মধ্যপ্রাচ্য-সংকট

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ছবি: পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেসন্সের ফেসবুক পেজ
‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ ঘিরে তৎপরতা: রাতভর যোগাযোগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ নামে একটি শান্তি প্রস্তাব সামনে আসার পর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এ প্রস্তাব ঘিরে রাতভর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ চালিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সংঘাতের অবসান ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবটির রূপরেখা তৈরি করে পাকিস্তান। পরে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর কাছে পাঠানো হয়।   প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির রাতভর বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে কথা বলেন।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তাবটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে—প্রথমে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, এরপর একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান। তবে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
আলোচনার টেবিলে ইরানই আপাতত এগিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা । ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ নয়, শান্তির পথ: যেভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি টানা যেতে পারে- ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপরেখা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বন্ধে একটি কূটনৈতিক সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেছেন জাভেদ জারিফ। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   জারিফের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কেবল প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বাড়াবে, কিন্তু কোনো পক্ষের জন্য টেকসই সমাধান আনবে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।   তার প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্য চলাচল পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।   দ্বিতীয় ধাপে একটি বিস্তৃত চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা ইস্যুগুলো সমাধানের প্রস্তাব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক তদারকি মেনে নিতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।   এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অনাগ্রাসন চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেছেন জারিফ। তার মতে, এতে কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই উন্নত হবে না, বরং পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।   বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে বড় শক্তিগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।   তবে জারিফ স্বীকার করেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এই প্রক্রিয়ার বড় বাধা। তাই চীন ও রাশিয়া-এর মতো দেশগুলো গ্যারান্টর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, বর্তমান সংঘাত যতই তীব্র হোক একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির সুযোগ তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ওয়াং ই। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি সংকট নিরসনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান চীনের

হরমুজ প্রণালিতে চলমান নৌ-চলাচল সংকট নিরসনে অবিলম্বে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই অঞ্চলে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার জন্য সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং যুদ্ধবিরতিই একমাত্র মৌলিক সমাধান। বেইজিং মনে করে, সংঘাত বন্ধের মাধ্যমেই কেবল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি নিরাপদ রাখা সম্ভব।   চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াং ই বেইজিংয়ের এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিচ্ছিন্ন কোনো সামরিক হামলা বা পাল্টা হামলা পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না। বরং একটি ব্যাপকভিত্তিক কূটনৈতিক সমঝোতাই পারে এই কৌশলগত জলপথের অচলাবস্থা কাটাতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে।   দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা কমিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে। রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই মনে করে, বাইরের কোনো শক্তির একতরফা হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাই একটি টেকসই শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি।   জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় চীন এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফোনালাপে ওয়াং ই এবং লাভরভ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চীন ও রাশিয়ার অভিন্ন অবস্থানের বিষয়টি আবারও জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনকে ব্যঙ্গ করছে ইরানের দূতাবাসগুলো; কূটনৈতিক লড়াইয়ে এবার ‘মিম’ অস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মুখে ইরান এখন কূটনৈতিক মঞ্চে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসগুলো তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে ট্রাম্প প্রশাসনকে লক্ষ্য করে একের পর এক উপহাসমূলক পোস্ট ও মিম শেয়ার করছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আল জাজিরাসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই বিচিত্র কূটনৈতিক লড়াইয়ের তথ্য উঠে এসেছে।   সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের একটি এআই-নির্মিত ভিডিও নিয়ে। লেগো ভিডিও গেমের আদলে তৈরি ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে একজন ইরানি যোদ্ধার হাতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি পোস্টে মার্কিন ‘এয়ার ফোর্স’কে ব্যঙ্গ করে ‘চেয়ারফোর্স’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ইরানি দূতাবাসও পিছিয়ে নেই; তারা ট্রাম্পের পুরোনো তেলের পোস্ট শেয়ার করে পাল্টা খোঁচা দিয়ে লিখেছে, ‘তেল উপসাগরেই আছে।’   মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে ‘পাথর যুগে ফেরত পাঠানোর’ হুমকি দেওয়ার পর থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের ইরানি দূতাবাস একটি ঐতিহাসিক শিলাচিত্রের ছবি পোস্ট করেছে। সেখানে পারস্য সম্রাট প্রথম শাপুর কর্তৃক রোমান সম্রাটকে বন্দি করার দৃশ্য দেখিয়ে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইতিহাসে তারা আগেও শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে। এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি লেগো-স্টাইল অ্যানিমেশনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জেফ্রি এপস্টাইন বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই ডিজিটাল রণকৌশল মূলত হোয়াইট হাউসের নিজস্ব প্রচারণারই পাল্টা জবাব। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের বিভিন্ন সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে মিম, পপ কালচার রেফারেন্স এবং ভিডিও গেমের ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে ইরানে সামরিক অভিযানের ছবি পোস্ট করেছে। বর্তমানে রণক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনলাইন বয়ান নিয়ন্ত্রণ এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির এই লড়াই এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন বাহিনীর গোপন গতিবিধি ইরানের কাছে ‘বিক্রি’ করছে চীনা কোম্পানি!

ইরান যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহ পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও রণতরী চলাচলের অতি গোপনীয় তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চীনের বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ওপেন-সোর্স ডেটা ব্যবহার করে তৈরি করা এসব গোয়েন্দা তথ্য বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনের দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি খাতের এসব কোম্পানি মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ‘উন্মোচন’ করে তা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মিজারভিশন’ এবং ‘জিং’আন টেকনোলজি’র মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে যে, তাদের এআই প্রযুক্তি মার্কিন বাহিনীর অত্যন্ত গোপনীয় মুভমেন্টও শনাক্ত করতে সক্ষম। এসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, বি-২এ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান এবং সৌদি আরব ও কাতারের ঘাঁটিতে থাকা যুদ্ধবিমানের অবস্থান সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেছে। এমনকি মার্কিন রণতরীর জ্বালানি সরবরাহের ধরন বিশ্লেষণ করে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের পূর্বাভাস দেওয়ার দাবিও করেছে তারা।   বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনী ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ (PLA)-এর সঙ্গে যুক্ত। যদিও বেইজিং সরাসরি যুদ্ধে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, তবে গত কয়েক বছরে সরকারের ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রায়ান ফেডাসিউক জানান, এই প্রবণতা সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ক্ষমতা জোরদার করবে।   মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশ এই দাবিগুলো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সিআইএ-এর সাবেক কর্মকর্তা ডেনিস ওয়াইল্ডার মনে করেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখাচ্ছে। তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, চীনের বাণিজ্যিক প্রযুক্তি এখন সামরিক নজরদারির অস্ত্রে রূপান্তর হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে এই প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা সহায়তা যুদ্ধের ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, প্রতিপক্ষরা ইরানকে কিছু গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। চীনের এই ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে, যেখানে সরকার সরাসরি জড়িত না থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনে দায় এড়াতে পারে।   সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট     আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি সচলে ইরান-ওমান কূটনৈতিক বৈঠক পেন্টাগনের গোপন এআই প্রজেক্ট: যুদ্ধের রূপ বদলে দিচ্ছে ‘ম্যাভেন’

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে চীন-রাশিয়া-ফ্রান্সের ভেটো; ইরান আক্রমণের ছক ভেস্তে গেল!

হরমুজ প্রণালী শক্তি প্রয়োগে উন্মুক্ত করার বিষয়ে আরব দেশগুলোর আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনটি স্থায়ী সদস্যের ভেটোতে আটকে গেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে প্রস্তাবটির বিপক্ষে চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা পাস হতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বড় ধরনের কূটনৈতিক বাধার মুখে পড়ল।   আরব দেশসমূহ এবং বাহরাইনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে এই প্রধান নৌপথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। তবে চীন ও রাশিয়া শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের মতে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।   ভেটো দেওয়া দেশগুলোর দাবি, সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকট সমাধান করা উচিত; অন্যথায় এর পরিণাম হবে অপূরণীয়। নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যে কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে অন্য সব সদস্যের সমর্থন থাকলেও প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ তাদের মতে এই পথটি বন্ধ থাকা মানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসা।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও রাশিয়ার এই শক্ত অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা এখন আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তিন দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি; লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল, কাঁপছে তেল আবিব!

ইরান, ইয়েমেন এবং লেবানন—এই তিন দিক থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাজধানী তেল আবিব, জেরুজালেম এবং মৃত সাগর (ডেড সি) সংলগ্ন অঞ্চলে তিন দফায় এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ তিকভা শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যাতে ওই এলাকার আবাসন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি জানিয়েছে, তারা ইরানের সাথে সমন্বয় করে তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতি ও সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ৫৫টি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন সেনাসদস্য রয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   হামলার সময় তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ প্রধান শহরগুলোতে বিপৎসংকেত বা সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিক থেকে চালানো এই অভূতপূর্ব সমন্বিত আক্রমণ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম) ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। ছবি: সংগৃহীত
‘ঠিকানা হবে নরকের অতল গহ্বরে’, হিজবুল্লাহ প্রধানকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুহুমকি!

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হিজবুল্লাহর বর্তমান মহাসচিব নাঈম কাসেমকে উদ্দেশ্য করে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে কাটজ বলেন, ইসরায়েলি ভূখণ্ডে রকেট হামলার জন্য নাঈম কাসেমকে ‘খুব চড়া মূল্য’ দিতে হবে এবং তার চূড়ান্ত ঠিকানা হবে ‘নরকের অতল গহ্বরে’। মূলত ইহুদিদের পবিত্র ‘পাসওভার’ উৎসবের প্রাক্কালে ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক রকেট হামলার প্রেক্ষিতে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেন তিনি।   হিজবুল্লাহ প্রধানকে সরাসরি সম্বোধন করে ইসরায়েল কাটজ বলেন, “সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেমের জন্য আমার একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—ইসরায়েলিরা যখন পাসওভারের সেডার (ভোজ) পালনে ব্যস্ত, তখন তাদের লক্ষ্য করে তীব্র হামলার জন্য তোমাকে এবং তোমার সহযোগীদের চরম মূল্য দিতে হবে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, নাঈম কাসেমের আয়ু ফুরিয়ে আসছে এবং তাকেও তার পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করতে হবে।   কাটজ তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন, “তুমি এই মূল্য দেখার জন্য বেশিদিন বেঁচে থাকবে না। কারণ নাসরাল্লাহ, খামেনি, সিনওয়ার এবং ইতিমধ্যে নির্মূল হওয়া অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তুমিও নরকের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হবে।” ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার হুমকির তালিকায় এখন নাঈম কাসেমের নাম স্পষ্টভাবে উঠে এলো।   সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগ’ ঘোষণার পর ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর আঘাতের মাধ্যমে ‘প্রস্তর যুগে পাঠানোর’ হুমকি দেওয়ার পর দেশটিতে হামলা ব্যাপক জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের শতাব্দী প্রাচীন একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র, একটি কৌশলগত সেতু এবং দুটি বৃহত্তম ইস্পাত কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া ইস্পাহান নগরীর ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।   ইরানের আলবোরজ প্রদেশের কারাজ শহরেও ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, কারাজের একটি সেতুতে বিমান হামলায় অন্তত ২ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তেহরানের বাসিন্দারা তাদের মাথার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার বিকট শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও আলবোরজ ও কারাজ এলাকায় দফায় দফায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মূলত ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর থেকেই ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা একটি বড় পরিসরের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বজুড়ে নাটকীয় প্রভাব ফেলবে।” গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলে তেল ও খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হবে, যার ফলে বিশ্বের দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষ চরম সংকটে পড়বে।   জাতিসংঘ মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। পরিস্থিতি এরই মধ্যে মানবিক বিপর্যয় এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির দিকে মোড় নিয়েছে। বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা এড়াতে যুদ্ধ বন্ধ করার এখনই উপযুক্ত সময়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ত্রিমুখী হামলা: ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত

লেবাননে জল, স্থল ও আকাশপথে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ত্রিমুখী হামলায় অন্তত ৪০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, তাদের বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাইটগুলোতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে স্থলবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কিছু গোপন আস্তানা শনাক্ত করে তা উচ্ছেদ করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি নৌবাহিনী হিজবুল্লাহর একটি বড় অস্ত্রের গুদামে সফল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক দিনে ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়।   এদিকে, ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে হিজবুল্লাহও। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে লেবাননের মালিকিয়াহ ও ইয়েরুন এলাকায় ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। এছাড়া লেবাননের মেনাহেম এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করেছে সংগঠনটি। তবে হিজবুল্লাহর এই ড্রোন ও রকেট হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
ইন্টারনেটে ভাইরাল ভিডিওর প্রভাবেই কি মার্কিন যুদ্ধবিমানে আঘাত হানল ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে প্রযুক্তির এক অভাবনীয় লড়াই শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান কীভাবে ধ্বংস করা সম্ভব, তার একটি বিস্তারিত কারিগরি কৌশল বা ‘গাইডলাইন’ অনলাইনে ফাঁস করেছেন চীনা প্রকৌশলীরা। গত ১৪ মার্চ চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "লাওহু টকস ওয়ার্ল্ড" নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে ফার্সী সাবটাইটেল যুক্ত ছিল, যাতে ইরানি বাহিনী সহজেই এই বিশেষ যুদ্ধকৌশলটি রপ্ত করতে পারে। মূলত কম খরচের দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে কোটি ডলারের মার্কিন স্টেলথ বিমানকে লক্ষ্যবস্তু বানানো যায়, তা-ই ছিল এই ভিডিওর মূল বিষয়।   আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই ভিডিওটি কয়েক কোটি বার দেখার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ১৯ মার্চ ইরান দাবি করে যে তারা একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। পরবর্তীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও (CENTCOM) স্বীকার করে যে, তাদের একটি এফ-৩৫ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে চীনা নাগরিকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও কারিগরি সহায়তা তেহরানের সামরিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। চীনের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল (STEM) পটভূমির দক্ষ ব্যক্তিরা এখন কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত তথ্য শেয়ার করছেন। রাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও সাধারণ নাগরিকদের এই ‘অনলাইন পরামর্শ’ বর্তমান বৈশ্বিক সামরিক লড়াইয়ে এক নতুন এবং শক্তিশালী মাত্রা যোগ করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
'ইরানের শক্তি শেষ' - ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরেই ইসরায়েলে বড় হামলা

  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি শেষ হয়ে গেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাম্ভিক ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইসরায়েলে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের সাইরেন বাজছে।   ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে বসে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, ঠিক তখনই তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাইফা বন্দরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।   এর আগে টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ড্রোন ছোঁড়ার ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আমেরিকানদের আশ্বস্ত করেন।   ট্রাম্প আরও বলেছিলেন যে এই যুদ্ধ আর মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তার মতে, ইরানের সামরিক শক্তি এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে এবং সংঘাত চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে।   তবে যুদ্ধের ময়দানের বাস্তব চিত্র ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক উল্টো। হাইফা ও উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র রোখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আকাশ অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।   ইরান এর প্রতিশোধ নিতে কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ও জ্বালানি বাজার বিপর্যস্ত।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ট্রাম্পের অনুমান ভুল প্রমাণিত করে ইরান তাদের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন এক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে আজ।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
যুদ্ধ চলবে - এমন ঘোষণায় তেলের দাম বাড়লো আরো ১০ শতাংশ

  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভাষণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং তেলের দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে গেছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে।   একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়ে ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজারে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল সবচাইতে বড় একদিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।   জাতি উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প বলেন যে আমেরিকা খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করতে যাচ্ছে এবং তারা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো পরিষ্কার ঘোষণা না আসায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।   ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধের ইতি ঘটবে। কিন্তু তিনি কীভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করবেন তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চরম আশাহত হয়েছেন।   বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ভাষণে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো উল্লেখ না থাকায় তেলের দাম যেকোনো সময় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। নৌপথে ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী।   বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল হয়ে উঠেছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।   এদিকে বুধবার কাতারের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। কাতারের জ্বালানি সংস্থা লিজ নেওয়া ওই জাহাজে হামলার পর পারস্য উপসাগরে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে।   কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে যা বিশ্ববাজারে তেলের আগুনের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এমন সরাসরি আঘাত আগে কখনও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলেনি।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ সতর্ক করেছে যে এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করবে। মহাদেশটি এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে পুরনো চুক্তির কারণে ইউরোপ কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও এখন সেই মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আমেরিকার অভ্যন্তরেও তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্পকে চরম রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে।   অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে কোনো শক্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়া তেলের দাম কমার সম্ভাবনা বর্তমানে খুবই কম। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ভয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।   দিনশেষে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। ট্রাম্পের অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে এখন কেবল ট্রাম্পের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো পৃথিবী। যদি দ্রুত কোনো কার্যকর শান্তি চুক্তি না হয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আরও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।   এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন প্রতিটি দেশের সরকারের জন্য সবচাইতে বড় এবং কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে জমে থাকা যুদ্ধের মেঘ কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং অর্থনৈতিক ধস নামাতেও সক্ষম। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক গতিবিধিই নির্ধারণ করবে বিশ্বের পরবর্তী অর্থনৈতিক গন্তব্য ও স্থিতিশীলতা।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ইরান যুদ্ধ থামাতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: আসছে বড় ঘোষণা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবার এই দুই শীর্ষ নেতা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেহরানের সঙ্গে চলমান গোপন আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন।   হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফোনালাপের বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য না করলেও বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে যে, ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো সম্পর্কে বিশদভাবে অবহিত করেছেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি বিশেষ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বেশ কিছু কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই নতুন মার্কিন শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে রাখা হয়েছে।   ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো ধরনের বৈঠকের খবর পুরোপুরি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই বার্তা আদান-প্রদান করছে এবং ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত অবাস্তব ও একপাক্ষিক।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক চরম অস্থিতিশীল ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন আমেরিকান সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন, যা হোয়াইট হাউসের ওপর অভ্যন্তরীণভাবে প্রবল রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়াচ্ছে।   যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।   ইরানও এই আগ্রাসনের জবাবে চুপ করে বসে নেই, তারা ইসরায়েলসহ জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।   সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা, যা সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে।   রিয়াদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন ছাড়া এই অঞ্চলে যেকোনো স্থায়ী সমাধান প্রায় অসম্ভব হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সংঘাত কমানোর কৌশলগত চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   যদিও তেহরান এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং আরব দেশগুলোর সম্মিলিত চাপ ইরানকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্ববাসী এখন অধীর আগ্রহে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের এই যৌথ প্রচেষ্টার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যাতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে এবং সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে আবার স্বস্তি ফিরে আসে।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যে যুদ্ধের ঘন কালো মেঘ জমেছে, তা সরাতে এখন সর্বোচ্চ স্তরে কূটনৈতিক লড়াই চলছে যা শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের আগামীর ভাগ্য ও স্থিতিশীল শান্তি নির্ধারণ করবে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা চূর্ণ করে তেল আবিবে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ইতিহাসে এবার ইসরায়েলে সবচাইতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।   বুধবার চালানো এই হামলায় কেঁপে উঠেছে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।   হামলার সময় সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে কয়েক লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।   উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, বেশ কিছু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।   একটি ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করছিল যা জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   তেল আবিব ছাড়াও শেফেলা এবং জেরুজালেম এলাকায় সতর্ক সংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানে ভয়াবহ পাল্টা হামলা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।   তেহরানের কয়েক ডজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়েছে যা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।   এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।   এর পর থেকেই ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে।   মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। জর্ডান ও ইরাকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।   বড় শক্তিগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে প্রতিদিন আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে।   বিশ্ববাসী এখন চরম উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছে যে এই সংঘাতের শেষ কোথায়।   আপাতত কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না যা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
অন্তত ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ইরান: আব্বাস আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান প্রয়োজনে অন্তত আগামী ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ ও পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে সক্ষম। বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) তেহরানে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। আরাগচি স্পষ্টভাবে জানান, শত্রুপক্ষ কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলেও ইরান তা গ্রাহ্য করবে না। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম কতদিন চলবে তা আমরাই নির্ধারণ করব। ইরান অন্তত ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আমাদের বাহিনীর সেই সক্ষমতা রয়েছে।” ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনার যে দাবি করা হচ্ছে, তাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিভাষায় দুই দেশের মুখোমুখি বসে সমঝোতায় পৌঁছানোকে ‘আলোচনা’ বলে।  বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তেমন কোনো পরিস্থিতি নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বন্ধুরাষ্ট্র বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বার্তার আদান-প্রদান চলছে, যা কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রশাসনের ওপর ইরানের আস্থার হার বর্তমানে ‘শূন্য’। আরাগচি জানান, ইরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায়। তার মতে, যুদ্ধের অবসানে ইরানের শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট: ১. ইরানসহ পুরো অঞ্চলে (লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন) যুদ্ধের অবসান। ২. আগ্রাসন আর ঘটবে না—এমন গ্যারান্টি প্রদান। ৩. ইরানি জনগণের ওপর হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ। হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ইরান ও ওমানের অভ্যন্তরীণ জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এটি উন্মুক্ত থাকলেও যেসব দেশ ইরানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, তাদের জাহাজের জন্য এই পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর নিরাপদ যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে ইরান ওইসব দেশের ভেতরে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারণাকে নাকচ করে আরাগচি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও হামলা চালানোর ক্ষমতা অটুট রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, মাত্র দুই দিন আগেই ইরানের একটি স্বল্পমূল্যের ড্রোনের আঘাতে মার্কিন 'অ্যাওয়াকস' (AWACS) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে। সবশেষে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে হুমকি বা আল্টিমেটাম দিয়ে কোনো লাভ হবে না। ইরান যুদ্ধের জন্য উস্কানি দেয়নি, কিন্তু আত্মরক্ষার প্রয়োজনে যেকোনো সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুদ্ধ কি শেষ হচ্ছে? জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের ভাষণে নতুন যে বার্তা আসছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত কি তবে এসেই গেল? ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণকে ঘিরে যখন যুদ্ধের অবসানের গুঞ্জন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাওয়া গেল এক ভিন্ন ইঙ্গিত।  মঙ্গলবার রাত থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, ট্রাম্প সম্ভবত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান বলছে অন্য কথা। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এখনই যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছেন না। বরং যুদ্ধের সময়সীমা আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের এই ভাষণের মূল সুর হতে পারে 'সাময়িক কষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী প্রাপ্তি'। তিনি আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করবেন, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের সাথে সহমর্মিতা জানাবেন। তবে তার যুক্তির কেন্দ্রে থাকছে একটিই লক্ষ্য—একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে রুখে দেওয়া। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানের এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।  সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বেশ কম এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার রেটিংও নিম্নমুখী। এমতাবস্থায়, আমেরিকান জনগণের সমর্থন পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা হিসেবেই তিনি এই ভাষণকে ব্যবহার করতে চাইছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
মিশর থেকে ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের সংকেত

  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় মিশর থেকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে জরুরিভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিশরে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন প্রশাসন।   বর্তমানে মিশরে অবস্থানরত প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের দেশটি থেকে উদ্ধার করা হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মিশরসহ ১৩টি আরব দেশকে তাদের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই তালিকায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানও রয়েছে।   এর আগে গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের রেশ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো বিশেষ বার্তায় মার্কিনিদের বলা হয়েছে, তারা যেন সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চার্টার ফ্লাইটের সুযোগ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই এলাকা ত্যাগ করেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিশাল সংখ্যক মানুষের গণ-স্থানান্তর প্রক্রিয়া সাধারণত বড় কোনো ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পূর্বলক্ষণ হিসেবে কাজ করে। ফলে পুরো অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।   ইরাক ও জর্ডানের আকাশসীমায় বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই বিশেষ বিমানগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তা ও ভিন্ন রুট ব্যবহার করে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   মিশরের মতো স্থিতিশীল ও পর্যটন নির্ভর দেশে এমন জরুরি প্রস্থান স্থানীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ইরান ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য হামলা রুখতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।   মিশরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে এখন মার্কিন নাগরিকদের দীর্ঘ লাইন এবং ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ বিমানগুলো দিনরাত এক করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।   অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও এখন মিশরে অবস্থানরত তাদের বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অঘোষিত যুদ্ধের আতঙ্কে থমথমে হয়ে আছে।   বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই মার্কিন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের কোনো ধরনের জীবনের ঝুঁকির মুখে রাখতে চাচ্ছে না।   দিনশেষে এই বিশাল প্রস্থান প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে কূটনীতি এখন কার্যকর হচ্ছে না। অস্ত্রের ঝনঝনানি ও যুদ্ধের দামামা এখন সবচাইতে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে মিশরে অবস্থানরত অনেক পরিবার তাদের ব্যবসা ও বসতবাড়ি ছেড়ে দ্রুততম সময়ে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ইরানে আমেরিকার স্থল অভিযানে অংশ নেবে না ইসরায়েল: ওয়াশিংটনে তীব্র ক্ষোভ

ইরানে সম্ভাব্য যেকোনো মার্কিন স্থল অভিযানে অংশ না নেওয়ার সাফ ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইসরায়েলি সৈন্যরা তাতে যোগ দেবে না। অর্থাৎ, এই ধরনের ভয়াবহ অভিযানের সব ঝুঁকি ও দায়ভার কেবল আমেরিকার ওপরই ছেড়ে দিতে চায় তেল আবিব।   এদিকে পেন্টাগন ইরানে সীমিত আকারে বিশেষ অভিযান চালানোর বিভিন্ন কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করছে বলে জানা গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই ধরনের কোনো স্থল অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি বলে হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে।   আমেরিকার এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন সৈন্যরা যদি তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তবে তাদের শোচনীয় পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হবে।   সামরিক বিশ্লেষকরা ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো একটি ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দশ দিন নির্ধারণ করবে এই বিমান হামলা শেষ পর্যন্ত স্থল যুদ্ধে রূপ নেবে কি না।   ইসরায়েলের এই অস্বীকৃতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধবিরোধী কর্মীরা বলছেন যে, যে যুদ্ধের নেপথ্যে ইসরায়েলের বড় ভূমিকা ছিল, এখন তার সব ঝুঁকি আমেরিকান সৈন্যদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন কেবল আমেরিকানদের জীবন বাজি রাখা হবে? এই নিয়ে দেশটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে, যা নির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ যদি আমেরিকার জন্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তবে তা বিশ্বমঞ্চে দেশটির আধিপত্যের পতনকে ত্বরান্বিত করবে। সেক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কেবল একটি দায়ভার হিসেবেই দেখা হতে পারে যা ওয়াশিংটনকে বিপদে ঠেলে দিয়েছে।   বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং যেকোনো ছোট ভুল বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশ্ববাসী এখন গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, আমেরিকা একা এই যুদ্ধের ভার কতদিন বয়ে নিতে সক্ষম হবে।   সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এই পিছু হটা আমেরিকার সামরিক মহলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প এই একতরফা যুদ্ধের পথে হাঁটেন নাকি কোনো বিকল্প কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করেন।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান ও চীনের পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান ও চীনের পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান এবং চীন যৌথভাবে একটি পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেছে।   বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়। উভয় পক্ষই এই অঞ্চলে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।   এই শান্তি প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার লড়াই থামিয়ে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে এটি একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   পাঁচ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু করা এবং সাধারণ নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।   পাকিস্তান ও চীন দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছে যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে।   বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম রাখার কঠোর আহ্বান জানিয়েছে দুই দেশ। তারা মনে করে, বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচাইতে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।   জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি অনুসরণ করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং ও ইসলামাবাদ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।   ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলায় ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাণহানি ঘটার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও আমেরিকান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।   পাল্টাপাল্টি এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি বলে মনে করছে পাকিস্তান ও চীন।   আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই পাঁচ দফা প্রস্তাব বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংঘাতরত পক্ষগুলো এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে কি না।   কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই মধ্যস্থতা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তবে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ ও তেলের দামে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।   যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্গঠনেও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয় বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বেইজিংয়ের এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কীভাবে গ্রহণ করে তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে। শান্তি প্রস্তাবের এই খসড়াটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।   এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই প্রস্তাবটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে যা এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের ইতি টানবে।   সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আরব দেশগুলো। যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এই পাঁচ দফা প্রস্তাবের বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল: ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে মিলছে না আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবি ও বাস্তব চিত্রের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হলেও, পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে।   হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে এই প্রণালি দিয়ে আগের তুলনায় বেশি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। একই সুরে কথা বলেন পিট হেগসেথ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগের ফলে জাহাজ চলাচল বেড়েছে।   এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান এই পথ দিয়ে অতিরিক্ত ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম MarineTraffic-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। আজ মাত্র তিনটি জাহাজ ট্র্যাকার চালু রেখে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে দুটি ছিল সাধারণ মালবাহী জাহাজ এবং অন্যটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকার ‘লুইজা’। আরও কয়েকটি জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।   এ ছাড়া বিশ্লেষণ সংস্থা Kpler জানিয়েছে, গত কয়েক দিনেও জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সীমিত। সোমবার চারটি, রোববার ছয়টি এবং গত এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৩টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘সিগন্যাল জ্যামিং’ বা সংকেত বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। অনেক জাহাজ নিরাপত্তার কারণে তাদের ট্র্যাকার বন্ধ রাখছে, ফলে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও এটিকে ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। তবে কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0