- প্রচ্ছদ
- Topic
মার্কিন নাগরিকত্ব
অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়া এবং নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ভিভিয়ান চিকি ওবিচেরে। গত ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। ২০১৩ সালের জুনে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ওবিচেরের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর ধরা হয়েছে নাগরিকত্ব পাওয়ার দিন থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়ার মধ্য দিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওবিচেরে ১৯৯২ সালে ‘সি.সি.ও.’ নামে চিহ্নিত এক মার্কিন নাগরিকের নাম, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, জন্মস্থান ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। ২০০২ সালে তিনি ওই পাসপোর্ট নবায়নও করেন। পরে ২০০৩ সালে নিজের প্রকৃত পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। তবে ২০১২ সালে তিনি আবারও অন্যের পরিচয়ে নেওয়া পাসপোর্ট নবায়নের চেষ্টা করেন। একই সময়ে নিজের আসল নাম ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনও করেন। বিচার বিভাগের বিবরণ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য সাক্ষাৎকারের সময় শপথ নিয়ে ওবিচেরে দাবি করেছিলেন, তিনি কখনো ‘সি.সি.ও.’ নামটি ব্যবহার করেননি। অথচ ওই বক্তব্য মিথ্যা ছিল বলে জানায় বিভাগটি। ২০১৫ সালে পাসপোর্টের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও পাসপোর্ট ব্যবহারের ঘটনায় ফেডারেল আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে মামলা করে বিচার বিভাগ। মামলার চারটি অভিযোগের মধ্যে একটির ভিত্তিতে আদালতের সম্মতিমূলক রায় মেনে নেন ওবিচেরে। দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে গত ১৩ অক্টোবর আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। বাকি তিনটি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়েই সেগুলো খারিজ করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে নাগরিকত্বের সনদ এবং তাঁর কাছে থাকা মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট সরকারি নথি, যেমন মার্কিন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট কার্ড, জমা দিতে হবে। তবে আদালতের এই আদেশে ওবিচেরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকতে পারবেন কি না, তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না কিংবা আটক করা যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। অভিবাসন আইনের আওতায় অন্য কোনো সুবিধা বা সু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ জোরদার করার মধ্যে এ ঘটনাটি সামনে এল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাকসেস ক্লিয়ারিংহাউসের (ট্র্যাক) তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৮৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫০টি মামলা দায়ের হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুরো দেশে দায়ের হওয়া প্রায় ১২৫টি মামলার তুলনায় চলতি বছরের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বেশি। ওবিচেরের মামলার পাশাপাশি কিউবায় জন্ম নেওয়া মিলাগ্রোস মারিলেইসিস আকোস্তা তোরেসের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের কথাও জানিয়েছে বিচার বিভাগ। ২০১৫ সালে নাগরিকত্ব পাওয়া আকোস্তা তোরেসের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচালিত ক্যাসিনো থেকে জাল ঋণপত্রের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার আত্মসাতের অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। ২০২০ সালে এ ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রায় দেড় লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৪ অক্টোবর আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বেসামরিক বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ শুমেট বলেন, অপরাধ গোপন করে বা মার্কিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে নাগরিকত্ব অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও নিউজউইক।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদিত হয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬টি আবেদন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৭৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ইউএসসিআইএসের সরকারি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নাগরিকত্বের অনুমোদন পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২০ জন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬ জনে। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টিতে। পরিসংখ্যানটি মার্কিন অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের, যা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়কে বোঝায়। এটি অক্টোবর মাসের অনুমোদনের হিসাব নয়। শুধু অনুমোদন কমেনি, একই সঙ্গে নাগরিকত্বের আবেদনের জটও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন শেষে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮টিতে। চলতি বছরের জুন শেষে অপেক্ষমাণ আবেদন বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার আবেদন বেশি জমে রয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে নাগরিকত্বের আবেদন করা অনেক গ্রিন কার্ডধারীকে দীর্ঘ সময় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমার হার এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে ইউএসসিআইএস ফিল্ড অফিসে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৪১টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৩১৭টি আবেদন। অর্থাৎ সেখানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে টেক্সাসের হিউস্টনে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো বেশি অভিবাসী অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে। নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকানস। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকু নিউজউইককে বলেছেন, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ বিলম্বের ফলে যোগ্য অভিবাসীদের নাগরিকত্ব অর্জন এবং নাগরিক জীবনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে আবেদনগুলো দীর্ঘদিন আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন নাগরিকদের ভোটার হওয়ার সুযোগ সীমিত করাও এই ধীরগতির একটি উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন আটকে রাখা হচ্ছে, এমন অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার এবং হিউস্টনে প্রায় ৩১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যেও প্রায় ১৭ হাজার ৩০০টি আবেদন আটকে আছে। নিকোল মেলাকুর মতে, এত বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকায় অনেক অভিবাসী জানেন না, কবে তাঁরা নাগরিকত্বের শপথ নিতে পারবেন। তাঁদের অনেকে আবেদন ফি পরিশোধ করেছেন, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন। তারপরও আবেদনের সিদ্ধান্ত পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ডিএইচএস নিউজউইককে জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময় নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথ যাচাই ছাড়া অনুমোদন করা হতো বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান প্রশাসন সেই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই করছে। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসন নাগরিকত্ব পরীক্ষায় ২০২০ সালের সিভিকস টেস্ট পুনর্বহাল করেছে। একই সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্রমও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা। তবে কঠোর যাচাইয়ের কারণে ঠিক কতটি আবেদন বিলম্বিত হয়েছে, তার পৃথক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টি আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ভোট দেওয়ার জন্য আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হতে হয়। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হলেও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একজন আবেদনকারী সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। ফলে নির্বাচনের আগে শপথ গ্রহণের সুযোগ না পেলে যোগ্য আবেদনকারীরাও ওই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। অবশ্য নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম পূরণ করতে হয়। সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইন নিউজউইককে জানিয়েছেন, নাগরিকত্বের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করেও দীর্ঘ বিলম্বের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রভাবিত হতে পারে। তাঁর মতে, যোগ্য আবেদনকারীর নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেওয়া হলে সেই ব্যক্তি নির্দিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। তবে আবেদন নিষ্পত্তিতে ধীরগতির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আরও প্রমাণ প্রয়োজন। নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়াই এককভাবে নির্বাচনী হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে না। ব্লুমবার্গ ল-এর ১৫ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনেও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ধীরগতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস প্রায় ৭১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার। অর্থাৎ শুধু অনুমোদন নয়, অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যান মিলিয়ে মোট নিষ্পত্তির সংখ্যাও প্রায় ৭৩ শতাংশ কমেছে। এতে বোঝা যায়, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির সামগ্রিক গতিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে অনুমোদনের সংখ্যা ৭৬ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে জমা দেওয়া প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে ৭৬টি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি নতুন নাগরিকত্বের আবেদন পেয়েছে। একই সময়ে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি আবেদন অনুমোদন এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত দেওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। মূল সমস্যা হলো, আগের তুলনায় অনেক কম আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন এবং এন-৪০০ ফরমের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার, সিদ্ধান্ত কিংবা শপথ অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে সরকারি পরিসংখ্যানটি সব আবেদনকারীর গড় পরিস্থিতি তুলে ধরে। প্রত্যেকের আবেদন একই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে বা একই ধরনের বিলম্বের মুখে পড়বে, এমন নয়। আবেদনকারীর অবস্থান, ফিল্ড অফিস, যাচাইয়ের প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য হতে পারে। ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ তথ্য মার্কিন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরছে। এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আগামী নির্বাচনের আগে কতজন আবেদনকারী নাগরিকত্ব ও ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। SOURCE - নিউজউইক ব্লুমবার্গ ল
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন করার প্রায় ১৮ মাস পরও সাক্ষাৎকারের ডাক পাননি ওহাইওর বাসিন্দা মেং জু লিউ। দীর্ঘ বিলম্বের অভিযোগে ১৫ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আদালত হস্তক্ষেপ না করলে আবেদনটি অনির্দিষ্টকাল পড়ে থাকতে পারে। নিউজউইকের দেখা মামলার নথি অনুযায়ী, মাইকেল লিউ নামেও পরিচিত তাইওয়ানের নাগরিক লিউ ২০০২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল নাগরিকত্বের জন্য এন-৪০০ ফরম জমা দেন। ইউএসসিআইএস ওই দিনই আবেদনটি গ্রহণ করে। মামলায় লিউ বলেছেন, সিনসিনাটি অফিসে এন-৪০০ আবেদনের প্রকাশিত প্রক্রিয়াকরণের সময় ছিল ৯ দশমিক ৫ মাস। অথচ প্রায় দ্বিগুণ সময় পার হওয়ার পরও তাঁর সাক্ষাৎকার হয়নি এবং বিলম্বের কারণও জানানো হয়নি। ইউএসসিআইএসের নথি অনুযায়ী, আগের বায়োমেট্রিক তথ্য পুনরায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁকে নতুন করে আঙুলের ছাপ দিতে ডাকা হয়নি। লিউ স্বীকার করেছেন, নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার পরীক্ষা প্রয়োজন। তবে তাঁর বক্তব্য, এসব যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকলেও ব্যাখ্যা ছাড়া এত দীর্ঘ সময় আবেদন ঝুলিয়ে রাখা যুক্তিসংগত নয়। আদালতের কাছে তিনি ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ করার নির্দেশ চেয়েছেন। যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও চেয়েছেন তিনি। এগুলো মামলায় লিউয়ের আবেদন, আদালতের দেওয়া আদেশ নয়। মার্কিন আইনে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের পর ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে আদালতে যাওয়ার একটি নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। লিউয়ের সাক্ষাৎকারই এখনো হয়নি বলে তাঁর মামলার বিলম্বের অভিযোগকে সেই ১২০ দিনের বিধানের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। নিউজউইক জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও লিউয়ের আইনজীবীদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে। সূত্র: নিউজউইকের প্রকাশিত মামলার বিবরণ; ইউএসসিআইএস; যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির পর তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে কঠোর আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং আদালতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ তাঁর বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এর কয়েক দিন পর সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার এখন পর্যন্ত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়নি। মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ফেডারেল তদন্তকারীরা তাঁর অভিবাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় জমা দেওয়া নথিতে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তাঁর বয়সসংক্রান্ত তথ্য এবং এ বিষয়ে তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল কি না। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তল্লাশির সময় ফেডারেল কর্মকর্তারা নথিপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং তাঁর পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইলহান ওমরের আইনজীবীরা এ তল্লাশির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জব্দ করা সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ বলেছে, আদালতের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালানো হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়। সাধারণত নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা না থাকার মতো বিষয় প্রমাণ করতে হয়। শুধু তদন্ত শুরু হওয়া কিংবা কোনো অভিযোগ ওঠার কারণে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। সরকারকে প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ড পূরণ করে আদালতে মামলা করতে হবে। এ ধরনের মামলায় প্রমাণের ভিত্তি ও আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বোস্টন কলেজের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ক্যানস্ট্রুমের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব একবার পাওয়ার পর তা বাতিল করার ক্ষেত্রে সরকারের জন্য আইনি বাধা অনেক উঁচু। নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা সফল করতে হলে সরকারকে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ফলে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হলেও তা থেকে সরাসরি তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ইলহান ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এ তদন্তে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে সিএনএন জানিয়েছে। তদন্তের ফলাফল, সম্ভাব্য অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন শিকাগোর এক ব্যক্তি। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, আগের পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে তিনি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। এ অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে মামলা করেছে মার্কিন সরকার। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করেছে। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের করা মামলায় বলা হয়েছে, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন নাগরিকত্বের শপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। কিন্তু তার অভিবাসন-ইতিহাসে এর আগে অন্য পরিচয় ব্যবহারের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, তিনি আগে ‘ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো’ নাম ব্যবহার করেছিলেন এবং ওই পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল। এসব তথ্য পরবর্তী অভিবাসন আবেদন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সরকারের। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে আগের পরিচয়ে আকিনকুনমির গ্রিন কার্ডের মর্যাদা পরিত্যক্ত হয়েছিল এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে দেশটির অভিবাসন আপিল বোর্ড ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আকিনকুনমি নাম ব্যবহার করে নতুন গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করার কথা অস্বীকার করেন এবং এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার বিষয়টিও জানাননি। ২০০০ সালে তার ওই আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি আগের পরিচয় ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা প্রবেশে বাধার আদেশ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভাষ্য, এসব তথ্য সত্য হলে তিনি আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে অভিবাসন সুবিধা নিয়েছিলেন। এ কারণে তার নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মামলায় আকিনকুনমির পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম নথিভুক্ত ছিল না বলে নিউজউইক জানিয়েছে। তার পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। আকিনকুনমির বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের নাগরিকত্ব বাতিলের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৫ অক্টোবর জানায়, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ, প্রতারণা কিংবা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অভিযোগ এখনো আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’। দেশটির আইনে, কেউ বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেলে অথবা নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। তবে শুধু কোনো ভুল তথ্য পাওয়া গেলেই নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। ২০১৭ সালে ‘মাসলেনজাক বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলায় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বেআইনি কাজ বা মিথ্যা তথ্যের বাস্তব প্রভাব থাকতে হবে। অর্থাৎ, তথ্যটি এমন হতে হবে, যা নাগরিকত্ব পাওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ১১টি এ ধরনের মামলা করেছিল ফেডারেল সরকার। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে বছরে গড়ে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। বর্তমান প্রশাসন আরও বেশি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রতিটি মামলায় সরকারের অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা যায় না। আকিনকুনমির ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব বাতিলের চূড়ান্ত রায় হয়নি। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের জন্য করা ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি এন-৪০০ আবেদন গত ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এপ্রিল থেকে জুন - এই তিন মাসে ইউএসসিআইএস নতুন আবেদন পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি, আর অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিয়েছে ৭০ হাজার ৫৩৯টির। সংস্থাটির ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ হিসাব উঠে এসেছে। অপেক্ষমাণ ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন শুধু ওই তিন মাসে জমা পড়েনি। এটি জুনের শেষ দিনে আগের আবেদনসহ মোট অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা। প্রান্তিকটিতে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি অনুমোদিত এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অফিসভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন অপেক্ষমাণ ছিল টেক্সাসের হিউস্টনে - ৩১ হাজার ৫৭টি। এরপর ডালাসে ২৮ হাজার ৬৬২টি, শিকাগোতে ২৩ হাজার ৬২৩টি, স্যান হোসেতে ২০ হাজার ৮৯৯টি এবং স্যান অ্যান্টোনিওতে ১৮ হাজার ৯৯৯টি। এসব সংখ্যায় সাধারণ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নাগরিকত্বের আবেদনও একসঙ্গে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন অপেক্ষমাণ। শুধু সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন ধরলে নিউইয়র্ক অফিসে ১৭ হাজার ২৮টি, ব্রুকলিনে ১৫ হাজার ৬২৭টি, কুইন্সে ১১ হাজার ৯০৮টি এবং লং আইল্যান্ডে ৯ হাজার ৮০৩টি আবেদন জুনের শেষে অনিষ্পন্ন ছিল। নিউ জার্সির নিউয়ার্ক অফিসে এই সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৭০। সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দেশজুড়ে মধ্যম সময় ছিল ৯ দশমিক ৫ মাস। এটি জাতীয় হিসাব, কোনো নির্দিষ্ট অফিস বা আবেদনকারীর জন্য প্রতিশ্রুত সময়সীমা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও একই এন-৪০০ আবেদনপ্রক্রিয়া প্রযোজ্য; প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশিদের আবেদন আলাদা করে দেখানো হয়নি।
ভুয়া মার্কিন নাগরিকত্ব ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মহাকাশ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে টানা ৩০ বছর চাকরি করার অভিযোগে এক মেক্সিকান নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে আলমা প্যাট্রিসিয়া কনট্রেরাস ভিলাফানা নামের ৫৪ বছর বয়সী ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। তিনি ‘হাউমেট অ্যারোস্পেস’ নামের একটি কারখানায় যন্ত্রবিদ হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় কারখানার একটি কনফারেন্স রুমে লুকিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বেরিয়ে এলে এজেন্টরা তাকে হাতকড়া পরান। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ওই নারী নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করে হাউমেট-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে প্রথম চাকরি পান। অথচ ২০০৩ সালেই একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। চাকরি বাঁচাতে চলতি বছর তিনি আবারও ভুয়া নাগরিকত্ব দাবি করে অন্য এক ব্যক্তির ন্যাচারালাইজেশন নম্বর ব্যবহার করেন। দীর্ঘ ৩০ বছরের এই চাকরিতে তিনি অন্তত ১৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ডলার বেতন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা, ভুয়া নথির ব্যবহার, পরিচয় চুরি এবং মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবিসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসায়লি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে ভুয়া পরিচয়ে কাজ করা দেশের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। হাউমেট অ্যারোস্পেস মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এফ-৩৫ ফাইটার জেটের মতো অত্যাধুনিক বিমানের বিভিন্ন সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভিলাফানাকে প্রতারণার প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছরসহ অন্যান্য অভিযোগে আরও দীর্ঘ মেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষার লিখিত পরীক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট ভুল করলে আবেদনকারীকে ব্যর্থ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (ইউএসসিআইএস) সরকারি নির্দেশিকায় লিখিত পরীক্ষায় কোন ধরনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএসের স্কোরিং নির্দেশিকা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে কর্মকর্তার বলা একটি বাক্য লিখতে হয়। নির্ধারিত বাক্যটি সঠিকভাবে এবং বোঝা যায় এমনভাবে লিখতে পারলেই লিখিত ইংরেজির দক্ষতা প্রদর্শন করা সম্ভব। তবে উত্তরটি যদি নির্দেশিত বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ না করে, সেটি ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় প্রথম যে ভুলটি ব্যর্থতার কারণ হতে পারে, সেটি হলো কর্মকর্তার বলা বাক্য বা শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য বা শব্দ লেখা। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে যে বাক্যটি লিখতে বলা হয়েছে, সেটির পরিবর্তে নিজের মতো করে অন্য কিছু লিখলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। দ্বিতীয়ত, নির্দেশিত কোনো শব্দের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করলেও উত্তরটি ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মকর্তার বলা শব্দের জায়গায় সংক্ষিপ্ত রূপ লিখলে সেটি ভুল উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে। তৃতীয়ত, পরীক্ষার্থী কিছু না লিখলে অথবা মাত্র এক-দুটি বিচ্ছিন্ন শব্দ লিখলে সেটিও ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। তাই পরীক্ষার্থীর উচিত কর্মকর্তার নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখার চেষ্টা করা। চতুর্থত, হাতের লেখা এতটাই অস্পষ্ট হলে যে কর্মকর্তা সেটি পড়তে বা বুঝতে না পারেন, সেই উত্তরও ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হবে। ইউএসসিআইএসের সরকারি স্কোরিং গাইডলাইনে সম্পূর্ণ অপাঠ্য লিখিত উত্তরকে সরাসরি ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, লিখিত বাক্যটি এমনভাবে লেখা হলে যাতে নির্দেশিত বাক্যের অর্থ বোঝা না যায়, সেটিও ব্যর্থতার কারণ। ফলে শুধু বানান বা লেখার সৌন্দর্য নয়, পরীক্ষার্থীর লেখা বাক্যটি কর্মকর্তার কাছে অর্থবোধক ও বোধগম্য কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের ইংরেজি পরীক্ষার তিনটি অংশ রয়েছে, কথা বলা, পড়া এবং লেখা। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ তিনটি বাক্য দেওয়া হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি বাক্য সঠিকভাবে লিখতে পারলেই এই অংশে ইংরেজিতে লেখার সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়। পরীক্ষার জন্য ইউএসসিআইএস একটি নির্দিষ্ট লিখিত শব্দভান্ডারের তালিকাও প্রকাশ করে, যার শব্দগুলো নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীকে ইংরেজি ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরীক্ষা দিতে হয়, যদি তিনি কোনো ছাড় বা অব্যাহতির যোগ্য না হন। ইংরেজি পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি নাগরিকত্ব পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞানও যাচাই করা হয়। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেউ প্রথম পরীক্ষায় ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার কোনো অংশে ব্যর্থ হলে তাকে সাধারণত দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম পরীক্ষার পর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং আগেরবার যে অংশে ব্যর্থ হয়েছেন, সাধারণত সেই অংশেই আবার পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাই নাগরিকত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আবেদনকারীদের শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি কর্মকর্তার বলা বাক্য মনোযোগ দিয়ে শোনা, পূর্ণ বাক্য লেখা এবং হাতের লেখা স্পষ্ট রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত প্রস্তুতি উপকরণ ব্যবহার করে আগে থেকেই লিখিত অংশের অনুশীলন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ইউএসসিআইএস, লেজিট.এনজি।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের চরিত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ে আবারও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নিয়ম চালু করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি স্থগিত ছিল। সেই সময় ইউএসসিআইএস, যা আগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস নামে পরিচিত ছিল, সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের জন্য মূলত এফবিআই এর অপরাধমূলক ইতিহাস এবং অন্যান্য সংস্থার রেকর্ডের ওপরই নির্ভর করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরল সংস্থাটি। গত ২৫ আগস্ট থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এরপর ২৯ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইএস জানায়, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আবেদনকারীর বসবাস, উত্তম নৈতিক চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মঙ্গলের প্রতি তার মনোভাব গভীরভাবে যাচাই করা হবে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া একটি বিরল সুযোগ, যা কেবল তাদেরই পাওয়া উচিত যারা জাতির জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেবেন। এর মধ্যে থাকতে পারেন প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক, চাকরিদাতা, সহকর্মী এবং আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে যেসব তথ্য সাধারণত উঠে আসে না, সেসব বিষয়ে ধারণা পেতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে সব আবেদনকারীর জন্য এই তদন্ত বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ জন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বা চরিত্র সনদ জমা দিতে হবে, যেখানে তার যোগ্যতা, চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সংবিধানের নীতিগুলোর প্রতি তার শ্রদ্ধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই ধরনের চিঠিপত্র জমা দিলে ইউএসসিআইএস চাইলে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি মওকুফ করতে পারে, যদিও তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। এই নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি এডলো। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, আমেরিকান মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যথাযথভাবে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা সুরক্ষার জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদই নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য আরও কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ইউএসসিআইএস। গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সিভিকস বা পৌরনীতি পরীক্ষাকে আরও দীর্ঘ ও কঠিন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০০টি প্রশ্নের একটি ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হতো, তা বাড়িয়ে ১২৮টি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তারা এখন ১০টির বদলে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করতে পারবেন। পরীক্ষায় পাসের জন্য আগে ৬টি সঠিক উত্তরের প্রয়োজন হলেও এখন তা বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রিন কার্ডধারী, তাদের জন্য এই নিয়মে শিথিলতা রয়েছে। তবে পাসের জন্য সব আবেদনকারীকেই আগের মতো কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। সংবাদসূত্র: ইউএসসিআইএস পলিসি অ্যালার্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। পারিবারিক অভিবাসন ব্যবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রধানত চার ধরনের আত্মীয়কে স্পনসর করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান সাধারণত ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এই ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর ভিসার নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা নেই। এ ছাড়া ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকের বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এবং ২১ বছরের বেশি বয়সী বা বিবাহিত সন্তানরা ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এসব ক্ষেত্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে শুধু আত্মীয়তা থাকলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। স্পনসরকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং আবেদনকারী স্বজনকেও অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীদের পারিবারিক স্পনসরশিপের সুযোগ মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় সীমিত। তারা সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য আবেদন করতে পারেন। অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়। তবে কোন আত্মীয় কত দ্রুত ভিসা পাবেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ বা তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ অভিযানের অংশ হিসেবে গত আগস্টের শুরুতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০টি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০ আগস্ট এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জন্ম পর্যটন এখন শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বিদেশিদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কার্যত মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ‘বিক্রি’ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জন্ম পর্যটন বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনো বিদেশি নাগরিক মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করেন, যাতে সন্তান জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ ভিত্তি নয়। পিগটের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু নেটওয়ার্ক নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসাসংক্রান্ত সেবা হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করতে আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এসব নেটওয়ার্ক শুধু ভিসা পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও কীভাবে প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে হবে, সে বিষয়ে আবেদনকারীদের পরামর্শ দেয়। এর ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ওপর পড়তে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন পিগট। আগস্টের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ নামে বিশেষ একটি দল গঠনের ঘোষণা দেয়। দপ্তরটি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও আইনি কাঠামো সুরক্ষিত রাখা, অ-অভিবাসী ভিসা কেবল বৈধ ও ঘোষিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জন্ম পর্যটনের মাধ্যমে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো। টাস্কফোর্স গঠনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯০০ হয়েছে বলে পিগট জানান। পররাষ্ট্র দপ্তর এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণও প্রকাশ করেছে। দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দম্পতি দুটি আলাদা ভিসা আবেদনে সম্মেলন ও অবকাশযাত্রাকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া। দ্বিতীয়বার আবেদনের সময় তারা আগে জন্ম নেওয়া একটি সন্তানের তথ্যও গোপন করেছিলেন। ওই দম্পতির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আরেক ঘটনায়, একটি বিদেশি সরকারের একজন কর্মকর্তা সরকারি কাজে এক সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা নিয়েছিলেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দেশ ছাড়েন। অন্য একটি ঘটনায়, এক নারী ভিসা আবেদনে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবকাশযাপনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। জন্ম পর্যটন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পেছনে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক বিধানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সব শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন। সেই আদেশে অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুন Trump v. Barbara মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয় বলে রায় দেয়। আদালত স্পষ্ট করে যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারের আওতাধীন শিশুরা চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার অধীনে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। রায়টি ৬-৩ ভোটে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক নীতি বহাল থাকলেও সেই নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার বিষয়টি আলাদা আইনি প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগও জন্ম পর্যটন-সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা আবেদন যাচাই এবং বাতিলের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করেছে। তবে প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিলের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কোনো বিদেশি নাগরিকের ভ্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। মূল বিষয় হলো ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ভিসা আবেদনে দেওয়া তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করাই যদি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হয়, সেটি পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ কারণ নয়। মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মূলত এমন ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে ভিসার উদ্দেশ্য গোপন করা, ভুল তথ্য দেওয়া বা জন্ম পর্যটনকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য আবেদনকারী বিদেশিদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং ভিসা আবেদনে সত্য তথ্য দেওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা করেছে মার্কিন সরকার। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ড ও পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস জেলার অ্যাটর্নি কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কানসাস অঙ্গরাজ্যের ওলেথ শহরের বাসিন্দা হরিন্দর সিং, যিনি হরিন্দর সিং সাংহেরা ও রুশপাল সিং নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, হরিন্দর সিং বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। তাই আদালতের কাছে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং নাগরিকত্বের সনদ (সার্টিফিকেট অব ন্যাচারালাইজেশন) বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবার অভিবাসন কর্মকর্তাদের নজরে আসেন তিনি। সে সময় তিনি নিজের নাম রুশপাল সিং বলে পরিচয় দেন। পরে ১৯৯৫ সালের আগস্টে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দেন। তবে সরকারি নথিতে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বোঝা যায় তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছিলেন। এর এক বছর পর, ১৯৯৬ সালের জুনে তিনি 'হরিন্দর সিং' নামে নতুন পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আবেদনে তিনি শুধু নামই পরিবর্তন করেননি, নিজের জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তারিখ এবং আবেদন করার ভিত্তিও পরিবর্তন করেছিলেন। সেই আবেদন অনুমোদনের পর ২০০০ সালের অক্টোবরে তিনি একই পরিচয়ে গ্রিন কার্ড পান। এরপর প্রায় আট বছর পর 'হরিন্দর সিং' পরিচয়েই তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তদন্তকারীদের দাবি, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তিনি আগের পরিচয়, বহিষ্কারের আদেশ এবং পূর্বের অভিবাসন-সংক্রান্ত ইতিহাসের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, যদি কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। সংস্থাটি জনগণকে এ ধরনের প্রতারণার তথ্য থাকলে নির্ধারিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে কানসাসের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ইউএস অ্যাটর্নি'স অফিস, ডিস্ট্রিক্ট অব কানসাস) ও ইউএসসিআইএস
নতুন আদেশের একটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবেন, তা সীমিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যটি তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে ভিসা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশ দিয়েছে। ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগটি এসেছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, যখন সুপ্রিম কোর্ট তার আগের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। ৩০ জুনের Trump v. Barbara মামলায় আদালত স্পষ্ট করে যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া, এমনকি বাবা-মা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে অবস্থান করলেও, সংশ্লিষ্ট শিশুরা চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার অধীনে জন্মের সময় মার্কিন নাগরিক। তবে নতুন আদেশে ট্রাম্প প্রশাসন কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আওতার বাইরে রাখার অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা বা নির্দিষ্ট বিদেশি সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘alien enemy’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সন্তানদের বিষয়টি রয়েছে। আদেশে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা কিছু ক্ষেত্র নিয়েও বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। অন্য নির্বাহী আদেশটি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ মোকাবিলায় ভিসা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার দিকে নজর দিয়েছে। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকরা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করছেন কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে ভিসা ইস্যু ও পর্যালোচনায় বাড়তি কড়াকড়ির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রথম দফার উদ্যোগটি সুপ্রিম কোর্টে জিতবে বলে আশা করেছিলেন। আদালতের সিদ্ধান্তকে তিনি অন্যায্য বলে মন্তব্য করে এবার ভিন্ন পথে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। তবে নতুন আদেশগুলোও দ্রুত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অভিবাসন অধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের মতে, নির্বাহী আদেশ দিয়ে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারা পরিবর্তন করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি ১৪তম সংশোধনীর Citizenship Clause। গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৮ সালে এই সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হয়। এর অধীনে সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিকে জন্মের সময় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে অবশ্য আলাদা বিতর্ক রয়েছে। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুর জন্মের মধ্যে আনুমানিক ২৬ হাজার জন্ম ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার দ্বিতীয় বড় নির্বাহী উদ্যোগ। প্রথম মেয়াদের শুরুতেই তিনি একই লক্ষ্য নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন। সেটি নিম্ন আদালতগুলোতে আটকে যায় এবং কার্যকর হতে পারেনি। নতুন আদেশগুলো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আদেশগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ২৫ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেল সরকার। তাদের মধ্যে নিউ জার্সির এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অতীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্টেড হওয়ার তথ্য গোপন রেখে প্রতারণার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট অর্জন করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর অভিবাসী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। ২০১৩ সালে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং আগের বহিষ্কারের তথ্য গোপন রেখে নাগরিকত্ব ও মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নাগরিকত্ব অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল হওয়ার পাশাপাশি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। একই সময়ে মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানায়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব মামলার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অভিবাসন জালিয়াতি, নাগরিকত্ব আবেদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, শিশু যৌন নির্যাতন, মাদক পাচার, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ। মার্কিন আইনে, কেউ যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। তবে প্রতিটি মামলায় সরকারের অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হয় এবং আদালতের চূড়ান্ত আদেশ ছাড়া কারও নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিন্যাচারালাইজেশন কার্যক্রমগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে নাগরিক অধিকারকর্মীদের একটি অংশের আশঙ্কা, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে অভিবাসন নীতি নিয়ে আরও বিস্তৃত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজিত বিশেষ ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে হাজারো অভিবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে নতুন নাগরিকদের শপথ গ্রহণের এই আয়োজন বহু বছরের একটি ঐতিহ্য, যা প্রতি বছর দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) এবং ফেডারেল আদালতের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এসব অনুষ্ঠানে নতুন নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। শপথের মাধ্যমে দীর্ঘ অভিবাসন প্রক্রিয়া শেষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ থাকে দেশের ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থানে। ভার্জিনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের ঐতিহাসিক বাসভবন মন্টিসেলো এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের বাসভবন মাউন্ট ভার্ননসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিবছর বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব স্থানে নতুন নাগরিকদের শপথ গ্রহণ স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অনুষ্ঠানে ফেডারেল বিচারকরা ‘ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স’ বা আনুগত্যের শপথ পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের সাংবিধানিক অধিকার ও দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। অনেক এলাকায় নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও অংশ নেয়। বিশেষ করে ‘লিগ অব উইমেন ভোটার্স’-এর মতো সংগঠনগুলো নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে সহায়তা করে, যাতে তারা নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অসংখ্য ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীরা নতুন পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু করেন। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। সেই উপলক্ষে দেশব্যাপী নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠান আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে নতুন নাগরিকদের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্য, অভিবাসী ঐতিহ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের চলতি অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দুটি বহুল আলোচিত নীতিকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দেশ। আদালত আজ এসব মামলার সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নজর এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে। সবচেয়ে আলোচিত মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি নির্বাহী আদেশে এমন শিশুদের স্বয়ংক্রিয় মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নেন, যাদের জন্মের সময় বাবা-মা কেউই মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন না। এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং অভিবাসন–অধিকার সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। বর্তমানে আদেশটির কার্যকারিতা নিম্ন আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে এবং এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। মামলার শুনানি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আজ আদালত সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত ধারা এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তবে রায় ঘোষণার আগে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেয়নি। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের স্বাধীন ফেডারেল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষমতা সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলারও রায় দিতে পারে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি এবং স্বাধীন ফেডারেল সংস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসনের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভসহ বিভিন্ন স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নতুন আইনি দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকদের মতে, আজ ঘোষিত হতে যাওয়া রায়গুলো শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না; একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা, সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং ফেডারেল আদালতের ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সুপ্রিম কোর্টের চলতি মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে এই মামলাগুলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া শিগগিরই আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বিদ্যমান ফি ছাড় ও ফি মওকুফের সুবিধা বাতিলেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র বা ফরম এন-৪০০ জমা দিতে কাগজে আবেদন করলে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে আবেদন করলে ৭১০ ডলার ফি দিতে হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এই ফি বাড়িয়ে যথাক্রমে ১,৩৩০ ডলার ও ১,২৮০ ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত ফরম এন-৩৩৬-এর ফিও বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে কাগজে আবেদন করলে এর ফি ৮৩০ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী তা বেড়ে কাগজে ১,৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ১,৪২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর অর্থ হলো, কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ব্যয় বর্তমানের তুলনায় ৮০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব আবেদনকারীর পারিবারিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ বা তার কম, তারা নাগরিকত্ব আবেদনে কম ফি দেওয়ার সুযোগ পান। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই সুবিধা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ফি মওকুফের সুযোগও বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে বিশেষ ছাড় পাবেন না। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ফি ছাড় বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস। নতুন ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভাগটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে যে ব্যয় বহন করে, নতুন ফি সেই ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পাশাপাশি সংস্থাটির আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএসসিআইএস মূলত আবেদনকারীদের দেওয়া ফি থেকেই পরিচালিত হয়। ফলে কার্যক্রমের ব্যয় বৃদ্ধি পেলে সংস্থাটি প্রায়ই ফি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়। তবে নাগরিকত্ব আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে অনেক অভিবাসী আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ নাগরিকত্ব অর্জনের পাশাপাশি আবেদন, নথিপত্র সংগ্রহ, ভাষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যেই অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নাগরিকত্ব অর্জনের পথ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বহু অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মার্কিন নাগরিকত্ব (সিটিজেনশিপ) বাতিলের এক নজিরবিহীন ও আগ্রাসী অভিযানে নেমেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই অন্তত ২৫০ জন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় (ন্যাচারালাইজড) নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির ইউএস সিটিজেনশিপ বাতিল করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস)। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ফেডারেল সরকারের এই নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করার লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ কয়েক ডজন নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক যদি জালিয়াতি, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কিংবা ফৌজদারি অপরাধের তথ্য গোপন করে অবৈধ উপায়ে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন, তবে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে বিচার বিভাগ তা বাতিল করতে পারে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ২ কোটি ৪০ লাখ ন্যাচারালাইজড নাগরিকের তুলনায় ২৫০টি মামলা খুবই সামান্য একটি অংশ, তবুও এটি অতীতের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে একটি চরম ও নাটকীয় বৃদ্ধি। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯0 থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মার্কিন সরকার প্রতি বছর গড়ে মাত্র ১১টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করত। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরে এই সংখ্যার উল্লম্ফন মার্কিন অভিবাসন নীতিতে এক বড় ধরনের কড়াকড়ির ইঙ্গিত দেয়। ঐতিহাসিকভাবে, নাগরিকত্ব বাতিলের মতো এই দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়াটি কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধী বা চরম সহিংস অপরাধীদের মতো গুরুতর অপরাধীদের ক্ষেত্রেই সংরক্ষিত থাকত। কারণ এই প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউটরদের ফেডারেল বিচারকদের সামনে অকাট্য প্রমাণ দিয়ে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হয়। তবে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতি সংশোধন করে নাগরিকত্ব বাতিলের আওতায় নিয়ে আসার অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্যাটাগরি বা পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলে ছোটখাটো তথ্য গোপন বা জালিয়াতির মামলাও এখন এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে এই নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হচ্ছে, তারা আদালতের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই করার সুযোগ পাবেন। তবে আদালতে যদি মার্কিন সরকারের অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে ওই ব্যক্তিরা আমেরিকান নাগরিকত্বের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে হারাবেন। এর ফলে তারা আবার তাদের আগের অভিবাসন মর্যাদায় (সাধারণত গ্রিন কার্ড হোল্ডার বা স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে) ফিরে যাবেন এবং চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে তাদের নিজ নিজ জন্মভূমিতে ফেরত বা ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পর এবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) আমেরিকানদের টার্গেট করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জালিয়াতি বা তথ্য গোপন করে যারা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে এক নজিরবিহীন আইনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত মামলা করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন বিলাসিতা, সাধারণ ‘স্টার্টার হোম’ কিনতেও লাগছে ১০ লাখ ডলার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের গত দুই মাসেরও কম সময়ে বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে ২৯ জন বিদেশি-জাত মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত যেখানে বছরে গড়ে মাত্র ১০টির মতো নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা হতো, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই গতি আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বিরল এবং জটিল হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভিডিও দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন? জেনে নিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার সহজ পথ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বিচার বিভাগ জালিয়াতি দমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে সিভিল আইনজীবীদের সরিয়ে এনে এই ‘নাগরিকত্ব বাতিল ইউনিটে’ নিয়োগ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া একটি বিশেষ সুযোগ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মূলত যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় বা তার আগে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নে জড়িত ছিলেন, কিংবা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন—তাদেরই নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলায় জয়ী হয়, তবে ওই ব্যক্তি তার মার্কিন নাগরিকত্ব হারাবেন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের অভিবাসী স্ট্যাটাসে (যেমন- পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ড) ফিরে যাবেন। এমনকি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টও করা হতে পারে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের প্রশাসনগুলো (যেমন- বাইডেন প্রশাসন চার বছরে মাত্র ২৪টি মামলা করেছিল) কেবল যুদ্ধাপরাধী বা বড় সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ নিত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সাধারণ কাগজের ভুলত্রুটি বা ছোটখাটো তথ্য গোপনের বিষয়গুলোকেও এই আইনের আওতায় এনে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, এই আইনটি কেবল অন্য দেশ থেকে এসে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া আমেরিকানদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়। সূত্র: সিএনএন
একসময় মার্কিন নাগরিকত্বকে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিচয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সেই নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য বহু মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন, আইনি লড়াই করেছেন এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিন্ন একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন। এই প্রবণতার পেছনে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি রয়েছে করব্যবস্থা, আর্থিক জটিলতা, বিদেশে বসবাসের বাস্তবতা এবং নতুন পরিচয়ের সন্ধান। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ হাজার ৮৮৯ জন মার্কিন নাগরিক তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। অভিবাসন ও করবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি প্রবাসী আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে রয়েছেন। নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী ৩৪ বছর বয়সী ইরিন ক্লাট তাদেরই একজন। ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী হন। প্রায় এক দশক পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “আমি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব গভীরভাবে নিজেকে যুক্ত অনুভব করিনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের করব্যবস্থার আওতায় থাকার বিষয়টি আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। এখন আমার কোনো অনুশোচনা নেই।” সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক কারণ নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই প্রধান ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যারা নাগরিকত্বের ভিত্তিতে কর আরোপ করে। অর্থাৎ একজন মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী তাকে যুক্তরাষ্ট্রে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট (FATCA) কার্যকর হওয়ার পর এই বাধ্যবাধকতা আরও কঠোর হয়েছে। এর ফলে বিদেশে বসবাসকারী বহু আমেরিকান বিভিন্ন আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ইউরোপের অনেক ব্যাংক জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখায়। অনেকের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ, অবসরকালীন সঞ্চয় গঠন কিংবা বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনাও জটিল হয়ে উঠেছে। এদিকে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও কিছুটা সহজ হয়েছে। চলতি বছর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলারে নির্ধারণ করেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ফি কমানোর পর আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ নয়। আবেদনকারীকে আগে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করতে হয়। এরপর পাঁচ বছরের কর-সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দিতে হয়, মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শপথ করতে হয় এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। যাদের সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ ডলারের বেশি, তাদের জন্য অতিরিক্ত কর-সংক্রান্ত বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে। আইনজীবীরা সতর্ক করে বলছেন, এটি একটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসার প্রয়োজন হবে এবং সেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। এ কারণে সাময়িক রাজনৈতিক ক্ষোভ বা স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। প্রবাসী আমেরিকানদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন Americans Overseas-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা Dan Durlacher মনে করেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের আগে মানুষের আরও গভীরভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তার ভাষায়, “আপনি যদি মার্কিন নাগরিক হন, তাহলে এখনও আপনার ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার ব্যবহার করে পরিবর্তনের চেষ্টা করা যেতে পারে।” মার্কিন নাগরিকত্ব এখনও বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বৈশ্বিক জীবনযাত্রা, করনীতি এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিচয় ধরে রাখার খরচ ও দায়বদ্ধতাও বেড়েছে। ফলে একসময় যে নাগরিকত্ব অর্জন ছিল বহু মানুষের স্বপ্ন, সেটি ত্যাগ করাও এখন অনেকের কাছে কঠিন কিন্তু বাস্তব একটি সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে।
গত বছর প্রায় ৫ হাজার মানুষ মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অধিকার ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর-সংক্রান্ত জটিলতা, স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মার্কিন সরকারের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ ব্যক্তি তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের মর্যাদা ত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮০০। যদিও ব্যবধান খুব বেশি নয়, তবুও এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষ বিভিন্ন কারণে এ সিদ্ধান্ত নেন। তবে চলতি পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ অনেকেই প্রকাশ্যে তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণের কথাও তুলে ধরছেন। সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক লিলি, যিনি একই সঙ্গে বেলজিয়ামের নাগরিকও, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের সহায়তাকারী একটি সংস্থাকে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত ছিল তার কাছে এক ধরনের প্রতিবাদ। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের একটি ব্যক্তিগত উপায়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী এরিন ক্ল্যাট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তিনি আর্থিক ও রাজনৈতিক উভয় কারণেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। স্থায়ীভাবে অন্য দেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগের মতো নেই। ক্ল্যাট বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে খুব বেশি দেশপ্রেমিক বা যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক মনে করেননি। পাশাপাশি দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপথ নিয়েও তিনি হতাশ ছিলেন। একই ধরনের মতামত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক ব্যক্তি, যিনি গত বছর ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি না হলে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক কারণ যতটা আলোচনায় আসে, বাস্তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ নাগরিকদের বসবাসের স্থানের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা কিছুটা ব্যতিক্রম। কোনো মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, তাকে প্রতি বছর আইআরএসের কাছে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। এমনকি বহু বছর ধরে বিদেশে বসবাস করলেও এই বাধ্যবাধকতা বহাল থাকে। ফলে বিদেশে বসবাসরত অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য দ্বৈত কর-সংক্রান্ত নথিপত্র, আর্থিক হিসাব এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝামেলায় পরিণত হয়। অনেকেই এই জটিলতা থেকে মুক্তি পেতেই নাগরিকত্ব ত্যাগের পথ বেছে নেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াও সহজ নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে নাগরিকত্ব হারানোর সনদের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অন্তত দুটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়, যার একটি অবশ্যই সরাসরি উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করতে হয়। এ ছাড়া আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নিতে হয় এবং এ সিদ্ধান্তের ফলে তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিও স্বীকার করতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কনস্যুলার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। আগে এই প্রক্রিয়ার জন্য ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি দিতে হতো। বর্তমানে তা কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা ভাবলেও ব্যয়ের কারণে পিছিয়ে থাকা অনেক মানুষ এখন আবেদন করতে আগ্রহী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন, করনীতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নাগরিকত্ব ত্যাগের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও মোট জনসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা এখনও খুবই ছোট, তবুও বিষয়টি দেশটির নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বের ধারণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে। সূত্র: আইআরএস, ফেডারেল রেজিস্টার, সিএনএন, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।