সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আবারও আকাশে ডানা মেলছে ‘প্যান অ্যাম’: এক সময়ের কিংবদন্তি বিমান সংস্থার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২১:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

এভিয়েশন বা বিমান চলাচলের ইতিহাসে ‘প্যান আমেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজ’ বা সংক্ষেপে ‘প্যান অ্যাম’ একটি রূপকথার নাম। ১৯২৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই মার্কিন বিমান সংস্থাই বিশ্ববাসীকে প্রথম দূরপাল্লার বিমান ভ্রমণের স্বাদ দিয়েছিল। তবে ভুল ব্যবসায়িক কৌশল আর বৈশ্বিক সংকটের কারণে ১৯৯১ সালে বন্ধ হয়ে যায় এই কিংবদন্তি ব্র্যান্ড। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর, সেই গৌরবময় সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনতে একবিংশ শতাব্দীতে এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

The Boeing 747 entered commercial service on a historic Pan Am flight between New York's John F. Kennedy International Airport (JFK) and London Heathrow Airport (LHR) on January 12, 1970.

 

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্যোক্তা ক্রেইগ কার্টারের নেতৃত্বাধীন একদল বিনিয়োগকারী প্যান অ্যামের সমস্ত স্বত্ব ও লাইসেন্স কিনে নেন। তাঁদের লক্ষ্য—প্যান অ্যামকে কেবল একটি বিমান সংস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি প্রিমিয়াম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা।

 

নস্টালজিয়ার জাদুতে সফল ‘এয়ার ক্রুজ’

দীর্ঘ ৩০ বছর বন্ধ থাকলেও বিমানপ্রেমীদের মনে প্যান অ্যামের আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, তার প্রমাণ মেলে গত বছরের (২০২৫) জুন মাসে। সে সময় প্যান অ্যামের লোগো ও নীল-সাদা রঙে সজ্জিত একটি বিশেষ বিমান ১২ দিনের এক ঐতিহাসিক ‘এয়ার ক্রুজ’ বা বিমান সফরের আয়োজন করে। আইসল্যান্ড এয়ার থেকে লিজ নেওয়া বোয়িং ৭৫৭-২০০ বিমানটিতে মাত্র ৫০টি বিলাসবহুল আসন ছিল।

 

The airline changed its name to Pan American World Airways in 1950. It launched the Boeing 707, pictured, in 1958.

 

নিউইয়র্ক থেকে রওনা হয়ে বারমুডা, লিসবন, মার্সেই, লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের শ্যাননের মতো পুরোনো রুটে যাতায়াত করা এই সফরের টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। চড়া দাম সত্ত্বেও মাত্র তিন দিনের মধ্যে সফরের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এই সাফল্যই বিনিয়োগকারীদের বাণিজ্যিকভাবে আবারও আকাশে ফেরার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

 

বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরা ও নতুন পরিকল্পনা

প্যান অ্যামের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং এভিয়েশন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এড ওয়েগেল জানান, প্যান অ্যামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা হিসেবে আকাশে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। তবে এবার বোয়িং নয়, প্যান অ্যামের নতুন চালিকাশক্তি হবে ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের ‘এয়ারবাস এ২২০’ এবং ‘এ৩২০’ মডেলের বিমান।

 

The new Pan Am is based in Miami, where the original company was based too.

 

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকার মিয়ামি শহরকে প্রধান কেন্দ্র (বেস) করে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বাজারগুলোকে লক্ষ্য করে চার্টার্ড এবং নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এই বিমানগুলোতে ইকোনমি থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার তিন শ্রেণির আসন বিন্যাস থাকবে। তবে বিমান সংকটের কারণে প্রথম ফ্লাইটের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

 

ভবিষ্যতের প্যান অ্যাম হোটেল ও রেস্তোরাঁ:

বিমান সংস্থার পাশাপাশি জীবনযাত্রার অন্যান্য খাতেও প্যান অ্যামের নাম যুক্ত হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার কমার্স শহরে চালু হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘প্যান অ্যাম হোটেল’। বিখ্যাত হোটেল চেইন হিলটনের ব্যবস্থাপনায় এই হোটেলে থাকবে আশির দশকের বিমান ভ্রমণের নস্টালজিক আবহ। এছাড়া ২০২৬ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্কের একটি বিমানবন্দরে চালু হবে প্রথম ‘প্যান অ্যাম রেস্তোরাঁ’। ২০২৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্যান অ্যাম লাউঞ্জ এবং ঘড়ি ও লেগো সেটের মতো বিভিন্ন লাইসেন্সড পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

 

The Venice Simplon-Orient-Express is currently operated by the luxury hotel brand Belmond.

 

চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা

প্যান অ্যামের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা দারুণ এক রোমাঞ্চকর উদ্যোগ বললেও এর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিমান শিল্প বিশ্লেষক অ্যাডিসন শোনল্যান্ডের মতে, বর্তমানের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নতুন একটি প্রিমিয়াম বিমান সংস্থার টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে চলমান জ্বালানি সংকট যখন প্রতিষ্ঠিত বিমান সংস্থাগুলোকেই ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য করছে, তখন প্যান অ্যামের মতো ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ কতটা মসৃণ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসার অভাবে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃ ত্যু, বিচার দাবি পরিবারের
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসার অভাবে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃ ত্যু, বিচার দাবি পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা আইস-এর একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার পর ২৯ বছর বয়সী এক মেক্সিকান যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রিসিলিয়ানো ত্রেজো রিকানো নামের ওই যুবক আইস হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।   মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে আইস হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি অ্যাকিউট লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। অথচ এর আগে তার শরীরে বড় কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার লক্ষণ ছিল না।   নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের বাসিন্দা প্রিসিলিয়ানো মাত্র তিন বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ১৯ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে জর্জিয়ার স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে আটক থাকার তিন সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারকে ভিডিও কল করে তিনি নিয়মিত তার শারীরিক যন্ত্রণার কথা জানাতেন।   এমনকি নিজের ২৯তম জন্মদিনে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যে, তীব্র গলাব্যথা, রক্তকাশি এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় ভুগলেও তাকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে তারা কেবলই একটি 'সংখ্যা' মাত্র।   গত ১৬ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, প্রিসিলিয়ানোকে জর্জিয়ার অগাস্টার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের তার সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিতে শেষ মুহূর্তে আইস তাকে তাদের হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় অবশেষে ২৪ জুলাই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।   এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ডিটেনশন সেন্টারে যদি তিনি সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা পেতেন, তবে হয়তো তাকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। যেহেতু মৃত্যুর ঠিক আগে তাকে আইস হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাই সরকারি পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুকে 'হেফাজতে মৃত্যু' হিসেবে দেখানো হচ্ছে না, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে।   প্রিসিলিয়ানোর পরিবার এখন আইস-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং এই মর্মান্তিক অবহেলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২১:২৪
যুক্তরাষ্ট্রের ২০৩০ সালের আদমশুমারি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের ২০৩০ সালের আদমশুমারি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তলোয়ার হাতে পুলিশের ওপর হা মলা, গু লিবিদ্ধ যুবক

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তলোয়ার হাতে পুলিশের ওপর হা মলা, গু লিবিদ্ধ যুবক

লেবার ডে লং উইকেন্ডে মিসিসিপি বাংলা একাডেমির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

লেবার ডে লং উইকেন্ডে মিসিসিপি বাংলা একাডেমির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

ফোবানা অ্যালামনাই: ৩৪ বছরের গল্প, স্মৃতির পাতায় এক সকাল
ফোবানা অ্যালামনাই: ৩৪ বছরের গল্প, স্মৃতির পাতায় এক সকাল

গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার  সকাল ৯.৩০ মিনিট ইউনিভার্সেল হিলটনের একটি মাঝারি মানের রুমে বসেছিল ফোবানার এলামনাই এর মিলন মেলা। শুক্রবার রাতের দেরীতে ঘুমের পর সকালে অনেকের উঠতে দেরী হচ্ছিল৷ এলামনাই এর চেয়ারম্যান ড্ক্টর আব্দুস সাত্তার এর টেনশন৷  কেমন হবে এলামনাই এর মিটিং।   আগেরদিন তিনি আলাউদ্দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে সকালের নাস্তার অর্ডার করেন৷ আমার সাথে আলাউদ্দিনে দেখা৷ বললেন, নাস্তা এখন থেকে নিচ্ছি। বললাম, নেন৷ ভাল হবে। বললেন নিউজ করেন। নিউজ করে সবাইকে জানালাম।    শনিবার সকাল পৌনে দশটা।  সবাই সময়মত আসবেন বললেও  সবাই আসলে দেরীতে ৷ সকাল ১০ টার পর আমরা আনুষ্ঠানিক এলামনাই এর অনুষ্ঠান শুরু করলাম৷  জনাব আব্দুস সাত্তার শুরু করলেন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পড়ল মাহবুব রহিম এর উপর৷ চমৎকার কথা বলেন তিনি। সবাই আসন গ্রহণ করলেন। মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেন, ফোবানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। রেহান রেজা, জসিম উদ্দিন, এটর্নি আলমগীর, ডিউক খান, দিলু মওলা, এম রহমান জহির, ডক্টর জয়নাল আবেদীন, ফারুক আহমদ, হাসমত মোবিন, রবিউল করিম বেলাল ইন্জিনিয়ার আবু হানিফ, মিসেস নার্গিস।   মঞ্চের বাহিরেও হল রুমে অনেকেই বসলেন। মাহবুব রহিম সহজ সরল উপস্থাপনায় জমিয়ে রাখলেন।  ফোবানায় ৩৩/৩৪  বছর যাদের তাদের আলোচনা শুরু হল। তারপর ৩২ বছর, ৩০ বছর হিসাবে সিনিয়ররা বলতে লাগলেন ফোবানায় জড়িত হবার সুখ দু:খের গল্প।  ডিউক খান, দিলু মওলা সবচেয়ে প্রবীন ফোবানায়। একই সাথে হাসমত মোবিন, এম রহমান জহির, নুরুল আমিন নুরু বললেন তাদের গল্প। মিসেস নুরু কথা বললেন, কথা বললেন নাহিদা নাসের ইয়াামিন৷ তিনি জানালেন। ফোবানার এই পরিবার তাকে নতুন করে সাংগঠনিক হতে শক্তি যোগায় ।  তিনি বলতে লাগলেন, ফোবানার সবাই তাকে এত সম্মান করেন যে, তিনি ফোবানার সাথেই আছেন সব সময়।    ডিউক খান বলেন, লস এনজেলস থেকে ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত, এখন আটলান্টায় থাকলেও ফোবানার সাথে সাড়ে তিন দশক। জসিম উদ্দিন বলেন, ফোবানার সাথে তার সম্পর্কের কথা,আটলান্টায় একাধিক ফোবানার করার গল্প। হাসমত মোবিন বলেন সাড়ে তিন দশক কিভাবে ফোবানার  সাথে ছিলেন। নুরুল আমিন নুরু বলেন, ফোবানায় সব সময় পরিবার নিয়ে আসেন।   রাতে খাবার পাওয়া যায় না, উনার স্ত্রী ও মিসেস করিম কিভাবে ভাত তরকারি নিয়ে আসেন৷ তাদের দুজনের কনট্রিবিউশন মাহবুব রহিম সুন্দর করে বলতে থাকেন। মিসেস নুরু, মিসেস করিম তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাদেরকে সম্মানিত করায় ধন্যবাদ জানান।    ফোবানার এলামনাই, এর গেট টুগেদার এর খবর ছড়িয়ে পড়লে, হোটেলের ফোবানার সবাই হল রুমে আসেন। চেয়ার পর্যাপ্ত ছিল না, অনেকেই দাড়িয়ে কথা শুনেন। মাহবুব রহিম ফোবানার নির্বাচনের উত্তাপে কি হচ্ছে হোটেলের রুমে বলেন মজা করে।    নাস্তা আসে নাই দুপুর ১২ টা, তখন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান সহ ৩ দশক বা ২ দশক থেকে যারা ফোবানায় আসেন তাদের গল্প, স্মৃতিচারণ করতেই থাকেন।  আটলান্টার আরেফিন বাবুল, চমৎকার করে বলতে থাকেন৷ তিনি কিভাবে এজিএম এ প্রতিবাদ করে যান বছরের পর বছর। সবার কাছে মাপ ও চান ভুল কিছু হলে।  ফোবানার এলামনাই ৮ বছর পর আবার ড. আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সচল হওয়ায় উনাকে ধন্যবাদ দেন সবাই৷    নিউইয়র্কের  মিসেস নার্সিস আহমেদ  , নিউজার্সির  ফারুক আহমদ ফোবানার স্মৃতি চারন করেন৷। নাস্তার সময় পেরিয়ে যায়, গল্প চলতেই থাকে। মাহবুব রহিম একজন অনন্য সঞ্চালক, মজার মজার কথা বলে আটকে রাখেন সবাইকে। সবার জন্য চা ছিল। আলাউদ্দিন থেকে নাস্তা আসতে দেরী হচ্ছিল, আর কথার ফুলঝুরি চলতেই থাকে।    ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল ও নতুন চেয়ারম্যান এম রহমান জহির বলেন তাদের গল্প৷ নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আবির আলমগীর বলেন তিনি প্রায় তিন দশকের মত ফোবানায়।  সোয়া বারোটায় আব্দুস সাত্তারের অর্ডার করা নাস্তা আসে ১০০ জনের মত তখন ছিলেন, সবাইকে টেবিলে নাস্তা দেয়া হয়৷ তখনও কথা চলতেই থাকে।  সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন মাত্র ২ বছর ফোবানায় আসছেন, উনাকে  কিছু বলতে বললে তিনি  কিছুই বলেন নাই, কারন সবাই নাস্তাই চাচ্ছেন। কথা শুনবেন না কেউ৷  এক স্মৃতির নাটক চলতেই থাকে। ফোবানা নিয়ে সবার দীর্ঘদিনের ভালবাসার এক বন্ধন দৃশ্যমান হতে থাকে।  পাবেল আহমদ ৪১ তম ফোবানায় সবাইকে দাওয়াত করেন। ইনস্টলমেন্টে প্যাকেজ কেনার ঘোষনা দেন৷ তিনি বলেন ১০০ ডলার করে দিতে শুরু করেন৷ পাবেল আহমদ সবাইকে সপরিবারে হিউস্টনে আমন্ত্রন জানান।  মাহবুব ভুইয়া সবাইকে বিজনেস লাঞ্চ এ আহবান জানান৷  সমাপতির বক্তব্য ড. আব্দুস সাত্তার ফোবানায় সাংবাদিকদের অবদান স্বীকার করে ধন্যবাদ জানান। ফোবানায় পজেটিভ নিউজ থাকে বলেই ফোবানা গতিশীল ৷  তিনি আরও বলেন। ফোবানা এলামনাই আগামীতে আরও বড় ভুমিকা রাখবে৷    ২ ঘন্টার এলামনাই ব্রেকফাষ্ট মিটিংটা হয়ে উঠেছিল এক স্মৃতি রোমান্থন।  সবাই ফোবানাকেই ভালবাসেন৷ ফোবানা করতে করতে অনেকের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে তারাও ফোবানায় আসতে শুরু করেছে। ফোবানার ভেটারান এটিএম আলম,বলেন - ফোবানার গল্প বলে শেষ করা যাবে না৷ অনেকেই এসেছেন। চলেও গেছেন। আমরা ফোবানাকে ভালবেসেই আছি। জি আই রাসেল, ফোবানার একাধিক কনভেনশন এর কনভেনর৷ দীর্ঘ দিন ফোবানায় আছেন৷ রাসেল বলেন - চক্রান্ত করে গত ৫ বছর তাকে বাহিরে রাখা হলেও মুল ফোবানা ছাড়েন নাই৷ তিনি জানেন না কি তার অপরাধ ছিল?   এখন আর জানতেও চান না৷ সবার সাথেই থাকবেন।    ৪০ বছরের ফোবানায় এখনও অনেকেই আছেন যারা ৩৩ বা ৩৪ টি ফোবানায় এসেছেন৷ তাদের গল্পের শেষ নাই৷ সেই সময়টায় নানা শহরে এত মানুষ জন ছিল না৷ সংগঠন ছিল না৷ কিছু স্বপ্নবোনা মানুষ ফোবানা তৈরী করেছিলেন৷ তাদের অনেকেই ছিলেন এই এলামনাই মিটিং এর রুমে।। সুখ দুঃখের গল্পের শেষ নাই৷  আটলান্টার ডাক্তার মানিক ও মিসেস মানিক লস এনজেলস কমিউনিটির সবাইকে ও ফোবানা পরিবারকে স্মরন করে বলেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। মিসেস মানিক এই ফোবানা পরিবারকে একটি অনন্য প্লাটফর্ম দাবী করে সবার জন্য শুভেচ্ছা জানান।    ফোবানা এলামনাই এর গেট টুগেদার ব্রেকফাষ্ট এ আরও উপস্থিত ছিলেন ডক্টর প্রিয়লাল কর্মকার , মহিউদ্দিন দুলাল, কাজী নাহিদ ও মিসেস নাহিদ, বাবুল হাই, রানা খান,মিম খান,সাম রিয়া, সামসুূূ্দ্দিন, শামসুদ্দিন সাগর,এস আই জুয়েল, আবু রুমি,করিম সালাউদ্দিন, ফরহাদ হোসেন, মোহাম্মদ ইকবাল, জাবেদ চৌধুরী, মারুফ ভুইয়া, মুজিব উদ্দিন, জুয়েল সাদত,রিয়াজ আহমেদ, এন্থনি পিউস গোমেজ, সানি, মোহাম্মদ কাজল, মিসেস কাজল সহ আরো অনেকেই। প্রায় শতাধিক উপস্থিতি ছিল।    এই গল্প আমাদের অমিমাংসিত রয়ে গেল, আবার আমরা শুনব হিউষ্টনে।   

জুয়েল সাদত প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৮:৫৯
৫০ বছর বয়সী ইরসি এসপেরানজা মাচাদো রিভেরা

স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার জেড়ে প্রতিবেশী নারীর মুখে মল ছুরলেন স্ত্রী

জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান

জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান, ছোট দোকান ও ভ্যান সরিয়ে জায়গা খালি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নাটালি হার্প

ছুটির উপহার হিসেবে চার হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাকে ট্রাম্প দিলেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার

ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রক্রিয়ায় যেতে চাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কগনিজ্যান্টের পার্ম ফাইলিং স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার দপ্তর শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে। তদন্তে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং মার্কিন কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   একই সময়ে সফটওয়্যার কোম্পানি ক্লাউডেরার পার্ম আবেদনও স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, কতটি আবেদন এর আওতায় পড়েছে এবং স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। এই ঘটনায় কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও ঘোষণা করা হয়নি।   পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে স্পনসর করার আগে শ্রম বিভাগকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী কোনো মার্কিন কর্মী সহজলভ্য নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   পার্ম অনুমোদনের পর নিয়োগকর্তা সাধারণত গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন। ফলে নতুন পার্ম আবেদন জমা দিতে না পারার কারণে কগনিজ্যান্টের যেসব কর্মীর ক্ষেত্রে এখনো এই ধাপ শুরু হয়নি, তাদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।   তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ কগনিজ্যান্টের কর্মীদের আগে থেকে অনুমোদিত গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে, আগে অনুমোদিত পার্ম সার্টিফিকেশন বা বিদ্যমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিলের কথাও কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়নি।   কগনিজ্যান্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এইচ-ওয়ান-বি স্পনসরকারী আইটি সেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে এর সদর দপ্তর নিউ জার্সির টিনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের কার্যক্রম রয়েছে।   কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে তদন্তটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর নজরদারির অংশ। এর আগে শ্রম বিভাগ এইচ-ওয়ান-বি ও পার্ম কর্মসূচির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।   ইন্সপেক্টর জেনারেল ডি’এসপোসিটো পরবর্তী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে কগনিজ্যান্ট ও ক্লাউডেরার এইচ-ওয়ান-বি প্রসেসিং স্থগিতের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এইচ-ওয়ান-বি সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট আইনি পরিধি, কোন ধরনের প্রসেসিং এর আওতায় পড়ছে এবং বিদ্যমান এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসেনি।   কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিতের খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এক দিন আগে কগনিজ্যান্ট জানায়, তারা ১ হাজার ৫০০ মার্কিন কলেজ গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ করবে এবং ফ্রন্টিয়ার সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কর্মী করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ফেডারেল তদন্ত চলমান থাকায় কগনিজ্যান্টের কর্মীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে তদন্তের ফল এবং শ্রম বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বর্তমান ঘোষণার ভিত্তিতে নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত হওয়ায় যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ এখনো এই ধাপে পৌঁছায়নি, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৬:৮
গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা-ছেলের মৃত্যু

গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা-ছেলের মৃত্যু

বাংলাদেশি সিনিয়র এআই গবেষক ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

বাংলাদেশি গবেষক ইরফানের মৃত্যুতে ধোঁয়াশা, আত্মহত্যার দাবি মানতে নারাজ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ রয়েছে

২০২৬ সালে আমেরিকার সবচেয়ে সস্তা আবাসন কোনটি! জেনে নিন, তালিকায় আরো ১০ শহর

0 Comments