সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছর প্রবাসে বাঙালির শেকড় খোঁজার অনন্য এক ইতিহাস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ১৮:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নব্বইয়ের দশকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে মাত্র কয়েকটি টেবিল নিয়ে যে বাংলা বইমেলার সূচনা হয়েছিল, তা আজ প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছরের এই দীর্ঘ পথচলা কেবল বই বিক্রির ইতিহাস নয়, বরং প্রবাসের মাটিতে বাঙালির ভাষা ও আত্মপরিচয় টিকিয়ে রাখার এক অনন্য সংগ্রাম। চলুন জেনে নিই এই ঐতিহাসিক যাত্রার পেছনের অজানা গল্প।
 

প্রবাসের মাটিতে বাঙালির অস্তিত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতির এক গভীর ইতিহাসের জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা। সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের এই পথচলা নিছক কোনো বার্ষিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
 

ভিন্ন এক বাস্তবতায় যেখানে ভাষা ও পরিচয়ের সংকট প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, সেখানে এই মেলা প্রবাসীদের আত্মপরিচয় পুনর্গঠনের এক সৃজনশীল প্রয়াস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আয়োজনের পরতে পরতে মিশে আছে বহু মানুষের স্বপ্ন, ত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রমের এক অবিস্মরণীয় আখ্যান।
 

সময়ের পরিক্রমায় এই মেলা কেবল বই বিক্রির স্থান থেকে রূপ নিয়েছে বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিময়ের অনন্য এক কেন্দ্রে। এখানে যেমন নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ঘটে, তেমনি প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের সঙ্গে পাঠকের এক নিবিড় সংযোগও তৈরি হয়।
 

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের জন্য এটি একধরনের ‘সাংস্কৃতিক ঘর’ তৈরি করেছে। এর সুবাদে মেলাটি এখন প্রবাসী বাঙালির আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ও সৃজনশীল ধারাবাহিকতার এক অনন্য দলিল হিসেবে কাজ করছে।
 

এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেসময় নিউইয়র্কে ‘মুক্তধারা’র কার্যক্রমকে সুসংগঠিত রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আয়োজকদের মতে, প্রকৃত অর্থে বইমেলার জন্ম হয় ১৯৯২ সালে।
 

সাত তরুণের অদম্য উদ্যম নিয়ে সে বছর বইমেলার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। এই উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন বিশ্বজিত সাহা, হারুন আলী, আবদুর রহিম বাদশা, ছাখাওয়াত আলী, সজল পাল, শামীম হোসেন এবং দিলদার হোসেন দিলু।
 

১৯৯২ সালে ব্রুকলিনের একটি পাবলিক স্কুল এবং কুইন্সের একটি ছোট্ট চার্চে টেবিলের ওপর বই সাজিয়ে প্রথম মেলার আয়োজন করা হয়। প্রবাসজীবনের নানা সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলা ভাষাকে ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক স্বদেশ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাই ছিল এর মূল চালিকাশক্তি।
 

প্রথম দিকের সেই ক্ষুদ্র আয়োজন ধীরে ধীরে নিউইয়র্কের বাঙালি সমাজে এক বিশাল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রূপ নেয়। শুরুর দিকে তারিক মাহবুবের একটি প্রতিষ্ঠান এবং বিএটিএস মেলায় স্টল দিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল।
 

পরবর্তীকালে বইমেলাটি মূলত কুইন্সকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে এবং অ্যাস্টোরিয়া, উডসাইড ও জ্যাকসন হাইটসের মতো এলাকায় গত তিন দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হতে থাকে।
 

২০২৩ সাল থেকে মেলাটির স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টার (জেপিএসি)। সবুজে ঘেরা পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক এই পরিবেশ অনেকের কাছেই ঢাকার বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের আবহকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
 

১৯৯২ সালের প্রেক্ষাপটটি প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সেসময় প্রবাসে একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপন বা ভাষা-সাংস্কৃতিক চেতনা প্রকাশের মতো কোনো শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম ছিল না। সেই শূন্যতা থেকেই আয়োজকরা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করেন।
 

সেটি কেবল একটি প্রতীকী নির্মাণ ছিল না, বরং প্রবাসে বাংলা ভাষার মর্যাদাকে দৃশ্যমান করে তোলার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল। ওই বছরই ‘মুক্তধারা নিউইয়র্ক’ এবং ‘বাঙালি চেতনা মঞ্চ’ যৌথভাবে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা করে।
 

প্রথমদিকে এই উদ্যোগ ছিল নিখাদ আবেগ ও ভাষা-ভালোবাসা থেকে উৎসারিত। কিন্তু আয়োজকরা দ্রুতই উপলব্ধি করেন, কেবল আবেগ দিয়ে এমন বৃহৎ উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়। এটিকে টেকসই করতে প্রয়োজন সুসংগঠিত পরিকল্পনা ও শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
 

সেই লক্ষ্যেই বইমেলাকে একটি নিয়মিত আয়োজনে পরিণত করার পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় সাহিত্য আলোচনা, সেমিনার ও কবিতা পাঠের মতো বহুমাত্রিক কার্যক্রম। ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশকরা সরাসরি অংশগ্রহণ শুরু করলে এই মেলা বৈশ্বিক রূপ পেতে শুরু করে।
 

২০০৬ সালে ‘মুক্তধারা নিউইয়র্ক’ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’-এ রূপ নেয়। এই রূপান্তর প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
 

উদ্যোক্তারা কেবল মেলার আয়োজন করেই থেমে থাকেননি। প্রবাসে বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে বাংলা বই পৌঁছে দেওয়ার অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের মধ্যে প্রায় ২৬টি লাইব্রেরিতে বাংলা বই সরবরাহ করা হয়।
 

২০০৭ সাল থেকে বইমেলায় একটি নতুন সাংগঠনিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা হয়। রোটেশনাল নেতৃত্ব, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রবীণ-নবীনের সেতুবন্ধনের মাধ্যমে এটিকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়।
 

হাসান ফেরদৌস, ড. নূরুন নবী, রোকেয়া হায়দারসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে এর নেতৃত্বের ভার সামলেছেন। মেলার উদ্বোধকদের তালিকাতেও রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস।
 

জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যাত্রায় পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছেন শহীদ কাদরী, হুমায়ূন আহমেদ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বাংলা সাহিত্যের দিকপালরা।
 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সেলিনা হোসেন, পবিত্র সরকার, ফরিদুর রেজা সাগর, মুহম্মদ নূরুল হুদা, শাহাদুজ্জামান এবং ২০২৬ সালে ইমদাদুল হক মিলনের মতো বিশিষ্টদের অংশগ্রহণ এই মেলাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
 

২০২০ সালের বৈশ্বিক মহামারির সময়ও এই মেলার পথচলা থেমে থাকেনি। পৃথিবীর সবকিছু স্থবির হয়ে পড়লেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সেবার ১০ দিনব্যাপী এক ভার্চ্যুয়াল বইমেলার আয়োজন করা হয়।
 

২০২৩ সালে ৩২তম আসরের মাধ্যমে মেলাটি আবারও সশরীরে আয়োজনের ধারায় ফেরে। ২০২৪ সালের ৩৩তম মেলাটি ‘যত বই, তত প্রাণ’ স্লোগানে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করে। সেবার প্রায় ৪০টি প্রকাশনা সংস্থা ও শতাধিক লেখক এতে অংশ নেন।
 

২০২৫ সালের ৩৪তম আসরটি ছিল আরও বহুমাত্রিক। ইতিহাস, সাহিত্য ও চিত্রকলার সমন্বয়ে মেলাটি সেবার একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসবে পরিণত হয়। ২৫টির বেশি প্রকাশনা সংস্থা এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি অতিথির সমাগম ঘটে এই আসরে।
 

সাদাত হোসাইনের উদ্বোধনে ওই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ফিলিস টেইলর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে রেহমান সোবহান, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, রওনক জাহান ও সিতারা বেগমের মতো বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
 

বিশ্লেষকদের মতে, এই বইমেলা মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, ভাষা ও একুশের চেতনা, যা নতুন প্রজন্মের কাছে আত্মপরিচয়ের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
 

দ্বিতীয়ত, এটি একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য-বাজার। লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এটি বাংলা সাহিত্যের এক বৈশ্বিক অর্থনীতি গড়ে তুলেছে।
 

তৃতীয়ত, এটি প্রবাসীদের জন্য একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর বা পাবলিক স্পেস। এখানে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য ও সমকালীন পরিচয়ের নানা জটিল প্রশ্ন নিয়ে প্রতিনিয়ত মুক্ত আলোচনা হয়।
 

বিগত তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই বইমেলা প্রমাণ করেছে যে, এটি কেবল একটি বার্ষিক উৎসব নয়। এটি একটি ভাষার টিকে থাকার নিরন্তর লড়াই এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ঐতিহ্যের ধারাবাহিক হস্তান্তর।
 

১৯৯২ সালের সেই ছোট্ট উদ্যোগটি আজ আন্তর্জাতিক বাংলা সংস্কৃতির এক সুপ্রতিষ্ঠিত মঞ্চ। ২০২৬ সালের আসন্ন ৩৫তম আসর এই দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যাত্রার আরও একটি পরিণত ও শক্তিশালী ধাপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেই প্রত্যাশা প্রবাসী বাঙালিদের।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইটে এআই এজেন্টের অপ্রত্যাশিত আচরণের পর সবচেয়ে সক্ষম মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ স্থগিত করেছে ওপেনএআই। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি ওয়েবসাইটে এআই এজেন্টের অস্বাভাবিক আচরণ, কাজ থামাল ওপেনএআই

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে নিজেদের এআই এজেন্টের অপ্রত্যাশিত আচরণের তথ্য প্রকাশের পর সবচেয়ে সক্ষম মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। শনিবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের পর এসব কাজ আবার শুরু হবে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চ্যাটজিপিটি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।    ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার সময় তথ্য খুঁজতে গিয়ে কিছু এজেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং জনগণনা ব্যুরোর ওয়েবসাইট ব্যবহার করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এজেন্টের কাজ তাকে দেওয়া নির্দেশনার সীমা ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করছে।    এদিকে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সলুসের দাবি, ওপেনএআইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে হওয়া এজেন্টগুলো শিক্ষা বিভাগের একটি ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। চেষ্টা সফল হয়নি। ওপেনএআই ওই নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে নিজেদের এজেন্টের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেনি। শিক্ষা বিভাগও জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইট বা তথ্যভান্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।    সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের একজন মুখপাত্রও বলেছেন, তাঁদের কোনো অপ্রকাশিত তথ্য দেখা হয়নি। ওপেনএআইয়ের পর্যালোচনায় এখন পর্যন্ত ওই সংস্থার তথ্য বা ব্যবস্থায় পরিবর্তন কিংবা অননুমোদিত প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    প্রশিক্ষণ স্থগিতের সিদ্ধান্তের পেছনে আরেকটি ঘটনাও রয়েছে। ওপেনএআইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর একটি পরীক্ষাধীন এজেন্ট ইন্টারনেট ব্যবহারের বিধিনিষেধের ফাঁক খুঁজে বাইরের একটি চ্যাটবটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি সেই কার্যক্রম বন্ধ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। সবচেয়ে সক্ষম মডেলগুলোর টুল ব্যবহারসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৯:৫২
ধীন এটিএমের ফি দেওয়া যোগ্য গ্রাহকরা সমঝোতার অর্থ পেতে পারেন

ভিসা-মাস্টারকার্ডের ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের সমঝোতা, জানুন টাকা আবেদনের শর্ত ও যোগ্যতা

আইসিইবিরোধী বি ক্ষো ভে যোগ দেওয়ার পর গ্রে প্তা র হয়েছেন অস্টিনের কাউন্সিল প্রার্থী

আইসিই কর্মকর্তার গু লিতে ব্যক্তি আ হ ত, বি ক্ষো ভ প্র তি বা দে যোগ দেওয়ায় কাউন্সিল প্রার্থী গ্রে প্তা র

অ্যারিজোনায় মুদি দোকানের চাকরি ও মোট মজুরিতে দেখা দিয়েছে পতন

অ্যারিজোনার গ্রোসারি শপে চাকরির সংকট, এক বছরে কমেছে দুই শতাংশের বেশি পদ

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ ডলার ৪২ সেন্টে পৌঁছেছে
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেল ৮ ডলার ছাড়িয়েছে, কিছু পাম্পে ছুঁয়েছিল প্রায় ১০ ডলার

ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর AAA-এর হিসাবে রাজ্যটিতে এক গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৪২ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে দাম ছিল মাত্র ৫ দশমিক ১৬ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গ্যালনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ ডলার।   মাত্র এক মাস আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল ৭ দশমিক ২১ ডলারের কাছাকাছি। ২২ সেপ্টেম্বর তা ৮ দশমিক ৪৩৮৭ ডলারে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড করে। এরপর সামান্য কমলেও আজকের ৮ দশমিক ৪১৬ ডলারের গড় এখনো সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি।   বে এরিয়াতেও পরিস্থিতি আরও ব্যয়বহুল। আজ সান হোসেতে ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৬৬ ডলার। এক মাস আগে সেখানে ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৩০ ডলার এবং এক বছর আগে ৫ দশমিক ১৯ ডলারের কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি নির্দিষ্ট পাম্পে ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে প্রায় ১০ ডলারের ওই দামটি ছিল কিছু নির্দিষ্ট স্টেশনের, রাজ্যজুড়ে গড় দাম নয়।   শুধু ডিজেল নয়, সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও আবার বাড়ছে। আজ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক গ্যালন রেগুলার গ্যাসের গড় ৬ দশমিক ৩৫ ডলার। গতকাল ছিল ৬ দশমিক ৩৪ ডলার, এক সপ্তাহ আগে ৬ দশমিক ১৫ ডলার এবং এক মাস আগে ৫ দশমিক ৬৪ ডলার। জাতীয় পর্যায়ে আজ রেগুলার গ্যাসের গড় ৪ দশমিক ৪৮ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার চালকেরা জাতীয় গড়ের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ দশমিক ৮৭ ডলার বেশি দিচ্ছেন।   জাতীয় পর্যায়েও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক উঁচু। আজ যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন ডিজেলের গড় ৬ দশমিক ৪৭ ডলার, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ৬৯ ডলার। ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় গড় ৬ দশমিক ৫৩ ডলারের কাছাকাছি উঠে রেকর্ড করেছিল।   মূল সমস্যার একটি হলো ডিজেলের সরবরাহ। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ সাপ্তাহিক হিসাবে ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় পর্যায়ে অন-হাইওয়ে ডিজেলের গড় ছিল ৬ দশমিক ৫২৯ ডলার। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি সাপ্তাহিক গড় ছিল ৮ দশমিক ২৫ ডলারের কাছাকাছি।   রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বছরের এই সময়ের হিসাবে ডিজেলের মজুত রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। EIA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত দেশের ডিস্টিলেট মজুত ১০ কোটি ব্যারেলের নিচে থাকতে পারে। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও আন্তর্জাতিক ডিজেল সরবরাহে চাপ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক ডিজেল সংকট ২০২৭ সালেও গড়াতে পারে।   উচ্চ ডিজেলের প্রভাব শুধু ট্রাক বা ডিজেলচালিত গাড়ির মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। NBC Bay Area-কে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্রাকিং ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়তে পারে। মুদি পণ্য থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে এর প্রভাবকে তারা ‘সাপ্লাই চেইন ইনফ্লেশন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।   পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনেও আলোচনা চলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সম্প্রতি বড় কয়েকটি রিফাইনারির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিজেল রপ্তানি স্বেচ্ছায় সীমিত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উল্টো আন্তর্জাতিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করে পরিস্থিতি খারাপ করতে পারে।   এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার কম দামের বিকল্প হিসেবে ইথানল মিশ্রিত ই১৫ গ্যাসোলিন বাজারে দ্রুত আনার উদ্যোগ নিয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ১৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন। রাজ্য সরকারের উদ্ধৃত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরি হলে ই১৫ গ্যালনপ্রতি দাম সর্বোচ্চ ২০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে পারে। তবে এটি ডিজেলের বর্তমান সংকটের সরাসরি সমাধান নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৮:১২
বেতন বাড়লেও স্ন্যাপ সহায়তা কমে যাওয়ায় আর্থিক চাপে পড়ছে কিছু পরিবার

বেতন বাড়লেও সংসারে টানাটানি, স্ন্যাপ সহায়তা কমায় বিপাকে পরিবারগুলো

এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় দেওয়া অতিরিক্ত ফি নিয়ে ভিসা-মাস্টারকার্ডের ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত সমঝোতা।

এটিএম থেকে টাকা তুলতে অতিরিক্ত ফি দিয়েছেন! মিলতে পারে ভিসা-মাস্টারকার্ডের সেটেলমেন্টের টাকা

এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বং সা বশেষ ও উদ্ধার অভিযান

গ্রিসের ঐতিহাসিক এলাকায় বি স্ফো রণ, ধ্বং স স্তূপ থেকে ৪ মার্কিন নাগরিকসহ ৬ জনের মৃ ত দে হ উদ্ধার

জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনছে বড় মার্কিন এয়ারলাইনগুলো
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট কমাচ্ছে বড় এয়ারলাইনগুলো, বাড়তে পারে ভাড়া

জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইটের সংখ্যা ও সক্ষমতা কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়তি জ্বালানি খরচ সামাল দিতে তারা ফ্লাইট সূচি নিয়মিত পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনছেন।   ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৮১ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি করছে।   আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডেভন মে জানিয়েছেন, চতুর্থ প্রান্তিকে জেট ফুয়েলের দাম জুলাইয়ে করা পূর্বাভাসের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেশি হতে পারে। এতে শুধু আমেরিকান এয়ারলাইনসের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।   মে বলেন, বাড়তি জ্বালানি খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বছরের শেষ প্রান্তিকে এয়ারলাইনটির ফ্লাইট সক্ষমতায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তবে তিনি জানান, চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে তারা সন্তুষ্ট।   আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবার্ট আইসমের মতে, জ্বালানির বাড়তি খরচের একটি বড় অংশ যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া বাড়তি আয় দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এয়ারলাইনটির আয় ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন।   এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মাইকেল লেস্কিনেন জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বেশি থাকায় ডিসেম্বরে নির্ধারিত কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক এবং পরবর্তী সময়েও ফ্লাইট সূচিতে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।   তবে ইউনাইটেডের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়লেও তাদের ফ্লাইট বুকিংয়ে এখনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। প্রিমিয়াম যাত্রী, করপোরেট ভ্রমণ এবং সাধারণ শ্রেণির বুকিং—সব ক্ষেত্রেই চাহিদা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে।   সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও জ্বালানি খরচের চাপ সামাল দিতে ফ্লাইট সক্ষমতা নিয়ে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা টম ডক্সি বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে যে পরিমাণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে।   ডক্সি বলেন, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সক্ষমতা কমানো স্বাভাবিক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সাউথওয়েস্টের এক মুখপাত্র পরে জানান, এখন পর্যন্ত সূচিতে যে পরিবর্তন করা হয়েছে তা খুবই সীমিত। ডক্সির বক্তব্যটি মূলত পরিস্থিতি বোঝানোর উদাহরণ ছিল, ইতোমধ্যে নেওয়া কোনো বড় পদক্ষেপের ঘোষণা নয়।   সাউথওয়েস্ট জানিয়েছে, শরৎকালের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো বুকিং বাড়তি জ্বালানি খরচের প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে সাহায্য করছে। এ কারণে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকের আয়সংক্রান্ত পূর্বাভাসও তারা বজায় রেখেছে।   এয়ারলাইনগুলো বলছে, যাত্রী চাহিদা এখনো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও জেট ফুয়েলের দাম কতদিন উচ্চ থাকবে, তার ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে। জ্বালানি খরচ দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের টিকিটের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।    

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৬:১৮
অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে আইসিই ও ডিএইচএসের অবস্থান ঘিরে নতুন করে আলোচনা

অপরাধে অভিযুক্ত নন এমন অভিবাসীদেরও আইনি হেফাজতে নেবে আইসিই, জানাল ডিএইচএস

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প

যুদ্ধ থামাতে আলোচনার প্রস্তাব ইরানের, হরমুজ চুক্তি নাকচ করলেন ট্রাম্প

নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতাদের শরিয়াবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে মুসলিম আমেরিকানরা

নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতাদের শরিয়াবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে মুসলিম আমেরিকানরা

0 Comments