ফিলিস্তিনি

ফরাসি-ফিলিস্তিনি আইনজীবী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রিমা হাসান। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ফিলিস্তিনপন্থী রিমা হাসান আটক

ফরাসি-ফিলিস্তিনি আইনজীবী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী সদস্য রিমা হাসানকে আটক করেছে ফ্রান্সের পুলিশ। 'সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়া' বা উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে আজ বৃহস্পতিবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।  তবে তার দল 'লা ফ্রান্স ইনসুমিজ' (এলএফআই) এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনপন্থীদের কণ্ঠরোধ করার একটি রাজনৈতিক অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। ফরাসি পত্রিকা লে পারিসিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে ইসরায়েলের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার সাথে জড়িত কোজো ওকামোতো-কে নিয়ে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের প্রেক্ষিতে তদন্তের অংশ হিসেবে রিমাকে আটক করা হয়। যদিও রিমা হাসান পরবর্তীতে এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে সেই পোস্টটি মুছে ফেলেছিলেন। এলএফআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলাঁশঁ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "একটি রিটুইটকে কেন্দ্র করে রিমা হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ ফ্রান্সে এখন আর পার্লামেন্টারি মেম্বারদের কোনো দায়মুক্তি বা ইমিউনিটি নেই। এটি অসহনীয়।" সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আটকের সময় রিমার কাছে সামান্য পরিমাণ 'সিনথেটিক ড্রাগ' পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বিষয়ে রিমা হাসান বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ৩৩ বছর বয়সী রিমা হাসান ২০২৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত। গত বছর গাজাগামী একটি ত্রাণবাহী বহরেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দেয়। রিমার এই আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এলএফআই-এর পার্লামেন্টারি মেম্বার সোফিয়া চিকিরু বলেন, "ফরাসি পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থাকে ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থকদের ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।" দলের অন্য এক নেত্রী মাথিল্ড প্যানট একে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর 'নজিরবিহীন দমনপীড়ন' বলে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রিমা হাসান অভিযোগ করেছিলেন যে তাকে কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যাকেও তিনি এক ধরণের 'সেন্সরশিপ' বলে দাবি করেছিলেন। এখন ফ্রান্সে তার এই আটক হওয়ার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু এবং বাকস্বাধীনতা নিয়ে ইউরোপে চলমান উত্তজনাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দিতে ইসরায়েলের নতুন আইন, কঠোর নিন্দা ৮ মুসলিম দেশের

ইসরায়েলের সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য পাস হওয়া নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী আটটি মুসলিম দেশ। দেশগুলোর দাবি, এই আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে। ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই বিতর্কিত আইনের আওতায়, কোনো ফিলিস্তিনি যদি ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়, তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের সমর্থকদের দাবি, এটি ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলা বা অপহরণ রুখতে এক শক্তিশালী 'প্রতিরোধক' হিসেবে কাজ করবে। তবে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে আটটি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আইনটি মূলত ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠরোধ এবং বর্ণবাদী বৈষম্যকে বৈধতা দেওয়ার একটি অপপ্রয়াস। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সদর দপ্তরের সামনে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে দেশগুলো অবিলম্বে এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, এই আইনের ফলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বাড়বে এবং বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে সামরিক আদালতে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আগে থেকেই যে বিতর্ক রয়েছে, এই আইনের ফলে তা আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের বিভিন্ন বিতর্কিত আইন ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারিত্ব নিয়ে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো সরব ভূমিকা পালন করে আসছে। এই নতুন আইন সেই কূটনৈতিক বিরোধকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেল।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার বন্ধ, ফিলিস্তিনজুড়ে বাড়ছে প্রাণঘাতী সহিংসতা

