন অর্থবছরের শেষ মাস হওয়ায় কয়েকটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণিতে ভিসা নম্বরের চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি শ্রেণিতে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতীয় আবেদনকারীদের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম শ্রেণিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। উচ্চ চাহিদার কারণে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এই শ্রেণির নির্ধারিত ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।   কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণিতেও ভারতীয়দের জন্য বর্তমানে ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা রয়েছে সাধারণ কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণিতেও। তবে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্বপূর্ণ এলাকা এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত পঞ্চম শ্রেণির বিশেষ ভিসাগুলো সব দেশের আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।   পরিবারভিত্তিক দ্বিতীয়-এ শ্রেণিতে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি রয়েছে। সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য এই শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় দ্বিতীয়-এ শ্রেণি বিশ্বব্যাপী চলমান রয়েছে।   কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় শ্রেণিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। তবে চীন, ভারত ও ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের জন্য আলাদা ও তুলনামূলক পুরোনো কাটঅফ তারিখ রয়েছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ সময়ে কোনো শ্রেণিতে চাহিদা বেড়ে গেলে নির্ধারিত তারিখ আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো শ্রেণির ভিসা নম্বর পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে সেটি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধও হতে পারে।   গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের তাই নিজেদের অগ্রাধিকার তারিখের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিনের কাটঅফ তারিখ মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সেপ্টেম্বরে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন তারিখের তালিকা অনুসরণ করছে, সেটিও নজরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীকে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।   নতুন মার্কিন অর্থবছর শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর। ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভিসা নম্বরের চাপ এবং বিভিন্ন অভিবাসন শ্রেণির কাটঅফ তারিখের পরিবর্তনের দিকে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। ছবি: সংগৃহীত
২০৩০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভরসা হবে অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে দেশটির কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটির সর্বশেষ জনসংখ্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। এরপর দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান উৎস হয়ে উঠবে অভিবাসন।   ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘দ্য ডেমোগ্রাফিক আউটলুক: ২০২৬ টু ২০৫৬’ প্রতিবেদনে সিবিও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩০ বছরের জনসংখ্যাগত পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, জন্মহার কমে যাওয়া এবং জনসংখ্যার গড় বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দশকে স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ক্রমেই দুর্বল হবে।   সিবিওর হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রায় ৩৪৯ মিলিয়ন বা ৩৪ কোটি ৯০ লাখ। ২০৫৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৬৪ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। তবে এই বৃদ্ধি হবে অত্যন্ত ধীরগতির। ২০২৬ থেকে পরবর্তী এক দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় হার বছরে প্রায় ০.৩ শতাংশ হতে পারে। ২০৩৭ থেকে ২০৫৬ সালের মধ্যে তা আরও কমে গড়ে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে। ২০৫৬ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কার্যত শূন্যে নেমে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটবে জন্ম ও মৃত্যুর হিসাবের ক্ষেত্রে। সিবিও বলছে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর মৃত্যুর তুলনায় জন্মের সংখ্যা বেশি থাকবে। কিন্তু ২০৩০ সাল থেকে জন্মের সংখ্যা মৃত্যুর চেয়ে কমে যাবে। অভিবাসন না থাকলে ওই সময় থেকেই দেশটির মোট জনসংখ্যা কমতে শুরু করত।   এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের কমে যাওয়া জন্মহার। সিবিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার ছিল ২.১২ সন্তান প্রতি নারী যা পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২০ সালে এই হার ১.৬৪ এবং ২০২৪ সালে ১.৬০-এ নেমে আসে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তা আরও কমে ১.৫৮ হবে এবং ২০৩৬ সালে ১.৫৩-এ নেমে গিয়ে এরপর প্রায় একই পর্যায়ে থাকবে।   জনসংখ্যাকে দীর্ঘমেয়াদে একই আকারে ধরে রাখতে সাধারণভাবে প্রায় ২.১ সন্তান প্রতি নারীর প্রজনন হার প্রয়োজন হয়, যদি অভিবাসনকে হিসাবের বাইরে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও পূর্বাভাসকৃত হার সেই মাত্রার অনেক নিচে। শুধু জন্মহার কমছে তা নয়, সন্তান নেওয়ার সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী নারীদের প্রজনন হার আগামী কয়েক দশকে আরও কমবে। বিপরীতে, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের প্রজনন হার কিছুটা বাড়তে পারে। সংস্থাটি এর অন্যতম কারণ হিসেবে অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগামী কয়েক দশকে তরুণ বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও। একই সময়ে ২৪ বছর বা তার কম বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগামী ৩০ বছর ধরে কমতে পারে।   এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশটির কর্মবাজার ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। সিবিও বলছে, বর্তমানে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রতি একজনের বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু আগামী তিন দশকে এই অনুপাত আরও সংকুচিত হবে। ২০২৬ সালে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন মানুষের বিপরীতে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রায় ২.৭ জন থাকলেও ২০৫৬ সালে তা কমে প্রায় ২.২ জনে দাঁড়াতে পারে।   এর অর্থ হলো, অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপও বাড়তে পারে। অন্যদিকে এসব কর্মসূচিতে অর্থ জোগান দেওয়া কর্মক্ষম মানুষের তুলনামূলক অংশ কমে যেতে পারে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, শ্রমবাজার এবং সরকারি বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ অবস্থায় অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে জন্ম ও মৃত্যুর পার্থক্য জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেই ঘাটতি পূরণ করবে মূলত নিট অভিবাসন অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ প্রবেশ করবে, তার তুলনায় যত মানুষ দেশ ছাড়বে, সেই পার্থক্য।   তবে অভিবাসনের ক্ষেত্রেও পূর্বাভাস আগের তুলনায় কমেছে। সিবিও জানিয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের জন্য তাদের নিট অভিবাসনের পূর্বাভাস কমানোর পেছনে বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ২০২৫ সালের একটি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের অভিবাসন-সম্পর্কিত বিধান এবং আগের জনসংখ্যার তথ্যের সংশোধন ভূমিকা রেখেছে।   সিবিওর হিসাবে, অভিবাসন অব্যাহত থাকায় ২০৫৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এতটাই কমে যাবে যে ওই বছর তা প্রায় স্থির হয়ে যাবে। এরপর জনসংখ্যা কমার পথে যেতে পারে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এগুলো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়; বরং বর্তমান আইন, নীতি ও জনসংখ্যাগত প্রবণতার ভিত্তিতে তৈরি পূর্বাভাস। জন্মহার, মৃত্যুহার বা অভিবাসনের প্রকৃত হার পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য ভিন্ন হলেও দীর্ঘ সময়ে তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। বিশেষ করে ২০৫৬ সালের কাছাকাছি সময়ের হিসাবগুলোতে অনিশ্চয়তা বেশি।   তারপরও ২০৩০ সালের সম্ভাব্য পরিবর্তনটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসংখ্যাগত মাইলফলক। কারণ ওই সময় থেকে দেশের জনসংখ্যা আর স্বাভাবিকভাবে অর্থাৎ জন্ম ও মৃত্যুর ব্যবধানের মাধ্যমে বাড়বে না। বরং জনসংখ্যার আকার ধরে রাখা ও অর্থনীতিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
শরনার্থী ছবি:সংগৃহীত
সোমালিদের টিপিএস বাতিল কার্যকর হচ্ছে, আদালতের রায়ে নির্বাসনের ঝুঁকিতে প্রায় ১,১০০ জন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ১,১০০ সোমালি নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষিত অবস্থান বা টিপিএস বাতিলের পথে আর আদালতের বাধা নেই। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক অ্যালিসন বারোজ আগের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন সোমালিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, সোমালিয়ার টিপিএস ১৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়েছে।   টিপিএস হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী অভিবাসন সুরক্ষা, যার আওতায় যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য গুরুতর পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। সোমালিয়া ১৯৯১ সাল থেকে এই কর্মসূচির আওতায় ছিল।   ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোমালিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের যুক্তি ছিল, সোমালিয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং দেশটি আর টিপিএসের আইনি শর্ত পূরণ করে না। তবে সোমালিয়ায় এখনো নিরাপত্তা সংকট ও আল-শাবাবের সঙ্গে সংঘাত রয়েছে।   প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টিপিএস ১৭ মার্চ থেকে বাতিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্চে বিচারক বারোজ সাময়িকভাবে সিদ্ধান্তটি আটকে দেন। চারজন সোমালি টিপিএসধারী এবং দুটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় ও জাতিগত পক্ষপাতের প্রভাব রয়েছে এবং প্রশাসন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি।   আগস্টে বিচারক আগের স্থগিতাদেশ তুলে নেন। এর পেছনে জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ও ভূমিকা রাখে। ওই রায়ে টিপিএস বাতিলের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত করা হয়। এরপর হাইতি, সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রেও প্রশাসন আইনি অগ্রগতি পায়।   টিপিএস বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সোমালি নাগরিকদের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সোমালিয়ার টিপিএস ১৪ আগস্ট থেকেই বাতিল এবং এই কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের টিপিএস-ভিত্তিক বৈধতা আর কার্যকর নেই। টিপিএসের ভিত্তিতে দেওয়া কর্মসংস্থানের অনুমতিও পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।   তবে টিপিএস বাতিল হয়েছে মানেই ১,১০০ জনকে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন ভিত্তি নেই, তারা ভবিষ্যতে নির্বাসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন। অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস, আবেদন বা আইনি সুরক্ষা থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের বক্তব্য, সোমালিয়ায় নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি এখনো এমন নয় যে সেখানে থাকা সোমালি নাগরিকদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো যায়। মামলার আইনি লড়াইও পুরোপুরি শেষ হয়নি।   ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সোমালিয়ার টিপিএস বাতিল বৃহত্তর অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের অংশ। প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, টিপিএস অস্থায়ী সুরক্ষা হিসেবে তৈরি হলেও অনেক দেশের নাগরিক বছরের পর বছর এই ব্যবস্থার আওতায় থেকে যাচ্ছেন। তাই নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুরক্ষা প্রত্যাহার করে অভিবাসন আইন কার্যকর করা উচিত।   অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনো দেশের পরিস্থিতি বাস্তবে কতটা নিরাপদ হয়েছে এবং সেখানে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে, সেই মূল্যায়ন যথেষ্টভাবে করা হচ্ছে কি না।   সোমালি টিপিএসধারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন ভিত্তি আছে কি না। টিপিএস বাতিলের পর বৈধ স্ট্যাটাস ও কাজের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে যাদের অনিশ্চয়তা রয়েছে, তাদের নিজেদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

Unknown আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
শিশুটির ছবি:সংগৃহীত
টেক্সাসে বাবার সঙ্গে ৫ বছরের শিশুকেও আটক করে অভিবাসন আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে ফুটবল খেলতে যাওয়ার পথে বাবার সঙ্গে ৫ বছরের এক শিশুকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির নাম লিয়াম তাদেও। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনাটি সামনে এসেছে।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট রোববার অস্টিনে গাড়ি থামানোর পর লিয়াম ও তার বাবাকে আটক করা হয়। পরে তাদের দক্ষিণ টেক্সাসের ডিলি এলাকার একটি পারিবারিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। অস্টিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমও কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসারের বক্তব্যের ভিত্তিতে লিয়ামকে ডিলি কেন্দ্রে আটকের তথ্য প্রকাশ করেছে।   পরিবার জানিয়েছে, আটকের সময় লিয়াম তার বাবার সঙ্গে ফুটবল খেলায় যাচ্ছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শিশুটিকে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে বলে স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটককেন্দ্র থেকে লিয়াম তার মাকে ফোন করে তাকে ভালোবাসে ও মিস করছে বলেও জানানো হয়েছে।   চলতি সপ্তাহেই লিয়ামের কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়টিকে সামনে এনে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার শিশুটিকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, লিয়ামের এই সময়ে কিন্ডারগার্টেনে থাকার কথা, আটককেন্দ্রে নয়।   কাসার আরও দাবি করেন, শিশুটিকে ফুটবল খেলতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে ডিলি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তিনি শুধু লিয়াম নয়, আটক থাকা অন্যান্য শিশুদেরও মুক্তি এবং ডিলির পারিবারিক আটককেন্দ্র বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।   অস্টিনের স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিয়ামকে কখন এবং শহরের ঠিক কোন এলাকায় আটক করা হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিভাগটি কোনো জবাব দেয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবী রেনাটা কাস্ত্রোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, শিশুদের স্বাভাবিক জীবন স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে আটক করা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মতামত, সরকারি তদন্তের ফল নয়।   ডিলি আটককেন্দ্রটি দক্ষিণ টেক্সাসে অবস্থিত এবং সেখানে অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলায় পরিবার ও শিশুদের আটক রাখা হয়। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে লিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিও এখনো অনিশ্চিত।   এদিকে ঘটনাটি নিয়ে আরেক ৫ বছরের শিশু লিয়াম রামোসের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। মিনেসোটায় আটক হওয়ার পর তাকেও ডিলি কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। অস্টিনের কংগ্রেসম্যান কাসারও দুই ঘটনার নাম ও বয়সের মিলের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে দুটি ঘটনা আলাদা।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লিয়াম ও তার বাবাকে ঠিক কোন আইনি কারণে আটক করা হয়েছে, আটকের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থান কী এসব বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তাই পরিবারের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও কংগ্রেসম্যানের দাবির বাইরে কোনো তথ্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।

Unknown আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে চার ধরনের ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ ফেরত সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা বা ট্যাক্স ক্রেডিট বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসীদের জন্য কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট চার ধরনের কর ক্রেডিট থেকে করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন যোগ্যতা না থাকা অভিবাসীরা। তবে তাঁরা নিজেদের বকেয়া আয়কর কমানোর জন্য এসব কর ক্রেডিটের মূল অংশ ব্যবহার করতে পারবেন।   বুধবার প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) বলেছে, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল কল্যাণ আইন অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ নন এমন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার আওতায় ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশও পড়বে। প্রস্তাবটি এখন জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত।   নতুন প্রস্তাবটি চার ধরনের কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিট, শিশু কর ক্রেডিট, আমেরিকান অপরচুনিটি কর ক্রেডিট এবং অর্জিত আয় কর ক্রেডিট। এই কর ক্রেডিটগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ কোনো করদাতার পাওনা করের পরিমাণের চেয়ে ক্রেডিট বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ সাধারণত কর ফেরত হিসেবে পাওয়া যায়। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে অননুমোদিত অভিবাসীরা তাঁদের করের দায় কমানোর জন্য ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারলেও অতিরিক্ত অংশ নগদ ফেরত হিসেবে পাবেন না।   অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা ১৯৯৬ সালের আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ হতে হবে। কর ক্রেডিট প্রথমবার দাবি করার সময় এই যোগ্যতা থাকতে হবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের সুবিধায় ব্যবহার করা উচিত নয়, যাঁরা ফেডারেল আইনের অধীনে ওই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আইআরএস কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানোও বলেছেন, নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা কেবল যোগ্য করদাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।   আইআরএসের হিসাবে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারের বছরে সর্বোচ্চ ২.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে এই হিসাব প্রস্তাবিত নিয়মের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, নিশ্চিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়। এই উদ্যোগের পেছনে ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’ বা কল্যাণ সংস্কার আইনকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আইনে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।   তবে কয়েক দশক ধরে কর ক্রেডিটকে ওই আইনের আওতায় সরাসরি ‘সরকারি সুবিধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। নতুন প্রস্তাবের যুক্তি হলো, কোনো কর ক্রেডিট শুধু করের দায় কমিয়ে দিলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু করের দায়ের অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে সরাসরি ফেরত দেওয়া হলে সেটি সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অবশ্য সব ধরনের অভিবাসন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক বছরের জন্য বিশেষ ‘প্যারোল’ মর্যাদায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।   প্রতিটি কর ক্রেডিটের নিজস্ব আয়সীমা ও অর্থ পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরতযোগ্য। আবার শিশু কর ক্রেডিট ও অর্জিত আয় কর ক্রেডিট মূলত নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা পরিবার ও কর্মজীবীদের করের বোঝা কমাতে সহায়তা করে। আইআরএসের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কোনো দম্পতি যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দিলে তাঁদের মধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের যোগ্য হলেই ফেরতযোগ্য অংশ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ যৌথ কর বিবরণীর ক্ষেত্রে উভয় ব্যক্তির একই ধরনের যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়।   তবে নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা শেষে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা প্রত্যাহার করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের একটি নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ। ওই নির্দেশনায় ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ১৯৯৬ সালের কল্যাণ সংস্কার আইনের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   এরপর ট্রেজারি বিভাগ বিচার বিভাগের আইন পরামর্শ দপ্তরের কাছে ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশ ওই আইনের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে মতামত চায়। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইন পরামর্শ দপ্তর মত দিয়েছে যে কর ক্রেডিটের যে অংশ করদাতাকে নগদ অর্থ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, সেটি সরকারি সুবিধার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।   নতুন নিয়মটি অবশ্য ওবামা প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ‘ওবামাকেয়ার’-এর প্রিমিয়াম কর ক্রেডিটে প্রযোজ্য হবে না। ট্রেজারি ও আইআরএস জানিয়েছে, ওই কর সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যেই পৃথক আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। একইভাবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু হওয়া নতুন ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ এবং যোগ্য শিশুদের জন্য নির্ধারিত এককালীন ১ হাজার ডলারের অর্থও এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বে না। কারণ এসব সুবিধা আইন অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তবে প্রস্তাবিত বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বাস্তবে কখন থেকে এর প্রভাব পড়বে এবং কোন কোন করদাতা ঠিক কতটা সুবিধা হারাবেন, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০