যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় মোবাইল ফোন ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ বছর বয়সী পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিলি শ্মিট। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার বাবা বলেছেন, তিনি চান ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় পরিবারের বাড়ির অদূরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বিলি শ্মিট বন্ধুদের সঙ্গে একটি বারে এনবিএ ফাইনাল খেলা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দুই মুখোশধারী ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোন ছিনতাইয়ের পর দুই সন্দেহভাজন পালিয়ে গেলে বিলি তাদের পিছু নেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, একজন সন্দেহভাজন তার মুখোমুখি হওয়ার পর দুজনই দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং বিলি তাদের ধাওয়া করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে একজন ছিনতাইকারী মোবাইল ফোনটি রাস্তায় ফেলে দেয় এবং একটি পার্ক করা গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। অন্যজন ঘুরে দাঁড়িয়ে বিলির বুকে গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে বিলি বলছিলেন, “আমার ফোনটা ফেরত দাও।”
বিলির বাবা বিল শ্মিট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে চাই এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।”
তিনি বলেন, “সে খুব ভালো একজন মানুষ ছিল। সবার প্রতি তার আন্তরিকতা ছিল। সে কখনও কারও ক্ষতি করেনি। এমন একজন মানুষের এভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।”
ঘটনার পর বিলিকে দ্রুত Penn Presbyterian Medical Center-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিলির বোন আনা শ্মিট বলেন, “কেউ কীভাবে আমার এবং আমার পরিবারের সঙ্গে এমনটা করতে পারে, আমি বুঝতে পারছি না। আমি তাকে খুব মিস করছি।”
পরে বিলির বাবা রাস্তার পাশে একটি গাড়ির নিচে পড়ে থাকা তার মোবাইল ফোনটি খুঁজে পান এবং সেটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
তিনি বলেন, “ফোনটি ছিনতাই হওয়ার পর সে তাদের পিছু নিয়েছিল, এটা জেনে আমি বিস্মিত হয়েছি। পরে জানতে পারি, মোড়ের কাছে পৌঁছালে আরেকজন বেরিয়ে এসে তাকে গুলি করে।”
এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ ও প্রসিকিউটররা আশা করছেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে থাকা ডিএনএ নমুনা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।
ফিলাডেলফিয়ার সহকারী জেলা অ্যাটর্নি বিল ফ্রিটজে বলেন, তদন্তকারীরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং ঘটনাস্থলে পুনরায় গিয়ে সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বাড়ছে ব্যাপক উন্মাদনা। নিউইয়র্ক, আটলান্টা, ডালাস, মিশিগানসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতোমধ্যেই খেলা দেখার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে অনেকের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে—আমেরিকায় বসে কীভাবে সহজে, কম খরচে কিংবা ফ্রিতে বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাবে? বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে বড় ক্রীড়া সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর হাতে থাকে। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বড় সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠান হলো ফক্স স্পোর্টস। প্রতিষ্ঠানটির টেলিভিশন চ্যানেল FOX এবং FS1-এ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সরাসরি দেখানো হয়। অনেক এলাকায় সাধারণ ডিজিটাল অ্যান্টেনা ব্যবহার করেই স্থানীয় FOX চ্যানেল ফ্রিতে দেখা সম্ভব। ফলে যাদের বাসায় স্মার্ট অ্যান্টেনা বা ওভার-দ্য-এয়ার টিভি সুবিধা রয়েছে, তারা কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই কিছু ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি অনলাইন টিভি প্ল্যাটফর্ম নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত সময়ের ফ্রি ট্রায়াল সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে ইউটিউব টিভি, ফুবো টিভি এবং হুলু লাইভ টিভি উল্লেখযোগ্য। এসব প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে অনেকেই কয়েকদিন বিনামূল্যে খেলা দেখতে পারবেন। তবে ট্রায়াল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সাবস্ক্রিপশন বাতিল না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ কেটে নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে বলছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ আবার বাংলা ভাষায় খেলার আলোচনা, বিশ্লেষণ বা দক্ষিণ এশীয় সম্প্রচার দেখতে আগ্রহী। সে কারণে অনেকেই টফি, টি স্পোর্টস লাইভ কিংবা সনি লিভের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তবে এসব সেবার কিছু কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি নাও পাওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা নিজ দেশের সম্প্রচার দেখতে চেষ্টা করেন। যদিও প্রযুক্তিগত ও নীতিগত কারণে এটি ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়ম জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কম খরচে পুরো বিশ্বকাপ উপভোগ করতে চাইলে মাসিক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক কিছু সেবা প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্লিং টিভি তুলনামূলক কম খরচে ক্রীড়া চ্যানেল দেখার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ইউটিউব টিভি ও ফুবো টিভিতে উচ্চমানের সম্প্রচার, মোবাইল ও স্মার্ট টিভি সাপোর্ট এবং ম্যাচ রেকর্ড করার সুবিধাও রয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ দর্শক মোবাইল ফোন, স্মার্ট টিভি বা ট্যাব ব্যবহার করে খেলা দেখছেন। এজন্য প্রথমে নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সাবস্ক্রিপশন নিয়ে সহজেই লাইভ ম্যাচ উপভোগ করা যায়। যারা পুরো ম্যাচ দেখার সময় পান না, তাদের জন্যও রয়েছে হাইলাইটস দেখার সুযোগ। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ শেষে গোল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মেও সংক্ষিপ্ত হাইলাইটস পাওয়া যায়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশ্বকাপ ঘিরে সামাজিক আয়োজনও বাড়ছে। বিভিন্ন শহরে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা একত্রে খেলা দেখার পরিকল্পনা করছেন। অনেক রেস্টুরেন্ট ও কমিউনিটি সেন্টারেও বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর প্রস্তুতি চলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসেও বিশ্বকাপের আবহ এখন অনেকটাই বাংলাদেশের মতো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের সমর্থকদের উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করতে টিকিট নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি ফার্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তুলল দেশটি। ইরানের অভিযোগ, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাদের জাতীয় দলের তিনটি ম্যাচের ভেন্যুতে যেন ইরানি সমর্থকরা উপস্থিত হতে না পারেন, সেই চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের প্রায় ৮ শতাংশ টিকিট সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। এর ফলে সমর্থকরা অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে সহজেই টিকিট কিনতে পারেন। ইরান ফুটবল ফেডারেশনও সেই নিয়ম মেনে টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের সেই কোটা বাতিল করা হয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের অফিশিয়াল টিকিট কোটা এভাবে কেড়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মূল চেতনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমতার নীতির পরিপন্থী। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা মার্কিন আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ভিসা জটিলতার কারণে ইরানের বেশ কয়েকজন সহকারী স্টাফের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইরান দল তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকো সীমান্তের টিজুয়ানা শহরে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। আগামী ১৫ই জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ইরান।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর প্রাক্কালে নিউইয়র্কে বড় ধরনের অভিবাসন অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বর্ডার জার টম হোম্যান। বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে যখন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো দর্শকের আগমন ঘটছে, তখন তার এ মন্তব্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে এমন সংখ্যক আইস এজেন্ট মোতায়েন করা হবে, যা শহরটি আগে কখনও দেখেনি। তিনি জানান, একটি অপারেশনাল পরিকল্পনা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। সম্প্রতি গভর্নর হোকুল একটি বিল সই করেন, যার মাধ্যমে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মুখোশধারী আইসিই এজেন্টদের অভিযান সীমিত করা এবং অভিবাসন কার্যক্রমে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, হোম্যানের বক্তব্য ওই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ার অংশ হতে পারে। এদিকে একই সময়ে নিউজার্সির একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিও চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন। সংগঠনটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রত্যেক ব্যক্তি, তার অভিবাসন অবস্থান যাই হোক না কেন, কিছু মৌলিক আইনি অধিকার ভোগ করেন। সংগঠনটির মতে, এসব অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো নীরব থাকার অধিকার। কেউ আইস বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি হলে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার অধিকার রাখেন। এছাড়া তল্লাশির ক্ষেত্রে সম্মতি না দেওয়া, কোনো নথিতে স্বাক্ষর করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন আরও পরামর্শ দিয়েছে, গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার ফটোকপি সঙ্গে রাখা যেতে পারে। তবে প্রয়োজন ছাড়া এসব নথি প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং মোবাইল ফোন পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবার ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, কোনো অভিভাবক হঠাৎ আটক হলে শিশুর দেখভালের জন্য আগেই একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে রাখা উচিত। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর, চিকিৎসা তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথির কপি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী নিউইয়র্কে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের বড় একটি প্রবাসী জনগোষ্ঠীও নিউইয়র্কে বসবাস করে। এমন পরিস্থিতিতে অভিবাসন অভিযান নিয়ে আলোচনা এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।