ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় ইসরায়েলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জাতিসংঘ দূতের
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় কাটাতে এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ।
মঙ্গলবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি পদক্ষেপ রুখতে 'তীব্র হস্তক্ষেপ' (massive intervention) ছাড়া গাজার মানুষকে বাঁচানো সম্ভব নয়।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার বিষয়ক এই বিশেষ দূত প্রশ্ন তোলেন, "কীভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে?" তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত কোনো রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র হস্তান্তর না করা প্রতিটি দেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা।
আলবানিজ উল্লেখ করেন, গাজায় কথিত যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং আরও অবনতি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৬৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষদের ওপরও ক্রমাগত হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের মুছে ফেলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার প্রভাব লেবানন ও ইরানেও ছড়িয়ে পড়ছে।
জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের প্রচণ্ড মারধর, হাড় ভেঙে দেওয়া, দীর্ঘক্ষণ চোখ বেঁধে রাখা, ঘুম ও খাবার থেকে বঞ্চিত করা এবং এমনকি যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। বন্দি অবস্থায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ইসরায়েলি সমালোচনার জবাবে আলবানিজ সপাটে বলেন, "ইসরায়েল যা খুশি বলতে পারে, কিন্তু তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। তাদের নেতাদের বিচার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হওয়া উচিত।"
তিনি বিশ্ব নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, অনেক দেশের সরকার ও মন্ত্রীরা নীরব থেকে কার্যত ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের 'লাইসেন্স' দিয়ে রেখেছে। গাজায় বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি 'পরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃত গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করেন। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আনাদোলু এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View more২০২৭ সালের ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের জন্য ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার যুদ্ধ থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের অভিজ্ঞতানির্ভর তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’ বেছে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। অস্কারের ‘সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন জেনেভাভিত্তিক প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা নিকোলা ওয়াদিমফ। সুইজারল্যান্ডের একাধিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই তথ্যচিত্রটিতে গাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুতি, স্বজন হারানোর বেদনা এবং অস্তিত্ব রক্ষার আকুতি অত্যন্ত গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’ তথ্যচিত্রটিতে কোনো প্রথাগত ধারাবর্ণনা ব্যবহার করা হয়নি। বরং গাজার সারভাইভারদের এক বিমূর্ত প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তারা নিজেদের কণ্ঠে বর্ণনা করেছেন ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জীবনসংগ্রামের করুণ কাহিনি। সুইজারল্যান্ডের ‘ফেডারেল অফিস অব কালচার’-এর অস্কার মনোনয়ন কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলচ্চিত্রটি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা, নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া এবং শেকড় ও পরিচয়ের খোঁজের মতো গভীর মানবিক বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করেছে। ইতিমধ্যেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটি। চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘সোলোথার্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ এটি সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘প্রিক্স দ্য সোলৌর’ অর্জন করেছে। অস্কারের আয়োজক সংস্থা ‘একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’ জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রাথমিক মনোনীত ছবিগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেখান থেকে বাছাইকৃত চূড়ান্ত পাঁচটি চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা করা হবে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি এবং পরবর্তী সময়ে ১৪ মার্চ জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ৯৯তম অস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
বয়স্ক পুরুষদের বিয়ে করে হত্যা, সম্পদ হাতিয়ে নিতেন; দুই দশকে ১০-এর বেশি হত্যাকাণ্ডে একাধিক মৃত্যুদণ্ড
দীর্ঘ সময় হেয়ারড্রায়ারের তাপের ফলে তিন মাসের মেয়ের মৃত্যু, দানব মায়ের ছয় বছরের জেল
কারাগারে সারা শরিফের বাবার ওপর হামলা, দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ছয় মাসের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইআরজিসি প্রধান আহমাদ ভাহিদির দাবি; মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের সামরিক কার্যক্রম প্রমাণ করেছে যে ইসলাম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। শনিবার প্রকাশিত এক বার্তায় আহমাদ ভাহিদি গত ছয় মাসের যুদ্ধের কথা তুলে ধরে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করেছে, “ইসলামকে বিশ্ব শাসনের সক্ষমতা অর্জন করানো সম্ভব।” তিনি আইআরজিসির পাশাপাশি ইরানের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বাসিজ বাহিনীর প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, এসব বাহিনীর সামরিক তৎপরতা বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে’ বাধ্য করেছে। আহমাদ ভাহিদি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক প্রতিরোধ বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের জন্য ‘বিদ্রোহের দরজা খুলে দিয়েছে’। তবে ইরানের এই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মূল্যায়নের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত চলাকালে ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ, পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত হরমুজ প্রণালির আশপাশে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েন রেখেছে। এই নৌপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের শুরু থেকেই এর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও বড় একটি অংশ নিহত হয় বলে মার্কিন পক্ষের মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব হামলার পরও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে রয়েছে। আহমাদ ভাহিদির বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। তাঁর বক্তব্যে সামরিক প্রতিরোধকে ইসলামী আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তবে ভাহিদির দাবির বিপরীতে যুদ্ধের সামরিক বাস্তবতায় ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুদ্ধকে প্রতিরোধের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও সংঘাতে দেশটির সামরিক সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে জাগানোর জন্য শাস্তি! গুনতে হলো ৫ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর
পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের ‘রেড লাইন’, ভারতকে শাহবাজের কঠোর হুঁশিয়ারি
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কারাবন্দি অবস্থায় দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে রাজপথে নামার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। বৃহস্পতিবার আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, অবিলম্বে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া না হলে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ সমর্থক নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে বিশাল পদযাত্রা করা হবে। আফ্রিদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আদিয়ালায় এটিই তার শেষ আগমন এবং সরকার নিজে থেকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল তিনি আবার ফিরে আসবেন। বুধবার ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নাম থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষের সার্বিক আচরণে তার মনে হয়েছে, এই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কোনো সদিচ্ছা তাদের নেই। সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আফ্রিদি পিটিআইয়ের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকেই দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি দলীয় কর্মীদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে আসার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আফ্রিদির মতে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার সঙ্গে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বৈরী আচরণ করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, দলটির এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং দলীয় কর্মীরা বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। আগামী রোববার বান্নুতেও বড় ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। আফ্রিদি দাবি করেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের পদযাত্রা কর্তৃপক্ষের জন্য রীতিমতো একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে। জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মাত্র স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়ে এর প্রমাণ আগেই দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ বারবার উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়টিও চরম ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন পিটিআইয়ের এই শীর্ষ নেতা। গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবার, আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের সাক্ষাতের নির্দেশ দিলেও গত কয়েক মাস ধরে তা একেবারেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আফ্রিদির অভিযোগ, তারা আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বারবার আবেদন করলেও আদালত বর্তমানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একেবারেই অসহায়। তার দাবি, খোদ সরকারের মন্ত্রীরাই এখন স্বীকার করছেন যে, দেশের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং অকার্যকর হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কাজই না করতে পারে, তবে সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকায় সেগুলো চালু রেখে অর্থের অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ডিসঅ্যাবিলিটি সুবিধার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন ১৪ রোগ যুক্ত করল সোশ্যাল সিকিউরিটি
মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি