ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের ‘তেল’ গ্রামে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর পাল্টা আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই এক ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে গুলি করে হত্যা করে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পাল্টা তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হত্যাকাণ্ড ও সংঘাতের পর রাতভর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক অভিযান ও তাণ্ডব চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। অভিযানের নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে আরও কয়েকশ সাধারণ মানুষকে চরম হেনস্তা ও হয়রানি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তেল গ্রামে অবৈধ সেটেলারদের সাথে সংঘাতের পর সেখান থেকেই ১১ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অন্তত ৮০ জনের বেশি মানুষকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্যদিকে, পশ্চিমতীরের জেনিন এলাকায় প্রায় ৩০০টিরও বেশি স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা। সেখান থেকেও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, আটককৃত সকলেই আন্তর্জাতিক কিংবা স্থানীয়ভাবে 'ওয়ান্টেড' তালিকায় ছিল এবং সশস্ত্র সংগঠন হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিস্ফোরক দিয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়, তবে এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি দখলদার বাহিনী।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রাম সাররায় শতাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর হামলায় একাধিক বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর আতঙ্কে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে ফিরে এসে পোড়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআনের কপি উদ্ধার করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, শুক্রবার রাতে প্রায় ২০০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নাবলুস শহরের পশ্চিমে অবস্থিত সাররা গ্রামে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বহু পরিবারের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পর পুরো এলাকাজুড়ে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। পরে আগুন নেভার পর তারা ফিরে এসে পোড়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করেন। অনেকেই আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআন উদ্ধার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই নাবলুসের কাছে তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। ঘটনার পর পুরো নাবলুস অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করে ইসরায়েলি বাহিনী, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয় এবং পরে সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ধরনের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের কারণে গত বছর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরিকে ফের হেফাজতে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বৃহস্পতিবার ২-১ ভোটে দেওয়া রায়ে ফোর্থ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস সুরিকে মুক্ত রাখার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে মামলাটি ভার্জিনিয়া থেকে টেক্সাসে স্থানান্তরের সরকারের দাবিও নাকচ করেছে আদালত। এই রায় শুধু সুরির ব্যক্তিগত মামলার জন্য নয়, ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আটকাদেশের বৈধতা সরাসরি ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন কি না, সেই বৃহত্তর আইনি প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের মামলায় অন্য দুটি ফেডারেল আপিল আদালত বিপরীত সিদ্ধান্ত দেওয়ায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ইউএস সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক বদর খান সুরি ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির পোস্টডক্টরাল ফেলো। তিনি একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। ২০২৫ সালের মার্চে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ICE তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর প্রায় ছয় সপ্তাহ তাকে টেক্সাসের একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। সুরির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তার গ্রেপ্তারের সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে তার যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি বিরূপ পরিণতি তৈরি করতে পারে বলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্ধারণ করেছিলেন। সরকার তার সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম এবং ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের বিষয়টিও সামনে এনেছিল। সুরি ও তার আইনজীবীরা সরকারের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার মতামত প্রকাশ এবং তার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক স্ত্রীর পারিবারিক যোগাযোগের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সরকার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধতা দাবি করে আসছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সুরিকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। বিচারক তার হেফাজত নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং মামলাটি ভার্জিনিয়ার পরিবর্তে টেক্সাসে পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নেয়। ২৩ জুলাই ফোর্থ সার্কিটের তিন বিচারকের প্যানেল ২-১ সিদ্ধান্তে সরকারের আপিল প্রত্যাখ্যান করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেন, সুরির মতো কোনো ননসিটিজেন তার চলমান ইমিগ্রেশন মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা না করেই হেফাজতের বৈধতা নিয়ে ফেডারেল আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। এখানেই মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে, হেবিয়াস কর্পাস। শতাব্দীপ্রাচীন এই আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে সরকারি হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তি আদালতের কাছে জানতে চাইতে পারেন, তাকে আটকে রাখার বৈধ আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না। ফোর্থ সার্কিটের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেছেন, ইমিগ্রেশন মামলা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সেই আইনি সুরক্ষা কার্যত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। কারণ ইমিগ্রেশন মামলা নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাভির বিরুদ্ধে আবারও বহিষ্কার কার্যক্রম চালানোর পথ খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। সর্বশেষ এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচিত অভিবাসন মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক সেকেন্ড ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায়ে ভারমন্টের একটি নিম্ন আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। আপিল আদালতের মতে, ফেডারেল জেলা আদালত অভিবাসন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই মামলায় হস্তক্ষেপ করেছিল, যা তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল। তবে আদালত মাহদাভির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এসব বিষয় অভিবাসন আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। মোহসেন মাহদাভি পশ্চিম তীরের বাসিন্দা এবং ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি গাজা যুদ্ধবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার দিতে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে এক ফেডারেল বিচারক তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। মাহদাভির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন। তাদের দাবি, আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে তাকে আটক বা বহিষ্কার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা বলছেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক অ-মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মাহদাভির মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আপিল আদালতের এই রায়ের ফলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম আবারও অভিবাসন আদালতে এগিয়ে যাবে, যদিও তার সামনে এখনও আইনি আপিলের সুযোগ রয়েছে।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খলিল আল-হাইয়া-কে নির্বাচিত করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়। আল-হাইয়া দায়িত্ব নিচ্ছেন হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে সিনওয়ার নিহত হন। হামাসের গাজা শাখার সাবেক প্রধান এবং সংগঠনটির অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে পরিচিত খলিল আল-হাইয়া দীর্ঘদিন ধরেই কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যু এবং পরে সিনওয়ারের নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি সংগঠনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উঠে আসেন। হামাসের নেতৃত্বের দৌড়ে সাবেক রাজনৈতিক প্রধান খালেদ মেশআল-এর নামও আলোচনায় ছিল। তবে আল-হাইয়াকে তুলনামূলকভাবে আরও কঠোর অবস্থানের নেতা হিসেবে দেখা হয়। হামাসের নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হলেও ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে তা বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত গাজা, পশ্চিম তীর, ইসরায়েলের কারাগারে থাকা হামাস সদস্য এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী পরিষদ আল-হাইয়াকে সংগঠনের নেতৃত্বে নির্বাচিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন হামাসের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এর মাধ্যমে সংগঠনটি জানিয়ে দিল, তারা এখনই নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটতে প্রস্তুত নয় এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত হামাস, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি। দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সংঘাতে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল।
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সঙ্গে ফিলিস্তিনের অনেক মানুষও ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। তবে সেই আনন্দের মধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রোববার (স্থানীয় সময়) পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দেইর জারির শহরে এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একজন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম বা বয়স প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকায় অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ওই তরুণ আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর দেইর জারির এবং আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের বিষয়টি আগেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। গাজার