যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কস এলাকায় প্রকাশ্য দিনের আলোতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটির নাম জ্যাকব ফ্রেইটাস। সে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক কর্মকর্তার ছেলে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তার সংঘর্ষের সময় ছোড়া গুলির শিকার হয়ে নিরপরাধ পথচারী হিসেবে প্রাণ হারায় জ্যাকব। ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেলে ব্রঙ্কসের মাউন্ট ইডেন এলাকার এলিয়ট প্লেসে অবস্থিত একটি দোকানের সামনে। পুলিশ জানায়, ওই সময় কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হলে জ্যাকবের শরীরে গুলি লাগে। একই ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তি আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকব ওই দোকানে একটি বল কিনতে গিয়েছিল। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সে সাইকেল নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার পরই কাছাকাছি কয়েকজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। পরে গুলির শব্দ হলে শিশুটি নিজের বুকের ওপরের অংশ ধরে আবার দোকানের ভেতরে দৌড়ে যায় এবং সেখানে পড়ে যায়। আহত অবস্থায় জ্যাকবকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের লিংকন হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিটি তার কাঁধের কাছে লাগে। একই ঘটনায় আহত ২৫ ও ৩৪ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জ্যাকব শান্ত স্বভাবের ও ভদ্র একটি শিশু ছিল। পরিবারের স্বজনরা জানান, সে নিয়মিত এলাকায় সাইকেল চালাত এবং সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত। ঘটনার সময় তার বাবা শহরের বাইরে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত ছিল। তবে কে গুলি চালিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তদন্ত চলছে। ঘটনাটি নিউইয়র্কের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় একটি শিশুর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দশটি অঙ্গরাজ্যে মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। ফক্স ওয়েদারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়ার এই অনুকূল পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করায় এই অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য মশা গ্রীষ্মকালের একটি পরিচিত বিরক্তিকর বিষয় হলেও নির্দিষ্ট এই রাজ্যগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মশার উপদ্রবে এগিয়ে থাকা শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্যের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো: টেক্সাস তালিকার শীর্ষে থাকা এই অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৮৫ প্রজাতির মশার উপদ্রব রয়েছে। আর্দ্র বন, উপকূলীয় নিচু সমভূমি এবং বড় বড় শহরে মশার বিস্তার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ফ্লোরিডা উপক্রান্তিক জলবায়ু, উষ্ণ তাপমাত্রা ও প্রচুর বৃষ্টির কারণে এখানে সারা বছরই মশা সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে এভারগ্লেডস জলাভূমিতে এদের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করে। নিউইয়র্ক জনবহুল শহর থেকে শুরু করে পাহাড়ি বনভূমি ও বালুকাময় উপকূল পর্যন্ত প্রায় ৭০ প্রজাতির মশার বিস্তার রয়েছে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে এখানকার পার্ক ও ট্রেইলগুলোতে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। লুইজিয়ানা বাপ্পা, জলাভূমি এবং নদীনালাঘেরা এই রাজ্যে ৬৮ প্রজাতির মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র রয়েছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানকার দীর্ঘ ও একটানা মশার মৌসুম বজায় থাকে। জর্জিয়া ঘন বন, উপকূলীয় জলাভূমি ও দাঁড়িয়ে থাকা পানির কারণে এখানে ৬০ প্রজাতিরও বেশি মশার বিস্তার ঘটে। গ্রীষ্মের উষ্ণতা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা মশার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আলাবামা উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আর্দ্রতা মশার প্রজননের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। বসন্ত থেকে শুরু করে শরৎকাল পর্যন্ত এই পতঙ্গের উপদ্রব বজায় থাকে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা উপকূলীয় মার্শ এবং ঘন ঘন গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টির কারণে মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়। প্রায় ৬১ প্রজাতির মশার আবাসস্থল থাকায় এখানে গ্রীষ্মে মশার উৎপাত বেশি থাকে। উত্তর ক্যারোলাইনা পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে আটলান্টিক উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত ভৌগোলিক বৈচিত্র্য রয়েছে। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এখানে প্রায় ৬০ প্রজাতির মশা সক্রিয় থাকে। কেনটাকি গ্রীষ্মকালের তীব্র গরম, আর্দ্রতা এবং ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে এই অঙ্গরাজ্যের আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের জন্য বেশ উপযোগী। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশার কার্যক্রম চরমে থাকে। মিশিগান হ্রদ, নদী ও বনাঞ্চলে ঘেরা এই রাজ্যে গ্রীষ্মকালের উষ্ণ আবহাওয়া মশার প্রজনন বাড়ায়। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশার উপদ্রব এখানকার প্রধান গ্রীষ্মকালীন সমস্যাগুলোর একটি।
নিউইয়র্ক সিটির ৯১ শতাংশ উচ্চতম ভবনে ত্রয়োদশ তলা বা ১৩ নম্বর ফ্লোরটি এড়িয়ে যাওয়া হয়। অনলাইন ক্যাসিনো ম্যাকলাকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সংখ্যার কুসংস্কার মানুষের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে এটি তারই একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ। তেরো সংখ্যাটিকে অলুক্ষুণে মনে করায় অনেক ডেভেলপার ভবন তৈরির সময় ১২ তলার পর সরাসরি ১৪ তলা নম্বর ব্যবহার করেন অথবা ফ্লোরটির নাম পরিবর্তন করে '১২এ' রাখেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অ্যাপার্টমেন্টে সরাসরি ১৩ নম্বরটি রয়ে গেছে, সেগুলোর বিক্রি সাধারণত একই ভবনের সমমানের অন্য ইউনিটগুলোর তুলনায় কিছুটা কম হয়। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে জেসাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাকারী জুডাস ইসকারিয়টকে শেষ ভোজের ১৩তম অতিথি হিসেবে গণ্য করার পর থেকেই মূলত এই সংখ্যাটিকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। মার্কিন ইতিহাসভিত্তিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার ১৩ তারিখে আমেরিকানরা ভ্রমণ বা বড় ধরনের খরচ কমিয়ে দেওয়ায় দেশটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি হয় শত শত কোটি ডলার। কুসংস্কারের এই প্রভাব কেবল আবাসন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; জার্মানির লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও তাদের ফ্লাইটে ১৩ নম্বর সারিটি সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে থাকে। অন্যদিকে, পূর্ব এশীয় সংস্কৃতিতে 'চার' সংখ্যাটিকে মৃত্যুর সমার্থক মনে করা হয়, কারণ এর উচ্চারণ চীনা ভাষায় মৃত্যুর কাছাকাছি। তাই হাসপাতাল, হোটেল বা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এই সংখ্যাটি বাদ দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির বেশিরভাগ গাড়ির লাইসিন্স প্লেট থেকেও এটি সরিয়ে ফেলা হয়। এর বিপরীতে 'আট' সংখ্যাটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়, কারণ এর উচ্চারণ সমৃদ্ধির শব্দের সঙ্গে মিলে যায়। চীনের চেংদুতে আবাসন বাজারের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, আট সংখ্যাযুক্ত বা শেষ হওয়া ফ্লোরের অ্যাপার্টমেন্টগুলো প্রতি বর্গমিটারে বেশি দামে বিক্রি হয় এবং অন্যান্য ফ্লোরের তুলনায় দ্রুত বিক্রি সম্পন্ন হয়। এমনকি সৌভাগ্যের আশায় বিশেষ ফোন নম্বরগুলোও চড়া দামে নিলামে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার (৯/১১) ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোতে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির উপস্থিতির বিরোধিতা করে তাকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন নিহতদের পরিবারের একাংশ। এ দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনও চালু হয়েছে, যেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন বলে আয়োজকদের দাবি। পিটিশনের উদ্যোক্তাদের একজন জিওভান্নি গ্যালান্তে, যিনি ২০০১ সালের হামলায় তার স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, মামদানির অতীতের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য ৯/১১ হামলার স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই তার উপস্থিতি নিহতদের পরিবারের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। তবে এ দাবি কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। এখন পর্যন্ত জাতীয় ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ মেয়রকে অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ করার কোনো ঘোষণা দেয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্মরণানুষ্ঠানকে অরাজনৈতিক ও মর্যাদাপূর্ণ রাখার নীতির কথা বলে আসছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানি ইতোমধ্যেই ৯/১১ স্মৃতি জাদুঘরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। গত মে মাসে ফায়ার ডিপার্টমেন্টের এক অনুষ্ঠানে তিনি ৯/১১ হামলাকে শহরের ইতিহাসের "সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা" হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে স্মরণানুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়ে উঠছে। তবে স্মরণানুষ্ঠানে কে উপস্থিত থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের হাতেই রয়েছে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে যাত্রী নামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী ফর হায়ার গাড়িচালক রুহুল আমিন। শুক্রবার ভোরে ফোর্ট গ্রিন এলাকায় একটি ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক ব্যক্তি তার গাড়ির কাছে এসে মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স তাকে এমডি আমিন নামে শনাক্ত করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিতে তিনি রুহুল আমিন নাসির নামে পরিচিত বলে কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৪টার কিছু পর ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিনের নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে সময় আমিন রাতের শিফটে কাজ করছিলেন। সিবিএস নিউইয়র্ক ও এনওয়াইওয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রী নামানোর সময় আমিনের গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়। এরপর সেখানে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন আমিন। পুলিশ সূত্রের বরাতে এনওয়াইওয়ান জানায়, বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পাশের হুইটম্যান হাউসেস এলাকা থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে এসে আমিনের গাড়ির কাছে যায়। ওই ব্যক্তি গাড়ির জানালায় নক করার পর তাকে গুলি করে। গুলিটি আমিনের মুখের ডান পাশে লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমিনকে নিউইয়র্ক প্রেসবিটারিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শনিবার সকালে নিউজ ১২ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও এনওয়াইওয়ানকে জানান, আমিন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে কুইন্সে বসবাস করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে আসছেন। ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমোজিন কমিশন চালকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রত্যেক চালকের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার অধিকার রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এটি দ্বিতীয় চালকের ঘটনা। আমিনের পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর বন্দুকধারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলাকারীর পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা জানতে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম রেলকেন্দ্র নিউইয়র্কের পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্টেশনটির নতুন নাম নির্ধারণে কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি। তবে স্টেশনটির নাম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হতে পারে—এমন সম্ভাবনা সামনে আসায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতাদের কাছে পাঠানো অর্থায়ন প্রস্তাবে ডাফি অ্যামট্রাককে পেন স্টেশনের নাম বদলের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো নতুন নাম প্রস্তাব করা না হলেও পুনর্নির্মিত স্টেশনের কিছু নকশায় ট্রাম্পের নাম ও প্রেসিডেন্টের সিল দেখা গেছে। এ কারণেই প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ‘ট্রাম্প স্টেশন’ নামে পরিচিত হতে পারে বলে আলোচনা জোরালো হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, স্টেশনটির নাম তাঁর নামে রাখার প্রস্তাব তিনি নিজে দেননি। তাঁর দাবি, কয়েকজন রাজনীতিক ও নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়নের নেতা প্রথম এই ধারণা সামনে এনেছিলেন। তবে এর আগে পরিবহনমন্ত্রী ডাফিও প্রকাশ্যে ‘ট্রাম্প স্টেশন’ নামের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পেন স্টেশন পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনায় একটি বৃহৎ নতুন প্রবেশপথ, উঁচু ছাদ, প্রশস্ত কনকোর্স, উন্নত যাত্রী চলাচল ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন বর্তমান অবস্থানেই থাকবে, তবে এর থিয়েটারের অংশ সরিয়ে স্টেশনের জন্য উন্মুক্ত প্রবেশপথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালে পেন স্টেশন পুনর্গঠন প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির কাছ থেকে নিয়ে অ্যামট্রাকের হাতে দেয়। কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে। পেন স্টেশন প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রী ব্যবহার করেন। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির আঞ্চলিক ট্রেনের পাশাপাশি অ্যামট্রাকের দূরপাল্লার রেলসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এটি। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটির সংকীর্ণ পথ, কম আলো, অতিরিক্ত ভিড় এবং জটিল চলাচলব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। স্টেশনটির বর্তমান নাম এসেছে পেনসিলভানিয়া রেলরোড থেকে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নির্মিত মূল পেন স্টেশনটি বিশাল স্তম্ভ ও ধ্রুপদি স্থাপত্যের জন্য পরিচিত ছিল। ১৯৬০-এর দশকে সেটি ভেঙে বর্তমান ভূগর্ভস্থ স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন নির্মাণ করা হয়। ঐতিহাসিক ভবনটি ধ্বংসের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হয়। নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন নিউইয়র্কের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও যাত্রী অধিকার সংগঠন। পেন স্টেশন যে নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত, সেই এলাকার প্রতিনিধি জেরি ন্যাডলার প্রকল্পটিকে ব্যক্তিগত প্রচারের উদ্যোগ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। বিরোধীদের বক্তব্য, বিপুল সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন প্রকল্পের নামকরণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত নয়। এর আগে ট্রাম্প নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মধ্যে হাডসন নদীর নিচে নতুন রেলসুড়ঙ্গ নির্মাণের জন্য আটকে থাকা প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে পেন স্টেশন ও ওয়াশিংটনের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাঁর নামে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ট্রাম্প প্রশাসন ও তাঁর সমর্থকেরা অবশ্য নামকরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। পেন স্টেশনের নাম শেষ পর্যন্ত বদলানো হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। কংগ্রেসের অনুমোদন এবং অ্যামট্রাকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। তবে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরুর আগেই স্টেশনটির নতুন অবকাঠামোর চেয়ে নামকরণ ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আবারও বন্দুক হামলার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি রাইডশেয়ার চালক। ব্রুকলিনে এক যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর সামান্য সড়ক দুর্ঘটনার জেরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তার মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে দায়িত্ব পালনরত চালকদের ওপর এটি দ্বিতীয় বন্দুক হামলার ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকার নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ে ঘটনাটি ঘটে। ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি অভিবাসী ও টিএলসি লাইসেন্সধারী চালক মোহাম্মদ আমিন একজন যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর তার গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের সামান্য সংঘর্ষ হয়। এরপর দুই চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন উপস্থিত হন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সংঘর্ষে জড়িত কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা এক ব্যক্তি পাশের হুইটম্যান হাউজেস আবাসন এলাকা থেকে বেরিয়ে এসে হঠাৎ চালকের জানালার কাছে গিয়ে তার ডান গালে গুলি করে। হামলার পরপরই ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোহাম্মদ আমিনকে দ্রুত নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও বলেন, মোহাম্মদ আমিন কোনো ঝগড়ায় জড়াননি। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকার কারণেই তিনি হামলার শিকার হন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, কুইন্সের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন গত ১৬ বছর ধরে নিউইয়র্কে গাড়ি চালিয়ে পরিবার চালিয়ে আসছেন। তার চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হামলাকারীকে শনাক্তে তথ্যদাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে। ঘটনার পর আবারও ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন ফার্নান্দো মাতেও। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের প্রতিটি টিএলসি লাইসেন্সধারী ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত। এতে চালকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সহজ হবে। এই হামলার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ব্রুকলিনেই আরেক চালক, পাকিস্তানি অভিবাসী ড্যানিশ সারওয়ার, ডাকাতির চেষ্টা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের সময় গুলিবিদ্ধ হন। তার ঘাড়ে গুলি লাগে এবং দীর্ঘ সময় তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরপর দুটি ঘটনায় নিউইয়র্কে ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, হামলার কারণ এবং বন্দুকধারীর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। হামলাকারীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পেন স্টেশন এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনায় পুরোনো ও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত এই স্টেশনকে আধুনিক, প্রশস্ত ও দৃষ্টিনন্দন ট্রানজিট হাবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশাল এই সংস্কার প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন আরেকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। পেন স্টেশনের নামও পরিবর্তন করতে চায় প্রশাসন। আর সেই নতুন নামের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত হতে পারে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বুধবার কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট কমিটিগুলোর নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাফি কংগ্রেসকে আমট্রাককে নিউইয়র্ক পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নতুন নাম কী হবে, সেটি চিঠিতে উল্লেখ করেননি পরিবহনমন্ত্রী। পরিবহন বিভাগের মুখপাত্ররা সংবাদমাধ্যমকে চিঠিটি দিলেও সম্ভাব্য নতুন নাম নিয়ে পরবর্তী প্রশ্নের জবাব দেননি। এ কারণেই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পেন স্টেশনের নতুন নাম কি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে হতে পারে? এই জল্পনা একেবারে নতুন নয়। ডাফি এর আগেও পেন স্টেশনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার ধারণার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। গত বছর তাকে সম্ভাব্য “ট্রাম্প স্টেশন” নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, নামটি শুনতে ভালো লাগে। এ বছরের শুরুতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকেও পেন স্টেশনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনিও সেই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেননি। তবে এখন পর্যন্ত পেন স্টেশনের নাম “ট্রাম্প