জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা মালকম-জামাল ওয়ার্নারের মৃত্যুর এক বছর পর তাঁর স্ত্রী তেনিশা ওয়ার্নার অভিনেতার মা পামেলা ওয়ার্নারের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দাবি করে মামলা করেছেন। বিয়ের আগে করা চুক্তি (প্রিনাপচুয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট) অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। ‘দ্য কসবি শো’-এর জনপ্রিয় অভিনেতা মালকম-জামাল ওয়ার্নার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কোস্টারিকায় অবকাশযাপনের সময় দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৪ বছর। অভিনেতার মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর জর্জিয়ার ডেকাল্ব কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে এই মামলা করেন তাঁর স্ত্রী তেনিশা। মামলার নথিতে তেনিশা দাবি করেছেন, ২০২২ সালে বিয়ের আগে করা চুক্তিতে মালকম-জামাল তাঁর জন্য একটি ১০ লাখ ডলারের জীবনবীমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যেখানে তাঁকে একমাত্র সুবিধাভোগী (বেনিফিশিয়ারি) হিসেবে রাখা হওয়ার কথা ছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, ওই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেছেন, চুক্তি অনুযায়ী আরও কিছু আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে রয়েছে বার্ষিক অর্থ প্রদান, চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে কাজের পারিশ্রমিক চান। এসব মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দাবি করেছেন তিনি। তেনিশার মামলায় মালকম-জামালের মা পামেলা ওয়ার্নারকে বিবাদী করা হয়েছে। পামেলা বর্তমানে ওয়ার্নার ফ্যামিলি ট্রাস্টের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তেনিশার দাবি, তাঁর স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে এই আর্থিক দায় পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় ট্রাস্টের অর্থ থেকে তা পরিশোধ করা উচিত। মালকম-জামাল ওয়ার্নার ১৯৮০-এর দশকের জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য কসবি শো’-তে থিও হাক্সটেবল চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীত ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজেও যুক্ত ছিলেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবন তিনি বরাবরই অনেকটা ব্যক্তিগত রেখেছিলেন। মালকম-জামাল ও তেনিশা ২০২২ সালের মে মাসে বিয়ে করেন এবং তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তেনিশা জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য এখন তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা। এদিকে মামলার বিষয়ে পামেলা ওয়ার্নারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমেই নির্ধারিত হবে, তেনিশার দাবি আইনগতভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য এবং ট্রাস্ট থেকে কোনো অর্থ পাওয়ার অধিকার তিনি রাখেন কি না।
ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে এখনো প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এখনো আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিয়ে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার পথেই সমাধান চায়। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এখনো সেই আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রুবিওর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটেও পড়তে শুরু করেছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতেও ইরানের হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগের অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এখনো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সমঝোতার ঘোষণা দেয়নি। মার্কিন প্রশাসন একদিকে আলোচনার কথা বললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। রুবিও স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক পথ বন্ধ করেনি। তবে তাঁর ভাষায়, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে ইরানকেও বাস্তবসম্মত অবস্থান নিতে হবে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি অর্থপ্রদান যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা চালুর পর মৃত ব্যক্তিদের নামে প্রায় ১০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ ছাড় হওয়া থেকে রোধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই যাচাই প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯০০টিরও বেশি অর্থপ্রদানের অনুরোধ শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর মোট মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এসব অর্থ ছাড়ের আগেই সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলোর কাছে পুনঃযাচাইয়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। ট্রেজারি বিভাগের ব্যুরো অব দ্য ফিসকাল সার্ভিস প্রায় ৮৮ কোটি ৫০ লাখ সরকারি লেনদেন পর্যালোচনা করে এসব অনিয়ম শনাক্ত করে। পর্যালোচনাধীন অর্থের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিদের নামে অর্থপ্রদানের ঘটনা অনেক ক্ষেত্রেই জালিয়াতি বা ভুল তথ্যের ইঙ্গিত বহন করে। ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারি অর্থ ছাড়ের আগেই অনিয়ম ও জালিয়াতি শনাক্ত করে করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন জালিয়াতি প্রতিরোধ টাস্কফোর্সের সহযোগিতায় এই সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই যাচাইয়ে ট্রেজারি বিভাগের ‘ডু নট পে’ কর্মসূচি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থগ্রহীতার পরিচয়, যোগ্যতা ও ব্যাংক হিসাব যাচাই করে তারপর সরকারি অর্থ ছাড় করা হয়। পাশাপাশি নতুন কিছু যাচাই প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করতে সহায়তা করছে। ২০২১ সালের একটি আইনের মাধ্যমে ট্রেজারি বিভাগকে সাময়িকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ‘ফুল ডেথ মাস্টার ফাইল’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘এন্ডিং ইমপ্রপার পেমেন্টস টু ডিসিজড পিপল অ্যাক্ট’-এ স্বাক্ষর করলে বিভাগটি স্থায়ীভাবে ওই মৃত্যুর তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার পায়। এর ফলে মৃত ব্যক্তিদের নামে অর্থপ্রদানের আবেদন আরও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ট্রেজারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মৃত ব্যক্তিদের নামে ভুল বা অনিয়মিত অর্থপ্রদান কমিয়ে প্রায় ৩৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ নিট আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদী একটি সাময়িক চুক্তির সুবাদে মাত্র এক মাসে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করেছে ইরান। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তেহরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ তেলের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরমাণু অস্ত্রবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর (উয়ানি) দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে ডব্লিউএসজে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ইরানের অন্তত ২০টি তেলের ট্যাঙ্কার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কারণেই ইরান এত বিশাল পরিমাণ তেল নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ার বিরল সুযোগ পায়। এই তেল রপ্তানির ফলে ইরানের অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে গত ২২ জুন মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) একটি সাধারণ লাইসেন্স জারির মাধ্যমে এই শিথিলতা এনেছিল। ওই নথিতে ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির ওপর চলমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত এই সুযোগ বজায় থাকার কথা ছিল। তবে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত বেশিদিন টেকেনি। গত ৭ জুলাই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জুন মাসে জারি করা সেই সাধারণ লাইসেন্সটি আকস্মিকভাবে বাতিল ঘোষণা করে। নতুন নির্দেশনায় ইরানের তেল খাতের ওপর পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এই খাতে সব ধরনের নতুন লেনদেন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে অর্থনৈতিক চাপে পড়তে যাচ্ছে তেহরান।
জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে এটি সাম্প্রতিক পর্যায়ের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ জুলাই জর্ডানে মার্কিন ও মিত্রবাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই সেনাসদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি; তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না পর্যন্ত নাম গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। হামলায় আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস, যেখানে মার্কিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এই হতাহতের ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। গত কয়েক দিনে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা চালানোর পর ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলায় দেশটির অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং হরমোজগান প্রদেশের একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট ধ্বংস হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, "হরমুজ প্রণালি ইরান নিয়ন্ত্রণ করে না।" তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক্সে দেওয়া ওই বার্তার পাশাপাশি একটি ছবিও শেয়ার করেছেন পেন্টাগন প্রধান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আগে প্রকাশিত ওই ছবিতে ওমান উপসাগরে একটি নৌযানে মার্কিন সেনাদের তল্লাশির উদ্দেশ্যে ওঠার দৃশ্য দেখা যায়। পেন্টাগনের দাবি, এটি মূলত ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপের ধারাবাহিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানি আধিপত্য রুখতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নিজেদের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। এর আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ ভেঙে পার হওয়ার চেষ্টাকালে তিনটি বাণিজ্যিক নৌযানকে বাধা দিয়ে সেগুলোর গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বৈশ্বিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সেখানে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানের ওপর নতুন করে আরেক দফা সামরিক হামলা শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করছে। মূলত হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটানোর এবং হুমকি তৈরি করার যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, তা আরও দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত হামলা চালানো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। এই মার্কিন ঘোষণার ঠিক আগেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোও ওই অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলায় ঠিক কী পরিমাণ সামরিক বা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত এই আকস্মিক হামলার পর হরমুজ প্রণালীসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।
১৭ বছর বয়সী মার্কিন স্কুলছাত্র এডওয়ার্ড ক্যাং 'রেটিনামাইন্ড' (RetinaMind) নামের একটি অভিনব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল উদ্ভাবন করেছেন, যা কেবল চোখের রেটিনা স্ক্যান করেই অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) শনাক্ত করতে সক্ষম। নিউজার্সির বার্গেন কাউন্টি অ্যাকাডেমির এই শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে কোডিং শিখে এই ডিপ-লার্নিং কনভোল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। হংকংয়ের একটি গবেষণায় চোখের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশের যোগসূত্র আবিষ্কারের বিষয়টি মূলত তাকে এই কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল। মানুষের সাধারণ দৃষ্টিতে রেটিনার ম্যাকুলা এবং নার্ভ স্তরের দৈর্ঘ্য, পুরুত্ব ও গভীরতার যে সূক্ষ্ম ও জটিল পার্থক্যগুলো ধরা পড়ে না, রেটিনামাইন্ড টুলটি সেটিই নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে। একাধিক প্রেডিকটিভ মডেলের সমন্বয়ে তৈরি এই সিস্টেমটি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৯ থেকে ৯০ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল দিতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তকরণে একটি যুগান্তকারী, ব্যথামুক্ত এবং অত্যন্ত সাশ্রয়ী স্ক্রিনিং পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে। অটিজম এবং এডিএইচডির ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রচলিত আচরণগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। নিজের এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি মজবুত করতে এডওয়ার্ড ক্যাং রেটিনার বিকাশ এবং স্নায়বিক ভিন্নতার জেনেটিক যোগসূত্র নিয়েও কাজ করেছেন। সেখানে তিনি রেটিনার কোষে পার্থক্যের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে 'এবিসিএ৪' (ABCA4) জিনকে চিহ্নিত করেন। এই যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ 'রিজেনেরন সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ' প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার পুরস্কার জিতেছেন এই কিশোর। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে রেটিনার এই সূক্ষ্ম কাঠামোগত পার্থক্য অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে ক্যাংয়ের এই এআই মডেলটি প্রমাণ করেছে যে, প্রযুক্তির সহায়তায় লুকানো বায়োমার্কারগুলো খুঁজে বের করে আগামী দিনে আরও দ্রুত, নিখুঁত ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করা সম্ভব।
চীনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজেদের পশ্চিম উপকূলে মার্কিন প্রযুক্তির ‘হিমার্স’ বা হাই মবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমের সফল মহড়া চালিয়েছে তাইওয়ান। গত বুধবার তাইচুং অঞ্চলে আয়োজিত এই সামরিক মহড়ায় চীনা বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করার বাস্তবমুখী সিমুলেশন বা কাল্পনিক যুদ্ধাভ্যাস করা হয়। এই মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল ‘শুট-অ্যান্ড-স্কুট’ কৌশলের সফল প্রয়োগ, যার মাধ্যমে রকেট নিক্ষেপের পরপরই দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে শত্রুর রাডার ও পাল্টা হামলা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এবং পরীক্ষিত এই রকেট সিস্টেম তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার সম্ভাবনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ান প্রণালির ঠিক উল্টোদিকে সরাসরি চীনের দিকে মুখ করে থাকা পশ্চিম উপকূলের সৈকতগুলোই যেকোনো আগ্রাসনের সময় চীনা বাহিনীর সম্ভাব্য অবতরণস্থল হতে পারে। এই বড় ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে তাইওয়ান তাদের সামরিক বাহিনীকে একটি 'অসম যুদ্ধের' জন্য প্রস্তুত করছে। তাদের লক্ষ্য হলো দেশটিকে একটি ‘সজারু’ বা ‘পরকুপাইন’-এ পরিণত করা, যাতে চীনের মতো বৃহৎ শক্তির পক্ষেও সেখানে আক্রমণ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ‘হিমার্স’ রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে তাইওয়ান প্রণালির অপর প্রান্তে চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও নিখুঁতভাবে আঘাত হানা সম্ভব। মহড়ার প্রথম দিন গত মঙ্গলবার তাইওয়ানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘থান্ডারবোল্ট-২০০০ লঞ্চার থেকেও রকেট নিক্ষেপ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনা বাহিনী বন্দর ত্যাগ করার পরপরই বা তাইওয়ানের উপকূলে অবতরণের চেষ্টা করলেই এই অস্ত্রগুলো দিয়ে তাদের লক্ষ্য করে সাঁড়াশি আক্রমণ চালানো হবে। উল্লেখ্য, স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। তবে তাইওয়ান সরকার শুরু থেকেই চীনের এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে; তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—দ্বীপটির ভবিষ্যৎ একমাত্র এর জনগণই নির্ধারণ করবে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের বন্দরনগরী সিরিকে অবস্থিত বেসামরিক পানি সরবরাহ অবকাঠামোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলাকে ‘ইচ্ছাকৃত’ হিসেবে উল্লেখ করে একে একটি ‘পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বার্তায় তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন। ইসমাইল বাঘাই তাঁর বিবৃতিতে জানান, মার্কিন এই হামলায় সিরিক এলাকার দুটি মূল জলাধার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের অন্তত ১০টি গ্রামের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রতিদিনের সুপেয় পানির সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ঘটনাকে কোনোভাবেই যুদ্ধের সাধারণ বা আনুষঙ্গিক ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের এক চরম ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বেসামরিক মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য এমন মৌলিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণকে অত্যন্ত বর্বর বলে উল্লেখ করেছেন ইরানি মুখপাত্র। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন যে, এ ধরনের ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত জঘন্য হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পানীয় জলের মতো মানবিক বিষয়ে আঘাত হানার এই অভিযোগ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরাজমান উত্তেজনায় নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় আজ বুধবার আবারও ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এই নতুন যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, পারমাণবিক চুক্তি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা টেবিলে ইরান মূলত ওয়াশিংটনকে কালক্ষেপণের মাধ্যমে ধোঁকা দিচ্ছে। ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ইরান এত দিন ধরে আমাদের বোকা বানাচ্ছে। এবার আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছি।" সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, "যদি আপনারা টেলিভিশন সেট অন না করার কারণে রাতের ঘটনা মিস করে থাকেন, তবে জেনে রাখুন—আজ আমরা তাদের ওপর আবারও কঠোর হামলা চালাতে যাচ্ছি। এরপর দেখা যাবে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হয়।" দুই দেশের মধ্যে এই আকস্মিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালির একটি ঘটনা। গত সোমবার ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল অ্যাপাচি হেলিকপ্টার (এএইচ-৬৪) বিধ্বস্ত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাহিনী হেলিকপ্টারটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল এবং এর জবাবেই মূলত মঙ্গলবার রাত থেকে ইরানি রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। অবশ্য দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের হামলাটি এমনভাবে পরিমাপ বা ক্যালিব্রেট করা হয়েছিল যাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক নাগরিক হতাহত না হয়। ট্রাম্প বলেন, "আমাদের একটি অত্যন্ত দামি হেলিকপ্টারে তারা গুলি চালিয়েছে। এই একটি ঘটনাই আমাদের তাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার পূর্ণ অধিকার এনে দিয়েছে। সৌভাগ্যবশত হেলিকপ্টারে থাকা দুই ক্রু সদস্য বেঁচে গেছেন।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মূর্তির মধ্যেও কূটনীতির পথ অবশ্য একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন যাতে ভেঙে পড়া আলোচনা আবার শুরু করা যায়। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের জন্য গত দুই সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করতে করতে ট্রাম্পের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, "আমরা একটা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কেবলই সময় নষ্ট করছে, আমাদের সঙ্গে টালবাহানা খেলছে। যুক্তরাষ্ট্রকে আর বোকা বানানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।" আপাতত ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী আজ বুধবার ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তার পারদ আবারও রেকর্ড সর্বনিম্নের কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। ইরান যুদ্ধের জেরে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই সোমবার (৮ জুন) শেষ হওয়া রয়টার্স ও ইপসোস-এর সর্বশেষ এক জনমত জরিপে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, মাত্র ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরিচালিত জরিপের একদম সমান। এই হার ট্রাম্পের চলতি মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং ৩৪ শতাংশ (গত এপ্রিলের জরিপ) এবং তার প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং ৩৩ শতাংশের (ডিসেম্বর ২০১৭) অত্যন্ত কাছাকাছি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের সাথে যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এর পাল্টা জবাবে ইরানও আক্রমণ চালালে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণকারী একটি সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এপ্রিলের পর থেকে হামলার গতি কিছুটা কমলেও এখনও কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি। এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং তীব্র জনঅসন্তোষের মুখে পড়েছেন এই রিপাবলিকান নেতা। যদিও ইরান সংঘাতের অবসানের আশায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাম্পে জ্বালানির দাম সামান্য কমেছে, তবুও সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কা রয়েই গেছে। ছয় দিনব্যাপী পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন আগামী এক বছরে দেশটির জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বিপরীতে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মাত্র ২২ শতাংশ মার্কিনি গৃহস্থালির জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের ভূমিকা অনুমোদন করেছেন, যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষই তার ওপর সরাসরি অসন্তুষ্ট। জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এখন ট্রাম্পের চেয়ে তার ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি জো বাইডেনের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন। বাইডেন তার মেয়াদের শেষে এই খাতে ২৯ শতাংশ সমর্থন এবং ৬৩ শতাংশ অসন্তোষ নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। অথচ ট্রাম্প গত নির্বাচনী প্রচারণায় মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। লাগামহীন জ্বালানির এই দাম আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপ মতে, ইরানের ওপর মার্কিন হামলার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৬ শতাংশ মার্কিনি এবং মাত্র ২৫ শতাংশ মনে করেন এই হামলার সুফল ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এই জনমত জরিপ আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি সুবিধাজনক অবস্থানের পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আজ নির্বাচন হলে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪১ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকানদের ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। গত বছর পর্যন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর বেশি ভরসা রাখলেও, বর্তমানে অর্থনীতি নিয়ে ৩৬ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকানদের পরিকল্পনাকে সেরা মনে করছেন, যা রিপাবলিকানদের সেই পুরোনো সুবিধাকে অনেকটাই মুছে দিয়েছে। দেশজুড়ে অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে ৪,৫৩১ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন, যার ত্রুটির মাত্রা (মার্জিন অব এরর) ছিল ২ শতাংশ।
শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে সমুদ্র মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও প্রণালীটির কিছু অংশে জাহাজ চলাচল এখনো বিপজ্জনক থাকায় এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন' এবং 'ইউএসএস মাইকেল মারফি' বর্তমানে আরব উপসাগরে অবস্থান করছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কর্তৃক পেতে রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করে জলপথটিকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, "আমরা আজ থেকে একটি নতুন এবং নিরাপদ জাহাজ চলাচলের পথ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছি। খুব শীঘ্রই এই নিরাপদ রুটের তথ্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক শিল্প সংস্থাগুলোর সাথে শেয়ার করা হবে, যাতে বিশ্ব বাণিজ্য পুনরায় স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে এই পদক্ষেপকে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আমেরিকার একটি "উপহার" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের স্বার্থেই আমেরিকা এই ঝুঁকি গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সিএনএন-এর তথ্যমতে এ পর্যন্ত মাত্র ৩০টির মতো জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে। মাইনের পাশাপাশি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান থাকায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিলো ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে সিসিলির সিগোনেলা সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করতে সরাসরি বাধা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যথাযথ পূর্বানুমতি না থাকায় এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'RAI'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমানটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখনই অবতরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, কোনো ধরনের আলোচনা বা আগাম বার্তা ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অধিকন্তু, তদন্তে দেখা গেছে এই ফ্লাইটটি সাধারণ লজিস্টিক বা নিয়মিত কোনো কার্যক্রমের অংশ ছিল না, যা বিদ্যমান চুক্তির পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইতালি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এর আগে স্পেনও একইভাবে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি মার্কিন এবং ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইতালির এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিবর্তিত কূটনৈতিক মেরুকরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত জলসীমায় ইরান ও ইয়েমেনি প্রতিরোধের মুখে থাকা বিশ্বের বৃহত্তম এবং অত্যাধুনিক মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্র ত্যাগ করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি ও অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতির মেরামত করতে রণতরীটি এখন ক্রোয়েশিয়ার অ্যাড্রিয়াটিক বন্দর স্প্লিট-এ অবস্থান করছে। শনিবার সকালে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটি বন্দরে নোঙর করে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ লোহিত সাগরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন জাহাজটির প্রধান লন্ড্রি রুমে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও পেন্টাগন একে দুর্ঘটনা হিসেবে দাবি করছে, তবে আগুনের ধোঁয়ায় প্রায় ২০০ নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় রণতরীটির প্রায় ১০০টি শয়নকক্ষ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্লাম্বিং ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছে। ৫,০০০ নাবিক এবং ৭৫টি যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম এই দানবীয় জাহাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম বর্তমানে মারাত্মকভাবে ব্যাহত। এদিকে, এই ঘটনাকে আমেরিকার ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ হিসেবে দেখছে ইরান। আইআরজিসি-র কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানি এক বার্তায় দাবি করেছেন, ইয়েমেনি যোদ্ধাদের অনমনীয় প্রতিরোধের মুখেই পিছু হটেছে এই মার্কিন রণতরী। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় অবস্থানের পর কোনো উপায় না পেয়ে মেরামতের অজুহাতে তারা এলাকা ত্যাগ করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মেরামতের জন্য কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ন্যাটো মিত্র হিসেবে ক্রোয়েশিয়া এই যাত্রাবিরতিকে কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাতারের দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কনস্যুলার সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য যেকোনো হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জরুরি কর্মীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মার্কিন নাগরিকদের সর্বদা সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই নিরাপদ স্থানে গিয়ে 'মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা' বা 'ডাক অ্যান্ড কাভার' পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মুখপাত্র তার বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী ইরানের নিখুঁত হামলার হাত থেকে বাঁচতে তাদের নিয়মিত ঘাঁটি ছেড়ে দুবাইয়ের দুটি গোপন আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছিল। ইরান সেই অবস্থানগুলো শনাক্ত করে সেখানে কয়েক দফা শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালায়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম আস্তানায় ৪০০ জনের বেশি এবং দ্বিতীয় আস্তানায় ১০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তা অবস্থান করছিলেন। ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স এবং নৌবাহিনীর এই সমন্বিত অভিযানে আস্তানা দুটি লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত হানা হয়। মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ইরানি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ট্রাম্প এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের বোঝা উচিত যে, এই অঞ্চলটি তাদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হবে। সাহসী যোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে তাদের আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে গত এক মাস ধরে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। আজকের হামলাকে সেই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি ও পরোক্ষ সামরিক সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। পেন্টাগন ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ২৯০ জন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, আহত সেনাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই 'ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি' বা গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাতে ভুগছেন। মূলত ইরানের ড্রোন হামলার কারণেই এই বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য মস্তিষ্কের সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত ৩০৩ জনের মধ্যে ২৭৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরলেও ১০ জন সেনার অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা এতটাই গুরুতর যে প্রাণহানির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রণক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সব আঘাত বোঝা যায় না বিধায় সময়ের সাথে সাথে এই আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অনেক সময় সেনারা প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর শারীরিক বা মানসিক জটিলতা অনুভব করায় দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসেন, যা এই পরিসংখ্যানে প্রভাব ফেলছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এক বিতর্কিত পদক্ষেপে তোলপাড় শুরু হয়েছে পেন্টাগনসহ পুরো ওয়াশিংটনে। অত্যন্ত যোগ্য হিসেবে বিবেচিত চারজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন তিনি, যাদের মধ্যে দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং দুইজন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে ওয়ান-স্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেওয়ার বিষয়টিকে হেগসেথের ‘উওক কালচার’ বা অতি-উদারপন্থী প্রভাবমুক্ত সামরিক বাহিনী গড়ার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রচলিত ডাইভারসিটি, ইক্যুইটি এবং ইনক্লুশন (DEI) নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই কর্মকর্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলকে চাপ দিয়েছিলেন। তবে ড্রিসকল এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, ওই কর্মকর্তারা কয়েক দশকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেনাসচিবের আপত্তি তোয়াক্কা না করেই হেগসেথ ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে তাদের নাম সরিয়ে দেন। হেগসেথের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক আদর্শ এবং গায়ের রঙ বা লিঙ্গকে ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে সংশোধিত এই তালিকাটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পেশ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই মেয়াদে প্রতিরক্ষা বিভাগের নেতৃত্বে আসা হেগসেথের এমন একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, বর্তমানে এই অঞ্চলে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটন মুখে যুদ্ধবিরতি ও শান্তির প্রস্তাব দিলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। সেন্টকম-এর তথ্যমতে, কেবল সেনাসদস্যই নয়, এই অঞ্চলে বর্তমানে অন্তত ২০০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে। সামরিক শক্তির এই বহর আরও বাড়াতে নতুন করে মোতায়েন করা হচ্ছে '৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন'-এর আরও ১ হাজার সেনা। এছাড়া ৫ হাজার মেরিন ও নৌ-সেনা নিয়ে গঠিত দুটি বিশেষ 'মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট' এখন মধ্যপ্রাচ্যের পথে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আর অন্যদিকে রেকর্ড সংখ্যক সেনা মোতায়েন—যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও বাস্তবে যুদ্ধপ্রস্তুতি কি কোনো বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের একটি সামরিক ক্লিনিকে মার্কিন বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরাক সরকার। এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বাগদাদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করার নির্দেশ দিয়েছে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আজ সকালে আনবার প্রদেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। ইরাক এই অঞ্চলকে সংঘাতমুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাদের সামরিক ইউনিটগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আনবার প্রদেশে এক বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন ইরাকি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সহিংসতার মাত্রা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। গতকাল ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর সদর দপ্তরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কুর্দিস্তানের এরবিল শহরের উত্তরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬ জন কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। মুখপাত্র আল-নুমান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী এক জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের কর্মকাণ্ড ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন দূতের কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং এই দায়িত্বজ্ঞানহীন হামলার বিষয়ে ইরাকের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।