সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে ফের বিমান হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকটের শঙ্কা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৭:৫
মার্কিন যুদ্ধ বিমান I ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুদ্ধ বিমান I ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানের ওপর নতুন করে আরেক দফা সামরিক হামলা শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করছে।

 

মূলত হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটানোর এবং হুমকি তৈরি করার যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, তা আরও দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত হামলা চালানো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

 

এই মার্কিন ঘোষণার ঠিক আগেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোও ওই অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

তবে এখন পর্যন্ত এই হামলায় ঠিক কী পরিমাণ সামরিক বা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত এই আকস্মিক হামলার পর হরমুজ প্রণালীসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
সাংহাইয়ের নিঃসন্তান দম্পতি ডু ইংরং ও চিকিৎসক লু সুয়িং নিজেদের সম্পূর্ণ সঞ্চয় শিশুদের চিকিৎসায় দান করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
দুজনে খাবার ভাগ করে খেয়ে ৪৫৫ শিশুর হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারে দান ৭ লাখ ৩৫ হাজার ডলার

সাংহাইয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ডু ইংরং ও চিকিৎসক লু সুয়িংয়ের নিজেদের কোনো সন্তান ছিল না। তবে জীবনের শেষ সময়ে নিজেদের সঞ্চয়ের ৫০ লাখ ইউয়ান, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার সমপরিমাণ, দান করে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত ৪৫৫ শিশুর চিকিৎসায় সহায়তা করেছেন এই দম্পতি। তাদের এই নীরব মানবিকতার গল্প প্রকাশ্যে আসে মৃত্যুর পর।   চীনের সাংহাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন ডু ও লু। অবসরপ্রাপ্ত এই দম্পতি একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলেন। নিজেদের জন্য খরচ কমিয়ে তারা সঞ্চয় করতেন এবং পুরোনো জিনিস মেরামত করে ব্যবহার করতেন। এমনকি কখনো কখনো প্রায় ১৭ থেকে ১৮ ইউয়ানের একটি খাবার দুজন মিলে ভাগ করে খেতেন।   ২০১৮ সালের শুরুর দিকে সাংহাইয়ের একটি হৃদরোগ হাসপাতালের সামনে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য সহায়তার আহ্বান জানানো একটি পোস্টার দেখতে পান ডু। এসব শিশুর অনেক পরিবারেরই অস্ত্রোপচারের খরচ বহনের সামর্থ্য ছিল না।   পোস্টারটি দেখার পর স্ত্রী লুর সঙ্গে আলোচনা করে ডু প্রথমে ৫ লাখ ইউয়ান দান করেন। এই অর্থে ১০ শিশুর হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারে সহায়তা করা সম্ভব হয়। পরে তারা আরও ৪৫ লাখ ইউয়ান দান করেন। সব মিলিয়ে তাদের অনুদানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ লাখ ইউয়ান।   হাসপাতালের একজন কর্মী তাদের বাড়িতে গিয়ে দম্পতির জীবনযাপন দেখে নিজেদের জন্য কিছু অর্থ রেখে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। জবাবে ডু জানিয়েছিলেন, তাদের দুজনেরই বয়স হয়েছে, তারা পেনশন পান এবং কিছু সঞ্চয়ও রয়েছে। নিজেদের জন্য বেশি অর্থের প্রয়োজন নেই বলেই তারা মনে করতেন।   ডু ২০১৮ সালে ৮১ বছর বয়সে মারা যান। তার স্ত্রী লু সুয়িং মারা যান ২০২৫ সালে, ৯২ বছর বয়সে। তাদের মৃত্যুর পরও তাদের দানের প্রভাব থেকে যায় শত শত পরিবারের জীবনে। তাদের দেওয়া অর্থে মোট ৪৫৫ শিশুর হৃদরোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে সহায়তা করা হয়।   দম্পতির এই মানবিক কাজ দীর্ঘদিন প্রায় অজানাই ছিল। সম্প্রতি সাংহাইয়ে তাদের স্মরণে আয়োজিত একটি দাতব্য প্রদর্শনীতে তাদের জীবনের এই অধ্যায় সামনে আসে। এরপর চীনের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাদের গল্প।   জীবনে নিজেদের জন্য খুব বেশি কিছু চাননি ডু ও লু। সীমিত খরচে জীবন কাটিয়ে তারা যে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন, তার বড় অংশই শেষ পর্যন্ত চলে গেছে এমন শিশুদের চিকিৎসায়, যাদের অনেকের পরিবার হয়তো সেই খরচ কখনোই বহন করতে পারত না। নিজেদের সন্তান না থাকলেও ৪৫৫ শিশুর জীবনে তারা রেখে গেছেন এক অনন্য মানবিক উত্তরাধিকার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১১:০
বালির পবিত্র উৎসব 'নিয়েপি'র নিয়ম ভেঙে সৈকতে যাওয়ায় এক সুইস পর্যটককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বালিতে এসে ঘুরতে বাইরে বের হওয়ায় পর্যটকের এক বছরের কারাদণ্ড

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানে ‘অনেক সমস্যা’ স্বীকার পেজেশকিয়ানের