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনে গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। একদিকে পবিত্র স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী সহিংসতা। আল জাজিরার সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে ফিলিস্তিনের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলো এখনো কার্যত অবরুদ্ধ। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। বিশেষ করে জুমার নামাজে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের ওপর কড়াকড়ি ও তল্লাশির নামে হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে পবিত্র নগরীজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জেনিন, নাবলুস এবং তুলকারেম এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও স্থল অভিযানে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের হামলায় ফিলিস্তিনি কৃষকরা তাদের কৃষি জমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। সহিংসতার পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও ত্রাণ সরবরাহে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সাপ্তাহিক এই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার পথে, যেখানে হাজার হাজার আহত মানুষ নূন্যতম চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন। ফিলিস্তিনে চলমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পবিত্র স্থানগুলোতে ইবাদতের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না, বরং দিন দিন তা আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র স্থানগুলো বন্ধ রাখা এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড আইন: ইসরায়েলকে তীব্র নিন্দা জানালেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষ মৃত্যুদণ্ড আইনের কঠোর সমালোচনা করে একে 'বর্ণবাদের পথে আরও এক ধাপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি এই আইন বিচারব্যবস্থাকে চরম বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে সানচেজ সরাসরি এই পদক্ষেপের নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আইনটি কেবলমাত্র অ-ইহুদি বা ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর মতে, একই অপরাধের জন্য ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের আলাদা শাস্তির বিধান কোনোভাবেই ন্যায়বিচার হতে পারে না। তিনি একে "অপ্রতিসম ব্যবস্থা" হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, "একই অপরাধ কিন্তু ভিন্ন শাস্তি—এটি বিচার নয়। এটি বর্ণবাদের (Apartheid) দিকে আরও একটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ। বিশ্ববাসী এই পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকতে পারে না।" আন্তর্জাতিক মহলে সানচেজের এই মন্তব্য বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেখানে সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, অথচ একই ধরণের অপরাধে ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। স্পেনের এই অবস্থানকে মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড বিল: ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনায় ইইউ ও জার্মানি

ফিলিস্তিনিদের ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের লক্ষ্যে ইসরায়েলের বিতর্কিত নতুন আইন পাসের পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জার্মানি এই পদক্ষেপকে ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ‘পশ্চাৎপদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউর মুখপাত্র আনোয়ার এল আনোউনি বলেন, "ইসরায়েলের এই মৃত্যুদণ্ড বিলটি আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনের এই বৈষম্যমূলক প্রকৃতি স্পষ্টতই একটি পশ্চাৎপদ পদক্ষেপ।" এদিকে, ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে এই বিল পাসের সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জার্মানি। জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র জানান, তারা নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই আইনটি কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনিদের ওপর একচেটিয়াভাবে প্রয়োগ করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা চরম উদ্বেগের বিষয়। ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েল সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা বললেও, এমন আইন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বার্লিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার বিদায়ী প্রধান ফিলিপ লাজারিনি
গাজায় ৩৯০ জনেরও বেশি কর্মী নিহত, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জাতিসংঘের

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩৯০ জনেরও বেশি সহকর্মী নিহতের ঘটনায় একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (UNRWA) বিদায়ী প্রধান ফিলিপ লাজারিনি।  জেনেভায় নিজের শেষ কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান। লাজারিনি বলেন, গাজায় চলমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।  অবরুদ্ধ গাজায় জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রমের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে ইউএনআরডব্লিউএ, যা কার্যত সেখানকার অধিকাংশ মানুষের জন্য একমাত্র রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিকল্প।  এই সংস্থাটির কর্মীদের ওপর এ ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলে মৃত্যুদণ্ড আইন পাস, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র

ইসরাইলের সংসদ নেসেটে সোমবার একটি আইন পাস হয়েছে, যা প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের অনুমতি দেয়। মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনি নেতারা এই আইনকে বৈষম্যমূলক ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন।   আইনটি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পাস করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলিদের হত্যা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই হবে প্রধান শাস্তি।   আইনটির পক্ষে ছিলেন কট্টর ডানপন্থি ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, যিনি ৬২-৪৮ ভোটে পাস হওয়ার পর সংসদে শ্যাম্পেনের মাধ্যমে উদযাপন করেন।   এই আইনটি এমন সময় এসেছে যখন গাজায় ইসরাইলি হামলা, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযান ও বসতি সম্প্রসারণ এবং হাজার হাজার গ্রেফতারের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।   ইসরাইলের নাগরিক অধিকার সমিতি ইতিমধ্যেই এই আইনটির বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে।   ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এটিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে, অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ভূমি ইসরাইলের সার্বভৌমত্বাধীন নয়। ফিলিস্তিনি দল হামাসও আইনটি তীব্রভাবে নিন্দা করেছে, বলেছে এটি বন্দি ফিলিস্তিনিদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে।   গাজা-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র পিএইচসিআর এই আইনকে “আইনের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইসরাইলি দীর্ঘদিনের নীতি আরও দৃঢ় করার চেষ্টা” বলে অভিহিত করেছে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ইসরাইলকে আইনটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে যে, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডে অনুমোদন: ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বিতর্কিত আইন পাস

