যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজিত বিশেষ ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে হাজারো অভিবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে নতুন নাগরিকদের শপথ গ্রহণের এই আয়োজন বহু বছরের একটি ঐতিহ্য, যা প্রতি বছর দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) এবং ফেডারেল আদালতের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এসব অনুষ্ঠানে নতুন নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। শপথের মাধ্যমে দীর্ঘ অভিবাসন প্রক্রিয়া শেষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ থাকে দেশের ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থানে। ভার্জিনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের ঐতিহাসিক বাসভবন মন্টিসেলো এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের বাসভবন মাউন্ট ভার্ননসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিবছর বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব স্থানে নতুন নাগরিকদের শপথ গ্রহণ স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অনুষ্ঠানে ফেডারেল বিচারকরা ‘ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স’ বা আনুগত্যের শপথ পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের সাংবিধানিক অধিকার ও দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। অনেক এলাকায় নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও অংশ নেয়। বিশেষ করে ‘লিগ অব উইমেন ভোটার্স’-এর মতো সংগঠনগুলো নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে সহায়তা করে, যাতে তারা নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অসংখ্য ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীরা নতুন পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু করেন। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। সেই উপলক্ষে দেশব্যাপী নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠান আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে নতুন নাগরিকদের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্য, অভিবাসী ঐতিহ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের চলতি অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দুটি বহুল আলোচিত নীতিকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দেশ। আদালত আজ এসব মামলার সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নজর এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে। সবচেয়ে আলোচিত মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি নির্বাহী আদেশে এমন শিশুদের স্বয়ংক্রিয় মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নেন, যাদের জন্মের সময় বাবা-মা কেউই মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন না। এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং অভিবাসন–অধিকার সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। বর্তমানে আদেশটির কার্যকারিতা নিম্ন আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে এবং এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। মামলার শুনানি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আজ আদালত সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত ধারা এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তবে রায় ঘোষণার আগে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেয়নি। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের স্বাধীন ফেডারেল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষমতা সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলারও রায় দিতে পারে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি এবং স্বাধীন ফেডারেল সংস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসনের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভসহ বিভিন্ন স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নতুন আইনি দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকদের মতে, আজ ঘোষিত হতে যাওয়া রায়গুলো শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না; একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা, সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং ফেডারেল আদালতের ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সুপ্রিম কোর্টের চলতি মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে এই মামলাগুলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া শিগগিরই আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বিদ্যমান ফি ছাড় ও ফি মওকুফের সুবিধা বাতিলেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র বা ফরম এন-৪০০ জমা দিতে কাগজে আবেদন করলে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে আবেদন করলে ৭১০ ডলার ফি দিতে হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এই ফি বাড়িয়ে যথাক্রমে ১,৩৩০ ডলার ও ১,২৮০ ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত ফরম এন-৩৩৬-এর ফিও বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে কাগজে আবেদন করলে এর ফি ৮৩০ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী তা বেড়ে কাগজে ১,৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ১,৪২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর অর্থ হলো, কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ব্যয় বর্তমানের তুলনায় ৮০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব আবেদনকারীর পারিবারিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ বা তার কম, তারা নাগরিকত্ব আবেদনে কম ফি দেওয়ার সুযোগ পান। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই সুবিধা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ফি মওকুফের সুযোগও বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে বিশেষ ছাড় পাবেন না। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ফি ছাড় বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস। নতুন ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভাগটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে যে ব্যয় বহন করে, নতুন ফি সেই ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পাশাপাশি সংস্থাটির আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএসসিআইএস মূলত আবেদনকারীদের দেওয়া ফি থেকেই পরিচালিত হয়। ফলে কার্যক্রমের ব্যয় বৃদ্ধি পেলে সংস্থাটি প্রায়ই ফি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়। তবে নাগরিকত্ব আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে অনেক অভিবাসী আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ নাগরিকত্ব অর্জনের পাশাপাশি আবেদন, নথিপত্র সংগ্রহ, ভাষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যেই অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নাগরিকত্ব অর্জনের পথ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বহু অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মার্কিন নাগরিকত্ব (সিটিজেনশিপ) বাতিলের এক নজিরবিহীন ও আগ্রাসী অভিযানে নেমেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই অন্তত ২৫০ জন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় (ন্যাচারালাইজড) নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির ইউএস সিটিজেনশিপ বাতিল করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস)। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ফেডারেল সরকারের এই নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করার লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ কয়েক ডজন নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক যদি জালিয়াতি, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কিংবা ফৌজদারি অপরাধের তথ্য গোপন করে অবৈধ উপায়ে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন, তবে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে বিচার বিভাগ তা বাতিল করতে পারে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ২ কোটি ৪০ লাখ ন্যাচারালাইজড নাগরিকের তুলনায় ২৫০টি মামলা খুবই সামান্য একটি অংশ, তবুও এটি অতীতের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে একটি চরম ও নাটকীয় বৃদ্ধি। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯0 থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মার্কিন সরকার প্রতি বছর গড়ে মাত্র ১১টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করত। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরে এই সংখ্যার উল্লম্ফন মার্কিন অভিবাসন নীতিতে এক বড় ধরনের কড়াকড়ির ইঙ্গিত দেয়। ঐতিহাসিকভাবে, নাগরিকত্ব বাতিলের মতো এই দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়াটি কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধী বা চরম সহিংস অপরাধীদের মতো গুরুতর অপরাধীদের ক্ষেত্রেই সংরক্ষিত থাকত। কারণ এই প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউটরদের ফেডারেল বিচারকদের সামনে অকাট্য প্রমাণ দিয়ে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হয়। তবে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতি সংশোধন করে নাগরিকত্ব বাতিলের আওতায় নিয়ে আসার অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্যাটাগরি বা পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলে ছোটখাটো তথ্য গোপন বা জালিয়াতির মামলাও এখন এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে এই নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হচ্ছে, তারা আদালতের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই করার সুযোগ পাবেন। তবে আদালতে যদি মার্কিন সরকারের অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে ওই ব্যক্তিরা আমেরিকান নাগরিকত্বের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে হারাবেন। এর ফলে তারা আবার তাদের আগের অভিবাসন মর্যাদায় (সাধারণত গ্রিন কার্ড হোল্ডার বা স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে) ফিরে যাবেন এবং চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে তাদের নিজ নিজ জন্মভূমিতে ফেরত বা ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পর এবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) আমেরিকানদের টার্গেট করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জালিয়াতি বা তথ্য গোপন করে যারা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে এক নজিরবিহীন আইনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত মামলা করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন বিলাসিতা, সাধারণ ‘স্টার্টার হোম’ কিনতেও লাগছে ১০ লাখ ডলার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের গত দুই মাসেরও কম সময়ে বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে ২৯ জন বিদেশি-জাত মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত যেখানে বছরে গড়ে মাত্র ১০টির মতো নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা হতো, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই গতি আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বিরল এবং জটিল হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভিডিও দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন? জেনে নিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার সহজ পথ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বিচার বিভাগ জালিয়াতি দমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে সিভিল আইনজীবীদের সরিয়ে এনে এই ‘নাগরিকত্ব বাতিল ইউনিটে’ নিয়োগ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া একটি বিশেষ সুযোগ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মূলত যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় বা তার আগে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নে জড়িত ছিলেন, কিংবা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন—তাদেরই নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলায় জয়ী হয়, তবে ওই ব্যক্তি তার মার্কিন নাগরিকত্ব হারাবেন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের অভিবাসী স্ট্যাটাসে (যেমন- পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ড) ফিরে যাবেন। এমনকি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টও করা হতে পারে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের প্রশাসনগুলো (যেমন- বাইডেন প্রশাসন চার বছরে মাত্র ২৪টি মামলা করেছিল) কেবল যুদ্ধাপরাধী বা বড় সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ নিত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সাধারণ কাগজের ভুলত্রুটি বা ছোটখাটো তথ্য গোপনের বিষয়গুলোকেও এই আইনের আওতায় এনে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, এই আইনটি কেবল অন্য দেশ থেকে এসে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া আমেরিকানদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়। সূত্র: সিএনএন
একসময় মার্কিন নাগরিকত্বকে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিচয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সেই নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য বহু মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন, আইনি লড়াই করেছেন এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিন্ন একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন। এই প্রবণতার পেছনে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি রয়েছে করব্যবস্থা, আর্থিক জটিলতা, বিদেশে বসবাসের বাস্তবতা এবং নতুন পরিচয়ের সন্ধান। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ হাজার ৮৮৯ জন মার্কিন নাগরিক তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। অভিবাসন ও করবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি প্রবাসী আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে রয়েছেন। নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী ৩৪ বছর বয়সী ইরিন ক্লাট তাদেরই একজন। ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী হন। প্রায় এক দশক পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “আমি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব গভীরভাবে নিজেকে যুক্ত অনুভব করিনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের করব্যবস্থার আওতায় থাকার বিষয়টি আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। এখন আমার কোনো অনুশোচনা নেই।” সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক কারণ নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই প্রধান ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যারা নাগরিকত্বের ভিত্তিতে কর আরোপ করে। অর্থাৎ একজন মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী তাকে যুক্তরাষ্ট্রে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট (FATCA) কার্যকর হওয়ার পর এই বাধ্যবাধকতা আরও কঠোর হয়েছে। এর ফলে বিদেশে বসবাসকারী বহু আমেরিকান বিভিন্ন আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ইউরোপের অনেক ব্যাংক জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখায়। অনেকের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ, অবসরকালীন সঞ্চয় গঠন কিংবা বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনাও জটিল হয়ে উঠেছে। এদিকে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও কিছুটা সহজ হয়েছে। চলতি বছর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলারে নির্ধারণ করেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ফি কমানোর পর আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ নয়। আবেদনকারীকে আগে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করতে হয়। এরপর পাঁচ বছরের কর-সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দিতে হয়, মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শপথ করতে হয় এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। যাদের সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ ডলারের বেশি, তাদের জন্য অতিরিক্ত কর-সংক্রান্ত বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে। আইনজীবীরা সতর্ক করে বলছেন, এটি একটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসার প্রয়োজন হবে এবং সেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। এ কারণে সাময়িক রাজনৈতিক ক্ষোভ বা স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। প্রবাসী আমেরিকানদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন Americans Overseas-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা Dan Durlacher মনে করেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের আগে মানুষের আরও গভীরভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তার ভাষায়, “আপনি যদি মার্কিন নাগরিক হন, তাহলে এখনও আপনার ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার ব্যবহার করে পরিবর্তনের চেষ্টা করা যেতে পারে।” মার্কিন নাগরিকত্ব এখনও বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বৈশ্বিক জীবনযাত্রা, করনীতি এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিচয় ধরে রাখার খরচ ও দায়বদ্ধতাও বেড়েছে। ফলে একসময় যে নাগরিকত্ব অর্জন ছিল বহু মানুষের স্বপ্ন, সেটি ত্যাগ করাও এখন অনেকের কাছে কঠিন কিন্তু বাস্তব একটি সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে।
গত বছর প্রায় ৫ হাজার মানুষ মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অধিকার ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর-সংক্রান্ত জটিলতা, স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মার্কিন সরকারের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ ব্যক্তি তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের মর্যাদা ত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮০০। যদিও ব্যবধান খুব বেশি নয়, তবুও এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষ বিভিন্ন কারণে এ সিদ্ধান্ত নেন। তবে চলতি পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ অনেকেই প্রকাশ্যে তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণের কথাও তুলে ধরছেন। সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক লিলি, যিনি একই সঙ্গে বেলজিয়ামের নাগরিকও, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের সহায়তাকারী একটি সংস্থাকে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত ছিল তার কাছে এক ধরনের প্রতিবাদ। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের একটি ব্যক্তিগত উপায়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী এরিন ক্ল্যাট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তিনি আর্থিক ও রাজনৈতিক উভয় কারণেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। স্থায়ীভাবে অন্য দেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগের মতো নেই। ক্ল্যাট বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে খুব বেশি দেশপ্রেমিক বা যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক মনে করেননি। পাশাপাশি দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপথ নিয়েও তিনি হতাশ ছিলেন। একই ধরনের মতামত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক ব্যক্তি, যিনি গত বছর ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি না হলে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক কারণ যতটা আলোচনায় আসে, বাস্তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ নাগরিকদের বসবাসের স্থানের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা কিছুটা ব্যতিক্রম। কোনো মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, তাকে প্রতি বছর আইআরএসের কাছে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। এমনকি বহু বছর ধরে বিদেশে বসবাস করলেও এই বাধ্যবাধকতা বহাল থাকে। ফলে বিদেশে বসবাসরত অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য দ্বৈত কর-সংক্রান্ত নথিপত্র, আর্থিক হিসাব এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝামেলায় পরিণত হয়। অনেকেই এই জটিলতা থেকে মুক্তি পেতেই নাগরিকত্ব ত্যাগের পথ বেছে নেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াও সহজ নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে নাগরিকত্ব হারানোর সনদের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অন্তত দুটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়, যার একটি অবশ্যই সরাসরি উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করতে হয়। এ ছাড়া আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নিতে হয় এবং এ সিদ্ধান্তের ফলে তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিও স্বীকার করতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কনস্যুলার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। আগে এই প্রক্রিয়ার জন্য ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি দিতে হতো। বর্তমানে তা কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা ভাবলেও ব্যয়ের কারণে পিছিয়ে থাকা অনেক মানুষ এখন আবেদন করতে আগ্রহী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন, করনীতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নাগরিকত্ব ত্যাগের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও মোট জনসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা এখনও খুবই ছোট, তবুও বিষয়টি দেশটির নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বের ধারণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে। সূত্র: আইআরএস, ফেডারেল রেজিস্টার, সিএনএন, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
