চিকিৎসাসেবার আগে জানতে হবে নাগরিকত্ব! মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিলের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য চিপ রয় মার্কিন আইনসভায় একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশটির যেসব হাসপাতাল সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তহবিল গ্রহণ করে, তাদের চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিবাসন মর্যাদা বা আইনি বৈধতার তথ্য সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। চিপ রয়ের মতে, অবৈধ অভিবাসীদের চিকিৎসায় করদাতাদের কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা স্পষ্ট করার মাধ্যমেই কেবল এই খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
"ইললিগাল এলিয়েন পেশেন্ট রিপোর্টিং অ্যাক্ট" নামের এই প্রস্তাবিত আইনের আওতায়, ফেডারেল স্বাস্থ্য তহবিল পাওয়া হাসপাতালগুলোকে রোগীদের ভর্তির সময় সরাসরি জিজ্ঞেস করতে হবে—তারা মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, বৈধ ভিসাধারী নাকি অন্য কোনো উপায়ে আইনগতভাবে দেশে আছেন। যদি কোনো হাসপাতাল রোগীদের এই তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত প্রতিবেদন আকারে সরকারের কাছে জমা না দেয়, তবে তারা সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির তহবিল হারাতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন রোগীদের জরুরি সেবা ব্যাহত না হয়, সেজন্য ভর্তির ফরমে স্পষ্ট লেখা থাকতে হবে যে—রোগীরা এই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও তাদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না।
ইতিমধ্যে টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির (মেডিকেয়ার ও মেডিকেড) মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নেওয়া অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বিভিন্ন অভিবাসী এবং রোগী অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর আইনি মর্যাদা বা নাগরিকত্ব কখনোই বাধা হওয়া উচিত নয়।
বর্তমানে প্রচলিত মার্কিন আইন অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোর জন্য রোগীদের নাগরিকত্ব বা বৈধতার তথ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ১৯৮৬ সালে পাস হওয়া "ইমার্জেন্সি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড লেবার অ্যাক্ট" বা "ইএমটিএএলএ" আইনের অধীনে সরকারি তহবিলভুক্ত যেকোনো হাসপাতাল জরুরি বিভাগে আসা যেকোনো রোগীকে পরীক্ষা করতে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এক্ষেত্রে রোগীর বিল পরিশোধের সক্ষমতা, বীমা সুবিধা কিংবা অভিবাসন মর্যাদা দেখার কোনো সুযোগ নেই।
সাধারণত, বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা অধিকাংশ সরকারি স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা পান না। তবে তাদের জরুরি চিকিৎসার খরচ অনেক সময় বিশেষ জরুরি তহবিলের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। এর আগে টেক্সাসের গভর্নর ২০২৪ সালে একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোকে রোগীদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে সময় নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠন এসিএলইউ জানিয়েছিল, হাসপাতালগুলো প্রশ্ন করতে বাধ্য হলেও রোগীরা চাইলে উত্তর না দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।
প্রস্তাবিত এই বিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে "ফেডারেশন ফর আমেরিকান ইমিগ্রেশন রিফর্ম" এর পরিচালক জো চ্যাথাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন প্রশাসন স্বাস্থ্য খাতে অবৈধ অভিবাসনের প্রকৃত খরচ করদাতাদের কাছে আড়াল করে রেখেছে। ফ্লোরিডার এক বছরের তথ্যে দেখা গেছে, সেখানে করদাতাদের ৫৬৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পুরো দেশজুড়ে এই খরচের আনুমানিক পরিমাণ অন্তত ২১ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
তবে বিলটি সরাসরি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে (প্রতিনিধি সভা ও সিনেট) বিভিন্ন কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শুনানির পর এটি পাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্কিন রাজনীতিতে একক কোনো সদস্যের আনা বিল অনেক সময়ই শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির টেবিলে পৌঁছাতে পারে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের নতুন জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মাত্র ৪৪ শতাংশ জীবনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। ২০১০ সালে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ ১৬ বছরে সন্তুষ্টির হার কমেছে ২০ শতাংশ পয়েন্ট। বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে তরুণদের অবস্থান সবচেয়ে নিচে। অন্যদিকে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি বেড়েছে। গ্যালাপ গত ৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ হাজার ১৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মে ও আগস্টে তিন দফায় অনলাইনে জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দারা অংশ নেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বর্তমান জীবন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রত্যাশার ভিত্তিতে সন্তুষ্টির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্যালাপের হিসাবে, কোনো ব্যক্তি বর্তমান জীবনকে ১০-এর মধ্যে অন্তত ৭ এবং পাঁচ বছর পরের সম্ভাব্য জীবনকে অন্তত ৮ নম্বর দিলে তাঁকে ভালো অবস্থানে থাকা ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পদ্ধতিতে ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে তরুণদের মাত্র ৪৪ শতাংশ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাকি ৫৬ শতাংশ তরুণ সব সময় অসুখী। জরিপে সামগ্রিক জীবন মূল্যায়ন এবং দৈনন্দিন সুখের অনুভূতি আলাদাভাবে পরিমাপ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমার বড় অংশ ঘটেছে ২০১৯ সালের পর। ওই বছর ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৫৭ শতাংশ ভালো অবস্থানে ছিলেন। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে এই হার নেমে আসে ৩৯ শতাংশে। পরে ২০২৩ সালে বেড়ে ৫১ শতাংশ হলেও আবার কমতে শুরু করে। চলতি বছরের হিসাবে সেই হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশে। শুধু সামগ্রিক জীবন মূল্যায়ন নয়, দৈনন্দিন আনন্দের অনুভূতিতেও পরিবর্তন এসেছে। গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন, আগের দিন তাঁরা আনন্দ অনুভব করেছিলেন। ২০১৯ সালের তুলনায় এই হার ১৭ শতাংশ পয়েন্ট কম। একইভাবে গত এক বছরে নিজেদের অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন মাত্র ৩১ শতাংশ তরুণ। এই সূচকেও ২০১৯ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ পয়েন্ট পতন হয়েছে। তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার তথ্যও উঠে এসেছে জরিপে। বর্তমানে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ২৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা বিষণ্নতায় ভুগছেন অথবা এ জন্য চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় এই হার ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। অন্যদিকে মাত্র ৪১ শতাংশ তরুণ সমবয়সীদের তুলনায় নিজেদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে সন্তুষ্ট। এই হারও ২০১৯ সালের তুলনায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। তবে শুধু জেন জি নয়, অন্য বয়সের মানুষের মধ্যেও জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমেছে। ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বর্তমানে ৪৫ শতাংশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এই হার ছিল ৬২ শতাংশ। একইভাবে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে সন্তুষ্টির হার দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশে। বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ২০০৮ সালের ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫৩ শতাংশ হয়েছে। তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আবাসন ব্যয়, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া ও বাসস্থান কেনার উচ্চ খরচ তরুণদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন কঠিন করে তুলতে পারে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা এবং কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে গবেষণাটি এসব বিষয়কে সন্তুষ্টি কমার একক বা নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও তরুণদের সুখ নিয়ে বৃহত্তর গবেষণায় আলোচিত হচ্ছে। গ্যালাপের সঙ্গে যুক্ত বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন ২০২৬-এ বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণদের জীবন মূল্যায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জরিপে পাওয়া ২০ শতাংশ পয়েন্ট পতনের পুরোটাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে হয়েছে, এমন প্রমাণ নেই। ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন পরিস্থিতি একসঙ্গে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। গ্যালাপের এই গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন তুলে ধরেছে। একসময় তরুণদের জীবন মূল্যায়ন অন্য বয়সীদের তুলনায় বেশি ইতিবাচক থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি উল্টো। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর তরুণদের সন্তুষ্টি কমার প্রবণতা গবেষকদের নজরে এসেছে। তবে জরিপটি ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় এর ফলাফল সব বয়সের জেন জি সদস্যের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। সূত্র: গ্যালাপ
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মাত্র ১,৮২০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, চলছে লটারি
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারিয়েও মাসে ১ হাজার ডলার সাশ্রয়, তরুণীর অভিনব কৌশল
নিউইয়র্কে ক্যাথলিক যাজকদের যৌ ন নিপীড়নের শিকার ১,৩০০ জন, ক্ষতিপূরণ ৮০ কোটি ডলারের বেশি
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে হলিউড অভিনেতা মাইকেল বি. জর্ডানের আসন্ন সিনেমা 'মায়ামি ভাইস ৮৫'-এর শুটিং সেটে এক ক্রু মেম্বারের ওপর ছুরি নিয়ে চড়াও হওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বে পার্কওয়ে এবং ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ বছর বয়সী অ্যালেক্স পেরেজ নামের ওই যুবক সেটের প্রোডাকশন টিমের ৪৩ বছর বয়সী এক সদস্যের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে একটি বড় কসাইয়ের ছুরি বের করে তাকে ভয় দেখান। ওই প্রোডাকশন কর্মী নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়ার পরপরই পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) জানিয়েছে, হামলাকারীকে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় কেউ আহত হননি। অভিযুক্ত পেরেজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। টিএমজেড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের বাসিন্দা পেরেজ এর আগেও গ্যাং-সম্পর্কিত অপরাধ, আগ্নেয়াস্ত্র হামলা এবং চুরিসহ একাধিক অপরাধের দায়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৮০-এর দশকের জনপ্রিয় আন্ডারকভার গোয়েন্দা সিরিজের রিমেক 'মায়ামি ভাইস ৮৫' সিনেমাটি পরিচালনা করছেন 'টপ গান: ম্যাভেরিক' খ্যাত নির্মাতা জোসেফ কোসিনস্কি। এতে রিকার্ডো টাবসের চরিত্রে অভিনয় করছেন জর্ডান এবং জেমস 'সনি' ক্রকেট চরিত্রে রয়েছেন অস্টিন বাটলার। শুক্রবার রাতের এই শুটিং চলাকালীন জর্ডান নিজেও সেটে উপস্থিত ছিলেন। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিভিন্ন স্থানে চিত্রায়িত হওয়া এই ক্রাইম ড্রামা সিনেমাটি ২০২৮ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
নিউইয়র্কে নারী পুলিশকে রাত কাটানোর প্রস্তাব, ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে যৌ ন হয়রানির মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়
কুরআনের আয়াতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস থামিয়েছিলো যুবক, রক্ষা পেয়েছে ১৯ শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে প্রথম স্কুল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফায়েড হালাল খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট। এর ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা স্কুলের ক্যাফেটেরিয়াতেই নিজেদের ধর্মীয় খাদ্যবিধি অনুযায়ী খাবার পাওয়ার সুযোগ পাবে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংগঠন ওয়ানআমেরিকা এ ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেন্ট এলাকার কয়েক শ মুসলিম শিক্ষার্থী উপকৃত হবে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেআইআরও সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কেন্ট শহরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম পরিবারের বসবাস রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্কুলে নিজেদের খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী খাবার পাওয়ার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিল। বিশেষ করে ক্যাফেটেরিয়ায় পরিবেশিত খাবারের উপাদান এবং মাংস হালাল কি না, তা নিয়ে অনেক পরিবারের উদ্বেগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সার্টিফায়েড হালাল খাবার সরবরাহের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। হালাল খাবার চালুর দাবিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় অভিভাবক ও কমিউনিটির সদস্যরা উদ্যোগ নিতে শুরু করেন। ওয়ানআমেরিকার সহযোগিতায় তাঁরা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় খাদ্যবিধি অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্কুল বোর্ডের বৈঠকেও মুসলিম অভিভাবকেরা বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, উপযুক্ত খাবার না পাওয়ায় কোনো কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে দুপুরের খাবার খেতে পারে না। দীর্ঘ আলোচনা ও কমিউনিটির উদ্যোগের পর কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ানআমেরিকা। সংগঠনটির দাবি, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কোনো স্কুল ডিস্ট্রিক্টের পক্ষ থেকে এ ধরনের সার্টিফায়েড হালাল খাবার সরবরাহের উদ্যোগ এটিই প্রথম। তবে অঙ্গরাজ্যের অন্য কোনো স্কুলে আগে হালাল খাবার দেওয়া হয়নি, এমন নয়। অন্য কয়েকটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টেও হালাল খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন উদ্যোগটির বিশেষত্ব হলো সার্টিফায়েড হালাল খাবার সরবরাহের ঘোষণা। কেন্ট হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফা মালেকজাই এই উদ্যোগে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খাবার স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় পাওয়া তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনা করে এমন ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি গর্বিত। মুসলিম শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি শুধু খাবারের সুযোগ নয়, বরং স্কুলের দৈনন্দিন কার্যক্রমে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুভূতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের টেকনোলজি অ্যান্ড পার্টনারশিপস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক স্পেনসার প্যান এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এটি মুসলিম কমিউনিটি ও শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তেমনি সামগ্রিকভাবে সব শিক্ষার্থীর জন্যও ইতিবাচক। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পটভূমি থেকে আসা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়ার মাধ্যমে স্কুলে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে কিংবা ভর্তুকিযুক্ত খাবারের বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে। কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, কমিউনিটি এলিজিবিলিটি প্রভিশন কর্মসূচির আওতায় ডিস্ট্রিক্টের সব শিক্ষার্থী প্রতিটি স্কুল দিবসে বিনামূল্যে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার পেতে পারে। এ জন্য পরিবারের আয়ের ভিত্তিতে আলাদা আবেদন করার প্রয়োজন নেই। নতুন হালাল খাবারের উদ্যোগটি সেই বিদ্যমান স্কুল মিল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তবে সার্টিফায়েড হালাল খাবার ঠিক কোন তারিখ থেকে সব স্কুলে পাওয়া যাবে, কোন কোন খাবার মেনুতে থাকবে এবং কোন প্রতিষ্ঠান হালাল সার্টিফিকেশন দেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী মেনু ও সরবরাহসংক্রান্ত ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সরকারি শিক্ষাবিষয়ক নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও চর্চার প্রতি যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় কারণে কোনো শিক্ষার্থী বিশেষ খাবার প্রয়োজন হলে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। তবে ধর্মীয় প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা, খাবারের উপাদান এবং আনুষ্ঠানিক হালাল সার্টিফিকেশন এক বিষয় নয়। তাই কেন্টের উদ্যোগে সার্টিফিকেশনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ মুসলিম অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সময় খাবারের বিষয়টি নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করে থাকে। বিশেষ করে হালাল খাবার না থাকলে বাড়ি থেকে খাবার পাঠাতে হয় কিংবা শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট কিছু খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। কেন্টের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের খাবার গ্রহণ আরও সহজ হতে পারে। তবে এই সুবিধা ওয়াশিংটনের সব স্কুলে চালু হয়েছে, এমন নয়। কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পর সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন খাবার সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি, মেনু এবং সার্টিফিকেশনের বিস্তারিত প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে কেন্টের কয়েক শ মুসলিম শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন স্কুলজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই, নতুন পেমেন্টের তারিখ ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া