স্টেশন” বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং ট্রাম্পের নামে নামকরণ, দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি এখন প্রশাসনের ঘোষিত অগ্রাধিকারের অংশ, দ্বিতীয়টি এখনো সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পেন স্টেশন নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছে পেন স্টেশন নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন খুব একটা নেই। নিউ জার্সি, লং আইল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহর থেকে ম্যানহাটনে যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রতিদিনের পথ এই স্টেশনের মধ্য দিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের হিসাবে, প্রতিদিন ছয় লাখের বেশি যাত্রী পেন স্টেশন ব্যবহার করেন। আমট্রাক, নিউ জার্সি ট্রানজিট এবং লং আইল্যান্ড রেল রোডের ট্রেন চলাচলের কারণে এটি নিউইয়র্ক অঞ্চলের রেল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। পরিবহন বিভাগ এটিকে পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে ব্যস্ত ট্রানজিট হাব হিসেবে উল্লেখ করেছে। অথচ যাত্রীসংখ্যা ও গুরুত্বের তুলনায় বর্তমান পেন স্টেশনের পরিবেশ নিয়ে বহু বছর ধরে অভিযোগ রয়েছে। নিচু ছাদ, ভূগর্ভস্থ করিডোর, ভিড়, জটিল চলাচলের পথ এবং পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাব নিয়ে নিউইয়র্কবাসী ও যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জানিয়ে আসছেন। নতুন পেন স্টেশন কেমন হবে গত ৮ জুন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি, আমট্রাক এবং প্রকল্পের মাস্টার ডেভেলপার পেন ট্রান্সফরমেশন পার্টনার্স নতুন পেন স্টেশনের ডিজাইন প্রকাশ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমান স্টেশনকে শুধু সাজানো নয়, যাত্রীদের অভিজ্ঞতাই আমূল বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এইটথ অ্যাভিনিউয়ের দিকে বড় নতুন প্রবেশপথ ও ট্রেন হল থাকবে। ভেতরের চলাচলের পথ আরও সহজ করা হবে, অপেক্ষার জায়গা বাড়ানো হবে এবং স্টেশনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমানতা উন্নত করা হবে। বর্তমান স্টেশনের যেসব জায়গায় পথ হঠাৎ শেষ হয়ে যায় বা যাত্রীদের ঘুরে যেতে হয়, সেগুলোও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি স্টেশন তৈরি করা, যেখানে প্রথমবার আসা যাত্রীও তুলনামূলক সহজে নিজের ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম বা বের হওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারবেন। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনও তার বর্তমান অবস্থানেই থাকবে। নির্মাণকাজ চলার সময় ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন এবং স্টেশন ব্যবহারকারী রেল সার্ভিসগুলো চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মূল নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। কারা তৈরি করবে নতুন পেন স্টেশন ২০২৬ সালের মে মাসে পেন ট্রান্সফরমেশন পার্টনার্সকে প্রকল্পের মাস্টার ডেভেলপার হিসেবে নির্বাচন করা হয়। হালমার ও স্কানস্কার নেতৃত্বে গঠিত যৌথ উদ্যোগটি নতুন স্টেশনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফেডারেল সরকার ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নিতে অর্থ দিয়েছে। পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ৪৩ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল গ্র্যান্ট দেওয়া হয়। এরপর গত মে মাসে ডিজাইন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাজ এগিয়ে নিতে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা আসে। জুলাইয়ে ফেডারেল রেলরোড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি প্রাথমিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান অবকাঠামোতে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে পেন স্টেশনে ঘণ্টায় ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩২টি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। এই গবেষণার ফল ভবিষ্যতের ট্র্যাক ও স্টেশন ডিজাইন তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। পেন স্টেশনের নাম কোথা থেকে এলো আজকের “Penn Station” নামটির সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের সম্পর্ক নেই। নামটি এসেছে Pennsylvania Railroad থেকে। এই রেল কোম্পানিই বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নিউইয়র্কে মূল Pennsylvania Station নির্মাণ করেছিল। ১৯১০ সালে চালু হওয়া সেই স্টেশন ছিল বিশাল ও জমকালো স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। উঁচু ছাদ, বিশাল কলাম এবং খোলা পরিসরের কারণে ভবনটি নিউইয়র্কের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শনে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৬৩ সালে মূল ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে ওই এলাকার ওপর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন নির্মিত হয় এবং পেন স্টেশনের বড় অংশ চলে যায় ভূগর্ভে। মূল পেন স্টেশন ধ্বংস নিউইয়র্কের ইতিহাসে অত্যন্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঘটনা শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এবারের নতুন ডিজাইনে সেই হারিয়ে যাওয়া স্থাপত্যের কিছু বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা রয়েছে। প্রকাশিত রেন্ডারিংয়ে বড় প্রবেশপথ, কলাম এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা পরিবেশ দেখা গেছে। ট্রাম্পের নাম নিয়ে বিতর্ক কেন নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ম্যানহাটনের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেরি ন্যাডলার এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের বক্তব্য, বিপুল অর্থের অবকাঠামো প্রকল্পে যাত্রীসেবা, নির্মাণ ব্যয় ও সময়সীমাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় থাকা পেন স্টেশনকে আধুনিক ও বিশ্বমানের ট্রানজিট হাবে রূপ দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও গত কয়েক বছরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবহন বিভাগ পেন স্টেশন পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনে। এরপর আমট্রাককে সামনে রেখে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখন নাম পরিবর্তনের বিষয়টি কংগ্রেসের সামনে তোলায় পেন স্টেশনকে ঘিরে অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক আলোচনাও আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য দুটি। প্রথমত, প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনায় নিউইয়র্ক পেন স্টেশনের বড় ধরনের রূপান্তর এগিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসন স্টেশনটির নাম পরিবর্তন করতে চায়। কিন্তু শত বছরের বেশি সময় ধরে পরিচিত “Penn Station” নামটি শেষ পর্যন্ত বদলাবে কি না এবং বদলালে সেখানে “Trump” নাম যুক্ত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। নিউইয়র্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোর একটির নতুন চেহারার পাশাপাশি তাই এখন নজর থাকবে তার ভবিষ্যৎ নামের দিকেও।
