তেল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের তেল সম্পদে নজর ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বিবেচনা করতে পারে। তিনি বিষয়টিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক লাভ হিসেবে তুলে ধরেছেন।   এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, সুযোগ থাকলে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতেও পারেন, কারণ ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তিনি বিষয়টি দেখেন। তার মতে, অতীতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা এনে দিয়েছে।   ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সেখানে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, অতীতের মার্কিন নীতির তুলনায় এটি ভিন্ন ধরনের কৌশল, যেখানে বিজয়ী পক্ষ বেশি সুবিধা পায়।   তিনি আরও বলেন, তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে যুদ্ধের ব্যয় সহজেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব, এমনকি তা থেকে অতিরিক্ত লাভও হতে পারে।   এদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তার দাবি, দেশটির নৌ, বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তেমন শক্তিশালী নয়।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, অন্য একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এমন ধারণা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিতে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় নতুন নিয়ম চালু নেপালে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল। দেশের মজুদ তেলের সাশ্রয় করতে এবং সংকট মোকাবিলায় সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন থেকে বাড়িয়ে দুই দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। রবিবার কাঠমান্ডুর সিংহদরবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও রবিবার সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সোমবার থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি মুখপাত্র সসমিত পোখারেল সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় দেশ বর্তমানে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।    তবে ছুটির পরিমাণ বাড়লেও কাজের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সরকারি অফিসগুলোর কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রতিদিন কাজের সময় এক ঘণ্টা করে বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নেপাল তার প্রয়োজনীয় সব জ্বালানি তেল ভারত থেকে আমদানি করে। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমদানিকৃত জ্বালানির সরবরাহ ও দামে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।  এরই মধ্যে নেপাল এয়ারলাইন্স জ্বালানির দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রী ও পর্যটন খাতের ওপর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুই দিনের ছুটির বিধান বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে এক রাতেই তেলের দামে রেকর্ড বৃদ্ধি

হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্ন এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে ওঠায় তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানির দাম বড় পরিসরে বাড়াতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার।   নতুন ঘোষণায় ডিজেলের দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ৪২ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশোধিত দরে প্রতি লিটার ডিজেল বেড়ে হয়েছে ৫২০ রুপির বেশি এবং পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ রুপির ওপরে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দামও বাড়ানো হয়েছে, যা কার্যকর হয়েছে ঘোষণার পরপরই।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। জ্বালানি মন্ত্রী এটিকে ‘অনিবার্য’ বলে উল্লেখ করে বলেন, চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফলে বিশ্ববাজারের চাপ সরাসরি দেশের ভোক্তাদের ওপর পড়ছে।   তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জনগণকে স্বস্তি দিতে সরকার বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে এই ভর্তুকি বজায় রাখা সম্ভব নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল আমদানির প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ঝুঁকির মুখে থাকায় সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে, যার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পাকিস্তানের অর্থনীতি।   এদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে কিছু লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার্বজনীন ভর্তুকির পরিবর্তে এখন মোটরসাইকেল চালক, ক্ষুদ্র কৃষক এবং পরিবহন খাতকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের যাত্রীদের জন্য রেলপথে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। 

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই লঞ্চে সন্তান প্রসব, নবজাতকের আজীবন ভাড়া ‘ফ্রি’

চরাঞ্চল থেকে প্রসবব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসার পথে মাঝনদীতে লঞ্চের ভেতরেই এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা ‘এমভি হাশেমপুর’ লঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর ও মানবিক ঘটনা ঘটে।   লঞ্চঘাটের নৌ-থানা পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতির স্বামী আল আমিন প্রধানীয়া তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি মতলবের জহিরাবাদ চর উমেদ এলাকা থেকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথেই ওই নারীর তীব্র প্রসবব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লঞ্চের ভেতরেই প্রসবের ব্যবস্থা করা হয় এবং সেখানে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।   লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছামাত্রই খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ। তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ও নবজাতককে দ্রুত উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, "নবজাতক এবং প্রসূতি উভয়কেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নবজাতকটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। তবে প্রসবের পর নবজাতকের মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।"   এদিকে এমন মানবিক ঘটনায় দারুণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এমভি হাশেমপুর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। লঞ্চের মালিকপক্ষ ওই প্রসূতি দম্পতিকে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং নতুন পোশাক উপহার দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, লঞ্চে জন্ম নেওয়া ওই নবজাতকের জন্য এই লঞ্চে আজীবন যাতায়াত ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন’, ক্ষেপে আগুন ট্রাম্প

ধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সংকট নিরসনে মিত্রদেশগুলোকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যের হয়ে লড়াই করবে না; বরং প্রতিটি দেশকে এখন থেকে নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদেরই ভূমিকা নিতে হবে। ট্রাম্প তার পোস্টে সরাসরি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে যেসব দেশ জ্বালানি সংকটে ভুগছে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো রাষ্ট্রগুলোর উচিত এখন সাহস সঞ্চয় করা। তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশগুলোর উচিত নিজেরাই প্রণালিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করে নেওয়া। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষোভের সুর ছিল স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, দেশগুলোকে এখন থেকে নিজেদের লড়াই নিজেদেরই লড়তে শিখতে হবে। অতীতে বিভিন্ন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে একা ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র আর সাহায্য করতে সেখানে থাকবে না—যেমন তোমরা আমাদের জন্য ছিলে না।" মূলত ইরানবিরোধী অভিযানে যেসব দেশ সরাসরি অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্য করেই এই কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, "ইরান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কঠিন কাজ এরই মধ্যে শেষ।" পোস্টের একদম শেষে তিনি মিত্রদের প্রতি চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে লেখেন, "নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন!" ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে? সিদ্ধান্ত জানাল সরকার

বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।  আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে গ্রাহক পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ছে না। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’ অনুসরণ করে নতুন মাসের এই দর ঠিক করা হয়েছে। ফলে এপ্রিলে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২৬ টাকা, পেট্রোল ১২২ টাকা এবং কেরোসিন ১০৮ টাকা দরেই বিক্রি হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না।  রমজান ও আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দাম অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
হাইফা
ইসরায়েলের হাইফায় তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা-র ‘বাজান’ তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই জ্বালানি শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। এতে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এর আগে গত ১৯ মার্চও একই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। সে সময় ইরান দাবি করে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং Al Jazeera কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।   তবে সর্বশেষ এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এক মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫৯% বৃদ্ধি
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এক মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫৯% বৃদ্ধি

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুড, মাত্র এক মাসে প্রায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছে—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স–কে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এত স্বল্প সময়ে তেলের দামে এমন বড় উল্লম্ফন আর দেখা যায়নি। তবে তাদের মতে, সরাসরি তেলের ঘাটতি নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।   আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বে যে পরিমাণ তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন হয়, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। এ কারণেই অনেক সময় এটিকে বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার বলা হয়।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। দেশটির সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগী দেশগুলোর জাহাজ এই পথে চলাচল করতে পারবে না।   এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমান—বিপাকে পড়ে। কারণ এসব দেশের অনেক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র–এর সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, যা তাদের সংঘাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তুলেছে।   ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি গত এক মাসে এসব দেশের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।   বিশ্ববাজারে তেলের বড় জোগানদাতা সৌদি আরব বিকল্প পথ হিসেবে হরমুজের পরিবর্তে নিজেদের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলার–এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এই বন্দর থেকেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করা হচ্ছে।   এদিকে বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গান–এর বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা সতর্ক করে বলেছেন, প্রথমে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা এখন লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ঝুঁকি আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তথ্যসূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
২৫ দিনে এসেছে ৩০টি, জ্বালানি তেল নিয়ে আসছে আরও ৬ জাহাজ