বহু মানুষ ক্যাফে, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও খোলা জায়গায় একসঙ্গে বসে স্পেনের ম্যাচ উপভোগ করেছেন। অনেকের মতে, গাজা ইস্যুতে স্পেন সরকারের অবস্থান এবং দেশটির প্রতি সংহতির অনুভূতির কারণেই স্পেনের প্রতি তাদের সমর্থন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামরিক অভিযান, নিরাপত্তা তল্লাশি, বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, ঠিক সেই সময় পশ্চিম তীরে ঘটে যাওয়া এই প্রাণহানির ঘটনা অঞ্চলটির চলমান অস্থিরতা ও মানবিক সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় অবস্থিত আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জানাজার নামাজ শেষ হওয়ার পর মরদেহ বহন করছিলেন শোকাহত স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় সেখানে একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হলে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী সেলকে’ লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি সত্ত্বেও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এদিন গাজার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক হামলাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। আজ-জাওয়ায়দা এলাকায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এছাড়া নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে গোলাবর্ষণে আরও একজনের মৃত্যু হয়। গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই দিনে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির দাবি থাকা সত্ত্বেও মে মাস থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার মাত্রা বেড়েছে। সংস্থাটির হিসাব বলছে, গত মাসে ৪০টিরও বেশি বিমান হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এক মাসে সর্বোচ্চ। এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত নয় মাসে গাজায় অন্তত ২৭৪ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান শুধুমাত্র হামাসের সশস্ত্র সদস্য ও সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় একটি বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ট্যাংকের গোলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া পশ্চিম গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় একজন এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে একটি গাড়িতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও বিমান হামলার খবর দিয়েছেন। এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই বলছে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতেই তারা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। হামাস তাদের নিজস্ব যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত প্রকাশ করে না। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, জুন মাসে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলার সংখ্যা ৪০টির বেশি ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী গবেষণা ব্যবস্থাপক নাসের খদুর বলেছেন, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিতে পারেন। ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তপারের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উভয় পক্ষের এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য প্রধান উন্নয়নমূলক প্রকল্প গড়ে তোলার প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিষদে ২০২৮-২০২৯ মেয়াদের জন্য ভারতের অস্থায়ী সদস্য পদের নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধনের সময় এবং ব্রাসেলসে ফিলিস্তিন দাতা গোষ্ঠীর বৈঠকে ভারতের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এই প্রতিশ্রুতির অধীনে তিনটি প্রকল্প রয়েছে—একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, একটি কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন কেন্দ্র এবং একটি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। The Embassy of the State of Palestine welcomes the announcement by External Affairs Minister Dr. S. Jaishankar's commitment to establish three major development projects for the Palestinian people, a Specialty Hospital, an Artificial Limb Fiument Centre, and a Vocational Training… pic.twitter.com/s0GMP61d0G — ANI (@ANI) July 15, 2026 বুধবার ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণাকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ ও ইসরায়েলি দখলের কারণে গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতালগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে, চিকিৎসকদের আটক বা হত্যা করা হয়েছে এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি যারা হাত-পা হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনে ভারতের প্রস্তাবিত বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন কেন্দ্রটি চিকিৎসা সেবা জোরদার করবে। এছাড়া, প্রস্তাবিত বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি ধ্বংসযজ্ঞের পর তরুণদের দক্ষ করে তুলতে এবং অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে। এর পাশাপাশি, আলোচনার মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি 'দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান', জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জন এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য চলমান মানবিক ও উন্নয়নমূলক সহায়তার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনরুক্তি করার বিষয়টিকেও স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। ভারতের এই অব্যাহত বন্ধুত্ব এবং শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকারের জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিন দূতাবাস।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে টি-শার্টে লেখা একটি বার্তাকে কেন্দ্র করে এক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত যাত্রীর সঙ্গে বিমান সংস্থার বিরোধের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যাত্রীদের অধিকার এবং এয়ারলাইন্সের পোশাকবিষয়ক নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিউ জার্সির লিনডেন শহরের বাসিন্দা স্যাম সাদেহ জানান, তিনি আটলান্টা থেকে নিউয়ার্কগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় এমন একটি টি-শার্ট পরেছিলেন, যাতে লেখা ছিল, “শিশুদের ওপর হামলা আত্মরক্ষার অধিকার নয়।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই বার্তাটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং যুদ্ধ ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে লেখা। সাদেহর অভিযোগ, বোর্ডিংয়ের পর এক সুপারভাইজার তার কাছে এসে টি-শার্টটি পরিবর্তন বা ঢেকে ফেলতে বলেন। অন্যথায় তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে তিনি শেষ পর্যন্ত পোশাক পরিবর্তনে সম্মত হন। ঘটনার পর সাদেহ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের (U.S. Department of Transportation) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে এবং তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, যাত্রীদের পোশাকসংক্রান্ত একটি আচরণবিধি তাদের রয়েছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পোশাক বা বার্তা যদি অন্য যাত্রীদের কাছে আপত্তিকর, উসকানিমূলক বা অস্বস্তিকর বলে বিবেচিত হয়, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মীরা ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মানবিক বার্তা বহনকারী একটি টি-শার্টকে আপত্তিকর হিসেবে বিবেচনা করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলেছে। আবার অন্যদের মতে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থার নিজস্ব নীতিমালা প্রয়োগের অধিকার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসরণ করে। এসব নীতিমালায় এমন পোশাক বা বার্তা পরিহারের কথা বলা হয়, যা অশ্লীল, হুমকিমূলক বা অন্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে কোন বার্তাকে ‘আপত্তিকর’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক দেখা দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ফিলিস্তিন–ইসরায়েল ইস্যু ঘিরে জনমত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার সীমা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন বিভাগের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি পশ্চিম তীরে (ওয়েস্ট ব্যাংক) বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য রাসায়নিক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে পরিচালিত “দ্য আলকেমিস্ট” নামের একটি গোপন তদন্তের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। এতে ইসরায়েলি সীমান্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী (আইডিএফ), অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত এবং দেশটির কর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অংশ নেয়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ইসরায়েলি নাগরিক এবং কয়েকজন ফিলিস্তিনি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) রাসায়নিক পশ্চিম তীরে পাচার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব রাসায়নিকের মূল্য কয়েক মিলিয়ন শেকেল। তদন্তের গোপন পর্যায়ে প্রথমে আটজনকে আটক করা হয়। পরে উত্তর ইসরায়েল, জেরিকো, রামাল্লাহ ও জেনিন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে প্রায় ১৭৫ কেজি সন্দেহভাজন রাসায়নিক জব্দ করার কথাও জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে সড়কের পাশে পেতে রাখা বিস্ফোরকের হামলা বেড়ে যাওয়ায় এই তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। তাদের দাবি, এসব হামলায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হতাহত হয়েছেন। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, এপি বা বিবিসিতেও এই অভিযানের স্বাধীন যাচাইভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন, রামাল্লাহ, বেথলেহেম, জেনিন ও নাবলুসে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের পৃথক অভিযানে অন্তত কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। হেবরনে একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ১০ বছর বয়সী এক শিশু মাথায় আঘাত পেয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রামাল্লাহর পূর্বে আল-মুঘাইয়ির গ্রামে মোহাম্মদ হামেদ আবু আলিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। এ সময় একজন ফিলিস্তিনি জীবন্ত গুলিতে উরুতে আহত হন এবং আরও দুজন রাবার মোড়ানো ধাতব বুলেটে আহত হন। এছাড়া ১০ বছর বয়সী রায়েদ ওদেহ আবু আলিয়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে মাথায় আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী বেথলেহেমের পশ্চিমে দোহা শহরে অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গ্রেপ্তার বা বাড়িতে তল্লাশির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে জেনিনের দক্ষিণে খাবিরাত মাসউদ এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা তাদের ভেড়ার পাল ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে ছেড়ে দেয়। এতে ফসল ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাবলুসের দক্ষিণে কাবালান এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করছিলেন এমন পৌরসভার কর্মীদেরও হামলার মুখে পড়তে হয়। হামলার কারণে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ ধরনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে তাদের কৃষিজমি ও বসতি থেকে উচ্ছেদের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরের সময় ইসরায়েলি সেটেলার ও সেনাবাহিনীর হাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেলধারী সেটেলাররা তার বহরের পথরোধ করে এবং পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। রয়টার্সের বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে অবস্থানকালে রো খান্না এ অভিযোগ করেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত এই মার্কিন আইনপ্রণেতা বলেন, বুধবার দক্ষিণ পশ্চিম তীরের খিরবেত যানুতা এলাকায় সফরের সময় তাদের বহরের মাইক্রোবাস ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি সেটেলাররা। খান্নার ভাষ্য, তিনি এমন একটি গ্রাম পরিদর্শন করছিলেন, যেটি সেটেলারদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তার দাবি, সেখানে স্কুল ও অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সশস্ত্র সেটেলাররা তাদের পথ আটকে দেয় এবং পরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) ডেকে আনে। তিনি বলেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেল নিয়ে আসে, রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের আটকে রাখে। পরে আইডিএফ আসে, কিন্তু তারা আমেরিকানদের নয়, সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়।” খান্নার সফরসঙ্গী ক্যামেরন কাস্কি জানান, তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তারা জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে সহায়তা চান। পরে পুলিশ বলে মনে হওয়া একদল কর্মকর্তা এসে হস্তক্ষেপ করলে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, খিরবেত যানুতার কাছে কিছু যানবাহন সেটেলাররা আটকে রেখেছে—এমন খবর পাওয়ার পর সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। তাদের দাবি, সেখানে পৌঁছে তারা ইসরায়েলি বেসামরিকদের ছত্রভঙ্গ করে এবং আটকে পড়া যানবাহনগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেয়। খিরবেত যানুতা দক্ষিণ হেবরন এলাকার একটি ছোট ফিলিস্তিনি গ্রাম। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর ওই এলাকায় ইহুদি সেটেলারদের হামলার মুখে গ্রামটির বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হন এবং বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে এলাকাটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইসরায়েলি পুলিশ ও জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রো খান্নার অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শক্তিশালী মানবিক বার্তা দিয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এক তুর্কি সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন—আর্জেন্টিনাকে হারালে আবারও তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াবেন কি না। প্রশ্নের জবাবে কোনো সাধারণ হ্যাঁ বা না না বলে হোসাম হাসান সরাসরি মানবতার পক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, "পৃথিবীতে এমন কেউ যদি থাকে যে ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করতে পারে না, তবে সে মানুষই নয়। সে আরব, ইউরোপীয় বা যে কোনো দেশেরই হোক না কেন—এটি কেবল ধর্মের বা নাগরিকত্বের বিষয় নয়, এটি পুরোপুরি মানবতার বিষয়।" মিশরীয় কোচ পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, "ইউরোপ ও আমেরিকায় পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা হলেও মানুষ সোচ্চার হয়। তাহলে মানবাধিকার কোথায় গেল, যখন প্রতিদিন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা হামলার শিকার হচ্ছে? আমরা যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে আরাম-আয়েশে খাচ্ছি, তখন আরেকটি জাতি রাস্তায় খাবার, পানি ও আশ্রয়হীন অবস্থায় ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। এই তীব্র শীতে বা গরমে তাদের রক্ষা করার কেউ নেই।" ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে বার্তা ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম উল্লেখ করে হোসাম হাসান আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, "আমি আরব বা মিশরীয় হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমরা পুরো বিশ্বকে একটি বার্তাই দিতে চাই—দয়া করে ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন, দয়া করে তাদের শান্তিতে বাঁচতে দিন।"
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে কায়রোর এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট সিসি তার ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান অন্যায় ও আগ্রাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায়সংগত সমাধান প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী শান্তি, প্রকৃত স্থিতিশীলতা কিংবা আঞ্চলিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়। কেবল একটি ন্যায্য চুক্তির মাধ্যমেই ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব এবং এর ফলেই এই অঞ্চলের সকলের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে। ১৯৭৯ সালে প্রথম আরব রাষ্ট্র হিসেবে মিসর ইসরাইলের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিসি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বহুমুখী সংকট ও সংঘাতের একমাত্র স্থায়ী সমাধান নিহিত রয়েছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি ব্যাপক, বাস্তবসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির মধ্যে। একটি ন্যায়সংগত শান্তি চুক্তিই কেবল এই অঞ্চলের মানুষকে দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে মুক্ত করে পারস্পরিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। বক্তব্যের শেষাংশে মিশরীয় প্রেসিডেন্ট ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা বজায় রাখার জোর আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পর থেকেও ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত ও বিচ্ছিন্ন হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে অন অ্যারাইভাল ভিসা চালুর অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ অনুরোধ জানান। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তাদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে অন অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। বৈঠকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর অনুরোধ জানান, যাতে বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া যায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ইস্যু সহজীকরণ এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পায়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত ও ঐতিহাসিকভাবে সমর্থন জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক পরিসরে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের এই নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হলে দুই দেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও বসতি সম্প্রসারণ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি মন্ত্রীরা যে পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই সপ্তাহে তার বাস্তবায়নের বিভিন্ন লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে এবং এটি গণহত্যার উদ্দেশ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ সম্প্রতি হেবরন চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। একই সময়ে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো সরকারের পরিকল্পিত ‘নীরব সংযুক্তিকরণ’ কৌশল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সপ্তাহজুড়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ করে এবং মসজিদের খোলা চত্বরে ইস্পাতের বিম বসানোর কাজ শুরু করে। মসজিদের পরিচালক এই পরিবর্তনকে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির চরিত্রে মৌলিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে সেখানে টানা দেড় সপ্তাহ ধরে মুসলিমদের আজান বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। গাজায় নতুন করে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রকাশ্যে এনেছেন স্মতরিচ। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সেটেলমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গাজার উত্তরাঞ্চলে তিনটি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে গাজার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণসীমা নির্দেশকারী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পাশে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সিমেন্টের সীমাচিহ্ন আরও পশ্চিমে সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরও বিস্তৃত হয়েছে। নেতানিয়াহু আলাদাভাবে জানিয়েছেন, ইসরায়েল গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। পশ্চিম তীরেও বসতি সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ দেখা গেছে। রামাল্লাহর উত্তরে সিনজিল এলাকার কাছে ৪৬৫ দুনাম বা ০.৪৬৫ বর্গকিলোমিটার জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল গিভাত হারোয়েহ আউটপোস্টকে পশ্চাৎমুখীভাবে বৈধতা দেওয়া এবং রুট-৬০ বরাবর বৃহত্তর বসতি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা। আউটপোস্টটি ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক বসতিতে রূপান্তরিত হয়। ওয়াফা ও স্থানীয় কর্মী নেটওয়ার্কগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীরা কোবার ও বেইতিল্লুর কাছে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে এবং আল-মাজরা আশ-শারকিয়া ও কাফর মালেকের মাঝখানে নতুন আউটপোস্ট গড়তে জমি ঘিরে ফেলেছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২৩ জুন মধ্যরাতে বেইত লাহিয়ার কাছে একটি কোয়াডকপ্টার থেকে দাহ্য গোলাবারুদ ফেলা হয় বলে জানা গেছে। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের তিনটি তাঁবুতে আগুন লাগে। ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনী আশ্রয়শিবিরের পাশে একটি হলুদ সিমেন্ট ব্লক স্থাপন করে, যা নিয়ন্ত্রণরেখা আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এই রেখার আশপাশে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা ‘প্রবেশ-সীমাবদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২৩ জুন জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং হত্যা করেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশ। কমিশনের ভাষ্য, শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদিটিকে ‘মানহানিকর প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেছে। এর কয়েক দিন পর ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৪১ জন ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি এমন এক নীতির ফল, যা কার্যত কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের হত্যাকে সম্ভব করেছে। ২৯ জুন রামাল্লাহ সংলগ্ন এল-বিরেহ শহরে ১৫ বছর বয়সী আহমদ জাওয়াদ জাবের ইসরায়েলি অভিযানের সময় মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। রামাল্লাহর গভর্নর লাইলা ঘান্নাম ঘটনাটিকে ‘দিবালোকে সংঘটিত স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন। গাজার চিকিৎসাসূত্র ও ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সী আইলিন আল-ফারা স্প্লিন্টারের আঘাতে মারা যায়। দেইর আল-বালাহর কাছে আট বছর বয়সী মালিক আবু শাওয়িশ নিহত হয়। একই দিন আল-মাওয়াসিতে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় ২৩ বছর বয়সী ডায়ানা আবু দারাজ এবং তাঁর শিশু কন্যা সুয়ার নিহত হয়। যুদ্ধবিরতির আওতায় ওই এলাকাকে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। রামাল্লাহ অঞ্চলের দার ফাজা ও পূর্ব তাইবেহ এলাকায় নতুন আউটপোস্ট প্রতিষ্ঠার পর ১১টি বসতি স্থাপনকারীর হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ওসিএইচএ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা স্থানীয়দের একমাত্র পানির উৎস নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ২০০ জনের বেশি মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। একই সড়কপথের ১০টি বেদুইন সম্প্রদায়ের মধ্যে ৯টি এলাকা ইতিমধ্যে প্রায় খালি হয়ে গেছে। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ১৪ জুন দেইর দিবওয়ানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছয়জন বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন ১৮ বছর বয়সী। ওই হামলায় যানবাহন ও একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২৫ জুন বেইত আনোটের একটি বসতি আউটপোস্টে কয়েকটি ঘর ভেঙে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন বসতি স্থাপনকারী নেতারা। একই সময়ে ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যাহত ছিল। এ সময় ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে রেড ক্রসের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করতে আনা একটি বিলও ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হয়নি। অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় আইনপ্রণেতাদের ভোট বর্জনের কারণে বিলটি আটকে যায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতির প্রায় নয় মাস পর যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী নিহতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে ২৫ জুন বেইত লাহিয়ায় একটি হামলায় একজন নিহত হন। ২৬ জুন মাঘাজি শরণার্থীশিবিরের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ২৭ জুন আল-মাওয়াসিতে আরেক হামলায় দুই ভাইবোন নিহত হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় গাজার প্রায় অর্ধেক ডায়ালাইসিস মেশিন অচল হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে ইসরায়েলের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ওসিএইচএ জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ২৫ শতাংশেরও কম পেয়েছে।
শিকাগো: গাজায় স্বাস্থ্যখাতের সংকট এবং ফিলিস্তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার আটক নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (এএমএ)-এর সমালোচনা করেছেন একদল অধিকারকর্মী। সংগঠনটির বার্ষিক সম্মেলনের বাইরে তারা বিক্ষোভ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে চিকিৎসকদের এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক কর্মী দাবি করেন, শিকাগোতে অনুষ্ঠিত এএমএর সম্মেলনে তারা ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার আটক এবং গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিস্থিতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের অবহিত করতে লিফলেট বিতরণ করছিলেন। সে সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এমনকি সংগঠনের এক কর্মীও তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ ডা. হুসাম আবু সাফিয়া ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের হেফাজতে রয়েছেন। লেখকের দাবি, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি এসব দাবির স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি। লেখক আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর স্বাস্থ্যখাতের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এএমএ দ্রুত বিবৃতি দিয়েছিল এবং সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, হাসপাতাল ধ্বংস এবং চিকিৎসাকর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে সংগঠনটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। নিবন্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত বলে দাবি করা ডা. আবু সাফিয়ার একটি ছবিরও উল্লেখ রয়েছে। লেখকের ভাষ্য, ছবিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির চিহ্ন দেখা যায়। তবে ছবিটির সত্যতা কিংবা সেখানে নির্যাতনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়নি।
