জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বিরতির সময় দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের ‘মেঘনা হল’-এ এই সাক্ষাৎ হয়। অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গ্যালারিতে গিয়ে উপস্থিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা ভেঙে এক আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান এবং চিকিৎসা ও অন্যান্য বিষয়ে খোঁজ নেন। কারও পরিবারের সদস্য হারানোর বেদনা, কারও চলমান চিকিৎসা—সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে তাঁদের সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৬০ জন জুলাই গণ-আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্য এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বাকিরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়লে তিনি তাঁদের সান্ত্বনা দেন। সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাৎ সংসদের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপস্থিতদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব সময় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পাশে থাকবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। স্মৃতিবিজড়িত উপহার ও কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তিনটি বিশেষ উপহার তুলে দেন: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের একটি ঐতিহাসিক ছবি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রের একটি ছবি। হোয়াইট হাউসের একটি বিশেষ রেপ্লিকা। এই উপহারগুলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলো ছিল: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণ। জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। প্রযুক্তি ও উন্নয়ন: প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা। মানবিক সহায়তা: রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। মার্কিন দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া সাক্ষাৎ শেষে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস এক বার্তায় বলেন: "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে আমরা একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।" বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।
কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা করে তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ পুরোপুরি শেষ হলে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কারখানাটির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনবহুল এলাকায় এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কলকারখানা না থাকে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৭টি ইউনিট। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার ফাইটাররা। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। জনবহুল স্থানে এমন কারখানার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ চাঙা করা এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নতুন এক সংলাপের সূচনা হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মূলত নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-ভিসা চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া চাপ মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই সহজে বাংলাদেশে আসতে পারেন, সেজন্য দ্রুত ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আলোচনায় ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো এবং এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) সংস্কারের বিষয়টি উঠে আসে। ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া মাঝারি উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে লাইসেন্সপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি আনতে গভীর সমুদ্রবন্দর দ্রুত চালুর দাবি জানান তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান সংকটগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেসবের একটি বিস্তারিত নোট গ্রহণ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, অতীতে ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার সমাধান হলেও কিছু বিষয় এখনো ঝুলে আছে, যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে। বৈঠকে ডিবিএল, এপেক্স, প্রাণ-আরএফএল, ইনসেপ্টা ও রানার গ্রুপসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন Khaleda Zia-এর শাসনামলে দেশের মানুষ ভালো ছিল—এ কারণেই দলটিকে দীর্ঘ সময় ভুগতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ Nurul Islam। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল। নুরুল ইসলাম বলেন, “বেগম জিয়ার আমলে দেশের উন্নতি হয়েছিল, মানুষ ভালো ছিল—এই কারণেই আমরা ১৭ বছর ভুগেছি।” তিনি দাবি করেন, Ziaur Rahman দেশকে নানা অসংগতি থেকে বের করে এনেছিলেন এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে স্বল্প সময়ে খাদ্যসংকট দূর হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় Tarique Rahman-ও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সভায় Sheikh Mujibur Rahman-এর সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দুর্বলতা ছিল। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি সাশ্রয়ী জীবনযাপন করেন এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদসীমা নির্ধারণের বিষয়ও রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামসহ অন্যরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের শেষ তিন মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সচল হবে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। এটি তার প্রথম সংসদীয় প্রশ্নোত্তর, যেখানে তিনি সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গত ১০ মার্চ থেকে দেশের ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ডের মাধ্যমে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, কার্ডটি নারীপ্রধানের নামে প্রদত্ত হওয়ায় পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে পরিবারের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা এবং শিক্ষার খাতে সহায়তা সরাসরি পৌঁছাবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যও ধরা হয়েছে।
নবনিযুক্ত ৪২ জন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন। গত ১৫ মার্চ সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়, যারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবনিযুক্ত প্রশাসকদের সঙ্গে এটি তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বাংলাদেশি হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের সেবার মান বাড়াতে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। সোমবার (৩০ মার্চ) সৌদির স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় মদিনার কিং সালমান আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী সৌদি আরবের আধুনিক হজ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হাজিদের কল্যাণে একটি লিখিত প্রস্তাবনা সৌদি মন্ত্রীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে, যা আগামীতে ওমরাহ ও হজ পালনে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তৃতীয় ওমরাহ ও ভিজিট ফোরামে যোগদানের জন্য বর্তমানে সৌদি আরব অবস্থান করছেন বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী। বৈঠকে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ একে অপরকে সৌজন্য উপহার প্রদান করেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ধর্মীয় ও কূটনৈতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আজ রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে সরকারি দলের সংসদীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক আজ রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২৪টি নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য হয়নি। এই বিতর্কিত অধ্যাদেশগুলো নিয়েই আজ বিশেষ কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রায় ১৩ দিন বিরতির পর আজ থেকে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আজ বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত রয়েছেন। ঈদ ও অন্যান্য ছুটির পর সংসদের এই অধিবেশন শেষে রাতে বিশেষ কমিটির বৈঠকে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
দলীয় কর্মসূচির নামে রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি না করার জন্য নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি নিজেও আর দলীয় কার্যালয়ে আসবেন না। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, কোনোভাবেই মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না এবং দলীয় কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে জনজীবন স্বাভাবিক থাকে। তিনি বলেন, “এভাবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। আমাদের স্বাভাবিকভাবে অফিসে আসতে হবে, যাতে সবকিছু ঠিকভাবে চলতে পারে। আমি অফিসে আসতে চাই, কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকলে তা সম্ভব হবে না।” নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যদি তারা তাকে নিয়মিত পল্টন কার্যালয়ে দেখতে চান, তবে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হবে। এ সময় তিনি দ্রুত রাস্তা খালি করার নির্দেশ দেন এবং আগামী আধা ঘণ্টার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নেতা-কর্মীদের আইন মেনে চলার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সবশেষে তিনি উপস্থিত সবাইকে রাস্তার বাম পাশে সরে গিয়ে যান চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “আমরা দেশের মানুষের সমস্যার কারণ হতে চাই না। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি নিয়মিত অফিসে আসতে পারব।”
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নাগরিককে ২৫০০ টাকা ‘বৈশাখী ভাতা’ প্রদানের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই অফারটি মূলত একটি ডিজিটাল প্রতারণার অংশ। কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র বা মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের কোনো আর্থিক সহায়তার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘incomebd.online’ নামক একটি ডোমেইন ব্যবহার করে এই ভুয়া অফারটি প্রচার করা হচ্ছে, যা মাত্র তিন দিন আগে নিবন্ধিত হয়েছে। লিংকে ক্লিক করলে কোনো বৈধ আবেদন ফরমের পরিবর্তে ব্যবহারকারীকে একটি বেটিং সাইটে রিডাইরেক্ট করা হয়। মূলত সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা আর্থিক প্রতারণার উদ্দেশ্যেই এই ভুয়া ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছে। সরকারি যেকোনো অনুদান বা ভাতার তথ্য সাধারণত ‘.gov.bd’ যুক্ত অফিসিয়াল পোর্টালে প্রকাশিত হয়। প্রতারণামূলক এই পোস্টে ‘Dr Zubaida Rahman’ নামক একটি অনির্ভরযোগ্য ফেসবুক পেজের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের লিংকে ক্লিক করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে। সুতরাং, পহেলা বৈশাখের বোনাস সংক্রান্ত এই তথ্যটি একটি পরিকল্পিত গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি মাত্র। সূত্র: রিউমার স্ক্যানার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা যদি একতাবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করা অসম্ভব নয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তৃতার শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ সব জাতীয় নেতাদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতকে সম্পূর্ণ ভুলে থাকা যেমন চলবে না, আবার অতীতের মধ্যে আটকে থাকলেও তা আমাদের ভবিষ্যতের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত এই গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা হবে, তবে তা কখনও ইতিহাসের অবমূল্যায়ন করবে না। তরুণ প্রজন্মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা হঠাৎ করেই দেননি; দীর্ঘকালীন মানসিক প্রস্তুতির পর তিনি দেশকে স্বাধীনতার দিকে নেতৃত্ব দেন।” তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়ার নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধই এর প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে শহীদের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠিত করা সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন—জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এবং দেশকে স্বনির্ভর করতে কাজ করছে। শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক—সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো এবং চেষ্টা করবো সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।”
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ ১৯৭১ সালের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন ও তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর সম্মান জানান। এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গ করা বীর শহীদদের।
আগামীকাল ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই বাণীতে তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দিনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নৃশংস ও কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে—বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে—শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। তিনি আরও বলেন, ২৫ মার্চের এই হত্যাযজ্ঞ ছিল একটি সুপরিকল্পিত অভিযান। কেন এই হত্যাযজ্ঞ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি, তা এখনো ইতিহাসবিদদের গবেষণার বিষয়। তবে সেই রাতেই চট্টগ্রামে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা ঘটে, যা পরবর্তীতে দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে গণহত্যা দিবসের ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মর্যাদা দিতে হবে। বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা প্রত্যাশা করেন।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের historic বিজয়কে স্বীকৃতি জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবটি সংসদ সদস্য অ্যাবিগেইল বয়েডের инициативায় উত্থাপিত হয়। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হক জানান, সোমবার পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রস্তাবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচন ও এর ফলাফলকে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।” অ্যাবিগেইল বয়েড প্রস্তাবে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ১৩তম সাধারণ নির্বাচনকে উল্লেখ করেন, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এই নির্বাচন ছিল প্রথম। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঐতিহাসিক দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী হয়েছে। প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা জুলাই জাতীয় সনদে অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক গণভোটের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ৬০ শতাংশ ভোটার সনদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই সনদে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের জন্য ৮০টিরও বেশি প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে। প্রস্তাবের শেষে বিএনপি এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয় এবং দেশের জনগণকে তাদের সাহসী সক্রিয়তা ও আন্দোলনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সার্জেন্টকে জড়িয়ে ধরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সার্জেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে দেখে এগিয়ে এসে স্যালুট ও হাত মেলাতে চাচ্ছেন। এ সময় তারেক রহমান তাকে কাছে টেনে নিয়ে কোলাকুলি করেন এবং হাসিমুখে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। ঘটনাটি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য AZM Zahid Hossain। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “এই দৃশ্য ঈদের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। যেমন রাষ্ট্র চাই, ঠিক সেই পথে।” এরপর থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও সহজ-সরল আচরণে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। শনিবার (আজ) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মাটিতে ঈদ উদ্যাপন করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশের মানুষ আরও শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, জনগণ যে বাংলাদেশ দেখতে চায়, সেই প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে নির্বাচিত সরকার দেশগঠনের কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। শেষে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর সরকারি বাসভবন যমুনা-য় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ঈদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—আমরা যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।” তিনি আরও বলেন, জনগণ যে ধরনের দেশ দেখতে চায়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর মতে, জাতীয় অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। বৃহস্পতিবার দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আজ ৩০ রোজা পূর্ণ করে হিজরি ১৪৪৭ সনের এই ঈদ আনন্দ উৎসবে মেতেছে দেশবাসী। যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালিত হচ্ছে। রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন। প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত সরিয়ে নেওয়া হবে। জাতীয় ঈদগাহে নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ নারীসহ ৩৫ হাজার মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন। এদিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত (সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায়) অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে দেশের অন্যতম বৃহৎ ১৯৯তম ঈদ জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে কঠোর নজরদারিতে থাকবে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি চলছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে এবং হাসপাতাল ও এতিমখানাগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে উন্নত মানের খাবার। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিশু পার্ক ও জাদুঘরে বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এই উৎসবের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। রমজান মাস আমাদের আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও অন্যের কষ্ট অনুভব করার যে শিক্ষা দেয়, তা ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। তিনি ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমান আরও বলেন, ঈদের এই আনন্দের দিনে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার। তিনি ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। মোদির পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, “ঈদ মোবারক। ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” প্রধানমন্ত্রী মোদি রমজান মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এক মাস ধরে ভারতসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা রোজা ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে পবিত্র রমজান পালন করেছেন।” তিনি ঈদকে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং একসঙ্গে থাকার চিরন্তন মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। মোদির আশীর্বাদ, “আমরা সারা বিশ্বের মানুষের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করি। আমাদের দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী হোক।” ৩০ দিন রোজা রাখার পর আগামী শনিবার বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews