সিরিয়া ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলা ও আগ্রাসন তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তীব্র হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে ইসরায়েলি এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড পুরো বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্যও এক বিরাট বিপদ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকাশ করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক সামরিক আক্রমণকে তুরস্ক এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য সমান ক্ষতিকর বলে স্পষ্ট অভিহিত করেছেন রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ‘‘ইসরায়েলের এই আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি এবং বিশ্ব শান্তির স্বার্থে এটি অবশ্যই দ্রুত বন্ধ করতে হবে।’’ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী সদস্য দেশ তুরস্ক মূলত ইরান, গাজা উপত্যকা এবং লেবাননে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার সবচেয়ে তীব্র সমালোচনাকারীদের মধ্যে অন্যতম। আঙ্কারার পক্ষ থেকে বেশ জোরালোভাবেই বারবার বলা হচ্ছে যে, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরায়েল রাষ্ট্রটিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক আদালতে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের এই কড়া মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তুরস্কের নেতা হলেন পৃথিবীর শেষ ব্যক্তি যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রকে নৈতিকতা বা শান্তির শিক্ষা দিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরান ও তার মিত্র প্রক্সিদের বিরুদ্ধে এই জোরালো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে; কারণ তারাই মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও সমগ্র বিশ্বের জন্য আসল হুমকি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও লেবাননকে ঘিরে সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষায় ইরান এখন শুধু প্রক্সি গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথে এগোচ্ছে, যা যুদ্ধবির্তার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান বারবার সতর্ক করে আসছিল যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই সতর্কতার মধ্যেই রোববার রাতে ইরান দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরায়েলে হামলা চালায়। ঘটনার সূত্রপাত হয় বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে ইসরায়েলি হামলার পর। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা না চালালে বৈরুতে আক্রমণ হবে না। তবে সেই অবস্থান ভেঙে গেলে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এটি ছিল একটি সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলা হলে জবাব আরও বিস্তৃত হবে এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুও এর আওতায় আসতে পারে। এর জবাবে সোমবার ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ইরানও দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। দ্বিতীয় দফা হামলার পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, আপাতত ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে অভিযান শেষ করা হয়েছে। তবে লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সহ্য করলেও বৈরুতকে একটি ‘লাল রেখা’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, বৈরুতে হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল সেই সীমা অতিক্রম করেছে এবং ইরানের সরাসরি প্রতিক্রিয়া তারই ফল। বর্তমান সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো, ইরান তার দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। আগে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং ইরাক-সিরিয়ার মিত্র সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করত তেহরান। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনার পরিবর্তে ইরান সরাসরি রাষ্ট্রীয় সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, হিজবুল্লাহকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে ইরানের পুরো আঞ্চলিক জোটব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সে কারণেই তেহরান লেবানন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত মার্চে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর লেবানন আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ দাবি করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার অভিযোগ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তারা হামলা চালিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে দেশটিতে ৩ হাজার ৬১৩ জন নিহত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে আলোচনার পর নতুন একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি একে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করে বলেন, লেবাননে বোমা হামলা চলতে থাকলে উত্তর ইসরায়েলে তাদের হামলাও অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাবে, অন্যদিকে ইরান, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করবে। ফলে সংঘাত পুরোপুরি থামার বদলে একটি অস্থির ভারসাম্যের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠন কাজে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য একটি বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রটির বরাতে জানা যায়, ইরানের হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অবকাঠামোগত ক্ষতি পুনর্গঠনের জন্য ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি হলে একই নীতি প্রয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসিন রেজাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়। চলমান উত্তেজনার মধ্যে সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে সমুদ্রপথে হুমকি হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ৬ জুন তেহরান সফর করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। আলোচনায় ইরান তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ ফেরতের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রমে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি হিসেবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় দুই সেনা কর্মকর্তা ও এক সৈনিক নিহত হয়েছেন। লেবানন সেনাবাহিনী এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যদিও ইসরায়েল বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা বলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জব্দ ইরানি সম্পদ পুনর্বণ্টনের মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে এবং চলমান শান্তি আলোচনা নতুন সংকটে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৪৭ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজ একই পথে চলাচল করছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, রাত তিনটার দিকে জাহাজটি পুরো প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ইরান সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ অতিক্রমের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে তেল সংগ্রহ (ব্যাংকারিং) করা হবে। এরপর জাহাজটির গন্তব্য নির্ধারিত রয়েছে আফ্রিকার মোজাম্বিক অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং করে তা দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ওয়ার অ্যালাউন্স। উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট সংঘাতের কারণে জাহাজটির যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ফেরত আনা হলেও অবশেষে যুদ্ধবিরতির সুযোগে আবারও গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
প্রায় আট সপ্তাহের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর, আগামী ১৬ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উভয় পক্ষের আলোচক দল পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রথম দফার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দেন। সেখানে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিপূর্বে নিজেকে জয়ী দাবি করেছিলেন, তবুও রণাঙ্গনের চেয়ে কূটনীতিকেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছে সব পক্ষ। তবে ইসরায়েলের অতীত ইতিহাস এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনালাপে বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। সৌদি আরব এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসানে এই সংলাপ-প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাসী এখন ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই আলোচনা সফল হলে কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে। সংঘাতের পুনরায় বিস্তৃতি রোধে ইসরায়েলের সদিচ্ছাই এখন বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদলাল্লাহ বলেন, ইসরায়েল যদি সব ধরনের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রশ্নই ওঠে না। তার ভাষায়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হতে পারে এমন একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বৈরুতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হিজবুল্লাহকে অবহিত করেছেন। এতে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি ঘিরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ প্রায় সব শর্তেই সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। তিনি আরও জানান, চুক্তিটি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত হলে সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তার। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই চুক্তি সম্পন্ন হলে মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই সপ্তাহান্তেই দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকরভাবে বজায় রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার মতে, এই অবরোধ ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর হুমকি পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাঈ এ হুমকি দেন। বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশের ভূমিকা’ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাজ নয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ধ্বংস করতে সক্ষম। রেজাঈ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সাহস পায় না। তার ভাষায়, ইরান তাদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি ছাড়বে না এবং আলোচনার শর্ত নির্ধারণ করবে তেহরানই। এদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরান ‘হাজার হাজার জিম্মি’ ধরে বিপুল অর্থ আদায় করতে পারবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও আগের দফার দীর্ঘ আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে হোয়াইট হাউস চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। দেশটি বলেছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে সংলাপের বিকল্প নেই এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে।' আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সদস্য ও ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দেশটি শুরু থেকেই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি ধরে রেখে তা স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংলাপকে আরও এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সপ্তাহের শেষে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতার সফর শেষে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পথ সুগম করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সংলাপ আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনায় অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত তিনটি ইস্যুতে সমঝোতার চেষ্টা চলছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্ন। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ও তার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা। জানা গেছে, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো, সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা অথবা প্রাকৃতিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার সময়সীমা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে—ইরান ৫ বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর পর্যন্ত সময়সীমা চায়। তবে মাঝামাঝি কোনো সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও এরপর থেকে ‘শাটল কূটনীতি’ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। একদিকে তেহরানের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ, অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তির পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা কমেছে, লেবাননে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষেরই সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কিছুটা নমনীয় হলে একটি চুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপান। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরিশোধিত তেল আমদানি সহায়তায় ১০ বিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলো পারস্পরিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে একটি অঞ্চলের সংকট অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলছে। জাপান সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহে সহায়তা করা, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় মজুত গড়ে তুলতে সহায়তা করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও অবরোধের কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অর্থায়ন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যদের প্রায় এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির সমপরিমাণ ব্যয় মেটাতে সক্ষম। এ তহবিল বিভিন্ন উৎস থেকে আসবে, যার মধ্যে রয়েছে জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা। বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতারা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে জাপান সরকার আশ্বস্ত করেছে, এই সহায়তা কর্মসূচির ফলে তাদের নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। দেশটির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ার জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে জাপানের এই সহায়তা উদ্যোগ আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন বাস্তবসম্মত একমাত্র পথ হয়ে উঠছে একটি সমঝোতা চুক্তি। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র মূলত দর-কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল নিয়েছে। একই সময়ে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের মাধ্যমে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান-এর জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। টানা বোমাবর্ষণ, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক চাপ দেশটিকে দ্রুত একটি সমঝোতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও বাহ্যিকভাবে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করা হচ্ছে, বাস্তবে দেশটির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্যও একটি সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মূল বিরোধ বড় কোনো নীতিগত প্রশ্নে নয়, বরং সময়সীমা ও শর্ত নিয়ে। ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দীর্ঘমেয়াদি—প্রায় ২০ বছরের—নিয়ন্ত্রণ। এই বিরোধের মধ্যেও উভয় পক্ষ অন্তত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখার বিষয়ে একমত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মার্কিন অবরোধ ইরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইসরাইল এবং লেবানন সীমান্তে সক্রিয় হিজবুল্লাহ। ইরান চায় তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ কমানো হোক, অন্যদিকে ইসরাইল নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনায় এসব ইস্যু আলাদা করে বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে মূল চুক্তির পথে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত না হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির মূল চ্যালেঞ্জ হলো—দুই পক্ষই যেন নিজেদের জনগণের কাছে এটিকে ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চাইবে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার সাফল্য দেখাতে ইরান চাইবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট আছে—এ বার্তা দিতে সব মিলিয়ে, বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পথই এখন বেশি সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই সম্ভাব্য চুক্তি কি ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়েও কার্যকর হবে, নাকি নতুন করে আরও জটিল বাস্তবতার জন্ম দেবে।
সাম্প্রতিক ব্যাপক বিমান হামলার ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে লেবানন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। লেবাননের অভিযোগ, গত ৮ এপ্রিল দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এসব হামলার মধ্যে রাজধানী বৈরুত-এর ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাও ছিল লক্ষ্যবস্তু। ব্যস্ত সময়ের মধ্যে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। সরকারি তথ্যমতে, হামলায় এখন পর্যন্ত ৩০৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০ জন শিশু ও ৭১ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া অন্তত ১ হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন। লেবানন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যা চলমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় তিনজন ব্যক্তি, ১৭টি প্রতিষ্ঠান এবং ৯টি জাহাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রাশিয়া ও ইরানের তেল কেনার যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা আর নবায়ন করা হবে না। ফলে ইরান-সংশ্লিষ্ট তেল বাণিজ্যে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ইরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির বৈদেশিক আয় ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—এটি কি কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি ভবিষ্যৎ সংঘাতের পূর্বাভাস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাড়তি ঋণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ। অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির কিস্তি ছাড়ের বাইরে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে জুন মাসে দুটি কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, সরকার অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা চেয়েছে। বিশ্বব্যাংক থেকেও প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেনে চাপ এবং রিজার্ভের ওপর প্রভাব পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে খেলাধুলা, সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যভিত্তিক পেশাকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংক এ খাতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির মিল থাকায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। দেশটির প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি, তবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউস আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়, কিন্তু আমরা ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছি। প্রেস সচিব আরও জানান, সম্ভাব্য এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে গত সপ্তাহেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের ধারণা, পূর্ববর্তী বৈঠকের ধারাবাহিকতায় একই স্থানেই আবারও আলোচনা হতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই সংলাপ প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও কূটনৈতিক এই অগ্রগতি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটি বলছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়াসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানব উন্নয়ন বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। বুধবার প্রকাশিত ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানব উন্নয়নের প্রভাব’ শীর্ষক এক প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে ৩৬টি দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সম্ভাব্য ধাক্কা—এই তিনটি প্রধান কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউএনডিপি জানায়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। সংস্থাটি এটিকে শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং গত কয়েক দশকের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ধরে রাখার একটি বড় পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে রেমিট্যান্স খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সরাসরি রেমিট্যান্স কমিয়ে দিতে পারে, যা প্রভাব ফেলবে লাখো অভিবাসী পরিবারের জীবিকায় এবং খাদ্য নিরাপত্তায়। এ ছাড়া আকাশসীমায় উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে। দেশের কার্গো পণ্যের বড় একটি অংশ সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের হাব হয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে—এই প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন শ্রমবাজারে অভিবাসন কমে যেতে পারে এবং বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সংকট দীর্ঘ হলে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক মানব উন্নয়ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু নীতিগত পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছে ইউএনডিপি। জ্বালানি সাশ্রয়ে স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং কর্মঘণ্টা কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত নীতি গ্রহণ না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত সাফল্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর রাচেল রিভস। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আগের তুলনায় নিরাপদ করেছে—এমনটা তিনি মনে করেন না। বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিভস এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা ছিল এবং আলোচনাও চলছিল। সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ছিল একটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত। রিভস আরও বলেন, ইরান সরকারকে পছন্দ বা অপছন্দ করার বিষয়টি এখানে মুখ্য নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার সঠিক পদ্ধতি কী। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ইরান সরকারকে অপছন্দ করেন বলেও উল্লেখ করেন। ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের মতে, যুদ্ধের পর বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। বরং সংঘাতের কারণে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বেড়েছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, সামরিক অভিযানে ইরান ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রিভসের এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারণী মহলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এই সংঘাতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। ওয়াশিংটনের মাটিতে দেওয়া রিভসের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কেও নতুন করে টানাপড়েন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হামিদ মীর দাবি করেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ১৪ মের আগেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বার্তা দিয়েছে। কারণ, ওই সময় ট্রাম্পের চীন সফরের সম্ভাব্য সূচি রয়েছে। হামিদ মীর আরও জানান, ট্রাম্প পাকিস্তানে গিয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি চীনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে একটি বৈঠকের উদ্যোগ নিতে চান বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সরাসরি যুদ্ধের দিকে না গিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত সংঘাত’-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, তবে দুই পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে চলার কৌশল নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানকে ঘিরে নতুন কোনো সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। অতীতে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। বর্তমানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে, যা নতুন চুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করছে। অন্যদিকে, চীন মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেশটি কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফলে ইরান ইস্যুতে চীনের সক্রিয় ভূমিকা এখন বৈশ্বিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে পাকিস্তানে গিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর বা চীনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকের মতো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে এখনো কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক কূটনীতি সাধারণত দীর্ঘ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসনে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই পক্ষই আলোচনায় ফেরার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ আবারও সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি জেনেভা-কেও বিকল্প স্থান হিসেবে ভাবা হচ্ছে। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে এই নতুন বৈঠক কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।