আমেরিকা

নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছর প্রবাসে বাঙালির শেকড় খোঁজার অনন্য এক ইতিহাস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ১৮:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নব্বইয়ের দশকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে মাত্র কয়েকটি টেবিল নিয়ে যে বাংলা বইমেলার সূচনা হয়েছিল, তা আজ প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছরের এই দীর্ঘ পথচলা কেবল বই বিক্রির ইতিহাস নয়, বরং প্রবাসের মাটিতে বাঙালির ভাষা ও আত্মপরিচয় টিকিয়ে রাখার এক অনন্য সংগ্রাম। চলুন জেনে নিই এই ঐতিহাসিক যাত্রার পেছনের অজানা গল্প।
 

প্রবাসের মাটিতে বাঙালির অস্তিত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতির এক গভীর ইতিহাসের জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা। সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের এই পথচলা নিছক কোনো বার্ষিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
 

ভিন্ন এক বাস্তবতায় যেখানে ভাষা ও পরিচয়ের সংকট প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, সেখানে এই মেলা প্রবাসীদের আত্মপরিচয় পুনর্গঠনের এক সৃজনশীল প্রয়াস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আয়োজনের পরতে পরতে মিশে আছে বহু মানুষের স্বপ্ন, ত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রমের এক অবিস্মরণীয় আখ্যান।
 

সময়ের পরিক্রমায় এই মেলা কেবল বই বিক্রির স্থান থেকে রূপ নিয়েছে বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিময়ের অনন্য এক কেন্দ্রে। এখানে যেমন নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ঘটে, তেমনি প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের সঙ্গে পাঠকের এক নিবিড় সংযোগও তৈরি হয়।
 

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের জন্য এটি একধরনের ‘সাংস্কৃতিক ঘর’ তৈরি করেছে। এর সুবাদে মেলাটি এখন প্রবাসী বাঙালির আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ও সৃজনশীল ধারাবাহিকতার এক অনন্য দলিল হিসেবে কাজ করছে।
 

এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেসময় নিউইয়র্কে ‘মুক্তধারা’র কার্যক্রমকে সুসংগঠিত রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আয়োজকদের মতে, প্রকৃত অর্থে বইমেলার জন্ম হয় ১৯৯২ সালে।
 

সাত তরুণের অদম্য উদ্যম নিয়ে সে বছর বইমেলার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। এই উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন বিশ্বজিত সাহা, হারুন আলী, আবদুর রহিম বাদশা, ছাখাওয়াত আলী, সজল পাল, শামীম হোসেন এবং দিলদার হোসেন দিলু।
 

১৯৯২ সালে ব্রুকলিনের একটি পাবলিক স্কুল এবং কুইন্সের একটি ছোট্ট চার্চে টেবিলের ওপর বই সাজিয়ে প্রথম মেলার আয়োজন করা হয়। প্রবাসজীবনের নানা সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলা ভাষাকে ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক স্বদেশ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাই ছিল এর মূল চালিকাশক্তি।
 

প্রথম দিকের সেই ক্ষুদ্র আয়োজন ধীরে ধীরে নিউইয়র্কের বাঙালি সমাজে এক বিশাল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রূপ নেয়। শুরুর দিকে তারিক মাহবুবের একটি প্রতিষ্ঠান এবং বিএটিএস মেলায় স্টল দিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল।
 

পরবর্তীকালে বইমেলাটি মূলত কুইন্সকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে এবং অ্যাস্টোরিয়া, উডসাইড ও জ্যাকসন হাইটসের মতো এলাকায় গত তিন দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হতে থাকে।
 

২০২৩ সাল থেকে মেলাটির স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টার (জেপিএসি)। সবুজে ঘেরা পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক এই পরিবেশ অনেকের কাছেই ঢাকার বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের আবহকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
 

১৯৯২ সালের প্রেক্ষাপটটি প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সেসময় প্রবাসে একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপন বা ভাষা-সাংস্কৃতিক চেতনা প্রকাশের মতো কোনো শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম ছিল না। সেই শূন্যতা থেকেই আয়োজকরা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করেন।
 

সেটি কেবল একটি প্রতীকী নির্মাণ ছিল না, বরং প্রবাসে বাংলা ভাষার মর্যাদাকে দৃশ্যমান করে তোলার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল। ওই বছরই ‘মুক্তধারা নিউইয়র্ক’ এবং ‘বাঙালি চেতনা মঞ্চ’ যৌথভাবে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা করে।
 