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যখন অস্থিরতার কালো মেঘ, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য এলো স্বস্তির খবর। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত রয়েছে স্থিতিশীল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনেই দেশে পৌঁছেছে ৩০টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। এরই মধ্যে ২৭টি জাহাজ থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে দুটি জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া চলছে। স্বস্তির খবর এখানেই শেষ নয়; আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৬টি জ্বালানি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে। যার মধ্যে থাকবে এলএনজি, গ্যাস অয়েল এবং এলপিজি। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান বাংলাদেশকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিশেষ অভয় দিয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের সাথে আরও রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান। মূলত কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে নিয়মিত আসছে এলএনজি ও জ্বালানি তেল। তবে পরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল নিয়ে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান বন্দরে পৌঁছায়নি। তবে আশার কথা হলো, দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ক্রুড অয়েল আর বাকি ৮০ শতাংশই পরিশোধিত তেল, যা বর্তমানে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশে আসছে। ফলে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
জ্বালানি সংকট রুখতে ১৯ ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন

বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং মজুতদারদের অপতৎপরতা রুখতে বিজিবি সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্বরত সদস্যরা নিজস্ব ইউনিট থেকে দূরে হওয়ায় সুবিধাজনক স্থানে অস্থায়ী 'বেইজ ক্যাম্প' স্থাপন করে অভিযান ও তদারকি চালাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এসব ক্যাম্পে নিয়মিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিজিবি: রংপুর বিভাগ: রংপুর (৩টি), কুড়িগ্রাম (২টি)। রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী (৩টি)। সিলেট বিভাগ: সিলেট (২টি), মৌলভীবাজার (৩টি), সুনামগঞ্জ (১টি)। চট্টগ্রাম ও ঢাকা: কুমিল্লা (৩টি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১টি) এবং ঢাকা (১টি)। ডিপোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল এবং চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এখন তুঙ্গে। ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে বিজিবির এই সক্রিয় উপস্থিতি জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
পশ্চিমাদের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের আইআরজিসির
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘টোল বুথ’: বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এবার ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কারকে এখন থেকে ইরানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি বা শুল্ক প্রদান করতে হবে। ইরানের পার্লামেন্ট ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান পালন করছে, তাই এই করিডোর ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে অর্থ প্রদান করা যুক্তিসঙ্গত।   ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে তেহরান এই নৌপথটিকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি স্মার্টফোন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সার ও ওষুধের বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।   ইতিমধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এই টোল ব্যবস্থা তদারকি শুরু করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অনেক দেশ এখন এই পথ দিয়ে তাদের জাহাজ নিরাপদে পার করার জন্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি এই টোল আইন চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়, তবে এটি কেবল তেলের বাজার নয় বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মন্দার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে যা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আপাতত তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।  বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ যশোরে এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জনগণের ওপর চাপ কমাতে সরকার প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে যশোরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ তেলের দাম বাড়ালেও বাংলাদেশ সরকার জনগণের স্বার্থে অনড় অবস্থানে রয়েছে।  পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। ঈদ কেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আগামী ৯০ দিনের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেও ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের বিশেষ অনুমতি পাওয়াকে সরকারের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে জ্বালানি সংকট নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রতিমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো
ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। ডিপোর সহকারী ইনচার্জ মো. জীবন শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যেই আমদানিকৃত এই ডিজেল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মূলত উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান ৮টি জেলায় সেচ কাজ এবং যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই বিশেষ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ভারতের সাথে সম্পাদিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় এই ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই ফেব্রুয়ারি এবং ১১ মার্চ দুটি আলাদা চালানে মোট ১০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। আগামী সপ্তাহে আরও একটি চালানে ৫ হাজার টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে। চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আগামী চার মাসে পাইপলাইনের সাহায্যে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। ইরানের হুমকি এবং জাহাজে হামলার আশঙ্কায় এই পথ দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দেখা যাচ্ছে না।   বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সারের একটি বড় অংশও এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই প্রণালিতে অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।   জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করাতে মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সামরিক ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে ইরান এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সস্তা ড্রোন প্রযুক্তি, সমুদ্র মাইন এবং ভিন্নধর্মী রণকৌশল মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   এ অবরোধকে ইরান শুধু যুদ্ধ কৌশল হিসেবেই নয়, আয়ের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করছে। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত দুটি বড় জাহাজ অর্থ পরিশোধ করে এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্দিষ্ট ট্যাঙ্কারকে নিরাপদ পারাপারের সুযোগ দিয়ে এ ধরনের ফি আদায় অব্যাহত রাখা হতে পারে। এর ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মেরুকরণও বাড়ছে। সূত্র: সিএনএন  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার গ্রান কুভ
চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে পৌঁছাল জাহাজ

