যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবিলম্বে জ্বালানির দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জন্য ‘বড় ধরনের সমস্যা’ অপেক্ষা করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবশ্যই অবিলম্বে তেলের দাম কমাতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অন্যায্যভাবে দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। ট্রাম্প বলেন, “খুচরা বিক্রেতারা যদি এটি না করে, তাহলে তাদের সামনে বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করছে। প্রতি গ্যালন প্রায় আড়াই ডলারের পর্যায়ে দাম নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।” তিনি আরও লেখেন, “খুচরা বিক্রেতাদের উচিত এই বক্তব্যের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তারা যা সঠিক বলে জানে, সেটিই করা। আমাদের মহান মার্কিন জনগণের জন্য দাম কমিয়ে দেওয়া।” ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে অঙ্গরাজ্যটির পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই করের পরিমাণ পণ্যের দামের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এটি মেনে নেবে না, ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণও মেনে নেবে না। তারা এই অযৌক্তিক কর এবং নিজেদের সরকারের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।” ডেমোক্র্যাট নেতা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অন্যতম কড়া সমালোচক। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও জোরদার করছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে প্রশাসন। এর আগে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। গত ২৪ জুন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “বড় তেল কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে যে হারে কম দামে তেল কিনছে, সেই অনুপাতে তারা পাম্পে পেট্রোলের দাম কমাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অন্য কথায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আমি বিচার বিভাগকে অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।” ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানির দাম “পাথরের মতো দ্রুত” কমে যাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং জ্বালানির দামে তার প্রতিফলনও দেখা যেতে পারে।
প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম তেল রপ্তানি টার্মিনাল রাস তানুরা থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের শিপিং প্রতিষ্ঠান বাহরির নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) বর্তমানে রাস তানুরা বন্দরে অপরিশোধিত তেল লোড করছে। এছাড়া আরও একটি জাহাজ বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় অপেক্ষমাণ রয়েছে। জাহাজগুলোর তেল লোডিং কার্যক্রম সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র থেকে পুনরায় রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিটি ভিএলসিসি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করতে সক্ষম। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টার মধ্যে এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল থেকে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু করল। বিশ্লেষকদের মতে, রাস তানুরা থেকে রপ্তানি পুনরায় চালু হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তেল কোম্পানিগুলো কম দামে অপরিশোধিত তেল কিনলেও পাম্পে পেট্রোলের দাম সে অনুযায়ী কমাচ্ছে না। তার ভাষায়, তেলের দাম দ্রুত কমে গেলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। পরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জ্বালানির দাম এখনো যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফেরেনি। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের মূল্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। কারণ দেশটির অধিকাংশ মানুষ যাতায়াতের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরাসরি ভোটারদের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর সিদ্ধান্ত এবং এর কারণে মার্কিন নাগরিকদের জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্পের প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়েছে। আগামী নভেম্বরে কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানির দাম দ্রুত কমে যাবে বলে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করলেও অর্থনীতিবিদদের অনেকে এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। এএএ মোটর ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৮ লিটার) সাধারণ পেট্রোলের গড় মূল্য ছিল ৩ দশমিক ৯৩ ডলার। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বিপুল সরকারি ব্যয় নিয়ে অনেক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও ইউরোপে জেট ফুয়েল রপ্তানি বাড়িয়েছে সৌদি আরব। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার এবং ভরটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ইউরোপে সৌদির জেট ফুয়েল সরবরাহ হরমুজ প্রণালি খোলা থাকার সময়ের তুলনায়ও বেশি হয়েছে। কেপলারের তথ্য বলছে, জুনের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল জেট ফুয়েল রপ্তানি হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবাহ। অন্যদিকে ভরটেক্সারের হিসাব অনুযায়ী এই সময়কালে রপ্তানির পরিমাণ আরও বেশি, দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে। কেপলারের পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ মাসিক সরবরাহ ছিল জানুয়ারিতে, তখন দৈনিক গড় রপ্তানি ছিল ৭৭ হাজার ব্যারেল। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো ইউরোপে জেট ফুয়েল রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল জেট ফুয়েল সরবরাহ হতো, যা ইউরোপের প্রধান জোগানদাতাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যকে শীর্ষে রেখেছিল। ওই সময়ে ভারত, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে মোট আমদানি ছিল প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ লাখ ব্যারেল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার বাড়িয়েছে সৌদি আরব। এতে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা মিলছে বলে বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা। এদিকে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকেও জেট ফুয়েল আমদানি বাড়িয়েছে। মে মাসে এই দুই দেশ থেকে ইউরোপে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ লাখ ব্যারেল জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইরান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি সব জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘোষণার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২.৮৭ ডলার বা প্রায় ১২.৯৫ শতাংশ কমে ৮৬.৫২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৩.৫০ ডলার বা ১৪.২৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮১.১৯ ডলারে। উভয় সূচকই ১০ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, লেবাননকে ঘিরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিনিয়োগ বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তবে প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল কতটা বাড়ে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা চলমান সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ভবিষ্যতে আর প্রণালি বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি খুলে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপে তেল পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তারা আরও সতর্ক করেছেন, পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান না হলে বাজারে অনিশ্চয়তা আবারও ফিরে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমায় মঙ্গলবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত বৈঠক প্রায় ২১ ঘণ্টা চলার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর ইরানের বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। তবে পরবর্তীতে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের শর্তে অনড় রয়েছে। তবু আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কেওএসপিআই সূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলে জ্বালানি বাজারে আরও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট সতর্ক করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকবে এবং তা আরও বাড়তে পারে।
ইরানের বন্দরগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই লেনদেনে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান–সংকট শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। সংঘাতের প্রভাবে তা বিভিন্ন সময়ে ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে পাকিস্তানে সম্ভাব্য সমঝোতা বৈঠকের খবরের পর গত শুক্রবার জুন মাসের সরবরাহের জন্য তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছিল। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার আবারও অস্থিরতার দিকে ফিরে গেছে। এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, যুদ্ধবিরতির আগের উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় বাজার ফিরে এসেছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান–সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে। এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হতে পারে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধবিরতির কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। একই সঙ্গে ইরান–সংকটকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপের মধ্যে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।
ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে টানা আলোচনা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ করে ফিরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই ব্যর্থতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন বিকল্প দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথে থাকা। দ্বিতীয়ত, আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ানো—যা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। তৃতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়া। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিজেই জানাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও সীমারেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে, তবে ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তাদের সহজভাবে নতি স্বীকার করা উচিত। তবে অতীত অভিজ্ঞতা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। বারাক ওবামার সময় দুই দেশের মধ্যে বড় একটি চুক্তি করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল, যেখানে ইরানকে সীমিত আকারে পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রশ্ন। ইরান বলছে, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় নিজেদের ভূখণ্ডে এই কার্যক্রম চালানো তাদের অধিকার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দেয়। সাম্প্রতিক সংঘাত এই অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে। এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। কারণ, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাজার অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি তাদের অবস্থানকে দুর্বল করেনি, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আরও দৃঢ় করেছে। সব মিলিয়ে, আলোচনার এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে শক্ত মনে করছে। তাই আপাতত সমঝোতার সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। সূত্র – নিউইয়র্ক টাইমস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করেছে ইরান ও ওমান। আল জাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, আঞ্চলিক এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরান এই ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে ব্যবহার করতে চায়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবে ওমান এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান ও ওমান উভয়েরই আঞ্চলিক অধিকার রয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে ফি আরোপের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবি ও বাস্তব চিত্রের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হলেও, পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে এই প্রণালি দিয়ে আগের তুলনায় বেশি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। একই সুরে কথা বলেন পিট হেগসেথ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগের ফলে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান এই পথ দিয়ে অতিরিক্ত ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম MarineTraffic-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। আজ মাত্র তিনটি জাহাজ ট্র্যাকার চালু রেখে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে দুটি ছিল সাধারণ মালবাহী জাহাজ এবং অন্যটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকার ‘লুইজা’। আরও কয়েকটি জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিশ্লেষণ সংস্থা Kpler জানিয়েছে, গত কয়েক দিনেও জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সীমিত। সোমবার চারটি, রোববার ছয়টি এবং গত এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৩টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘সিগন্যাল জ্যামিং’ বা সংকেত বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। অনেক জাহাজ নিরাপত্তার কারণে তাদের ট্র্যাকার বন্ধ রাখছে, ফলে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও এটিকে ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। তবে কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে।
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৭ ডলার কমে একপর্যায়ে ৯৬ ডলারে নেমে আসে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ পতন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এটি প্রায় ১৩ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমেছে, যার প্রভাব সরাসরি তেলের দামে পড়েছে। এর আগে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।