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিতর্কিত আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট। সোমবার (৩০ মার্চ) বিলটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা পাঠে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন পায়।   ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিলটির পক্ষে ৬২ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট পড়ে ৪৮টি এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।   আইনটির পক্ষে ভোট দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও। আইনটি পাস হওয়ায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ উন্মুক্ত হলো, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করে ইরানের হামলা
৫০ তম 'ভূমি দিবস' : অধিকাংশ ভূমি হারিয়ে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই

আজ ৩০ মার্চ, ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক 'ভূমি দিবস' (Land Day)-এর ৫০তম বার্ষিকী। তবে এমন এক সময়ে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকাংশ ভূমি হারিয়ে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, গত কয়েক বছরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন এবং ভূমি দখলের হার নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫,০০০ দুনাম জমি নতুন করে বাজেয়াপ্ত করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, যা ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জায়গাকে আরও সংকুচিত করে ফেলেছে।   ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গ্যালিলি অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের বিশাল জমি দখলের ঘোষণা দিলে শুরু হয় প্রতিবাদ ও ধর্মঘট। সেই আন্দোলনে ছয়জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান, যার স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়। তবে ৫০ বছর পর এসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পশ্চিম তীরের 'এরিয়া সি' (Area C) অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও উচ্ছেদের কারণে পুরো বেদুইন গ্রামগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে প্রায় ৪,৭৬৫ জন ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।   ভূমি দখলের এই প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক তাদের কয়েক দশকের পুরনো জলপাই গাছ নিজ হাতে কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন যেন ইসরায়েলি বুলডোজার সেগুলো উপড়ে না ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের এই 'ডি ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন' বা কার্যত দখলদারিত্বের ফলে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এই ভূমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেও মাঠ পর্যায়ে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও লাঞ্ছনা অব্যাহত রয়েছে, যা এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্ম দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে প্রায় এক হাজার মানুষ। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও শত শত মানুষ সমবেত হয়ে ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাতের প্রতিবাদ জানায়।   বিক্ষোভ আয়োজন করে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রক্ষণশীল এনজিও। অংশগ্রহণকারীরা ‘প্রতিরোধ গড়ো, গাজা জিতবে’, ‘মুসলমানরা অন্যায়কে মাথা নত করে না’ এবং ‘খুনি ইসরাইল, খুনি যুক্তরাষ্ট্র’ লিখিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তারা আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন।   একজন বিক্ষোভকারী মেহমেত ইয়িলমাজ বলেন, আমরা বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের জন্য এখানে—লেবানন, ইরান, ফিলিস্তিন। গতকাল ভেনেজুয়েলা ছিল, আগামীকাল হয়তো কিউবা হবে। আরেক বিক্ষোভকারী একরাম সায়লান বলেন, ইরান যখন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, কেউ আয়রন ডোম দিয়ে তাদের আটকাতে পারবে না। তারপরও তারা [ইসরাইলিরা] ইঁদুরের মতো গর্তে ঢুকে পড়ে। ইরানিরা রাস্তায় নেমে আসে, এটি বিশ্বাস ও ইমানের বিষয়। যদি তাদের বিশ্বাস থাকত, মৃত্যুকে ভয় পেত না।   সূত্র: আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান ইস্যুর আড়ালে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন, খান ইউনিসে শিশুসহ নিহত ৬