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার I ছবি: সংগৃহীত

ভিক্ষাবৃত্তি, অপরাধ ও আইন লঙ্ঘনের দায়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার

ইরানের সামরিক নীতি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক’, মার্কিন সেনা  হ ত্যা-বন্দিতে পুরস্কার
ইরানের সামরিক নীতি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক’, মার্কিন সেনা হ ত্যা-বন্দিতে পুরস্কার

সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ইরান। এতদিন দেশটির সামরিক কৌশল মূলত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থাকলেও, এখন তা বদলে পুরোপুরি ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানি সেনাবাহিনী। শনিবার (২২ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।   ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, ১২ দিন ও ৪০ দিনের সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের এই কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। নতুন এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়া এবং প্রয়োজনে আগাম প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা।   সম্ভাব্য মার্কিন স্থল হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জেনারেল আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাদের হত্যা বা বন্দি করার জন্য বিশেষ পুরস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তেহরান। এই পরিকল্পনার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো সদস্য বা বৈধ অস্ত্রধারী সাধারণ নাগরিক মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দি করতে পারলে তাকে ৫ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ২৬ হাজার ডলার) পুরস্কার দেওয়া হবে।   তবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, কোনো নারী যদি এই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, তবে তার জন্য পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ—অর্থাৎ ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৫৩ হাজার ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি মূল দামের দ্বিগুণ মূল্যে কিনে নিয়ে মালিকের নামে সেটি সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি তাকে নতুন একটি বিকল্প অস্ত্রও দেওয়া হবে।   বিশ্বমঞ্চে এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখন নাটকীয়ভাবে কমেছে বলে দাবি করেছেন এই ইরানি সামরিক কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।   মার্কিন অংশগ্রহণ ছাড়াই ওই অঞ্চলে এমন একটি সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ এটাই প্রথম, যা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার রাজনৈতিক ও কৌশলগত পতনের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে মনে করছে ইরান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৭:৩১
যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ I ছবিঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ

ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ছোট্ট অথচ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ লিচেনস্টাইন

পুরো দেশে একটিই কারাগার, বন্দী মাত্র ১১ জন—সবাই বিদেশি নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার প্রতারণা করে কাতার পালানোর সময় কানাডায় গ্রেপ্তার ভারতীয় তরুণ
যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার প্রতারণা করে কাতার পালানোর সময় কানাডায় গ্রেপ্তার ভারতীয় তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলারের এক বিশাল প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ভারতীয় তরুণ কাতার পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কানাডায় গ্রেফতার হয়েছেন। ২১ বছর বয়সী জয় সুনীলভারতী গোস্বামী নামের গুজরাটের এই বাসিন্দা মার্কিন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।   তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাস করতেন এবং বয়স্ক নাগরিকদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা একটি বিস্তৃত ইন্টারনেট ও টেলিফোনভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জামিন পেয়ে তিনি সীমান্ত পার হয়ে কানাডায় প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে দোহা যাওয়ার টিকিট কাটেন, কিন্তু টরন্টো বিমানবন্দরে তাকে আটকে দেয় কানাডীয় কর্তৃপক্ষ।   মার্কিন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতারক চক্রটি মূলত বয়স্ক নাগরিকদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাক হওয়ার ভয় দেখাতো। এরপর তাদের বোঝানো হতো যে, নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে হলে সেগুলো দ্রুত নগদ অর্থ, স্বর্ণ বা গিফট কার্ডে রূপান্তর করতে হবে।   নিজেদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করত এবং সম্পদগুলো হস্তান্তরে বাধ্য করত। নগদ অর্থ ও স্বর্ণ সংগ্রহ করার জন্য চক্রটি 'মানি মিউল' বা বাহক ব্যবহার করত এবং অভিযোগ রয়েছে যে, জয় গোস্বামী ঠিক এই কাজটিই করতেন। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে কমপক্ষে ৯ জন বয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ও স্বর্ণ সংগ্রহ করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   ৫৯ থেকে ৮৭ বছর বয়সী এই ভুক্তভোগীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার খুইয়েছেন।   মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, তদন্তকারীরা গোস্বামীর ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখেছেন, যেখানে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার অ্যাকাউন্টে ৯০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ জমা পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রতারণা চক্রের হয়ে কাজ করার বিনিময়েই তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছিলেন।   গত ১৭ আগস্ট মার্কিন আদালতে হাজির হওয়ার পর তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন সকালেই তিনি কানাডায় পালিয়ে যান। অবশেষে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে গত ২০ আগস্ট তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে বিচার বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৫:১৯
সমুদ্রসৈকতে বসার জায়গা নিয়ে বিবাদ, সৈকতকর্মীর হা মলায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের তরুণীর

সমুদ্রসৈকতে বসার জায়গা নিয়ে বিবাদ, সৈকতকর্মীর হা মলায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের তরুণীর

ভারতে বিয়ের আসর ছেড়ে অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসা দিলেন চিকিৎসক কনে

ভারতে বিয়ের আসর ছেড়ে অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসা দিলেন চিকিৎসক কনে

কাতারে আটক ইরানি পাইলটদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান তেহরানের

কাতারে আটক ইরানি পাইলটদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান তেহরানের

0 Comments