প্রথমদিকে এই উদ্যোগ ছিল নিখাদ আবেগ ও ভাষা-ভালোবাসা থেকে উৎসারিত। কিন্তু আয়োজকরা দ্রুতই উপলব্ধি করেন, কেবল আবেগ দিয়ে এমন বৃহৎ উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়। এটিকে টেকসই করতে প্রয়োজন সুসংগঠিত পরিকল্পনা ও শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
 

সেই লক্ষ্যেই বইমেলাকে একটি নিয়মিত আয়োজনে পরিণত করার পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় সাহিত্য আলোচনা, সেমিনার ও কবিতা পাঠের মতো বহুমাত্রিক কার্যক্রম। ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশকরা সরাসরি অংশগ্রহণ শুরু করলে এই মেলা বৈশ্বিক রূপ পেতে শুরু করে।
 

২০০৬ সালে ‘মুক্তধারা নিউইয়র্ক’ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’-এ রূপ নেয়। এই রূপান্তর প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
 

উদ্যোক্তারা কেবল মেলার আয়োজন করেই থেমে থাকেননি। প্রবাসে বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে বাংলা বই পৌঁছে দেওয়ার অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের মধ্যে প্রায় ২৬টি লাইব্রেরিতে বাংলা বই সরবরাহ করা হয়।
 

২০০৭ সাল থেকে বইমেলায় একটি নতুন সাংগঠনিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা হয়। রোটেশনাল নেতৃত্ব, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রবীণ-নবীনের সেতুবন্ধনের মাধ্যমে এটিকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়।
 

হাসান ফেরদৌস, ড. নূরুন নবী, রোকেয়া হায়দারসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে এর নেতৃত্বের ভার সামলেছেন। মেলার উদ্বোধকদের তালিকাতেও রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস।
 

জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যাত্রায় পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছেন শহীদ কাদরী, হুমায়ূন আহমেদ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বাংলা সাহিত্যের দিকপালরা।
 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সেলিনা হোসেন, পবিত্র সরকার, ফরিদুর রেজা সাগর, মুহম্মদ নূরুল হুদা, শাহাদুজ্জামান এবং ২০২৬ সালে ইমদাদুল হক মিলনের মতো বিশিষ্টদের অংশগ্রহণ এই মেলাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
 

২০২০ সালের বৈশ্বিক মহামারির সময়ও এই মেলার পথচলা থেমে থাকেনি। পৃথিবীর সবকিছু স্থবির হয়ে পড়লেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সেবার ১০ দিনব্যাপী এক ভার্চ্যুয়াল বইমেলার আয়োজন করা হয়।
 

২০২৩ সালে ৩২তম আসরের মাধ্যমে মেলাটি আবারও সশরীরে আয়োজনের ধারায় ফেরে। ২০২৪ সালের ৩৩তম মেলাটি ‘যত বই, তত প্রাণ’ স্লোগানে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করে। সেবার প্রায় ৪০টি প্রকাশনা সংস্থা ও শতাধিক লেখক এতে অংশ নেন।
 

২০২৫ সালের ৩৪তম আসরটি ছিল আরও বহুমাত্রিক। ইতিহাস, সাহিত্য ও চিত্রকলার সমন্বয়ে মেলাটি সেবার একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসবে পরিণত হয়। ২৫টির বেশি প্রকাশনা সংস্থা এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি অতিথির সমাগম ঘটে এই আসরে।
 

সাদাত হোসাইনের উদ্বোধনে ওই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ফিলিস টেইলর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে রেহমান সোবহান, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, রওনক জাহান ও সিতারা বেগমের মতো বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
 

বিশ্লেষকদের মতে, এই বইমেলা মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, ভাষা ও একুশের চেতনা, যা নতুন প্রজন্মের কাছে আত্মপরিচয়ের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
 

দ্বিতীয়ত, এটি একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য-বাজার। লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এটি বাংলা সাহিত্যের এক বৈশ্বিক অর্থনীতি গড়ে তুলেছে।
 

তৃতীয়ত, এটি প্রবাসীদের জন্য একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর বা পাবলিক স্পেস। এখানে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য ও সমকালীন পরিচয়ের নানা জটিল প্রশ্ন নিয়ে প্রতিনিয়ত মুক্ত আলোচনা হয়।
 

বিগত তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই বইমেলা প্রমাণ করেছে যে, এটি কেবল একটি বার্ষিক উৎসব নয়। এটি একটি ভাষার টিকে থাকার নিরন্তর লড়াই এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ঐতিহ্যের ধারাবাহিক হস্তান্তর।
 

১৯৯২ সালের সেই ছোট্ট উদ্যোগটি আজ আন্তর্জাতিক বাংলা সংস্কৃতির এক সুপ্রতিষ্ঠিত মঞ্চ। ২০২৬ সালের আসন্ন ৩৫তম আসর এই দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যাত্রার আরও একটি পরিণত ও শক্তিশালী ধাপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেই প্রত্যাশা প্রবাসী বাঙালিদের।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: মেরি জোবাইদা (সংগৃহীত)
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান মেরি জোবাইদা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ৩৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি সংগঠক মেরি জোবাইদা। দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করা এই সংগঠক বলেছেন, সাধারণ কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।   নিজের প্রচার ঘোষণায় মেরি জোবাইদা জানান, তিনি সাশ্রয়ী আবাসন, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য শিশু পরিচর্যা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে চান।   নিউইয়র্কের ৩৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্টটি বহুজাতিক ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে দক্ষিণ এশীয়, লাতিনো এবং বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকাটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাসাভাড়ার চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   মেরি জোবাইদার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি টেলিভিশন, আরবান হেলথ প্ল্যান এবং সংবাদ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা। তিনি “বাংলাদেশি আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস” নামের একটি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও। এছাড়া তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্নাতক।   নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন কর্মজীবী মা, স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মী এবং কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।   জোবাইদা আরও বলেন, তিনি এমন একটি নিউইয়র্ক গড়তে চান যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও অভিবাসী সম্প্রদায় সমান সুযোগ ও প্রতিনিধিত্ব পাবে।   যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্থানীয় স্কুল বোর্ড থেকে শুরু করে সিটি কাউন্সিল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের উপস্থিতি এখন আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণও এ পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৬ ১৮:২৪
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন জীবনেও হার মানেননি, গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করলেন ১৮ বছরের তরুণ

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের বুকে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’, প্রবাসীদের পরিচয় ও উপস্থিতির প্রতীক

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ঠিকানা’

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি’র সঙ্গে পর্দায় জায়েদ খান, প্রবাসীদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে আসছে নতুন শর্টফিল্ম

২০২৪ সালে নিউইয়র্কে ঈদুল আজহার নামাজের জন্য খোলা মুসল্লিরা । ফাইল ছবি
শতাধিক মসজিদ উদ্যোগ নিউইয়র্কে খোলা মাঠে ঈদুল আজহার নামাজে প্রস্তুতি

নিউইয়র্ক সিটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে খোলা মাঠ ও মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার। ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পার্ক, স্কুলের খেলার মাঠ, পার্কিং লট এবং মসজিদসংলগ্ন সড়ক ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন।   শুক্রবার ও শনিবার নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরোতে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। যেসব মসজিদ খোলা মাঠে নামাজের আয়োজন করেছে, সেখানে সাধারণত একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আর মসজিদের ভেতরে আয়োজন করা হলে সর্বোচ্চ চারটি পর্যন্ত জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ স্থানে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগও থাকবে।   নিউইয়র্ক ঈদগাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এবার ছয়টি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এসব জামাত আয়োজন করা হবে।   জ্যামাইকার জামাইকা মুসলিম সেন্টারের পক্ষ থেকে থমাস এডিসন স্কুল মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় বায়তুল জান্নাহ জামে মসজিদের উদ্যোগে সড়কের ওপর জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দূরে কোরবানি কাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের সুবিধার্থে ভোরে বিশেষ জামাতের আয়োজনও করা হয়েছে।   ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারে বাংলাবাজার জামে মসজিদের আয়োজনে পিএস ১০৬ স্কুলের মাঠে খোলা আকাশের নিচে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বৃষ্টি হলে সেখানে একাধিক সময়সূচিতে জামাতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   ওজোন পার্ক, ব্রুকলিন, ম্যানহাটনসহ বিভিন্ন এলাকায় মসজিদভিত্তিক ও খোলা মাঠে ঈদের জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্থানে বৃষ্টি পরিস্থিতির জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   ম্যানহাটনের ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে সকাল থেকে চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আস-সাফা ইসলামিক সেন্টারেও তিনটি জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘নো পার্কিং’ নির্দেশনা, পুলিশ টহল এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে।   ঈদ জামাত ঘিরে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় মুসল্লিদের অংশগ্রহণ বাড়ছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: মে ২৩, ২০২৬ ১৯:৩৯
দ্বীপে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ে, যোগ দিলেন ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরা

বাহামার প্রাইভেট দ্বীপে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ে, যোগ দিলেন ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরা

ছবি: সংগৃহীত

আবারও আকাশে ডানা মেলছে ‘প্যান অ্যাম’: এক সময়ের কিংবদন্তি বিমান সংস্থার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছর প্রবাসে বাঙালির শেকড় খোঁজার অনন্য এক ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত
জুলকারনাইন সায়েরের প্রতিবেদনে জয়ের কোটি ডলারের বিবাহবিচ্ছেদের গোপন সমঝোতা নথির তথ্য প্রকাশ

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জয়ের বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি অপ্রকাশিত সমঝোতা নথির তথ্য সামনে আনা হয়েছে। সেখানে বহু-মিলিয়ন ডলারের আর্থিক বন্দোবস্ত, করপোরেট শেয়ার হস্তান্তর এবং বাংলাদেশের কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবিষ্যৎ আর্থিক স্বার্থের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।   অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা আউটলুকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জয়ের সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের সঙ্গে সম্পাদিত ২২ পৃষ্ঠার সমঝোতা চুক্তির ১৩ থেকে ১৫ নম্বর পৃষ্ঠায় বিবাহবিচ্ছেদের পর উভয় পক্ষের আর্থিক দায়বদ্ধতা, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং সম্পদ বণ্টনের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিতে ডিজিকন টেকনোলজিস ও ফিনটেক সলিউশনসের ব্যবসায়িক স্বার্থ ভাগাভাগির বিষয় উল্লেখ আছে। পাশাপাশি সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আয়কে ঘিরে একটি ট্রাস্ট কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে।   করপোরেট সম্পদের বাইরে জয়ের ওপর বড় ধরনের ব্যক্তিগত আর্থিক দায়ও আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। “মনিটারি অ্যাওয়ার্ড” শিরোনামের অংশে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুনের মধ্যে ক্রিস্টিনা ওয়াজেদকে এককালীন করমুক্ত ১০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা।   এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু করে প্রতি মাসের প্রথম দিনে ২০ হাজার ডলার করে ভরণপোষণ দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে, যা চলবে ২০৩৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পুরো সময়জুড়ে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৫ লাখ ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি ৭১ লাখ টাকার সমান।   চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই ভরণপোষণের পরিমাণ ও সময়সীমা পরিবর্তনযোগ্য নয়। তবে উভয় পক্ষের কারও মৃত্যু, ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের পুনর্বিবাহ অথবা এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে বৈবাহিক সম্পর্কসদৃশ সহবাসে থাকলে অর্থ প্রদান বন্ধ হবে।   এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের শিশু ভরণপোষণ নির্দেশিকা অনুযায়ী তাদের কন্যা সোফিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার ৪০০ ডলার দেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন জয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   নথিতে আরও বলা হয়েছে, সন্তান যদি পূর্ণকালীন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়, নিজে উপার্জনে সক্ষম না হয় এবং ভরণপোষণ গ্রহণকারী অভিভাবকের সঙ্গে বসবাস করে, তাহলে ১৮ বছর বয়স অতিক্রমের পরও সহায়তা অব্যাহত থাকতে পারে। গুরুতর ও স্থায়ী শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।   এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সজিব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের আগে প্রায় তিন বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছিলেন।   তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত আর্থিক বন্দোবস্ত ও করপোরেট স্বার্থসংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো আদালত-স্বীকৃত নথি বা স্বাধীন সরকারি যাচাই প্রকাশ্যে আসেনি। এ বিষয়ে সজিব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ১৮:১৭
ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

সম্মান গ্রহণের মুহূর্তে আফরিন মাহমুদ । ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে স্যালুটেটোরিয়ান বাংলাদেশি আফরিন, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অস্টিনে যাত্রা

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৫০ ডলারে বিশ্বকাপ টিকিট, যেভাবে আবেদন করবেন

0 Comments