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে দুটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নিহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য এবং তিনজন সাধারণ নাগরিক। মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এক শিশুও। হামলায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এই বিমান হামলা নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তথাকথিত ' ceasefire' বা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল সম্মত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১,৮৯৫ জনেরও বেশি মানুষ।  আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি যখন ইরান পরিস্থিতির দিকে, তখন গাজার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান যুদ্ধের সুযোগে পশ্চিমতীরে ইসরায়েলিদের ভয়াবহ তান্ডব

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে অধিকৃত পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ সংঘাত ও বর্বরতা চালাচ্ছে কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত এক মাসে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।  ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ‘ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন’-এর প্রধান মুয়াইয়াদ শাবান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে বসতিস্থাপনকারীরা মোট ৪৪৩টি হামলা চালিয়েছে। শাবান জানিয়েছেন, অঞ্চলের ডেমোগ্রাফিক বা জনতাত্ত্বিক চিত্র বদলে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থেকেই অশান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। গত এক মাসের ভয়াবহ কিছু চিত্র: প্রাণহানি: বসতিস্থাপনকারীদের সরাসরি হামলায় অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জোরপূর্বক উচ্ছেদ: ৬টি বেদুইন সম্প্রদায়কে তাদের ভিটেমাটি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৫৮টি পরিবারের ২৫৬ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যার মধ্যে ৭৯ জন নারী এবং ১৬৬ জন শিশু রয়েছে। অবৈধ দখলদারি: ফিলিস্তিনি ভূমিতে অন্তত ১৪টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের চেষ্টা চালিয়েছে কট্টরপন্থীরা। নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ: ১৮টি অগ্নিসংযোগসহ অন্তত ১২৩টি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছে। ধর্মীয় স্থাপনায় আঘাত: দুমার মুহাম্মদ ফাইয়াদ মসজিদ এবং মাজদাল বানি ফাদিল মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাসহ অন্তত ৩টি ধর্মীয় স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কড়াকড়ি ও উস্কানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলের নজর যখন ইরান যুদ্ধের দিকে, ঠিক তখনই পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার এই আগ্রাসন চালানো হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইজরায়েলি সেনার পৈশাচিক বর্বরতা: সিগারেটের ছ্যাঁকা ও পায়ে পেরেকবিদ্ধ ১৮ মাসের শিশু করিমের আর্তনাদে কাঁপছে বিশ্ব

গাজায় চলমান গণহত্যার নৃশংসতা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এবার এক ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুর ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতার লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। বাবার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিষ্পাপ শিশু করিমকে। তার কোমল শরীরে অসংখ্য সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ছাড়াও পায়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে লোহার পেরেক।  প্যালেস্টাইন টিভির সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পৈশাচিক ঘটনাটি উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে আল মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে। শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসর নিজের জীবিকা ও ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ ইজরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলির কবলে পড়েন। ইজরায়েলি সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে এবং সঙ্গে থাকা ১৮ মাসের শিশু করিমসহ সেনা শিবিরে নিয়ে যায়। সেখানে ওসামাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে জেরা ও অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু পাশবিকতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে যখন ওসামার চোখের সামনেই তার ছোট্ট শিশুটির ওপর শুরু হয় বর্বরতা। টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক উল্লাস। শিশুটির আর্তচিৎকার ইজরায়েলি সেনাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া উদ্রেক করেনি, বরং তারা হিংস্র উল্লাসে মেতে ওঠে। নির্যাতনের পর শিশুটিকে রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হলেও ওসামা আবু নাসর এখনও ইজরায়েলি হেফাজতেই বন্দি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করিমের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং মানসিক ট্রমার কারণে সে ঘুমের ঘোরেও যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
জুমার নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের পথে ইসরাইলি বাধা
জুমার নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের পথে ইসরাইলি বাধা

