নিষেধাজ্ঞা

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের ফোনে বদলে যায় ফিফার সিদ্ধান্ত, ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে ফিফাকে কাঠগড়ায় তুলছে নরওয়ে

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)।   ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের পরবর্তী বোর্ড সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে অভিযোগটি ফিফার স্বাধীন তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়া হবে।   বিতর্কের সূত্রপাত বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বালোগুনের লাল কার্ড পাওয়ার পর। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু পরে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাঁকে মাঠে নামার অনুমতি দেয়।   পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে ইউরোপের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।   নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যদি শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তবে তা ফুটবলের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক নজির।   এর আগেও ট্রাম্পকে ফিফার প্রস্তাবিত ‘পিস প্রাইজ’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল নরওয়ে। ফেডারেশন জানিয়েছে, নতুন অভিযোগে সেই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।   অন্যদিকে ফিফা বলেছে, তাদের বিচারিক সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ফিফার প্রচলিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসারেই নেওয়া হয়েছে।   বালোগুনকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন শুধু একটি শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বিচারিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: রয়টার্স
কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান: পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শান্তিচুক্তির আওতায় দেশটির জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই অর্জনকে তিনি ইরানি জনগণের জন্য ‘বড় বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   সোমবার কোম শহর সফরে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শুবেইরি জানজানির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, কাতারে ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। এর মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত আসছে এবং বাকি অর্থ অবমুক্তির প্রক্রিয়াও চলছে।   সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় এই অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থীরাও নিহত হয়েছেন।   তবে দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, সরকার ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, ইরানকে অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিল। তারা ধারণা করেছিল অর্থনৈতিক চাপে ইরান ভেঙে পড়বে, কিন্তু জনগণের প্রতিরোধে সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।   পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের নীতি এবং এখনো বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইরানের সব কার্যক্রম দেশের প্রয়োজন ও ঘোষিত নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।   পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে। তবে ইসরায়েল এবং কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনো এর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে।   তিনি জানান, তার সরকার ইতোমধ্যে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান চুক্তির লিখিত ভাষার বাইরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা, দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গ পাঠ দ্রুত প্রকাশের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তির লিখিত ভাষাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এতে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আড়ালের সমঝোতা বা ‘ব্যাক-চ্যানেল’ অঙ্গীকারগুলোর প্রতিফলন নেই।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির পাঠ ইচ্ছাকৃতভাবে বেশ অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সামনে শুরু হতে যাওয়া জটিল ও কারিগরি পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। একই সঙ্গে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে ইরান নিজ দেশের জনগণের কাছে চুক্তিটিকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যে দেড় পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকের কথা বলেছেন, তাতে ইরানের দেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের উল্লেখ নেই। তাদের দাবি, এসব প্রতিশ্রুতিই যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে সম্মত হতে অতিরিক্ত আস্থা জুগিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “এমওইউর ভাষা নিয়ে মানুষের বেশি কিছু অনুমান করা উচিত নয়।” তিনি চুক্তিটিকে মূলত একটি “রাজনৈতিক দলিল” হিসেবে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, “আসল দলিলের চেয়ে আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা করা এবং জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হবে।”   তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনায় অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও তহবিল ছাড় করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও শর্ত নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এসব সুবিধা কার্যকর হবে না।   চুক্তির পাঠ দেখেছেন এমন একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, এতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ইউরেনিয়াম ধ্বংসের প্রক্রিয়া তদারকি করবে। চুক্তিতে কেবল বলা হয়েছে, ইরান “কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না”। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিতেও তেহরান একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।   তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আনুষ্ঠানিক নথিতে না থাকলেও গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশিত কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সমন্বয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়টিও রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।   চুক্তির আর্থিক অংশে তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দুজনই জোর দিয়ে বলেছেন, এই তহবিলে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হবে না।   ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের বিষয়েও চুক্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ আলোচনায় অগ্রগতি হলে এসব সম্পদ ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে এবং ইরানের জন্য সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারযোগ্য করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা ছাড়পত্রও যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে।   একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিটি পুরোপুরি “কর্মসম্পাদনভিত্তিক”। ইরান কেবল তখনই এর সুবিধা পাবে, যখন তারা চুক্তির সব শর্ত মেনে চলবে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরপেক্ষ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাধা না দেওয়া।   চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ না হলেও এর কপি ইতোমধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় ও অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘুরছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন দেশের নেতা ট্রাম্পের কাছে চুক্তির কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছেন বলে জানা যায়।   চুক্তির গোপনীয়তা নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের জানতে চাওয়া, ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি কেন এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি প্রকাশ করতে চায়। তবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে প্রকাশের সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে।   ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কাতার ও পাকিস্তান পুরো আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তারা চেয়েছে চুক্তি প্রকাশের প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হোক।” সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা দ্রুত চুক্তির পাঠ প্রকাশ করতে আগ্রহী হলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার প্রতি কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে।   একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই চুক্তির পাঠ প্রকাশ করা হোক। তারা আমাদের শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে। তবে আমরা এর আগেই প্রকাশের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছি।” কর্মকর্তাদের মতে, বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির অবস্থান। তিনি সমঝোতা স্মারকে নীরব সমর্থন দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে তিনি কোনো বিবৃতি দেবেন কি না, তা নিয়েও তেহরানে আলোচনা চলছে।   মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি একটি “আনুষ্ঠানিক পরিবেশে” চুক্তিটি প্রকাশ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলিলটির বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি এতটাই সন্তুষ্ট যে চাইলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শব্দে শব্দে তা পড়ে শোনাতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা প্রথম পর্বের তুলনায় অনেক সহজ হবে।   শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা “পরীক্ষামূলক পর্ব” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, এই সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন মূল্যায়ন করবে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কতদূর ছাড় দিতে প্রস্তুত। একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মূলত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়েই বেশি মনোযোগী। শেষ পর্যন্ত আস্থা তৈরি এবং বাস্তব বিষয়গুলোতে অগ্রগতি অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ভিনিসিউসকে অপমান: বেনফিকা তারকা প্রেস্তিয়ানিকে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিল উয়েফা

ফুটবল মাঠে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে বড় পদক্ষেপ নিল ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রকে মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত করার দায়ে বেনফিকার আর্জেন্টাইন তরুণ ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানিকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উয়েফা এই শাস্তির ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি জানায়, প্রেস্তিয়ানির আচরণ ছিল বৈষম্যমূলক (হোমোফোবিক)। গত ফেব্রুয়ারিতে লিসবনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচ চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ম্যাচ চলাকালীন ভিনিসিউস গোল করে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে উদযাপন করতে গেলে স্থানীয় সমর্থক ও বেনফিকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে প্রেস্তিয়ানি ভিনিসিউসের মুখ বরাবর জার্সি টেনে ধরে কিছু একটা বলেন। ভিনিসিউস অভিযোগ করেন যে তাকে বর্ণবাদী গালি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার জেরে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে এবং ভিনিসিউস মাঠ ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন। উয়েফার নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা কমিটির তদন্তে উঠে আসে যে প্রেস্তিয়ানির মন্তব্যটি বর্ণবাদী না হলেও তা চরম অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক ছিল। ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিনটি ম্যাচ স্থগিত (probation) রাখা হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে এক ম্যাচের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন, তাই আপাতত তাকে আরও দুটি ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে উয়েফা ফিফাকে অনুরোধ করেছে এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ম্যাচেও কার্যকর করতে। যদি ফিফা তাতে সাড়া দেয়, তবে আগামী জুনে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে প্রথম দুই ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না এই ২০ বছর বয়সী ফুটবলার। ফুটবল বিশ্বে এই রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি বলেছেন, মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে গালি দেওয়া বা বাজে মন্তব্য করার বিষয়টি ফুটবলের আইনের পরিবর্তন ঘটিয়ে লাল কার্ডের আওতায় আনা উচিত।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে যুক্তরাজ্যে ৭৫ এমপির সমর্থন

গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন।   প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।   স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান।   প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর।   সূত্র: আল জাজিরা

Unknown এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
২৬ জনের ভিসা বাতিল, ভিসা নীতিতে আরও কঠোর যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যারা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তা করবে, তাদের ওপর নতুন করে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে এই নীতির আওতায় ২৬ জন ব্যক্তির ভিসা বাতিল করার কথা নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। ১৯শ শতকের ঐতিহাসিক ‘মনরো নীতি’র আধুনিক সংস্করণ ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে তিনি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব নিশ্চিত করতে চাইছেন। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচার রোধ এবং এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম অগ্রাধিকার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যারা জেনে-বুঝে আমেরিকার কোনো প্রতিপক্ষ শক্তিকে কৌশলগত সম্পদ বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, তাদের ওপর এই ভিসা বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা কিংবা কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদেরও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদিও বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল লক্ষ্য চীন ও ইরান। এরই মধ্যে ইরান সরকার বা ইরানি বিপ্লবের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অন্তত সাতজন ব্যক্তির অভিবাসন ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভিসা নীতিকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
নাইজেরিয়ার নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ

নাইজেরিয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে দেশটির নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর নতুন করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, নাইজেরিয়ার গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনের আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় বলেন, "নাইজেরিয়ার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের ওপর এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতন্ত্র বিরোধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।" নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও স্পষ্ট করেছে যে, গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে অনুষ্ঠিত নাইজেরিয়ার সাধারণ নির্বাচনে যারা ভীতি প্রদর্শন, কারচুপি এবং সহিংসতায় জড়িত ছিলেন, তাদের ওপরই এই খড়্গ নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাইজেরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের ওপর এমন কঠোর ভিসা নীতি আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখার একটি শক্ত বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে যেসব দেশে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, সেসব দেশের জন্য এটি একটি বড় ধরনের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও আফ্রিকান এবং এশীয় বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের 'ভিসা পলিসি' প্রয়োগ করে গণতন্ত্র রক্ষার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে জো বাইডেন প্রশাসন। নাইজেরিয়ার সুশীল সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সাবেক নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমেহ এবতেকার
সাবেক ইরানি ভাইস প্রেসিডেন্টের ছেলের ভিসা বাতিল: ডিপোর্ট করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সাবেক নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমেহ এবতেকারের পরিবারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন যে, মাসুমেহ এবতেকারের ছেলে ঈসা হাশেমি, তার স্ত্রী এবং সন্তানের রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস বা বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই ভিসা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে রুবিও বলেন, যারা আমাদের দেশের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার যোগ্য নয়, তাদের এখানে থাকার অনুমতি দেওয়া কখনোই উচিত ছিল না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈসা হাশেমি ও তার পরিবার বর্তমানে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাসুমেহ এবতেকার ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। তার পরিবারের ওপর এমন সরাসরি মার্কিন পদক্ষেপ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
ট্রাম্পের সমালোচনায় বিস্ময় প্রকাশ: নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অনড় ফ্রান্স

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে এলিসি প্যালেস থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, "প্রথম দিন থেকেই ফ্রান্স তার অবস্থানে অনড় রয়েছে, এখানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।" ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের প্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া দেখালো প্যারিস।  ওই পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ফ্রান্স "একদমই সাহায্য করছে না" এবং সামরিক সরঞ্জামবাহী মার্কিন বিমানগুলোকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। ফরাসি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যে তারা স্তম্ভিত। মিত্র দেশগুলোর মধ্যে এমন টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ যোগ হতে যাচ্ছে। সমুদ্রে ভাসমান ট্যাংকারে মজুত থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল এখন খালাস ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।   জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রপথে নোঙর করে থাকা জাহাজে বিপুল পরিমাণ এই তেল সংরক্ষিত রয়েছে। যদিও পরামর্শক সংস্থা এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ তাদের প্রাক্কলনে এ পরিমাণ ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল বলে উল্লেখ করেছিল।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের জন্য এই তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির পথ খুলে গেছে। এর ফলে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ তেল কেনার পরিকল্পনা করছে।   বিশ্বের জ্বালানি চাহিদায় এশিয়ার দেশগুলো বড় ভূমিকা রাখে, যেখানে তাদের মোট তেলের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তবে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় অঞ্চলের অনেক শোধনাগার উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে ইরানি তেলের সরবরাহ বাজারে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Unknown মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্পের ‘নরম সুর’: লক্ষ্য অর্জনের পথে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানি তেল পরিবহনে সাময়িক ছাড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় ইরানি তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন।   ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত শিগগিরই সমাধান হতে পারে—ট্রাম্পের এ বার্তাকে এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পরিণতির বিষয়ে তাঁর সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ট্রাম্পের এ বার্তার কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগন আগেই আভাস দিয়েছিল যে এ মিশন সফল করতে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে।”   এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যে জাহাজে তোলা হয়েছে এমন ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এই অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস ও বিক্রি করা যাবে।   অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর দেশের শত্রুদের ‘মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো মোক্ষম জবাব’ দেওয়ার দাবি করার পর সৌদি আরব এবং ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে তেহরান।   ইরানি এই হামলার জবাবে আজ শনিবার ভোরে তেহরানের ‘শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু’তে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।   তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Unknown মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০