- প্রচ্ছদ
- Topic
নিউইয়র্ক
নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৯ স্ট্রিটের আশপাশে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাতের দুই পাশে ছোট ভ্যান, স্টল ও পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক অভিযানে এসব স্থাপনা ও ভ্যান সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সবজি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির ছোট ভ্যান এবং ফুটপাতের ওপর বসানো অস্থায়ী দোকান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ফুটপাতের বড় অংশ ব্যবসার কাজে ব্যবহার হওয়ায় অনেক সময় সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিশুদের স্ট্রলার নিয়ে চলা মা-বাবা, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা। ফুটপাত দিয়ে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেলে অনেককে রাস্তার কাছাকাছি বা কখনো রাস্তার ওপর দিয়ে চলতে হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ব্যস্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি পথচারীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি অবশ্য নতুন নয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড ৮-এর ২০২৫ সালের এক সভায় ১৬৪ থেকে ১৬৯ স্ট্রিট পর্যন্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে আসে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভেন্ডিং, আবর্জনা এবং ফুটপাত ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্যানিটেশন বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, এলাকায় এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে ভেন্ডিং কার্ট জব্দ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স ও পারমিট থাকলেও ভেন্ডরদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হয়। পথচারীদের চলাচলের রাস্তা, ভবনের প্রবেশপথ, বাসস্টপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। শহরের নিয়মে ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের পথ বাধামুক্ত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শহরের স্যানিটেশন বিভাগ ২০২৩ সাল থেকে স্ট্রিট ভেন্ডর এনফোর্সমেন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের এনফোর্সমেন্টের অন্যতম লক্ষ্য হলো ফুটপাত, কার্ব, গণপরিবহনের প্রবেশপথ এবং দোকানের প্রবেশপথ যেন ভেন্ডিং বা পণ্য দিয়ে বাধাগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, ফুটপাতে ব্যবসা করা অনেক ছোট ভেন্ডরের জন্য এটি জীবিকার বিষয়। তাই স্থানীয় কমিউনিটির আলোচনায় একদিকে যেমন পথচারীদের জন্য ফুটপাত খোলা রাখার দাবি রয়েছে, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা করা ছোট ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হিলসাইড অ্যাভিনিউ জ্যামাইকার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও যাতায়াত করিডোর। এলাকায় যানবাহন ও পথচারীর চাপ বেশি হওয়ায় ফুটপাত দখল এবং ভেন্ডিং নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ তৈরি হয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ডের নথিতেও এই করিডোরে ভেন্ডরদের কার্যক্রম ও এনফোর্সমেন্ট নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসার ব্যক্তিগত জায়গা নয়। এটি সবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে ঠিক কোন সংস্থা কতগুলো ভ্যান বা দোকানের সরঞ্জাম সরিয়েছে এবং কতজনকে জরিমানা বা সামন্স দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযানের নির্দিষ্ট পরিসর সম্পর্কে চূড়ান্ত সংখ্যা বা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করাই যথাযথ।
নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেপ্টেম্বর মাসে শত শত চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন, আইন ও অন্যান্য বিভাগে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য স্টেটের অফিসিয়াল জব পোর্টালে একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। স্টেটজবস নিউইয়র্কের বর্তমান তালিকায় অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, নার্স, সোশ্যাল ওয়ার্কার, আইটি স্পেশালিস্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনিশিয়ান, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাটর্নি, ডেটা অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ধরনের পদ দেখা যাচ্ছে। অনেক পদের আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই, আবার কিছু পদের ডেডলাইন অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনে আইটি স্পেশালিস্ট, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পদ এবং অন্যান্য স্টেট এজেন্সিতে অফিস ও পেশাদার পর্যায়ের চাকরির বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে ঠিক ৮০০টি নতুন পদে নিয়োগ হবে এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা অফিসিয়াল স্টেটজবস তালিকায় নিশ্চিত করা যায়নি। চাকরির সংখ্যা ও পদের তালিকা নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই আবেদনকারীদের প্রতিটি পদের যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল এবং আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু সরকারি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয়। আবার কিছু পদে সরাসরি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। স্টেটের সিভিল সার্ভিস বিভাগও সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী কয়েক মাসের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে। আগ্রহীরা নিউইয়র্ক স্টেটের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টালে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদ খুঁজে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি এবং যোগ্যতার শর্ত অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রায় এক মাস পর, উদ্ধারকর্মীরা গ্রাউন্ড জিরোর ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার সময় বিস্ময়কর এক আবিষ্কার করেন। সেখানে তারা একটি ‘ক্যালারি পিয়ার’ (Callery pear) গাছ খুঁজে পান, যা তখনও বেঁচে ছিল। গাছটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ; এর শিকড় ছিঁড়ে গিয়েছিল, শাখা-প্রশাখা পুড়ে ও ভেঙে গিয়েছিল এবং এর বড় একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবে গাছটিকে কেটে ফেলার পরিবর্তে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অফ পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন এটি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয়। তারা গাছটিকে ব্রঙ্কসের একটি নার্সারিতে নিয়ে যায় এবং বছরের পর বছর ধরে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করে। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে গাছটি অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় এবং ধীরে ধীরে নতুন পাতা মেলতে শুরু করে। দীর্ঘ পরিচর্যার পর, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে গাছটিকে আবারও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেই একই স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে এটি ৯/১১ মেমোরিয়ালে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে এবং ‘সারভাইভার ট্রি’ বা ‘বেঁচে ফেরা গাছ’ নামে পরিচিত। গাছটির নতুন, সতেজ শাখা-প্রশাখার মাঝে এর পুরোনো ক্ষতচিহ্নগুলো এখনও দৃশ্যমান। এই গাছটি এখন কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, বরং এটি এক অদম্য জীবনীশক্তির প্রতীক; যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অকল্পনীয় ধ্বংসের পরও কীভাবে জীবন আবার নতুন করে শুরু হতে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করতে নিউইয়র্কে চালু হয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের নতুন কল সেন্টার। ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে কনস্যুলেটের আওতাধীন বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিতে পারবেন। কনস্যুলেট জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, কল সেন্টারে প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তি-সচেতন তরুণ কর্মীরা প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার সেবা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেবেন। কল সেন্টারে যোগাযোগের জন্য দুটি নম্বর রয়েছে। টোল-ফ্রি নম্বর ৮৪৪-৮৬১-১৯৭১ এবং ২১২-৫৯৯-৬৭৬৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। বর্তমানে কনস্যুলেটের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ কল সেন্টার সেবা সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পাওয়া যায়। সরকারি ছুটির দিনে সাধারণ সেবা বন্ধ থাকে। তবে অফিস সময়ের পর এবং সপ্তাহান্তে জরুরি প্রয়োজনে ৬৪৬-৬৪৫-৭২৪২ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। ফোনে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ না হলে ভয়েসমেইল রেখে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বার্তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী কলদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কনস্যুলেটের এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কসহ এর আওতাধীন এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত তথ্য পেতে সরাসরি কনস্যুলেটে যাওয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ভিসা, নথিপত্র ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রাথমিক তথ্য ও নির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কল সেন্টারটি প্রবাসীদের জন্য সহায়ক হতে পারে। কনস্যুলেটের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় লং আইল্যান্ড সিটির ৩১-১০, ৩৭তম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত।
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্তির পাঁচ মাসের মেয়ে ম্যাডিসনের ভবিষ্যৎ ও দেখভালের জন্য চালু করা GoFundMe ফান্ডে এরই মধ্যে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন এই ফান্ডে অনুদান দিয়েছেন। ফান্ডটির বর্তমান লক্ষ্য ১২ লাখ ডলার। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই অনুদানের পরিমাণ এত দ্রুত বেড়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফান্ডে ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরও অনুদান আসতে থাকায় বর্তমানে তা ৭ লাখ ৬৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। ফান্ডটি মূলত এরিনের পাঁচ মাসের মেয়ে ম্যাডিসনের যত্ন, ভবিষ্যৎ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে। GoFundMe-তে বলা হয়েছে, এরিনকে যারা চিনতেন, তার সঙ্গে কাজ করেছেন কিংবা এই মর্মান্তিক ঘটনায় যাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে, তাদের জন্য এটি তার মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ। এরিন পিয়াচেন্তি ছিলেন ৩২ বছর বয়সী এবং ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ৩১ আগস্ট, সোমবার, মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই ম্যানহাটনের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল আকস্মিক ও উদ্দেশ্যহীন হামলা। ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোস প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর এরিনকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছেই থাকা নিউইয়র্ক পুলিশ অফিসাররা হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেন। দুই হাতে ছুরি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে আসার পর অফিসাররা তাকে গুলি করেন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এরিনের মৃত্যুর মাত্র পাঁচ মাস আগে তার ও স্বামী ফ্র্যাঙ্ক পিয়াচেন্তির প্রথম সন্তান ম্যাডিসনের জন্ম হয়েছিল। GoFundMe-র বর্ণনায় বলা হয়েছে, মা হওয়া ছিল এরিনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং মেয়েকে নিয়ে নতুন পরিবার গড়ে তোলাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের অধ্যায়গুলোর একটি। এরিন ও ফ্র্যাঙ্কের বিয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকীও চলতি গ্রীষ্মে উদযাপিত হয়েছিল। তারা নিউ জার্সির চেস্টারে নিজেদের বাড়িতে নতুন সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরিনের মৃত্যুর পর তাদের সেই জীবন এক মুহূর্তেই বদলে গেছে। এরিন শুধু একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন না। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিতে পড়াশোনা শেষে তিনি ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল থেকে ম্যাগনা কাম লডে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ডেভিস পোলক আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং প্রায় ১৮ মাস আগে ব্যাংক অব আমেরিকায় যোগ দেন। সেখানে তিনি বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস বিভাগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। ফান্ডটি পরিচালনা করছেন এরিনের স্বামী ফ্র্যাঙ্কের ভাইয়ের স্ত্রী বা পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য শ্রে গুপ্তা। GoFundMe-র তথ্য অনুযায়ী, ফান্ডটি ফ্র্যাঙ্ক ও এরিনের পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করেই তৈরি করা হয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থ সরাসরি ফ্র্যাঙ্কের কাছে যাবে ম্যাডিসনের দেখভাল ও ভবিষ্যতের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে। পরিবারের পক্ষ থেকে এরিনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সবার কাছে গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফুল বা অন্য কোনো উপহার পাঠানোর পরিবর্তে ম্যাডিসনের ভবিষ্যতের জন্য নির্ধারিত এই ফান্ডে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে এরিনকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় পুলিশের গুলিতে হামলাকারী পামেলা সিসনেরোসের মৃত্যুর ঘটনাটিও পর্যালোচনা করছে, যা পুলিশ-জড়িত কোনো মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রক্রিয়ার অংশ। এরিনের মৃত্যুর পর তার পাঁচ মাসের শিশুকে ঘিরে যে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন ফান্ডটির দ্রুত বাড়তে থাকা অনুদানে প্রতিফলিত হচ্ছে। ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যের বিপরীতে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়ায় ফান্ডটি লক্ষ্যের প্রায় ৬৪ শতাংশে পৌঁছে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো সংলগ্ন চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেম্বার বা কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পারভেজ রহমান। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলীয় ভোটে ৪-২ ব্যবধানে তার এই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। সাবেক ডেমোক্র্যাট কাউন্সিল মেম্বার স্টিফেন নোইকির পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বের এক নতুন মাইলফলক রচিত হলো। পারভেজ রহমানের শেকড় বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আতাউর রহমানের সন্তান। পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি প্রিন্সিপাল ফিন্যান্স বিজনেস পার্টনার হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর পারভেজ রহমান চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এই পদে অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর আগামী নভেম্বরে আসনটিতে স্থায়ী প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে তার এই অনন্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার ছুরিকাঘাতে নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্টি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পাঁচ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই ঘটনা। পাঁচ মাসের শিশুকন্যাকে রেখে অফিসে যাওয়া এরিন আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। চেস্টার, নিউ জার্সির বাসিন্দা এরিনকে সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ এলাকায় ছুরিকাঘাত করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ছিল আকস্মিক এবং দৃশ্যত কোনো পূর্বপরিচয় বা উসকানি ছাড়াই ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরিনের ওপর হামলার কিছুক্ষণ আগে একই এলাকায় ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। দুটি হামলার ঘটনা ঘটে মাত্র প্রায় ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে। আহত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। গুরুতর আহত এরিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এরিনের মৃত্যুর ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে তার পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে। প্রায় পাঁচ মাস আগে স্বামী ফ্র্যাঙ্ক পিয়াচেন্টির সঙ্গে তাদের প্রথম সন্তান, একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর পাঁচ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন এরিন। সেই সময়টা তিনি স্বামী ও শিশুকন্যার সঙ্গে কাটিয়েছেন। সোমবার ছিল কর্মস্থলে তার ফিরে আসার প্রথম দিন। অর্থাৎ দীর্ঘ পাঁচ মাস পর নতুন মা হিসেবে কর্মজীবনে ফেরার দিনটিই হয়ে গেল তার জীবনের শেষ কর্মদিবস। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে এরিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও ছোট মেয়ের সঙ্গে একটি পারিবারিক ছবি শেয়ার করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই সময় পরিবারে ছিল আনন্দের আবহ। সম্প্রতি তারা শিশুকন্যার বাপ্তিস্মও উদযাপন করেছিলেন এবং নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীও পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনেও সফল ছিলেন এরিন। তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে স্নাতক হন। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় ভবিষ্যৎ স্বামী ফ্র্যাঙ্কের। পরে তিনি আইন পেশায় কাজ করেন এবং ২০২৫ সালে ব্যাংক অব আমেরিকায় যোগ দেন। সেখানে ব্যবসায়িক নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাতবিষয়ক ইউনিটে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে এরিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় হতবাক এবং তাদের সহকর্মীর এমন মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। এদিকে, এরিনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, দুই হাতে ছুরি থাকা অবস্থায় ওই নারীকে অস্ত্র ফেলে দিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। পরে পুলিশ তাকে থামাতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ব্যবহার করে। এরপর তিনি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তাকে গুলিবিদ্ধ করা হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বাহিনীর গুলিবর্ষণ তদন্ত বিভাগ পুলিশি গুলির ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে এরিনের পরিবারের কাছে তদন্তের ফলাফল যাই হোক, সবচেয়ে বড় বাস্তবতা বদলাবে না। পাঁচ মাস পর যে মা তার ছোট্ট মেয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নতুন করে কর্মজীবনে ফিরেছিলেন, সেই মা আর কখনো বাড়ির দরজা দিয়ে ফিরে আসবেন না। মাত্র পাঁচ মাসের শিশুটির জীবনে মায়ের সঙ্গে কাটানোর অসংখ্য মুহূর্তের জায়গায় এখন থেকে থাকবে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর এক বছরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষকদের মাধ্যমে সরাসরি পাঠদানকে অগ্রাধিকার দিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস। এই নীতির ফলে নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৬ লাখ সরকারি স্কুল শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, টু-কে (2-K) থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এআই এবং এআই-চালিত চ্যাটবটগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রাখা হয়েছে। এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়ার আগে এর ঝুঁকি, পক্ষপাতিত্ব এবং নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করতে তাদের বছরে দুবার 'ক্রিটিকাল থিংকিং' বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিশেষ মডিউল সম্পন্ন করতে হবে। হাইস্কুলের সাধারণ শিক্ষার প্রায় ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কুইল, এডিয়া, ব্রিস্ক টিচিং, প্লেল্যাব এবং ইন্টেল এআই-রেডি স্কুলস নামক পাঁচটি বাছাইকৃত এআই টুল শিক্ষকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইমের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণি ও তার নিচের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস ব্যবহার কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৫ মিনিট স্ক্রিন টাইমের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, একাধিক ভাষা শেখা শিক্ষার্থী এবং কম্পিউটার সায়েন্সের মতো কর্মমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব নিয়মে শিথিলতা থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা তাঁদের পাঠপরিকল্পনা ও দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে আগের মতোই নিরাপদ এআই টুল ব্যবহার করতে পারবেন। এই নীতিমালার প্রভাব মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের জন্য 'টেকনোলজি ইন স্কুলস কোয়ালিশন' নামে নতুন একটি জোট গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসী প্রচারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তিকে অন্ধভাবে গ্রহণ করার বদলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যালোচনার এই সিদ্ধান্তটিকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
কলম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য প্রায় ২০০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ বা প্রভাবশালীর একটি বিশাল বাহিনী গড়ে তুলেছেন মেয়র মামদানি। এসব ইনফ্লুয়েন্সারকে ভিআইপি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের সরকারি বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিও ক্লিপ সরবরাহ করা হচ্ছে। সিটি হলের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ‘সিগন্যাল’ (Signal) নামের একটি এনক্রিপ্টেড বা গোপন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সরকারি কাজে এমন গোপন অ্যাপের ব্যবহার শহরের রেকর্ড সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতাকে লঙ্ঘন করতে পারে বলে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ‘ক্রিয়েটরসফোরজোহরান’ (Creators4Zohran) নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণায় এই ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রথম কাজে লাগানো হয়েছিল। বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র কার্যালয়ের নিউ মিডিয়া এবং কালচারাল কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক এমিলিয়া রোল্যান্ড ও তাঁর দল এই গ্রুপটি পরিচালনা করছেন। সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইনফ্লুয়েন্সারদের অর্থায়নের বিষয়টি। সরাসরি তাদের কভারেজের জন্য অর্থ প্রদান না করা হলেও, কিছু নির্দিষ্ট মেসেজিং ক্যাম্পেইনে কাজের জন্য তারা করদাতাদের অর্থ পকেটে পুরছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তাদের ঠিক কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা এখনও অস্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ কোনো সরকারি ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েন্সাররা সাধারণত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন না। এই ইনফ্লুয়েন্সার বাহিনীর কয়েকজন আবার নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাও নন। অ্যালি ও’ব্রায়েন নামের একজন ইনফ্লুয়েন্সার সম্প্রতি মেয়র মামদানিকে ‘অনিয়ন্ত্রিত আনন্দের মেয়র’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট করেছেন, অথচ অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তিনি কানেকটিকাটের বাসিন্দা। একইভাবে ‘ব্যানানাডটগভ’ (bananadotgov) নামের ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকে আরেক ইনফ্লুয়েন্সার ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে মেয়রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সরকারি বার্তা আদান-প্রদানে সিগন্যাল অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়টি সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়, সে সময়ও এমন এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের কারণে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। কারণ, আইনের বিধান অনুযায়ী সরকারি সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিটি হলের সব ধরনের বার্তা ও রেকর্ড সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। এই আইনি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়র মামদানি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে তথ্য ছড়ানো আর রেডিও বা টিভির মাধ্যমে প্রচারণার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে পরবর্তীতে তিনি আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, তাঁর প্রশাসন সরকারি রেকর্ড উপস্থাপনের সব আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে বদ্ধপরিকর। আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র মামদানি।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার বিকেলে আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি, ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। নিউ জার্সির চেস্টারে বসবাসকারী পিয়াচেন্তি ম্যানহাটনে ব্যাংক অব আমেরিকার অফিসে কাজ করতেন। হামলার স্থানটি তার কর্মস্থল ওয়ান ব্রায়ান্ট পার্ক থেকে মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে ছিল। ৩১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে ওয়েস্ট ৪২তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় এই হামলা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোস প্রথমে সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এর প্রায় ২০ সেকেন্ড পর তিনি সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ধরে এগিয়ে পিয়াচেন্তিকে পেটে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিও আহত হন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দুই হামলাই এলোমেলো ও উসকানিবিহীন বলে মনে হচ্ছে। পিয়াচেন্তিকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখারও কোনো কারণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। পিয়াচেন্তি ব্যাংক অব আমেরিকার ব্যবসা নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাত বিভাগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি আইন বিষয়েও তার শক্তিশালী শিক্ষাগত পটভূমি ছিল। তিনি ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে স্নাতক এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন মূল্যবান সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তার মৃত্যুতে সহকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি তাদের সমবেদনা রয়েছে। হামলার পর সিসনেরোসকে কাছাকাছি এলাকায় পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। তাকে থামাতে টেজার ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে দুই পুলিশ অফিসার গুলি চালালে সিসনেরোস গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিসনেরোসের আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দুটি ঘটনা পুলিশের নথিতে ছিল। তবে তার নিউইয়র্কে আগের কোনো গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল না। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ফোর্স ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তদন্ত চলছে। ব্যস্ত কর্মদিবসে নিজের কর্মস্থলের মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে এমন আকস্মিক হামলায় পিয়াচেন্তির মৃত্যু ব্যাংক অব আমেরিকার সহকর্মীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি আবারও নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে দুই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের পর পুলিশের গুলিতে পামেলা সিসনেরোস (৪৯) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) কর্মকর্তারা জানান, সিসনেরোসের হাতে দুটি ছুরি ছিল। তিনি প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক পুরুষের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর ৩২ বছর বয়সী এক নারীর পেটে ছুরিকাঘাত করেন। পরে আহত ওই নারীকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত পুরুষের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, হামলার পর সিসনেরোস ছুরি হাতে একটি পুলিশ সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তিনি নির্দেশ মানেননি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেন বলে দাবি পুলিশের। পুলিশ জানায়, তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে টেজার ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। একপর্যায়ে ছুরি হাতে তিনি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে এলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। NYPD কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ঘটনাটি অনেকটা আকস্মিক ও বিনা উসকানিতে হামলার মতো মনে হচ্ছে। ঘটনার সময় টাইমস স্কয়ারে বিপুলসংখ্যক মানুষ, পর্যটক ও পরিবার উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসনেরোসের ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনায় NYPD-তে নথিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তবে হামলার সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে। পুলিশের বডি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হতে পারে। ঘটনায় নিহত নারী ও আহত পুরুষের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।
নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এআই কনফারেন্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬। গত ৩০ আগস্ট, রোববার সন্ধ্যায় জামাইকায় আয়োজিত এই সম্মেলনে শিশু, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রযুক্তিপ্রেমীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এআইকে শিক্ষা, ব্যবসা, সৃজনশীলতা ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করার বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি শিশুদের সরাসরি এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। সম্মেলনে বিশেষভাবে দেখানো হয়, কীভাবে এআইকে শিশুদের শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনে শিশুরাই টিউটরমিগো এআই ব্যবহার করে প্রশ্ন করা, বিষয় বুঝে নেওয়া, কুইজ দেওয়া এবং নিয়মিত অনুশীলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। এতে এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে শেখার একটি ইন্টার্যাকটিভ পদ্ধতিও উপস্থিতদের সামনে আসে। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই নিজেদের একটি এআই ইকোসিস্টেম হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বর্তমানে দুটি প্রধান প্রোডাক্ট রয়েছে, টিউটরমিগো এআই এবং চ্যাটারমেট এআই। সম্মেলনে দুটি প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ভূঁইয়া। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রোথ সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ১৯.৯৯ ডলার। এই সাবস্ক্রিপশনের আওতায় টিউটরমিগো এআই ও চ্যাটারমেট এআই দুটিই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। টিউটরমিগোতে একটি সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে তিনজন শিশুকে এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টিউটরমিগো এআইকে একটি অ্যাডাপটিভ এআই টিউটর হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এতে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নোত্তর, কুইজ ও অনুশীলনের সুবিধা রয়েছে। অভিভাবকদের জন্যও রয়েছে আলাদা ড্যাশবোর্ড, যেখানে সন্তানের শেখার কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখা যাবে। শুধু শিশুদের জন্য নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও টিউটরমিগো ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়। অভিভাবকরা প্রয়োজনে শিক্ষার্থী মোডে গিয়ে IELTS, TOEFL, GRE ও GMATসহ বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আরও বেশি সুবিধার জন্য প্রো সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ৪৯.৯৯ ডলার। বার্ষিক সাবস্ক্রিপশনের জন্য রয়েছে আলাদা মূল্য কাঠামো ও ডিসকাউন্ট। অন্যদিকে, চ্যাটারমেট এআইকে একটি মাল্টি-মডেল এআই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে ব্যবহারকারীরা একাধিক এআই মডেল ব্যবহার করে তাদের তৈরি উত্তর তুলনা করার সুযোগ পাবেন। সম্মেলনে জানানো হয়, প্ল্যাটফর্মটিতে ওপেনএআই, ক্লড, জেমিনি ও গ্রকসহ বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি ডকুমেন্টভিত্তিক এআই, স্মার্ট মডেল রাউটিং এবং বিভিন্ন প্রোডাক্টিভিটি টুলও এতে যুক্ত রয়েছে। চ্যাটারমেটের মূল ধারণা হলো, একটি এআই মডেলের ওপর নির্ভর না করে কাজের ধরন অনুযায়ী একাধিক মডেল ব্যবহার করা। এই ধারণাকে সামনে রেখে প্ল্যাটফর্মটির বার্তা হিসেবে রাখা হয়েছে, “Don’t choose one AI. Use them all.” ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই জানিয়েছে, টিউটরমিগো ও চ্যাটারমেটের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এআইভিত্তিক প্রোডাক্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ফোর্জ আইডিই নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্রোডাক্ট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের এআই সক্ষমতাকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত ও ব্যবহারিক এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। সম্মেলনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারা শুধু দর্শক হিসেবে নয়, নিজেদের হাতে এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শেখার প্রক্রিয়ায় এআই কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তার একটি ব্যবহারিক চিত্র তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের শিক্ষা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই বলছে, ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রোডাক্ট যুক্ত করে এআইকে আরও সহজ ও ব্যবহারিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। সূত্র: আওয়াজ বিডি
নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৬ বছর বয়সী কিশোর নাকিবুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছে। তাকে খুঁজে পেতে ৩১ আগস্ট নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরটির কিছু মেডিকেল কন্ডিশন রয়েছে এবং সে তাৎক্ষণিক বিপদের মধ্যে থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল অ্যালার্ট অনুযায়ী, নাকিবুলকে সর্বশেষ ৩০ আগস্ট ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে কুইন্সের ১৬৯তম স্ট্রিটে হেঁটে যেতে দেখা যায়। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল স্কাই-ব্লু রঙের শার্টের ওপর কালো হুডযুক্ত সোয়েটশার্ট ও কালো স্যান্ডেল। তার সঙ্গে একটি কালো ব্যাকপ্যাক ছিল। নাকিবুলের জন্ম ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল। তার উচ্চতা ৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ১২০ পাউন্ড। তার চুল কালো এবং চোখ বাদামি। নিউইয়র্ক সিটির অ্যালার্টে তাকে ১৬ বছর বয়সী এশিয়ান কিশোর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, নাকিবুল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাকিবুলের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে এনওয়াইপিডির ১০৩ প্রিসিঙ্কটে ৮০০-৫৭৭-৮৪১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মিসিং চাইল্ড অ্যালার্টে বলা হয়েছে, নাকিবুলের একটি ছবি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। কিশোরটির সন্ধানে কুইন্সের বাসিন্দাসহ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং কোনো তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমেরিকায় নতুন আসা প্রবাসীদের জন্য সরকারি ও কমিউনিটি সেবার সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সরকারি সহায়তা, ইমিগ্রেশন এবং কম খরচে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক সিটিতে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা। নতুন প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগতে পারে এমন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক রিসোর্স তুলে ধরা হলো। ১. ৩১১ সেবা নিউ ইয়র্ক সিটিতে সরকারি তথ্য ও জরুরি নয় এমন বিভিন্ন সেবার জন্য ৩১১ একটি গুরুত্বপূর্ণ নম্বর। সিটি সার্ভিস, সরকারি সহায়তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে তথ্য জানতে ৩১১-এ ফোন করা যায়। এই সেবায় ১৭৫টির বেশি ভাষা ও ডায়ালেক্টে ইন্টারপ্রেটার সুবিধা রয়েছে। স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য সিটি সার্ভিস সম্পর্কেও ৩১১ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। ২. পাবলিক লাইব্রেরি কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি, নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি এবং ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরি নতুন প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স। বিভিন্ন শাখায় ইংরেজি শেখার ক্লাস, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ, শিশুদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং চাকরি খোঁজার সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে কোন শাখায় কী ধরনের সেবা রয়েছে, তা আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। ৩. এনওয়াইসি এইচআরএ ও অ্যাক্সেস এনওয়াইসি খাবারের সহায়তা হিসেবে স্ন্যাপ, নগদ সহায়তা এবং মেডিকেইডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন বা এইচআরএর মাধ্যমে আবেদন করা যায়। অ্যাক্সেস এনওয়াইসি প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। একাধিক সুবিধার জন্য একই আবেদনের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। ৪. এনওয়াইসি হেলথ + হসপিটালস ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক হাসপাতাল ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোন হাসপাতালে কী ধরনের চিকিৎসা এবং ভাষা সহায়তা রয়েছে, তা যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া ভালো। গুরুতর বা জীবনঝুঁকির জরুরি অবস্থায় অবশ্যই ৯১১-এ কল করতে হবে। ৫. আইডিএনওয়াইসি আইডিএনওয়াইসি হলো নিউ ইয়র্ক সিটির সরকারি ফ্রি ফটো আইডি। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে যোগ্য নিউইয়র্ক সিটি বাসিন্দারা এই আইডির জন্য আবেদন করতে পারেন। পরিচয় প্রমাণের পাশাপাশি কিছু ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নে অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান থেকেও আইডিএনওয়াইসি ব্যবহার করে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। ৬. এনওয়াইসি পাবলিক স্কুল ও ওয়েলকাম সেন্টার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে এনওয়াইসি পাবলিক স্কুলের সঠিক তথ্য জানা জরুরি। বাসার ঠিকানা ও জিপ কোড অনুযায়ী স্কুল এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষা বিভাগের অফিসিয়াল সেবা থেকে তথ্য নেওয়া যায়। স্কুলসংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথির অনুবাদের জন্যও শহরের পক্ষ থেকে ভাষা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলা ভাষাতেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুবাদ ও ইন্টারপ্রেটার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। ৭. সিইউএনওয়াই অ্যাডাল্ট এডুকেশন ইংরেজি শেখা, জিইডি প্রস্তুতি এবং অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক বা সিইউএনওয়াইয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সুযোগ রয়েছে। কোন কোর্স ফ্রি এবং কারা অংশ নিতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাস বা প্রোগ্রামের অফিসিয়াল তথ্য থেকে যাচাই করা উচিত। ৮. ফুড প্যান্ট্রি খাবারের খরচ সামলাতে সমস্যায় থাকা পরিবারগুলো ফুড প্যান্ট্রির সহায়তা নিতে পারে। কাছাকাছি কোথায় খাবার বিতরণ করা হয়, সে তথ্য ৩১১সহ বিভিন্ন কমিউনিটি রিসোর্সের মাধ্যমে জানা যায়। হালাল খাবারের প্রয়োজন হলে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ফুড প্যান্ট্রিতে ফোন করে সে সুবিধা রয়েছে কি না নিশ্চিত করা ভালো। ৯. লিগ্যাল এইড ও সিটিজেনশিপ সহায়তা ইমিগ্রেশন ও সিটিজেনশিপ সংক্রান্ত সহায়তার জন্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, সিইউএনওয়াই সিটিজেনশিপ নাও এবং অন্যান্য স্বীকৃত লিগ্যাল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীর যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। ১০. ফেয়ার ফেয়ার্স এনওয়াইসি কম আয়ের যোগ্য নিউ ইয়র্ক সিটি বাসিন্দারা ফেয়ার ফেয়ার্স এনওয়াইসি কর্মসূচির মাধ্যমে সাবওয়ে ও নির্দিষ্ট বাস ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন। অ্যাক্সেস-এ-রাইডের ক্ষেত্রেও ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। যোগ্যতা আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে। আবেদন করার আগে সরকারি যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করা উচিত। নতুন প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো সরকারি বা কমিউনিটি সেবা নেওয়ার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা। আপনার জিপ কোড উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সেবার নাম দিয়ে অনলাইনে খোঁজার পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক সিটির সরকারি প্ল্যাটফর্ম ও ৩১১ সেবা ব্যবহার করলে সঠিক তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সরকারি সুবিধার যোগ্যতা ও নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ শর্ত দেখে নেওয়াই নিরাপদ।
নিউইয়র্কে পরপর দুটি নৃশংস খুনের পর এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এক দুর্ধর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) ব্রঙ্কসের একটি পার্ক থেকে ৩১ বছর বয়সী জেসুস অ্যাকোস্টা নামের ওই ঘাতককে আটক করে। জোড়া খুনের মতো ভয়ংকর অপরাধে হাতকড়া পরা অবস্থায় ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত এক মন্তব্য করে সে। কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে সে বলে ওঠে, "ঈশ্বর মঙ্গলময়, ঈশ্বর মহান।" পুলিশ জানিয়েছে, নিছক ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটিয়েছিল অ্যাকোস্টা। গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের একটি উইংস-রেস্তোরাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে এমডি ইউসুফ (৪৪) নামের এক কর্মীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে সে। নিহত ইউসুফ অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ব্রঙ্কসের ১৪৯ নম্বর স্ট্রিটের একটি দোকানে আবারও সশস্ত্র ডাকাতি করে এই ঘাতক। সেখানে টেভন শুলার (৩৩) নামের এক ক্রেতাকে গুলি করে হত্যা করে সে। জেসুস অ্যাকোস্টা মূলত একজন দাগী অপরাধী। অনলাইনে প্রাপ্ত রেকর্ড অনুযায়ী, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং হামলার অভিযোগে দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগের পর গত ২৩ এপ্রিল প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল সে। প্যারোলে থাকা অবস্থাতেই সে পুনরায় এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এফবিআই ২৫ হাজার ডলার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন 'ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকা' আরও ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে শনিবার ব্রঙ্কসের ৪৩ নম্বর প্রিসিনক্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানা থেকে বের করার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও, অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের ওই অদ্ভুত কথাগুলো বলে ওঠে এই অপরাধী।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) নিশ্চিত করেছে, শহরজুড়ে টানা কয়েকদিনের চিরুনি অভিযানের পর ৩১ বছর বয়সী জেসুস অ্যাকোস্টাকে আটক করা হয়েছে। ব্রুকলিনের একটি রেস্তোরাঁয় প্রবাসী বাংলাদেশি মো. ইউসুফকে হত্যা এবং ব্রঙ্কসের একটি দোকানে আরেকজনকে খুনের ঘটনায় এই ভয়ংকর বন্দুকধারীকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত রোববার ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিলের 'আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা' নামের একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানে আকস্মিক সশস্ত্র হামলায় ঘাতক জেসুস প্রথমে মোহাম্মদ রাসেল নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির পায়ে গুলি করে। এরপর রাসেলের বন্ধু ও সহকর্মী ৪৪ বছর বয়সী মো. ইউসুফের মাথায় গুলি চালিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিহত ইউসুফ দুই কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক ও চরম আতঙ্ক নেমে আসে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দুদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার মধ্যরাতের ঠিক পরপরই ব্রঙ্কসের মেলরোজ এলাকার '১৪৯ গ্রিল' নামের একটি দোকানে ফের হামলা চালায় জেসুস। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সে হঠাৎ বন্দুক বের করে ৩৩ বছর বয়সী তেভন শুলার নামের এক ক্রেতার বুকে সরাসরি গুলি ছোড়ে। এরপর আতঙ্কে ক্রেতা ও কর্মচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে থাকলে সে কাউন্টারের পেছনে গিয়ে ক্যাশবাক্স থেকে নগদ অর্থ লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত শুলারকে পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হন যে দুটি ঘটনাতেই একই ব্যক্তি জড়িত। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, জেসুস অ্যাকোস্টার এক দীর্ঘ ও ভয়ংকর অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে সশস্ত্র ডাকাতির মাধ্যমে অপরাধ জগতে হাতেখড়ি হওয়া এই সন্ত্রাসীকে এর আগে ১৩ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাবওয়ে স্টেশনে এক ব্যক্তিকে গুলি করার অপরাধে ১০ বছর কারাভোগের পর গত এপ্রিলেই সে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই খুনিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ২৫ হাজার ডলার এবং 'ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকা' ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে পুলিশের টানা অভিযানে ঘাতক ধরা পড়লেও ঠিক কোথা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি এনওয়াইপিডি।
নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন বিভাগে বর্তমানে একাধিক পদে নিয়োগ চলছে। চাকরির ধরন অনুযায়ী এন্ট্রি-লেভেল থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক পদেও সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু পদের বার্ষিক বেতন ৫৫ হাজার ডলারের বেশি। নগর সরকারের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় কুইন্স, ব্রুকলিন, ম্যানহাটনসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির তালিকায় বর্তমানে কুইন্সে ডিপার্টমেন্ট অব ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের সেফটি অডিটর পদে ৫৫ হাজার ৭৩ ডলার থেকে ৬৯ হাজার ৬৬৬ ডলার পর্যন্ত বেতন দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। আবার ব্রুকলিনে এক্সটারমিনেটর পদে বার্ষিক বেতন ৫৭ হাজার ৯৯৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের আরও বেশ কিছু পদে এর চেয়ে বেশি বেতনের সুযোগ রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব সিটি-ওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএস জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির চাকরির জন্য অনেক ক্ষেত্রে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হয়। তবে কিছু পদে পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি অ্যাপ্লাই করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিটি সরকারের চাকরির অফিসিয়াল তালিকায় প্রশাসন, পরিবহন, পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন, শিশু ও পরিবারসেবা, নির্মাণসহ বিভিন্ন বিভাগে পদ খোলা রয়েছে। চলমান নিয়োগের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের বিভিন্ন পদও রয়েছে। সংস্থাটির তালিকায় অল বোরোস এলাকায় অটো মেকানিক, কুইন্সে পার্কিং ইঞ্জিনিয়ার ও ইভি চার্জারস অ্যান্ড পার্কিং অপারেশনস টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদ দেখা যাচ্ছে। কিছু পদের আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব পদে একই যোগ্যতা বা আবেদনের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো পদে নির্দিষ্ট শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, সেফটি অডিটর পদটির জন্য নির্দিষ্ট সিভিল সার্ভিস যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে নিয়োগের আগে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। যেসব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না, সেগুলোর জন্য সরাসরি নিউইয়র্ক সিটি জবসের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্যও এসব চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশি হওয়া কোনো বিশেষ যোগ্যতা নয়। প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, কাজের অনুমতি এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে প্রতিটি পদে আবেদন করার আগে যোগ্যতার শর্ত ও রেসিডেন্সি রিকোয়ারমেন্ট আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ডিসিএএসের অফিস অব সিটি-ওয়াইড রিক্রুটমেন্ট সেপ্টেম্বর মাসে সিভিল সার্ভিস ও সিটি সরকারের চাকরি নিয়ে একাধিক তথ্যবিষয়ক সেশনও আয়োজন করছে। এসব সেশনে সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হবে। সিটি সরকারের চাকরিতে আবেদন করতে প্রার্থীদের অফিসিয়াল নিউইয়র্ক সিটি জবস প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পছন্দের পদ খুঁজে আবেদন করতে হবে। আর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিসিএএসের নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। চাকরির ধরনভেদে আবেদন প্রক্রিয়া ও শেষ তারিখ ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি জব পোস্টের বিস্তারিত শর্ত দেখে আবেদন করার পরামর্শ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির আবেদন ও ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত সহায়তার পাশাপাশি সিটি সেবার তথ্য পেতে ৩১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। অভিবাসীদের জন্য সিটি সরকারের বিভিন্ন সেবায় দোভাষী সুবিধাও রয়েছে।
নিউইয়র্কে ইংরেজিতে কথা বলা, পড়া ও লেখার দক্ষতা বাড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বিনামূল্যে বিভিন্ন ক্লাস করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি, কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি ও অনলাইনে এসব ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। কিছু কর্মসূচিতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাধা নয়। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসীবিষয়ক দপ্তরের ‘উই স্পিক এনওয়াইসি’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নিউইয়র্কবাসী বিনামূল্যে ইংলিশ শেখার সুযোগ পান। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর বিভিন্ন স্থানে সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনেও শেখার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতেও বিনামূল্যে ইংলিশ শেখার বিভিন্ন ক্লাস চালু রয়েছে। একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাস রয়েছে। কিছু ধারাবাহিক ক্লাসে ভর্তি হওয়ার আগে ইংলিশ দক্ষতার মূল্যায়ন করা হতে পারে। আবার কিছু ক্লাসে নির্দিষ্ট বয়স এবং নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে বসবাস, কাজ বা পড়াশোনার সম্পর্কের শর্ত থাকতে পারে। তাই সব ক্লাসের যোগ্যতা এক নয়। নাগরিকত্বের প্রস্তুতির জন্যও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির নাগরিকত্ব প্রস্তুতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বিষয়ক ক্লাসে দেশটির ইতিহাস, সরকারব্যবস্থা, নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রশ্ন এবং নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের জন্য প্রয়োজনীয় ইংলিশ অনুশীলন করানো হয়। কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতেও বিভিন্ন পর্যায়ের ইংলিশ ভাষার ক্লাস রয়েছে। এসব ক্লাস সরাসরি এবং ভার্চুয়াল দুইভাবেই করা যায়। সাধারণভাবে ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং ইংলিশ যাদের মাতৃভাষা নয়, তারা এসব ক্লাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট ক্লাসের যোগ্যতা আলাদা হতে পারে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির যুব ও কমিউনিটি উন্নয়ন বিভাগের আওতায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ইংলিশ ও সাক্ষরতা শিক্ষার বিভিন্ন বিনামূল্যের কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বয়সের পাশাপাশি আয়, শিক্ষাগত অবস্থা বা অন্য কিছু যোগ্যতার শর্ত থাকতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা বয়সের ভিত্তিতে সব ক্লাসে ভর্তি হওয়া যাবে এমন নয়। কোন ক্লাসে কারা আবেদন করতে পারবেন, ক্লাসটি সরাসরি নাকি অনলাইনে হবে, কখন শুরু হবে এবং আসন খালি আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরি বা কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য দেখে নিশ্চিত হওয়া উচিত। ইংলিশ শেখার আগ্রহীরা নিজেদের কাছের পাবলিক লাইব্রেরিতে যোগাযোগ করতে পারেন। নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বরেও বিনামূল্যের ইংলিশ ক্লাস, নাগরিকত্বের প্রস্তুতি এবং অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ক্লাসের সময়সূচি, বয়সসীমা, ভর্তি প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা নিউইয়র্ক সিটি সরকারের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আগামী মাসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজ শহর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিবর্তে তিনি পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভায় যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি জানান, "কারণ আমি পেন্টাগনে যাচ্ছি।" তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ম্যানহাটন, পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ার শ্যাংকসভিল—এই তিনটি ঘটনাস্থলেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন। কুইন্সের বাসিন্দা ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সাথে গ্রাউন্ড জিরোর স্মরণসভায় অংশ নিয়েছিলেন। গত বছর তিনি মূল অনুষ্ঠানে না গেলেও নিউইয়র্কে ইয়াঙ্কিস বনাম টাইগার্সের একটি বেসবল ম্যাচে উপস্থিত থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, "একজন গর্বিত নিউইয়র্কার হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৯/১১-এর ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে বারবার কথা বলেছেন। ২৫তম বার্ষিকীর এই শোকাবহ দিনে প্রেসিডেন্ট সেইসব নিহতদের স্মরণ করবেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাবেন এবং উদ্ধারকর্মীদের বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।" নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রথম ট্রাম্পের ম্যানহাটনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প ম্যানহাটনের অনুষ্ঠানে যাননি; বরং পেন্টাগন বা পেনসিলভেনিয়ার ফ্লাইট ৯৩ ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। ২০২১ সালে তিনি নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে দেখা করেছিলেন। তবে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ম্যানহাটনের স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন। আগামী মাসের ম্যানহাটনের স্মরণসভায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ ও সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত মহাসড়কে নিরীহ চালকদের টার্গেট করে একের পর এক সাজানো গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটাত একটি চক্র। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বীমা কোম্পানির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। টিকটকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে এই প্রতারণা চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বীমা জালিয়াতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় হাইমে হুইরাকোচা (৫৩) এবং ভিক্টর মুরিলো (৩৪) নামের দুই প্রতারককে যথাক্রমে এক থেকে তিন বছর এবং দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ এই শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কাটজ জানান, এই চক্রটিকে ধরার ক্ষেত্রে তার ১৫ বছর বয়সী ছেলের দেখানো একটি টিকটক ভিডিও সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বেল্ট পার্কওয়েতে একটি হোন্ডা সিভিক গাড়ি ইচ্ছাকৃতভাবে পেছনের দিকে এসে আরেকটি গাড়িকে ধাক্কা দিচ্ছে। কাটজ সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওটি ছিল মূলত তাদের ঘটানো তৃতীয় দুর্ঘটনার দৃশ্য। এই ভিডিওর ওপর ভিত্তি করেই তদন্ত শুরু হয় এবং হুইরাকোচা ও মুরিলোর সাজানো তিনটি দুর্ঘটনার আসল সত্য বেরিয়ে আসে। ব্রুকলিনের বাসিন্দা এই দুই প্রতারকের কৌশল ছিল অভিনব। মুরিলো গাড়ি চালিয়ে হঠাৎ ব্রেক কষতেন, যাতে পেছনের গাড়ি এসে তার গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এরপর পেছনের সিটে বসা সহযোগীরা প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে জানালার কাঁচ ঢেকে ফেলতেন, যাতে মুরিলো সবার অগোচরে সিট পরিবর্তন করে পালিয়ে যেতে পারেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট বেল্ট পার্কওয়েতে ৪৭ বছর বয়সী এক নারীর গাড়ির সামনে হঠাৎ ব্রেক কষে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটিয়েছিল মুরিলো। সেই ঘটনায় চক্রটি বীমা কোম্পানির কাছ থেকে ব্যক্তিগত আঘাতের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭৯ হাজার ডলার হাতিয়ে নেয়। এরপর ৩ অক্টোবর আরেকটি ঘটনায় মুরিলো একটি ট্রাকের সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে ট্রাকচালক প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এই ঘটনায় তারা ৫ হাজার ডলার আদায় করেছিল। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ১৬ অক্টোবর, যেখানে এক নারী চালকের গাড়ির সামনে হঠাৎ ব্রেক কষে দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে মুরিলো। নারীটি ব্রেক করে সংঘর্ষ এড়ালেও মুরিলো তার গাড়িটি রিভার্স করে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনার ড্যাশক্যাম ফুটেজই অনলাইনে ভাইরাল হয়ে তাদের ধরিয়ে দেয়। প্রতারণার এই মহোৎসব বন্ধ করতে নিউইয়র্ক স্টেট কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কাটজের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, গত পাঁচ বছরে নিউইয়র্কে সাজানো দুর্ঘটনার পরিমাণ তিনগুণ বেড়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ১,৭০০টি এমন সাজানো দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই ধরনের প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছিল, যার ফলে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীকে বছরে প্রায় ৪ হাজার ডলার গাড়ি বীমা ফি গুনতে হচ্ছে, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে দেড় হাজার ডলার বেশি। গভর্নর হোকুল আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে দ্রুতই সাধারণ মানুষের বীমা খরচ কমে আসবে।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় বয়স্ক বাবা-মায়েদের হাতে ফলানো ব্যাকইয়ার্ডের দেশি সবজি বিক্রির বেশ কয়েকটি দৃশ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ছোট পরিসরে লাউ, শসা, করলা, বেগুন, টমেটো থেকে শুরু করে নানা ধরনের দেশি সবজি সাজিয়ে বিক্রি করছেন বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি। এই ঘটনাগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে শ্রমের মর্যাদা এবং প্রবীণদের প্রতি পারিবারিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে। একাংশের মতে, সৎ পথে পরিশ্রম করে উপার্জন করা সবসময়ই সম্মানজনক। অনেকেই মনে করেন, নিজেদের বাগানের বাড়তি সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করা এবং প্রবীণদের কর্মক্ষম থাকাটা ইতিবাচক একটি দিক। তবে অন্যদিকে অনেকেই সমালোচনা করে বলছেন, আর্থিক প্রয়োজনে বা অন্য কোনো চাপে একাধিক বয়স্ক বাবা-মাকে দীর্ঘক্ষণ ফুটপাতে বসিয়ে রাখা মোটেও মর্যাদাকর নয়। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এক কমিউনিটি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যম ‘আমেরিকা বাংলা’-কে জানান, বাগানের অতিরিক্ত সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করাতে দোষের কিছু নেই এবং এতে কিছু খরচও উঠে আসে। তবে বয়স্ক বাবা-মায়েদের এভাবে রাস্তায় বসিয়ে দিনের পর দিন বিক্রি করানোর বদলে স্থানীয় গ্রোসারি বা অন্য কোনো সম্মানজনক বৈধ উপায়ে তা সরবরাহ করা যেতে পারে, যাতে প্রবীণদের অযথা কষ্ট না হয়। সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু কয়েক ঝুড়ি সবজি বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি প্রবাস জীবনে পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা এবং প্রবীণদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধের একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো উপসংহারে পৌঁছানোর আগে বা কাউকে বিদ্রূপ করার বদলে প্রবীণদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মান বজায় রেখে কীভাবে এ ধরনের কাজের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, সেটি নিয়েই এখন ভাবছেন সচেতন প্রবাসীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।