উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA) -এর ৪০তম কনভেনশন এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের স্বাগতিক সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)।
সম্প্রতি আয়োজকরা ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট কমিটি ও বিভিন্ন সাব-কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছে। ঘোষিত তালিকায় কনভেনরের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. জয়নুল আবেদীন এবং কো-কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হাবিব আহমেদ টিয়া। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল।
আয়োজক কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী প্রেসিডেন্ট, মাসুদ রব চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টা, মোহাম্মদ এস হক প্রধান সমন্বয়ক এবং ড. মুশফিকুল হক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কনভেনশন সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহিদ আহমেদ মিঠু, স্কলারশিপ কমিটির দায়িত্বে আছেন ড. ইউনুস রাহী, ইয়ুথ ফোরাম কমিটির চেয়ারম্যান রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান লাসকার আল মামুন, রেজিস্ট্রেশন কমিটির দায়িত্বে শফিক রহমান, গেস্ট রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যালেন এলিয়াস খান, গেস্ট অ্যাকমোডেশন কমিটির দায়িত্বে মেহেদী হাসান এবং স্টল ও বুথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে মো শওকত আনজিম।
ফোবানা আয়োজকরা জানান, এবারের ফোবানা কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, ফুড ফেস্টিভ্যাল এবং বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ।
আয়োজকরা আরও জানান, উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এবারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে হলিউড ও ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের ফোবানা কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবারের আয়োজনে অংশ নেবেন।
আয়োজকদের বলেন, ফোবানা এখন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, সংস্কৃতি, ঐক্য ও কমিউনিটির শক্তির অন্যতম প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
গত বছর জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানা কনভেনশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার স্বপ্ন যখন ক্রমেই অধরা হয়ে উঠছিল, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নেয় এক মার্কিন পরিবার। তারা ইতালির মধ্যাঞ্চলের আব্রুজ্জো অঞ্চলের একটি ছোট্ট গ্রামে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন ডলারে একটি বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করে। এখন তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক স্বস্তিই নয়, জীবনকে নতুনভাবে উপভোগ করার সুযোগও এনে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাসান্দ্রা ট্রেসল বলেন, ২০২০ সালে মেয়ের জন্মের পর তিনি ও তাঁর স্বামী অ্যালেক্স নিনম্যান ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবতে শুরু করেন। সে সময় তারা নিউইয়র্কে মাসে দুই হাজার ডলার ভাড়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। নিউইয়র্কের হিসাবে ভাড়াটি তুলনামূলক কম হলেও, সেখানে নিজস্ব বাড়ি কেনার মতো অর্থ জোগাড় করা তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ট্রেসলের ভাষায়, নিউইয়র্কে একটি বাড়ির ডাউন পেমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সঞ্চয়ের কোনো বাস্তবসম্মত পথ তিনি দেখছিলেন না। সেই কারণেই বিদেশে বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে খোঁজ শুরু করেন তারা। নানা দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ইতালির আব্রুজ্জো অঞ্চলকেই বেছে নেন, যেখানে পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলক কম এবং স্থানীয় জীবনযাত্রা এখনও অনেকটাই স্বাভাবিক। ২০২২ সালে তারা প্রায় ১৩ হাজার ডলারে বাড়িটি কিনে নেন এবং ২০২৩ সালে পরিবারসহ সেখানে স্থায়ীভাবে চলে যান। বাড়িটি কেনার পর সংস্কার ও সাজসজ্জায় আরও প্রায় ১৫ হাজার ইউরো ব্যয় করেন। পুরো বাড়ির পানির লাইন নতুন করে বসানোই ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাজ, যার জন্য প্রায় তিন হাজার ডলার খরচ হয়। পরিবারটি যে গ্রামে বসবাস করছে সেখানে জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন। রাজধানী রোম থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত পাহাড়ি এই জনপদে পর্যটকদের আনাগোনা কম হলেও স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশ বেশ প্রাণবন্ত বলে জানান ট্রেসল। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল এমন একটি জায়গায় বসবাস করা, যেখানে ব্যস্ত নগরজীবনের পরিবর্তে শান্ত পরিবেশে পরিবারকে সময় দেওয়া যাবে। ইতালিতে যাওয়ার পর তাদের মাসিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ট্রেসলের মেয়ের পূর্ণকালীন প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খরচ মাসে মাত্র ৭০ ডলার। বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১৭০ ডলার, পানির বিল প্রায় ৮০ ডলার এবং ইন্টারনেটের জন্য দিতে হয় মাত্র ১৫ ডলার। প্রতিটি মোবাইল ফোন সংযোগের মাসিক খরচ প্রায় ১৪ ডলার। এদিকে তারা একই এলাকায় আরও একটি বাড়ি প্রায় ২০ হাজার ডলারে কিনেছেন। পরে সেটি সংস্কারে আরও প্রায় ১৭ হাজার ডলার ব্যয় করা হয়। বর্তমানে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক হাজার ১০০ ডলার আয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রেসল। পেশাগত জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। নিউইয়র্কে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি ইতালির একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কাজ করছেন। আগের তুলনায় আয় কিছুটা কম হলেও, জীবনযাত্রার মান এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়কে তিনি এখন বেশি মূল্য দেন। ট্রেসলের মতে, ছোট শহরের জীবন তাঁকে বুঝতে শিখিয়েছে যে সবকিছু নিয়ে প্রতিনিয়ত দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। ধীরগতির এই জীবন তাঁকে মানসিকভাবে অনেক বেশি স্বস্তি দিয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে ইতালীয় ভাষা শেখা এবং তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও এই নতুন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পরিবারের বেশির ভাগ কেনাকাটা স্থানীয় বাজার থেকেই করা হয়। ট্রেসলের দাবি, সেখানে পাওয়া মাংস ও পনিরের মান যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভালো। দুই কুকুর ও দুই বিড়ালসহ পুরো পরিবারের সাপ্তাহিক বাজার খরচ প্রায় ১৪০ ডলার। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের জন্য মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়, তবুও স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ট্রেসলের ভাষায়, সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো নিজের বাড়ির জন্য আর কোনো ঋণ বা মাসিক কিস্তি দিতে হয় না। নগদ অর্থে বাড়ির মালিক হওয়ায় আর্থিক চাপ কমেছে এবং জীবনের অগ্রাধিকারও বদলে গেছে। তিনি বলেন, আগে ক্যারিয়ারকে ঘিরেই সব চিন্তা ছিল। এখন পরিবার, মানসিক শান্তি এবং নিজের পছন্দের কাজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, ইতালির ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাসের অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করিয়েছে, জীবনের সবকিছু এতটা জটিল বা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় একসময় 'প্যারেন্ট অব দ্য ইয়ার' বা বর্ষসেরা অভিভাবকের খেতাব পেয়েছিলেন তিনি। অথচ সেই সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধেই এবার কয়েক ডজন শিশু যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। আলাস্কার শেভাক শহরের দীর্ঘদিনের মেয়র ৪৮ বছর বয়সী উলরিক জেফরি উলরোয়ানকে বুধবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আলাস্কা স্টেট ট্রুপার্সের তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেশ কয়েকজন কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় একটি হাইস্কুলের মেয়েদের বাস্কেটবল দলের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন উলরোয়ান। ২০০৯ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শেভাক শহরে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের একটি গোপন অভিযোগ গত জানুয়ারিতে পুলিশের হাতে আসে। এরপরই তার বিরুদ্ধে বিস্তর তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত চলাকালে আরও বেশ কয়েকজন নারী এগিয়ে এসে উলরোয়ানের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি যৌন নিপীড়ন, অশালীন অঙ্গভঙ্গি এবং ২১ বছরের কম বয়সীদের অ্যালকোহল সরবরাহ করাসহ মোট ৪৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অন্তত ছয়জন ভুক্তভোগীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রায়ান ওয়সম্যান জানিয়েছেন, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তিনি আরও অপরাধ ঘটিয়েছেন বলে তাদের বিশ্বাস। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পালক পিতা (ফস্টার প্যারেন্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিয়ে উলরোয়ান এই জঘন্য অপরাধগুলো করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০১৯ সালের অক্টোবরে আলাস্কা ফেডারেশন অফ নেটিভস উলরোয়ান ও তার স্ত্রী ম্যারিকে 'প্যারেন্ট অব দ্য ইয়ার' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার স্ত্রী ম্যারি জানিয়েছেন, এটি তাদের পরিবারের জন্য একটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক সময়। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার সন্তানদের গোপনীয়তা রক্ষায় সবার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের অনুরোধ জানিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার আদালতে উলরোয়ানের হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত মাসেই আলাস্কার আইনপ্রণেতারা শারীরিক সম্পর্কের সম্মতির বয়স (এজ অব কনসেন্ট) ১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৮ বছর করে একটি বিল পাস করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক চরম অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মায়েরা যখন নিজেদের সন্তানদের একটি তালাবদ্ধ নোংরা ফ্ল্যাটে ফেলে রেখে হোটেলে মদ ও মাদকের পার্টিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই অন্য দুই শিশুর নির্মম মারধরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছে দুই মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মেডিক্যালি ইনডিউসড কোমা এবং ভেন্টিলেশনে রেখেছেন। স্মিথ কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী সিডনি হুইট এবং ২৯ বছর বয়সী জ্যাকুলিন মোরালেস তাদের সন্তানদের ইঁদুরের মল ও মাছিতে ভরা একটি অস্বাস্থ্যকর অ্যাপার্টমেন্টে ফেলে রেখে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। ফ্ল্যাটে দুই মাসের ওই শিশুটির সঙ্গে ছিল চার ও ছয় বছর বয়সী আরও দুই শিশু। মায়েরা না থাকার সুযোগে ওই বড় দুই শিশু মিলে অবুঝ শিশুটির ওপর ভয়ংকর নির্যাতন চালায়। তারা শিশুটিকে ছুড়ে মারে এবং তার মাথায় পা দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে শিশুটির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং খিঁচুনি শুরু হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার সময় শিশুদের পাহারায় ছিলেন জ্যাকুলিনের ১৮ বছর বয়সী বোন শেলবি মুনোজ। তিনি তদন্তকারীদের জানান, চোখের সামনে এমন নির্যাতন হতে দেখলেও তিনি বাধা দেননি, কারণ তিনি মনে করেছিলেন ওই শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার নয় যেহেতু তারা তার নিজের সন্তান নয়। মায়েরা যখন ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন, তখন তারা শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা পরের দিন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত তাকে লাইফ সাপোর্টে নেন। চাইল্ড প্রোটেকটিভ সার্ভিসেস (সিপিএস) পরবর্তীতে ওই বাড়িতে তদন্তে গেলে এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়। টেক্সাসের প্রচণ্ড গরমের মাঝেও ফ্ল্যাটে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছিল না, ঘরভর্তি মাছি উড়ছিল এবং মেঝেতে ইঁদুরের মল, নোংরা ডায়াপার ও কাপড়চোপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এই চরম অবহেলার দায়ে সিডনি, জ্যাকুলিন এবং শেলবি—এই তিনজনের বিরুদ্ধেই শিশুকে বিপন্ন করা এবং আঘাত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পাঁচ লাখ ডলারের সম্মিলিত জামিন বন্ডে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।