১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক চুক্তি অনুযায়ী এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাহাজ থেকে এসব তেল খালাস করা হবে বলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে।   বিপিসির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়া জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল মজুত রয়েছে। নতুন করে আসা ১০ হাজার টন ডিজেল সেই মজুতে যুক্ত হবে। আমদানিকৃত ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত হবে, আর জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন বিমানবন্দরে।   বিপিসি ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও জেট ফুয়েলসহ মোট পাঁচ ধরনের জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ করে থাকে। সংস্থাটির মতে, ডিপোগুলোতে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনের তেল দিয়ে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।   তবে সংকটের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হলেও ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে আমদানি পণ্য পরিবহণকারী লাইটার জাহাজ ও মাছ ধরার ট্রলারে রেশনিং করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পেট্রল পাম্পগুলোতেও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল খনিও কবজায় নেয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এবার ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সরাসরি ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের তেলের দখল নেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একে একটি "কার্যকর বিকল্প" বা অপশন হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প বলেন, "আমি এই বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চাইছি না, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই আমাদের একটি অপশন।" তিনি এই পরিস্থিতির সমাধানে ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে আনেন, যেখানে নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল সম্পদ ও অন্যান্য ইস্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে সরাসরি কাজ শুরু করেছে। ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে নিজের সাফল্যের দাবি করে ট্রাম্প বলেন, "ভেনেজুয়েলার সাথে আমাদের যৌথ উদ্যোগটি চমৎকারভাবে কাজ করছে। আমরা সেখান থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অর্জন করছি। দেশটির ইতিহাসে বর্তমান সময়টি সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং এই প্রক্রিয়ায় আমেরিকাও লাভবান হচ্ছে।" মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্যের সমর্থনে জানান, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ভেনেজুয়েলা তেল রপ্তানি থেকে গত বছরের চেয়েও বেশি রাজস্ব আয় করেছে। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ এখন আর চুরি হচ্ছে না, বরং সঠিক পথে ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা মোটেও চিন্তিত নয়। তিনি দাবি করেন, "আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। সৌদি আরব বা রাশিয়ার চেয়েও দ্বিগুণ তেল এখন আমেরিকার ভাণ্ডারে আছে এবং শীঘ্রই তা তিনগুণ হবে। ফলে ইরানের সাথে যুদ্ধ বা সরবরাহ সংকটে আমেরিকার কোনো ক্ষতি হবে না।"

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, তিন মাসের ‘বাফার স্টক’ গড়ছে সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের বিশেষ মজুত বা ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে একটি অসাধু চক্র মজুতদারি ও কালোবাজারির পাঁয়তারা করছে। তবে সরকার বসে নেই; এসব অপতৎপরতা রুখতে ইতোমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই দিনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এর ওপর সাধারণ মানুষের মাঝে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি গোষ্ঠী সবসময় এ ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালায়। এদিকে, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। আগে যেখানে ১৫ দিনের মজুত রাখা হতো, সেখানে বর্তমান মজুতকে তিনি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে তেলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, মানুষের মনে আস্থা ফিরে এলে ‘প্যানিক বায়িং’ দ্রুতই বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া, এদিনের মন্ত্রিসভায় রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত অর্থ আইন এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইন হিসেবে উপস্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না, মজুত করে লাভ হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে কোনো অসাধু চক্র বা পেট্রোল পাম্প মালিক তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তারা লাভবান হতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বুধবার সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসিন খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে একটি কঠিন সময় পার করছে বিশ্ব অর্থনীতি। এমনকি উন্নত দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও এক ধরনের ভীতি থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। তিনি পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। তাই যারা মনে করছেন দাম বাড়বে এবং সেই আশায় তেল মজুত করছেন, তাদের এই প্রবণতা কোনো কাজে আসবে না।" বাজারে তেলের সরবরাহ ও রেশনিং ব্যবস্থা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন যে, ঈদে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রেশনিং শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে সরবরাহে টান পড়েছে। তিনি বলেন, "সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনলেও দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা চিন্তা করে এখনই দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কারণ তেলের দাম বাড়লে সরাসরি মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়ে।" গ্যাস সরবরাহ নিয়ে তিনি জানান, সরকার বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস সংগ্রহ করছে। কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পুরো গ্যাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিকল্প উপায়ে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে কোনো বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
কেন ইরানের সঙ্গে আলোচনার ‘ধাপ্পা’ দিয়েছেন ট্রাম্প?

