জাতীয়

বাজেট উপস্থাপনের পর এবারই প্রথম জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১৩:৮
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি : পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি : পিএমও

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার পর থেকে দেশের সচেতন মানুষ সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছে এবং এই বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য তো বাড়েইনি, বরং বেশ কিছু ক্ষেত্রে কমেছে।

 

গত শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশের ওয়ানডে বা টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের পর বাজারের এই স্থিতিশীলতাকে তিনি সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সকালে দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকাগুলো দেখে তিনি জানতে পেরেছেন যে, সব পত্রিকা কমবেশি একটি খবর প্রকাশ করেছে। প্রতি বছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বাজারে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম এক লাফে বেড়ে যেত। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে গত পরশু দিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

 

জনসভা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার অথবা ছয় লেনে রূপান্তর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যটন নগরী ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ ভৌগোলিকগত কারণে কক্সবাজারকে অতি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই মহাসড়ককে অনেক আগেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করা উচিত ছিল, যা বর্তমান সরকার অচিরেই শুরু করবে।

 

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আজ থেকে ২৫ বছর আগে তিনি এই সড়ক দিয়ে কক্সবাজার এসেছিলেন এবং তখন সড়কটি যে অবস্থায় দেখেছিলেন, এবার এসেও তাকে ঠিক একই অবস্থায় দেখতে হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। তবে এবার অবশ্যই এই মহাসড়ককে খুব দ্রুত চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করার কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করেন।

 

এলাকার লবণ চাষিদের দুঃখগাথা নিয়েও জনসভায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এখানকার লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে দীর্ঘ দিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাই স্থানীয় সন্তান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে চাষিদের দীর্ঘদিনের দুঃখ মোচন করা হবে যাতে এখানকার লবণশিল্প রক্ষা পায়।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাব্যয় যাতে পুরোপুরি আয়ত্তের মধ্যে আনা যায়, সে জন্য ঘোষিত নতুন বাজেটে চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ধরনের ট্যাক্স বা কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ একটি বিশেষ মহল এই গণমুখী বাজেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, কারণ তারা দেশের সাধারণ জনগণের প্রকৃত কল্যাণ চায় না।

 

প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ শুরু করেছে। আঙুলে দেওয়া ভোটের কালি মোছার আগেই বিএনপি সরকার দেশের কৃষক ও শ্রমিকসহ সবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড প্রদানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

 

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

জাতীয়

View more
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি : পিএমও
বাজেট উপস্থাপনের পর এবারই প্রথম জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার পর থেকে দেশের সচেতন মানুষ সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছে এবং এই বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য তো বাড়েইনি, বরং বেশ কিছু ক্ষেত্রে কমেছে।   গত শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশের ওয়ানডে বা টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের পর বাজারের এই স্থিতিশীলতাকে তিনি সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।   প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সকালে দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকাগুলো দেখে তিনি জানতে পেরেছেন যে, সব পত্রিকা কমবেশি একটি খবর প্রকাশ করেছে। প্রতি বছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বাজারে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম এক লাফে বেড়ে যেত। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে গত পরশু দিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।   জনসভা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার অথবা ছয় লেনে রূপান্তর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যটন নগরী ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ ভৌগোলিকগত কারণে কক্সবাজারকে অতি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই মহাসড়ককে অনেক আগেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করা উচিত ছিল, যা বর্তমান সরকার অচিরেই শুরু করবে।   প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আজ থেকে ২৫ বছর আগে তিনি এই সড়ক দিয়ে কক্সবাজার এসেছিলেন এবং তখন সড়কটি যে অবস্থায় দেখেছিলেন, এবার এসেও তাকে ঠিক একই অবস্থায় দেখতে হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। তবে এবার অবশ্যই এই মহাসড়ককে খুব দ্রুত চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করার কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করেন।   এলাকার লবণ চাষিদের দুঃখগাথা নিয়েও জনসভায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এখানকার লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে দীর্ঘ দিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাই স্থানীয় সন্তান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে চাষিদের দীর্ঘদিনের দুঃখ মোচন করা হবে যাতে এখানকার লবণশিল্প রক্ষা পায়।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাব্যয় যাতে পুরোপুরি আয়ত্তের মধ্যে আনা যায়, সে জন্য ঘোষিত নতুন বাজেটে চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ধরনের ট্যাক্স বা কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ একটি বিশেষ মহল এই গণমুখী বাজেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, কারণ তারা দেশের সাধারণ জনগণের প্রকৃত কল্যাণ চায় না।   প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ শুরু করেছে। আঙুলে দেওয়া ভোটের কালি মোছার আগেই বিএনপি সরকার দেশের কৃষক ও শ্রমিকসহ সবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড প্রদানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।   চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১৩:৮
শনিবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে | ছবি: সংগৃহীত

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে বিদেশে যেতে ১০ লাখ টাকা ঋণ দিবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

সিমের ওপর ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর

প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ ও ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের উদ্যোগ
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ ও ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের উদ্যোগ

প্রবাসীদের জন্য আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু এবং আবাসন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।   বুধবার (১০ জুন) সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় নরসিংদী-১ আসনের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা সব সময় প্রত্যাশিত সেবা পান না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার তাদের কল্যাণে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।   তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত ‘প্রবাসী কার্ড’ ব্যাংকের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজে দেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।   প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন ও বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার চিন্তা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে একটি প্রকল্প শুরু করে পর্যায়ক্রমে তা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হতে পারে।   প্রবাসীদের চিকিৎসা সেবার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের জমিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।   সংসদে দেওয়া তথ্যে নুরুল হক জানান, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষা ভাতা হিসেবে ৫ হাজার ২২৫ জনকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবন্ধী সন্তানদের ভাতা, বীমা দাবি, বিদেশফেরত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, মৃত কর্মীদের লাশ দেশে আনা ও দাফন ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে শত শত কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, বিদেশফেরত প্রায় আড়াই লাখ কর্মীকে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।   প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরে সেবার মান উন্নত করতে প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রামেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।   বিদেশে কর্মীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ১০টি দেশের আইন সংস্থার সঙ্গে চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ এবং ওমানের মাস্কাটে নারী কর্মীদের জন্য সেফ হোম চালু রয়েছে।   প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে দেশে টোল-ফ্রি নম্বর ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।   নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন সুযোগ তৈরিতে বিদেশস্থ মিশনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে।   রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার লাইসেন্স থাকলেও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই। এজন্য একটি গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   সবশেষে তিনি বলেন, অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রতারণা রোধ এবং প্রবাসীদের মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১:৩০
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা

ব্যবসা করার সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সবাইকে ব্যবসার সমান সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

বৃক্ষরোপণে ‘সবুজ বিপ্লব’ গড়ে তোলার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

বৃক্ষরোপণে ‘সবুজ বিপ্লব’ গড়ে তোলার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

ছবি: সংগৃহীত
টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিংনির্ভর নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের কোন ভিত্তি নেই: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে জোরালো মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই পাল্টা জবাব দেয়।   বিবৃতিতে টিআইবি উল্লেখ করেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে টিআইবি কোনো তদন্ত সংস্থা নয়। এটি মূলত একটি গবেষণানির্ভর দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনবিষয়ক অধিপরামর্শ, জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা ভিত্তিক পরিবর্তনপ্রত্যাশী সামাজিক সংগঠন। সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত গুণগত এবং পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহের বিজ্ঞানসম্মত পরিসংখ্যান পদ্ধতি অনুসরণ করেই তাদের প্রতিটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।   সংস্থাটি আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে টিআইবি যে তথ্যগুলো ব্যবহার করেছে, তার মূল উৎস ছিল বাংলাদেশ পুলিশ ও তিনটি সুপরিচিত মানবাধিকার সংগঠন। যা প্রতিবেদনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং টিআইবির এই প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে ‘পত্রিকার কাটিং নির্ভর’ বলা শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং মূল সংকট ও বাস্তব বিষয়কে পাশ কাটানোর একটি ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।   বিবৃতিতে টিআইবি প্রশ্ন তোলে, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় না? অতএব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান বা অপপ্রচারের নামে গণমাধ্যমকে এভাবে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। পুলিশ কর্তৃপক্ষও সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, সেই মূল পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেনি বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ০:৫০
ছবি: সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের বৈঠক

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ফাইল ছবি

ফেসবুকের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই, কেবল অনুরোধ করা যায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম ও শিক্ষা উপকরণ

জুলাই থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম ও শিক্ষা উপকরণ

0 Comments