দখলকৃত জেরুজালেমের সালাহ আল-দীন স্ট্রিটে শুক্রবার ফিলিস্তিনিরা জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর বাধার মুখে পড়েছে। ওয়াফা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ ঘটনা জানানো হয়েছে।   স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী সড়কে প্রবেশ করে কয়েক ডজন মুসল্লি ও ইমামকে মাত্র তিন মিনিট সময় দিয়েছে। এরপর তাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়া হয়, ফলে নামাজ আদায় সম্ভব হয়নি।   এই ঘটনার পেছনে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ দিন ধরে মসজিদটি সাধারণ ভক্তদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
গাজায় 'যুদ্ধবিরতি' চলাকালীনও থামেনি রক্তপাত: নিহত প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি' চলাকালীন সময়েও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৮৯ জন ফিলিস্তিনি।  গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মাঠ পর্যায়ের সংবাদকর্মীরা এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬০ জন ফিলিস্তিনি।  যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও গাজার সাধারণ মানুষের ওপর এই নিরবচ্ছিন্ন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
গাজায় শরণার্থী ক্যাম্পে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: দুই ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করেই ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার ভোরে মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।  এছাড়া পৃথক এক হামলায় তিন শিশুসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। চিকিৎসা সূত্রগুলো জানায়, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ভোরের আলো ফোটার আগেই একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। দিনের অন্য এক ঘটনায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে চারজন গুরুতর আহত হন, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই লঙ্ঘন করছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইসরায়েলি হামলায় ৬৭৭ জন নিহত এবং ১,৮১৩ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭২,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১,৭২,০০০ মানুষ। দীর্ঘস্থায়ী এই হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, যা উপত্যকাটিকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং শান্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর এমন ধারাবাহিক হামলা গাজায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ।
ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় ইসরায়েলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জাতিসংঘ দূতের

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় কাটাতে এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ।  মঙ্গলবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি পদক্ষেপ রুখতে 'তীব্র হস্তক্ষেপ' (massive intervention) ছাড়া গাজার মানুষকে বাঁচানো সম্ভব নয়। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার বিষয়ক এই বিশেষ দূত প্রশ্ন তোলেন, "কীভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে?" তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত কোনো রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র হস্তান্তর না করা প্রতিটি দেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা। আলবানিজ উল্লেখ করেন, গাজায় কথিত যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং আরও অবনতি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৬৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষদের ওপরও ক্রমাগত হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের মুছে ফেলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার প্রভাব লেবানন ও ইরানেও ছড়িয়ে পড়ছে। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের প্রচণ্ড মারধর, হাড় ভেঙে দেওয়া, দীর্ঘক্ষণ চোখ বেঁধে রাখা, ঘুম ও খাবার থেকে বঞ্চিত করা এবং এমনকি যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। বন্দি অবস্থায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ইসরায়েলি সমালোচনার জবাবে আলবানিজ সপাটে বলেন, "ইসরায়েল যা খুশি বলতে পারে, কিন্তু তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। তাদের নেতাদের বিচার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হওয়া উচিত।" তিনি বিশ্ব নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, অনেক দেশের সরকার ও মন্ত্রীরা নীরব থেকে কার্যত ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের 'লাইসেন্স' দিয়ে রেখেছে। গাজায় বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি 'পরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃত গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করেন। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আনাদোলু এজেন্সি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
গাজায় আগ্রাসন, ২ বছরে ইসরায়েলের ক্ষতি ৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার

গাজায় চলমান সামরিক অভিযান ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে গত দুই বছরে ইসরায়েলি অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সময়ে দেশটির মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৫৭ বিলিয়ন (৫ হাজার ৭০০ কোটি) মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, ব্যাংক অফ ইসরায়েলের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলের মোট ১৭ হাজার ৭০০ কোটি শেকেল বা প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৮.৬ শতাংশের সমান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির পেছনে প্রধান কারণ হলো গাজায় দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান এবং লেবাননে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশের উচ্চ ব্যয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এই হিসাবে এখনও পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইরানের সাথে গত জুন মাসে মাত্র ১২ দিনের সংঘাত ইসরায়েলের জিডিপি প্রায় ০.৩ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল। ইসরায়েলের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আটটি দেশের সাথে তাদের বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই দেশগুলোতে ইসরায়েলি রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালে ১.৫ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। ব্যাংক অফ ইসরায়েল স্বীকার করেছে যে, দেশগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ইসরায়েলি পণ্যের চাহিদাকে প্রভাবিত করছে। যুদ্ধব্যয় মেটাতে চলতি মাসেই ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের জন্য সংশোধিত রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন করেছে, যেখানে যুদ্ধের অর্থায়নের জন্য অতিরিক্ত ১৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। এই আগ্রাসনে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একদিকে মানবিক বিপর্যয়, অন্যদিকে নিজ দেশের অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থা—সব মিলিয়ে ইসরায়েল এখন এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রানচেসকা আলবানিজ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ফ্রানচেসকা আলবানিজ: ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘নির্যাতনের লাইসেন্স’ দেওয়া হয়েছে