নিউজিল্যান্ডে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসায় যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই মার্কিন তরুণী এরিন ক্ল্যাট বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি এই দেশটিকে নিজের স্থায়ী আবাস বানাতে চান। ২০১৬ সালে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা কারণে নিজের মাতৃভূমি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় তিনি মূলত পৃথিবীর অন্য কোথাও শান্তিতে থাকার খোঁজ করছিলেন। ক্ল্যাট বলেন, নিউজিল্যান্ডে আসার পর তার জীবনের সবকিছু যেন খুব চমৎকারভাবে মিলিয়ে গেল। এক দশক পর, ৩৪ বছর বয়সে এসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজের সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগের সরকারি ফি প্রায় ৮০ শতাংশ কমানোর আগেই তিনি ২,৩৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত শপথ পাঠ করেন। আমেরিকার উইসকনসিনে দুগ্ধ খামারে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় নিউজিল্যান্ডেও দ্রুত একই ধরনের কাজ পেয়ে যান তিনি। সেই কাজের সুবাদে পাওয়া ‘এসেনশিয়াল স্কিলস’ ভিসা তাকে দেশটিতে দীর্ঘদিন থাকার আইনি সুযোগ করে দেয়। ওই দুগ্ধ খামারেই তার পরিচয় হয় এক ইংরেজ যুবকের সঙ্গে, যিনি তখন নিউজিল্যান্ডে বসবাস ও কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে তারা দুজন একসঙ্গে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তখনই ক্ল্যাট সিদ্ধান্ত নেন যে এবার মার্কিন নাগরিকত্ব পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনি কখনোই খুব বেশি দেশপ্রেমিক বা আবেগগতভাবে যুক্ত অনুভব করেননি। পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজনৈতিক পথে এগিয়েছে, তা নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভীষণ হতাশ ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জটিল জাতীয় রাজনীতি এবং বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের ওপর দেশটির সরকারের অতিরিক্ত করের বোঝা—এই দুই বিষয় মিলিয়ে নাগরিকত্ব ত্যাগ করাটাই তার কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সহজ নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তারা নাগরিকত্ব ত্যাগকারীদের সঠিক সংখ্যা কখনো প্রকাশ করে না। তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতি তিন মাসে একবার এ-সংক্রান্ত আইআরএস প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের সহায়তাকারী বিশেষ প্রতিষ্ঠান আমেরিকেন্স ওভারসিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আইআরএসের তালিকায় ৪,৮৮৯ জন মার্কিন নাগরিকের নাম রয়েছে। ২০২০ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের সামগ্রিক হার প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে ক্ল্যাট নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে মার্কিন কনস্যুলেটে সরাসরি সাক্ষাতের সময় পান এবং মার্চে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। তখনো এই প্রক্রিয়া চালুর সরকারি ফি ছিল ২,৩৫০ ডলার, যা বর্তমানে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কর ও আইন পরামর্শ প্রতিষ্ঠান টাইগারম্যানের একজন শীর্ষ আইনজীবী জনাথন টি. টাইগারম্যান বলেন, বিদেশে বসবাস করলেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর মার্কিন কর-সংক্রান্ত কঠোর বাধ্যবাধকতা অনেককে নাগরিকত্ব ত্যাগে বড় ধরণের উৎসাহিত করে। বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা মার্কিন বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে কোনো প্রচেষ্টা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু হয়তো কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা কাজ করেননি—তাদের জন্য এই করের বোঝা আরও অনেক বড়। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করার এই পুরো প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজ নয়। মার্কিন নাগরিকত্ব সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হলে আবেদনকারীর আগে অবশ্যই অন্য যেকোনো একটি দেশের বৈধ নাগরিকত্ব থাকতে হবে। এ ছাড়া নাগরিকত্ব ত্যাগের আগে অন্তত বিগত পাঁচ বছরের কর-সংক্রান্ত সমস্ত নথি হালনাগাদ থাকা বাধ্যতামূলক এবং কোনো ব্যক্তির দুই মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ থাকলে তার জন্য আরো জটিল নিয়ম ও কর প্রযোজ্য হয়। নিউইয়র্কভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী ব্র্যাড বার্নস্টেইন এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগের এই সুদূরপ্রসারী পরিণতি পুরোপুরি ভেবে দেখেন না। কারণ নাগরিকত্ব ত্যাগের পর আপনি আর মার্কিন নাগরিক থাকবেন না এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে চাইলে—এমনকি সাধারণ ভ্রমণের জন্যও—নতুন করে ভিসা লাগবে, আর সেই ভিসা পাওয়াও কিন্তু শতভাগ নিশ্চিত নয়। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নীরজ শর্মা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু চাকরির আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। পাশাপাশি অভিবাসন ও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, ভুয়া তথ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করা হয়ে থাকলে আইনের আওতায় সেই নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নীরজ শর্মার বিরুদ্ধে ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ বা নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে এখনো তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়নি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। মার্কিন আইনে নাগরিকত্ব বাতিল হলে ভবিষ্যতে বহিষ্কারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই বহুল ব্যবহৃত। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও আইটি খাতে ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ এই ভিসার মাধ্যমে কাজ করে থাকেন। তবে অতীতে এই কর্মসূচিকে ঘিরে জালিয়াতি, ভুয়া চাকরির অফার এবং ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ আদালতের রায়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসসহ একাধিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।