ন্যাটো সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে ফিলিস্তিন ইস্যুর কথা উল্লেখ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সম্ভব নয়। সোমবার (২৯ জুন) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন এরদোয়ান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মূল কারণ ফিলিস্তিন ইস্যু। তিনি ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর প্রতি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান ভূমি দখল ও বসতি স্থাপন বন্ধ না হলে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ন্যাটোকে সামনে রেখে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। জোটের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে যুদ্ধ, সংকট, সন্ত্রাসবাদ এবং অনিয়মিত অভিবাসনের কারণে ন্যাটোকে তার নিরাপত্তা কৌশল পুনর্গঠন করতে হচ্ছে। এরদোয়ান বলেন, পুরোনো নিরাপত্তা ধারণা ও কাঠামো একে একে ভেঙে পড়ছে। কিন্তু তার পরিবর্তে কী ধরনের নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে বিশ্ব ক্রমেই আরও বেশি উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত প্রচলিত ধারণাগুলোর অনেকটাই এখন কার্যকারিতা হারিয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও লেবাননের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মানবতার বিবেককে নাড়া দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ন্যাটোর প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, টেক্সাস থেকে আঙ্কারা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিঃশর্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি যাতে স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়, সে লক্ষ্যে তুরস্ক পাকিস্তান, কাতার এবং অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি লেবাননসহ অঞ্চলের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ওপরও নিবিড় নজর রাখছে আঙ্কারা। এরদোয়ান বলেন, ‘গণহত্যাকারী গোষ্ঠীর উসকানিকে কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তারা আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সহ্য করতে পারে না, বরং এটিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হিসেবে দেখে।’
কাতারের রাজধানী দোহায় এক ফিলিস্তিনি নারীর ব্যাগ চুরি করার পর সেটি আবার ফিরিয়ে দিয়েছে চোর। শুধু ব্যাগ ফেরতই নয়, নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি হাতে লেখা চিঠিও রেখে গেছে সে। ব্যতিক্রমী এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের বাড়ির দরজার সামনে চুরি হওয়া ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগে থাকা ২৭৫ মার্কিন ডলার নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র—সবই অক্ষত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাগটি চুরির পর এর ভেতরের কাগজপত্র দেখার সময় চোর জানতে পারে, ব্যাগের মালিক একজন ফিলিস্তিনি নারী এবং তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এরপরই সে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাগের সঙ্গে রাখা হাতে লেখা একটি চিরকুটে চোর লিখেছে, “আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি জানতাম না যে আপনি একজন ফিলিস্তিনি। যদি আগে জানতাম, তবে আমি কখনই আপনার জিনিস চুরি করতাম না।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিঠির আরেকটি সংস্করণে লেখা ছিল, “আমাদের ক্ষমা করবেন। আপনি ফিলিস্তিনি তা জানা থাকলে আমরা কখনই এই কাজ করতাম না। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই রসিকতার ছলে চোরকে ‘নীতিবান চোর’ বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, চুরি অবশ্যই অপরাধ; তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে ব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি অস্বাভাবিক এবং ব্যতিক্রমী। সূত্র: আল জাজিরা
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ভূমধ্যসাগর থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সহাবস্থানের কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে তুলে ধরেন। তিনি জানান, যে জাতীয় সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তার অন্যতম প্রধান নীতি হবে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ প্রত্যাখ্যান করা। নেতানিয়াহুর ভাষায়, “সমুদ্র ও জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় দুই রাষ্ট্রের জন্য কোনো জায়গা নেই। এই বাস্তবতা আমাদের নীতির কেন্দ্রে থাকবে।” তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাত সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণার বিপরীত অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কয়েক বছর আগেও দেশটির জনগণের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে তীব্র মতভেদ ছিল। যদিও তার মতে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এর বিরোধিতা করতেন, তবুও একটি বড় অংশ সমর্থন জানাত। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই মতামতকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার কথায়, এখন এই বিষয়ে ইসরায়েলি সমাজে এক ধরনের ‘জাতীয় ঐকমত্য’ তৈরি হয়েছে। এদিকে, লেবাননের সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবে তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, বৈরুতের সঙ্গে হওয়া এই বোঝাপড়া মূলত ইরান ও তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করেছে। নেতানিয়াহু আরও জানান, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই নতুন আন্তর্জাতিক সমঝোতার ফলে দক্ষিণ লেবাননে একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অধিকার স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে যতদিন প্রয়োজন, ততদিন ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত ইসরায়েল নিতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহল দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনের কার্যকর পথ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তবে ইসরায়েলের বর্তমান নেতৃত্বের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।