তেল ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতেই কি ইরানের সাথে আলোচনার নাটক সাজাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? সাবেক মার্কিন ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট জোয়েল রুবিন সিএনএন-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন।  তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতেই ট্রাম্প আলোচনার কথা বলছেন। রুবিন জানান, মার্কিন প্রশাসন হয়তো তেলের সরবরাহ সচল রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমিয়ে গ্যাসোলিনের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই কৌশল অবলম্বন করেছে। কারণ, হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজের জট এবং জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকির পরই তেহরান আলোচনার টেবিলে ফিরেছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।  ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। বরং জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণ করতেই ট্রাম্প এমন ‘মিথ্যা’ দাবি করছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্পের এক বার্তায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি: তেলের দামে বড় পতন, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শেয়ারবাজার

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ কি তবে কাটতে শুরু করেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি থেকে সরে এসে ট্রাম্প 'গঠনমূলক আলোচনার' কথা জানানোর পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নাটকীয় পতন ঘটেছে। একই সাথে পতনমুখী পুঁজিবাজারেও দেখা দিয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, চিরবৈরী দুই দেশ একটি 'সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক' সমাধানের পথে এগোচ্ছে। যদিও ইরান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এই আলোচনার দাবি অস্বীকার করে একে 'ভুয়া খবর' বলে অভিহিত করেছে, কিন্তু বাজারের অস্থিরতা কমাতে ট্রাম্পের এই মন্তব্যই যথেষ্ট ছিল। তেলের বাজারে বড় ধস, চাঙ্গা শেয়ারবাজার ট্রাম্পের বিবৃতির আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৩ ডলারে উঠে গেলেও, আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত নেমে ৯৬ ডলারে পৌঁছায়। তেলের দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে, যার প্রভাব পড়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার শেয়ারবাজারে। লন্ডনের এফটিএসই-১০০, জার্মানির ডিএএক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে দিন শেষ করেছে। তবে এশিয়ার বাজারগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যের আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচকে বড় ধরনের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ট্রাম্প আগে হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই পথ খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো 'নিশ্চিহ্ন' করে দেওয়া হবে। তবে সোমবার তিনি জানান, আলোচনার স্বার্থে আগামী ৫ দিন কোনো হামলা চালানো হবে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ ১৯৭০-এর দশকের পর বিশ্বকে সবথেকে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে, বাজার বিশ্লেষক সুজানা স্ট্রিটার মনে করেন, ট্রাম্পের কথার ওপর পুরোপুরি ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বিঘ্নিত থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের জন্য জ্বালানি খরচ আগামীতে একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়েই থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্পের ‘নরম সুর’: লক্ষ্য অর্জনের পথে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানি তেল পরিবহনে সাময়িক ছাড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় ইরানি তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন।   ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত শিগগিরই সমাধান হতে পারে—ট্রাম্পের এ বার্তাকে এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পরিণতির বিষয়ে তাঁর সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ট্রাম্পের এ বার্তার কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগন আগেই আভাস দিয়েছিল যে এ মিশন সফল করতে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে।”   এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যে জাহাজে তোলা হয়েছে এমন ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এই অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস ও বিক্রি করা যাবে।   অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর দেশের শত্রুদের ‘মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো মোক্ষম জবাব’ দেওয়ার দাবি করার পর সৌদি আরব এবং ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে তেহরান।   ইরানি এই হামলার জবাবে আজ শনিবার ভোরে তেহরানের ‘শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু’তে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।   তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0