সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইজরায়েলি সেনার পৈশাচিক বর্বরতা: সিগারেটের ছ্যাঁকা ও পায়ে পেরেকবিদ্ধ ১৮ মাসের শিশু করিমের আর্তনাদে কাঁপছে বিশ্ব

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মার্চ ২৭, ২০২৬ ১:৩১
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

গাজায় চলমান গণহত্যার নৃশংসতা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এবার এক ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুর ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতার লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। বাবার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিষ্পাপ শিশু করিমকে। তার কোমল শরীরে অসংখ্য সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ছাড়াও পায়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে লোহার পেরেক। 


প্যালেস্টাইন টিভির সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পৈশাচিক ঘটনাটি উঠে এসেছে।


ঘটনাটি ঘটে আল মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে। শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসর নিজের জীবিকা ও ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ ইজরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলির কবলে পড়েন। ইজরায়েলি সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে এবং সঙ্গে থাকা ১৮ মাসের শিশু করিমসহ সেনা শিবিরে নিয়ে যায়। সেখানে ওসামাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে জেরা ও অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু পাশবিকতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে যখন ওসামার চোখের সামনেই তার ছোট্ট শিশুটির ওপর শুরু হয় বর্বরতা।


টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক উল্লাস। শিশুটির আর্তচিৎকার ইজরায়েলি সেনাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া উদ্রেক করেনি, বরং তারা হিংস্র উল্লাসে মেতে ওঠে। নির্যাতনের পর শিশুটিকে রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হলেও ওসামা আবু নাসর এখনও ইজরায়েলি হেফাজতেই বন্দি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করিমের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং মানসিক ট্রমার কারণে সে ঘুমের ঘোরেও যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু, আতঙ্কে যুবক

ভারতের দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের আরজি হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২৬ বছর বয়সী এক যুবকের শরীরের ভেতরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো গঠন পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় তার দুটো অণ্ডকোষও স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জটিল এই শারীরিক অবস্থাকে Persistent Müllerian Duct Syndrome বা PMDS হিসেবে শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা।    চিকিৎসকদের কাছে ওই যুবক প্রাথমিক বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে যান। পরীক্ষায় তার বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া যায়নি, যাকে অ্যাজুস্পার্মিয়া বলা হয়। একই সঙ্গে দেখা যায়, তার দুটো অণ্ডকোষই শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে এবং অণ্ডথলিতে নামেনি। এসব অস্বাভাবিকতার কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করা হয়।    এমআরআই পরীক্ষায় পেলভিসের ভেতরে জরায়ুর মতো একটি গঠন এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো নালির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। জেনেটিক পরীক্ষায় তার ক্রোমোজোম প্যাটার্ন ৪৬,XY বলে নিশ্চিত হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা PMDS শনাক্ত করেন।    PMDS একটি অত্যন্ত বিরল জন্মগত শারীরিক অবস্থা। এতে সাধারণত ৪৬,XY ক্রোমোজোম ও পুরুষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকা ব্যক্তির শরীরে ভ্রূণ অবস্থায় তৈরি হওয়া মুলেরিয়ান ডাক্ট পুরোপুরি বিলীন হয় না। ফলে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অভ্যন্তরীণ গঠন থেকে যেতে পারে। এ অবস্থার সঙ্গে অণ্ডকোষ না নামা এবং বন্ধ্যাত্বের সম্পর্কও রয়েছে।    চিকিৎসাবিষয়ক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এ রোগের কয়েকশরও কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সাধারণত শৈশবেই অণ্ডকোষ না নামা বা অন্য সমস্যার চিকিৎসার সময় এটি ধরা পড়ে। তবে কখনো কখনো বন্ধ্যাত্বের পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও রোগটি শনাক্ত হয়।    আরজি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুবকের দুটো অণ্ডকোষই দীর্ঘদিন ধরে শরীরের ভেতরে থাকায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুলেরিয়ান গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুটো অণ্ডকোষ অপসারণ করা হয়। পরে টিস্যু পরীক্ষায় বাম অণ্ডকোষে Germ Cell Neoplasia In Situ বা GCNIS নামের ক্যানসারের পূর্ববর্তী পরিবর্তন পাওয়া যায়।    চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘদিন অণ্ডকোষ শরীরের ভেতরে থাকা অবস্থায় ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই বন্ধ্যাত্বের পাশাপাশি অণ্ডকোষের অস্বাভাবিক অবস্থানও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১০:৪৯
বিমানবন্দরে ডিউটি-ফ্রি দোকানে পাসপোর্ট স্ক্যানের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিবারের

বিমানবন্দরে ডিউটি-ফ্রি দোকানে পাসপোর্ট স্ক্যানের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিবারের

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ৫০ ফুট সোভিয়েত যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে জাপানের ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

ব্রিকস সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর

ছবি: সংগৃহীত
কঙ্গোতে স্কুলে আগুন, পদদলিত হয়ে নিহত ২৪ শিশু

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর বুকাভুতে দুটি স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট পদদলনে অন্তত ২৪ শিশু নিহত হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছুটে বের হওয়ার সময় এ পদদলনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ৩০০টিরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের সৃষ্টি হয়। এতে বহু শিশু হতাহত হয়। পূর্ব ডিআর কঙ্গোর এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত ও অস্থিরতায় রয়েছে। বুকাভু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:৩
নির্মাণসামগ্রী হিসেবে পয়ঃবর্জ্য ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার প্রতীকী চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে মানুষের মল থেকে তৈরি হচ্ছে কংক্রিট, যা প্রচলিত কংক্রিটের চেয়েও শক্তিশালী

হৃদরোগের অবনতি হওয়ায় বিচারকের কাছে নিউইয়র্কের একটি বাসায় গৃহবন্দী থাকার আবেদন জানিয়েছেন মাদুরোপত্নী সিলিয়া। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, উন্নত চিকিৎসার দাবি

ইসরায়েল নির্বাচনে বড় চাপে নেতানিয়াহু, ৭ অক্টোবরের হামলার সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ

ইসরায়েল নির্বাচনে বড় চাপে নেতানিয়াহু, ৭ অক্টোবরের হামলার সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ

নেপালে বন্যার পানিতে হোটেল ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডা. ইশান ও তার পরিবার
নেপালে বন্যার পানিতে হোটেল ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডা. ইশান ও তার পরিবার

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ডাক্তার ও তাদের পরিবারের আরও দুই সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যার সময় তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বন্যার পানিতে হোটেলটি ভেসে যাওয়ার পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।   নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ডা. ইশান প্যাটেল ও তার স্ত্রী ডা. আকাঙ্কশা প্যাটেল। সঙ্গে ছিলেন ইশানের মা শিলপা প্যাটেল এবং শ্বশুর উমেশকুমার প্যাটেল। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডিপার্টমেন্ট অব অর্থোপেডিক সার্জারি জানিয়েছে, ইশান সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডাল্ট রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন।   ফেলোশিপ শেষ করার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তীর্থযাত্রায় নেপালে গিয়েছিলেন ইশান। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যা শুরু হলে তারা সম্ভবত যে হোটেলে ছিলেন, সেটি পানির তোড়ে ভেসে যায়। এরপর থেকেই চারজনকে নিখোঁজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।   ডা. আকাঙ্কশা প্যাটেলও মিনেসোটার সঙ্গে চিকিৎসা পেশার সূত্রে যুক্ত ছিলেন। তিনি আগে ফ্রিডলির মার্সি হাসপাতাল-ইউনিটি ক্যাম্পাসে সাইকিয়াট্রিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। অলিনা হেলথ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন।   ইশান ও আকাঙ্কশা দ্বৈত মার্কিন-কানাডীয় নাগরিক। তাদের সঙ্গে থাকা ইশানের মা ও শ্বশুর কানাডার নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়তা করতে নেপালে গেছেন।   নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। দুর্যোগের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   হিমালয় অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। নিখোঁজ ইশান, তার পরিবারের সদস্য এবং এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১:২৪
১৫ বার অ্যামাজনের প্রত্যাখ্যান, শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে ১.১ কোটি রুপির চাকরি

১৫ বার অ্যামাজনের প্রত্যাখ্যান, শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে ১.১ কোটি রুপির চাকরি

ময়লা দুই টন ই-বর্জ্য থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা

ময়লা দুই টন ই-বর্জ্য থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা! চীনা রিফাইনারের ভিডিওতে তোলপাড়

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল!

0 Comments