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রানচেসকা আলবানিজ। সোমবার জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে তিনি একটি নতুন প্রতিবেদন পেশ করে বলেন, “ইসরায়েলকে কার্যত ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ১৮,৫০০ ফিলিস্তিনিকে, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় অন্তত ১০০ জন বন্দি হেফাজতে মারা গেছেন এবং প্রায় ৪,০০০ জন ‘জোরপূর্বক নিখোঁজ’ হয়েছেন।   আলবানিজ বলেন, প্রতিবেদনটিতে ইসরায়েলের “ব্যাপক ও পদ্ধতিগত নির্যাতন এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির” বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন দেশের সরকার এবং মন্ত্রীরা ইসরায়েলকে এই নির্যাতন চালানোর জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে।   প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে, হাজার হাজার ফিলিস্তিনি কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করা হয়েছে এবং অমানবিক পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে। আলবানিজের দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।   সূত্র: আল-জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৯৬৭ সালের পর প্রথমবার: ঈদের দিনে বন্ধ আল-আকসা, রাস্তায় নামাজ আদায় মুসল্লিদের

ঐতিহাসিক নজির ভেঙে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ঈদুল ফিতরের দিনে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথমবার ঈদের দিনে মুসল্লিদের জন্য মসজিদটি বন্ধ রাখা হলো বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনারা মসজিদের প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে দিলে শত শত ফিলিস্তিনি মুসল্লি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তারা মসজিদের প্রবেশদ্বার ও আশপাশের সড়কে ঈদের নামাজ আদায় করেন।   শুক্রবার থেকে মসজিদের ভেতরের চত্বরে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মুসল্লিরা দামেস্ক গেট এলাকায় জড়ো হয়ে নামাজ আদায় করেন, যেখানে গিয়ে তারা তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থান নিতে পেরেছেন।   এ ঘটনায় জেরুজালেম গভর্নরেট তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এবং ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন করে ‘ইহুদিকরণ’ বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং মসজিদটিকে ফিলিস্তিনি ও ইসলামি পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর গত ২১ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ-এ মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে।   অন্যদিকে, গাজা উপত্যকা-য় ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ঈদ পালন করেছেন ফিলিস্তিনিরা। খোলা জায়গা ও ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে তারা নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ১ হাজার ২৪০টি মসজিদের মধ্যে ১ হাজার ১০০টির বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
আল-আকসায় ঈদের নামাজে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, মুসল্লিরা আহত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে বাধা প্রদান ও মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী। শুক্রবার (২০ মার্চ) মসজিদ প্রাঙ্গণের বাইরে নামাজ পড়তে গেলে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে রেখেছে।   প্যালেস্টাইন ক্রনিকল জানিয়েছে, ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখলের পর এবারই প্রথম আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কড়া সামরিক বিধিনিষেধের কারণে কেবল ওয়াকফ-এর অল্প সংখ্যক কর্মীকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সাধারণ মুসল্লিরা মসজিদে ঢুকতে না পেরে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামাজের কাতার করলে সেখানেও হামলা ও ধরপাকড় চালায় ইসরাইলি পুলিশ।   একই চিত্র দেখা গেছে হেব্রনের ইব্রাহিমি মসজিদেও। সেখানেও হাজার হাজার মানুষকে প্রবেশ করতে না দিয়ে মাত্র কয়েক ডজন লোককে ভেতরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। জেরুজালেমের পুরানো শহরজুড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যাতায়াতের পথগুলো বন্ধ করে দেয় দখলদার বাহিনী। নজিরবিহীন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পবিত্র এই ধর্মীয় উৎসবেও মুসল্লিশূন্য ছিল ঐতিহাসিক আল-আকসা প্রাঙ্গণ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0