নিউইয়র্ক সিটির ভাড়াটিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, লিজ নবায়নের সময় ভাড়া বাড়লে বাড়িওয়ালা চাইলে সিকিউরিটি ডিপোজিটও বাড়াতে পারবেন, এমনকি ভাড়াটিয়া বহু বছর ধরে একই বাসায় থাকলেও। নিউইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়ালের নিয়ম অনুযায়ী, সিকিউরিটি ডিপোজিট সর্বোচ্চ এক মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ হতে পারে। তাই লিজ নবায়নের সময় মাসিক ভাড়া বেড়ে গেলে সেই নতুন ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অতিরিক্ত ডিপোজিট চাইতে পারেন বাড়িওয়ালা। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কোনো ভাড়াটিয়া যদি বিশেষ কারণে ভাড়া বৃদ্ধি থেকে অব্যাহতি পান, তবুও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাড়িওয়ালা সিকিউরিটি ডিপোজিট সমন্বয়ের দাবি করতে পারেন। তবে এই অর্থ বাড়িওয়ালার কাছে ইচ্ছেমতো রাখা যাবে না। আইন অনুযায়ী, সিকিউরিটি ডিপোজিট নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি সুদযুক্ত ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। সেই হিসাবের তথ্য ভাড়াটিয়াকে জানাতে হবে এবং জমা অর্থের সুদ কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়েও ভাড়াটিয়ার অধিকার রয়েছে। বাসা ছাড়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে ডিপোজিটের কত টাকা মেরামতের কাজে খরচ হয়েছে। যদি কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকে, সেটিও একই সময়ের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। কোনো বাড়িওয়ালা যদি নির্ধারিত ১৪ দিনের মধ্যে এই হিসাব না দেন, তাহলে তিনি ডিপোজিটের কোনো অংশ কেটে রাখার অধিকার হারাতে পারেন। সিকিউরিটি ডিপোজিট নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ভাড়াটিয়ারা স্মল ক্লেইমস কোর্ট অথবা নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের কনজিউমার ফ্রডস অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যুরোতে অভিযোগ করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লং আইল্যান্ডভিত্তিক একটি অ্যাম্বুলেট পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক আদনান আরশাদ মেডিকেইডে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারেরও বেশি জালিয়াতির মামলায় ৮ বছর ১ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত তার ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল আইসলিপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত এ রায় দেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে আদনান আরশাদ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আদনান আরশাদ নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি এমটিকে ট্যাক্সির মালিক এবং অল-স্টার ট্যাক্সির সহ-মালিক ছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুনে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তিনি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মেডিকেইডে ভুয়া পরিবহন বিল জমা দিয়ে এই জালিয়াতি চালিয়ে যান। তদন্তে দেখা যায়, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের অবৈধ অর্থ বা কিকব্যাক দেওয়া হতো। এরপর তাদের নামে পরিবহন সেবার বিল জমা দিয়ে মেডিকেইড থেকে অর্থ আদায় করা হতো। এমনকি যেসব ব্যক্তি মারা গেছেন, হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা কারাগারে ছিলেন, তাদের নামেও ভুয়া যাতায়াত দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। জালিয়াতির অর্থের পরিমাণ আরও বাড়াতে সুবিধাভোগীদের কাছাকাছি চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিবর্তে নিউইয়র্ক সিটির দূরের মেথাডোন চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আবেদন করতে বলা হতো। পাশাপাশি ভুয়া পিকআপ ঠিকানা ব্যবহার করে যাত্রাপথ দীর্ঘ দেখিয়ে মেডিকেইড থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। মার্কিন প্রসিকিউটর জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত মেডিকেইড কর্মসূচিকে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন আদনান আরশাদ। তিনি জালিয়াতির অর্থ দিয়ে বহু মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, একটি ফেরারি এবং একাধিক বিএমডব্লিউ ও মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ি কিনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। এই সাজা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা বহন করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদনান আরশাদকে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মামলায় জড়িত তার অন্তত পাঁচজন সহযোগী ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করেছেন। তাদের সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পরিচালিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ বা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন বিচার বিভাগ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব আইনি ক্ষমতায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার চাইলে আইসিসির পরোয়ানা বাস্তবায়নের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মামদানি নেতানিয়াহুকে "যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অভিযুক্ত ব্যক্তি" হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আইসিসি তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস নেতানিয়াহুর বিচার আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় হওয়া উচিত। তবে ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং আইসিসির এখতিয়ারও স্বীকার করে না। মামদানি জানান, নেতানিয়াহু যদি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসেন, সে ক্ষেত্রে তার প্রশাসন কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে সিটির আইন বিভাগ পর্যালোচনা করেছে। তবে সেই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব আইনি ক্ষমতায় আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেব না। আইন যা অনুমতি দেয়, আমরা শুধু সেটুকুই করব।" একই সঙ্গে মামদানি বলেন, "বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। কোনো পলাতক যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও আমরা স্বাগত জানাই না।" তিনি আরও বলেন, "আমরা হয়তো একা এই যুদ্ধ থামাতে পারব না, কিন্তু অন্যায়ের মুখে নীরব থাকব কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।" মামদানির এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ইসরায়েল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র নয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য না হওয়ায় এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনৈতিক সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন বিধান জড়িত থাকায়, কোনো মার্কিন শহরের মেয়রের পক্ষে এককভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা অত্যন্ত জটিল আইনি বিষয়। এ কারণে বিষয়টি মূলত ফেডারেল সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে। এদিকে মামদানির বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী শামসুল হক শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। দীর্ঘ ভোট গণনা ও হাতে পুনর্গণনার (হ্যান্ড রিকাউন্ট) পর ১৫ জুলাই চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনস। ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যাট্রিক মার্টিনেজ ২ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। শামসুল হক পান ২ হাজার ৭৭৭ ভোট। নির্বাচনটি ছিল নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ৩০তম ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি। এই ডিস্ট্রিক্টের আওতায় কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস, উডসাইড, এলমহার্স্ট, ইস্ট এলমহার্স্ট ও মাসপেথের অংশ রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় প্রাইমারিতে বিজয়ী হওয়াই সাধারণ নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত প্রাইমারি ভোটের রাতে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল ১৩ ভোট। পরে অনুপস্থিত (অ্যাবসেন্টি), আগাম এবং অন্যান্য বৈধ ব্যালট গণনার পর ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র ২ ভোটে। এত অল্প ব্যবধান হওয়ায় নিউইয়র্কের নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাতে পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েক দিন ধরে প্রতিটি ব্যালট যাচাই শেষে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৭ ভোটে এবং প্যাট্রিক মার্টিনেজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। শামসুল হক একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সাবেক কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘ সময় নিউইয়র্ক সিটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশ বাহিনীতে কর্মজীবন শেষে তিনি কমিউনিটি সংগঠন, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সাশ্রয়ী আবাসন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, গণপরিবহন উন্নয়ন, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসী পরিবারের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে বিজয়ী প্যাট্রিক মার্টিনেজ একজন সাবেক শিক্ষক, কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এবং কমিউনিটি বোর্ড–২-এর সদস্য। নির্বাচনের ফল নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পুরো ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতাদের মতে, শামসুল হকের এই প্রার্থিতা বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি বিজয়ী হলে নিউইয়র্ক স্টেট আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান সদস্যদের একজন হিসেবে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেতেন। তাঁর প্রচারণা কুইন্সের বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করেছিল। নিউইয়র্ক পোস্ট, কুইন্স ঈগল এবং সিটি অ্যান্ড স্টেট নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচন আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ৭ ভোটের ব্যবধানই নির্ধারণ করে দিয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনসভা আসনের প্রতিনিধিত্ব এবং একটি ঐতিহাসিক সম্ভাবনার পরিণতি।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।” তিনি নিউইয়র্ক সফরের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও অবাধ উপস্থিতির বিষয়েও আশ্বাস দেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনগতভাবে কী করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” করছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, আইন যা অনুমতি দেয়, তার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। মামদানির বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মনে করেন মেয়র মামদানি “গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করেন”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এসব মন্তব্য সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। এদিকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য আশ্বাসের পর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত অভিযোগে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির এই এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনও আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আদালতের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের উচ্চ বেতনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটেছেন ২৯ বছর বয়সী মিশেল ইয়ুং। দীর্ঘ পরিকল্পনা, সঞ্চয় এবং প্রশিক্ষণের পর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইডে তিনি চালু করেন ‘ম্যাচা হাউস’ নামে একটি বিশেষায়িত ম্যাচা ক্যাফে। ব্যবসা শুরুর এক বছরের মধ্যেই সেটি লাভজনক হওয়ার পথে রয়েছে। সিএনবিসি মেক ইট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়লেও ২০২২ সালের পর থেকে নিজের কাজের প্রতি আগ্রহ হারাতে শুরু করেন ইয়ুং। তার ভাষায়, তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যা মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে এবং কাজের মধ্যেই অর্থপূর্ণতা খুঁজে পাবেন। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচা পান করতে গিয়ে ম্যানহাটনে উচ্চমানের ম্যাচা ক্যাফের অভাব তার চোখে পড়ে। তখনই নিজের ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেন। তবে চাকরি ছেড়ে ঝুঁকি নেওয়ার আগে তিনি কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নেন। ম্যাচা সম্পর্কে গভীরভাবে জানার জন্য তিনি জাপান সফর করেন। সেখানে চা সংগ্রহ, প্রস্তুত প্রণালী, পরিবেশন পদ্ধতি এবং বিভিন্ন ধরনের ম্যাচার গুণগত মান নিয়ে গবেষণা করেন। একই সময়ে ভোর ৫টা থেকে স্টারবাকসে কাজ করে ক্যাফে পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন। এরপর নিজের সঞ্চিত দুই লাখ ডলারের বেশি অর্থের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করে ক্যাফেটি চালু করেন। বর্তমানে ‘ম্যাচা হাউস’-এ প্রায় ১০ জন খণ্ডকালীন কর্মী কাজ করছেন। শুরুতে প্রতিটি পানীয় নিজেই তৈরি করলেও এখন তিনি ধীরে ধীরে দায়িত্ব কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। ব্যবসার বেশির ভাগ আয় আবার ব্যবসার সম্প্রসারণেই বিনিয়োগ করছেন। ফলে আগে বছরে আয় ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হলেও, ২০২৬ সালে নিজের জন্য মাত্র ৩৩ হাজার ডলার বেতন নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। ইয়ুংয়ের ভাষায়, এখন তার জীবনের মূল্যায়ন আয়ের অঙ্কে নয়, প্রতিদিন কী কাজ করছেন এবং সেটি তাকে কতটা তৃপ্তি দিচ্ছে—সেখানেই। তিনি বলেন, ব্যবসার প্রথম বছর টিকে থাকতে পারাই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষায়িত কফি ও চা-ভিত্তিক ক্যাফের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সেই প্রবণতার মধ্যেই সীমিত মেনু, মানসম্মত উপকরণ এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন মিশেল ইয়ুং। তার এই যাত্রা দেখিয়ে দিচ্ছে, অনেকের কাছে আর্থিক নিরাপত্তার চেয়ে নিজের পছন্দের কাজ থেকে পাওয়া তৃপ্তিই বড় হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ২১ দিন পর মারা গেছেন নোয়াখালীর প্রবাসী রফিকুল ইসলাম সোহাগ (৪৭)। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রুকলিনের বাইতুল মামুন মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে তাকে নিউ জার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম সোহাগের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নম্বর নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করছিলেন। ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুন শুক্রবার ভোরে। নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দুই তলা আবাসিক ভবনের বেজমেন্টে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (FDNY) প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়, একটি লিথিয়াম-আয়ন চালিত ডেলিভারি ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ওই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং গুরুতর দগ্ধদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় সোহাগের স্ত্রী ও দুই সন্তান ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন ধোঁয়া পুরো বেজমেন্টে ছড়িয়ে পড়লে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি একে একে স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপদে বের করে আনেন। তবে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিজেই আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় আক্রান্ত হন। পরে উদ্ধারকারী দল তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে টানা ২১ দিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সোহাগের মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে একজন সাহসী ও আত্মত্যাগী পিতা হিসেবে স্মরণ করছেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতেও স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের আবহ।
আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সিটি সফরের কথা রয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। তবে তার এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদারি। মামদানি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার আসল জায়গা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন একজন যুদ্ধাপরাধী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত এবং তাকে দ্য হেগের আদালতে দাঁড় করানো উচিত। নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তার আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সরাসরি তার প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও, নেতানিয়াহুর মতো একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করার আইনি এখতিয়ার সিটির মেয়রের রয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না। এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের সাথে তিনি নিবিড় ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সূত্র: আল-জাজিরা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালা থেকে এক শিশু নিচে পড়ে গেছে। মট হ্যাভেন সেকশনের বেকম্যান অ্যাভিনিউর কাছে ওক ট্যারেসে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ২ বছর বয়সী এক ছেলে শিশু পঞ্চম তলার জানালা দিয়ে একটি কোর্টইয়ার্ডে পড়ে যায়। একজন প্রতিবেশী জানান, গেটটি তালাবদ্ধ থাকায় ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এবং অন্য সবাই পেছনের অংশে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেন। একজন তরুণ ফায়ার ফাইটার ভবনের ভেতরে যান এবং অন্যদের প্রবেশাধিকার দিতে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এফডিএনওয়াই জানিয়েছে, শিশুটিকে সজাগ ও সচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাকে স্থিতিশীল অবস্থায় হারলেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে (পারসন অব ইন্টারেস্ট) হেফাজতে নিয়েছেন, তবে এই সময়ে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। সূত্র: সিবিএস নিউইয়র্ক
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের পশ্চিম পাশে প্রায় ১২ ব্লকজুড়ে গড়ে ওঠা গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী শিবির নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ইন্ট্রেপিড মিউজিয়াম, জাভিটস সেন্টার ও হাডসন ইয়ার্ডসের কাছাকাছি ব্যস্ত এলাকায় সারি সারি তাঁবু, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও আবর্জনা পড়ে থাকায় মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিবিরটি ১১তম অ্যাভিনিউ ধরে ৩৪তম স্ট্রিট থেকে ৪৬তম স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত। ফুটপাতের বড় অংশ তাঁবু ও মালামালে দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কয়েকজন বাসিন্দা ও পর্যটক জানিয়েছেন, এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি চলাচলে অসুবিধা তৈরি করছে এবং নিউইয়র্কের পর্যটন ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ, যৌনকর্ম এবং সন্দেহজনক মালামাল থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি শিবিরের একাংশে সড়কের বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, শিবিরটি সরিয়ে দেওয়ার অনুমতি এখনো পুলিশকে দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। মেয়র মামদানির প্রশাসনের নতুন নীতিতে গৃহহীনদের শিবির সরানোর দায়িত্ব পুলিশের পরিবর্তে শহরের ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসকে দেওয়া হয়েছে। কোনো শিবির সরানোর নোটিশ দেওয়ার পর সাত দিন ধরে প্রতিদিন সেখানে থাকা মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সমাজসেবা কর্মীরা। এ সময় তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা ও স্থায়ী আবাসন সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। সপ্তম দিনের পর শিবির সরিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। মেয়র মামদানি বলেছেন, তাঁর প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু গৃহহীন মানুষদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে দেওয়া নয়। তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করাই মূল উদ্দেশ্য। পশ্চিম পাশের ওই শিবিরের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরে শিবিরটি সরিয়ে দেওয়া হবে জানালেও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। শহরের সমাজসেবা কর্মীরা ইতিমধ্যে ওই এলাকায় গিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার এবং গৃহহীন মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক তাঁবু ও ব্যক্তিগত মালামাল তখনো সেখানে রয়ে গেছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালসহ বড় আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতির সময় শিবিরটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এলাকাটির কাছেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র ও অনুষ্ঠানস্থল থাকায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকে।
নিউইয়র্ক সিটির ব্যয়বহুল আবাসন বাজারে স্বল্প ভাড়ায় ম্যানহাটনে বসবাসের সুযোগ খুবই বিরল। তবে এবার হেলস কিচেন এলাকায় নির্মিত নতুন আবাসিক ভবন ‘রিয়াল্টো ওয়েস্ট’ এর হাউজিং লটারির মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সেই সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে মাত্র ১,০৩১ ডলার থেকে, আর আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ আগামী ২০ জুলাই ২০২৬। ম্যানহাটনের ৫০৯ ওয়েস্ট ৪৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত নতুন এই আবাসিক ভবনে বিভিন্ন আয়ের মানুষের জন্য একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই লটারিতে নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে শুরু করে বার্ষিক সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬০ ডলার আয়কারী পরিবারও নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন। হাউজিং লটারিতে স্টুডিও, এক শয়নকক্ষ, দুই শয়নকক্ষ ও তিন শয়নকক্ষের বিভিন্ন ইউনিট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের ভাড়া আবেদনকারীর আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং নির্ধারিত ‘এরিয়া মিডিয়ান ইনকাম’ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। ফলে একই ভবনে বিভিন্ন আয়ের মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার ইউনিট বরাদ্দ রয়েছে। হেলস কিচেন ম্যানহাটনের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন আবাসিক এলাকা। টাইমস স্কয়ার, ব্রডওয়ে থিয়েটার জেলা, হাডসন রিভার পার্ক এবং অসংখ্য কর্মস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এ এলাকায় সাধারণ বাজারদরে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তাই বাজারমূল্যের চেয়ে কম ভাড়ায় নতুন ভবনে বসবাসের সুযোগ অনেক আবেদনকারীর কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি সরকার দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট মোকাবিলায় হাউজিং লটারির মাধ্যমে নতুন আবাসিক ভবনের একটি অংশ স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য সংরক্ষিত রাখছে। এসব ইউনিটে আবেদনকারীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় এবং নির্বাচিতদের আয়, পরিবারের আকার ও অন্যান্য নথি যাচাই শেষে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই লটারিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের ২০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সময়মতো আবেদন করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি মসজিদের সম্প্রসারণ ঠেকাতে আইনি লড়াইয়ে নেমে দুই লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছে নর্থ হেম্পস্টেড টাউন কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত ফেডারেল আদালতে সমঝোতায় পৌঁছে মসজিদটির সম্প্রসারণে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে তারা। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই আইনি লড়াইয়ের ব্যয় করদাতাদের অর্থ থেকেই বহন করা হয়েছে। মামলাটি কেন্দ্র করে রয়েছে নিউ হাইড পার্কে অবস্থিত হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার। ২০২৪ সালে নর্থ হেম্পস্টেড টাউন বোর্ড মসজিদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলে মসজিদ কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের মার্চে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রকল্পটি প্রযোজ্য জোনিং বিধিমালা পূরণ করলেও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অন্যায়ভাবে অনুমোদন আটকে দেওয়া হয়েছে। মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় ভূমি ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিদের সুরক্ষা আইন (RLUIPA) এবং যুক্তরাষ্ট্র ও নিউইয়র্কের সংবিধানের অধীনে দাবি উত্থাপন করা হয়। মামলা চলাকালেই উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়। গত ১৭ এপ্রিল আদালত সমঝোতা আদেশ অনুমোদন করে। সমঝোতা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হিলসাইড ইসলামিক সেন্টারের সম্প্রসারণের অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি টাউন কর্তৃপক্ষ মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ৪ লাখ ডলার আইনজীবীদের ফি ও মামলার খরচ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সমঝোতা চুক্তিতে কোনো পক্ষই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার অর্থের বাইরে শুধুমাত্র টাউন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বাইরের আইনজীবীদের জন্যই ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি। ফলে মামলাটি করদাতাদের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে বলে আলোচনায় এসেছে। হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল, তাদের বর্তমান ভবন ক্রমবর্ধমান মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। সম্প্রসারণের মাধ্যমে বড় নামাজের স্থান, শিক্ষা কার্যক্রম এবং কমিউনিটি সেবার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। সমঝোতার মাধ্যমে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ এখন উন্মুক্ত হয়েছে।
নিউইয়র্কের হাডসন ইয়ার্ডসের কাছাকাছি এলাকায় সাশ্রয়ী ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য নতুন করে হাউজিং লটারি চালু হয়েছে। ম্যানহাটনের ৫০০ ওয়েস্ট ৩০তম স্ট্রিটে অবস্থিত অ্যাবিংটন হাউস ভবনের স্টুডিও ও এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের অপেক্ষমাণ তালিকার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে আবেদনকারীরা মাসে ১ হাজার ৩৮ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়ালের তালিকা অনুযায়ী, এই লটারিতে মোট ২৬টি স্টুডিও এবং ৩৩টি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য ফিটনেস সেন্টার, বাস্কেটবল কোর্ট, ছাদে লাউঞ্জ, ইন ইউনিট লন্ড্রি এবং অন্যান্য আধুনিক সুবিধা থাকবে। ভাড়ার মধ্যে গ্যাস, গরম পানি ও হিটিংয়ের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আবেদন বা ব্রোকার ফি দিতে হবে না। স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৮ ডলার। একক আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ৮৮০ থেকে ৪৫ হাজার ৩৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ের সীমা ৩৬ হাজার ৭৭৮ থেকে ৫২ হাজার ৮৪০ ডলার। এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ১০৬ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের যোগ্যতার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একক আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৩৯ হাজার ৪০৫ থেকে ৪৫ হাজার ৩৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আয় ৫১ হাজার ৮৪০ ডলার এবং তিন সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৩২০ ডলার পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ইমেইল বা ফোনের মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।