ইরান আলোচনায় আন্তরিক নয়, সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে এখনো প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও
ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে এখনো প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এখনো আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিয়ে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার পথেই সমাধান চায়। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এখনো সেই আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রুবিওর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটেও পড়তে শুরু করেছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতেও ইরানের হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগের অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এখনো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সমঝোতার ঘোষণা দেয়নি।
মার্কিন প্রশাসন একদিকে আলোচনার কথা বললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।
রুবিও স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক পথ বন্ধ করেনি। তবে তাঁর ভাষায়, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে ইরানকেও বাস্তবসম্মত অবস্থান নিতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আদালত বাতিল করলেও হাজার হাজার আবেদনকারী এখনো নিজ নিজ দেশে আটকে রয়েছেন। গত ২১ আগস্ট ফেডারেল আদালতের রায়ের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু ভিসা ইস্যুতে অতিরিক্ত যাচাই, নতুন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারছেন না। সোমবার (২৬ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, কলম্বিয়া, ব্রাজিলসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন অভিবাসন আইনে এই বিষয়টি ‘পাবলিক চার্জ’ নামে পরিচিত। তবে নিষেধাজ্ঞাটি সবার ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা যাচাই করে নয়, জাতীয়তার ভিত্তিতে কার্যকর করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে এই নীতি চ্যালেঞ্জ করা হয়। গত ২১ আগস্ট বিচারক জেনেট ভার্গাস রায় দেন, এভাবে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখার নীতি আইনসম্মত নয়। আদালত নিষেধাজ্ঞাটি বাতিল করার পাশাপাশি শুধু ওই নীতির কারণে প্রত্যাখ্যাত ভিসা আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন। বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। রায়ের পর ২৮ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ২১ আগস্ট থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার নীতি আর কার্যকর নেই। তবে একই ঘোষণায় সংস্থাটি জানায়, আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা যাচাইয়ের নীতি পর্যালোচনা চলছে। অর্থাৎ আদালতের রায়ে জাতীয়তাভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল হলেও আবেদনকারীদের অন্যান্য যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সময় ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। তাঁদের মধ্যে মার্কিন নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারীদের স্ত্রী-স্বামী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরাও রয়েছেন। অনেক আবেদনকারীর ভিসা অনুমোদনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। কেউ কেউ পাসপোর্টে ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। আদালতের রায়ের পরও তাঁদের অনেকে নতুন সিদ্ধান্ত বা প্রয়োজনীয় নথির অপেক্ষায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতির একটি উদাহরণ মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ডাস্টিন হফম্যানের পরিবার। একসময় ইরাকে দায়িত্ব পালন করা হফম্যান স্ত্রী গ্লোরিয়া এবং সন্তানদের নিয়ে আর্জেন্টিনায় বসবাস করতেন। পরে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার সুযোগ বিবেচনায় পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী কলম্বিয়ার নাগরিক হওয়ায় ৭৫ দেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন। প্রায় এক বছর ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চললেও গ্লোরিয়ার ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখনো ইস্যু হয়নি। হফম্যান জানিয়েছেন, তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ছায়া এবং ১২ বছর বয়সী সৎসন্তান ইসরায়েল এখনো আর্জেন্টিনায় রয়েছে। মেয়ের বিশেষ শিক্ষাগত প্রয়োজনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত সুযোগের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভিসার দীর্ঘসূত্রতায় পরিবার আলাদা থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে একসঙ্গে বসবাসের পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আদালতের রায়ের পরও হফম্যানের স্ত্রীর কাছে নতুন করে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ চেয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না, তা যাচাই করতে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। হফম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও বারবার নতুন শর্ত পূরণের প্রয়োজন হওয়ায় তাঁদের পারিবারিক জীবনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি অ্যালেক্সিস অ্যাক্সেলরাড অভিযোগ করেছেন, আদালতের আদেশের পরও প্রশাসন ভিসা ইস্যুর প্রক্রিয়া যথেষ্ট দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে না। তাঁর মতে, কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও আবেদনকারীরা যদি ইন্টারভিউ শেষ করতে বা পাসপোর্টে ভিসা পেতে না পারেন, তাহলে বাস্তবে তাঁদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তবে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন আটকে রাখছে, এটি আইনজীবীদের অভিযোগ। আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়ে নতুন কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এনপিআর জানিয়েছে, আগস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করে। এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য আবেদনকারীদের পাবলিক চার্জসংক্রান্ত ঝুঁকি আরও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা। এর ফলে আগে অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছানো আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও বাড়তি যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। একজন সাবেক মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তা এনপিআরকে জানিয়েছেন, এত বড় পরিসরে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত বা ধীরগতিতে পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অস্বাভাবিক। নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের ওপরও। কলম্বিয়ার চিকিৎসক ও গবেষক ড. ফার্নান্দো লিজকানো তাঁদের একজন। হৃদরোগ, স্থূলতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত ইবি-১এ ক্যাটাগরিতে তাঁর আবেদন ইউএসসিআইএস অনুমোদন করেছে। কিন্তু এরপরও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চূড়ান্ত ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায় কলম্বিয়ায় অবস্থান করছেন তিনি। লিজকানো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বায়োমেডিকেল গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে এন্ডোক্রাইনোলজি, মলিকিউলার বায়োলজি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। তাঁর ঘটনা দেখিয়েছে, ইউএসসিআইএসের মাধ্যমে একটি ইমিগ্রেশন পিটিশন অনুমোদিত হওয়া এবং বিদেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়া এক বিষয় নয়। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এনপিআরকে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা বিস্তারিত মন্তব্য করবে না। সংস্থাটির সরকারি ওয়েবসাইটে অবশ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, আগস্টের আদালতের রায়ের পর ৭৫ দেশের ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার নীতি বাতিল হয়েছে। তবে প্রশাসন আবেদনকারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এই পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানুয়ারিতে যে ৭৫ দেশের ওপর ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সেই তালিকায় বাংলাদেশও ছিল। ফলে বাংলাদেশ থেকে ফ্যামিলি-ভিত্তিক কিংবা এমপ্লয়মেন্ট-ভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য আবেদন করা ব্যক্তিরাও নীতিটির আওতায় পড়েছিলেন। আদালতের রায়ের ফলে ওই নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও আটকে থাকা প্রতিটি আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়ে যাবে, এমন নয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য প্রযোজ্য ছিল। টুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ওপর ওই একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, এই নীতির কারণে আগে ইস্যু করা বৈধ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল করা হয়নি। তবে অন্য কোনো পৃথক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কিংবা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অযোগ্যতা থাকলে তা আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। এনপিআরের প্রতিবেদনে উঠে আসা পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আদালতের রায়ে একটি অভিবাসননীতি বাতিল হওয়া এবং সেই রায়ের সুফল আবেদনকারীদের কাছে পৌঁছানোর মধ্যে বড় ব্যবধান থাকতে পারে। বর্তমানে প্রধান প্রশ্ন হলো, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কত দ্রুত আটকে থাকা আবেদনগুলোর সিদ্ধান্ত দেবে এবং অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোকে আরও কত দিন আলাদা থাকতে হবে।
২৪ বছর মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহারের পর নারীর নাগরিকত্ব বাতিল, সামনে এলো জালিয়াতি
গ্রে প্তার হলে বাতিল হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা! সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন ‘সিভিলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা
যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র প্রকাশ করতে গিয়ে একটি অঙ্গরাজ্যই বাদ পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) প্রকাশিত গ্রাফিকে। মানচিত্রে ভারমন্টকে খুঁজে না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবহারকারীরা। কেউ জানতে চেয়েছেন, অঙ্গরাজ্যটি কোথায়, আবার কেউ ধারণা করছেন, গ্রাফিকটি তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। চলতি সপ্তাহে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ। এ উপলক্ষে বিভাগের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রের একটি গ্রাফিক প্রকাশ করা হয়। পোস্টের সঙ্গে জানানো হয়, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য আমেরিকানদের জ্বালানি ব্যয় কমানো। কিন্তু পোস্টটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর নজরে আসে মানচিত্রের একটি বড় ভুল। যুক্তরাষ্ট্রের বাকি অংশ দেখানো হলেও ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যটি গ্রাফিকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বিষয়টি নিয়ে এক্সে কমিউনিটি নোটও যুক্ত করা হয়, যেখানে সংক্ষিপ্তভাবে প্রশ্ন তোলা হয়—‘ভারমন্ট কোথায়?’ পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে অনেকেই একই প্রশ্ন করেন। কেউ মানচিত্রে অঙ্গরাজ্যটির অনুপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ গ্রাফিক তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ জানান। কয়েকজন ব্যবহারকারী ধারণা করেন, এআই দিয়ে মানচিত্রটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে গ্রাফিকটি তৈরিতে সত্যিই এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে মানচিত্রে ভারমন্ট বাদ পড়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। কেন এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছিল মানচিত্রটি প্রকাশের পেছনে ছিল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা। গত ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ ঘোষণা করে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে পরিচালিত ৬৩টি জ্বালানি প্রকল্পের জন্য ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে ৬১টি আদিবাসী প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে যেসব আদিবাসী পরিবারের বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি কিছু বাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক গরম রাখার ব্যবস্থা চালু করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গড়ের তুলনায় আদিবাসী পরিবারগুলোর জ্বালানি ব্যয় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। দেশটিতে আনুমানিক ১৭ হাজার আদিবাসী পরিবারের বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব সমস্যা কমানো এবং জ্বালানির সুবিধা বাড়ানোই প্রকল্পগুলোর অন্যতম লক্ষ্য। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্প বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আনলিশিং আমেরিকান এনার্জি’ শীর্ষক নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়তা করার কথা বলা হয়েছে। প্রকাশিত গ্রাফিকটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কতটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। আলাস্কা ও ওকলাহোমায় প্রকল্পের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মানচিত্রে ভারমন্টের অনুপস্থিতি বিনিয়োগের মূল ঘোষণা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে গ্রাফিকের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সরকারি গ্রাফিকে ভুলের ঘটনা নতুন নয় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত সরকারি উপকরণে ভুল ধরা পড়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের পদবি লেখা একটি ফলকে বানান ভুল দেখা যায়। সেখানে ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ লেখার জায়গায় ‘এসসেক্রেটারি অব ওয়ার’ লেখা হয়েছিল। ভুলটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তা নিয়ে বিদ্রূপ করেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি উপস্থাপনায় আফ্রিকার মানচিত্রেও বড় ধরনের ভুল দেখা যায়। সেখানে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশের অবস্থান ভুলভাবে দেখানো হয়েছিল। পরে রয়টার্সের বিশ্লেষণে মানচিত্রটিতে ওপেনএআইয়ের সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিতবাহী এআই ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়। পররাষ্ট্র দপ্তর ওই উপস্থাপনার কারণে বিভ্রান্তি তৈরির দায় স্বীকার করে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি নথিতেও বানান ভুল নজরে আসে। সেখানে ‘প্রেসিডেন্ট অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ লেখার পরিবর্তে ‘প্রেসিডেন্ট অব দ্য ইউনিতেস স্টেটস’ লেখা হয়েছিল। ভারমন্ট বাদ পড়ার ঘটনায়ও এখন পর্যন্ত এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। তবে সরকারি ঘোষণার সঙ্গে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে এমন ভুল কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জ্বালানি বিভাগের ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল আদিবাসী সম্প্রদায়ের জ্বালানি সুবিধা বাড়ানো ও ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা। কিন্তু গ্রাফিকের ভুলের কারণে এখন আলোচনায় এসেছে সরকারি তথ্যচিত্র তৈরির নির্ভুলতা ও প্রকাশের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা।
ফ্লোরিডা টার্নপাইকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃ ত্যু, জ্বলন্ত গাড়িতে আটকে ছিলেন সবাই
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পরোয়া করেন না ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল মুনাফার দাবি
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠান, শীর্ষে কার ওয়াশ কোম্পানি
প্রায় ৩০ বছর আগে তিন বছরের মেয়ে ক্রিস্টাল রেইসকে হত্যার অভিযোগে মেক্সিকোয় আটক হয়েছেন তাঁর মা আনা মার্লিন সোমোজা। ৬০ বছর বয়সী সোমোজা ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে পলাতক ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর মেক্সিকোর জোচিটেপেক শহরে তাঁকে আটক করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, মেয়েকে হত্যার অভিযোগে প্রথম ডিগ্রির হত্যার মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। মার্শালস সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি ক্রিস্টালের মৃত্যু হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগে শিশুটিকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছিল। তাকে একটি ছোট কুকুর রাখার খাঁচায় আটকে রাখা হতো, হাত-পা বেঁধে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হতো এবং দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়াই রাখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। মৃত্যুর দিন শিশুটিকে বেঁধে মুখে তোয়ালে আটকে শ্বাসরোধ করা হয় এবং একটি বন্ধ কার্ডবোর্ডের বাক্সে রেখে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর, ১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর অ্যারিজোনার মোবাইল এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে মানুষের হাড়ের টুকরা উদ্ধার করেন এক শিকারি। তবে দীর্ঘদিন সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের আগস্টে ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে হাড়গুলো ক্রিস্টাল রেইসের বলে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা। পরে শিশুটির জৈবিক বাবা ড্যারেন স্টকওয়েলের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে সোমোজা ও তাঁর তৎকালীন প্রেমিক অ্যাভেলিনো তামালার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তামালাকে ২০১৬ সালে ক্রিস্টাল হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে ১৯৯৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সোমোজা আট বছর ফেডারেল কারাগারে ছিলেন। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর তাঁকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠানো হয়। ২০১৪ সালে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর থেকেই তাঁকে খুঁজছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা। মার্শালস সার্ভিসের ভাষ্য, মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাঁকে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে সহায়তা করে থাকতে পারে। ২০২২ সালের অক্টোবরে সোমোজাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংগ্রহ করা হয়। তবে তাঁকে খুঁজে পেতে আরও কয়েক বছর লেগে যায়। ২০২৬ সালে তাঁকে খুঁজে বের করার অভিযানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ নিয়োগ করা হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সোমোজা মেক্সিকোর কুয়েরনাভাকা এলাকায় অবস্থান করছেন এবং গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছেন। পরে ১৮ অক্টোবর তাঁকে জোচিটেপেকে আটক করা হয়। এখন তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে কাজ করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি রাসেল লরফিং বলেন, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনি চ্যালেঞ্জ জানালে তা আরও দীর্ঘ হতে পারে, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। ফলে সোমোজার বিরুদ্ধে মামলার বিচার কবে শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের মার্শালস সার্ভিস ও ফক্স নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় থাকতে নিট সম্পদ হতে হবে ১৮ লাখ ডলার