নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন পাওয়ার সুযোগ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি আবাসন প্ল্যাটফর্ম ‘হাউজিং কানেক্ট’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে লটারির ভিত্তিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হাউজিং কানেক্ট কর্মসূচির আওতায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য নির্ধারিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়। আগ্রহী আবেদনকারীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রুকলিনে কম ভাড়ায় দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোনো আবাসনের ভাড়া, ইউনিটের ধরন কিংবা যোগ্যতার শর্ত নির্ভর করে নির্দিষ্ট প্রকল্পের ওপর। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা জরুরি।
হাউজিং কানেক্টের মাধ্যমে পরিচালিত এসব কর্মসূচিতে আবেদনকারীদের পারিবারিক আয়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। নির্বাচিত ব্যক্তিদের পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসন ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন কর্মসূচিগুলো অনেক বাসিন্দার কাছে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রকল্পে নিয়মিত আবেদন গ্রহণ করা হয়।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং কানেক্ট ওয়েবসাইটে চলমান ও আসন্ন আবাসন লটারির বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যাবে। কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শুধুমাত্র সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে এবং এ ধরনের আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো ফি প্রদান না করার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী সংগীত দল ‘আটলান্টা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা’ (এএসও) আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী বা ‘সেমি কুইনসেন্টেনিয়াল’ উদ্যাপন উপলক্ষে এক জোড়া বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে দলটির পক্ষ থেকে আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কালজয়ী কিছু ধ্রুপদি সংগীত পরিবেশন করা হবে। বৃহস্পতিবার সিবিএস আটলান্টার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই জমকালো সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই স্থানীয় সংগীতপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই অনন্য আয়োজনের মাধ্যমে আমেরিকার সমৃদ্ধ সুরের ধারাকে দর্শকদের সামনে নতুন করে তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের ঘোষিত সুনির্দিষ্ট সূচি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ উৎসবের প্রথম কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিম্ফনি অ্যাট সানসেট’। এটি আগামী শনিবার (১৩ জুন) ঠিক সন্ধ্যা ৬টায় আলফারেটার বিখ্যাত ‘আমেরিস ব্যাংক অ্যাম্ফিথিয়েটারে’ অত্যন্ত জমকালো পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এই কনসার্টটি উপভোগ করতে আসা সংগীতপ্রেমী দর্শকদের সুবিধার্থে থিয়েটারের মূল প্রবেশদ্বার অনুষ্ঠান শুরুর এক ঘণ্টা আগে অর্থাৎ বিকেল ৫টাতেই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এরপর এই ধারাবাহিকের দ্বিতীয় কনসার্টটি ‘আমেরিকা @ ২৫০ এনকোর: বার্নস্টেইন, কোপল্যান্ড + বারবার’ শিরোনামে আগামী বুধবার (১৭ জুন) রাত ৮টায় মিডটাউনের মূল ‘আটলান্টা সিম্ফনি হলে’ মঞ্চস্থ হবে। এই দুটি বিশেষ কনসার্টের প্রবেশ টিকিট ইতিমধ্যেই সর্বসাধারণের ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ বহুসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার মূল আকর্ষণ হচ্ছে আমেরিকার এমন কিছু অত্যন্ত জনপ্রিয় ক্লাসিক বা ধ্রুপদি সংগীতের জীবন্ত পরিবেশনা, যা সাধারণ শ্রোতারা শোনার সাথে সাথেই মুহূর্তের মধ্যে সহজে চিনে নিতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বখ্যাত মিউজিক্যাল ড্রামা ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’, ‘অ্যান আমেরিকান ইন頨 প্যারিস’, ‘অ্যাপালাচিয়ান স্প্রিং’ এবং বিখ্যাত ‘ফ্যানফেয়ার ফর দ্য কমন ম্যান’-এর মতো কালজয়ী সব সুরের মূর্ছনা। আয়োজকেরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছেন যে, এই কনসার্টে পরিবেশিত সুমধুর সংগীত এবং স্বয়ং এই অর্কেস্ট্রা দলটি মূলত আমেরিকার বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং আটলান্টা শহরের জাতিগত বহুত্ববাদকে বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বলভাবে ফুটিয়ে তুলবে। আটলান্টা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার কনসার্টমাস্টার ডেভিড কাউচেরন, যিনি বিগত দীর্ঘ ১৭টি সফল মৌসুম ধরে এই ঐতিহ্যবাহী সংগীত দলের সাথে অত্যন্ত সুনামের সাথে যুক্ত আছেন। তিনি মূলত ইউরোপের দেশ নরওয়ে থেকে এসে আটলান্টায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানান, একজন সাধারণ অভিবাসী হিসেবে আমেরিকার এই ২৫০তম ঐতিহাসিক স্বাধীনতা বার্ষিকীতে মার্কিন ধ্রুপদি সংগীত সরাসরি শোনার ও পরিবেশন করার বিষয়টি তাঁর কাছে এক বিশেষ অনুভূতি, গভীর সম্মান ও ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে। কাউচেরন নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, “আমি নরওয়ে থেকে এখানে এসেছি, তাই আমি জন্মসূত্রে এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নই। কিন্তু একজন বিদেশি হিসেবে কোপল্যান্ড বা বার্নস্টেইনের মতো মহান মার্কিন সংগীতজ্ঞদের কালজয়ী সুরের মাধ্যমে আমেরিকানদের ২৫০ বছরের স্বাধীনতা উদ্যাপন সশরীরে দেখতে পাওয়াটা আমার জন্য সত্যিই এক অসাধারণ ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।” সংগীতের এই জাদুকরী মূর্ছনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে আটলান্টা সিম্ফনি হলের দর্শক সারিতে এক বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন কনসার্টমাস্টার কাউচেরন, যা মূলত আটলান্টা শহরের ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈচিত্র্যেরই এক বাস্তব ও ইতিবাচক প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দর্শক দিয়ে পুরো হল পূর্ণ করতে পারছি, যা বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যান্য অনেক বড় শহরের থিয়েটার বা হলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো একটি ধারা বা ক্ষয়িষ্ণু ট্রেন্ড দেখাচ্ছে। মিডটাউন আটলান্টার সাধারণ মানুষ যেভাবে দিন দিন এখানে বেশি আসছেন এবং আমাদের হল পূর্ণ করছেন, তা অর্কেস্ট্রার জন্য সত্যিই আনন্দদায়ক। একজন মঞ্চের সংগীতশিল্পী হিসেবে এটা জানা যে, আপনার কঠোর পরিশ্রম সরাসরি সমাজের মানুষের হৃদয়ে গভীর নাড়া দিচ্ছে, এটাই আমাদের পুরো দলের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ দিতে নতুন একটি প্রিমিয়াম সেবা চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত অস্থায়ী বিধিমালা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি শুরু হবে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করলে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে এই দুই ধরনের ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। ফলে প্রিমিয়াম সেবা নিতে মোট খরচ হবে ৯৩৫ ডলার। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলে শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ মিলবে। এতে ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনা বা সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব পড়বে না। পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচি চলবে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শুরুতে সীমিতসংখ্যক মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে এটি চালু হবে। কোন কোন মিশনে সেবাটি পাওয়া যাবে, সে তালিকা পরে প্রকাশ করা হবে। মার্কিন সরকারের ধারণা, আগামী বছরগুলোতে দেশটিতে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়বে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে সামনে রেখে ভিসার চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। সে কারণেই দ্রুত সাক্ষাৎকার সেবার কার্যকারিতা যাচাই করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি ফিফার সাথে একটি চুক্তি করেছেন, যার মাধ্যমে শহরটির বাসিন্দারা মাত্র ৫০ ডলারে এক হাজারটি বিশ্বকাপের টিকিট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এই খবর প্রকাশের পর আটলান্টার ফুটবল ভক্তরা মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্সের কাছেও নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের জন্য ছাড়যুক্ত টিকিটের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন। 'প্লে ফেয়ার এটিএল' নামের একটি স্থানীয় গোষ্ঠীর নেতৃত্বে এই দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তাদের দাবি, টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম সত্ত্বেও আটলান্টার সাধারণ বাসিন্দাদের নিজ শহরে আয়োজিত বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকা উচিত। সমর্থকদের মতে, যুব লিগ থেকে শুরু করে 'আটলান্টা ইউনাইটেড'-এর মতো স্থানীয় দলগুলোর কারণে শহরের বৈচিত্র্যময় 'মেল্টিং পট' বা মিশ্র সংস্কৃতি গভীরভাবে ফুটবলের সাথে যুক্ত। তাদের আশঙ্কা, টিকিটের এই অত্যধিক দাম সেইসব স্থানীয় ভক্তদের খেলা দেখা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করবে, যারা মূলত এই খেলাকে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এবং সিজন টিকিট হোল্ডার অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বকাপের বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তার সাথে বর্তমানের এই অত্যধিক ব্যয়বহুল বা অর্থনির্ভর ব্যবস্থা পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এর পাশাপাশি, তারা যাতায়াত খরচের সুবিধাটিও তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক সিটির কাছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য যেখানে দর্শকদের অনেক বেশি ট্রানজিট ভাড়া গুনতে হয়, সেখানে আটলান্টায় 'মার্টা' (MARTA) ট্রানজিট ভাড়া প্রতি যাত্রায় মাত্র আড়াই ডলার। তাই যাতায়াত সহজ হলেও টিকিটের দামই এখানে প্রধান অন্তরায়। ভক্তদের মতে, বর্তমানে গ্যালারির ওপরের দিকের সাধারণ আসনের জন্যও গড়ে ৪০০ ডলারের বেশি দাম হাঁকানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের একেবারেই বাইরে। এ কারণেই শহর কর্তৃপক্ষের কাছে ছাড়যুক্ত টিকিটের জন্য ফিফার সাথে আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। 'প্লে ফেয়ার এটিএল'-এর পরিচালক মাইকেল কলিন্স বলেন, নিউইয়র্ক যদি সস্তায় টিকিটের ব্যবস্থা করতে পারে, তবে আটলান্টারও তা পারা উচিত; বিশেষ করে যখন এই শহরেই ইউএস সকারের জাতীয় সদর দপ্তর অবস্থিত এবং এটি বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান একটি ভেন্যু হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম—যা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে 'আটলান্টা স্টেডিয়াম' নামে পরিচিত—একটি সেমিফাইনালসহ বিশ্বকাপের মোট আটটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে।